সেমিস্টার বিরতি কাটিয়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরছে ডুয়েট

  ডুয়েট প্রতিনিধি: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) সেমিস্টার বিরতি ও পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আগামী ২১ জুন থেকে জোড় সেমিস্টারের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ নতুন সেমিস্টারের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজোড় সেমিস্টারের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা গত ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে ১০ মে শেষ হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য সেমিস্টার বিরতি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ বাড়িতে সময় কাটান। দীর্ঘ বিরতির পর  ২১ জুন থেকে আবারও শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ফিরতে দেখা যাচ্ছে এবং নতুন সেমিস্টারের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।বিভাগগুলোও নতুন সেমিস্টারের পাঠদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সেমিস্টার বিরতি শেষে আগামী ২১ জুন থেকে জোড় সেমিস্টারের ক্লাস শুরুর মধ্য দিয়ে ডুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম আবারও পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে।

কুবিতে রোটার‍্যাক্ট ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে ‘স্পিক-আপ’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

  কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রোটার‍্যাক্ট ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে “SpeakUP: Building Voices, Inspiring Impact” শীর্ষক শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি বিষয়ক বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ( ১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ময়নুল হাসান। তিনি “জনসমক্ষে বক্তৃতা ও উপস্থাপনা দক্ষতায় পারদর্শিতা” বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি কার্যকর উপস্থাপনা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। দ্বিতীয় সেশনে কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ও ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক সোহাগ আহমেদ, “বিতর্কের মাধ্যমে ইংরেজি কথোপকথনের দক্ষতা বৃদ্ধি” বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি (BP) বিতর্কের মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা বিকাশ এবং যুক্তি উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোটার‍্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি এবং ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নে যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। রোটার‍্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি তানভীর আনজুম সাজন বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং সেই জ্ঞানকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক প্রস্তুতি এবং শ্রোতাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে উপস্থাপনা দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যৎ শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দক্ষ যোগাযোগকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনে বিতর্ক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, ‘ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলা এবং নিজের মতামত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করার জন্য নিয়মিত বিতর্ক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। তাঁর মতে, বিতর্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী শুধু ভাষাগত দক্ষতাই নয়, বরং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, যুক্তি বিশ্লেষণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে মতামত প্রকাশের সক্ষমতাও অর্জন করে। তিনি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিতর্কে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধারাবাহিক চর্চাই একজনকে দক্ষ বক্তা ও আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগকারী হিসেবে গড়ে তোলে। এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১ম ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ডিবেট কম্পিটিশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং উপস্থাপনার ক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ১ম ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উত্তরা ইউনিভার্সিটির মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ১৪টি বিভাগ থেকে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত পর্বে বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ বিশ্বাস করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা।’ বিষয়টির পক্ষে ও বিপক্ষে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তথ্যনির্ভর যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।

বাছাই ও নকআউট পর্ব শেষে ইংরেজি বিভাগ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে সিএসই বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংরেজি বিভাগ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আবিদ আজিজ। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, কন্ট্রোলার, অফিস অফ স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর ও ডিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন তাসফিয়া আফরিন ফারিয়া।

 ইউইউডিসির উপদেষ্টা মো. জাহিদুল ইসলাম (অয়ন) বলেন, ‘বিতর্ক কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক কো-কারিকুলার একটিভিটি নয়, বিতর্ক একটি সংস্কৃতি যা চর্চা করতে হয়। বিতর্ক শিক্ষার্থীদের দ্বিমত পোষণের শিষ্টাচার যেমন শেখায়, তেমনি শেখায় ভিন্ন মতামত শুনে উপযুক্ত মূল্যায়ন করার সহনশীলতা। আজকের আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতায় জয়ী-বিজিতের চেয়ে, শিক্ষার্থীদের বিতর্ক সংস্কৃতির চর্চায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়টি আমাকে অধিক অভিভূত করছে। আমি ইউইউডিসিকে সাধুবাদ জানাই সফলভাবে সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্কের প্রতি এমন আগ্রহ গড়ে তোলার জন্য।’

এই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল জনপ্রিয় ক্যাম্পাস ভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্যা ক্যাম্পাস মিরর ও ডেইলি ক্যাম্পাস।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও রানার-আপ দলের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কচর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ১৯ জুন দুপুর ২টায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল্লাহ মানসুর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত এক বছর আগে চিকুনগুনিয়া হওয়ায় তখন থেকেই তিনি একেবারে বিছানায় পড়ে যান। কবি আল মুজাহিদী এক সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

‎‎‎কবি আল মুজাহিদীর অনেকগুলো বই আছে। তার কাব্যগ্রন্থ—হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, ‎প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ‎ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, ‎পাখির পৃথিবী, ‎আলবাট্রাস, ‎ভঙুর গোলাপ, ‎কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও ‎পালকি চলে দুলকি তালে প্রভৃতি।

উপন্যাসসমূহ প্রথম প্রেম, ‎চাঁদ ও চিরকুট, ‎মিলু এট ও স্যোন্যাটা, ‎লাল বাতির হরিণ, ‎রুপোলি রোদ্দুর, ‎আলোর পাখিটা, ‎ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ। গল্পগ্রন্থ—‎প্রপঞ্চের পাখি, ‎বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ। শিশুসাহিত্য হালুম হুলুম, ‎তালপাতার সেপাই, শেকল কাটে খাঁচার পাখি, সোনার মাটি রূপোর মাটি ও ‎ইস্টিশানে হুইসেল।

প্রবন্ধগ্রন্থ সমাজ ও সমাজতত্ত্ব। ‎অনুবাদগ্রন্থ কাইফি আজমির কবিতা, ‎পৃথিবীর কবিতা, ‎আহমদ ফরাজের কবিতা, ‎ঊর্দূ কবিতা, হিন্দি কবিতা ও ‎হাইনরীশ হাইনের কবিতা। গবেষণাগ্রন্থ কালান্তরের যাত্রী।

জীবন ও কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, ‎কবি জসীম উদ্‌দীন একাডেমি পুরস্কার, ‎মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার, ‎জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার, বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক ও একুশে পদক পেয়েছেন।

বিনা বেতনে পাঠদান: গোবিপ্রবির খণ্ডকালীন শিক্ষকদের দীর্ঘ দেড় বছরের বঞ্চনা

তাছিন জায়েফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত খণ্ডকালীন শিক্ষকরা দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করলেও বেতন না পাওয়ায় মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকলেও স্থায়ী নিয়োগের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে এসব শিক্ষকের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট মোকাবেলায় খণ্ডকালীন ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন খন্ডকালীন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তারা নেওয়া ক্লাসের সংখ্যার ভিত্তিতে সম্মানী পেয়ে থাকেন। এসব শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস গ্রহণ, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, মৌখিক পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তবে ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই তাদের বেতন পরিশোধ বন্ধ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খণ্ডকালীন শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। শুরুতে নিয়মিত বেতন পেলেও ২০২৫ সালের শুরু থেকে হঠাৎ করেই বেতন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প চাকরির সন্ধান করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করেন। বেতন ছাড়া ইতোমধ্যে চারটি ঈদ পার করা এক খণ্ডকালীন শিক্ষক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে ক্লাস নিচ্ছি। কিন্তু দেড় বছর ধরে বেতন না পাওয়ায় চরম সংকটে আছি। বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাইনি। কখনো বলা হয় ইউজিসি থেকে বাজেট এলে বেতন দেওয়া হবে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।” এদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। বেতন বন্ধ থাকলে শিক্ষকরা নিরুৎসাহিত হবেন, যা শিক্ষার পরিবেশ ও মানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মোশিকুর রহমান বলেন, “ইউজিসি থেকে অর্থ বরাদ্দ এসেছে। আশা করছি আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, “এখানে অধিকাংশ খণ্ডকালীন শিক্ষক ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত ছিলেন না। এছাড়া ইউজিসি থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম অর্থ বরাদ্দ পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আশা করছি, চলতি মাসের মধ্যেই অন্তত বকেয়া অর্থের একটি বড় অংশ পরিশোধ করা যাবে।”  

মালয়েশিয়াতে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে কুবি শিক্ষার্থীরা, আবেদন শুরু আজ

  কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সারাওয়াক (ইউনিমাস)-এ এক সেমিস্টারের স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে জুনের ২৮ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত। বুধবার (১৭ জুন) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) এ থাকা অংশীদার প্রতিষ্ঠান ইউনিমাস এর প্রোগ্রামে অংশ নিতে আবেদনকারীদের অন্তত প্রথম বর্ষ বা দ্বিতীয় সেমিস্টার সম্পন্ন হতে হবে। পাশাপাশি তাদের সিজিপিএ ২ দশমিক ৭৫ বা তার বেশি থাকতে হবে। এ ছাড়াও আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণও জমা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে IELTS 5.0, TOEFL iBT 42, PTE 47, Cambridge 154, CEFR B1 অথবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত নির্দিষ্ট সনদের যেকোনো একটি গ্রহণযোগ্য হবে। আরও বলা হয়, আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত আবেদন ফরম ও চেকলিস্টে উল্লিখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পিডিএফ করে info@cou.ac.bd এই ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। ই-মেইলের বিষয় হিসেবে “UNIMAS Application” উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক একাডেমিক পরিবেশে, আন্তঃসাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক সুযোগ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা অর্জনে সহায়তা করবে।

এবার সংসদে সরকারি বাসার জন্য ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চেয়েছেন জামায়াতের এমপি

ডেস্ক রিপোর্ট: চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মু. মিজানুর রহমান সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চেয়েছেন। বুধবার বিকেল ৩টা ২ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি ফ্ল্যাটের জানালা-দরজায় এখনো পর্দা ঝোলানো হয়নি। তিনি ফ্ল্যাটের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জোরালো করে আরও বলেন, “আমরা শুনেছিলাম, আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়া হবে। এই পর্দা, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।” এদিকে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দি আটক রয়েছে। তিনি আজ সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্তি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে সর্বমোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ (পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭ + মহিলা ২ হাজার ২৯) জনের বিপরীতে বর্তমানে ৭৭ হাজার ৪০ জন (পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬ + মহিলা ২ হাজার ৭৭) জন বন্দি আটক আছে, যা ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ।  

গোপনে বিয়ে, ঢাকা কলেজে স্ত্রীর অবস্থান: লাপাত্তা স্বামী ছাত্রদল নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট: গোপনে বিয়ের পর স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়ার দাবি তুলে ঢাকা কলেজের হলপাড়ায় অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। ভুক্তভোগী তরুণী (২৬) ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার জনগাওয়ের বাসিন্দা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের সামনে ওই তরুণীকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে দেখা যায়। তার উপস্থিতির বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে এলে হলপাড়াজুড়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। এদিকে, এ খবরে কলেজ থেকে লাপাত্তা রয়েছেন অভিযুক্ত খালিদ পারভেজ। তিনি ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। অভিযুক্ত পারভেজ ঢাকা কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র বলে জানা গেছে। এছাড়া পারভেজ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য। বিয়ের কাবিননামা অনুযায়ী, অভিযুক্ত মো. পারভেজ (২৭) ঠাকুরগাঁও জেলার মালিগাও এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের মার্চের ১৫ তারিখ পঞ্চান্ন হাজার পাঁচশ পঞ্চান্ন টাকা দেনমোহরে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার এক বছর পর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উভয়ের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। তিনি বর্তমানে রাজশাহী কলেজের একজন শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে কিন্তু এখন সে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করছে না। বিষয়টির সুরাহার আশায় আমি ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় এসেছি। তিনি আরও বলেন, পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রথমে তিনি ফোনে জানান যে তিনি ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। পরে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে তার মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী খালিদ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই তরুণী তার বৈধ স্ত্রী। তবে পূর্বসম্মত শর্ত ভঙ্গ করেই তিনি ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে এসে অবস্থান নিয়েছে। ওর সঙ্গে আমার বন্ধু ও জুনিয়ররাও কথা বলেছে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবেই ও সেখানে গেছে। বিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পারভেজ জানান, তাদের বিয়ে রমজান মাসের ১৫ তারিখে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের পর তারা দীর্ঘদিন একসঙ্গেই ছিলেন। পরে ছুটি কাটাতে তরুণী নিজ বাড়িতে যান। সেখান থেকে তার মেসে ওঠার কথা ছিল। পারভেজের দাবি, বিয়ের আগে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল যে তিনি আগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন, এরপর তারা স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাস করবেন। তিনি আরও বলেন, সে (ভুক্তভোগী তরুণী) আমাকে দুই বছর সময় দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু আমি এখনো কোনো চাকরি করি না। বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছি। অথচ বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় সে আমার সঙ্গে এ নিয়ে ঝামেলা করছে। যোগাযোগের পর অভিযুক্ত পারভেজ ফিরে না আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান ওই তরুণী।  

পদত্যাগ করলেন আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক

  রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির অনুমোদন বাতিলের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগ করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুলের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদ ডা. শেখ মহিউদ্দিনের স্বেচ্ছায় নেওয়া অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে অধ্যাপক জামালুন্নেসার ওপর। অধ্যাপক জামালুন্নেসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, যিনি ২৫ বছরেরও বেশি সময় অধ্যাপনা শেষে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে মাস্টার্স করার পর তিনি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় পুরো দেশের সঙ্গে আদ্‌-দ্বীন পরিবারও গভীরভাবে শোকাহত। ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি দিকনির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। হাসপাতালের আলো-বাতাস চলাচল ও অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করতে তিনজন স্বাধীন কনসালটেন্টের নেতৃত্বে পরিমার্জনের কাজ চলছে। এছাড়া হাসপাতালের করপোরেট অফিসের ওপরে অবস্থিত বেকারিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে এর অধীনে ৯টি হাসপাতাল ও ৫টি মেডিক্যাল কলেজসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অনুমোদন বাতিলের ফলে এর সঙ্গে যুক্ত থাকা ১৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী (যার অধিকাংশই নারী) এবং ২০৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৪৬ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দুই সহস্রাধিক মানুষের এই পেশাগত ও শিক্ষাগত ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এবং রোগীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আদ্‌-দ্বীন ফাউন্ডেশন এখন সর্বোচ্চ অঙ্গীকার করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে টিনের বেড়া: থমকে আছে কাজ

  ডেস্ক রিপোর্ট: দীর্ঘ ছয় বছরেও সম্পন্ন হয়নি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ। চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারে নামফলক ও লোগো সংযোজন করা হলেও এখনো থমকে আছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। প্রবেশমুখে রয়েছে টিনের অস্থায়ী বেড়া, বৃষ্টির পানির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২২ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির পরও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে নির্মিত ফটকটি বর্তমানে কেবল একটি অসম্পূর্ণ অবকাঠামো হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজের অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়টিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানারকম ট্রল ও  ধারাবাহিক দাবির মুখে চলতি বছর ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলক ও লোগো স্থাপন করা হলেও রং, নান্দনিকতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সমাপ্তিকরণ কাজ এখনো অসমাপ্ত। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকের একপাশে এখনো রয়েছে টিনের অস্থায়ী বেড়া, ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। এছাড়া গেটের সামনের অংশে বৃষ্টির পানি জমে ছোটখাটো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে পড়ে আছে ভাঙা টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী ও ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারের সৌন্দর্যকে আরো বেশি ম্লান করে দিয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পরিচয় ও প্রথম প্রতিচ্ছবি। বাইরের কোনো ব্যক্তি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যায়, তখন সে মেইন গেট দেখেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা গড়ে তোলে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এত বছর পরও আমরা সেই গেটের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি অবকাঠামোগত অপূর্ণতা নয়, বরং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ সময়েও নিজের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাজ শেষ করতে পারে না, তার অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়। এই অচলাবস্থা প্রশাসনিক দুর্বলতা, সমন্বয়ের অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতিরই প্রতিফলন।’   এ বিষয়ে গোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘বাজেট সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাজ এখনো পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা এখন বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ পেয়েছি। আগামী মাসের মধ্যে ফটকের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে এবং আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।’ মেইন গেটের একপাশে থাকা টিনের অস্থায়ী বেড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই টিনের বেড়াটি অপসারণ করা হবে।’