সর্বশেষ নিবন্ধ

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের তার চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির পর সচিবালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ায় প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টেলিফোন লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, গত ১ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় কার্যালয় পরিদর্শনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেখতে পান রেড টেলিফোনে কোনো সংযোগ নেই। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কাজ শুরু করে। প্রায় সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর বিকেল ৩টার দিকে সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে এমন একটি সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলে মনে করছেন তারা।

বিটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং সরকারের একাধিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।

এদিকে বিটিসিএল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ কপার ক্যাবলের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও তার কাটা ছিল, আবার কিছু স্থানে তার অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোন নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।

চিঠিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত, বিভিন্ন সময় আন্দোলনকারীদের সহজে প্রবেশ এবং নিরাপত্তা বলয়ের দুর্বলতা প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

গণমাধ্যমকে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত কার্যালয় হিসেবে সচিবালয় ব্যবহৃত হচ্ছে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় অনেক ব্যবস্থা এখনও গ্রহণ করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারাও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া গভীর তদন্তের দাবি রাখে। এ কারণে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুরক্ষা আরও জোরদার করা জরুরি।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন কুবি শিক্ষক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

  কুবি প্রতিনিধি : জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি জাপান (এসবিজে)-এর এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেন। সোমবার (১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। জানা যায়, বায়োটেকনোলজি বিষয়ে গবেষণায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ২০২৬ সালের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে)-এর ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ -এর জন্য আমি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। তারা আমাকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং পুরস্কার গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আগামী ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্তের যাবতীয় ব্যয়ভার (যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য খরচ) তারা বহন করবে। এই সাফল্য আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা রইল।’ উল্লখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি জাপান (এসবিজে) জাপানের একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংগঠন, যা জীবপ্রযুক্তি ও জীবনবিজ্ঞানের গবেষণা, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করে থাকে।

সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল সরতে পারে,মন্ত্রীসভায় আসছে রদবদল

  ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর আরও বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি কয়েকটি দপ্তরে রদবদলের হওয়ার বিষয়টি সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করার পর আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরও গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই ঘোষণা আসতে পারে।   মূলত জনসেবা ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে শিগগিরই এ সম্প্রসারণ হতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ রবিউল আলম রবিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকেও সরানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরও কয়েকজনকেও সরিয়ে একক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হচ্ছে, যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি, সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা। একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মাত্র দপ্তরে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন তিনি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন পদক্ষেপে কয়েকজন উপমন্ত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসন থেকে একজন সদস্যকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুন্নবী খান সোহেল এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের নাম শোনা যাচ্ছে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে নিযুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। আলোচনায় আছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। একাধিক অঞ্চলও গুরুত্ব পেতে পারে। এরইমধ্যে বিএনপি সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুন) ডেইলি ক্যাম্পাসকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। দলটির মনোনয়নে পার্বত্য রাঙামাটি থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। রাঙামাটি আসনে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলে সর্বোচ্চ ব্যবধানে বিজয়ী হন তিনি। এরপর তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি পদত্যাগ করায় এ মন্ত্রণালয়েও নতুন মুখ আসবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে অর্থ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কাঁধে থাকায় কাজের গতি ধীর হচ্ছে। এ চাপ সামলাতে এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো প্রধানমন্ত্রীর একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। ২০০১ সালেও বিএনপি সরকারের সময় প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৬০ জনে উন্নীত করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও দলীয় সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই নতুন নিয়োগ ও রদবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান ও সরকার প্রধান তারেক রহমানই ভালো বলতে পারবেন। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেন এটা তার এখতিয়ার।’  

নেচার ইনডেক্স র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে শীর্ষে আইইউবি

আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্ম ‘নেচার ইনডেক্স ইনস্টিটিউশনাল র‍্যাংকিংয়ে’ বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। সামগ্রিকভাবে দেশের সব গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইইউবির অবস্থান পঞ্চম এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আইইউবি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান (ফিজিক্যাল সায়েন্সেস) গবেষণার ক্ষেত্রেও এই র‍্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আইইউবি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে এই বিখ্যাত বৈশ্বিক র‍্যাংকিং তৈরি করা হয়। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাকর্মের ওপর ভিত্তি করে এবারের মূল্যায়নটি করা হয়েছে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় মোট চারটি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে আইইউবির নেচার ইনডেক্স শেয়ার স্কোর দাঁড়িয়েছে ০.৬৩। আইইউবির সেন্টার ফর কম্পিউটেশনাল অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সেসের (সিসিডিএস) কম্পিউটেশনাল ফিজিক্স উইংয়ের পরিচালক ও ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জুয়েল কুমার ঘোষের দুটি গবেষণা প্রবন্ধ এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে ভূমিকা রেখেছে। প্রবন্ধ দুটি হলো “স্কেল উইদাউট কনফর্মাল সিমেট্রি ইন হাইড্রোডায়নামিক্স” এবং “হাইড্রোস্ট্যাটিক ইকুইলিব্রিয়াম ইন মাল্টি-ওয়েইল সেমিমেটালস”। এগুলো প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে ইউরোপিয়ান ফিজিকেল জার্নাল সি এবং জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্সে। এছাড়া আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের (কাসা) সহযোগী সদস্য ড. আনোয়ার জামান সজীব “অ্যান অ্যাকিউরেট মেজারমেন্ট অফ দা স্পেকট্রাল রেজোলিউশন অফ দা জেডব্লিউএসটি নিয়ার ইনফ্রারেড স্পেক্টোগ্রাফ” শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধটিও এই র‌্যাংকিংয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। এটি প্রকাশিত হয়েছিলো অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রফিজিক্স সাময়িকীতে। আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, অর্থবহ বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অনুসন্ধানভিত্তিক গবেষণা সংস্কৃতি প্রয়োজন। আইইউবি গত কয়েক বছরে সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতার প্রতিফলন। আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড বলেন, নেচার ইনডেক্স বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্বের স্বীকৃত শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাকে মূল্যায়ন করে। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে আইইউবির অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও মানকে তুলে ধরেছে। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা নেচার ইনডেক্সকে উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেচার, সায়েন্স, নেচার ফিজিক্স, দা ল্যানসেট, সেল, জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্স এবং অ্যাস্ট্রোনমি ও অ্যাস্ট্রফিজিক্স-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ এই সূচকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।  

ইউআরসিতে বিশ্ব মঞ্চে তৃতীয় ইউআইইউ মার্স রোভার টিম

  বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও মর্যাদাপূর্ণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের প্রধান রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা ‘ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি)-২০২৬’-এ টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) প্রতিনিধি দল। ‘ইউআইইউ মার্স রোভার টিম’ নামের এই ক্ষুরধার দলটি চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ৪০০ দশমিক ৪৪ স্কোর অর্জন করে এই গৌরবময় সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। এবার সেরার তালিকায় রয়েছে দেশের আরেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দল ‘ব্র্যাকইউ মঙ্গল-তরী’ এবং সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) দল ‘এমআইএসটি মঙ্গল বারতা’। এরমধ্যে ‘ব্র্যাকইউ মঙ্গল-তরী’ বিশ্বব্যাপী সপ্তম এবং ‘এমআইএসটি মঙ্গল বারতা’ ১১তম স্থান অর্জন করেছে। এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৮টি দেশের ১১৬টি দল প্রাথমিকভাবে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১১টি দেশের ৩৮টি দল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে লড়ার সুযোগ পেয়েছে। গত ২৭-৩০ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ উটাহে মার্স ডেজার্ট রিসার্চ স্টেশনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। এরপর আজ রবিবার (৩১ মে) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৬ সালের বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত এই প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তভাবে লড়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশের ৫টি আন্তর্জাতিক এবং সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল। এরমধ্যে তিনটি দলই সেরার তালিকায় স্থান করল। চূড়ান্ত পর্বে লড়া ৩৮টি দলের মধ্যে বাংলাদেশের বাকি টিমগুলোর মধ্যে রয়েছে-অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘এএইউবি রোভার৭১’, যা বিশ্বে ৩৪তম এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ‘প্রজেক্ট আলতাইর’, যা বিশ্বে ৩৭তম স্থান অর্জন করেছে। এবার ৪৬৯ দশমিক ৫৭ স্কোর নিয়ে তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজির ‘মার্স রোভার ডিজাইন টিম’। আর ৪১২ দশমিক ৪১ স্কোর নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির ‘মোনাশ নোভা রোভার’। প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ উটাহে মার্স ডেজার্ট রিসার্চ স্টেশনে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের দলগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মের মঙ্গল রোভার ডিজাইন ও তৈরি করার জন্য এতে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়, যা একদিন লাল গ্রহ অন্বেষণে নভোচারীদের পাশাপাশি কাজ করবে তারা। ইউআরসি ২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল এবং ২০০৭ সাল থেকে প্রতি গ্রীষ্মে এর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা ইউআরসি ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে আসছে। বাংলাদেশ থেকে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘ইউআইইউ মার্স রোভার’ টিম সর্বশেষ ২০২৫ প্রতিযোগিতায় এশিয়ায় প্রথম স্থান অর্জনের গৌরব অর্জন করেছিল। এবারও এশিয়ায় প্রথম স্থান অর্জনের গৌরব অর্জন করল। তাছাড়া দলটি ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের প্রতিযোগিতায়ও এশিয়ায় প্রথম হয়েছিল।  

লেবাননে এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন ১১ শিশু হতাহত: ইউনিসেফ

  লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন ১১ জন শিশু নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN।

শুক্রবার (২৯ মে) জেনেভা-এ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্দো পিরেস জানান, লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-এর তথ্য অনুযায়ী গত সাত দিনে ইসরায়েলি হামলায় ৭৭ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলার শিকার।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫ শিশু নিহত এবং ১২১ শিশু আহত হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য আরও কঠোর হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় হামলার পর রাজধানী বৈরুত-এও অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার তারা হিজবুল্লাহর ১৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে শুক্রবার সকালে ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ১৯টি হামলার দায় স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৫৫ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৯৫ জন আহত হয়েছেন।

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

  বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়। রাজশাহীতে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে সুসংগঠিত করার কাজ করছেন। পরে জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সুস্বাস্থ্য ও মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বরিশালে দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে কালো পতাকা উত্তোলন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বক্তারা বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। খুলনায় জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। নাটোরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। বক্তারা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। অন্যদিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্থানীয় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদান করেন। নারায়ণগঞ্জে জেলা যুবদল নেতা মো. রুবেল হোসেন-এর উদ্যোগে অসহায় মানুষের জন্য বড় পরিসরে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, শতাধিক ডেগ খিচুড়ি রান্না করে তা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দিনব্যাপী স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল, চিকিৎসাসেবা এবং খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়।

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, ৭৬ দিনে প্রাণহানি ৫৮৩

  দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ৫৮৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৯৩ শিশু এবং পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৬১২ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৫ হাজার ৭০৫ শিশু। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫২ হাজার ৫০ জন। এ ছাড়া একই সময়ে দেশে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৬ জনের মধ্যে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ

  নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ভবনে থাকা বেকারি ও সেখানে জমে থাকা পানি নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। একই দিন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা ও ধাওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমে হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ) পরিদর্শন করেন। পরে কলেজ ভবনের আটতলায় অবস্থিত একটি বেকারি ঘুরে দেখেন। শেষে তিনি দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন, যেখানে গত বুধবার ভর্তি থাকা ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল। পরিদর্শন শেষে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালের পাশের একটি ভবনের আট বা নয়তলায় বেকারিটি অবস্থিত, যা একটি সেতুর মাধ্যমে হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত। সেখানে দুটি বৈদ্যুতিক ওভেন রয়েছে। পরিদর্শনের সময় তিনি কোনো বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পাননি, একজন যান্ত্রিক সহকারীকে পেয়েছেন। এছাড়া সেখানে ময়লা-আবর্জনা ও জমাট পানি দেখতে পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ওই জমাট পানি এবং রুটির কারখানা থেকে এমন কোনো পদার্থ বা গ্যাস নির্গত হচ্ছে কি না, যা নবজাতকদের সহ্যক্ষমতার বাইরে, তা পরীক্ষা করা হবে। রুটির কারখানা থেকে কোনো ধরনের গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করেছে কি না, সেটিও আমরা খতিয়ে দেখছি।” তিনি জানান, বিষয়টি পরীক্ষা করতে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন এবং রোববার আরও একটি বিশেষজ্ঞ দল কারখানাটি পরিদর্শন করবে। তবে বেকারির অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, বেকারিটি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে অনেক দূরে এবং কলেজ ভবনের আটতলায় অবস্থিত। সেখানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় না, সবকিছু বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বেকারিতে কিছু পানি জমে থাকলেও তা উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয় না বলে দাবি করেন তিনি।

৩ জুন জমা হবে তদন্ত প্রতিবেদন

গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শনিবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে আগামী ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য উপস্থাপন করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য মৃত নবজাতকদের মায়েদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। অনেক মা দূরে অবস্থান করায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নবজাতকদের অভিভাবকেরা এতে সম্মতি দেননি। সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাঁদের রাজি করানোর চেষ্টা করলেও শোকাহত পরিবারের মানসিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াও পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, তদন্ত কমিটিতে পরবর্তীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী এবং একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কারিগরি ও চিকিৎসাবিষয়ক সব দিক প্রতিবেদনে উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে প্রাণ হারানো এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান বুধবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

 সাংবাদিকদের ধাওয়া ও মারধরের অভিযোগ

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন এবং বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেকারিটি সিলগালা করে দিয়েছেন। এ কারণে সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া সম্ভব নয়। এরপরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থান করে বেকারির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতেই হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাজলুম যখন জালেম হয়, তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে- ছাত্রশিবির সভাপতি

  বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, “যারা এতদিন মাজলুম ছিল, তারা এখন জুলুম শুরু করেছে। মাজলুম যখন জালেম হয়, তখন সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।” শনিবার (৩০ মে) দুপুরে মোজাফফর গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্ট-এ আয়োজিত ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন নিশ্চিত করার দাবিতে ছাত্রশিবির আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নিজেদের দেশের বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন দাবি করা কিছু সংগঠনের নেতারা ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। বিপরীতে অন্য সংগঠনগুলো কর্মসূচি সফল করতে বাইরে থেকে লোকজন আনতে বাধ্য হচ্ছে। পুরোনো ও অজনপ্রিয় রাজনৈতিক চর্চার কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেদী হাসান এবং সঞ্চালনা করেন নুরুন নবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুহা. ইজ্জত উল্লাহ, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, গাজী নজরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম মুকুল, শেখ নূরুল হুদা, মাওলানা আজিজুর রহমান, মো. ওবায়দুল্লাহ এবং মো. ওমর ফারুক।