নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সোনার দাম বাড়ানোর সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দাম বেড়েছে স্বর্ণের
আজ ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় দিবস
পবিত্র মাহে রমজানের ২০তম দিন আজ। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এদিন সংঘটিত হয়েছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়।
হিজরতের অষ্টম বছরে প্রায় ১০ হাজার মুসলিমের একটি বাহিনী নিয়ে মহানবী (সা.) মক্কা নগরীতে প্রবেশ করেন। দীর্ঘদিনের নির্যাতন, বিরোধিতা ও নানা সংঘাতের পর সংঘটিত এই বিজয় ছিল প্রায় রক্তপাতহীন।
নবুওয়াত লাভের পর থেকেই মক্কার কুরাইশরা ইসলামের বিরোধিতা শুরু করে এবং মুসলমানদের ওপর নানা নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীরা মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হন। মদিনা থেকেই ইসলামের বিস্তার দ্রুত ঘটতে থাকে এবং মুসলমানরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

মক্কা বিজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গের ঘটনা। কুরাইশরা চুক্তি লঙ্ঘন করলে মহানবী (সা.) অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। অষ্টম হিজরির রমজান মাসে পরিচালিত সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ২০ রমজান মক্কা বিজয় সম্পন্ন হয়।
মক্কায় প্রবেশের পর মহানবী (সা.) সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন, যা মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেয়। তিনি কাবা শরিফে স্থাপিত ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেন এবং সেখানে একত্ববাদের বার্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
ইসলামের ইতিহাসে মক্কা বিজয় শুধু সামরিক সাফল্য নয়, বরং শান্তি, ক্ষমা ও ন্যায়বিচারের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে আছে।
বদর: ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়
ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে মুসলিমদের জন্য ছিল অভাবনীয় বিজয়। মহান আল্লাহর একান্ত কুদরতের প্রমাণ। তিনি অল্প সংখ্যক লোক দিয়েও বিজয় দান করেন। তাতে সূচনা হয়েছিল ইসলাম বিজয়। তাই প্রতি বছর ১৭ রমজান বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ঐতিহাসিক ‘বদর দিবস’।বদর দিবসে মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে দান করুন মুসলমানদের বিজয়। সব নিয়ামত, মাগফেরাত ও নাজাতে ভরে ওঠুক রোজাদারের আমল ও মন। বদর যুদ্ধের বিজয় হয়ে থাকুক সব বিপদে মুমিন মুসলমানের অনুপ্রেরণা। আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সাহাবাদের দান করুন জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা, সম্মান ও শান্তি। আমিন।
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইফতার ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
‘জাতীয় পতাকা আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন’— ঢাবি উপাচার্য
চবি শাখা ছাত্রদলের দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজে দাওয়াহ সোসাইটি ও মেডিসিন ক্লাবের আয়োজনে রমাদান গাইডলাইন এবং হাফেজে কুরআন রিসিপশন’২৬ অনুষ্ঠিত
পরিবর্তনের শুরু হোক এ মাস থেকে
সিয়াম পালন করার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দিবেন (সহিহ বুখারী-১৮৯৪)। এমন একটি বরকতপূর্ণ মাস আমাদের সামনে প্রতিবছরই আসে যে মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়। কিন্তু এ মাসে আমরা শুধু পানাহার বর্জন এবং কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মাধ্যমেই কাটিয়ে দেই। এ মাসের মূল উদ্দেশ্য- তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন, এ থেকে আমরা বরাবরের মতোই দূরে সরে যাই। অন্য সময়ের মতো ফ্রি-মিক্সিং, অশ্লীলতা, প্রতারণার মতো গুণাহে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে জড়াচ্ছি। দিনের বেলায়ও অনেক হোটেল, রেস্তোরাঁয় পর্দা লাগিয়ে খানাপিনা চলে। আর রমজান মাস আসলেই যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি হওয়া একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে অন্যান্য মুসলিমপ্রধান দেশে রমজান আসলে জিনিসপত্রের দাম কমে সেখানে আমাদের দেশে অতিরিক্ত শুল্ক বাড়িয়ে সেটার দাম বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। যেন এ মাস পুরোটা ব্যবসায় লাভবান হওয়ার মৌসুম। রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম, যে রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে (সূরা ক্বদর-১-৩)। রমজানের শেষ দশকে এ রাত অন্বেষণ করতে বলা হয়েছে, সেখানে আমরা কেনাকাটা আর আমোদপ্রমোদে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আবার, অনেকেই শুধু ২৭-এর রাতকেই লাইলাতুল ক্বদর হিসেবে উদযাপন করি, যা নিতান্তই ভুল। এ রাতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাতকে আমরা যারা অবহেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি, তাদের মতো হতভাগ্য আর কেউ নেই। রমজান আমাদের মধ্য থেকে প্রতিবছরই এভাবে চলে যায় কিন্তু আমরা এর যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে বলেন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে রমজান পেল অথচ নিজের গুণাহ মাফ করাতে পারলো না (বায়হাকি-১৫৭২)। তাই আসুন, আমরা এই বরকতপূর্ণ (রমজান) মাস কাজে লাগাই। আমলের বসন্ত হয়ে উঠুক এই মাস।লেখক: শিক্ষার্থী,আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
নতুন বাংলাদেশের সন্ধানে
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে নতুন এক সন্ধিক্ষণ আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। রাষ্ট্র মেরামতের জন্য আমরা কতটুকু উদার তার কিছুটা বিপ্লব পরবর্তী সময়ে চোখে পড়েছে। এবার নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি কাদেরকে ক্ষমতার মসনদে বসাবে তা দেখার বিষয়। আশা রাখবো, সঠিক নেতৃত্বই আগামীতে আমাদের দেশ পরিচালনা করবে। বেঠিক কোন নেতৃত্ব এলে দেশ যেমন গোল্লায় যাবে, তেমনি স্বাধীন সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়ে পুরো জাতি ঘনকালো অমানিশার মধ্যে নিমজ্জিত হবে।এই ফেব্রুয়ারী মাস যেভাবে আমাদের জন্য ভাষার মাস হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ, সেভাবে আরেক বেদনাবিধুর অধ্যায়! ২০০৯ সালে পিলখানা ট্র্যাজেডির মাধ্যমে আমরা হারিয়েছিলাম দেশপ্রেমিক সামরিক কর্মকর্তাদের। বিদ্রোহের নামে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর ১৭ বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো কেন এই হত্যাকাণ্ড কি কেবল একটি ‘বিদ্রোহ’, নাকি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? এই প্রশ্নের জবাব সঠিকভাবে তুলে ধরেনি তা ভাবার বিষয়।
এখন আমাদের সামনে দেখার পালা, আগামী দিনে যারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসবে তারা সঠিক তদন্ত ও বিচার করে এর সত্যতা কতটুকু উন্মোচন করে।আমাদের জন্য আফসোস, বীর বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকান্ডের বিচার এখনো দেখতে পারিনি।এ ঘটনা আমাদের জন্য যতটা দুঃখের সেই সাথে রাষ্ট্রীয় কাঠামো কতটা ভঙ্গুর সেটিও মনে করিয়ে দেয়। নাগরিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস এগুলো এখন হাসির খোরাকে পরিণত হচ্ছে। বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদী যে ইনসাফের বার্তা আমাদের মাঝে জ্বালিয়ে গিয়েছেন তা সত্যিই আলোকবর্তিকা হয়ে থাকুক, সেই প্রত্যাশা করছি। আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমাদান। রমাদান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আত্ম গঠনে মনোযোগী হবো। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মহা সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমাজকে বদলে দেওয়ার শপথ করবো। সময় এবং সুযোগ এসেছে পরিবর্তনের। তাই সিদ্ধান্ত নিতে ভুল না করে দেশে চাবি পরিবর্তনের দায়িত্ব আমানতদার, ইনসাফ ও ন্যায়ের বার্তাবাহীদের উপর ন্যস্ত করতে হবে। প্রিয় লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী! দেখা হবে আরেক বাংলাদেশে, যেখানে নব ইশতেহারের আলোকে দেশ সাজবে!
