Thursday, May 21, 2026
হোমবাংলাদেশসংবাদ সারাদেশসহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকার মাঝি প্রধান শিক্ষক

সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকার মাঝি প্রধান শিক্ষক

ডেস্ক রিপোর্ট:

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিদ্যালয়ের ব্যয় ও শিক্ষকদের বেতন জোগাতে ছুটির দিনে তিনি নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করছেন।

জানা গেছে, জেলা সদর থেকে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০২০ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বামং খিয়াং মিংলেন। তিনি কক্সবাজার সিটি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এমবিএ এবং পরে কক্সবাজার টিচার্স ট্রেইনিং কলেজ থেকে বিএড সম্পন্ন করেন।

 

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬ জন শিক্ষক স্বল্প বেতনে নিয়মিত পাঠদান করছেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ শিক্ষক ও ৫ কর্মচারী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে ২ জন শিক্ষক নন-পেমেন্ট ভিত্তিতে কাজ করছেন। বিদ্যালয়টি ২০২১ সালে স্থাপনের অনুমোদন পায়। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫৬ জন শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। চলতি বছর নবম শ্রেণির কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

 

প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন জানান, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিয়মিত বেতন আদায় সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় থানচি উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া একটি ইঞ্জিনচালিত বোট দিয়ে প্রতি শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে থানচি থেকে তিন্দু বড় পাথর ও রেমাক্রী ফলস রুটে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করেন তিনি।

তিনি বলেন, “অন্য চালক রাখলে আলাদা মজুরি দিতে হয়, আবার অনেক সময় আয়ের টাকাও গোপন রাখা হয়। তাই নিজেই বোট চালাই। এতে যে টাকা সাশ্রয় হয়, তা শিক্ষকদের বেতন হিসেবে দিতে পারি।”
তিনি আরও জানান, গত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বোট চালিয়ে ৪৯ হাজার ১০০ টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা শিক্ষকদের মধ্যে সমানভাবে বেতন-ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া এবং সাঙ্গু নদী পারাপারেও নিজেই দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পাওয়াই ম্রো বলেন, “প্রধান শিক্ষক হয়েও তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই। তিনি নিজেই বোট চালিয়ে যে আয় করেন, তা শিক্ষকদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে দেন। এই সামান্য অর্থ দিয়েই আমরা কোনোভাবে সংসার চালিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।”
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের এই আত্মত্যাগ ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত