সর্বশেষ নিবন্ধ

গোপনে বিয়ে, ঢাকা কলেজে স্ত্রীর অবস্থান: লাপাত্তা স্বামী ছাত্রদল নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট: গোপনে বিয়ের পর স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়ার দাবি তুলে ঢাকা কলেজের হলপাড়ায় অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। ভুক্তভোগী তরুণী (২৬) ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার জনগাওয়ের বাসিন্দা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের সামনে ওই তরুণীকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে দেখা যায়। তার উপস্থিতির বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে এলে হলপাড়াজুড়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। এদিকে, এ খবরে কলেজ থেকে লাপাত্তা রয়েছেন অভিযুক্ত খালিদ পারভেজ। তিনি ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। অভিযুক্ত পারভেজ ঢাকা কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র বলে জানা গেছে। এছাড়া পারভেজ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য। বিয়ের কাবিননামা অনুযায়ী, অভিযুক্ত মো. পারভেজ (২৭) ঠাকুরগাঁও জেলার মালিগাও এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের মার্চের ১৫ তারিখ পঞ্চান্ন হাজার পাঁচশ পঞ্চান্ন টাকা দেনমোহরে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার এক বছর পর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উভয়ের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। তিনি বর্তমানে রাজশাহী কলেজের একজন শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে কিন্তু এখন সে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করছে না। বিষয়টির সুরাহার আশায় আমি ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় এসেছি। তিনি আরও বলেন, পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রথমে তিনি ফোনে জানান যে তিনি ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। পরে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে তার মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী খালিদ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই তরুণী তার বৈধ স্ত্রী। তবে পূর্বসম্মত শর্ত ভঙ্গ করেই তিনি ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে এসে অবস্থান নিয়েছে। ওর সঙ্গে আমার বন্ধু ও জুনিয়ররাও কথা বলেছে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবেই ও সেখানে গেছে। বিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পারভেজ জানান, তাদের বিয়ে রমজান মাসের ১৫ তারিখে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের পর তারা দীর্ঘদিন একসঙ্গেই ছিলেন। পরে ছুটি কাটাতে তরুণী নিজ বাড়িতে যান। সেখান থেকে তার মেসে ওঠার কথা ছিল। পারভেজের দাবি, বিয়ের আগে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল যে তিনি আগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন, এরপর তারা স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাস করবেন। তিনি আরও বলেন, সে (ভুক্তভোগী তরুণী) আমাকে দুই বছর সময় দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু আমি এখনো কোনো চাকরি করি না। বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছি। অথচ বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় সে আমার সঙ্গে এ নিয়ে ঝামেলা করছে। যোগাযোগের পর অভিযুক্ত পারভেজ ফিরে না আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান ওই তরুণী।  

পদত্যাগ করলেন আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক

  রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির অনুমোদন বাতিলের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগ করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুলের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদ ডা. শেখ মহিউদ্দিনের স্বেচ্ছায় নেওয়া অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে অধ্যাপক জামালুন্নেসার ওপর। অধ্যাপক জামালুন্নেসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, যিনি ২৫ বছরেরও বেশি সময় অধ্যাপনা শেষে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে মাস্টার্স করার পর তিনি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় পুরো দেশের সঙ্গে আদ্‌-দ্বীন পরিবারও গভীরভাবে শোকাহত। ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি দিকনির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। হাসপাতালের আলো-বাতাস চলাচল ও অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করতে তিনজন স্বাধীন কনসালটেন্টের নেতৃত্বে পরিমার্জনের কাজ চলছে। এছাড়া হাসপাতালের করপোরেট অফিসের ওপরে অবস্থিত বেকারিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে এর অধীনে ৯টি হাসপাতাল ও ৫টি মেডিক্যাল কলেজসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অনুমোদন বাতিলের ফলে এর সঙ্গে যুক্ত থাকা ১৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী (যার অধিকাংশই নারী) এবং ২০৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৪৬ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দুই সহস্রাধিক মানুষের এই পেশাগত ও শিক্ষাগত ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এবং রোগীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আদ্‌-দ্বীন ফাউন্ডেশন এখন সর্বোচ্চ অঙ্গীকার করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে টিনের বেড়া: থমকে আছে কাজ

  ডেস্ক রিপোর্ট: দীর্ঘ ছয় বছরেও সম্পন্ন হয়নি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ। চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারে নামফলক ও লোগো সংযোজন করা হলেও এখনো থমকে আছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। প্রবেশমুখে রয়েছে টিনের অস্থায়ী বেড়া, বৃষ্টির পানির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২২ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির পরও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে নির্মিত ফটকটি বর্তমানে কেবল একটি অসম্পূর্ণ অবকাঠামো হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজের অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়টিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানারকম ট্রল ও  ধারাবাহিক দাবির মুখে চলতি বছর ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলক ও লোগো স্থাপন করা হলেও রং, নান্দনিকতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সমাপ্তিকরণ কাজ এখনো অসমাপ্ত। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকের একপাশে এখনো রয়েছে টিনের অস্থায়ী বেড়া, ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। এছাড়া গেটের সামনের অংশে বৃষ্টির পানি জমে ছোটখাটো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে পড়ে আছে ভাঙা টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী ও ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারের সৌন্দর্যকে আরো বেশি ম্লান করে দিয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পরিচয় ও প্রথম প্রতিচ্ছবি। বাইরের কোনো ব্যক্তি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যায়, তখন সে মেইন গেট দেখেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা গড়ে তোলে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এত বছর পরও আমরা সেই গেটের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি অবকাঠামোগত অপূর্ণতা নয়, বরং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ সময়েও নিজের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাজ শেষ করতে পারে না, তার অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়। এই অচলাবস্থা প্রশাসনিক দুর্বলতা, সমন্বয়ের অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতিরই প্রতিফলন।’   এ বিষয়ে গোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘বাজেট সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাজ এখনো পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা এখন বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ পেয়েছি। আগামী মাসের মধ্যে ফটকের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে এবং আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।’ মেইন গেটের একপাশে থাকা টিনের অস্থায়ী বেড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই টিনের বেড়াটি অপসারণ করা হবে।’

সড়ক দুর্ঘটনায় মানারাত ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র নিহত

  রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র মো. আবু জোবায়ের (২২) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) রাত প্রায় ১১টায় মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির নিকট এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর নিকট তাদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক প্রার্থনা করেন। মো. আবু জোবায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেট ক্লাব (এমআইইউডিসি)’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমআইইউডিসির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জন করেন এবং তাঁর মেধা, ভদ্রতা ও আন্তরিকতার কারণে সহপাঠী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। মো. আবু জোবায়েরের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগীরপাড়া এলাকায়। তাঁর পিতা মো. আবুল কালাম আজাদ একজন কৃষক এবং মাতা জহুরা বেগম গৃহিণী। পরিবারে তাঁর একমাত্র ছোট ভাই রয়েছে, যিনি বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। কয়েক বছর আগে তাঁর বড় ভাইও মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ফলে জোবায়েরের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর মা জহুরা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের কাছে তাঁর সন্তানের জন্য দোয়া কামনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে চাচাতো ভাই আবিদ জানান, জোবায়ের মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় খালার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন। সোমবার রাতে তিনি আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশাযোগে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির নিকট দ্রুতগামী একটি ট্রাক পেছন থেকে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অন্য দুইজন সামান্য আহত হলেও জোবায়ের গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আবু জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ নিজ জেলা দিনাজপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম মো. আবু জোবায়েরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হচ্ছে। তার রুহের মাগফেরাত কামনায় আজ মঙ্গলাবার বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামাজের স্থানে আইন বিভাগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ বাজেট: প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দে দ্বিতীয় ডুয়েট

  ডুয়েট প্রতিনিধি: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত বাজেটে দেশের পাঁচটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ৯৭ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। মোট বাজেটের হিসেবে ডুয়েট চতুর্থ অবস্থানে থাকলেও শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দের হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা যায়, দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এরপর রয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ১১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ডুয়েট ৯৭ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ৯৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। তবে শিক্ষার্থী সংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দের হিসাবে বুয়েটের অবস্থান প্রথম, যেখানে একজন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার ২৩১ টাকা। ডুয়েটে শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ১৬৯ টাকা, যা পাঁচ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এরপর রয়েছে চুয়েট (১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৩ টাকা), কুয়েট (১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৩ টাকা) এবং রুয়েট (১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৩ টাকা)। নতুন অর্থবছরের ৯৭ কোটি ৬ লাখ টাকার বাজেট কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ডুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস বলেন, “বাজেটের রূপরেখা এখনো তৈরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ হিসাব নিয়ন্ত্রক এটি তৈরি করেন। এরপর সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকে অনুমোদন পাবে। চলতি মাসের ২৮ বা ২৯ তারিখে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।” অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে নতুন বাজেট কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এশিয়ার প্রভাবশালী গবেষকের তালিকায় আইইউবির শিক্ষিকা ড. সাবরিনা

  সম্প্রতি ‘উইমেন ইন স্টেম’ শিরোনামে এশিয়ার একটি প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাকাডেমিস অ্যান্ড সোসাইটিজ অব সায়েন্সেস ইন এশিয়ায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের চারজন নারী গবেষক। এশিয়ার প্রভাবশালী নারী বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রাখা নারী এক্টিভিস্টদের এই তালিকায় তুলে ধরা হয়। এ বছর ৪৬ জন স্থান পেয়েছেন এই তালিকায়। বাংলাদেশী চার নারী গবেষকের তালিকায় আছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের লাইফ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা ইলিয়াস;আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী ড. আলিয়া নাহিদ; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শারমিন সুলতানা এবং শেকৃবির অধ্যাপক ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী ড. কামরুন নাহার। ড. সাবরিয়া ইলিয়াস কাজ করছেন লবণাক্ত মাটিতে ধান উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরে। কলেরা, শিগেলা ও টাইফয়েড দ্রুত শনাক্ত করা ড. আলিয়া নাহিদের অসামান্য অবদানগুলোর একটি। ড. শারমিন সুলতানা প্লাজমা পরিবেশে তরঙ্গের ছড়িয়ে পড়ার গতিবিধি নিয়ে গবেষণা করছেন। ড. কামরুন নাহার খরা, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ সহ্য করে ধান ও গম টিকিয়ে রাখার পদ্ধতি অন্বেষণ করে চলেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বাতিল

বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে। রোববার (১৪ জুন) ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আস্থাহীনতা, গ্রাহকদের ব্যাপক আমানত প্রত্যাহার এবং তারল্য সংকটের প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ব্যাংকটির চলমান পরিস্থিতি এবং সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন সাংবাদিকদের জানান, গত দুই দিনে দৈনিক গড়ে জমা বাদে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা নিট উত্তোলন হয়েছে। তিনি বলেন, সোমবার পরিস্থিতি কেমন হতে পারে সে বিষয়ে গভর্নরকে ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনের কারণ বা পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার দুপুরে ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিরাপদ রয়েছে এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম নয় দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা। শেষ দুই দিনে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের চাপ তৈরি হওয়ায় ব্যাংকটি ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়ে আবেদন করে।

পাই দিবসে ব্যাপনের কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

  ঢাকা, ১৩ জুন ২০২৬: “বিজ্ঞানের সৌরভ তব ব্যাপিত হোক”—এই স্লোগানকে ধারণ করে বিজ্ঞান ও গণিতপ্রেমী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে পাই দিবস উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ব্যাপন কিশোর বিজ্ঞান সাময়িকীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে বিজ্ঞান, গণিত, যুক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার পরিচয় দেয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাবা টেক ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা নাদিমুল হক জুলহাস, কিডজানা ক্রিয়েটিভ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ইয়াং সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইনোভেটরস সোসাইটি (BYSIS)-এর সভাপতি মোসাদ্দেক হোসাইন, কিডজানা ক্রিয়েটিভ সেন্টারের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ও BYSIS-এর প্রধান আন্তর্জাতিক কর্মসূচি সমন্বয়ক সাদেকুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্যাপনের সম্পাদনা সহযোগী জামিল আহসান, আদনান মুস্তারী, আব্দুল্লাহ আদিল মাহমুদ, জুরাইস ইবনে আশরাফ এবং আলী আম্মার মুয়াজ। প্রতিযোগিতাটি দুইটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। গ্রুপ ‘ক’ (৬ষ্ঠ–৮ম শ্রেণি) প্রথম স্থান: মাহানুর মুবিন মানহা (ঢাকা বিমানবন্দর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) দ্বিতীয় স্থান: নাফসিন আহমেদ তানাজ (রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ) তৃতীয় স্থান: মো. আশরাফুল ইসলাম (চৌগাছা সরকারি শাহাদাত পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়) চতুর্থ স্থান: আহমেদ সাফি মুস্তাওরিদ (তানজিমুল উম্মাহ দাখিল মাদ্রাসা, রংপুর) পঞ্চম স্থান: জুহাইর ফেরদৌস হাসান (সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) গ্রুপ ‘খ’ (৯ম–১২শ শ্রেণি) প্রথম স্থান: ফুজায়েল মো. আরিফ (শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কা. মাদ্রাসা) দ্বিতীয় স্থান: মামুন অর রশিদ (আল হেরা এডুকেট হোম হাই স্কুল) তৃতীয় স্থান: আবদুল মাজিদ (রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ) চতুর্থ স্থান: রেতম দাস (সরকারি বি.এল. কলেজ, খুলনা) পঞ্চম স্থান: মাহবুব এলাহী (আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল) অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তাভাবনা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বিজ্ঞানচর্চা, সৃজনশীল অনুসন্ধান এবং প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যাপনের সম্পাদক ড. শামসুল আরিফিন জিলানী প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বিজয়ীদের মাঝে সনদপত্র, ক্রেস্ট এবং বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। /বিবৃতি।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহায়তায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে সেখানকার পুলিশ।

রোববার (১৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে তিনি দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে দুবাইয়ে আটক করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সড়ক থেকে তুলে নেওয়া হলো ইট

ডেস্ক রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় সফরকালীন একটি কাঁচা রাস্তায় ইট-বালু ফেলে রাতারাতি নির্মাণ করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে ঠিকাদার সেই রাস্তার ইট তুলে নেওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, ইটগুলো ভাড়ায় আনা হয়েছিল ভাটা থেকে। কাজ শেষ হওয়ায় তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার এ কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছর এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ শুরু করেননি। স্থানীয়রা বলেন, আনুষঙ্গিক কিছু কাজসহ এতে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে সড়কের ৫০০ মিটার অংশে বিছানো ইট তুলে নেওয়া হয়। সেই ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এ বিষয়ে এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘নিয়মনীতি মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। ওই সড়ক পাকা করতে ৮৪ লাখ টাকা আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলা হয়েছে। কারণ অস্থায়ীভাবে সোলিং করার জন্য ইট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট কিনতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেতো।’ এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য গত অর্থবছরে এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্ট মাসে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, এ বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরুই করেনি। এর মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে আসেন। এদিন তিনি বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শন করেন। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ৫০০ মিটার এই কাঁচা রাস্তায় রাতারাতি ইট বিছানোর তোড়জোড় শুরু করে এলজিইডি। শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে ইট বিছানোর কাজ শেষ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনে কাঁচা সড়কে ইট বসায় এলাকাবাসী খুশি হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছিল। এখন সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’ এ বিষয়ে মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এলজিইডি থেকে ওই কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট সোলিং করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ভাটা থেকে ইট নিয়ে সড়কে বিছিয়ে দিয়েছেন। এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সড়কের ইট তুলে ভাটায় নিয়ে এসেছেন। এলজিইডি থেকে শুধু পরিবহন ও শ্রমিক খরচ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই কাজের জন্য ঠিক কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা এই মুহূর্তে মনে নেই।’ নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রোকন তালুকদার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে ভাড়ায় ইট এনে সড়কটি চলাচল উপযোগী করা হয়েছিল। যেহেতু ইটগুলো ভাড়ায় আনা হয়েছিল, তাই পরে সেগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে জরুরি বরাদ্দের আওতায় অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। পরে মূল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তবতা তা নয়।