কাশ্মিরের পেহেলগামে সম্প্রতি সংঘটিত বন্দুকধারীদের হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চিরচেনা উত্তেজনা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার প্রভাব ফেলছে ক্রীড়াঙ্গনেও। টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী আগস্টে সীমিত ওভারের ক্রিকেট সিরিজ খেলতে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বাংলাদেশ সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পরিকল্পনা ছিল, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত। তবে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি এই সফরের বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া দাবি করেছে, সফরটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে কাশ্মির ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি ও বাংলাদেশে এ বিষয়ে প্রকাশিত কিছু মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বাংলাদেশের একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের একটি ফেসবুক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি ব্লু টিক প্রাপ্ত নয় এবং তার ফ্রেন্ড লিস্টে সদস্য সংখ্যা মাত্র ৪২৭ জন।

তবে টাইমস অফ ইন্ডিয়া তর্কযোগ্যভাবে দাবি করেছে, উক্ত মেজর জেনারেল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি তার পোস্টে লেখেন, “ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করলে বাংলাদেশের উচিত হবে উত্তর পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য দখল করে নেয়া। এ ব্যাপারে চীনের সাথে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করি।”
এ ধরনের মন্তব্য অবশ্য ব্যক্তিগত পর্যায়ের মতামত হিসেবেই দেখা হচ্ছে, তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই বিশ্লেষণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মিরে ঘটে যাওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যু যেভাবে ক্রীড়াজগত এবং তৃতীয় রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে চিন্তার উদ্রেক করছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। কূটনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশ সফর থেকে ভারতের সরে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই।
