মো:তাছিন জায়েফ,গোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
৮ জুলাই, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণের উপলক্ষ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবার একটি সময়। যদি একদিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে তারা কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন?এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে বিভিন্ন বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থীর মতামত
অবকাঠামো, গবেষণা ও শিক্ষক সংকট সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে চান মো:জুবায়ের আহমেদ দুর্জয়
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ।শিক্ষাবর্ষ:২০২০-২১
চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান—
১. অসম্পূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন:
বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করা এবং দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া।
২. গবেষণা ও ল্যাব উন্নয়ন:
বিভাগভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী ক্লাসরুম সুষ্ঠু বণ্টন ও গবেষণাগারের উন্নয়ন, প্রয়োজনে অস্থায়ী ল্যাব স্থাপন এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।
৩. শিক্ষক সংকট সমাধান:
একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে পর্যাপ্ত গেস্ট টিচার, প্রাক্তন মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া, যাতে শিক্ষকরা গবেষণায় আরও সময় দিতে পারেন।
৪. প্রতি সপ্তাহে/পাক্ষিককালে সকল ভিসিকে শিক্ষার্থীদের সম্মুখে সরাসরি জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা।
ডিজিটাল সেবায় স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যাশা আইন বিভাগের ২০২১–২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিমুল হাসানের
একদিনের জন্য উপাচার্যের দায়িত্ব পেলে ডিজিটাল রূপান্তর ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসনকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান মোঃ তানজিমুল হাসান। তার তিনটি প্রধান উদ্যোগ—
১. ব্লকচেইন-ভিত্তিক ডিজিটাল সার্টিফিকেট:
সনদ জালিয়াতি বন্ধ এবং চাকরিদাতাদের সহজে সনদের সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ দিতে ব্লকচেইন প্রযুক্তিভিত্তিক সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালু করা।
২. ডিজিটাল অভিযোগ ও সমাধান ব্যবস্থা:
র্যাগিং, হয়রানি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ জানাতে নাম গোপন রেখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা এবং অভিযোগের অগ্রগতি ট্র্যাক করার ব্যবস্থা করা।
৩. অনলাইন ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা:
ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও ফি প্রদানের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো।
মানসিক স্বাস্থ্য, গবেষণা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে চান মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষের সারোয়ার হোসেন
তার তিনটি প্রধান উদ্যোগ—
১. Student Counseling & Mental Health Center প্রতিষ্ঠা:
প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানীদের মাধ্যমে নিয়মিত কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সংকটকালীন সহায়তা নিশ্চিত করা।
২. গবেষণা ও বাস্তবমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণ:
গবেষণা, উদ্ভাবন, ফিল্ডওয়ার্ক, ইন্টার্নশিপ এবং আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবমুখী শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা।
৩. ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন:
ক্যারিয়ার গাইডেন্স, সফট স্কিল, নেতৃত্ব ও মানসিক সক্ষমতা উন্নয়নের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা।
শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে চান৷ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের লামিয়া ইসলাম এক দিনের উপাচার্য হিসেবে তিনটি অগ্রাধিকার দিবেন বলে জানান যে,
১. বিভাগভিত্তিক সেমিনার লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা:
প্রতিটি বিভাগে প্রয়োজন অনুযায়ী সেমিনার লাইব্রেরি স্থাপন, যাতে শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে পড়াশোনা ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে পারেন।
২. আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ:
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া।
৩. শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন:
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
লাইব্রেরি, একাডেমিক সুবিধা ও স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে চান হুমাইরা জেমি
এ এস ভি এম বিভাগ |
শিক্ষাবর্ষ: ২০২৪–২০২৫
তার প্রধান উদ্যোগ গুলো—
১. সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উন্নয়ন:
বিভাগভিত্তিক বইয়ের বিন্যাস, নতুন বই, গবেষণা জার্নাল ও ই-বুক সংযোজন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বসার স্থান বৃদ্ধি করা।
২. একাডেমিক সুবিধা সম্প্রসারণ:
নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা।
৩.স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন:
শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করা।
পাঁচ শিক্ষার্থীর বক্তব্যে বিষয়ভিত্তিক অগ্রাধিকার ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় সবাই একমত—একটি আধুনিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও গবেষণাকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে তাদের এই কল্পিত সিদ্ধান্তগুলোই যেন আগামীর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একগুচ্ছ বাস্তব প্রত্যাশার প্রতিফলন।
