Tuesday, June 16, 2026
হোমশিক্ষাক্যাম্পাস নিউজগোপনে বিয়ে, ঢাকা কলেজে স্ত্রীর অবস্থান: লাপাত্তা স্বামী ছাত্রদল নেতা

গোপনে বিয়ে, ঢাকা কলেজে স্ত্রীর অবস্থান: লাপাত্তা স্বামী ছাত্রদল নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট:

গোপনে বিয়ের পর স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়ার দাবি তুলে ঢাকা কলেজের হলপাড়ায় অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। ভুক্তভোগী তরুণী (২৬) ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার জনগাওয়ের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের সামনে ওই তরুণীকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে দেখা যায়। তার উপস্থিতির বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে এলে হলপাড়াজুড়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
এদিকে, এ খবরে কলেজ থেকে লাপাত্তা রয়েছেন অভিযুক্ত খালিদ পারভেজ। তিনি ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

অভিযুক্ত পারভেজ ঢাকা কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র বলে জানা গেছে। এছাড়া পারভেজ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য।

বিয়ের কাবিননামা অনুযায়ী, অভিযুক্ত মো. পারভেজ (২৭) ঠাকুরগাঁও জেলার মালিগাও এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের মার্চের ১৫ তারিখ পঞ্চান্ন হাজার পাঁচশ পঞ্চান্ন টাকা দেনমোহরে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার এক বছর পর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উভয়ের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। তিনি বর্তমানে রাজশাহী কলেজের একজন শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে কিন্তু এখন সে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করছে না। বিষয়টির সুরাহার আশায় আমি ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় এসেছি।

তিনি আরও বলেন, পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রথমে তিনি ফোনে জানান যে তিনি ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। পরে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে তার মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী খালিদ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই তরুণী তার বৈধ স্ত্রী। তবে পূর্বসম্মত শর্ত ভঙ্গ করেই তিনি ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে এসে অবস্থান নিয়েছে। ওর সঙ্গে আমার বন্ধু ও জুনিয়ররাও কথা বলেছে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবেই ও সেখানে গেছে।

বিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পারভেজ জানান, তাদের বিয়ে রমজান মাসের ১৫ তারিখে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের পর তারা দীর্ঘদিন একসঙ্গেই ছিলেন। পরে ছুটি কাটাতে তরুণী নিজ বাড়িতে যান। সেখান থেকে তার মেসে ওঠার কথা ছিল। পারভেজের দাবি, বিয়ের আগে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল যে তিনি আগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন, এরপর তারা স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাস করবেন।

তিনি আরও বলেন, সে (ভুক্তভোগী তরুণী) আমাকে দুই বছর সময় দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু আমি এখনো কোনো চাকরি করি না। বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছি। অথচ বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় সে আমার সঙ্গে এ নিয়ে ঝামেলা করছে।

যোগাযোগের পর অভিযুক্ত পারভেজ ফিরে না আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান ওই তরুণী।

 

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত