মোঃ রুবেল হোসেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। যা বর্তমানে বিতরণ কৃত ঋণের এক-তৃতীয়াংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মার্চ মাস শেষে দেশের তফসিলি কৃত ৬১ টি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা,যা বিগত তিন মাসে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান দেখা যায় যে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিলো প্রায় ৫ লাখ ২৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋনের হার সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। বর্তমানে শুধুমাত্র রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। শুধুমাত্র রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সরকারি ৬ টি ব্যাংকের মধ্যে ৪ টি ব্যাংকে প্রতিনিয়ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। যার সর্বশেষ পরিমাণ দাঁড়িয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।
খেলাপি ঋণে পিছিয়ে নেই বেসরকারি ব্যাংকগুলো, মার্চের শেষে ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ প্রায় ২৬ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা বেড়ে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা এই খাতের মোট ঋণের ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ এখন খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত। খেলাপিকৃত ঋণ বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। ব্যাংকটির খেলাপিকৃত ঋণ এক ধাপেই ৪ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা বেড়ে ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশ।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,৩৪টির অধিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে আশঙ্কাজনক ভাবে। তাছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছরই খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগ জনক হারে বাড়ছে বলে জানা যায়। যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, গত এক দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাপক অনিয়ম, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শিথিল নিয়মের কারণে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ।
বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি শুধু ব্যাংকগুলোর মুনাফা ও মূলধনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও বিরাট ঝুঁকি তৈরি করছে। ঋণ প্রদানে স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দ্রুত ঋণ পুনরুদ্ধার এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
লেখক:
শিক্ষার্থী, ডুয়েট,গাজীপুর।
