Saturday, January 24, 2026
হোমআন্তর্জাতিকপাকিস্তানে প্রবল বৃষ্টির দাপট: আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ৩২৮ জন নিহত

পাকিস্তানে প্রবল বৃষ্টির দাপট: আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ৩২৮ জন নিহত

পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টির দাপটে আবারও প্রকোপ নেমে এসেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে কেবল এই প্রদেশেই নিহত হয়েছেন ৩২৮ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২০ জন। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই মর্মান্তিক তথ্য প্রকাশ করেছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, ধসে পড়া ঘরবাড়ি ও মাটির স্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে প্রায় দুই হাজার উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। নয়টি পাহাড়ি জেলায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। তবে প্রবল বর্ষণ উদ্ধার প্রচেষ্টা ব্যাহত করছে।
সংস্থার মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফয়েজি জানান, ভূমিধস ও সড়ক পানির তলে চলে যাওয়ায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা পায়ে হেঁটে দুর্গম এলাকায় প্রবেশ করছেন।

বুনের, বাজৌর, সোয়াত, শাংলা, মানসেহরা ও বাট্টাগ্রামসহ ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি জেলাগুলোকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করেছে প্রাদেশিক সরকার। সোয়াত জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, সড়ক কাদাপানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক গাড়ি অর্ধেক কাদায় ডুবে আছে।
বুনের জেলার বাসিন্দা আজিজুল্লাহ ভয়াবহ মুহূর্তটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমি মনে করেছিলাম কেয়ামত নেমে এসেছে। প্রচণ্ড শব্দের পর পাহাড় কেঁপে উঠতে দেখলাম, মনে হচ্ছিল মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে আছে।”

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ১১ জন এবং গিলগিট-বালতিস্তানে আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলটসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
সংস্থার কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ তায়েব শাহ জানান, এ বছর মৌসুমি বৃষ্টি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আগেই শুরু হয়েছে এবং অন্তত ১৫ দিন এর তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বর্ষা মৌসুমের প্রবল বৃষ্টিকে কর্তৃপক্ষ “অস্বাভাবিক” বলে আখ্যা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৯০০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ দেশগুলোর একটি। ঘন ঘন বন্যা, খরা ও চরম আবহাওয়ার শিকার হচ্ছে দেশটির জনগণ। মাত্র তিন বছর আগে, ২০২২ সালের মৌসুমি বন্যায় পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। সেই দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে পাকিস্তান মারাত্মক বিপদের মুখে। পাহাড়ি এলাকায় মানুষজন একদিকে প্রকৃতির ভয়াবহ আঘাত সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে জীবনের অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে থাকলে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত