সর্বশেষ নিবন্ধ

ছাত্রদলের চার নেতাকর্মীর মারধরের শিকার ঢাবির প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

  বেঞ্চে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অভয় কুমার সিংহ নামের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গতকাল রবিবার (২৪ মে) জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত এক কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক চন্দন দাস (ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগ), যুগ্ম-আহ্বায়ক ঝলক দাস, যুগ্ম-আহ্বায়ক রিপন চন্দ্র সরকার (মার্কেটিং বিভাগ) এবং ছাত্রদলকর্মী ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সাগর। ভুক্তভোগী অভয় কুমার জানান, তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী (পায়ে সমস্যা)। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় হলের এক চায়ের দোকানে পা তুলে বসে থাকার কারণে অভিযুক্তদের দ্বারা সংঘবদ্ধভাবে নিজ কক্ষে মারধরের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি জানিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাবি শিক্ষার্থী সংসদ ২’-এ পোস্ট করে আজ সোমবার (২৫ মে) এ অভিযোগ তুলেছেন। সেই ফেসবুক পোস্টে অভয় কুমার লেখেন, আমি অত্যন্ত কষ্ট, অপমান ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি নিয়ে এই পোস্টটি লিখতে বাধ্য হচ্ছি। ভার্সিটির শুরুতে যখন আমি হলে উঠি তখন সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবনে উঠি। পায়ের সমস্যা থাকার পরেও অনেক কষ্ট করে আমি সেই বিল্ডিংয়েই অবস্থান করি। আমাদের ব্যাচমেটরা মিলে আমরা অনেক ভালোই ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে রবীন্দ্র ভবন খুলে দেওয়ায় ব্যাচমেটদের ছেড়ে একটু কষ্ট লাঘব করার আশায় ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জ শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্ধকৃত রুমে উঠি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৪ মে সন্ধ্যার সময় রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদার চায়ের দোকানে পা তুলে বসে থাকার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝলক দাস(২০২১-২২), চন্দন দাস (২০২০-২১ ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ) রিপন (২০২১-২২ মার্কেটিং) ও সাগর(২০২১-২২ ম্যানেজমেন্ট) আমার রুমে এসে আমাকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেছে। ঘটনার বর্ণনা জানিয়ে এ  প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী লেখেন, শুরুতে আমি যখন চায়ের দোকানে বসে ছিলাম তখন কেউ না থাকায় আমি পা তুলে বসে ছিলাম, পায়ের হাঁটুতে সমস্যা থাকার কারণে। তখন চন্দন নামের এক ছেলে আর ঝলক দোকানে ঢুকে বসে। আমি পা তুলে দেওয়ার পরেও অনেক জায়গা থাকায় তারা ঠিকভাবেই বসতে পারে। পরবর্তীতে চন্দন নামের ছেলেটা আমাকে বলে পা নিচে নামিয়ে বসতে, এটা পা উপরে তোলার জায়গা না,  নিজের রুমে গিয়ে পা তুলে বস ইত্যাদি কথা বলে। আমি বলি যে, ‘দাদা এখনো তো জায়গা ফাঁকাই আছে, যখন কেউ আসবে আমি তখন আমি পা নামিয়ে নিব’। তিনি আরও বলেন, যদিও আমি একটি পা নিচে নামিয়ে রাখি। কারণ একটু পা অনেক বেশি সমস্যা ছিল, পাশাপাশি সেখানে বসার মতো কেউ ছিল না)। এছাড়াও ঝলকের সাথে দোকানে আমার কোন কথাই হয় নি। পরবর্তীতে আমি আমার রুমে এসে বঙ্গবাজার যাই। বঙ্গবাজার থেকে আসার পর আমি রুমে ঢুকা মাত্রই চন্দন, ঝলক দাশ, রিপন, সৌরভ এই চারজন আমার রুমে এসে আমার উপর শারীরিক নির্যাতন করে, থাপ্পর মারে। এছাড়াও হুমকি দিয়েছে যাতে আমাকে আর চায়ের দোকানের দিকে দেখা না যায়, নিচে যাতে দেখা না যায়। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ও জগন্নাথ হলেরই আবাসিক শিক্ষার্থী সর্ব মিত্র চাকমা ফেসবুকে লেখেন, গতকাল রাতে জগন্নাথ হলে ২০-২১ সেশনের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে রুমে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি জগন্নাথ হলে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত রুমে থাকেন। কারণ, তার পায়ের হাঁটুতে সমস্যা থাকার কারণে হলের দোকানে পা উঠিয়ে রাখেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা (ঝলক দাস, চন্দন দাস, রিপন, সাগর) পা নামাতে বলে। তিনি আরও লেখেন, অভিযুক্তরা ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভিক্টিমকে কল দিয়ে তার দলের নাম এ ঘটনায় না আনতে অনুরোধ জানান। সর্ব মিত্র চাকমা আরও বলেন, কিছুদিন আগেও জগন্নাথ হলে রুমে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গেস্টরুমের অতীত ইতিহাস থাকার কারণে সে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে আগাতে পারেনি। এক হল সংসদ সদস্যও সে ঘটনায় জড়িত ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে রিপনকে কল দিলে তার ফুফুর কাছে মোবাইল দেওয়া হয়। পরে তার কাছ থেকে এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। পরে ঝলক দাসকে কল দিলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মারধর করা হয়নি। তবে দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়েছিল, পরে যখন জানতে পারি সে প্রতিবন্ধী, তখন রুমে তাকে সরি বলতে গিয়েছিলাম আমরা। তিনি বলেন, বিষয়টাকে পলিটিক্যালি ফ্রেমিং করা হচ্ছে। আমরা মারামারি করিনি, কিন্তু বলা হচ্ছে, করেছি। আর আমরা ছাত্রদলের সঙ্গে রাজনীতি করছি, কিন্তু এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাগরকে কল দিলে তিনি ‘একটু পরে কল দেব’ বলে ফোন কেটে দেন। পরে আর কল দেননি। এর বাইরে চন্দন দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেবাশীষ পালকে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি।  

সিওয়াইবি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি শাখার সভাপতি তানবীর, সম্পাদক পবিত্র

  ভোক্তা অধিকারভিত্তিক সংগঠন ‘কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)-এর যুব শাখা ‘কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ’ (সিওয়াইবি) এর World University of Bangladesh শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ তানবীর হায়দার রোহানকে সভাপতি এবং পবিত্র হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) সিওয়াইবি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান মাহমুদ এ কমিটির অনুমোদন দেন। নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি অমর দাস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাব্বির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ তৌহিদুর রহমান, যোগাযোগ সম্পাদক আসরাফুল হাসান, জনসংযোগ সম্পাদক মোঃ সাকিব মির্জা, প্রকাশনা সম্পাদক নুর হামজা পিয়াস ও কোষাধ্যক্ষ সাকলাইন নুরশেদ প্রিয়। এছাড়া গবেষণা সম্পাদক মোঃ আমানুল হক শিহাব, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক ইন্তিয়াজুল হক রাফিত, প্রশিক্ষণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল আমিন দেওয়ান, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক শৈশব কুমার দাস, ভোক্তা-অধিকার বিষয়ক সম্পাদক শাহ মোঃ সিফাতুল ইসলাম এবং সচেতনতা ও ক্যাম্পেইন সম্পাদক আফরিনা হোসেনসহ বিভিন্ন পদে আরও সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিসিএস ২০১৩ সাল থেকে দেশে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলা, ৩৫০টি থানা এবং ৭৯টি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত ১৭, আহত ১০

টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় রড ভর্তি একটি ট্রাক উল্টে অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি সড়কের পাশে উল্টে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

জুলাই বিপ্লবের পরে পদ হারালেন, ফিরে এলেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়ে

  বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে জুলাই আন্দোলনের পর ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগের পরই নতুন এ নিয়োগ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়ে নিয়োগের বিষয়টি ইসলামী ব্যাংককে জানিয়েছে। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন। এখন খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শে অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আগের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পদত্যাগের পর গতবছরের ২৩ জুলাই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনের মুখে আজ ব্যাংকটির পূর্ব নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা হওয়ার কথা ছিল। পর্ষদ সভায় এসে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করবেন এমন আলোচনা ছিল। এর আগে গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে তাকে ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। আগামী ৩১ মে তার ছুটি শেষ হওয়ার কথা। আজ ওমর ফারুক প্রধান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হলেও আন্দোলনকারীরা তাকে ব্যাংকে ঢুকতে দেয়নি। যদিও একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনিও ব্যাংকের চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়ে গেছেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা তারেক রেজা আটক

ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

এনসিপি নেতা তারেক রেজা আজ সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রেজা জুলাই বিপ্লবের সময়ে শহীদ মিনারে অসংখ্য জানাজায় ইমামতি করেন। তাকে আটকের পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর, হত্যার হুমকির অভিযোগে শনিবার এনসিপি নেতা তারেক রেজাসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।

গত ২২ মে শুক্রবার ঝিনাইদহ সফরে আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বাদি হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় ৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার জেরে পরদিন দুপুরে তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এনামুল কবির মামলা করেন।

ঈদের দিনে ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার দুই আয়োজন: শহীদ-গাজী পরিবারে কুরবানী ও শিক্ষার্থীদের ‘সফরা এ ঈদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দুইটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “জুলাই শহীদদের স্মরণে কুরবানী কর্মসূচি-২৬” এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে “সফরা এ ঈদ” শীর্ষক আয়োজন ঈদের দিন অনুষ্ঠিত হবে।   সংগঠনটি জানায়, ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সাহস, সচেতনতা ও গণমানুষের অধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাজপথ থেকে জনমত গঠন সর্বত্রই শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল দৃশ্যমান। সেই আন্দোলনে শহীদ ও গাজীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।   “জুলাই শহীদদের স্মরণে কুরবানী কর্মসূচি-২৬”-এর আওতায় ঢাকায় অবস্থানরত জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও গাজী পরিবারগুলোর জন্য পশু কুরবানী, মাংস বিতরণ এবং মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, যেসব পরিবার এবার কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য রাখেননি, তাদের পাশে দাঁড়ানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।   সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “যাদের আত্মত্যাগে আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি, তাদের পরিবারগুলোর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও দায়িত্ববোধ থেকেই আমাদের এই আয়োজন।” একই সঙ্গে শহীদদের জন্য দোয়া এবং গাজীদের সুস্থতা কামনাও করা হয়।   অন্যদিকে, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকায় অবস্থানরত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে ‘সফরা এ ঈদ’। ঈদের দিন দুপুর ২টায় উত্তরা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজ ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।   অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য একটি গুগল ফরম পূরণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ

ডেস্ক রিপোর্ট: ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রোববার (২৪ মে) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্যাংকটির এমডি ও চেয়ারম্যান দুজনেই পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে এমডিকে ‌পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া এই দিন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সভা হয়নি। জানা গেছে, দুপুরের আগেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন ব্যাংকে যান। তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে এমন একটা গুঞ্জন ছিল। একারণে ব্যাংকটির একদল কর্মকর্তা রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। তবে শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যান ওমর ফারুক খাঁন। এদিকে বিকেলে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানও পদত্যাগ করেছেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। ওমর ফারুক খাঁন জানান, চেয়ারম্যানের অব্যাহত চাপের মুখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। এটি ব্যাংকের পর্ষদে ওঠার কথা। কিন্তু পর্ষদের সভা না হওয়া এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় আবেদনের বিষয়টি অনুমোদন হয়নি। এদিকে ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার সকালে মতিঝিলে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা ব্যাংক পরিচালনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান। এর আগে গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খাঁনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। ওইদিন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এমডিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ওমর ফারুক খাঁনের অনুপস্থিতিতে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মো. আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেসময় জানানো হয় ওমর ফারুক খাঁন ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি নিয়েছেন। তবে ২৫ মে থেকে কোরবানীর ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় ২৪ মে শেষ কর্মদিবস হিসেবে ব্যাংকে আসেন ওমর ফারুক খাঁন। কিন্তু অব্যাহত চাপের মুখে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পদত্যাগের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাতে সাড়া দেননি। পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তার কোনো জবাব দেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া তৎকালীন এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় ২০২৫ সালের মে মাসে তাকে অপসারণ করা হয়। পরে ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে ওমর ফারুক খাঁনকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক বিষয়ে জানতে ইসলামী ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (এসএভিপি) মো. সুলতান উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তাতে সাড়া দেননি।  

বান্দরবানে ঘুমধুম সীমান্তে মায়ানমারে পুতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে নিহত ৩ বাংলাদেশি

ডেস্ক রিপোর্ট: রবিবার (২৪ মে) দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ৪২নং পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মৃত ঞোমং তংচঙ্গ্যা ছেলে অক্যমং তংচঙ্গ্য (৪০), মৃত উইমং তংচঙ্গ্যার ছেলে চিক্যং তংচঙ্গ্য (৩৪), সুনি অং তংচঙ্গ্যা ছেলে শৈফুচিং তংচঙ্গ্য (৩২)। তারা সবাই ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বালুক্যা পাড়ার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রবিবার দুপুর ১টার দিকে তুমব্রু নোম্যান্সল্যান্ড এর ৪২নং পিলার সংলগ্ন এলাকায় কলাবাগানে কাজ করতে যান এই তিনজন। এ সময় সীমান্ত এলাকায় মায়ানমারের পুতে রাখা স্থলমাইন হঠাৎ বিস্ফোরণ হলে অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে অপর দুজনও মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন।   ঘুমধুমের স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফলের বাগানে কাজ করার সময় তিনটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিস্ফোরণে শুরুতে এক বাগানচাষি গুরুতর আহত হন। সঙ্গীরা দৌড়ে তাঁকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে আরেকজন গুরুতর আহত হন। আহত ওই দুজনকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনায় আরেকজন আহত হন। উপর্যুপরি তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় কাজ করতে যাওয়া লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পাড়ায় এসে সংবাদ দেয়। পাড়াবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বাবুল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, ভালুকিয়াপাড়াসহ সীমান্তের কাছাকাছি মানুষ সবাই শূন্যরেখা বজায় রেখে ফলের বাগানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করেন। এটি তাঁদের জীবন-জীবিকা একমাত্র উপায়। গত বছরও বাগানের কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। এখনো তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বনে সবজি খুঁজতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে একজন নারী দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আগের দুজনের নিখোঁজ, পা হারানো ঘটনাসহ আজকের তিনজনের মৃত্যুতে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বলে বাবুল কান্তি জানিয়েছেন।

৫০০ টাকা ছাড়া ব্যাবহারিক খাতায় স্বাক্ষর নয়, অভিযোগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

  ডেস্ক রিপোর্ট: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাবহারিক খাতায় স্বাক্ষরের বিনিময়ে জনপ্রতি ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। রবিবার (২৩ মে) দুপুরে ব্যাবহারিক খাতায় স্বাক্ষর বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তাদের পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও কৃষি বিষয়ের ব্যাবহারিক পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষার আগে ব্যাবহারিক খাতায় শ্রেণি শিক্ষকের স্বাক্ষর নেওয়া বাধ্যতামূলক। ফরম পূরণের সময় সব ধরনের ফি পরিশোধ করলেও এখন আবার ৫০০ টাকা ছাড়া শিক্ষকেরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন না। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অনেকেই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। শিক্ষকদের কাছে ৫০০ টাকা সামান্য মনে হলেও তাদের জন্য এটি বড় চাপ। কেউ প্রতিবাদ করলে ব্যাবহারিকে নম্বর কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় ভয়ে মুখ খুলছেন না তারা। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, প্রতিষ্ঠানের ৫৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। অধ্যক্ষের নির্দেশেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু শিক্ষার্থী টাকা জমা দিয়েছে, বাকিরাও কয়েক দিনের মধ্যে জমা দেবে। অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম বলেন, সিওমার্কের ফটোকপি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ এ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এমন অর্থ নেওয়া হয়। তবে এটি আইনগতভাবে বৈধ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সব প্রতিষ্ঠানেই এটা নেওয়া হয়।” এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ব্যাবহারিক খাতা স্বাক্ষরের জন্য ৫০০ টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জকসুর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়!

  ডেস্ক রিপোর্ট: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা সহজ ও সাশ্রয়ী করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। সোসাইটি ফর ন্যাশনাল চ্যারিটির সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অ্যাম্বুলেন্স সেবায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় নিশ্চিত করা হচ্ছে। জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। ফলে জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে শিক্ষার্থীদের প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ঢাকার বাইরে নিজ বাড়িতে নেওয়া কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার ক্ষেত্রে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানে দেশের একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেছে জকসু। চুক্তি অনুযায়ী, খুব দ্রুতই জবি শিক্ষার্থীরা ঢাকা শহরের মধ্যে এবং ঢাকা থেকে দেশের যেকোনো জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে ছাড়মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পাবেন। একইভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসার ক্ষেত্রেও এ সুবিধা কার্যকর হবে। জকসু সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের সময় সমাজসেবা সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে যাচাই-বাছাই শেষে এ সেবা নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়াও দেখা গেছে।   এ বিষয়ে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকায় জরুরি মুহূর্তে অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যাতায়াত বা গ্রামের বাড়ি থেকে জরুরি ভিত্তিতে আসার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পান না।” তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় অসুস্থতার কারণে শিক্ষার্থীদের ঢাকা শহরের বাইরে কিংবা নিজ নিজ গ্রামে যেতে হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জকসু দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সোসাইটি ফর ন্যাশনাল চ্যারিটি’র সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে আসছিল। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটি জবি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিতে সম্মত হয়েছে।” জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ গণমাধ্যমকে বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আমাদের কাছে সবসময় অগ্রাধিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সহায়তা পেতে সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে দূরবর্তী গন্তব্যে বা ঢাকার বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এই সংকট আরও প্রকট হয়। এই সেবা চালু হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা অনেকটা কমে আসবে।”