Thursday, April 30, 2026
হোমপ্রবন্ধপরিবর্তনের শুরু হোক এ মাস থেকে

পরিবর্তনের শুরু হোক এ মাস থেকে

পরিবর্তনের শুরু হোক এ মাস থেকে
শাহরুখ হোসাইন তন্ময়

 

পরিবর্তনশীল জীব। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়। হাদিসে এসেছে, অন্তরসমূহ পরম করুণাময়ের (আল্লাহ) দুই আঙুলের মাঝে অবস্থিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন (জামি আত-তিরমিযি-২১৪০)। এজন্য রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিমাণে এ দোয়া করতেন-

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ

অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো।

ঋতুর পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া ও পরিবেশের পরিবর্তন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কখনো শীত, কখনো গ্রীষ্ম আসে। শীত-গ্রীষ্মের পাশাপাশি যেমন বসন্ত আসে, মানুষের নেক আমলেরও তেমনি বসন্ত আসে। সেটি হলো মাহে রমাদান (বাংলায় আমরা বলি রমজান মাস), যা সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। এ মাসেই আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর কুরআন নাযিল করেন। আল্লাহ বলেন,

شَہۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ ہُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡہُدٰی وَ الۡفُرۡقَانِ ۚ

রমজান মাস, যে মাসে বিশ্বমানবের জন্য পথ প্রদর্শন এবং সু-পথের উজ্জ্বল নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে (সূরা বাকারা-১৮৫)।

এ মাসে একটা নফল ইবাদত করলে ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। আমরা জানি, প্রতিটি নেক আমলের বিনিময়ে দশ থেকে সাতশ গুণ, বরং তার চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায় (সহিহ বুখারী-৬৪৯১)। রমজানে এর পরিমাণ আল্লাহ আরো বাড়িয়ে দেন। এ মাসে সিয়াম (রোযা) পালন করা আল্লাহ ফরজ করেছেন। আল্লাহ কুরআনে বলেন,

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ ﴿۱۸۳﴾ۙ

হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমাদের পূর্ববতী লোকদের ন্যায় তোমাদের উপরও সিয়ামকে অপরিহার্য কর্তব্য রূপে নির্ধারণ করা হল যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো (সূরা বাকারা-১৮৩)।

সিয়াম পালন করার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দিবেন (সহিহ বুখারী-১৮৯৪)। এমন একটি বরকতপূর্ণ মাস আমাদের সামনে প্রতিবছরই আসে যে মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়। কিন্তু এ মাসে আমরা শুধু পানাহার বর্জন এবং কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মাধ্যমেই কাটিয়ে দেই। এ মাসের মূল উদ্দেশ্য- তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন, এ থেকে আমরা বরাবরের মতোই দূরে সরে যাই। অন্য সময়ের মতো ফ্রি-মিক্সিং, অশ্লীলতা, প্রতারণার মতো গুণাহে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে জড়াচ্ছি। দিনের বেলায়ও অনেক হোটেল, রেস্তোরাঁয় পর্দা লাগিয়ে খানাপিনা চলে। আর রমজান মাস আসলেই যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি হওয়া একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে অন্যান্য মুসলিমপ্রধান দেশে রমজান আসলে জিনিসপত্রের দাম কমে সেখানে আমাদের দেশে অতিরিক্ত শুল্ক বাড়িয়ে সেটার দাম বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। যেন এ মাস পুরোটা ব্যবসায় লাভবান হওয়ার মৌসুম। রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম, যে রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে (সূরা ক্বদর-১-৩)। রমজানের শেষ দশকে এ রাত অন্বেষণ করতে বলা হয়েছে, সেখানে আমরা কেনাকাটা আর আমোদপ্রমোদে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আবার, অনেকেই শুধু ২৭-এর রাতকেই লাইলাতুল ক্বদর হিসেবে উদযাপন করি, যা নিতান্তই ভুল। এ রাতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাতকে আমরা যারা অবহেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি, তাদের মতো হতভাগ্য আর কেউ নেই। রমজান আমাদের মধ্য থেকে প্রতিবছরই এভাবে চলে যায় কিন্তু আমরা এর যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে বলেন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে রমজান পেল অথচ নিজের গুণাহ মাফ করাতে পারলো না (বায়হাকি-১৫৭২)। তাই আসুন, আমরা এই বরকতপূর্ণ (রমজান) মাস কাজে লাগাই। আমলের বসন্ত হয়ে উঠুক এই মাস।

লেখক: শিক্ষার্থী,আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত