বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়াও

  এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের স্বাস্থ্য একে অপরের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত। কোনো ব্যক্তি, সমাজ বা দেশ একা নয় যখন বিষয়টি সুস্থতার। “স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়াও” এই প্রতিপাদ্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, দায়িত্ব নেওয়ার এবং বৈজ্ঞানিক সত্যের উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানায়। গত কয়েক দশকে বিজ্ঞান স্বাস্থ্যসেবায় অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। টিকা অসংখ্য প্রাণঘাতী রোগ নিয়ন্ত্রণ করেছে, আধুনিক পরীক্ষাপদ্ধতি দ্রুত রোগ নির্ণয় সম্ভব করেছে, আর উন্নত চিকিৎসা মানুষের আয়ু বাড়িয়েছে। তবুও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নতুন সংক্রামক রোগের উদ্ভব, অসংক্রামক রোগের বিস্তার, এবং অনেক মানুষের জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এখনও অনেক পথ বাকি। এই প্রেক্ষাপটে “একসাথে” থাকার গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাস্থ্য শুধু ডাক্তার বা সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। সমাজকে সচেতন হতে হবে, মানুষকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, এবং সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব সবার জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, আর স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে সেবা প্রদান করা। বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়ানো এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। তথ্যের এই যুগে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আমাদের উচিত প্রমাণভিত্তিক তথ্যের উপর বিশ্বাস রাখা এবং বিজ্ঞানকে সমর্থন করা। বিজ্ঞানই আমাদের পথ দেখায়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে এবং সংকটের সময়ে সমাধান দেয়। কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের শিখিয়েছে যে বিশ্ব কতটা আন্তঃসংযুক্ত। বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত টিকা তৈরি হলেও, সবার কাছে সমানভাবে তা পৌঁছায়নি। এই অভিজ্ঞতা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে এবং বৈষম্য দূর করতে শিখিয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা এখন সময়ের দাবি। “স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে” মানে হলো কাউকে পিছিয়ে না রাখা। দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, শরণার্থী এরা প্রায়ই স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু মানবিক নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব। স্বাস্থ্যসেবা সবার মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত। প্রযুক্তিও স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। টেলিমেডিসিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে আরও দ্রুত ও সহজভাবে। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে ন্যায়সঙ্গত ও সবার জন্য উপকারী। শিক্ষা এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষ যখন রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যবিধি এবং চিকিৎসার গুরুত্ব বোঝে, তখন তারা আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সচেতনতা বাড়ানোই একটি সুস্থ সমাজ গড়ার মূল চাবিকাঠি। এই বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে আমাদের উচিত অর্জনগুলোকে মূল্যায়ন করা এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন অঙ্গীকার করা। একটি সুস্থ পৃথিবী গড়তে হলে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে এবং বিজ্ঞানের উপর আস্থা রাখতে হবে। “স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়াও” শুধু একটি প্রতিপাদ্য নয় এটি একটি প্রতিজ্ঞা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাস্থ্য একটি সম্মিলিত যাত্রা, যেখানে সহযোগিতা, জ্ঞান এবং মানবিকতা সবচেয়ে বড় শক্তি। আসুন, আমরা সবাই একসাথে এগিয়ে যাই স্বাস্থ্যের জন্য, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়াও। লেখক: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন ব্যাচ: ইউএমসি ০৭ সেশন: ২০২০-২১ ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ রেফারেন্সঃ ১) https://banglakathan.com/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8-%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8/ ২) https://www.who.int/news-room/events/detail/2026/04/07/default-calendar/world-health-day-2026-together-for-health-stand-with-science

বিবি সাওদা আটক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

ভোলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব এ নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে ভোলা পৌরসভার জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

ঘটনাটি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি আবু সাদিক সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গ্রেপ্তার “ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি”। তিনি অভিযোগ করেন, তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের মাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নেওয়া অমানবিক এবং ভিন্নমত দমনের ইঙ্গিত বহন করে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির মন্তব্য করেন, একটি লেখার কারণেই ক্ষমতাসীনদের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের শাসনের পথ অনুসরণ করছে কি না, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। তিনি গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দেশের যেকোনো নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং এ ধরনের গ্রেপ্তার সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করে। তিনি বিবি সাওদার মুক্তি দাবি করেন এবং গ্রেপ্তারের পেছনের নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার-ও তার পোস্টে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

পুলিশের বক্তব্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার উপপরিদর্শক জুয়েল হোসেন খানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডি থেকে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে এবং কারিগরি সমস্যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বিশ্লেষণ সম্ভব হয়নি। তাকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া ঘটনার পর দলটির পক্ষ থেকে নিন্দা ও উদ্বেগ জানানো হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এক বিবৃতিতে বলেন, রাতের বেলা বাসা থেকে একজন নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করা অগ্রহণযোগ্য। তিনি অবিলম্বে বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

কবির পাশে সমাহিত কবিতা

  আ.ন.ম উসামা বিন হাশেম
আমি চির-বিদ্রোহী-বীর- আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এই কালজয়ী পঙক্তিগুলো যখন আমরা পড়ি, তখন আমাদের চোখের সামনে এক অদম্য তেজস্বী তরুণের অবয়ব ফুটে ওঠে। শত বছর আগে নজরুল যে ‘উন্নত শির’-এর কথা বলে গেছেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে সেই শির বা মস্তকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ছিলেন শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই আমাদের সামনে হাজির হননি বরং তিনি হাজির ছিলেন যুগের এক প্রতিনিধি, এক দ্রোহের নাম হিসেবে। নজরুল জীবদ্দশায় কলম ধরেছিলেন ব্রিটিশ শৃঙ্খলে পরাধীন এক জাতির মুক্তির জন্য, কবির সেই লাইনগুলোকে ধারণ করে ওসমান হাদি দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং কালচারাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে।

“আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির” এই পঙক্তির জীবন্তরূপ ওসমান হাদি দেখিয়ে গিয়েছেন।

জুলাই বিপ্লবের পর যখন সুবিধাবাদীরা ক্ষমতার রস আস্বাদন করতে করতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছিল তখন সেই সুবিধাবাদীদের ভিড়ের বাহিরে তিনি একাই দাঁড়িয়ে বেছে নিয়েছিলেন বিপদের রাস্তা। যেখানে আপস ছিল সহজ, সেখানে তিনি প্রতিবাদকে বেছে নিয়েছিলেন। ওসমান হাদি প্রতিকূলে দাড়িয়েই উচ্চারণ করেন-

“জান দিব, কিন্তু জুলাই দেব না”।

নজরুল ব্রিটিশ উপনিবেশের পরাধীন মুসলিমজাতির শৃঙ্খল ভাঙতে কলম ধরেছিলেন, আর ওসমান হাদি স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর ফ্যাসিবাদকে উপড়ে ফেলতে রাজপথ বেছে নিয়েছিলেন। যেন নজরুলেরই এক জীবন্তরূপ। হাদির রাজনীতিতে ছিল তাত্ত্বিক প্রজ্ঞা আর মাঠের লড়াইয়ের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। জীবনের অর্জিত জ্ঞানকে তিনি ড্রয়িংরুমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মাঝে। ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মাধ্যমে তিনি যে জাগরণ তৈরি করেছিলেন, তা ছিল মূলত নজরুলের সেই ‘চির-বিদ্রোহী’ সত্তার আমাদের সময়ের সংস্করণ।

ওসমান হাদির রাজনৈতিক দর্শনের মূলে ছিল ইনসাফ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব। তিনি কেবল রাজপথের কর্মী ছিলেন না, বরং তাত্ত্বিকভাবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রখর। তিনি তার এই প্রজ্ঞার প্রখরতা ও দূরদর্শী দৃষ্টি থেকে বুঝতে পেরেছিলেন ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতা বা তাৎক্ষণিক আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পরাজিত করা যাবে না বরং এর জন্য লাগবে আদর্শিক ও কালচারাল বিজয়। এই ভাবনা থেকেই গড়ে তুলেছিলেন “ইনক্বিলাব কালচারাল সেন্টার”। যার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিরোধের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের জন্য শাহবাগের কালচারাল ফ্যাসিজম এর বিরুদ্ধে একটি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্রন্ট তৈরি করা,যা দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক হেজিমনি বা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করবে। এছাড়াও সমাজের বৃহৎ সামাজিক মনস্তত্ত্বে ভারতীয় আধিপত্যের যে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে আছে সেটাকে দূর করবে। ওসমান হাদি বিশ্বাস করতেন, “জুলাই বিপ্লব” আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ আমানত। এই বিপ্লব যদি ব্যার্থ হয় তাহলে বাংলাদেশের ভাগ্য দীর্ঘমেয়াদী অন্ধকারের কবলে পড়বে। তাঁর একাধিক বক্তব্যেও তিনি এই কথা বারবার উচ্চারণ করতেন এবং সত্যিই এই আমানত রক্ষার জন্য ওসমান জীবনকে বিলিয়ে দিতে পিছপা হননি। আমাদের দেশে রাজনীতিকদের কথার খই ফোটাতে কার্পণ্য করেন না কোনদিনও, কিন্তু যখন আদর্শের জন্য নিজের জীবন বাজী রাখার কথা আসে তখন হ্যারিকেন দিয়েও তাদের খুজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ওসমান হাদি তো ছিল সত্যিকারের বীর। ওসমান হাদি সেই বিরল মানুষদের একজন যে নিজের আদর্শ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের লড়াই এর জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে যখন গুলিবিদ্ধ হলেন, তখন ওসমান হাদী কেবল একজন এমপি প্রার্থী হিসেবে ভোট চাইছিলেন না; তিনি চাইছিলেন বিপ্লবের ঝাণ্ডাকে সমুন্নত রাখতে। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার নিথর দেহ যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল, তখন বুঝা গেলো—ওসমান হাদি যা মুখে বলতেন, তা লালন করতেন হৃদয়ে। তিনি জান দিয়েছেন, কিন্তু জুলাইকে আপসের টেবিলে বিকিয়ে দেননি। দ্রোহের কবি কাজী নজরুলকে ধারণ করা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি তার কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে নজরুলের সেই দ্রোহের চেতনাকে নিজের অস্তিত্বে মিশিয়ে নিয়েছিলেন। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জীবন্ত রূপ হিসেবে তিনি আজ শায়িত আছেন তারই আদর্শের রাহবার জাতির দ্রোহের প্রতীক কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি ঠিক পার্শ্বেই। আমাদের শহীদ ওসমানকে স্মরণ করতে তাই আমরা বলতে পারি, কবির পাশে সমাহিত কবির “শ্রেষ্ঠ কবিতা”

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ।

উত্তরায় আইইউবিএটি শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিএটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ৪৪ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে তুরাগ থানার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। তুরাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই ইখলাস মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহত সাবিত মাহমুদ শাওনের সহপাঠী মোহাম্মদ কাজল মিয়া বলেন, সাবিত কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তিনি কিছু অস্বাভাবিক পোস্ট দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সহপাঠীদের মধ্যে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তার মৃত্যুতে আইইউবিএটির শিক্ষার্থীরা শোকাহত। প্রসঙ্গত, মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সাবিত মাহমুদ শাওন দুটি স্ট্যাটাস দেন। একটিতে তিনি লেখেন, “At the end, you got to fight your own battles, and accept the defeat. 27/03/2026 (Killed my soul).” অন্য পোস্টে তিনি অপরাধবোধ ও মানসিক অস্থিরতার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন। তবে এসব পোস্টের সঙ্গে তার মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

ফেনী রানার্স কমিউনিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “Community Eid Run Season–01”

  ফেনী রানার্স কমিউনিটির উদ্যোগে পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে “Community Eid Run Season–01”। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর ৫:৩০ মিনিটে ফেনী কলেজ মাঠ থেকে এই কমিউনিটি রান শুরু হয়। ফেনীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত রানাররা এতে অংশগ্রহণ করেন। রানটির নির্ধারিত রুট ছিল ফেনী কলেজ গেট থেকে মাস্টারপাড়া হয়ে আলোকদিয়া সড়ক (স্বপ্ন সেতুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩.৭৫ কিলোমিটার)। নির্ধারিত পয়েন্টে ইউ-টার্ন নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা পুনরায় কলেজ মাঠে ফিরে আসেন, যার মাধ্যমে মোট ৭.৫ কিলোমিটার রান সম্পন্ন হয়। আয়োজকরা জানান, এটি মূলত ফেনীর রানারদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন ও সুস্থ জীবনধারা উৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ মিটআপভিত্তিক আয়োজন। তাই এই ইভেন্টে কোনো আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি; বরং সবাই মিলে একসাথে দৌড়ানোর আনন্দ ভাগাভাগি করাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। এই আয়োজনের অফিসিয়াল টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিল WORLD MOTORS CORPORATION-এর আধুনিক প্রযুক্তির ECOOTER (ইলেকট্রিক স্কুটার), যার মূল প্রতিপাদ্য “স্বল্প খরচে চলবে বহুদূর”। এছাড়া ইভেন্টটি Powered by Graftop ছিল। আয়োজক ফেনী রানার্স কমিউনিটি ECOOTER ও অন্যান্য সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফেনীতে রানিং কালচারকে আরও এগিয়ে নিতে ভবিষ্যতেও এমন কমিউনিটি ভিত্তিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

১২৫ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল

ডেস্ক রিপোর্ট: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে মোট ১২৫ বার পেছানো হলো বহুল আলোচিত এই মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন। বুধবার আদালত নতুন করে আরেকটি তারিখ নির্ধারণ করেছেন। তদন্ত সংস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসা থেকে সাগর-রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি, যা নিয়ে পরিবার, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিবারের মতো এবারও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনা হোক। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, মামলাটি জটিল হওয়ায় তদন্তে সময় লাগছে। তবে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কি আদৌ প্রয়োজন?

  সামিউল ইসলাম : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কতটা উপযোগী,এই প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষেপে বলা যায়, বর্তমান বাস্তবতায় এটি খুব বেশি কার্যকর নয়। বিষয়টি কেবল প্রযুক্তির প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে না; বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক নানা দিক এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রথমত, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো ডিজিটাল সুবিধার বাইরে রয়েছে। গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বহু অঞ্চলে প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর নিজস্ব স্মার্টফোন বা উপযুক্ত ডিভাইস নেই। ফলে অনলাইন ক্লাস চালু করা হলে একটি বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই বঞ্চিত হবে। এতে শিক্ষায় বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মোটেও কাম্য নয়। দ্বিতীয়ত, যেসব শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল আছে, তাদের ক্ষেত্রেও অনলাইন ক্লাসের সুফল সবসময় পাওয়া যায় না। বাস্তবে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষামূলক কনটেন্টের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়ছে। রাত জেগে অনলাইন আড্ডা দেওয়া, গেম খেলা বা বিনোদনে সময় কাটানো তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তৃতীয়ত, কিশোর-কিশোরীদের জন্য অনলাইন জগত নানা ঝুঁকিও তৈরি করছে। অনেক সময় তারা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার করছে। এর ফলে ব্ল্যাকমেইল, হয়রানি বা আর্থিক প্রতারণার মতো ঘটনাও ঘটছে। কিছু ক্ষেত্রে মানসিক চাপে পড়ে তারা ভয়ংকর সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চতুর্থত, করোনা মহামারির সময় আমরা অনলাইন শিক্ষার একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা পেয়েছি। তখন অনেক শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল দেওয়া হলেও তাদের একটি বড় অংশ সেটির সঠিক ব্যবহার করেনি। বরং তারা রাতজাগা অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, দিনের বেলায় ঘুমিয়ে থাকে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাদের আচরণ ও জীবনযাপনে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তার প্রভাব এখনো অনেক ক্ষেত্রে রয়ে গেছে। সবশেষে বলা যায়, শুধুমাত্র প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান দিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং শিক্ষার্থীদের বয়স, মানসিকতা ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। অনলাইন ক্লাসকে পুরোপুরি বাতিল না করে এটি সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে সীমিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সরাসরি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষাই অধিক কার্যকর। অতএব, সরকারকে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। লেখক: সহকারী শিক্ষক হালিমুন্নেছা চৌধুরানী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ  বিদ্যালয়, ভালুকা, ময়মনসিংহ। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক (৪ বার), ময়মনসিংহ বিভাগ।

জ্বালানি সংকটে অনলাইন ক্লাস নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

জ্বালানি সংকটে অনলাইন ক্লাস নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালু থাকবে। এর মধ্যে তিন দিন অনলাইনে এবং বাকি তিন দিন সরাসরি (অফলাইনে) ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই ক্লাস গ্রহণ করবেন। তিনি আরও জানান, অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস পরিচালনায় জোড়-বিজোড় দিনভিত্তিক বিভাজন পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়নি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন সমন্বয়ে ক্লাস পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে অগ্নিবীণা স্কাউটদের বহুমুখী সেবামূলক অভিযান।

জাহিদুল হক শ্রাবণ বাংলাদেশ স্কাউটস রেলওয়ে অঞ্চলের অধীনে আখাউড়া রেলওয়ে জেলার অগ্নিবীণা রেলওয়ে মুক্ত স্কাউট গ্রুপ। রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে এক অনন্য ও প্রশংসনীয় সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই মহৎ উদ্যোগ পরিচালিত হয় গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মোস্তাক আহমেদ খাদেম টিটু (উডব্যাজার)-এর দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় এবং মোঃ আফজাল হোসেন – মহাপরিচালক, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও সভাপতি, বাংলাদেশ স্কাউটস রেলওয়ে অঞ্চল এর সুদৃঢ় নির্দেশনায়। ঈদ যাত্রীসেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে- টিকিট কাটা ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, বয়স্ক ও অসহায় যাত্রীদের আসন খুঁজে দেওয়া, ডেঙ্গু ও চিকুননগুনিয়া সতর্কতামূলক ঘোষণা ও নির্দেশনা প্রদান, স্টেশন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং টিকেট কালেক্টর (টিসি) দলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যাত্রী সেবায় সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করেন, রেলওয়ে পরিবারের সাথে ঐক্যবদ্ধ মনোভাবের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উক্ত কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন মোহাম্মদ নূরুন্নবী (সুপারিনটেনডেন্ট, আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন) এবং মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (চিফ ইন্সপেক্টর আরএনবি)। উভয় বাংলাদেশ স্কাউটস আখাউড়া রেলওয়ে জেলার সহ-সভাপতি এর দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মোঃ মোস্তাক আহমেদ খাদেম টিটু একজন দূরদর্শী ও স্কাউটিংয়ের প্রতি গভীর অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তিত্ব তাঁর অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা এই গ্রুপ আজ আখাউড়া রেলওয়ে অঞ্চলে সেবার এক উজ্জ্বল প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স্কাউট সদা প্রস্তুত , এই মূলমন্ত্রে আজ অগ্নিবীণা স্কাউটরা আবারও প্রমাণ করল, সেবাই তাদের পরিচয়। লেখক: সদস্য,অগ্নিবীণা রেলওয়ে মুক্ত স্কাউট গ্রুপ।

ঈদ সংস্কৃতি: নানান জাতের নানান রকম

মুসলমানদের নিকট ঈদ মানেই এক আধ্যাত্মিক খুশির নাম। অঞ্চল ভেদে ঈদের আমেজে আছে ভিন্নতা, আছে বৈচিত্র্যতা। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঈদ সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের বিশেষ ফিচার। ফিচার তৈরিতে দৈনিক ইত্তেফাক, সময়ের আলো, ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরব

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সৌদিরা বিভিন্ন উৎসবমুখর অনুষ্ঠান এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। দিনটি উদযাপনের অংশ হিসাবে দেশটি জাঁকজমক সাজে সাজানো হয়। পরিবার এবং বন্ধুরা সাধারণত ঈদের বিশেষ খাবারের জন্য একত্রিত হয়। সকালে খাবার পরিবেশন করার আগে পরিবারের বাচ্চারা বয়স্কদের থেকে ‘সালামি’ নেয়।

সৌদি আরবে ঈদে একটি অনন্য ঐতিহ্য হলো- স্থানীয়রা কম তুলনামূলক গরীব কিংবা সবার বাসার দরজায় প্রচুর পরিমাণে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও খাবার রেখে যান। সৌদিতে ঈদের স্পেশাল খাবারের মধ্যে রয়েছে মুগলগাল, জেরিশ এবং ঘুরাইবাহ। মুগলগাল সৌদি আরবের অন্যতম বিখ্যাত খাবার। ঈদের সময় সাধারণত উপভোগ করা এই খাবারে মশলার সাথে ভাজা ভেড়ার মাংস, তাজা টমেটো, পেঁয়াজ এবং সবুজ মরিচ থাকে। দেশটিতে ঈদুল ফিতর ‘মিষ্টি ঈদ’ হিসাবেও পরিচিত। দিনটিতে বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি খাবার খাওয়া হয়।

তুরস্ক

তুরস্কে ঈদুল ফিতর ‘সেকের বায়রাম’ নামেও পরিচিত, যার অর্থ ‘চিনির উৎসব’। দেশটিতে জাতীয়ভাবে উদযাপিত সমস্ত উত্সবকে ‘বায়রাম’ হিসাবে উল্লেখ করার ঐতিহ্য রয়েছে। ঈদ-বায়রামের আনন্দ দেশব্যাপী ঐতিহ্যের সাথে মিশে যায়। তুর্কিরা সাধারণত একে অপরকে ‘বায়রামিনিজ মুবারেক ওলসুন’ বা ‘বায়রামিনিজ কুতলু ওলসুন’ দিয়ে সম্বোধন করে।

প্রার্থনা এবং পারিবারিক সমাবেশ ঘটে দিনটিতে। সবাই মিলে বিশেষ করে শিশুরা দেশটির বিভিন্ন ঐতিহ্যগত আনন্দে মাতে। দিনের একটা অংশে আনন্দ-উদযাপন শেষে তুর্কিরা তাদের কাছের এবং প্রিয়জনদের সাথে দেখা করেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মূলত সবাই সবার প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আনন্দের মধ্য দিয়ে দিনটি পার করে।

মালেশিয়া মালয়েশিয়ানরা ঈদের আগের দিন তাদের নিজ নিজ শহরে ভ্রমণে বের হয়। উত্সবের আগের দিনটি তাদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময় থাকে। তারা পেলিটা’ (তেলের প্রদীপ) দিয়ে ঘর সাজায় এবং ঐতিহ্যবাহী নানা খাবার প্রস্তুত করে। কেতুপাট, কুইহ রায়া, লেমাং, রেন্ডিং ইত্যাদি দেশোটিতে ঈদের দিনের জনপ্রিয় খাবার। সবাই মিলেমিশে খাওয়াদাওয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হলো ‘উন্মুক্ত ঘর’। যেখানে খাবারের পাশাপাশি সবাই মিলে আনন্দ-আয়োজনের সঙ্গে ভালো সময় উপভোগ করার জন্য একত্রিত হয়।

মিশর মিশরীয়রা ঈদ-উল-ফিতরের দিনটি পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে ভোজ এবং সময় কাটানোর মাধ্যমে পার করে। দিনটিতে সবাই ‘ফাত্তার’ নামক বিশেষ খাবার প্রস্তুত করে। এটি ভাত, মাংস ও রুটির মিশ্রণ এবং কুনাফা, পনির দিয়ে তৈরি একটি মিষ্টান্ন। মিশরীয়দেরও তাদের সন্তানদের জন্য নতুন জামাকাপড় এবং নানা আয়োজনের ঐতিহ্য রয়েছে।

নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ডে মসজিদ বা বাহিরের খোলা স্থানে নামাজের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন শুরু হয়। তারপর মুসলিমরা সমেবেত হন ও বিভিন্ন পরিবার উপহার বিনিময় করে। একসাথে ঐতিহ্যবাহী খাবারও খাওয়া হয়। সম্প্রতি অকল্যান্ড, ওয়েলিংটন এবং ক্রাইস্টচার্চের মতো বড় শহরগুলোতে ঈদ উত্সব আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, খাবারের স্টল এবং শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে। দেশটির অকল্যান্ডে বাড়িঘর পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে দিন শুরু হয়। তারপর ইডেন পার্কে যান্ত্রিক ষাঁড়, হিউম্যান ফুসবল এবং বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে খাবার বিক্রি করা হয়। এই উদযাপন মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বৃহত্তর নিউজিল্যান্ড সম্প্রদায়ের মিশ্রণকে প্রতিফলিত করে, দেশের বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি প্রদর্শন করে।

ইন্দোনেশিয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ-উল-ফিতরকে ‘হারি রায়া ঈদুল ফিতর’ বলা হয়। উদযাপন শুরু হয় তাকবির পাঠের মাধ্যমে, যা ঈদের আগের রাত থেকে শুরু হয়। ঈদের সকালে বিশাল খোলা মাঠে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা চাওয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্য। দেশটিতে এই উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘মুদিক’, যার অর্থ নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া। লাখো মানুষ ঈদের ছুটিতে শহর থেকে গ্রামে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। মুদিক এত গুরুত্বপূর্ণ যে, সরকার বিনামূল্যে গণপরিবহনের ব্যবস্থা করে।

ইন্দোনেশিয়ার ঈদ শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি পরিবার ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। দেশটিতে এই উৎসব বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে উদযাপিত হয়। মুসলিমরা ঈদের নামাজ মসজিদ বা খোলা মাঠে আদায় করে এবং তারপর পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ উদযাপন করে।

এছাড়া আমেরিকান মুসলিমরা সাধারণত ‘কমিউনিটি সার্ভিস প্রকল্পে’ অংশগ্রহণ করেন। যেখানে তারা অসহায়দের সাহায্য করতে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ উদযাপনগুলো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিশ্রণ, যেখানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান, সঙ্গীত শোনা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার গ্রহণ করার রীতি পালন করা হয়।

নাইজেরিয়া

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া। প্রায় ২২ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটির অর্ধেক মুসলিম। আর তাই ঈদ বেশ ঘটা করেই পালিত হয় দেশটিতে। অধিকাংশ নাইজেরিয়ান মুসলমান থাকেন দেশটির উত্তর প্রান্তে, সেখানে রোজার ঈদের স্থানীয় নাম আস সাল্লাহ, যার অর্থ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো।

আর আল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানাতে নতুন পোশাক পরে প্রতিটি পরিবারের নারী-পুরুষ ছেলে-বুড়ো সবাই মিলে ঈদের সকালে নামাজে যায়, যা স্থানীয় ভাষায় ‘দুরবার’ নামে পরিচিত।

ঐতিহ্যবাহী খাবারে মাঝে সুয়া (শিক কাবাবের মতো খাবার), জল্লফ রাইস (টমেটো, মশলা এবং নানা সবজি দিয়ে রান্না করা ভাত) এবং মইন মইন (সেদ্ধ মটরের পুডিং) ঈদের দিন খুব জনপ্রিয়।

উজবেকিস্তান

মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানেও ঈদুল ফিতর অন্যতম এক আনন্দের দিন। স্থানীয়দের কাছে দিনটি পরিচিত ‘রুজা হায়িত’ নামে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ থাকা উজবেকিস্তানে দীর্ঘদিন ঈদে কোনো ছুটি ছিল না। তবে স্বাধীনতা ঘোষণার পর দেশটিতে তিন দিনব্যাপী ছুটি নিয়ে ঈদ উদযাপন করা হয়। ঈদের আগের দিনটিকে তারা বলে আরাফা। আর এই দিনে প্রায় প্রতিটি উজবেক পরিবারে ঐতিহ্যবাহী প্যাস্ট্রি কুশ টিল, বুগিরসক; অভিজাত প্যাস্ট্রি ওরামা, চাক-চাক ইত্যাদি তৈরি করা হয়। আর রাতে ঘরে ঘরে উজবেক প্লভ রান্না হয়। এটি বিরিয়ানির মতো খাবার হলেও অঞ্চলভেদে রান্নায় অনেক বৈচিত্র্য থাকে। একে অপরের বাড়িতে প্লভ পাঠানোও জনপ্রিয় একটি রীতি।

ঈদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, যে বাড়িতে নতুন বিবাহিত কনে আছে সেই বাড়িতে আত্মীয় প্রতিবেশীরা বেড়াতে আসেন। আবার বাচ্চারাও পাড়া ঘুরে নতুন বউয়ের প্রশংসা করে মিষ্টি-চকলেট আদায় করে নেয়।

তিউনিশিয়া

আফ্রিকার সর্বোত্তরের দেশ তিউনিশিয়ায় ঈদ অন্যতম আনন্দের উপলক্ষ্য। মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে ঈদ শুরু হয়ে যায় অনেকটা আমাদের মতোই, চাঁদরাত থেকে। এমনিতেই রমজান জুড়ে অনেক রাত পর্যন্ত বাজার খোলা থাকে। কিন্তু চাঁদরাতে খাবার স্টল, দোকানপাট সব প্রাণবন্ত থাকে একদম ফজর পর্যন্ত।

নারী-পুরুষ-শিশু সবাই ঈদের আনন্দে রাতভর ঘুরে বেড়ায়। ঈদের নামাজের পর তিউনিশিয়ান মুসলিমদের পছন্দের খাবার হলো খেজুর আর অলিভ অয়েলে তৈরি মিষ্টি খাবার আসসিদা। আরও থাকে বাকলাভা, কাক ভারকা, ঘ্রাইবা, ম্লাবেস, মাকরৌদ ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী পেস্ট্রি। আর এসব তৈরি করার জন্য ঈদের কয়েক রাত আগে থেকেই সারা রাতজুড়ে বাড়ির মেয়েরা (বিশেষ করে বয়স্করা) গান গাইতে গাইতে কাজ করে যায়। আর ছেলেরা পেস্ট্রির মিক্সচার নিয়ে যায় স্থানীয় কোনো বেকারিতে। সেখানেই বড় চুল্লিতে চলে পেস্ট্রি বানানো। পুরো এলাকা পেস্ট্রির সুবাসে ভরে ওঠে।