ডুয়েট প্রতিনিধি,গাজীপুর।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশনের ওপর একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডুয়েট ক্যারিয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ক্লাবের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (IQAC)-এর সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
“Research Excellence, International Collaboration, and Higher Education: Pathways to Global Opportunities” শীর্ষক এই আয়োজনে প্রধান বক্তা ও মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির অধীন ‘রিসার্থ সেন্টার ফর ন্যানো-ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি টেকনোলজি’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল, উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আরেফিন কাউসার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. উৎপল কুমার এবং ডুয়েট আইকিউএসি-এর পরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে গবেষণাভিত্তিক সেমিনার আরও বেশি আয়োজন করা উচিত। মেধা পাচারকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করবে, তখন তার সেই গবেষণার মাধ্যমে যেন দেশের অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় সমস্যাগুলোর বাস্তবমুখী সমাধান সম্ভব হয়, সেদিকেই সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। তবেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।
মূল বক্তার বক্তব্যে প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান একবিংশ শতাব্দীতে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গবেষণার অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, গবেষণার প্রথম ও প্রধান কাজ হলো চারপাশের বাস্তবমুখী সমস্যাগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। এরপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও বাস্তবভিত্তিক ডেটা অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান রূপদান করতে হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মানসম্মত স্কোপাস (Scopus) বা আইএসআই (ISI) ইনডেক্সড জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের ওপর জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি বিশ্বমানের গবেষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও যৌথ গবেষণার (Co-authorship) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধির তাগিদ দেন ড. সাইদুর।
উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্কলারশিপ প্রাপ্তির বিষয়ে সেমিনারে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। আলোচকবৃন্দ জানান, কমনওয়েলথ, ইরাসমাস মুন্ডাস বা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শক্তিশালী রিসার্চ প্রোফাইল বড় ভূমিকা রাখে। স্নাতক পর্যায়েই অন্তত একটি বা দুটি ভালো মানের রিসার্চ পাবলিকেশন থাকলে স্কলারশিপের রেসে অনেক এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এর পাশাপাশি একটি গোছানো ও উদ্দেশ্যমুখী ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ (SOP) বা কভার লেটার তৈরি এবং আইইএলটিএস (IELTS) বা জিআরই (GRE)-র মতো ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।
ডুয়েট সিআরসি ক্লাবের আয়োজকবৃন্দ ও ডুয়েট আইকিউএসি জানায়, সেমিনারটিতে মূলত গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনের কৌশল, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার সুযোগ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও বৈশ্বিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই ধরনের উদ্যোগ ডুয়েটে একটি সমৃদ্ধ গবেষণাবান্ধব পরিবেশ জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ একাডেমিক ও পেশাগত পরিকল্পনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
