Saturday, January 24, 2026
হোমবাংলাদেশনেত্রকোনায় আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ১.৩৫ লাখ হেক্টর জমি, উৎপাদন লক্ষ্য ৪.২৫ লাখ...

নেত্রকোনায় আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ১.৩৫ লাখ হেক্টর জমি, উৎপাদন লক্ষ্য ৪.২৫ লাখ টন

মৌসুমের শুরুতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো নেত্রকোনার কৃষকরাও দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বীজতলা তৈরি হলেও জমি চাষ ও চারা রোপণের জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেকেই অপেক্ষায় ছিলেন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন মৌসুমে বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীলতা সবচেয়ে বেশি। কারণ এই সময়ে সেচের জন্য আলাদা খরচ সাধারণত করা হয় না। তাই মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ঘাটতি কৃষকদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।

চলতি আমন মওসুমে নেত্রকোনা জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯ শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮ শত ৯৫ মেট্রিক টন।

তবে গত দুই সপ্তাহের ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। মাঠে এখন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কৃষকরা জমি চাষ, আগাছা পরিষ্কার ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি সমতল করছেন, কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ দলবদ্ধ হয়ে চারা রোপণ করছেন। বীজতলা থেকে চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে জমি প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ দেরি হলে চারা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন, যা মূলত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।

কৃষকরা এখন আশাবাদী। তাদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমনের ভালো ফলন হবে। তবে শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে চ্যালেঞ্জও কম নয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে কৃষকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছেন, যাতে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং চারা রোপণের জন্য জমি সমতল হয়। অন্যদিকে কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন, কারণ আগাছা থাকলে ধানের চারা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না এবং ফলন কমে যায়। আবার অনেক কৃষক দলবদ্ধ হয়ে চারা রোপণ করছেন, যাতে দ্রুত কাজ শেষ হয় এবং সময়মতো ধান গাছের বৃদ্ধি শুরু হয়।

বীজতলা থেকে চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে জমি প্রস্তুত রাখা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ চারা বেশি বড় হয়ে গেলে রোপণের সময় শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য জমি নরম ও আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। এই পানি মূলত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল, কারণ আমন মৌসুমে সেচের জন্য আলাদা খরচ সাধারণত করা হয় না। তাই মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাব কৃষকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত তাদের আশার আলো দেখিয়েছে।

মৌসুমের শুরুতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো নেত্রকোনার কৃষকরাও দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বীজতলা তৈরি হলেও জমি চাষ ও চারা রোপণের জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেকেই অপেক্ষায় ছিলেন।

জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে ৪ উপজেলা হাওর অধ্যুষিত। বর্ষা মওসুমে হাওরাঞ্চলের বেশির ভাগ জমিই পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। ফলে এসব হাওরাঞ্চলের জমিতে আমন ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ কৃষকেরই নিজস্ব ট্রাক্টর না থাকায় তারা কাঠা প্রতি একটি নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে অন্যের ট্রাক্টর দিয়ে নিজের জমি চাষ করাতে হচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে সেচের খরচ না থাকলেও রয়েছে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত শ্রমিকের সংকট। গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মতো কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না। ফলে শ্রমিকদের বেশি টাকা মজুরি দিয়ে আমন ধান রোপন করা হচ্ছে। স্থান বেধে তাদেরকে মজুরি দিতে হচ্ছে কাঠা প্রতি পাঁচ শত থেকে ছয় শত টাকা। জেলার কৃষকরা দেশি ধানের পরিবর্তে এখন হাইব্রিড জাতের ধান চাষে বেশি আগ্রহী। অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের খরচ বেড়েছে। বর্তমানে কাঠা প্রতি রোপণ মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এছাড়া বীজ, সার ও কীটনাশকের দামও বেড়েছে। ফলে কৃষকরা দেশি জাতের পরিবর্তে হাইব্রিড ধান চাষে বেশি আগ্রহী।

আটপাড়া উপজেলার কৃষক আকিকুর রেজা খান খোকন বলেন,
“এ বছর ৩০ কাঠা জমিতে আমন চাষ করব। ইতিমধ্যে ১০ কাঠা জমিতে চারা রোপণ করেছি। তবে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বাড়ছে।”

কেন্দুয়া উপজেলার কৃষক আবুল মিয়া বলেন,
“সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বাদ দিয়ে লাভ তেমন থাকে না। অনেক সময় খরচের সমান দামেই ধান বিক্রি করতে হয়। সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, প্রণোদনা ও সার-বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হলে কৃষকরা চাষে আগ্রহী হবে।”

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘চলতি আমন মওসুমে নেত্রকোনা জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯ শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮ শত ৯৫ মেট্রিক টন। শনিবার পর্যন্ত জেলায় ৩৫ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চারা আবাদ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত রোপা আমন আবাদের কার্যক্রম চলবে। কৃষকরা যাতে জমিতে সুষম পরিমাণে সার ব্যবহার করতে পারে তার জন্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে বিসিআইসি ডিলার ও প্রত্যকটি ওয়ার্ডে একজন করে সাব ডিলার রয়েছে। তাদের নামে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ করা হয়েছে’।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত