পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ ভিসি পরিবর্তন ‘শিষ্টাচার পরিপন্থী’: ইউটিএল
ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের (ভিসি) আকস্মিক পরিবর্তনকে ‘অত্যন্ত বিরল, শিষ্টাচার পরিপন্থী ও অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। সংগঠনটির মতে, কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইউটিএলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যোবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের হঠাৎ করে অপসারণ ও নতুন নিয়োগের ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক। কেন এবং কী প্রেক্ষাপটে রাতারাতি বর্তমান উপাচার্যদের নিয়োগ বাতিল করা হলো, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপকে তারা অস্বাভাবিক এবং শিষ্টাচারবিরোধী বলে উল্লেখ করেন।
ইউটিএল নেতারা বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে যোগ্য অধ্যাপকদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো পূর্ব আলোচনা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রথমে ঘোষণা এবং পরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের অপসারণ করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রশাসনিক রীতির পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উপাচার্যের পদ একজন শিক্ষকের পেশাজীবনের সর্বোচ্চ সম্মান। যথাযথ প্রক্রিয়া ও সৌজন্যতা উপেক্ষা করে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নতুন নিয়োগ প্রদান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরায়ত শিষ্টাচারের লঙ্ঘন।
নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের আওতার বাইরের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্যরা সাধারণত চার বছরের জন্য চ্যান্সেলরের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এ সময়ে তারা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে থাকেন। হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে এসব পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইউটিএল আরও জানায়, উপাচার্য নিয়োগ ও পরিবর্তন সরকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক দায়িত্ব হলেও এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম, শালীনতা ও একাডেমিক সংস্কৃতি বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলে, একতরফাভাবে উপাচার্যসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদে অব্যাহতি বা নিয়োগ দেওয়া হলে তা উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রা ব্যাহত করবে এবং একাডেমিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ ভিসি পরিবর্তন ‘শিষ্টাচার পরিপন্থী’: ইউটিএল
এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন
