গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন সূর্য মাথার ওপরে তেতে থাকে, তখন শরীর ও মন দুটোরই দরকার একটু স্বস্তি ও সতেজতা। এই সময় ডিহাইড্রেশনের সমস্যা বেড়ে যায়, যা ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং হজমের গোলমাল তৈরি করতে পারে। পানীয় হিসেবে লাচ্ছি শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও এক অসাধারণ পুষ্টিকর উপায়। এতে রয়েছে প্রোবায়োটিক, যা হজমে সহায়তা করে, সঙ্গে দেয় ঠান্ডা অনুভূতি।
বাড়িতে আমরা অনেকেই নিয়মিত টক বা মিষ্টি দই দিয়ে সাধারণ লাচ্ছি বানাই। কিন্তু প্রতিদিন একঘেয়েভাবে একই স্বাদ খেতে কার ই বা ভালো লাগে? একটু ভিন্ন স্বাদের খোঁজে, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফল দিয়ে তৈরি লাচ্ছি হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। নিচে তিনটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর ফলভিত্তিক লাচ্ছির রেসিপি দেওয়া হলো, সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত টিপস ও বিকল্পের কথাও থাকল—
প্রস্তুত প্রণালী: বেল ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে সামান্য পানি দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর বিচি আলাদা করে বেলের পাল্প, টক দই, চিনি, বিট লবণ, লেবুর রস ও বরফ কুচি একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ঠান্ডা গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।
গ্রীষ্মে পুষ্টিকর ও ঠান্ডা অনুভূতির জন্য বেল, কলা ও তরমুজের লাচ্ছি রেসিপি ও স্বাস্থ্য টিপস। সহজ, ফলভিত্তিক, সুস্বাদু লাচ্ছি
স্বাস্থ্য টিপ: বেল হজমশক্তি বাড়ায় এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখে। এটি বিশেষ করে ডায়রিয়ার প্রতিরোধে কার্যকর।
২. কলার লাচ্ছি
উপকরণ: মাঝারি আকারের পাকা কলা – ৪টি। টক দই – ১ কাপ। গরুর দুধ – ১ কাপ। চিনি বা চিনির সিরাপ – স্বাদমতো। বরফ কুচি – প্রয়োজনমতো।
প্রস্তুত প্রণালী:
পাকা কলা ছোট ছোট টুকরো করে নিন। এরপর ব্লেন্ডারে কলা, দই, দুধ, চিনি এবং বরফ কুচি দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে গ্লাসে পরিবেশন করুন।
স্বাস্থ্য টিপ: কলায় পটাশিয়াম ও ফাইবার থাকে, যা হার্ট সুস্থ রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
৩. তরমুজের লাচ্ছি
উপকরণ: তরমুজের টুকরো – ২ কাপ। টক দই – ১ কাপ।গরুর দুধ – ১ কাপ। চিনি – স্বাদমতো। বিট লবণ – ১ চা চামচ। লেবুর রস – সামান্য। বরফ কুচি – প্রয়োজনমতো
প্রস্তুত প্রণালী: সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর ঠান্ডা গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।
স্বাস্থ্য টিপ: তরমুজে প্রচুর পানি থাকে যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে দেহকে ঠান্ডা রাখে।
অতিরিক্ত টিপস ও বিকল্প ভাবনা:
চিনি না চাইলে: আপনি মধু, খেজুরের গুড় বা স্টেভিয়া ব্যবহার করতে পারেন স্বাস্থ্যের কথা ভেবে।
দুধের বিকল্প: যারা দুধ হজম করতে পারেন না, তারা বাদাম দুধ বা নারকেল দুধ ব্যবহার করতে পারেন।
আরও ফলের লাচ্ছি: আম, পেঁপে, আনারস, লিচু কিংবা কিউই দিয়েও তৈরি করা যায় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর লাচ্ছি।
সাজানোর জন্য: গ্লাসের মুখে লেবুর স্লাইস বা পুদিনা পাতার ছোট টুকরো দিয়ে পরিবেশন করলে দেখতেও লাগবে সুন্দর।
গ্রীষ্মকালে শুধু ঠান্ডা খাবার নয়, ঠান্ডা মনও দরকার। এই তিন ধরনের ফলের লাচ্ছি শুধু শরীরকে ঠান্ডা রাখে না, মনকেও করে আনন্দিত। তাই প্রতিদিন একঘেয়েমির পরিবর্তে রোজ একটু ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতায় দিনটাকে করে তুলুন আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত। এই গ্রীষ্মে পান করুন স্বাস্থ্যকর, ফলভিত্তিক লাচ্ছি — সুস্থ থাকুন, শান্ত থাকুন।
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর শহরের দরগাপাড়ায় অবস্থিত হজরত মখদুম শাহ দৌলা শহীদ ইয়েমেনি (রহ.)-এর মসজিদ ও মাজার শরিফ শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটি এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। বিশ্বাস করা হয়, ইয়েমেনের রাজপুত্র হজরত মখদুম শাহ দৌলা (রহ.)-এর নামেই এই অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে ‘শাহজাদপুর’।
কথিত আছে, ১১৯১-৯২ সালের দিকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি আরবের ইয়েমেন থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে বোখারায় আসেন এবং সেখানকার ওলি হজরত জালাল উদ্দিন বোখারির (রহ.) সাহচর্যে কিছু সময় কাটান। বিদায়ের সময় তিনি তাঁর হাতে এক জোড়া কবুতর দেন, যা পরবর্তীতে ‘জালালি কবুতর’ নামে পরিচিত হয়। আজও ওই কবুতরের বংশধররা মখদুমিয়া জামে মসজিদের কার্নিশে বসবাস করে।
পানি পথে শাহজাদপুর অঞ্চলে পৌঁছে, দীর্ঘ সময় ভূমির সন্ধান না পেয়ে একসময় জাহাজ মাটিতে আঘাত করে থেমে যায়। সেখানেই তিনি জাহাজ নোঙর করেন—এই জায়গাটির নামকরণ হয় ‘পোতাজিয়া’ (পোঁত অর্থ গাড়া, আওজিয়া অর্থ ভেরা)। কবুতর জোড়া ছেড়ে দিয়ে তিনি মাটি ও মানুষের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।
তৎকালীন সুবা-বিহারের অমুসলিম রাজা বিক্রম কিশোরী ইসলাম প্রচারে বাধা দিতে সেনাবাহিনী পাঠান, তবে মখদুম শাহ দৌলার সঙ্গীদের কাছে তারা বারবার পরাজিত হয়। কিন্তু এক গুপ্তচরের বিশ্বাসভঙ্গের কারণে শেষ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। কথিত আছে, আসরের নামাজে সিজদারত অবস্থায় গুপ্তচর তাঁর মাথা কেটে রাজার কাছে নিয়ে গেলে অলৌকিকভাবে তাঁর কণ্ঠ থেকে ‘সুবহানা রাব্বি আল আ’লা’ উচ্চারিত হয়। এ ঘটনা দেখে রাজা আতঙ্কিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাঁর মাথা ‘ছের মোকাম’ নামে খ্যাত স্থানে সমাহিত করার নির্দেশ দেন। লাশ দাফন করা হয় শাহজাদপুরে, যা পরবর্তীতে নদীভাঙনে বর্তমান স্থানে সরিয়ে আনা হয়।
মখদুম শাহ দৌলার অন্যতম সঙ্গী হজরত ইউসুফ শাহ (রহ.) এ অঞ্চলের মুসলিম শাসনকর্তা নিযুক্ত হন এবং এ অঞ্চল ‘পরগণা ইউসুফ শাহী’ নামে পরিচিতি পায়। মখদুম শাহ (রহ.)-এর মাজার ছাড়াও এখানে রয়েছেন তাঁর ভাগ্নে খাজা নূর (রহ.), হজরত ইউসুফ শাহ (রহ.) এবং তাঁর ওস্তাদ হজরত শামসুদ্দিন তাবরেজি (রহ.)-এর মাজার। তাবরেজি ছিলেন বিখ্যাত সুফি জালাল উদ্দিন রুমির (রহ.) ওস্তাদ।
এছাড়া, করতোয়ার ওপারে রয়েছে হজরত শাহ হাবিবুল্লাহ ইয়েমেনি (রহ.)-এর মাজার, যেটি ‘বাদল বাড়ি’ নামে পরিচিত। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, আরও কয়েকজন ওলির মাজার হুড়াসাগর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
মাজারের পাশেই রয়েছে সুলতানী আমলের এক অসাধারণ স্থাপত্য—মখদুমিয়া জামে মসজিদ। ইট-চুন-সুরকির তৈরি এই মসজিদটি পাঁচটি দরজা, ১৫টি গম্বুজ এবং ২৪টি কালো পাথরের স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ধারণা করা হয়, এটি হজরত মখদুম শাহ দৌলা শহীদ ইয়েমেনি (রহ.)-এর নির্দেশে নির্মিত।
শিক্ষার্থী, স্থাপত্য বিভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি।
সংবিধান যে কোনো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। একটি রাষ্ট্রের মূলনীতি কী হবে, জাতীয়তা ও ভাষা কী হবে, নাগরিকরা কোন্ কোন্ মৌলিক অধিকার ভোগ করবেন, রাষ্ট্রের শাসনপদ্ধতি কী হবে, আইনসভা কীভাবে গঠিত হবে, সাংবিধানিক পদসমূহে কীভাবে নিয়োগ দেয়া হবে, নির্বাচন পদ্ধতি কী হবে, কখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কে পালন করবে, শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, প্রজাতন্ত্রের পদস্থ সামরিক-বেসামরিক পদসমূহ পূরণে কী পদ্ধতি অনুসৃত হবে, রাষ্ট্রের সরকারি হিসাব-নিরীক্ষার দায়িত্ব কার ওপর থাকবে প্রভৃতি সবিস্তারে সংবিধানে উল্লেখ থাকে।
বাংলাদেশে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংবিধান ও সামরিক শাসনের ইতিহাস, বৈধতা ও সাংবিধানিক প্রভাবের বিশ্লেষণ
কোনো রাষ্ট্রের শাসন কার্যসহ অপরাপর কর্মকাণ্ড সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হলে তাকে সাংবিধানিক শাসন বলা হয়। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এমন রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক শাসনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় কোনোরূপ ব্যাঘাত ঘটতে দেখা যায় না। যে কোনো কারণে গণতান্ত্রিক শাসনে ব্যাঘাত ঘটলে সেটি অতিক্রমের জন্য কোনো কোনো দেশের সংবিধানে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশও ব্যতিক্রম নয়; তবে আমাদের সংবিধানে এ বিধানটিতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে উক্ত সময়সীমা বহির্ভূত কোনো অসাংবিধানিক শাসনকে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি দ্বারা বৈধতা দেয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।
আমাদের দেশের উচ্চাদালত কর্তৃক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণাসংক্রান্ত রায়কে অবলম্বন করে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আনয়নের সূত্রপাত ঘটানো হয়। উক্ত রায়ে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলির ব্যাপ্তি কতটুকু হবে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। তাই ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলির ব্যাপ্তি নির্ধারণে রায়ের দিকনির্দেশনা যে মুখ্য নিয়ামক সে বিষয়ে কারো মধ্যে সংশয় থাকার কথা নয়। এখন দেখা যাক ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি বিষয়ে ৭২’র সংবিধানে কী বলা ছিল এবং দেশের দীর্ঘ পরিক্রমায় এ বিধানাবলিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদ ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত। ৭২’র সংবিধানে বলা ছিল- এ সংবিধানের অন্য কোনো বিধান সত্তে¡ও চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি কার্যকর হবে। ৭২’র সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি হিসেবে ১৭টি বিষয়ের উল্লেখ ছিল। এ বিষয়গুলো হলো- ১. গণপরিষদ ভঙ্গকরণ ২. প্রথম নির্বাচন ৩. ধারাবাহিকতা রক্ষা ও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাবলি ৪. রাষ্ট্রপতি ৫. প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী ৬. বিচার বিভাগ ৭. আপিলের অধিকার ৮. নির্বাচন কমিশন ৯. সরকারি কর্ম কমিশন ১০. সরকারি কর্ম ১১. পদে বহাল থাকার জন্য শপথ ১২. স্থানীয় শাসন ১৩. কর আরোপ ১৪. অন্তর্বর্তী আর্থিক ব্যবস্থাসমূহ ১৫. অতীত হিসাবের নিরীক্ষা ১৬. সরকারের সম্পত্তি পরিসম্পৎ, স্বত্ব, দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা এবং ১৭. আইনের উপযোগীকরণ ও অসুবিধা দূরীকরণ। মূলত এ ১৭টি বিষয়ের মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়ন পূর্ববর্তী এসব বিষয়ে যেসব বিধানাবলি ছিল তার কার্যকারিতা কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং সংবিধানের বিধানাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য কী সময়সীমা দেয়া থাকবে তার উল্লেখ রয়েছে।
সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে চতুর্থ তফসিল হতে ১২ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ‘স্থানীয় সরকার’ বিষয়টি অবলুপ্ত করা হয়, যা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃ একই অনুচ্ছেদে প্রতিস্থাপিত হয়।
পরবর্তীতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ১৯৭৯ এর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখের মধ্যে প্রণীত সব সামরিক ফরমান এবং ফরমান বলে সংবিধানে আনীত সংশোধনী ও প্রণীত আইন এবং কৃত সব ধরনের কর্মকাণ্ডকে বৈধতাদান করে আদালতে এসব বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের পথ রুদ্ধ করে এটি চতুর্থ তফসিলের ১৮ অনুচ্ছেদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
অতঃপর ১৯৮২ সালে দেশ পুনঃসামরিক শাসনের কবলে পড়লে সংবিধানের ৭ম সংশোধন আইন, ১৯৮৬ এর দ্বারা ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চের সামরিক ফরমান এবং উক্ত ফরমান বলে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর অবধি সম্পাদিত সব কার্যক্রমকে বৈধতা দান করে আদালতে যে কোনো ধরনের প্রশ্ন উত্থাপনের পথ রুদ্ধ করে চতুর্থ তফসিলে ১৯ অনুচ্ছেদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এরপর সংবিধান নবম সংশোধন আইন, ১৯৮৯ এর মাধ্যমে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ২০ অনুচ্ছেদে উপরাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধান অন্তর্ভুক্ত করে বলা হয়, এ সংশোধনীটি আনয়নের পূর্বে যিনি উপরাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি উক্ত পদে বহাল থাকবেন এবং উক্ত সময়কালে যিনি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তার পদের মেয়াদ যে তারিখে শেষ হবে উক্ত তারিখে উপরাষ্ট্রপতির মেয়াদও শেষ হবে।
সংবিধানের নবম সংশোধনীর মাধ্যমে আনীত উপরাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত এ বিধানটি সংবিধান দ্বাদশ সংশোধন আইন, ১৯৯১ এর দ্বারা অবলুপ্ত করা হয়।
নবম সংশোধন পরবর্তী সংবিধান একাদশ সংশোধন আইন, ১৯৯১ এর মাধ্যমে চতুর্থ তফসিলে অনুচ্ছেদ ২১ ও ২২ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অনুচ্ছেদ ২১ এর মাধ্যমে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তারিখে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ ও শপথ প্রদান এবং তার কাছে পদত্যাগ প্রদান এবং ৬ ডিসেম্বর হতে সংবিধান একাদশ সংশোধন আইন, ১৯৯১ প্রবর্তনের তারিখে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার গ্রহণ করা অবধি সময়কালের মধ্যে উক্ত উপরাষ্ট্রপতি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে যেসব কার্য সম্পন্ন করেছেন তার অনুমোদন ও সমর্থন দেয়া হয় এবং আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে মর্মে ঘোষিত হয়। তা ছাড়া উক্ত উপরাষ্ট্রপতিকে পুনঃপ্রধান বিচারপতি পদে প্রত্যাবর্তনের অনুমোদন দেয়া হয়।
অনুচ্ছেদ ২২ এ বলা হয়- সংবিধান দ্বাদশ সংশোধন আইন, ১৯৯১ প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যে সংসদ কর্মরত ছিল অর্থাৎ পঞ্চম সংসদ তা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে নির্বাচিত ও গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং তা সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী বহাল থাকবে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে মহিলা সদস্য সম্পর্কিত অস্থায়ী বিশেষ বিধান প্রণয়ন করে বলা হয় সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধন আইন, ২০০৪ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য ৫০টি আসন কেবল মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং তারা আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। উক্ত অনুচ্ছেদে আরো উল্লেখ করা হয় প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য এবং তাদের ভোটে নির্বাচিত ৫০ মহিলা সদস্য সমন্বয়ে সংসদ গঠিত হবে। অতঃপর ২০১৮ সালে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে একাদশ সংসদে উক্ত সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য এ সময় বর্ধিত করা হয়।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে চতুর্থ তফসিল হতে অনুচ্ছেদ ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২ ও ২৩ অবলুপ্ত করে পূর্বের ১৫০ অনুচ্ছেদের পরিবর্তে দু’টি দফা সমন্বয়ে গঠিত ১৫০ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন পূর্বক (১) দফায় বলা হয়- এ সংবিধানের অন্য কোনো বিধান সত্তে¡ও ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখে এ সংবিধান প্রণয়নকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলি ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি হিসেবে কার্যকর থাকবে।
একই অনুচ্ছেদে দফা (২) এ বলা হয়- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ হতে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর অবধি এ সংবিধান প্রবর্তন হওয়ার অব্যবহিত সময়কালের মধ্যে সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেয়া শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম এবং ৭ম তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভাষণ ও দলিল যা উক্ত সময়কালের জন্য ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি বলে গণ্য হবে।
১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন হতে পঞ্চদশ সংশোধনী প্রবর্তন পূর্ববর্তী সংবিধানে চারটি তফসিলের বিষয়ে উল্লেখ ছিল। এ চারটি তফসিলের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত দ্বিতীয় তফসিল সংবিধান চতুর্থ সংশোধন আইন, ১৯৭৫ এর মাধ্যমে অবলুপ্ত করা হয়। সংবিধানে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত, বিয়োজিত ও প্রতিস্থাপিত হয়।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন পরবর্তী অনুচ্ছেদ ১৫০ এর বিধানাবলি, চতুর্থ তফসিল হতে অনুচ্ছেদ ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২ ও ২৩ এর অবলুপ্তি এবং পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম হিসেবে তিনটি নতুন তফসিলের অন্তর্ভুক্তি পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি বলতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ হতে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর অবধি ও সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যেসব বিষয়ের উল্লেখ ছিল উক্ত বিষয়াবলিসহ পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিলে উল্লিখিত বিষয়গুলো গণ্য হবে।
স্পষ্টত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত ১৫০ অনুচ্ছেদে যে সীমারেখা দেয়া হয়েছে উক্ত সীমারেখায় যে তারিখে সংবিধান প্রণীত হয়েছে সে তারিখের পরবর্তী কোনো অসাংবিধানিক শাসনকে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি দ্বারা অনুমোদন সমর্থন করে না। উল্লেখ্য যে, যদিও উচ্চাদালতের সিদ্ধান্তের অনুবলে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে অনুমোদিত ৭৫’র সামরিক শাসন এবং সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে অনুমোদিত ৮২’র সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সে অবৈধ ঘোষণা চতুর্থ তফসিল হতে ৫ম ও ৭ম সংশোধনীর অনুবলে সংযোজিত অনুচ্ছেদ ১৮ ও ১৯ অবলুপ্তির কারণের উদ্ভব ঘটিয়েছে কিন্তু একাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সন্নিবেশিত অনুচ্ছেদ ২১ ও ২২ বিষয়ে আদালতে কোনো মামলা না হলেও সংসদ তা স্বীয় এখতিয়ার বলে চতুর্থ তফসিল হতে অবলুপ্ত করে।
এ কথাটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আদালত কর্তৃক পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করা হলেও উভয় সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চাদালতের বিচারকদের জন্য যেসব সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল তা অজানা আকাক্সক্ষায় অক্ষুণ্ণ রাখা হয়। এ অক্ষুণ্ণ রাখা হতে ধারণা করা যায় পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত ১৫০ অনুচ্ছেদের ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি দ্বারা বেসামরিক বা সামরিক ব্যক্তি কর্তৃক অসাংবিধানিক শাসনের পথ রুদ্ধ করা গেলেও তা কি সাংবিধানিক পদধারী কর্তৃক অসাংবিধানিক শাসনের পথ রুদ্ধ করতে পারবে? আর রুদ্ধ করতে পারবে না বলেই দেখা গেল ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হতে ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনের বিষয়টি তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ সংক্রান্ত মামলার বিষয়বস্তুতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া সত্তে¡ও আদালত অযাচিতভাবে উক্ত সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং সংসদকে পাশ কাটিয়ে উক্ত সরকারের কার্যকলাপের বৈধতা দান করে। এ বৈধতা দ্বারা অনুমিত হয় সংসদও ক্ষেত্রবিশেষে অজানা আকাক্সক্ষার কাছে অসহায়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধানবিষয়ক যেকোনো সংশোধনী আনতে চাইলে তাকে অবশ্যই আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন তাদের সাথে সমঝোতায় উপনীত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সাংবিধানিক সঙ্কট দেখার সমূহ সম্ভাবনা থেকেই যায়।
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
বইপড়া কেবল একটি অবসর বিনোদন নয়, এটি অনুভূতি, চিন্তা, বোধ ও কল্পনার জগতে এক গভীর ও অনন্য যাত্রা। একটি বই সম্পূর্ণ করার পরও পাঠকের মনে তার চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহ, সামাজিক পটভূমি, ভাষার সৌন্দর্য ও নিহিত বার্তা দীর্ঘসময় প্রতিধ্বনিত হয়। কখনো তা চিন্তার খোরাক জোগায়, কখনো আবেগকে আলোড়িত করে, আবার কখনো নতুন দৃষ্টিভঙ্গির পথও খুলে দেয়।
এই পাঠ-পরবর্তী অনুভবকে সুশৃঙ্খলভাবে প্রকাশ করার অন্যতম মননশীল মাধ্যম হলো বই পর্যালোচনা বা রিভিউ লেখা। একটি সুন্দর রিভিউ শুধু বইটির সারমর্ম উপস্থাপন করে না, বরং পাঠকের নিজস্ব বিশ্লেষণ, অভিজ্ঞতা ও ব্যাখ্যাকে সৃজনশীলভাবে ফুটিয়ে তোলে। এতে একজন পাঠক তার বোঝাপড়া ও উপলব্ধির আলোকে বইটির সমালোচনামূলক মূল্যায়ন করতে পারেন। একইসঙ্গে এটি অন্য পাঠকদের জন্য হয় পথনির্দেশক। যারা রিভিউ পড়ে বইটি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করেন এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বইটি তাঁদের পাঠ-রুচির সঙ্গে মানানসই কি না।
অর্থাৎ, একটি রিভিউ বইপাঠের অভিজ্ঞতাকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে এবং পাঠকদের মধ্যে জ্ঞান ও চিন্তার একটি সৌহার্দ্যমূলক সেতুবন্ধন তৈরি করে।
রিভিউ লেখার মূল উদ্দেশ্য দুটি: ১) নিজের পাঠ-অভিজ্ঞতাকে একটি কাঠামোবদ্ধ বিশ্লেষণে রূপ দেওয়া ২) অন্য পাঠকদের বইটি সম্পর্কে প্রাথমিক, নিরপেক্ষ ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারণা দেওয়া
লেখক তাঁর অভিজ্ঞতা, ভাষাবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে গল্পটি নির্মাণ করেন; কিন্তু রিভিউ লেখক সেই নির্মাণকেই নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করেন। তাই রিভিউতে ব্যক্তিগত মতামত থাকলেও তা যেন শালীন, বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিনির্ভর হয়, এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
১. শিরোনাম ও ভূমিকা: পাঠককে আগ্রহী করার প্রথম সোপান
একটি শক্তিশালী রিভিউ শুরু হয় আকর্ষণীয় শিরোনাম দিয়ে। শিরোনামে বইয়ের নাম থাকলে পাঠকের জন্য সুবিধা বাড়ে, বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন থেকেও পাঠক খুব সহজেই রিভিউটি খুঁজে পায়।
শিরোনামের পর আসে সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রভাবশালী ভূমিকা বা ইন্ট্রোডাকশন; যা পাঠককে পরবর্তী অংশে নিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। ইন্ট্রো এমন হওয়া উচিত,
সংক্ষিপ্ত
বাহুল্যহীন
চিত্তাকর্ষক
পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার মতো
অনেকে ইন্ট্রো লেখার চাপ থেকে পুরো লেখাই শুরু করতে পারছেন না, এটি স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে প্রথমে মূল অংশ লিখে শেষে ইন্ট্রো লেখা খুবই কার্যকর একটি কৌশল।
২. কাহিনির সংক্ষেপ: সীমিত পরিসরে স্পষ্ট উপস্থাপন
রিভিউতে বইয়ের কাহিনির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থাকা উচিত, তবে এটি রিভিউয়ের প্রধান অংশ হতে পারে না। রিভিউ মানে পুরো গল্প বলে দেওয়া নয়; বরং পাঠককে বই সম্পর্কে কৌতূহলী করে তোলা।
সংক্ষেপ দিতে গিয়ে,
স্পয়লার এড়িয়ে চলা
কাহিনির মূল ভরকেন্দ্র তুলে ধরা
লেখকের গল্প বলার ধরন বোঝানো
এসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
৩. প্রেক্ষাপট, ঘরানা ও লেখকের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ
রিভিউ লেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গল্পের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা। বই যে সময়, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা মানসিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে লেখা; তা রিভিউতে উল্লেখ করলে পাঠক গল্পটিকে গভীরভাবে বুঝতে পারে।
ঘরানা জানা পাঠকের বই নির্বাচন সহজ করে। প্রয়োজনে সাদৃশ্যপূর্ণ বই বা ঘটনাও উল্লেখ করা যেতে পারে।
পড়ার পরও বইয়ের রেশ মনে লেগে থাকে। একটি বই শেষ করে সেটি নিয়ে ভাবা বইপ্রেমীদের অন্যতম প্রিয় কাজ। বইয়ের রিভিউ লেখা সেই ভাবনার দারুণ একটি মাধ্যম। এতে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরা যায়, আবার অন্যদেরও বইটি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়।
৪. বইয়ের শক্তি, সীমাবদ্ধতা ও উন্নতির জায়গা সবগুলোর ভারসাম্য
এই অংশই রিভিউর হৃদয়। এখানে রিভিউয়ার আলোচনা করেন,
বইয়ের শক্তি
দুর্বলতা
কী করলে আরও ভালো হতে পারত
ভালোর কথা বলতে গিয়ে অতিরিক্ত বিশেষণ ব্যবহার করা যাবে না। দুর্বল দিক বলতে গিয়ে ভাষায় কঠোরতা আনাও সমীচীন নয়।
গঠনমূলক সমালোচনা হলো সবচেয়ে মানসম্মত পথ।
এ অংশে আরও উল্লেখ করা যায়,
বইটি কোন ধরনের পাঠকের জন্য উপযোগী
গল্পের গতি কেমন
চরিত্র নির্মাণ কতটা শক্তিশালী
লেখকের ভাষাশৈলী পাঠযোগ্য কিনা
থিম বা মূল বার্তা কতটা প্রভাব ফেলে
৫. লেখক পরিচয় ও রচনার পেছনের অভিজ্ঞতা
রিভিউতে লেখকের পরিচিতি সংক্ষেপে তুলে ধরলে পাঠক বইটির প্রকৃতি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে। লেখকের,
পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড
আগের উল্লেখযোগ্য কাজ
এই বই লেখার আগের অভিজ্ঞতা
এসব তথ্য থাকলে রিভিউটি আরও সমৃদ্ধ হয়।
৬. উদ্ধৃতি যোগ: রিভিউতে প্রাণ আনতে কার্যকর উপাদান
সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি রিভিউকে আরও জীবন্ত করে তোলে। একটি গ্রহণযোগ্য সংলাপ বা লাইন বইটির অনুভব পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়। তবে উদ্ধৃতির সংখ্যা সীমিত হওয়াই ভালো, ১ বা ২টি যথেষ্ট।
মে মাস আসে তার দ্বিধাবিভক্ত চরিত্র নিয়ে – একদিকে শ্রমিকের রক্তাক্ত সংগ্রামের স্মৃতি, অন্যদিকে প্রকৃতির স্নিগ্ধ উপহারের সম্ভার। এই মাসটি আমাদের সামনে নিয়ে আসে একই সাথে বেদনা ও আশার চিত্র, যেখানে শিকাগোর হে মার্কেটের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ছায়া পড়ে আজকের বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের ক্লান্ত মুখে। আমরা যখন মে দিবসের বক্তৃতায় শ্রমিকদের মর্যাদার কথা বলি, তখন কলকারখানার ভেতরের বাস্তবতা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় – নিরাপত্তাহীনতা, অনিয়মিত মজুরি আর স্বাস্থ্যসেবার অভাবে জর্জরিত সেই সব মানুষ যাদের হাতের পরিশ্রমে এগিয়ে যায় আমাদের অর্থনীতি।
একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ‘মার্চ ফর গাজা’ নামে যে মানবিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সহিংসতা আর যুদ্ধের নির্মমতা। ফিলিস্তিনি শিশুদের চোখে যে ভয় আমরা দেখি, তা কি আমাদেরই শিশুশ্রমিকদের চোখের প্রতিচ্ছবি নয়? যারা স্কুলের বেঞ্চে বসার বদলে কারখানার যন্ত্রপাতি সামলায়, তাদের জন্য আমাদের সমাজ কতটুকু ভেবেছে? এই প্রশ্নগুলো মে মাসের আলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ মাসে উদ্বেগ জাগিয়েছে ভারতের সীমান্ত নীতি। বাংলাদেশ সীমান্তে তাদের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি রোহিতদের বাংলাদেশে পাঠাতে অনিচ্ছা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একইসাথে মার্কিন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাসের খবর বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যে দেশ একসময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পতাকাবাহী ছিল, সেখানে সাংবাদিকদের উপর এই দমন-পীড়ন কি বিশ্ব গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত?
ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গভীরতর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। এই সংঘর্ষ কি কেবল ছাত্রদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নাকি আমাদের সমাজের বৃহত্তর অসুস্থতার প্রকাশ? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিণত হয়, তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কী ধরনের বাংলাদেশ গড়ে তুলছি?
তবে মে মাস শুধু সংকটই নয়, আনন্দও বয়ে আনে। লটকনের টক-মিষ্টি স্বাদ যেমন আমাদের জিভে জল আনে, তেমনি এই ছোট ফলটি আমাদের প্রকৃতির অফুরন্ত দানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই সহজ-সরল উপহারই যেন বলে দেয়, জীবন কতটা সুন্দর হতে পারে যদি আমরা প্রকৃতির সাথে সাযুজ্য বজায় রাখি।
মে মাস শেষ হয় আমাদের জন্য এক গভীর চিন্তা রেখে যায় – শ্রমিকের অধিকার, শিশুর নিরাপত্তা, প্রকৃতির সুরক্ষা এবং শিক্ষার সুযোগ সবই এক সূত্রে গাঁথা। এই মাসটি আমাদের শুধু স্মরণ করায় না, জাগ্রত করে ভাবতে, প্রশ্ন করতে এবং পরিবর্তনের জন্য দাঁড়াতে। কারণ মে মাস কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতার নাম নয়, এটি বিবেকের ডাক, সময়ের দাবি এবং ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার।
Brac University and the BSRM Group of Companies inaugurated the BSRM School of Engineering through a ceremony at the Merul Badda campus on Wednesday, alongside its theme, “Shaping Tomorrow: Innovation for Sustainability,” official logo, and website.
This first-of-its-kind collaboration between academia and industry aims to redefine engineering education in Bangladesh, embed innovation, ethics, and societal responsibility at its core, and prepare a new generation of engineers who will build an inclusive, sustainable, and humane future.
It aligns with the BSRM’s social responsibility initiatives and Brac University founder Fazle Hasan Abed’s belief that education must be inclusive, impactful, and deeply connected to human dignity.
Together, it is meant to show the world that Bangladesh, standing tall in the Global South, is the birthplace of architects for an inclusive future—leaders who will reimagine cities, industries, and societies that prioritize human well-being above all else.
Brac University and BSRM inaugurate BSRM School of Engineering to advance sustainable, inclusive engineering education in Bangladesh
The school is already running critical academic initiatives such as funding advanced research, establishing laboratories, and providing inspirational scholarships for meritorious and financially insolvent students.
Alihussain Akberali, FCA, chairman of the BSRM, believes that businesses, regardless of size, can play a vital role in shaping society and should actively collaborate with the government and other sectors in driving national development.
The establishment of the BSRM School of Engineering, which embodies the company’s commitment to nation-building through education, is a testament to this vision.
“Don’t look outside when your country needs you inside. Stay here. Work here. And build here… Your knowledge, your energy, and your ideas are needed here. If you build a legacy now, it will serve generations to come,” he told students at the ceremony.
“Today, as we inaugurate the BSRM School of Engineering, we reaffirm that education must be a force for dignity, justice, and opportunity,” added Tamara Hasan Abed, chairperson of the Board of Trustees of Brac University.
“We commit to fostering an environment where curiosity is celebrated, where diversity is cherished, and where every student believes they can be a driver of positive change,” she said.
“I believe that this partnership will ensure that knowledge of the industry is put together in a meaningful way by academia and shared with the entire world,” said Professor Syed Ferhat Anwar, vice-chancellor of Brac University.
This is what the Brac and Brac University synergy is about and reflects how BSRM not only does business but also focuses on safety for humanity, he said.
A scholarship recipient, alongside alumni, faculty members, and students, shared their experiences at the launching ceremony.
The event culminated in a lively cultural program and the distribution of prizes for a competition to design T-shirts marking the school’s launch.
Professor Arshad M. Chowdhury, dean of the school, gave the welcome speech while Khairul Basher, director of communications at Brac University, moderated the event.
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রতিটি ঘরে ঘরে যেয়ে এনসিপির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে পাড়ায় পাড়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ তৈরি করুন। সরকার ব্যর্থ হলে জনতার আদালতে আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিজমের বিচার করা হবে।
শুক্রবার (২ মে) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। নাহিদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের নয় মাস পরেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে, এটা আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা বলে মনে করি। তিনি বলেন, নৌকা মার্কাকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। বিচার চলাকালীন সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে জুলাই ঘোষণাপত্র এখনো আসছে না।
এ দেশের মানুষ অধিকার আদায়ে অসংখ্যবার রাজপথে নেমেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিচার এবং সংস্কারের জন্যই মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। সাতচল্লিশের আজাদিদের স্বপ্ন লুট হয়েছিল, যার কারণেই মানুষ একাত্তর সালে অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। কিন্তু বাহাত্তর সালে মুজিবাবাদীদের হাতে সেটা বেহাত হয়েছিল। মুজিববাদী সংবিধানের নামে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। গণতন্ত্রের নামে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই সনদ তৈরি করতে হবে। তাতে সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কথা থাকতে হবে। নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে। ঢাকা একদিন এই দক্ষিণ এশিয়াকে নেতৃত্ব দেবে।
আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলুন: আখতার
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি দলটির তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের এই আহ্বান জানান। আখতার বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলুন। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ প্রশ্নের মীমাংসা করে ছাড়বে। যত দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ প্রশ্নের সমাধান না হয়, তত দিন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের সদস্যরা কাজ করবেন।
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আধুনিক অন্তলোজি মূলত সত্তার স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করে। মার্টিন হাইডেগার (১৮৮৯-১৯৭৬), ইমানুয়েল কান্ট (১৭২৪- ১৮০৪) জঁ-পল সার্ত্র (১৯০৫-১৯৮০) প্রমুখ মহারথী প্রশ্ন করেছেন : অস্তিত্ব (existence) আসলে কী? ‘আমি আছি’ (Dasein) মানে কী? এখানে সত্তাকে (ইবরহম) প্রথাগতভাবে অবজেক্ট হিসেবে না দেখে, সচেতনতা ও উপলব্ধি (awareness and perception) দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে, অস্তিত্ব কেবল একটি অবজেক্ট বা বস্তু নয়, বরং তা সচেতনতা, উপলব্ধিও বটে। মূলত তা আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও উদ্দেশ্যসম্পন্ন বাস্তবতা। অস্তিত্বকে আমরা শুধু একটি ভৌত বা বস্তুগত বাস্তবতা হিসেবে দেখি না, বরং তা আল্লাহর মাকদূর (পরিকল্পনা) ও ইচ্ছার বাস্তবায়ন। এটি মানবজীবনের আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোনো কিছুই নিছক অবজেক্ট নয়। প্রতিটি সৃষ্টি আল্লাহর পরিচয়, মহিমা এবং পূর্ণতা প্রকাশ করে। এটি একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, যেখানে মানুষ তার বাস্তবতা এবং সৃষ্টির সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুসরণের চেষ্টা করবে।
Courage man jump through the gap between hill ,Business concept idea
এই অস্তিত্বতত্ত্বে (ক) সৃষ্ট জগত (মাখলুকাত ) ও সৃষ্টিকর্তা (খালিক) আলাদা।
(খ) সৃষ্টির অস্তিত্ব স্রষ্টার ইচ্ছা ও কুন (আদেশ, হও) এর ভিত্তিতে সূচিত।
(গ) ‘সত্য সত্তা’ (আল ওজুদুল হক) একমাত্র আল্লাহ।
তার মানে অস্তিত্ব অধ্যয়নে পশ্চিমা দর্শনের আওয়াজের সাথে ইসলামের কণ্ঠস্বর মিলছে না। ভিন্নতা পরিষ্কার। কিন্তু এখানে কি এই দূরত্ব অতিক্রমের সম্ভাবনাসূত্র নেই? তা আছে বটে?
সমন্বয়ের জন্য কয়েকটি সম্ভাবনা সূত্র : বিষয়, আধুনিক অন্তলোজি, ইসলামী অন্তলোজি, সমন্বয়ের দিক, সত্তার উৎস, অবিরাম অনুসন্ধান, নির্দিষ্ট উৎসহীনতা, আল্লাহই একমাত্র পরম সত্তা, অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা ও নির্ভরতাকে ব্যাখ্যা, মানুষের ভূমিকা, অস্তিত্বের জিজ্ঞাসু, সন্ধানী, প্রশ্নমুখর। (Being-in-the-world) ইবাদত ও প্রতিনিধিত্বকারী, খলিফা।
মানবসত্তার তাৎপর্য ব্যাখ্যায় সেতুবন্ধন : জগতের সত্তা, আপেক্ষিক ও অবস্থানভিত্তিক, সৃষ্ট ও উদ্দেশ্যনির্ভর, সৃষ্টি ও উপলব্ধির সংযোগ, সময় (Time), অস্তিত্বের ভেতর সময়-সম্পৃক্ততা। সময় হলো আল্লাহর সৃষ্ট ও পরীক্ষা, সময়ের ধারণাকে রূপান্তরিত করা।
আধুনিক অন্তলোজি প্রশ্ন করে : ‘আমি কে?’
ইসলামী অন্তলোজি জবাব দেয় : ‘তুমি আল্লাহর সৃষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন সত্তা, আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।’
এই প্রশ্ন ও উত্তরকে গভীরভাবে সংলাপে বসানো জরুরি। এর ভেতরে রয়েছে সমন্বয়ের আসল পথ। ইসলাম অস্তিত্ব বা উজুদকে দেখে আল্লাহর গুণ ও সৃষ্টি হিসেবে। ইসলামী দর্শন বলে, উজুদে হাকিকী বা আসল অস্তিত্ব (True Existence) কেবল আল্লাহর।
আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা। (সূরা জুমার, ৩৯:৬২) অর্থাৎ, যেকোনো অস্তিত্ব আল্লাহর সৃষ্টি। তাহলে বাকি সব অস্তিত্বের স্বরূপ কী? বস্তুত নিজস্ব ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অস্তিত্ব একমাত্র আল্লাহর বাকি সব অস্তিত্ব ‘উপস্থিত’ (dependent) এবং ‘ধার করা’ (borrowed)। তার মানে হলো, অস্তিত্বকে আমরা দুই ভাগে ব্যাখ্যা করতে পারি। এক. ওয়াজিবুল ওজুদ বা আবশ্যকীয় অস্তিত্ব (আল্লাহ ছাড়া কারো অস্তিত্ব আবশ্যক নয়।) দুই. মুমকিনুল ওজুদ বা সম্ভব অস্তিত্ব (এর মধ্যে আছে সব সৃষ্টবস্তু। যাদের অস্তিত্ব আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল)।
ইসলামের বিচারে অস্তিত্ব মানে কেবল বস্তু নয়, অর্থও। কোনো বস্তুর টিকে থাকাটাই অস্তিত্ব নয়। বরং তার উদ্দেশ্য (Purpose), সত্যতা (Truthfulness) এবং সম্পর্ক (Relationship) ও অস্তিত্বের সাথে যুক্ত। ফলে আমরা আমাদের উদ্দেশ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে থাকলেই অস্তিত্ব সার্থকতা পায় না। আমাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত করা। আমার অস্তিত্বকে অর্থবহ করার জন্য আমাকে তা করতে হবে। সময়, স্থান, আত্মা, নৈতিকতা সবই আমার অস্তিত্বের অংশ। আমি এসব কিছু থেকে নিরপেক্ষ নই। ফলে এখানে আমার দায় ও করণীয়ের বিরাট শৃঙ্খলা রয়েছে। সময়ের জন্য আমি জিজ্ঞাসিত হবো, আত্মার পবিত্রতা না থাকলে আমি বিফল হবো, নৈতিকতা হারালে আমি টিকে থাকলেও অর্থ হারাব। তাহলে দেখা যাচ্ছে অস্তিত্বের দুই রূপ। এক. সত্তাগত অস্তিত্ব বা জাতি ওজুদ (Ontological Existence ), যা বস্তু ও আত্মার নিজস্ব অস্তিত্ব। দুই. উপলব্ধিজাত অস্তিত্ব বা মাফহুমী ওজুদ (Experiential Existence) যা অনুভূতি, মানসিকতা, আধ্যাত্মিক উপলব্ধির অস্তিত্ব।
আমার প্রথম রূপটিই আমাকে অর্থবহ করে না। দীপ্ত, তৃপ্ত ও মহিমান্বিত করে না। সে জন্য আমার দ্বিতীয় রূপটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শুধু আয়নায় সুন্দর ছবি দেখে আমি নিজেকে পড়তে পারি না। শুধু চিন্তায় নিজেকে অনুভব ও ব্যাখ্যা করে আমি নিজেকে পুরোপুরি পাই না। আমাকে আমার পেতে হয় হৃদয় দিয়ে। হৃদয় দিয়ে নিজেকে ধরতে না পারা আমি আয়নার কাছে খুব সুন্দর হওয়ার পরেও কান্না করি। নিজেকে পাচ্ছি না বলে।
আমি জানি, আমার অস্তিত্ব ক্ষণস্থায়ী : ‘পৃথিবীর সব কিছুই ধ্বংস হবে’ (সূরা রহমান ৫৫:২৬)। আমি নিজেকে নিজস্ব আয়োজনে এখানে নিয়ে আসিনি। আমার অস্তিত্বের আসল কারণ আমি নই। আমার রবের ইরাদা (ইচ্ছা) ও কুদরত (সামর্থ্য, শক্তি) আমাকে অস্তিত্বে এনেছে। অতএব আমার অস্তিত্বের মাপকাঠি আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত। অস্তিত্বের মানে কেবল থাকা নয়, বরং সঠিকভাবে থাকা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে। সেভাবে থাকলে আমি থাকি।
আমার এই থাকা Martin Heidegger এর Dasein নয়, যার মানে Being-there- ‘থাকা’, ‘উপস্থিত থাকা’ বা সচেতন অস্তিত্ব। এটা কেবল সেই অস্তিত্ব নয়, যার বড় কাজ নিজের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা করতে পারা। এটা কেবল ততটুকু নয় যে, সে জানবে সে আছে এবং তার অস্তিত্ব শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। আমার অস্তিত্ব অন্য ও ভিন্ন। আমি আছি মানে আছি তো বটেই। তবে আল্লাহর ইরাদা (ইচ্ছা) ও কুদরতের সাথে লগ্ন হয়ে আছি। আমি নিজেকে চিন্তা করি তো বটেই। তবে ভুলে যাই না ‘আমি থাকা’ (existence) এর মানে হলো এক দান বা নিয়ামাহ (মরভঃ) এবং এক দায়িত্ব বা তাকলিফ, জিম্মাদারি (responsibility)।
অতএব ‘আমি আছি’ মানে হলো আমি এক পরীক্ষা বা ইবতেলায় আছি। আছি এক উদ্দেশ্যপূরণকারী প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে। ফলে ‘আমি আছি’ মানে শুধু বেঁচে আছি, এতটুকুই নয়, আমার বাঁচার মানে হলো আল্লাহর প্রতিনিধি হয়ে বেঁচে থাকা। এই প্রতিনিধিত্ব এক পরিণতির দিকে আমাকে নিয়ে যায়। আমার দায়িত্ব, কর্তব্য ও উদ্দেশ্য পূরণের সাথে যা যুক্ত। ফলে সচেতনভাবে, প্রতিটি চিন্তা, অভিব্যক্তি ও আচরণ দিয়ে পরিণতির দিকে যাচ্ছি। অতএব ‘আমি আছি’ মানে হলো সচেতনভাবে নিজের পরিণতি নিয়েও ভাবা।
Science symbols and glass container illustration
Heidegger-Gi Dasein যেমন মৃত্যুর দিকে তাকিয়ে তার অস্তিত্বকে বোঝে, ইসলামী দর্শনও জীবনের মধ্যে মরণের অমোঘ আসন্নতাকে দেখে, এর ফলে চূড়ান্ত ফলাফলকে দেখে। কুরআনের ঘোষণা প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে’ (সূরা আলে ইমরান ৩:১৮৫)। এর মধ্য দিয়ে ইসলাম বলে, ‘আমি আছি’, ‘আমি আল্লাহর দিকে ফিরে যাবো’র চেতনার মধ্যেও আছি। হাইডেগার -এর Dasein অস্তিত্বকে নিজের মতো করে উপলব্ধি করে, ইসলামে ওজুদতত্ত্ব আমাদের অস্তিত্বকে আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে দেখায় এবং আল্লাহর হেদায়েতের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করে। হাইডেগার জানান, মৃত্যুর দিকে এগোনো অনিবার্য। তারপর কী? তার আর পর স্পষ্ট নয়। কিন্তু ইসলাম বলে, মৃত্যু অবধারিত। তারপর আছে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি। হাইডেগার-এর Dasein নিজের উদ্দেশ্য নিজে খুঁজে নেয়, কিন্তু ইসলামের ওজুদতত্ত্ব আল্লাহর নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুসরণ করে। হাইডেগার-এর Dasein সময়ের মধ্যে অস্তিত্ব বোঝে, ইসলামী দর্শনের ওজুদ কেবল সময়ের মধ্যে নয়, চিরস্থায়ী জীবনের মধ্যেও অস্তিত্বকে দেখে, তার জন্যও অস্তিত্বকে প্রস্তুত করে।
বিচ্ছিন্ন ও একাকী সত্তা : কিন্তু ইসলামী দর্শনের ওজুদ আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত, সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত এবং সমাজের সাথে সম্পর্কিত। নিজের অস্তিত্ব ও দায়িত্ব এখানে হাত ধরাধরি করে চলে। আর তা আল্লাহর দিকে এগুতে থাকে। তার কাছে জীবন একটি আমানত।
এখানে সে নিজের অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনীয়তাকে জানবে। জানবে যে, আমি আসলে সামর্থ্যবান এবং দুর্বল, সম্ভাবনাময় এবং সীমিত ও দায়িত্ববান এবং নির্ভরশীল। কারণ আমার অস্তিত্ব আংশিক এবং পরিপূর্ণতা প্রত্যাশী। সে জন্য নিরন্তর সচেষ্ট। আল্লাহই পরিপূর্ণ, চিরস্থায়ী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। অতএব আমাদের ‘আমি আছি’ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কুদরত ও ইচ্ছার আয়না মাত্র। আমার অস্তিত্ব আছে মানে পরম অস্তিত্বের অবিমুখী আছি। অতএব ‘আমি আছি’ মানে হলো ‘আমি আল্লাহর দিকে আছি, লগ্ন ও মগ্ন আছি।’ আবার সৃষ্টিজগতে দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে পলায়ন করে বা তাতে কমতি রেখে এই থাকাকে অর্থবহ করা যাবে না। এর মানে পরিষ্কার। অস্তিত্বের সব স্তর এক ঐক্যবদ্ধ নকশায় গাঁথা, যেখানে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিজগত পরস্পর সম্পর্কিত। কাউকে বাদ দিয়ে অস্তিত্বের সার্থকতা নয়। তবে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিজগত পরস্পরে সম্পর্কিত হলেও কখনোই এক নয়।
প্রকৃতি ও অস্তিত্ব এখানে ঐশী সত্তার বহিঃপ্রকাশ, কিন্তু আল্লাহর সাথে বস্তুজগতের মিশ্রণ অসম্ভব। উত্তরাধুনিক চিন্তকরা যেমন বলেন, সত্য কোনো একক ভাষায় বা ডিসকোর্সে ধরা পড়ে না, তেমনি মুসলিম দর্শন বলে, মানুষের ভাষা ও যুক্তি অস্তিত্বের পূর্ণ সত্যকে ধরতে অক্ষম। এর সাথে যুক্ত আছে গায়েব বা ইন্দ্রিয়াতীত অদৃশ্য। যার সত্যতত্ত্বের জন্য আমার চাই হেদায়েত। মানুষের অস্তিত্বের অভিজ্ঞতা যেহেতু ব্যক্তির সমাজ, ইতিহাস ও আত্মিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে, অতএব আমার অস্তিত্ববোধ শুধু আমার সাফল্য ব্যর্থতাকে সংজ্ঞায়িত করে না, বরং মানুষের বৃহত্তর জীবন, যাপন ও বিকাশকে প্রভাবিত করে।
Group of Human Hands Holding Together
ফলে মুসলিম বিশ্বদৃষ্টি ও আধুনিক দর্শনের বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে এমন অন্তলোজির প্রয়োজন, যেখানে প্রকৃতি হলো নৈতিকভাবে অর্থবহ এক অস্তিত্ব।
মুসলিম অন্তলজি শুধু আধুনিকতাকে প্রত্যাখ্যান করে না, বরং ঐতিহ্য ও আধুনিক জ্ঞানের মধ্যে সংলাপও গড়ে তোলে। যদিও সায়্যিদ হুসাইন নসরের ভাষা ধার করে বলতে চাই, আধুনিক বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ (scientific materialism) অস্তিত্বের প্রকৃত সারমর্ম ভুলে গেছে।
After the July uprising, Bangladesh has been facing a major problem with the spread of rumours and misinformation. Chief Adviser Muhammad Yunus had earlier warned that rumors are now being used like weapons to destabilize the country, and recent trends prove how serious this issue has become. According to Rumor Scanner, a well-known fact-checking organization, misinformation rose by 58 percent in 2024 compared to 2023. In 2025, the situation is still alarming. In the last three months, they identified 268 false or misleading posts in February, 298 in March, and 296 in April.
Like previous months, April’s rumors mostly targeted national and political topics. Out of all detected cases, 101 were related to national matters, and 95 were political. Religious, international, and communal issues were also included. Particularly concerning were 16 communal rumors, some of which came from Indian accounts, showing that disinformation is not only coming from within Bangladesh but also from beyond the border.
Social media continues to be the biggest platform for spreading fake news. Facebook alone had 276 such cases in April, followed by YouTube 54, Instagram 48, X handle (formerly Twitter) 44, and TikTok 24. Even 15 false stories were spread by mainstream media, which is supposed to be a reliable source of information.
A major target of these campaigns has been high-level political and government figures. Chief Adviser Yunus himself was the subject of 29 false posts. Other advisers like Asif Nazrul and Syeda Rizwana Hasan were also targeted. Political parties such as BNP, Jamaat-e-Islami, and the National Citizens Party (NCP) were also affected. These attacks seem to follow what Prof. Yunus described as attempts by the “defeated side” to weaken public trust in national institutions.
Rumor Scanner also revealed that 138 cases were text-based, 105 were videos, and 53 used images. Of them, 179 were completely false, 66 were misleading, and 48 were distorted.
With the national election coming soon, there is a real danger that the rumor problem will grow even worse. It is very important now for the government, media, and public to work together. Along with strict monitoring, we must improve digital literacy across all groups so that people can learn how to detect false information and rely only on trustworthy sources. Only then can we protect our society from this growing threat.
কোপা ডেল রে’র উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে রেফারির সঙ্গে অশোভন আচরণের দায়ে রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার এন্টোনিও রুডিগার ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়।
সেভিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে রুডিগার ছাড়াও বিতর্কে জড়ান রিয়ালের আরও দুই খেলোয়াড়—জুড বেলিংহাম ও লুকাস ভাসকুয়েজ। শেষ বাঁশি বাজার পর রেফারির প্রতিবেদন অনুযায়ী বেলিংহামের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু প্রমাণ না থাকায় তিনি নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পান। তবে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার অপরাধে ভাসকুয়েজকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ফাইনালে বার্সেলোনা ৩-২ গোলে জয়ী হয়, আর ম্যাচ শেষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয় রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে।
রেফারির দিকে তেড়ে যাওয়া ও ‘বরফ ছুড়ে’ ৬ ম্যাচ নিষিদ্ধ রুডিগার
রুডিগারের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে তার সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের কারণে। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) তার বাঁ হাঁটুতে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে, যার ফলে চলতি মৌসুমের বাকি পাঁচটি ম্যাচে তার খেলা হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার বাকি অংশ আগামী মৌসুমের শুরুতে ভোগ করতে হবে এই জার্মান ডিফেন্ডারকে।
৩২ বছর বয়সী রুডিগার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন,
‘গত রাতে আমার আচরণের কোনো অজুহাত নেই। শেষ বাঁশি বাজার আগে আমি একটি বড় ভুল করেছি। আমি রেফারিসহ সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি, যাদেরকে আমি হতাশ করেছি।’
স্প্যানিশ ফুটবলে এমন শাস্তির মাত্রা সাধারণত চার থেকে ১২ ম্যাচের মধ্যে হয়ে থাকে। সেই হিসেবে রুডিগার অপেক্ষাকৃত কম শাস্তি পেয়েছেন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই নিষেধাজ্ঞা ও ইনজুরির কারণে আগামী ১১ মে মৌসুমের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোতেও রিয়ালের ডিফেন্সে তাকে দেখা যাবে না, যা দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।