হাসিনা সরকারের আমলের মামলায় জামায়াত নেতা আটক

ডেস্ক রিপোর্ট লালমনিরহাটের পাটগ্রামে হাসিনা সরকারের সময়ে দায়ের করা মামলায় হত্যা মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাটগ্রাম পৌর শাখার আমির সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার ব্র্যাক কার্যালয়ের সামন থেকে তাকে গ্রেফতার করে পাটগ্রাম থানা-পুলিশ। পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা চলাকালে পাটগ্রামে বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মসূচির সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে জামায়াত-শিবিরের দুজন, বিএনপির একজন এবং আওয়ামী লীগের একজন কর্মী নিহত হন। ​পরবর্তীতে ওই সহিংসতায় আওয়ামী লীগের দায়ের করা একটি এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মী নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরও দুটি হত্যা মামলা দায়ের করে। সোহেল রানা ওই তিন মামলারই এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। সম্প্রতি লালমনিরহাট আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে মঙ্গলবার দুপুরে পাটগ্রাম থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি ফিরোজ হায়দার লাভলু গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাজনৈতিক সহিংসতার পুরোনো মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। ৫ ই আগস্টের পর বড় বড় অনেক মামলা নিষ্পত্তি হলেও এই মামলাটি হয়রানি করার জন্য রেখে দিয়েছে। সেদিনের কর্মসূচি সময় জামায়াতের শিবিরের কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলাটি করে আমরা অতি দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি চাই আর সোহেল রানা ভাইয়ের মুক্তি চাই।’

  ​এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, তিনটি হত্যা মামলায় লালমনিরহাটের আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজই (মঙ্গলবার) যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।  

ট্রাম্পের সাথে কোন আলোচনা হয়নি: ইরান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো ধরনের সংলাপ চলছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যে আলোচনার কথা বলেছেন, তা বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। বরং তেহরানের দাবি, ওই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় নেওয়া।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ইরানের মতে, যেসব দেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের উচিত সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলা। কারণ, এই সংঘাতের সূচনাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করছে তেহরান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সেই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৈরিতা নিরসনে “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বিস্তৃত ও সার্বিক সমাধান নিয়ে কথাবার্তা এগোচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এই আলোচনা পুরো সপ্তাহজুড়ে চলবে। পাশাপাশি তিনি যুদ্ধ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, চলমান যোগাযোগের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ রাখতে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করল। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনা চলছে বলে দাবি করছে, অন্যদিকে তেহরান বলছে-এমন কোনো সংলাপ আদৌ হচ্ছে না। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা সাময়িকভাবে কিছুটা থামার ইঙ্গিত মিললেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান পরিস্থিতিকে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রেখেছে।  

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব: দুবাইয়ের আবাসন বাজারে ধীরগতি, দামে পতনের আভাস

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। টানা তিন সপ্তাহ পেরিয়ে চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের আবাসন খাতে। বাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সম্পত্তির দামে পতনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি মার্চের প্রথম ১২ দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবাসন খাতে লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। একইভাবে ফেব্রুয়ারির একই সময়ের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৪৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এতদিন করমুক্ত নীতি ও স্থিতিশীল পরিবেশের কারণে ধনী বিনিয়োগকারীদের কাছে দুবাই ছিল অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু সম্পত্তি মালিক দ্রুত বিক্রির জন্য মূল্য কমাতে শুরু করেছেন। বাজার সূত্রে জানা গেছে, কোথাও কোথাও সম্পত্তির দাম ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বুর্জ খলিফার কাছাকাছি একটি সম্পত্তি আগে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে বিক্রির প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে পাম জুমেইরাহ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট প্রায় ১৫ শতাংশ কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির পর দুবাইয়ের আবাসন বাজারে সংশোধনের সম্ভাবনা আগেই তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সংঘাত সেই ঝুঁকিকে আরও তীব্র করেছে। একই সঙ্গে আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা ইমার প্রোপার্টিজের শেয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২৬ শতাংশের বেশি কমেছে। সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যা আবাসন চাহিদাকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করতে পারে। তাঁদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রায় ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত তা ২ থেকে আড়াই শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এর ফলে আগামী দুই বছরে গড়ে সম্পত্তির দাম প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে বাজারে সম্পূর্ণ স্থবিরতা নেমে আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রিয়েল এস্টেট খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, লেনদেন কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন এবং তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সম্প্রতি পাম জুমেইরাহ এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে একটি বিলাসবহুল সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা উচ্চমূল্যের আবাসনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বিদ্যমান থাকার ইঙ্গিত দেয়। সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দুবাইয়ের আবাসন বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও বাজার সম্পূর্ণ স্থবির হয়নি। বরং একদিকে ঝুঁকি বাড়লেও অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

রোজা থাকতে হবে না;চাঁদ দেখা গেছে, নতুন চাঁদ!

  দ্যা ক্যাম্পাস মিরর কথা বলেছে দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক বিশিষ্ট নজরুল গবেষক কবি আবদুল হাই শিকদার স্যারের সাথে। তার কথায় উঠে এসেছে শৈশবের ঈদ স্মৃতি, সেসময়কার ঈদ সংস্কৃতি এবং বর্তমান সময়ের ঈদ সংস্কৃতির তফাৎ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে দ্যা ক্যাম্পাস মিররের সহকারী সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ।   মিররঃ আসালামু আলাইকুম স্যার। কেমন আছেন? আবদুল হাই শিকদারঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম।আমি আছি বাংলাদেশের মতো। মিররঃ বাংলাদেশের মতো! দেশের গতিপথ মুহূর্তে মুহূর্তে চেঞ্জ হচ্ছে। আবদুল হাই শিকদারঃ আমারও চেঞ্জ হয়। দেশ যেভাবে চলে, আমরা তো সেভাবেই চলি। মিররঃ শুরুতেই আমরা ক্যাম্পাস মিরর থেকে আপনাকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আবদুল হাই শিকদারঃআপনাদেরকেও ঈদ মোবারক। মিররঃ শৈশবের কোন বিশেষ ঈদ স্মৃতি মনে পড়ে? আবদুল হাই শিকদারঃ অনেক স্মৃতি আছে ঈদের। যেমন;আমাদের আব্বা যখন নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতেন, আমরা ওই জামা-কাপড় আর জুতা কাউকে দেখতে দিতাম না;ভাবতাম ঈদের দিন দেখাবো। কিন্তু মাঝে মাঝে জুতা-জামা পরে বিছানার ওপর হাঁটাহাঁটি করতাম। জুতা নিয়ে নিচে নামলে তো  জুতায় ময়লা লাগবে;এটা একটা খুব আনন্দের ব্যাপার ছিল। নতুন কাপড় পেয়ে আমরা খুব উদ্বেলিত হতাম, আনন্দিত হতাম। আর কাউকে না দেখিয়ে বিছানার ওপর জুতা পরে হাঁটা;এই মজাটাও ছিল। মিররঃ বিছানার উপর হাটঁলে কেউ দেখলে? আবদুল হাই শিকদারঃ  মা দেখতেন, আব্বা দেখতেন;কিছু মনে করতেন না; উৎসাহ দিতেন। নতুন জুতা তো, ময়লা লাগেনি। মিররঃ ঈদে সালামি দেওয়ার সংস্কৃতি কি আপনাদের শৈশবে ছিল কিনা? আবদুল হাই শিকদারঃ এগুলো একটু নাগরিক কালচার ছিল। গ্রামবাংলার সাথে এইভাবে সম্পর্কটা নাই। আমরা এমনিতেই সালাম দিতাম। অনেক সময় মুরুব্বিরা সালামি দিলে সেটা দিয়ে বিকালবেলা কটকটি,মজা কিনে খেতাম। মিররঃ চাঁদ রাতের উত্তেজনা তখন কেমন ছিল? আবদুল হাই শিকদারঃ ওরে বাপরে বাপ! আমরা তো গ্রামের বাইরে চলে যেতাম;মাঠের মাঝখানে, বিলের মাঝখানে। শুকনা বিল তো বেশিরভাগ সময় থাকতো। গ্রামের যত ছেলেপেলে আছে সবাই বসে বসে চাঁদ দেখতাম;চাঁদ কোথায়? এইটা চাঁদের মতো লাগতেছে না? এটা চাঁদ না, ওইটা চাঁদ;এই করে মাগরিব পর্যন্ত চলতো চাঁদ খোঁজা। তারপর বাসায় গিয়ে ইফতার করে আবার মাঠে চলে আসতাম;এখন দেখা যায় কিনা। অন্ধকার হয়ে গেলে আবার খুঁজতাম। এই চাঁদ দেখার আনন্দটা ছিল অসাধারণ;মানে আর রোজা থাকতে হবে না, চাঁদ দেখা গেছে, নতুন চাঁদ! মিররঃ  ঈদের দিনের কোনো বিশেষ খাবার ছিল কিনা আপনাদের? আবদুল হাই শিকদারঃ প্রচুর। আমাদের মা ছিলেন খুব অভিজাত পরিবারের মানুষ। মা নানান ধরনের ভ্যারাইটিজ রান্না করতেন; গুড়ের ক্ষীর, তারপর চিনি দিয়ে দুধ দিয়ে পায়েশ। আর আমাদের একটা প্রিয় খাবার ছিল গরুর ভুনা দিয়ে মুড়ি খাওয়া। মিরর: গরুর ভুনা দিয়ে মুড়ি খাওয়া? আবদুল হাই শিকদার: আমরা তো খুব শখ করে খেতাম। গরুর ভুনার মধ্যে একটু ঝোলঝোল থাকতো, ওটার মধ্যে মুড়ি মাখা;মজা করে খেতাম। তারপর গ্রামবাংলায় সকালবেলা এ বাড়ি-ও বাড়ি লেনদেন হতো;ওরা পায়েশ রান্না করে আমাদের বাড়িতে পাঠাল, আমরা আবার নিয়ে আরেক বাসায় দিয়ে আসলাম। এভাবে খুব আন্তরিক আর প্রাণবন্ত ঈদ উদযাপন করতাম। মিররঃ বর্তমান সময়ের সংস্কৃতির মধ্যে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন কিনা? আবদুল হাই শিকদারঃ লক্ষ্য তো করছি। এখন তো নানা রাজনীতিকরণ হয়েছে। যেমন গত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে বাংলাদেশ যেভাবে পর্যুদস্ত হয়েছে; রাষ্ট্র আর রাজনীতি যখন দূষিত হয়ে যায়, তখন তার ছাপ পড়ে জীবনের সর্বস্তরে, সংস্কৃতিতেও। আমরা বিজাতীয় বা অপসংস্কৃতিকে নিজের সংস্কৃতি মনে করে নিজেদের সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলাম; এরকম টানাপোড়েন চলছে। এখনো দেখবেন;এই যে মোদির জামা-কোট গায়ে দিয়ে ঘুরে বেড়ায় বাংলাদেশের ছেলেরা; দেখলে খারাপ লাগে। জানেও না যে কোটটা যেখানেই জন্ম হোক, এখন “মোদি কোট” নামে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ব্র্যান্ডেড। সবাই জেনে গেছে মোদির কোট। সেই কোট পরে আমাদের ছেলেপেলেরা ঘুরে বেড়ায়; এগুলো আগ্রাসনের এক একটা চিত্র। জীবনে আমরা ভাবতেই পারতাম না যে ডিজে পার্টি হয়, ব্যান্ড হয়, ফুর্তির জন্য। আমাদের ঈদের আনন্দ ছিল সকালবেলা দল বেঁধে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নতুন জামাকাপড়-জুতা পরে ঈদগায় যেতাম। আমার আব্বা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং এগ্রিকালচারিস্ট। অখণ্ড ভারতের ইতিহাসে আসাম থেকে যে দুই-তিনজন ছাত্র কৃষিতে গ্র্যাজুয়েশন করেছিল, তার একজন ছিলেন আমার বাবা। আব্বা হাই মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। ফারসি, আরবি, উর্দু, ইংরেজি, বাংলা;অনর্গল বলতে পারতেন। আরবি স্পিকিং জানতেন। আব্বা ঈদগায় গেলে ঈদের মূল খুতবার আগে বাংলায় ভাষণ দিতেন। এইটা শোনার জন্য গ্রামের মানুষ মুখিয়ে থাকতো। আব্বা যদি কোনো ঈদে বাড়ি আসতে না পারতেন, গ্রামজুড়ে হাহাকার পড়ে যেত;“উনি কোথায়?” এইসব বলতো। আমরা ঈদের নামাজ পড়তাম, আব্বা বক্তৃতা করতেন;আমরা খুব প্রাউড ফিল করতাম। আব্বা ফারসি-আরবি-উর্দু ও বাংলায় নানা কবিতার উদ্ধৃতি দিতেন;হাফিজের, শেখ সাদির; এগুলো দিয়ে বক্তৃতা করতেন। ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো, দৌড়াদৌড়ি, খেলা;নানান ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তাম। অনেক সময় দুপুরের খাবারের কথাও ভুলে যেতাম। মাঠে ছোটাছুটি করতাম। ঈদের সময় গ্রামগুলোতে মেলার মতো বসতো;দুই-তিন গ্রামের মাঝখানে। আমরা দল বেঁধে যেতাম। খুব ব্যস্ত সময় কাটতো। মিররঃ দুপুরে না খেয়ে বাসায় আসলে মা বকা দিত না? আবদুল হাই শিকদারঃ ঈদের দিন তো! কান ধরে টানতো;“খাওয়া বাদ দিয়ে বাইরে ঘুরছিস কেন? এত সুস্বাদু রান্না বান্না করেছি; খা!” আরেকটা জিনিস আমরা করতাম ছোটবেলায়। আমার আরেক বন্ধু ছিল;মাহমুদুল হাসান বুলবুল। আমরা দুই বন্ধুর নেতৃত্বে ভোরবেলা বেরিয়ে পড়তাম। আমাদের সাথে আরও ১০-১৫ জন ছেলে থাকতো। প্রত্যেক বাড়ি থেকে পায়েশ আর ক্ষীর জোগাড় করতাম। সবাই জানতো যে এই বাহিনী আসবে;ইয়াং বাহিনী। ক্ষীর-পায়েশ আমাদের হাঁড়ি ভরে যেত। মসজিদে রেখে আবার আরেক পাড়ায় যেতাম, সেখান থেকেও জোগাড় করে মসজিদে রাখতাম। ঈদের নামাজের পরে হুজুর সবার মধ্যে বিতরণ করে দিতেন। কলার পাতার মধ্যে বসে সবাই মজা করে খেত। এটা ছিল আমাদের তরুণদের একটা বড় কাজ;আমরা আনন্দ করে করতাম। আমার আব্বা খুব উৎসাহ দিতেন;ভালো কাজ তোমরা করতেছো। গরিব মানুষ অনেক সময় ঠিকমতো খেতে পারত না;দারিদ্র ছিল অসহনীয়। আব্বা দারুণভাবে সহযোগিতা করতেন। খাবার কম জুটলে আব্বা মাকে দিয়ে আলাদা রান্না করে মসজিদে পাঠাতেন। মিররঃ ইয়াং বাহিনীর কোনো বিশেষ নাম ছিল কিনা? আবদুল হাই শিকদারঃ আমরা কোনো নাম দিতাম না। সবাই বলতো; “বাচ্চু বাহিনী।” আমার ডাকনাম ছিল বাচ্চু;সবাই আদর করত বাচ্চু বাহিনীকে। মানুষ জানতো ছেলেগুলো ভালো;মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করে। কোরবানির সময়ও এই কাজ করতাম;বাড়ি বাড়ি থেকে মাংস কালেকশন করে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতাম। মিররঃ বর্তমানে ঈদে সাংস্কৃতিক দিকটা সরকারি মহল থেকে যেভাবে উপেক্ষিত থাকে; এ বিষয়ে মন্তব্য? আবদুল হাই শিকদারঃ ঈদ তো ঈদই। কিন্তু গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে ঈদকে করা হয়েছে রাজনীতিকরণ। ঈদের মাঠে খুতবার সময়ও দেখা যেত শেখ মুজিবের নাম চলে আসতো;ইসলাম প্রচারে শেখ মুজিবের অবদান; এমন অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা হতো। লোক দেখানো হয়ে গেছে বেশি। তারপরেও আমি মনে করি ঈদ তার সত্ত্বা হারায় নাই। কোথাও জানি আমাদের নিজস্বতা টিকে আছে। এর জন্য সাধারণ মানুষের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। মিররঃ তরুণদের জন্য সুস্থ সংস্কৃতির মাধ্যমে ঈদ উদযাপন নিয়ে কোনো বিশেষ বার্তা আছে? আবদুল হাই শিকদারঃ বিশেষ বার্তা হলো;আমি মনে করি, আমাদের প্রফেট, আমাদের রসূলের জীবনকে অনুসরণ করা;তিনি ঈদের দিন সকালবেলা কী করতেন, সারাদিন কী করতেন;সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই কাজগুলো করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ঈদ খালি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হওয়া বা ফুর্তি করা না;সোসাইটির সবাইকে নিয়ে উদযাপনের আবহ তৈরি করতে হবে। মিররঃ যেমনটি বলছিলেন;প্রতিবেশীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেন, এখন সে সংস্কৃতি অনেকটা বিলুপ্ত। সেটা আবার কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়? শহরের কালচার ভিন্ন;শহরে যারা ঈদ উদযাপন করে তারা পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে মিশে না। এটা কিভাবে ফেরানো যায়? আবদুল হাই শিকদারঃ এটা ফেরানোর প্রথম কথা হলো;আমার শৈশব কেটেছে ম্যাট্রিকুলেশন/এসএসসি পর্যন্ত পাকিস্তান আমলে। এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই যুদ্ধ লেগে গেল। তারপর আমরা আসলাম বাংলাদেশে;ডিফারেন্ট হয়ে গেল জিনিসগুলো। পাকিস্তান আমলে গ্রামবাংলায় মানুষের আন্তরিকতা ছিল অঢেল। মানুষ মানুষকে সত্যি আন্তরিকভাবে ভালোবাসতো। মুক্তিযুদ্ধের পরে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক ঝাঁজ ঢুকে গেল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ হুজুর, যারা আগে ওয়াজ করতেন, ঈদের নামাজ পড়াতেন;তাদের অনুপস্থিতি ফিল করতাম। এখন বাস্তব কারণেই মানুষ অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। আত্মকেন্দ্রিকতার প্রধান কারণ হলো রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়ায় না। রাষ্ট্র মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। আর ঈদের সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। পৃথিবীতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ;যেখানে ঈদের সময়, রোজার সময় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। এটা নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণ। পাকিস্তান আমলে আমি এটা কখনো দেখিনি। তখন জিনিসপত্রের দাম সহনীয় থাকতো। অনেক দোকানদার সেল দিত;যেমন ১০ টাকার জিনিস ৮ বা ৭ টাকায় দিত। চাল-ডাল-নুন-চিনি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে থাকতো। বাংলাদেশ হওয়ার পরে অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে যুক্ত হলো রাজনীতিবিদরা, রাজনীতিবিদদের সাথে যুক্ত হলো সামাজিক দুর্বৃত্তরা। এই অসাধু চক্র মানুষের ধর্মকে কেন্দ্র করে ধর্ম পালনের জায়গাটাকে সংকুচিত করে এবং ধর্মকে সামনে রেখে লোভের লালসায় সমাজকে দূষিত করে। এই জায়গাগুলোকে এড্রেস করতে হবে। সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক জীবন ফিরে আসলে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে, দ্রব্যমূল্য সহনীয় থাকলে;আস্তে আস্তে আমরা আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারব। মিররঃ বর্তমানে এই প্রজন্ম চাঁদ রাতে ককটেল, বাজি ইত্যাদি ফোঁটায়, আপনাদ সময় এগুলো ছিল না। এ নিয়ে ছোট্ট বার্তা? আবদুল হাই শিকদারঃ আমি ছোটখাটো বাজি ফোটানোকে অপরাধ হিসেবে দেখি না। ফেস্টিভালের একটা চেহারা দিতে হবে। এখন ধরেন বদরের যুদ্ধ হয়েছিল;সে যুদ্ধের অস্ত্র দিয়ে আজ আমেরিকার মোকাবেলা সম্ভব? না। তাহলে বদরের যুদ্ধ থেকে নিতে হবে শিক্ষা;স্পিরিট। সেই স্পিরিট নিয়ে এগোতে হবে। তারপর এটাকে মোকাবেলা করার মতো আধুনিকায়ন করা;বিজ্ঞানভিত্তিক জীবন, প্রযুক্তিকে সম্মান জানানো। তখন হয়তো আমরা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে যাব। আর বাজি ফোটানো বা আতশবাজি যদি পাবলিক নুইসেন্স ক্রিয়েট না করে, জনজীবন ব্যাহত না করে;ইয়াং ছেলেরা ফুর্তি করার জন্য করে;এটা বাধা দেওয়াটা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক মনে করি না। ইয়াংরা যদি ফুর্তি করতে না পারে, যাবে কোথায়? আমরা শবে বরাতে আগে তারাবাতি জ্বালাতাম, মজা করতাম। শিশুদের এই মজা থেকে বঞ্চিত করছে সমাজ। এক শ্রেণির কুপমণ্ডক হুজুর;সবাই না;এক শ্রেণির অন্ধ মাওলানা এগুলোর বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বলে। আগে শবে বরাতে সারারাত রান্না করে বাড়ি বাড়ি রুটি বিতরণ হতো, হালুয়া বিতরণ;এগুলো সামাজিক আনন্দের অংশ ছিল। সারারাত মসজিদে নামাজ পড়তাম। এটাকে এখন নানা অজুহাতে ব্যাহত করা হয়েছে। ভারতে যখন ইসলাম ঢুকলো, সুফি সাধকরা এসে দেখল এখানে নানা উৎসব;১২ মাসে ১৩ উৎসব। লোকদেরকে ফিরাতে হলে ফেস্টিভাল দিতে হবে, উৎসব দিতে হবে। আমাদের ছিল দুই ঈদ;তাছাড়া সারা বছরে আর কিছু নাই। তখনকার বিচক্ষণ ইসলামী দার্শনিক/ধর্ম প্রচারকরা এর সাথে যুক্ত করলেন মহররম, শবে বরাত, শবে কদর;ফেস্টিভালের চেহারা দিলেন। ধর্ম থাকলোই। কিন্তু সমাজের সবাইকে নিয়ে ইনজয় করার আবহ তৈরি হলো;বাড়ি বাড়ি রুটি বিতরণ। শবে বরাত নিয়ে নজরুলের কবিতা আছে, গোলাম মোস্তফার বিখ্যাত কবিতা আছে;এসব আমাদের পাঠ্য ছিল। এগুলো সামাজিকভাবে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত না করলে অপরাধটা কোথায়?   মিররঃ এই বয়সে এসে শহুরে ঈদ কিভাবে উদযাপন করেন? আবদুল হাই শিকদারঃ এখন তো আর সেই দিল্লিও নেই, সেই আগ্রাও নাই। এখনকার ঈদ বয়স্ক লোকদের ঈদ;সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে জামাকাপড় পরে নামাজ পড়তে যাওয়া, তারপর এসে ঘুম। আত্মীয়স্বজন এলে তাদের সাথে আড্ডা, বন্ধুবান্ধব এলে আড্ডা। আমাদের এখন আর ওই জৌলুশটা থাকে না। কিন্তু শিশুরা যখন আনন্দ করে তখন ভালো লাগে। আমি খুব আগ্রহ করে শিশুদের সালামির ব্যবস্থা করি। বিশেষ করে এক্সট্রা-অর্ডিনারি খাম রাখি;খামের মধ্যে কিছু টাকা (৫০০, ১০০০, বা ১০০/২০০);ব্যাংক থেকে চকচকা নোট এনে খামে ভরে গিফট করলে বাচ্চারা মহাখুশি হয়। একটা উদাহরণ দিই;আব্বা বলতেন, যে শিশুরা সত্য কথা বলে, সৎপথে চলে, নামাজ পড়ে, ঈদগাহে যায়, জুম্মার নামাজ পড়ে;আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন এবং তাদের জন্য উপহার পাঠান। কী উপহার? অন্য উপহার তো আছেই;পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হবে, খেলতে ভালো পারবে;সব আছে। কিন্তু আরেকটা জিনিস;মাঝে মাঝে রহমতের ফেরেশতা দিয়ে আল্লাহ লজেন্স-চকলেট এসব বাড়িতে বাড়িতে দিয়ে যায়, আর যারা ভালো ছেলে তাদের বালিশের নিচে অনেক সময় থাকে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার ছোটটা চিৎকার শুরু করল;“আব্বা আব্বা, আমাদের বাড়িতে রহমতের ফেরেশতা আসছিল!” কী হয়েছে? “আমার বালিশের নিচে অনেকগুলো চকলেট!” তখন আব্বা বললেন;“দেখছো, তুমি কালকে নিয়ত করছিলা না;আজকে জুম্মার নামাজে আমার সাথে যাবে;আল্লাহ খুশি হয়ে এটা পাঠিয়ে দিয়েছে।” মিররঃ আপনার ছোট ভাইয়ের উদাহরণ দিলেন; বাহ বাহ!। আবদুল হাই শিকদারঃ হ্যাঁ, আব্বা আমাদের ভাই-বোনদেরকে উৎসাহিত করার জন্য এই কাজ করতেন। আমরা অবাক হয়ে ভাবতাম ফেরেশতা চকলেট দিয়ে গেছে। চকলেট ভালোবাসতাম। আব্বা কিনে এনে বালিশের নিচে রেখে দিতেন;রূপকথার মতো সাজিয়ে দিতেন;আর আমরা খুশির ঠেলায় মসজিদে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যেতাম। রাতে বলতাম;“আল্লাহর কাছে আজ কী চাইবো;সকালবেলা যদি এরকম পাই কেমন হয়!” সকালে উঠে চকলেট পেতাম। মিরর: অনেক বেশি ধন্যবাদ স্যার, ক্যাম্পাস মিররকে সময় দেওয়ার জন্য। আবারও ঈদের শুভেচ্ছা। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আবদুল হাই শিকদারঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম।    

বন্ধ আল আকসা, সড়কে ঈদের জামাত!

  1. অনলাইন ডেস্ক:
পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ঈদের দিনে মসজিদুল আকসা বন্ধ করে রাখে ইসরাইল। ফলে শত শত মুসল্লিকে মসজিদের ফটক ও আশপাশের সড়কে নামাজ আদায় করতে হয়েছে। ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ছয় দশকের মধ্যে এই প্রথম ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ হয়নি। গার্ডিয়ানের সংবাদে এসেছে, ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ঈদুল ফিতরের দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মসজিদ চত্বরটি বন্ধ রাখায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিরা বন্ধ করে দেওয়া ওই স্থাপনার যতটা সম্ভব কাছে জড়ো হন। ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আল-আকসার খতিব ও জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরি একটি ধর্মীয় নির্দেশনা জারি করেন। তিনি মুসলিমদের মসজিদের নিকটতম স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসল্লিরা শুক্রবার নামাজ পড়তে আসলে তাদেরকে বাধা দিতে সেখানে টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয় এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালানো হয়। ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এর আগ থেকেই আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।  

ঈদের গান, নজরুলের দর্শন ও কিশোর হৃদয়ের জাগরণ

ঈদের গান, নজরুলের দর্শন ও কিশোর হৃদয়ের জাগরণ ইফতেখার রবিন   কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তিনি কেবল একজন কবি নন—তিনি বিদ্রোহের দ্রষ্টা, প্রেমের সাধক, মানবতার দূত এবং সাম্যের অগ্রদূত। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে শোষিত মানুষের আর্তনাদ, আবার সেই কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে প্রেম, ভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বমানবতার মহাসংগীত। একদিকে তিনি বজ্রকণ্ঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন, অন্যদিকে কোমল হৃদয়ে রচনা করেছেন প্রেম ও ভক্তির গান। এই দ্বৈত সত্তার সম্মিলনে নজরুল হয়ে উঠেছেন বাংলা সাহিত্যের এক অনতিক্রম্য মহীরুহ। নজরুলের সাহিত্যচিন্তা কেবল আবেগের প্রকাশ নয়; এটি একটি গভীর দার্শনিক বোধের ফসল। তাঁর লেখায় যেমন রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিবাদ, তেমনি রয়েছে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান, মানবিক সাম্য এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির সুগভীর চেতনা। তিনি বিশ্বাস করতেন—মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ধর্ম, বর্ণ বা জাতিতে নয়; মানুষের আসল পরিচয় নিহিত তার মানবিকতায়। এই দর্শনকে ধারণ করেই তিনি লিখেছেন সাম্যের গান, ভাঙনের গান, জাগরণের গান। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে নজরুলের কণ্ঠস্বর নতুন তাৎপর্য নিয়ে ফিরে আসে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক কিশোর-যুব আন্দোলন—প্রতিটি পর্যায়েই নজরুল হয়ে উঠেছেন প্রতিবাদের ভাষা ও মুক্তির প্রতীক। কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। ১৯৭২ সালের ২৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে ভারত থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। তবে ইতিহাস বলছে, তিনি সর্বপ্রথম জাতীয় কবির স্বীকৃতি পান ১৯২৯ সালে, যখন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু তাঁকে অবিভক্ত ভারতের জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পূর্ববাংলার মানুষের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা না থাকায় সেই স্বীকৃতি বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। অপরদিকে, মুসলিম পরিচয়ের কারণে স্বাধীন ভারতে নজরুল দীর্ঘকাল অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হন। তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা তো দেওয়া হয়নি, বরং ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সম্মানও প্রদর্শিত হয়নি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর জাতি নতুন করে নজরুলকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ পায়। তাঁকে বাংলাদেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। তিনি হয়ে ওঠেন চিরদিনের জন্য আমাদের—এই ভূখণ্ডের, এই মানুষের, এই সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে নজরুলের জীবন, দর্শন ও সাহিত্যকে যেভাবে গভীরভাবে ধারণ করা প্রয়োজন ছিল, তা আমরা করতে পারিনি। নানা সীমাবদ্ধতা ও অবহেলার কারণে তিনি অনেকাংশেই উপেক্ষিত থেকে গেছেন। তবে ইতিহাস নতুন মোড় নেয় ৩৬ জুলাইয়ের কিশোর ও যুব বিপ্লবে। এই বিপ্লব কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি ছিল চেতনার নবজাগরণ, আত্মমর্যাদার পুনরুদ্ধার এবং প্রকৃত স্বাধীনতার পুনঃসংজ্ঞায়ন। কিশোর ও তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত এই আন্দোলন বাংলাদেশকে উপহার দেয় এক নতুন পরিচয়—“নতুন বাংলাদেশ”। এই নতুন বাংলাদেশের দাবিতে সরকার নতুন করে গেজেট প্রকাশ করে নজরুলকে “নতুন বাংলাদেশের জাতীয় কবি” হিসেবে পুনঃঘোষণা দেয়। এটি ছিল ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক সংশোধন। নজরুল শিশু-কিশোরদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানতেন—আজকের কিশোররাই আগামী দিনের সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার নির্মাতা। তাই তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য রচনা করেছেন অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প, গান ও নাটিকা। তাঁর লেখায় কিশোররা খুঁজে পায় সাহস, আত্মবিশ্বাস, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণা। জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি মুহূর্তে কিশোররা নজরুলের কবিতা ও গানকে হাতিয়ার করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তাঁর ঈদসংগীত— “ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি তাগিদ।” এই গান কেবল ঈদের আনন্দের আহ্বান নয়; এটি ইসলামের মানবিক দর্শনের এক গভীর ব্যাখ্যা। এখানে ‘আপনাকে বিলিয়ে দেওয়া’ মানে আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা, দান, ভালোবাসা ও সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া। ঈদ মানে শুধু খুশি নয়; ঈদ মানে সমাজে বন্ধুত্ব স্থাপন করা, গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো, ইয়াতিম ও মিসকিনের মুখে হাসি ফোটানো। নজরুল স্মরণ করিয়ে দেন—এই নির্দেশ মানুষের বানানো নয়; এটি “আসমানি তাগিদ”, অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ। তিনি বলেন— “যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী, সেই গরীব ইয়াতীম মিসকিন দে যা কিছু মুফিদ।” এই পঙক্তিতে ইসলামের সামাজিক ন্যায়বোধ ও মানবকল্যাণের দর্শন অনন্যভাবে প্রকাশ পেয়েছে। নজরুল কিশোরদের সামনে তুলে ধরেছেন মুসলিম সভ্যতার গৌরবময় ইতিহাস। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—জ্ঞান-বিজ্ঞান, গণিত, দর্শন, চিকিৎসা ও শিল্পকলায় মুসলমানদের অবদান একসময় বিশ্বসভ্যতার অগ্রদূত ছিল। অথচ আজ নানা কারণে মুসলমানরা সেই ঐতিহ্য বিস্মৃত হয়েছে। নজরুল এই অবস্থাকে আক্ষেপের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন—“মুর্দা মুসলমান” বলে। তবে তিনি আশাবাদী—আজকের কিশোররাই আবার সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবে। তাই তিনি আহ্বান জানান— “আজ ভাঙাইতে নিঁদ”—অর্থাৎ অলসতা ও আত্মবিস্মৃতি ভেঙে জাগ্রত হওয়ার ডাক। ঈদের নামাজ প্রসঙ্গে নজরুল ইতিহাসের এক গভীর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন—
“আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে, যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।”
এখানে ঈদগাহ কেবল নামাজের স্থান নয়; এটি আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও শহীদের রক্তে রঞ্জিত ইতিহাসের প্রতীক। এই স্মরণ কিশোরদের মধ্যে আত্মপরিচয় ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। নজরুলের মানবতাবাদী দর্শনের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটেছে তাঁর সম্প্রীতির আহ্বানে— “আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে, তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।” এখানে তিনি ধর্মীয় সংকীর্ণতা, জাতিগত বিভেদ ও শত্রুতার ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বমানবতার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেম ও ভালোবাসার শক্তিতে বিশ্বজয়ের এই দর্শনই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা। আরও গভীর তাৎপর্য বহন করে তাঁর এই পঙক্তি—
“ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে শিরনি তৌহিদের, তোর দাওয়াত কবুল করবেন হজরত হয় মনে উম্মীদ।”
এখানে হৃদয়কে পবিত্র থালা হিসেবে কল্পনা করে তৌহিদের শিরনি নিবেদনের কথা বলা হয়েছে—যা আধ্যাত্মিকতা, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার এক অপূর্ব রূপক। সবচেয়ে বিস্ময়কর মানবিক দর্শন প্রকাশ পায় এই আহ্বানে—

“তোদের মারল’ ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইট পাথর যারা,

সেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ।”

অর্থাৎ যারা আমাদের আঘাত করে, কষ্ট দেয়, অবমাননা করে—তাদের দেওয়া ইট-পাথর দিয়েই গড়ে তুলতে হবে ভালোবাসার মসজিদ। প্রতিশোধ নয়, প্রতিরোধ নয়—ক্ষমা, সহমর্মিতা ও প্রেমের মধ্য দিয়েই সমাজ বদলের এই দর্শন নজরুলকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একটি নাম নয়—তিনি একটি চেতনা, একটি আন্দোলন, একটি অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাঁর সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে শৃঙ্খল ভাঙতে হয়, কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয় এবং কীভাবে ভালোবাসার শক্তিতে সমাজকে রূপান্তরিত করতে হয়। তাঁর দর্শনে বিদ্রোহ ও প্রেম পরস্পরের বিরোধী নয়—বরং একে অন্যের পরিপূরক। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নজরুল আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। যখন বিশ্বজুড়ে হিংসা, বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা ও বিভেদের রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তখন নজরুল আমাদের শেখান—ভালোবাসাই চূড়ান্ত শক্তি। তিনি কিশোরদের হাতে তুলে দেন সম্প্রীতির পতাকা, বন্ধুত্বের আহ্বান এবং আত্মত্যাগের মহিমা। তাঁর ঈদসংগীত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—উৎসব তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা অন্যের মুখে হাসি ফোটায়, দুঃখীর কষ্ট লাঘব করে এবং সমাজে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। অতএব, নজরুলকে কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তাঁকে জীবনের ভেতর ধারণ করতে হবে। তাঁর গান, কবিতা ও দর্শনকে ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন ও রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রে স্থাপন করলেই গড়ে উঠবে সত্যিকারের মানবিক বাংলাদেশ। তখনই নজরুল হয়ে উঠবেন কেবল আমাদের জাতীয় কবি নন—আমাদের নৈতিক দিশারি, আমাদের আত্মিক আলোকবর্তিকা। নজরুলের ভাষায়—

“মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।”

এই বাণী ধারণ করেই এগিয়ে যাক নতুন বাংলাদেশের যাত্রা।

লেখক পরিচিতি: কবি ও শিক্ষার্থী ,বাংলা বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ধানমন্ডি ঢাকা।

উত্তর কোরিয়ায় ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত কিম জং-উন

অনলাইন ডেস্ক:

উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে আবারও নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং-উন।

১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া এবং মিত্র দলগুলো ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে। তবে এই বিপুল জয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে বাকি ০.০৭ শতাংশ ভোট, যা ছিল সরকারি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দেওয়া ‘না’ ভোট।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, নির্বাচনে কোনো বিরোধী প্রার্থী ছিল না। প্রতিটি আসনে ভোটারদের সামনে একজন অনুমোদিত প্রার্থীই ছিলেন, যাঁকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে এই ‘না’ ভোট কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পক্ষে নয়, বরং সরকারি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অসন্তোষের প্রকাশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫৭ সালের পর এই প্রথম দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নির্বাচনে ‘না’ ভোট পড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। নির্বাচনে শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী ও সামরিক প্রতিনিধিসহ মোট ৬৮৭ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তাঁর বাবা কিম জং-ইল–এর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন কিম জং-উন। পরে ২০১৯ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তাঁর ক্ষমতা আরও সুসংহত করা হয়। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে সামরিক ও সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন।

৬০ কি.মি বেগে ৪ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস: আবহাওয়া অধিদপ্তর

অনলাইন প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়– মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১টার মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, যশোর ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ ভিসি পরিবর্তন ‘শিষ্টাচার পরিপন্থী’: ইউটিএল

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ ভিসি পরিবর্তন ‘শিষ্টাচার পরিপন্থী’: ইউটিএল ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের (ভিসি) আকস্মিক পরিবর্তনকে ‘অত্যন্ত বিরল, শিষ্টাচার পরিপন্থী ও অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। সংগঠনটির মতে, কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইউটিএলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যোবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের হঠাৎ করে অপসারণ ও নতুন নিয়োগের ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক। কেন এবং কী প্রেক্ষাপটে রাতারাতি বর্তমান উপাচার্যদের নিয়োগ বাতিল করা হলো, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপকে তারা অস্বাভাবিক এবং শিষ্টাচারবিরোধী বলে উল্লেখ করেন। ইউটিএল নেতারা বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে যোগ্য অধ্যাপকদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো পূর্ব আলোচনা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রথমে ঘোষণা এবং পরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের অপসারণ করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রশাসনিক রীতির পরিপন্থী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উপাচার্যের পদ একজন শিক্ষকের পেশাজীবনের সর্বোচ্চ সম্মান। যথাযথ প্রক্রিয়া ও সৌজন্যতা উপেক্ষা করে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নতুন নিয়োগ প্রদান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরায়ত শিষ্টাচারের লঙ্ঘন। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের আওতার বাইরের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্যরা সাধারণত চার বছরের জন্য চ্যান্সেলরের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এ সময়ে তারা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে থাকেন। হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে এসব পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউটিএল আরও জানায়, উপাচার্য নিয়োগ ও পরিবর্তন সরকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক দায়িত্ব হলেও এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম, শালীনতা ও একাডেমিক সংস্কৃতি বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলে, একতরফাভাবে উপাচার্যসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদে অব্যাহতি বা নিয়োগ দেওয়া হলে তা উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রা ব্যাহত করবে এবং একাডেমিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ঈদুল ফিতরের দিনে বন্ধ থাকবে আল আকসা মসজিদ

ঈদুল ফিতরের দিনে বন্ধ থাকবে আল আকসা মসজিদ আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুসলিমদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং তার পরবর্তী সময়েও আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ইসলামিক ওয়াকফকে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’র অজুহাতে মসজিদটি বন্ধ করে দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রমজান মাসে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। তাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে। ১৯৬৭ সালের পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর প্রথমবারের মতো রমজানে ফিলিস্তিনিরা এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেনি। গত সপ্তাহে কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এ পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানায় এবং অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তবে এখনো মসজিদটি বন্ধ রয়েছে; জুমা ও তারাবির নামাজ বন্ধ থাকায় মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি শিফটে সর্বোচ্চ ২৫ জন ওয়াকফ কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত কর্মী প্রবেশের আবেদনও নাকচ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি মসজিদের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ওয়াকফ কর্মকর্তারা। আল-আকসা বন্ধের পাশাপাশি জেরুজালেমের পুরনো শহর এলাকায় কার্যত লকডাউন জারি করা হয়েছে। শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবেশের অনুমতি থাকায় এলাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে শহরের বাইরের অংশে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করে মসজিদমুখী পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে অনেক মুসল্লি রাস্তায় নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন। ইসলামিক ওয়াকফ কাউন্সিলের সদস্য ড. মুস্তাফা আবু সুয়াই বলেন, এভাবে পুরো পুরনো শহর বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকলে মসজিদের ভেতরের নিচতলায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যেত। অন্যদিকে, ওয়াকফের আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাজবাজ সতর্ক করে বলেন, এই ‘অস্থায়ী’ নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে স্থায়ী রূপ নিতে পারে—যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। দশকের পর দশক ধরে আল-আকসা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘স্ট্যাটাস কো’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে, যেখানে এটি সম্পূর্ণ মুসলিমদের উপাসনালয় হিসেবে বিবেচিত এবং এর প্রশাসন ইসলামিক ওয়াকফের হাতে রয়েছে। তবে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে মুসলমানদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে ক্ষয় করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, দখলকৃত অঞ্চলে স্থায়ী পরিবর্তন আনা বৈধ নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।