Friday, July 10, 2026
হোমজাতীয়কোমরসমান পানিতে নেমে বন্যার্তদের পাশে বিরোধীদলীয় নেতা

কোমরসমান পানিতে নেমে বন্যার্তদের পাশে বিরোধীদলীয় নেতা

 

ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা নিরাপদ দূরত্বে না থেকে সরাসরি কোমরসমান নোংরা পানি মাড়িয়ে একের পর এক জলমগ্ন বাড়িতে ছুটে যান তিনি, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ডা. শফিকুর রহমান এলাকায় পৌঁছামাত্রই চারদিকে ‘দাদু আসছেন… দাদু আসছেন…’ বলে শোরগোল পড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় এই সম্বোধনটি আজ মাঠপর্যায়ে বাস্তব রূপ নেয়। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি প্রথমে লাবুর দোকানের পাশে অবস্থিত একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এরপর তিনি নিজেই নেমে পড়েন বুক ও কোমরসমান পানিতে। অবরুদ্ধ বাড়িঘরগুলোর দরজায় কড়া নেড়ে ভেতরের শিশু ও বৃদ্ধদের খোঁজ নেন, তাঁদের হাতে সহায়তা তুলে দেন এবং পরম মমতায় কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান।

নেতার এমন মানবিক রূপ দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বন্যাকবলিত মানুষগুলো। গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসে দূর থেকে ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের ভেতর পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন।

লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম ও কিরণ বালা জলদাস জানান, ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় তাঁরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে দেশের এত বড় একজন নেতা তাঁদের কথা শুনতে সরাসরি পানির মধ্যে নেমে এসেছেন, এটাই তাঁদের বড় সান্ত্বনা। স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে না গিয়ে তিনি যেভাবে মানুষের ঘরে ঘরে গেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে আছে। তিন দিন ধরে ঘরছাড়া দুর্গত মানুষগুলো স্কুল, দোকান বা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি, বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনুভব করতেই আজ মাঠে নেমেছি। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জোরালো আলোচনা করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, মানুষের আসল দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা।

এ সময় সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহতদের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। বক্তব্য শেষ করে তিনি আবারও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান।

 

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত