ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), সরকারি রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এবং রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) যৌথভাবে টহল কার্যক্রম শুরু করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর)-এর বিভিন্ন ডিভিশনে বিশেষ নজরদারির আওতায় এসেছে সীমান্তবর্তী রেলপথগুলো। যৌথ টহলের মাধ্যমে রেলওয়ে অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা এবং যাত্রী নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরপিএফ-এর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা রেলস্টেশন ও ট্র্যাকের নিকটবর্তী এলাকায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে। টহলের সময় অনুপ্রবেশ, অবৈধ হস্তক্ষেপ কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাজনক কোনো লক্ষণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাড়ানোর এই পদক্ষেপের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রভাব রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এনডিটিভি দাবি করেছে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। এমনকি, কিছু ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশের সময় গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবৈধ যাতায়াতের রুট হিসেবে পরিচিত। তাই সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ সীমান্ত অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন করে নজর কাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই ধরনের উদ্যোগ কৌশলগত দিক থেকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
