সেমিস্টার বিরতি কাটিয়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরছে ডুয়েট
কুবিতে রোটার্যাক্ট ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে ‘স্পিক-আপ’ সেমিনার অনুষ্ঠিত
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১ম ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ডিবেট কম্পিটিশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত
শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং উপস্থাপনার ক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ১ম ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উত্তরা ইউনিভার্সিটির মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ১৪টি বিভাগ থেকে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত পর্বে বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ বিশ্বাস করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা।’ বিষয়টির পক্ষে ও বিপক্ষে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তথ্যনির্ভর যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।
বাছাই ও নকআউট পর্ব শেষে ইংরেজি বিভাগ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে সিএসই বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংরেজি বিভাগ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আবিদ আজিজ। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, কন্ট্রোলার, অফিস অফ স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর ও ডিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন তাসফিয়া আফরিন ফারিয়া।
ইউইউডিসির উপদেষ্টা মো. জাহিদুল ইসলাম (অয়ন) বলেন, ‘বিতর্ক কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক কো-কারিকুলার একটিভিটি নয়, বিতর্ক একটি সংস্কৃতি যা চর্চা করতে হয়। বিতর্ক শিক্ষার্থীদের দ্বিমত পোষণের শিষ্টাচার যেমন শেখায়, তেমনি শেখায় ভিন্ন মতামত শুনে উপযুক্ত মূল্যায়ন করার সহনশীলতা। আজকের আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতায় জয়ী-বিজিতের চেয়ে, শিক্ষার্থীদের বিতর্ক সংস্কৃতির চর্চায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়টি আমাকে অধিক অভিভূত করছে। আমি ইউইউডিসিকে সাধুবাদ জানাই সফলভাবে সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্কের প্রতি এমন আগ্রহ গড়ে তোলার জন্য।’
এই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল জনপ্রিয় ক্যাম্পাস ভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্যা ক্যাম্পাস মিরর ও ডেইলি ক্যাম্পাস।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও রানার-আপ দলের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কচর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকাল
ডেস্ক রিপোর্ট:
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ১৯ জুন দুপুর ২টায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল্লাহ মানসুর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত এক বছর আগে চিকুনগুনিয়া হওয়ায় তখন থেকেই তিনি একেবারে বিছানায় পড়ে যান। কবি আল মুজাহিদী এক সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
কবি আল মুজাহিদীর অনেকগুলো বই আছে। তার কাব্যগ্রন্থ—হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, পাখির পৃথিবী, আলবাট্রাস, ভঙুর গোলাপ, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও পালকি চলে দুলকি তালে প্রভৃতি।
উপন্যাসসমূহ প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, মিলু এট ও স্যোন্যাটা, লাল বাতির হরিণ, রুপোলি রোদ্দুর, আলোর পাখিটা, ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ। গল্পগ্রন্থ—প্রপঞ্চের পাখি, বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ। শিশুসাহিত্য হালুম হুলুম, তালপাতার সেপাই, শেকল কাটে খাঁচার পাখি, সোনার মাটি রূপোর মাটি ও ইস্টিশানে হুইসেল।
প্রবন্ধগ্রন্থ সমাজ ও সমাজতত্ত্ব। অনুবাদগ্রন্থ কাইফি আজমির কবিতা, পৃথিবীর কবিতা, আহমদ ফরাজের কবিতা, ঊর্দূ কবিতা, হিন্দি কবিতা ও হাইনরীশ হাইনের কবিতা। গবেষণাগ্রন্থ কালান্তরের যাত্রী।
জীবন ও কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীম উদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার, বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক ও একুশে পদক পেয়েছেন।
