বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডার্স (আরএসএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য কাজ করার পরিবেশ ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্বের গণমাধ্যম পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আরএসএফ জানিয়েছে, সূচকের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বের অর্ধেক দেশে সাংবাদিকতা চর্চার পরিবেশ ‘খারাপ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রতি চারটি দেশের মধ্যে মাত্র একটি দেশে সাংবাদিকতার অবস্থা ‘সন্তোষজনক’ বলা যায়।
বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতা পরিস্থিতির এই ক্রমাবনতির পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে আরএসএফ। সংস্থাটির মতে, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কর্তৃত্ববাদী ধারায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অফ আমেরিকা ও রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টির জন্য সরকারি তহবিল বন্ধের পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ১১ ধাপ নিচে নেমে আসার পর এ বছর আরও দুই ধাপ পিছিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম সূচকে ৫৭তম অবস্থানে অবস্থান করছে। আফ্রিকার সংঘাতপীড়িত দেশ সিয়েরা লিওনের অবস্থানও এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ওপরে।
আরএসএফের সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে বলেন, “সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আজ অর্থনৈতিক চাপের মুখে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, অনলাইন বিজ্ঞাপন খাতে ২০২৪ সালে ২৪৭.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হলেও এর বেশিরভাগ অংশ চলে যাচ্ছে ফেসবুক, গুগল ও অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের হাতে।”
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের গণমাধ্যমবিরোধী অবস্থানের সাম্প্রতিক নজির হিসেবে নিউইয়র্ক টাইমস ও প্যারামাউন্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসের সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেছে রিপোর্টটি।
বিশ্ব গণমাধ্যম সূচকে এবারো টানা নবমবারের মতো শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে এস্তোনিয়া ও নেদারল্যান্ডস।
প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরাইলি হামলার সময় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে। আরএসএফ জানায়, গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রায় ২০০ সাংবাদিককে হত্যা করেছে, নিউজরুম ধ্বংস করেছে এবং অঞ্চলটিকে ১৮ মাস ধরে অবরুদ্ধ রেখেছে। এসব কারণে ইসরাইল এবার ১১ ধাপ পিছিয়ে ১১২তম অবস্থানে নেমে এসেছে।
আরএসএফ-এর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার জন্য সময়টি অত্যন্ত প্রতিকূল। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, দ্যা ক্যাম্পাস মিরর।

