Saturday, January 24, 2026
হোমঅর্থনীতিমানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্মেলন

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্মেলন

চট্টগ্রাম, ১১ এপ্রিল:

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার্স অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ (অ্যাকব)-এর সহায়তায় ব্যাংকগুলোর প্রধান পরিপালন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি দিনব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অর্থ পাচার রোধ, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও আর্থিক খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সভাপতিত্ব করেন বিএফআইইউর প্রধান কর্মকর্তা এ জেড এম শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন এবং অ্যাকবের চেয়ারম্যান মাহাদ জিয়াউল হাসান কাওলা।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “অর্থ পাচার রোধ এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে অ্যান্টি-টাস্কফোর্স গঠন করে বিএফআইইউ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, যা অর্থ পাচারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। তবে মুদ্রানীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ে কিছু অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব।

বিএফআইইউ প্রধান শহীদুল ইসলাম ব্যাংকিং খাতের অনিয়ন্ত্রিত ঋণপ্রবাহ, খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতি এবং করপোরেট সুশাসনের অভাবকে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে ইতোমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।”

অ্যাকবের চেয়ারম্যান মাহাদ জিয়াউল হক AML/CFT (অ্যান্টি মানি লন্ডারিং/কাউন্টার টেররিজম ফাইনান্সিং) কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। সেলিম আর এফ হোসেন ঝুঁকিভিত্তিক মনিটরিং জোরদার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের ঘাটতি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।

সম্মেলনে ৬০টি তফসিলি ব্যাংকের AML/CFT দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ও উপ-প্রধান কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, মানি লন্ডারিংয়ের নতুন ধারা, এবং তা প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে পৃথক অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আবারও উঠে আসে।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত