ফার্মের মুরগীরাই জুলাই বিপ্লবের সাহসী সৈনিক: রেজাউল করিম

  টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলো। শিক্ষার্থী-অভিভাবক থেকে শুরু করে নেটিজেনদেরও তোপের মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাকও দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’ বিষয়টি সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেন, শিক্ষামন্ত্রীর মনে রাখা উচিত, ফার্মের মুরগীরাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিপ্লবী সাহসী সৈনিক। তিনি অপর আরেকটি পোস্টে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিটি কলেজের একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ওই ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে এ কথোপকথন হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘মিটিংয়ে একজন বলছিলেন, একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে। বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসে। তখন আমি মিটিংয়েই বলছিলাম যে, একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।’

বৃষ্টি ভেজা রাত, থেমে নেই উন্মাদনা: কুবিতে বিশ্বকাপের আমেজ

  মনির আহমদ শিহাব, কুবি প্রতিনিধি: মধ্যরাত। শীতল আবহে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। মুক্তমঞ্চ জুড়ে ছড়িয়ে আছে ছাতার রঙিন সারি। কেউ বৃষ্টিতে ভিজেই বসে আছেন, কেউ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে। অথচ কারও চোখে বৃষ্টির অস্বস্তি নেই। সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ বিশাল এলইডি স্ক্রিনে। বল পায়ে এগোচ্ছে প্রিয় দলের ফুটবলার, আর তার সঙ্গে ওঠানামা করছে শত শত শিক্ষার্থীর হৃদস্পন্দন। গোলের সুযোগ তৈরি হতেই নিস্তব্ধতা, আর বল জালে জড়াতেই মুহূর্তেই ফেটে পড়ছে বজ্রধ্বনির মতো উল্লাস। মনে হচ্ছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ নয়, যেন বিশ্বকাপের কোনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই বসে আছেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। মুক্তমঞ্চ এখন যেন এক অস্থায়ী স্টেডিয়াম। গ্যালারির মতো সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা শিক্ষার্থী, চারপাশে দাঁড়িয়ে শত শত দর্শক। খেলার প্রতিটি পাস, প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি সেভ আর প্রতিটি গোলের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে দর্শকদের অভিব্যক্তি। মাঠে উপস্থিত না থেকেও আবেগে তারা যেন ম্যাচেরই অংশ হয়ে উঠছেন। মুক্তমঞ্চের সেদিন আর্জেন্টিনা বনার মিশরের মধ্যাকার ম্যাচের চিত্র ছিলো এটি। বিশ্বের এক প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে গড়াচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। কিন্তু সেই উত্তেজনার ঢেউ থেমে নেই হাজারো মাইল দূরের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও। ক্যাম্পাসজুড়ে এখন ফুটবলের রঙ, আবেগ আর উন্মাদনারই প্রতিচ্ছবি। বিশ্বকাপ এলেই যেন বদলে যায় ক্যাম্পাসের চিত্র। প্রিয় দলকে ঘিরে আনন্দ, প্রতিপক্ষকে নিয়ে খুনসুটি, রাত জেগে খেলা দেখা, গোল হলেই একসঙ্গে চিৎকার করে ওঠা, সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে মুক্তমঞ্চে স্থাপন করা বিশাল এলইডি স্ক্রিন। প্রিয় দলের জয় নিশ্চিত হতেই মুহূর্তে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উল্লাসের জবাবে ব্রাজিল সমর্থকদের খুনসুটি, আবার কখনো উল্টো চিত্র। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সবকিছুই সীমাবদ্ধ বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি-ঠাট্টা আর ফুটবলপ্রেমে। খেলা শেষ হলেও আলোচনা থামে না। সেই রেশ ছড়িয়ে পড়ে আবাসিক হল, চায়ের দোকান, করিডর কিংবা বন্ধুদের আড্ডায়। ক্যাম্পাসে একত্রে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন শিক্ষার্থীরা। দর্শক সারিতে থাকা লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আফতাব উল হক বলেন, “এই আয়োজন আমার কাছে সত্যিই দারুণ লেগেছে। মুক্তমঞ্চে এত বড় স্ক্রিনে সবাই মিলে বিশ্বকাপের খেলা দেখার আনন্দ একেবারেই অন্য রকম। খেলার সময় যখন কোনো দল গোল করে, তখন পুরো মুক্তমঞ্চ করতালি আর উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে। আবার নিজের প্রিয় দল জয়ী হলে সবাই মিলে সেই আনন্দ উদযাপন করি। বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে মজার মজার তর্ক-বিতর্ক ও খুনসুটিও চলে, যা পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।” এলইডি স্কিনে খেলা দেখানোর আয়োজন নিয়ে কুবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ জানান, “পৃথিবীর প্রতিটি দেশে বিশ্বকাপের যে আমেজ চলছে, সেই আমেজকে ধরে রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সকলের সুবিধার্থে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আয়োজনে আমরা এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন করেছি। বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ আমরা সুশৃঙ্খলভাবে দেখানোর আয়োজন করবো। আমরা আশা করছি সকল শিক্ষার্থী এটি উপভোগ করবে এবং আগামীতেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের যেকোনো সহযোগিতায় পাশে থাকবে।” বৃষ্টি, গভীর রাত কিংবা ক্লাসের ব্যস্ততা, কোনো কিছুই যেন থামাতে পারছে না ফুটবলপ্রেমীদের এই মিলনমেলা। শেষ বাঁশি বাজলেও উল্লাস, তর্ক, বিশ্লেষণ আর স্মৃতির রেশ থেকে যায় দীর্ঘক্ষণ। তাই কুবির শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্বকাপ শুধু ৯০ মিনিটের একটি ম্যাচ নয়, বরং বন্ধুত্ব, আবেগ আর একসঙ্গে উদযাপনের এক অনন্য উৎসব।

আইইউটির টেকাথন ন্যাশনালস অ্যান্ড রোভার সামিট ২০২৬-এ প্রথম রানারআপ ডুয়েটের ‘সলিডএক্স’

ডুয়েট প্রতিনিধি, গাজীপুর: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) রোবটিক্স সোসাইটি আয়োজিত টেকাথন ন্যাশনালস অ্যান্ড রোভার সামিট ২০২৬-এর রোবোক্যাড বিভাগে প্রথম রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) সলিডএক্স দল। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় প্রকৌশল নকশা, ত্রিমাত্রিক মডেলিং এবং কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখে দলটি। কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে প্রথম রানারআপ হওয়ার মাধ্যমে ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা আবারও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে।

কোমরসমান পানিতে নেমে বন্যার্তদের পাশে বিরোধীদলীয় নেতা

  ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা নিরাপদ দূরত্বে না থেকে সরাসরি কোমরসমান নোংরা পানি মাড়িয়ে একের পর এক জলমগ্ন বাড়িতে ছুটে যান তিনি, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ডা. শফিকুর রহমান এলাকায় পৌঁছামাত্রই চারদিকে ‘দাদু আসছেন… দাদু আসছেন…’ বলে শোরগোল পড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় এই সম্বোধনটি আজ মাঠপর্যায়ে বাস্তব রূপ নেয়। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি প্রথমে লাবুর দোকানের পাশে অবস্থিত একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এরপর তিনি নিজেই নেমে পড়েন বুক ও কোমরসমান পানিতে। অবরুদ্ধ বাড়িঘরগুলোর দরজায় কড়া নেড়ে ভেতরের শিশু ও বৃদ্ধদের খোঁজ নেন, তাঁদের হাতে সহায়তা তুলে দেন এবং পরম মমতায় কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান। নেতার এমন মানবিক রূপ দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বন্যাকবলিত মানুষগুলো। গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসে দূর থেকে ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের ভেতর পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন। লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম ও কিরণ বালা জলদাস জানান, ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় তাঁরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে দেশের এত বড় একজন নেতা তাঁদের কথা শুনতে সরাসরি পানির মধ্যে নেমে এসেছেন, এটাই তাঁদের বড় সান্ত্বনা। স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে না গিয়ে তিনি যেভাবে মানুষের ঘরে ঘরে গেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে আছে। তিন দিন ধরে ঘরছাড়া দুর্গত মানুষগুলো স্কুল, দোকান বা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি, বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনুভব করতেই আজ মাঠে নেমেছি। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জোরালো আলোচনা করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, মানুষের আসল দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা। এ সময় সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহতদের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। বক্তব্য শেষ করে তিনি আবারও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান।  

কুবির পাঁচ অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগ

  কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পাঁচ অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, সিন্ডিকেটের ১০৯তম ও ১১০তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ডিন নিয়োগ–সংক্রান্ত গঠিত কমিটির প্রতিবেদন এবং আইন উপদেষ্টার পরামর্শের বিবেচনায় উপাচার্য নিম্নোক্ত পাঁচ শিক্ষককে ডিন হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচ জন ডিন হলেন— বিজ্ঞান অনুষদে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার, কলা ও মানবিক অনুষদে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রকৌশল অনুষদে সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, “আজকে ভিসি স্যারের নির্দেশে পাঁচটি ফ্যাকাল্টিতে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডিন নিয়োগে বিভাগ রোটেশনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে পূর্বে সায়েন্স এবং সোশ্যাল সাইন্স ফ্যাকাল্টিতে ডিন নিয়োগে যে ব্যত্যয় ঘটেছে, সেটা কাটিয়ে উঠার জন্য সেই বিভাগগুলো থেকে ডিন দেওয়া হয়েছে। বিভাগ রোটেশনকে প্রাধান্য দিয়েই সামনেও ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে।”   উল্লেখ্য,৬ জুলাই ২০২৬ থেকে তারা পরবর্তী দুই বছরের জন্য নিজ নিজ অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ডুয়েটে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় বৈশ্বিক সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত

ডুয়েট প্রতিনিধি,গাজীপুর। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশনের ওপর একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডুয়েট ক্যারিয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ক্লাবের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (IQAC)-এর সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। “Research Excellence, International Collaboration, and Higher Education: Pathways to Global Opportunities” শীর্ষক এই আয়োজনে প্রধান বক্তা ও মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির অধীন ‘রিসার্থ সেন্টার ফর ন্যানো-ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি টেকনোলজি’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল, উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আরেফিন কাউসার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. উৎপল কুমার এবং ডুয়েট আইকিউএসি-এর পরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে গবেষণাভিত্তিক সেমিনার আরও বেশি আয়োজন করা উচিত। মেধা পাচারকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করবে, তখন তার সেই গবেষণার মাধ্যমে যেন দেশের অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় সমস্যাগুলোর বাস্তবমুখী সমাধান সম্ভব হয়, সেদিকেই সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। তবেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। মূল বক্তার বক্তব্যে প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান একবিংশ শতাব্দীতে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গবেষণার অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, গবেষণার প্রথম ও প্রধান কাজ হলো চারপাশের বাস্তবমুখী সমস্যাগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। এরপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও বাস্তবভিত্তিক ডেটা অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান রূপদান করতে হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মানসম্মত স্কোপাস (Scopus) বা আইএসআই (ISI) ইনডেক্সড জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের ওপর জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি বিশ্বমানের গবেষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও যৌথ গবেষণার (Co-authorship) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধির তাগিদ দেন ড. সাইদুর। উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্কলারশিপ প্রাপ্তির বিষয়ে সেমিনারে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। আলোচকবৃন্দ জানান, কমনওয়েলথ, ইরাসমাস মুন্ডাস বা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শক্তিশালী রিসার্চ প্রোফাইল বড় ভূমিকা রাখে। স্নাতক পর্যায়েই অন্তত একটি বা দুটি ভালো মানের রিসার্চ পাবলিকেশন থাকলে স্কলারশিপের রেসে অনেক এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এর পাশাপাশি একটি গোছানো ও উদ্দেশ্যমুখী ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ (SOP) বা কভার লেটার তৈরি এবং আইইএলটিএস (IELTS) বা জিআরই (GRE)-র মতো ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। ডুয়েট সিআরসি ক্লাবের আয়োজকবৃন্দ ও ডুয়েট আইকিউএসি জানায়, সেমিনারটিতে মূলত গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনের কৌশল, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার সুযোগ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও বৈশ্বিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই ধরনের উদ্যোগ ডুয়েটে একটি সমৃদ্ধ গবেষণাবান্ধব পরিবেশ জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ একাডেমিক ও পেশাগত পরিকল্পনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

গোবিপ্রবিতে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও চেক প্রদান

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মাস্টার্স (থিসিস) ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও চেক প্রদান করা হয়েছে। আজ ৮ জুলাই ২০২৬ বুধবার দুপুর ১২টায় টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে বিশ^বিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোহেল হাসান। অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোহেল হাসান বিভিন্ন বিভাগের মাস্টার্স (থিসিস) ফেলোশিপপ্রাপ্ত ৬৩ শিক্ষার্থীদের হাতে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেন। এসময় অনুষ্ঠানের প্রধান উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, টাকার পরিমাণ সামান্য হলেও এর ইমপ্যাক্ট অনেক গভীর। এটা তাদের গবেষণা কর্মে উৎসাহিত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মের মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে এ বিশ^বিদ্যালয়ের মান উজ্জ্বল করবে। সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান অত্র বিশ^বিদ্যালয়ে বলেন, এই ফেলোশিপ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহী হতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে শুভেচ্চা বক্তব্য রাখেন রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ শামসুল আরেফিন। সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মইনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

একদিনের উপাচার্য হলে,বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

  মো:তাছিন জায়েফ,গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: ৮ জুলাই, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণের উপলক্ষ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবার একটি সময়। যদি একদিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে তারা কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন?এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে বিভিন্ন বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থীর মতামত অবকাঠামো, গবেষণা ও শিক্ষক সংকট সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে চান মো:জুবায়ের আহমেদ দুর্জয় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ।শিক্ষাবর্ষ:২০২০-২১ চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান— ১. অসম্পূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন: বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করা এবং দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া। ২. গবেষণা ও ল্যাব উন্নয়ন: বিভাগভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী ক্লাসরুম সুষ্ঠু বণ্টন ও গবেষণাগারের উন্নয়ন, প্রয়োজনে অস্থায়ী ল্যাব স্থাপন এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। ৩. শিক্ষক সংকট সমাধান: একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে পর্যাপ্ত গেস্ট টিচার, প্রাক্তন মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া, যাতে শিক্ষকরা গবেষণায় আরও সময় দিতে পারেন। ৪. প্রতি সপ্তাহে/পাক্ষিককালে সকল ভিসিকে শিক্ষার্থীদের সম্মুখে সরাসরি জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা। ডিজিটাল সেবায় স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যাশা আইন বিভাগের ২০২১–২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিমুল হাসানের একদিনের জন্য উপাচার্যের দায়িত্ব পেলে ডিজিটাল রূপান্তর ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসনকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান মোঃ তানজিমুল হাসান। তার তিনটি প্রধান উদ্যোগ— ১. ব্লকচেইন-ভিত্তিক ডিজিটাল সার্টিফিকেট: সনদ জালিয়াতি বন্ধ এবং চাকরিদাতাদের সহজে সনদের সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ দিতে ব্লকচেইন প্রযুক্তিভিত্তিক সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালু করা। ২. ডিজিটাল অভিযোগ ও সমাধান ব্যবস্থা: র্যাগিং, হয়রানি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ জানাতে নাম গোপন রেখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা এবং অভিযোগের অগ্রগতি ট্র্যাক করার ব্যবস্থা করা। ৩. অনলাইন ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা: ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও ফি প্রদানের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো। মানসিক স্বাস্থ্য, গবেষণা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে চান মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষের সারোয়ার হোসেন তার তিনটি প্রধান উদ্যোগ— ১. Student Counseling & Mental Health Center প্রতিষ্ঠা: প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানীদের মাধ্যমে নিয়মিত কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সংকটকালীন সহায়তা নিশ্চিত করা। ২. গবেষণা ও বাস্তবমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণ: গবেষণা, উদ্ভাবন, ফিল্ডওয়ার্ক, ইন্টার্নশিপ এবং আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবমুখী শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। ৩. ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন: ক্যারিয়ার গাইডেন্স, সফট স্কিল, নেতৃত্ব ও মানসিক সক্ষমতা উন্নয়নের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা। শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে চান৷ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের লামিয়া ইসলাম এক দিনের উপাচার্য হিসেবে তিনটি অগ্রাধিকার দিবেন বলে জানান যে, ১. বিভাগভিত্তিক সেমিনার লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা: প্রতিটি বিভাগে প্রয়োজন অনুযায়ী সেমিনার লাইব্রেরি স্থাপন, যাতে শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে পড়াশোনা ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে পারেন। ২. আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া। ৩. শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন: শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। লাইব্রেরি, একাডেমিক সুবিধা ও স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে চান হুমাইরা জেমি এ এস ভি এম বিভাগ | শিক্ষাবর্ষ: ২০২৪–২০২৫ তার প্রধান উদ্যোগ গুলো— ১. সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উন্নয়ন: বিভাগভিত্তিক বইয়ের বিন্যাস, নতুন বই, গবেষণা জার্নাল ও ই-বুক সংযোজন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বসার স্থান বৃদ্ধি করা। ২. একাডেমিক সুবিধা সম্প্রসারণ: নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা। ৩.স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন: শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করা। পাঁচ শিক্ষার্থীর বক্তব্যে বিষয়ভিত্তিক অগ্রাধিকার ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় সবাই একমত—একটি আধুনিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও গবেষণাকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে তাদের এই কল্পিত সিদ্ধান্তগুলোই যেন আগামীর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একগুচ্ছ বাস্তব প্রত্যাশার প্রতিফলন।

ব্রাজিল-নরওয়ের ম্যাচ দেখতে ড্যাফোডিলে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত

  ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্র, ইনসেটে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্র, ইনসেটে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচ উপভোগ করতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এসেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন।   স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি সহ নরওয়ের দূতাবাসের কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে জানানো হয়েছে। সোমবার মধ্যরাত ২টায় ব্রাজিল ও নরওয়ের ম্যাচ উপভোগ করতে রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছেছেন। ম্যাচ শুরুর আগে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এবং ক্যাম্পাসের ফুটবলমুখর পরিবেশ ঘুরে দেখবেন।   ম্যাচ উপভোগের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ আল্লাইয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। জানা যায়, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের ম্যাচগুলোতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ফুটবলপ্রেমী দর্শক। প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা, ব্যানার ও সমর্থকদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ও আবেগ ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্যালারি জুড়ে। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ফুটবল উন্মাদনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে শিক্ষার্থীদের উদযাপনের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতির প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগ্রহ সৃষ্টি করে। জানা গেছে, ফক্স সকার, ইএসপিএন এফসি, মার্কা, টিওয়াইসি স্পোর্টস, দিয়ারিও ওলে এবং জনপ্রিয় ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও সাংবাদিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ফুটবল উদযাপনের ভিডিও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রাজিলের তারকা নেইমার জুনিয়রের প্রতিক্রিয়া, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্যাফোডিলের ব্রাজিল সমর্থকদের ভিডিও শেয়ার এবং ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের উদযাপনের দৃশ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ব্যাপক আলোচনায় আসে। এর আগে রবিবার (২৯ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের মধ্যকার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ উপভোগ করতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন ক্যাম্পাসে আসার আগে এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ড্যাফোডিলিয়ানদের উদ্দেশে বলেন, ‘হ্যালো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। আমি বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত। আজ রাতে নরওয়ে এবং ব্রাজিলের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি উপভোগ করতে আমি আপনাদের কাছে আসছি। আমি চাই, আমরা সবাই মিলে ভাইকিংদের মতো ‘নৌকা বাইচ’ (Viking Row) উদযাপনের ভঙ্গিতে আনন্দ করি। আপনারা নরওয়েকে সমর্থন করতে পারেন কিংবা ব্রাজিলকে সেটি কোনো বড় বিষয় নয়। আমার বিশ্বাস, সবাই মিলে একসঙ্গে ম্যাচটি উপভোগ করাটাই সবচেয়ে দারুণ হবে। তাহলে প্রস্তুত তো? রো… রো… রো…। আজ রাতে দেখা হচ্ছে।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের মাননীয় রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্রাজিল বনাম নরওয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচটি উপভোগ করবেন। আপনি যে দলকেই সমর্থন করুন না কেন, দুই দলের সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবলের এই উত্তেজনা, উন্মাদনা ও ক্রীড়াসুলভ চেতনা একসঙ্গে উদযাপন করতে চলে আসুন।’ শিক্ষার্থীদের মতে, রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ড্যাফোডিলের ফুটবল উদযাপনের ধারাবাহিক আলোচনায় আসা বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাদের ভাষ্য, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়; এটি ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করার এক বৈশ্বিক ভাষা।

My Empire Casino: Ein Blick auf die wichtigsten Boni

My Empire Casino ist eine moderne Online-Glücksspielplattform, die sich durch ein umfangreiches Angebot an Spielen und attraktiven Boni auszeichnet. Spieler können sich auf eine Vielzahl von Aktionen freuen, die den Einstieg erleichtern und die langfristige Bindung fördern. Um mehr über die verschiedenen Boni und Angebote zu erfahren, besuchen Sie my empire casino login.

Willkommensbonus und erste Einzahlungen

My Empire Casino bietet neuen Spielern einen großzügigen Willkommensbonus, der im Rahmen ihrer ersten Einzahlungen verfügbar ist. In der Regel können Spieler bis zu 100% auf ihre erste Einzahlung erhalten. Darüber hinaus gibt es oft zusätzliche Freispiele, die für ausgewählte Slots genutzt werden können.

Der Willkommensbonus ist ein hervorragendes Angebot für Neulinge, da er die Spielzeit verlängert und den Spielern ermöglicht, verschiedene Spiele auszuprobieren. Es ist jedoch wichtig, die Bonusbedingungen zu prüfen, um sicherzustellen, dass diese den persönlichen Anforderungen entsprechen.

Loyalitätsprogramm und regelmäßige Aktionen

Für die treuen Spieler hat My Empire Casino ein umfassendes Loyalitätsprogramm implementiert. Spieler sammeln Punkte für jede Wette, die sie platzieren, und können diese Punkte gegen exklusive Prämien und Boni eintauschen. Regelmäßige Aktionen, wie Reload-Boni oder Cashback-Angebote, sorgen dafür, dass die Spieler immer wieder zurückkehren.

  • Wöchentliche Reload-Boni
  • Cashback-Angebote
  • Exklusive Turniere und Wettbewerbe

Boni für bestimmte Spiele

My Empire Casino zeichnet sich durch gezielte Boni aus, die für bestimmte Spiele oder Spielekategorien gelten. Dies beinhaltet besondere Freispiele für neue Spielautomaten oder erhöhte Einzahlungsboni für Live-Spiele. Solche Angebote bieten Spielern die Möglichkeit, ihre Lieblingsspiele mit zusätzlichen Bonusmitteln zu genießen.

Bonusart Gültigkeit Maximalbetrag
Willkommensbonus Erste Einzahlung 100% bis zu 200 €
Reload-Bonus Wöchentlich 50% bis zu 100 €

Häufig gestellte Fragen

  • Wie melde ich mich für den Willkommensbonus an? – Spieler müssen sich registrieren und eine erste Einzahlung tätigen, um den Bonus zu aktivieren.
  • Gibt es Umsatzbedingungen für die Boni? – Ja, jede Bonusart hat spezifische Umsatzbedingungen, die erfüllt werden müssen, bevor eine Auszahlung möglich ist.
  • Kann ich Freispiele auf jedem Slot verwenden? – Freispiele sind in der Regel für bestimmte Spielautomaten gültig, die in den Bonusbedingungen aufgeführt sind.