ডেস্ক রিপোর্ট:
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। শিক্ষার্থীদের...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও ‘নো কিংস’ নামে বড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছে, শনিবার (২৮...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। দেশটিতে গত সেপ্টেম্বরে জেন-জি’র নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে বহু মানুষের মৃত্যুর...
ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্বখ্যাত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। শ্রীলঙ্কার পর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে স্টারলিংক তাদের সেবা চালু...
আ.ন.ম উসামা বিন হাশেম
আমি চির-বিদ্রোহী-বীর-
আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এই কালজয়ী পঙক্তিগুলো যখন আমরা পড়ি,...
ভারতে সংখ্যালঘুদেরকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে পাতানো নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মুসলিমদের ওপর সংঘটিত সহিংস কর্মকাণ্ডকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের...
ডেস্ক রিপোর্ট
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে হাসিনা সরকারের সময়ে দায়ের করা মামলায় হত্যা মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাটগ্রাম পৌর শাখার আমির সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৪...
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এমপিকে দেখতে গেলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা....
রেজাউল করিম
বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডার্স (আরএসএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে,...
কুবি প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ( কুবি ) পবিত্র ঈদ উল আযহার বন্ধে শিক্ষার্থীদের ঈদযাত্রা ভোগান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে সাতটি বিভাগীয় শহরে বাস দিচ্ছে কুবি প্রশাসন।
বুধবার ( ২০ মে ) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মোশারফ হোসেন ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘ খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী,ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম এই সাতটি বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় বাস দেওয়া হবে। এজন্য কোন বিভাগের কতজন শিক্ষার্থী আছে তার তালিকা চাওয়া হয়েছে। আগামীকাল রাতে বাস ছাড়া পরিকল্পনা রয়েছে।’
উল্লেখ্য, যে সকল শিক্ষার্থী উল্লেখিত শহরে যেতে আগ্রহী, তারা আগামীকাল সকাল ১১.০০ ঘটিকার মধ্যে আঞ্চলিক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে যোগাযোগ করে পরিবহন পুলে তথ্য জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
কুবি প্রতিনিধি:
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ড ও জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি মৃত্যুদন্ডের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাঁই নেই’, ‘বিচার চাই বিচার চাই, ধর্ষকের বিচার চাই’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বিচারের জন্য কোন কার্ড?’, ‘ধর্ষকের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ধর্ষকদের বিরুদ্ধে আগুন জ্বালো একসাথে’ এবং ‘সারা বাংলায় ধর্ষণ চলে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে?’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। দেশে ধারাবাহিকভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। বক্তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার কার্যকর এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াকুত ফাতেমি বলেন, “বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের আর আস্থা নেই। প্রশাসন যদি বিচার করতে না পারে, তাহলে জনগণ বিচার নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে। আমরা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”
আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, “এই ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়।” তিনি সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, “দেশের সব ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হলে কয়েকটি ‘এপস্টিন ফাইল’-এর মতো নথি তৈরি করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্ষকরা অল্প কিছুদিন জেলে থাকার পর জামিনে বের হয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়ায়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্ষকদের সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করতে হবে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, “বারবার আমাদের মা-বোনেরা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। আর আমাদের রাস্তায় নেমে বিচার চাইতে হচ্ছে। প্রতিদিনই দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। এটি শুধু সামাজিক অবক্ষয় নয়, বিচার ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থারও প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে ধর্ষণের বিচার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমরা চাই, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব মামলার বিচার কার্যকর করা হোক, যাতে কেউ আর ধর্ষণের চিন্তাও মাথায় আনতে না পারে।”
লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, “আমরা এমন এক দেশে বসবাস করছি, যেখানে হত্যা, গুম, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমাদের বোনেরা ও সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীরাও আজ কোথাও নিরাপদ নয়। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। আমরা সরকারের কাছে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
ডুয়েট প্রতিনিধি:
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) কেন্দ্রিক চলমান আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ডুয়েট শাখার নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে ডুয়েটে চলমান ভিসিবিরোধী আন্দোলনকে ছাত্রশিবিরের আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুষ্কৃতকারী হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে বহিরাগত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির ডুয়েট শাখার সভাপতি আব্দুল আহাদ, সেক্রেটারি তাসনীম আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম লিমনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় ছাত্রশিবির ডুয়েট শাখার সভাপতি আব্দুল আহাদ বলেন, “ডুয়েটের ভিসিবিরোধী আন্দোলন ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। কিন্তু একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ আন্দোলনের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু প্রতিবেদনে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা না করে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। অন্যথায় ক্যাম্পাসে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
জিএমপি কমিশনারের সাথে ডুয়েট ছাত্রশিবির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
সাক্ষাৎকালে জিএমপি কমিশনার ঈসরায়েল হাওলাদার বলেন, “ঘটনার ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি থাকতে পারে। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।” একইসঙ্গে তিনি ডুয়েটে স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, ডুয়েটে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভিসির পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে।অন্যদিকে বিভিন্ন মহলে আন্দোলনের পেছনে ছাত্ররাজনীতির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সংলাপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের অপার সম্ভাবনা ও টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা বুঝতে রাঙামাটিতে দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ অ্যাকাডেমিক শিক্ষাসফর সম্পন্ন করেছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগের উদ্যোগে গত ১৮ ও ১৯ মে এই ব্যতিক্রমী মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও শিক্ষা অভিযানের আয়োজন করা হয়। এবারের সফরের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—”তত্ত্বের সাথে বাস্তবতার সংযোগ: পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও টেকসই উন্নয়ন”।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পর্যটন খাতের ভূমিকা এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে এই সফরের নকশা করা হয়। এতে বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের ৭২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। সফরকারী দলটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন টিএইচএম বিভাগের ডিরেক্টর ও বিভাগীয় প্রধান মুহাম্মদ নাসিমুল আজিম এবং সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর মো. আব্দুল লতিফ মাহমুদ। অনুষদ সদস্য হিসেবে আরও যুক্ত ছিলেন সারা মুর্তজা, পুলক সরকার, উম্মে হানি নিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মারুফ আহমেদ।
সফরের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে টিএইচএম বিভাগের ডিরেক্টর ও বিভাগীয় প্রধান মুহাম্মদ নাসিমুল আজিম বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের শুধু ক্লাসরুমের চার দেয়ালে বন্দি না রেখে পর্যটন খাতের বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার কৌশল সামনাসামনি দেখানো। রাঙামাটির এই সফর শিক্ষার্থীদের পরিবেশগত সচেতনতা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে, যা তাঁদের ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।”
সফরের অ্যাকাডেমিক এবং ব্যবহারিক দিক বিশ্লেষণ করে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর মো. আব্দুল লতিফ মাহমুদ জানান, “শিক্ষার্থীরা কাপ্তাই হ্রদের বাস্তুতন্ত্র, ধারণক্ষমতা এবং জীববৈচিত্র্য সরাসরি মূল্যায়নের সুযোগ পেয়েছে, যা এসডিজি ১৫ (স্থলজ জীবন)-এর লক্ষ্যমাত্রার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাত্ত্বিক পড়াশোনা যখন মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যায়, তখন শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াটি পূর্ণতা পায়। এই অভিজ্ঞতা তাঁদের অ্যাকাডেমিক দক্ষতাকে অনেক সমৃদ্ধ করবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই শিক্ষাসফরটিকে মাঠপর্যায়ে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে বিশেষ অবদান রেখেছেন বিভাগের শেষ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী জাগরী সত্যজন (Jagori Sotyojn) এবং তাঁর দল। তাঁদের নিরলস পরিশ্রম ও সুনিপুণ টিমওয়ার্ক পুরো সফরের সার্বিক সাফল্য নিশ্চিত করতে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
দুই দিনব্যাপী এই নিবিড় কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, সুবলং ঝরনা, রাজবন বিহার, বালুর চর এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী বনরূপা বাজার পরিদর্শন করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা স্থানীয় একটি ঐতিহ্যবাহী উপজাতীয় রেস্তোরাঁয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস ও বাঁশের চোঙে রান্না করা বিখ্যাত ‘ব্যাম্বু চিকেন’সহ বিভিন্ন আদিবাসী খাবার আস্বাদন করেন, যা তাঁদের কমিউনিটি-ভিত্তিক হসপিটালিটি কার্যক্রমের প্রথম হাতের অভিজ্ঞতা দেয়।
একই সাথে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা স্থানীয় ক্ষুদ্র অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরাসরি আদিবাসী বিক্রেতাদের কাছ থেকে পাহাড়ি তাজা ফল (লিচু, আম, আনারস, বিরল প্রজাতির গোলাপ জাম), জুম চাষের কাঁচামরিচ, হিল বিনস, বিন্নি চাল ও শুঁটকি মাছ কেনেন। পাশাপাশি তাঁরা স্থানীয় কারিগরদের বোনা ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও কোমর তাঁতের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী ক্রয় করেন। এই অর্থনৈতিক লেনদেন আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে তাঁদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায় তা ফুটিয়ে তোলে, যা এসডিজি ৮ (শোভন কর্ম ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি) এবং এসডিজি ১২ (পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন)-কে প্রতিফলিত করে।
সফর শেষে আয়োজিত এক অ্যাকাডেমিক আলোচনা সভায় শিক্ষকরা বিশ্বব্যাপী এসডিজি এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভূমিকা তুলে ধরেন। এরই অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের “তত্ত্বের সাথে বাস্তবতার সংযোগ: রাঙামাটিতে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও টেকসই উন্নয়নের ওপর একটি প্রায়োগিক অধ্যয়ন” শীর্ষক একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা তাঁদের নিয়মিত পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট:
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিদ্যালয়ের ব্যয় ও শিক্ষকদের বেতন জোগাতে ছুটির দিনে তিনি নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করছেন।
জানা গেছে, জেলা সদর থেকে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০২০ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বামং খিয়াং মিংলেন। তিনি কক্সবাজার সিটি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এমবিএ এবং পরে কক্সবাজার টিচার্স ট্রেইনিং কলেজ থেকে বিএড সম্পন্ন করেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬ জন শিক্ষক স্বল্প বেতনে নিয়মিত পাঠদান করছেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ শিক্ষক ও ৫ কর্মচারী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে ২ জন শিক্ষক নন-পেমেন্ট ভিত্তিতে কাজ করছেন। বিদ্যালয়টি ২০২১ সালে স্থাপনের অনুমোদন পায়। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫৬ জন শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। চলতি বছর নবম শ্রেণির কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন জানান, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিয়মিত বেতন আদায় সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় থানচি উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া একটি ইঞ্জিনচালিত বোট দিয়ে প্রতি শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে থানচি থেকে তিন্দু বড় পাথর ও রেমাক্রী ফলস রুটে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করেন তিনি।
তিনি বলেন, “অন্য চালক রাখলে আলাদা মজুরি দিতে হয়, আবার অনেক সময় আয়ের টাকাও গোপন রাখা হয়। তাই নিজেই বোট চালাই। এতে যে টাকা সাশ্রয় হয়, তা শিক্ষকদের বেতন হিসেবে দিতে পারি।”
তিনি আরও জানান, গত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বোট চালিয়ে ৪৯ হাজার ১০০ টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা শিক্ষকদের মধ্যে সমানভাবে বেতন-ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া এবং সাঙ্গু নদী পারাপারেও নিজেই দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পাওয়াই ম্রো বলেন, “প্রধান শিক্ষক হয়েও তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই। তিনি নিজেই বোট চালিয়ে যে আয় করেন, তা শিক্ষকদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে দেন। এই সামান্য অর্থ দিয়েই আমরা কোনোভাবে সংসার চালিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।”
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের এই আত্মত্যাগ ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কুবি প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ‘মৌসুমি ফল উৎসব–২০২৬’ পালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনার, আঙ্গুর, আনারস, তালের ডাবসহ নানা মৌসুমি ফলের সমাহারে উৎসবমুখর পরিবেশে ফল উৎসব পালিত হয়।
বুধবার (২০ মে) বিকাল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউট্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন, শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হুসাইন, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জনি আলম, কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিসহ প্রেস ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, “দুপুরের খাবারের পর এই মৌসুমি ফলভোজে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। ক্যাম্পাসে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রশাসন, শিক্ষক ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব যেন সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকে। যে ঘটনা সত্যিকার অর্থেই সংবাদ হওয়ার মতো, সেটিই যেন তারা সংবাদ হিসেবে তুলে ধরে। আয়োজনের জন্য প্রেস ক্লাবকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
ইউট্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “প্রেস ক্লাবের এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের জন্য আমি কুবি প্রেস ক্লাবকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে প্রেস ক্লাবের ভূমিকারও প্রশংসা করছি। সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ। সমাজে অন্যায়-অবিচারের বিষয়গুলো সাংবাদিকদের মাধ্যমেই উঠে আসে। অনেকেই বলেন, আমাদের দেশ থেকে মানবতা নির্বাসিত হয়ে গেছে। তবে আমি মনে করি, ন্যূনতম মানবতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা এখনো টিকে আছে সাংবাদিকদের কারণে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রেস ক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি প্রেস ক্লাবের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।”
কুবি প্রেস ক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব সবসময় নৈতিকতা ধারণ করে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। প্রেস ক্লাব সৃজনশীল ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রমে বিশ্বাস করে। আমরা চাই, ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হোক।”
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের Environment & SDG Club এবং glafit Bangladesh-এর যৌথ আয়োজনে ১৮ ও ১৯ মে ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল অ্যাপ-ভিত্তিক ই-বাইক রেন্টাল সার্ভিস সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ, ই-বাইক টেস্ট ড্রাইভ, কুইজ প্রতিযোগিতা, ফটো কনটেস্ট এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো তরুণ প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আধুনিক স্মার্ট মোবিলিটি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তোলা।
Environment & SDG Club-এর সভাপতি সাইদুল ইসলাম ইমন বলেন, “বর্তমান সময়ে পরিবেশ রক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
glafit Bangladesh-এর প্রতিনিধিরা জানান, দেশের তরুণদের মাঝে স্মার্ট ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা জনপ্রিয় করতে তারা ভবিষ্যতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক ই-মোবিলিটি প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জীবনধারা সম্পর্কে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত হন।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিকাশে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হয় উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট হ্যাক হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল চারটার দিকে বিষয়টি জানা যায়। পরে উপাচার্যের ব্যবহৃত নম্বরে যোগাযোগ করা হলে অপরপ্রান্ত থেকে জানানো হয়, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। একই সঙ্গে ওই নম্বর থেকে পাঠানো কোনো বার্তার ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পাঠানো বার্তায় জরুরি প্রয়োজনে বিকাশে টাকা পাঠাতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপাচার্যের সহকারী মো. মনির বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই স্যারের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।’
এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা সাইবার ইউনিটে অভিযোগ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হ্যাক হওয়া নম্বর থেকে আসা কোনো বার্তার ভিত্তিতে অর্থ লেনদেন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ও অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে র্যাগিংয়ের অভিযোগ, ছবি তোলা এবং ভুল শিক্ষাবর্ষের পরিচয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও দুই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানা যায়, সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের সামনে ইইই বিভাগের সিনিয়ররা জুনিয়রদের নিয়ে বসেছিলেন। পাশেই আড্ডা দিচ্ছিলেন অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর এসে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। পরে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির এক শিক্ষার্থী তাদের ছবি তুলে প্রক্টরকে খবর দিয়েছেন। এ নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একই সময়ে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, ইইই বিভাগের এক শিক্ষার্থী তার ভিডিও ধারণ করেছেন। পরে দুই বিভাগের সিনিয়ররা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।
ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার (১৯ মে) ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল জাবিদকে ডাকেন। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে সমঝোতা হয়। তবে পরে পরিবহন মার্কেটে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুস্মিতা রানী সরকারকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ ওঠে ইইই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই বিভাগের সিনিয়ররা ঘটনাস্থলে গেলে প্রক্টর ও রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার উপস্থিত হন। পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে সরিয়ে দেওয়ার সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল জাবিদ বলেন, ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত রাত থেকেই আমার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছিল। পরে দেখা করতে গেলে আমি স্বীকার করি, আগের দিন নিজের সেশন ২০২২-২৩ বলেছিলাম। কারণ, আমি মনে করেছিলাম এতে পরিস্থিতি শান্ত থাকবে। পরে বিষয়টি নিয়ে আবারও আমাকে জেরা করা হয়। সেখানে তারা একজন সিনিয়রও নিয়ে আসে। পরে আমার বিভাগের এক সিনিয়র এসে বিষয়টি মীমাংসা করেন এবং আমি ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করি।
তিনি আরও বলেন, পরে পরিবহন এলাকায় আমাদের সহপাঠী সুস্মিতা রানী সরকারকে উদ্দেশ্য করে ইইই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করেন। বিষয়টি তাদের সিনিয়রদের জানানো হলেও তারা গুরুত্ব দেননি। উল্টো আমাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, মূল ঘাতক স্বামীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন স্ত্রী স্বপ্না। স্বামী জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তিনি দরজা খোলেন। রিকশা মেকানিক জাকিরের বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। সে একজন বিকৃত যৌনরুচি সম্পন্ন মানুষ।
তদন্তে জানা গেছে, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ওঠেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান।
রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতর থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি জাকির যেন পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। সে নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
ঘটনার পর পুলিশ স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করে। তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় জাকির। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, জাকির নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে তার বন্ধুর মাধ্যমে পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় ডিএমপির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে বিকাশের দোকান থেকেই মূল ঘাতক জাকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।