আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রতিটি ঘরে ঘরে যেয়ে এনসিপির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে পাড়ায় পাড়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ তৈরি করুন। সরকার ব্যর্থ হলে জনতার আদালতে আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিজমের বিচার করা হবে।

শুক্রবার (২ মে) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। নাহিদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের নয় মাস পরেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে, এটা আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা বলে মনে করি। তিনি বলেন, নৌকা মার্কাকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। বিচার চলাকালীন সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে জুলাই ঘোষণাপত্র এখনো আসছে না।

জাতীয় নাগরিক পার্টি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের আহ্বান: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলার দাবি

এ দেশের মানুষ অধিকার আদায়ে অসংখ্যবার রাজপথে নেমেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিচার এবং সংস্কারের জন্যই মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। সাতচল্লিশের আজাদিদের স্বপ্ন লুট হয়েছিল, যার কারণেই মানুষ একাত্তর সালে অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। কিন্তু বাহাত্তর সালে মুজিবাবাদীদের হাতে সেটা বেহাত হয়েছিল। মুজিববাদী সংবিধানের নামে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। গণতন্ত্রের নামে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই সনদ তৈরি করতে হবে। তাতে সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কথা থাকতে হবে। নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে। ঢাকা একদিন এই দক্ষিণ এশিয়াকে নেতৃত্ব দেবে।

আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলুন: আখতার

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি দলটির তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের এই আহ্বান জানান। আখতার বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলুন। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ প্রশ্নের মীমাংসা করে ছাড়বে। যত দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ প্রশ্নের সমাধান না হয়, তত দিন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের সদস্যরা কাজ করবেন।

সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের ‘থাকা’র অর্থ

আধুনিক অন্তলোজি মূলত সত্তার স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করে। মার্টিন হাইডেগার (১৮৮৯-১৯৭৬), ইমানুয়েল কান্ট (১৭২৪- ১৮০৪) জঁ-পল সার্ত্র (১৯০৫-১৯৮০) প্রমুখ মহারথী প্রশ্ন করেছেন : অস্তিত্ব (existence) আসলে কী? ‘আমি আছি’ (Dasein) মানে কী? এখানে সত্তাকে (ইবরহম) প্রথাগতভাবে অবজেক্ট হিসেবে না দেখে, সচেতনতা ও উপলব্ধি (awareness and perception) দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে, অস্তিত্ব কেবল একটি অবজেক্ট বা বস্তু নয়, বরং তা সচেতনতা, উপলব্ধিও বটে। মূলত তা আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও উদ্দেশ্যসম্পন্ন বাস্তবতা। অস্তিত্বকে আমরা শুধু একটি ভৌত বা বস্তুগত বাস্তবতা হিসেবে দেখি না, বরং তা আল্লাহর মাকদূর (পরিকল্পনা) ও ইচ্ছার বাস্তবায়ন। এটি মানবজীবনের আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোনো কিছুই নিছক অবজেক্ট নয়। প্রতিটি সৃষ্টি আল্লাহর পরিচয়, মহিমা এবং পূর্ণতা প্রকাশ করে। এটি একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, যেখানে মানুষ তার বাস্তবতা এবং সৃষ্টির সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুসরণের চেষ্টা করবে।

ইসলামী ও আধুনিক অন্তলোজির আলোকে ‘আমি আছি’ অর্থ, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক, দায়িত্ব ও অস্তিত্বের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিশ্লেষণ
Courage man jump through the gap between hill ,Business concept idea

এই অস্তিত্বতত্ত্বে (ক) সৃষ্ট জগত (মাখলুকাত ) ও সৃষ্টিকর্তা (খালিক) আলাদা।

(খ) সৃষ্টির অস্তিত্ব স্রষ্টার ইচ্ছা ও কুন (আদেশ, হও) এর ভিত্তিতে সূচিত।

(গ) ‘সত্য সত্তা’ (আল ওজুদুল হক) একমাত্র আল্লাহ।

তার মানে অস্তিত্ব অধ্যয়নে পশ্চিমা দর্শনের আওয়াজের সাথে ইসলামের কণ্ঠস্বর মিলছে না। ভিন্নতা পরিষ্কার। কিন্তু এখানে কি এই দূরত্ব অতিক্রমের সম্ভাবনাসূত্র নেই? তা আছে বটে?

সমন্বয়ের জন্য কয়েকটি সম্ভাবনা সূত্র : বিষয়, আধুনিক অন্তলোজি, ইসলামী অন্তলোজি, সমন্বয়ের দিক, সত্তার উৎস, অবিরাম অনুসন্ধান, নির্দিষ্ট উৎসহীনতা, আল্লাহই একমাত্র পরম সত্তা, অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা ও নির্ভরতাকে ব্যাখ্যা, মানুষের ভূমিকা, অস্তিত্বের জিজ্ঞাসু, সন্ধানী, প্রশ্নমুখর। (Being-in-the-world) ইবাদত ও প্রতিনিধিত্বকারী, খলিফা।

মানবসত্তার তাৎপর্য ব্যাখ্যায় সেতুবন্ধন : জগতের সত্তা, আপেক্ষিক ও অবস্থানভিত্তিক, সৃষ্ট ও উদ্দেশ্যনির্ভর, সৃষ্টি ও উপলব্ধির সংযোগ, সময় (Time), অস্তিত্বের ভেতর সময়-সম্পৃক্ততা। সময় হলো আল্লাহর সৃষ্ট ও পরীক্ষা, সময়ের ধারণাকে রূপান্তরিত করা।

আধুনিক অন্তলোজি প্রশ্ন করে : ‘আমি কে?’

ইসলামী অন্তলোজি জবাব দেয় : ‘তুমি আল্লাহর সৃষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন সত্তা, আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।’

এই প্রশ্ন ও উত্তরকে গভীরভাবে সংলাপে বসানো জরুরি। এর ভেতরে রয়েছে সমন্বয়ের আসল পথ। ইসলাম অস্তিত্ব বা উজুদকে দেখে আল্লাহর গুণ ও সৃষ্টি হিসেবে। ইসলামী দর্শন বলে, উজুদে হাকিকী বা আসল অস্তিত্ব (True Existence) কেবল আল্লাহর।

আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা। (সূরা জুমার, ৩৯:৬২) অর্থাৎ, যেকোনো অস্তিত্ব আল্লাহর সৃষ্টি। তাহলে বাকি সব অস্তিত্বের স্বরূপ কী? বস্তুত নিজস্ব ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অস্তিত্ব একমাত্র আল্লাহর বাকি সব অস্তিত্ব ‘উপস্থিত’ (dependent) এবং ‘ধার করা’ (borrowed)। তার মানে হলো, অস্তিত্বকে আমরা দুই ভাগে ব্যাখ্যা করতে পারি। এক. ওয়াজিবুল ওজুদ বা আবশ্যকীয় অস্তিত্ব (আল্লাহ ছাড়া কারো অস্তিত্ব আবশ্যক নয়।) দুই. মুমকিনুল ওজুদ বা সম্ভব অস্তিত্ব (এর মধ্যে আছে সব সৃষ্টবস্তু। যাদের অস্তিত্ব আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল)।

ইসলামের বিচারে অস্তিত্ব মানে কেবল বস্তু নয়, অর্থও। কোনো বস্তুর টিকে থাকাটাই অস্তিত্ব নয়। বরং তার উদ্দেশ্য (Purpose), সত্যতা (Truthfulness) এবং সম্পর্ক (Relationship) ও অস্তিত্বের সাথে যুক্ত। ফলে আমরা আমাদের উদ্দেশ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে থাকলেই অস্তিত্ব সার্থকতা পায় না। আমাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত করা। আমার অস্তিত্বকে অর্থবহ করার জন্য আমাকে তা করতে হবে। সময়, স্থান, আত্মা, নৈতিকতা সবই আমার অস্তিত্বের অংশ। আমি এসব কিছু থেকে নিরপেক্ষ নই। ফলে এখানে আমার দায় ও করণীয়ের বিরাট শৃঙ্খলা রয়েছে। সময়ের জন্য আমি জিজ্ঞাসিত হবো, আত্মার পবিত্রতা না থাকলে আমি বিফল হবো, নৈতিকতা হারালে আমি টিকে থাকলেও অর্থ হারাব। তাহলে দেখা যাচ্ছে অস্তিত্বের দুই রূপ। এক. সত্তাগত অস্তিত্ব বা জাতি ওজুদ (Ontological Existence ), যা বস্তু ও আত্মার নিজস্ব অস্তিত্ব। দুই. উপলব্ধিজাত অস্তিত্ব বা মাফহুমী ওজুদ (Experiential Existence) যা অনুভূতি, মানসিকতা, আধ্যাত্মিক উপলব্ধির অস্তিত্ব।

আমার প্রথম রূপটিই আমাকে অর্থবহ করে না। দীপ্ত, তৃপ্ত ও মহিমান্বিত করে না। সে জন্য আমার দ্বিতীয় রূপটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শুধু আয়নায় সুন্দর ছবি দেখে আমি নিজেকে পড়তে পারি না। শুধু চিন্তায় নিজেকে অনুভব ও ব্যাখ্যা করে আমি নিজেকে পুরোপুরি পাই না। আমাকে আমার পেতে হয় হৃদয় দিয়ে। হৃদয় দিয়ে নিজেকে ধরতে না পারা আমি আয়নার কাছে খুব সুন্দর হওয়ার পরেও কান্না করি। নিজেকে পাচ্ছি না বলে।

আমি জানি, আমার অস্তিত্ব ক্ষণস্থায়ী : ‘পৃথিবীর সব কিছুই ধ্বংস হবে’ (সূরা রহমান ৫৫:২৬)। আমি নিজেকে নিজস্ব আয়োজনে এখানে নিয়ে আসিনি। আমার অস্তিত্বের আসল কারণ আমি নই। আমার রবের ইরাদা (ইচ্ছা) ও কুদরত (সামর্থ্য, শক্তি) আমাকে অস্তিত্বে এনেছে। অতএব আমার অস্তিত্বের মাপকাঠি আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত। অস্তিত্বের মানে কেবল থাকা নয়, বরং সঠিকভাবে থাকা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে। সেভাবে থাকলে আমি থাকি।

আমার এই থাকা Martin Heidegger এর Dasein নয়, যার মানে Being-there- ‘থাকা’, ‘উপস্থিত থাকা’ বা সচেতন অস্তিত্ব। এটা কেবল সেই অস্তিত্ব নয়, যার বড় কাজ নিজের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা করতে পারা। এটা কেবল ততটুকু নয় যে, সে জানবে সে আছে এবং তার অস্তিত্ব শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। আমার অস্তিত্ব অন্য ও ভিন্ন। আমি আছি মানে আছি তো বটেই। তবে আল্লাহর ইরাদা (ইচ্ছা) ও কুদরতের সাথে লগ্ন হয়ে আছি। আমি নিজেকে চিন্তা করি তো বটেই। তবে ভুলে যাই না ‘আমি থাকা’ (existence) এর মানে হলো এক দান বা নিয়ামাহ (মরভঃ) এবং এক দায়িত্ব বা তাকলিফ, জিম্মাদারি (responsibility)।

অতএব ‘আমি আছি’ মানে হলো আমি এক পরীক্ষা বা ইবতেলায় আছি। আছি এক উদ্দেশ্যপূরণকারী প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে। ফলে ‘আমি আছি’ মানে শুধু বেঁচে আছি, এতটুকুই নয়, আমার বাঁচার মানে হলো আল্লাহর প্রতিনিধি হয়ে বেঁচে থাকা। এই প্রতিনিধিত্ব এক পরিণতির দিকে আমাকে নিয়ে যায়। আমার দায়িত্ব, কর্তব্য ও উদ্দেশ্য পূরণের সাথে যা যুক্ত। ফলে সচেতনভাবে, প্রতিটি চিন্তা, অভিব্যক্তি ও আচরণ দিয়ে পরিণতির দিকে যাচ্ছি। অতএব ‘আমি আছি’ মানে হলো সচেতনভাবে নিজের পরিণতি নিয়েও ভাবা।

Science symbols and glass container illustration

Heidegger-Gi Dasein যেমন মৃত্যুর দিকে তাকিয়ে তার অস্তিত্বকে বোঝে, ইসলামী দর্শনও জীবনের মধ্যে মরণের অমোঘ আসন্নতাকে দেখে, এর ফলে চূড়ান্ত ফলাফলকে দেখে। কুরআনের ঘোষণা প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে’ (সূরা আলে ইমরান ৩:১৮৫)। এর মধ্য দিয়ে ইসলাম বলে, ‘আমি আছি’, ‘আমি আল্লাহর দিকে ফিরে যাবো’র চেতনার মধ্যেও আছি। হাইডেগার -এর Dasein অস্তিত্বকে নিজের মতো করে উপলব্ধি করে, ইসলামে ওজুদতত্ত্ব আমাদের অস্তিত্বকে আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে দেখায় এবং আল্লাহর হেদায়েতের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করে। হাইডেগার জানান, মৃত্যুর দিকে এগোনো অনিবার্য। তারপর কী? তার আর পর স্পষ্ট নয়। কিন্তু ইসলাম বলে, মৃত্যু অবধারিত। তারপর আছে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি। হাইডেগার-এর Dasein নিজের উদ্দেশ্য নিজে খুঁজে নেয়, কিন্তু ইসলামের ওজুদতত্ত্ব আল্লাহর নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুসরণ করে। হাইডেগার-এর Dasein সময়ের মধ্যে অস্তিত্ব বোঝে, ইসলামী দর্শনের ওজুদ কেবল সময়ের মধ্যে নয়, চিরস্থায়ী জীবনের মধ্যেও অস্তিত্বকে দেখে, তার জন্যও অস্তিত্বকে প্রস্তুত করে।

বিচ্ছিন্ন ও একাকী সত্তা : কিন্তু ইসলামী দর্শনের ওজুদ আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত, সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত এবং সমাজের সাথে সম্পর্কিত। নিজের অস্তিত্ব ও দায়িত্ব এখানে হাত ধরাধরি করে চলে। আর তা আল্লাহর দিকে এগুতে থাকে। তার কাছে জীবন একটি আমানত।

এখানে সে নিজের অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনীয়তাকে জানবে। জানবে যে, আমি আসলে সামর্থ্যবান এবং দুর্বল, সম্ভাবনাময় এবং সীমিত ও দায়িত্ববান এবং নির্ভরশীল। কারণ আমার অস্তিত্ব আংশিক এবং পরিপূর্ণতা প্রত্যাশী। সে জন্য নিরন্তর সচেষ্ট। আল্লাহই পরিপূর্ণ, চিরস্থায়ী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। অতএব আমাদের ‘আমি আছি’ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কুদরত ও ইচ্ছার আয়না মাত্র। আমার অস্তিত্ব আছে মানে পরম অস্তিত্বের অবিমুখী আছি। অতএব ‘আমি আছি’ মানে হলো ‘আমি আল্লাহর দিকে আছি, লগ্ন ও মগ্ন আছি।’ আবার সৃষ্টিজগতে দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে পলায়ন করে বা তাতে কমতি রেখে এই থাকাকে অর্থবহ করা যাবে না। এর মানে পরিষ্কার। অস্তিত্বের সব স্তর এক ঐক্যবদ্ধ নকশায় গাঁথা, যেখানে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিজগত পরস্পর সম্পর্কিত। কাউকে বাদ দিয়ে অস্তিত্বের সার্থকতা নয়। তবে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিজগত পরস্পরে সম্পর্কিত হলেও কখনোই এক নয়।

প্রকৃতি ও অস্তিত্ব এখানে ঐশী সত্তার বহিঃপ্রকাশ, কিন্তু আল্লাহর সাথে বস্তুজগতের মিশ্রণ অসম্ভব। উত্তরাধুনিক চিন্তকরা যেমন বলেন, সত্য কোনো একক ভাষায় বা ডিসকোর্সে ধরা পড়ে না, তেমনি মুসলিম দর্শন বলে, মানুষের ভাষা ও যুক্তি অস্তিত্বের পূর্ণ সত্যকে ধরতে অক্ষম। এর সাথে যুক্ত আছে গায়েব বা ইন্দ্রিয়াতীত অদৃশ্য। যার সত্যতত্ত্বের জন্য আমার চাই হেদায়েত। মানুষের অস্তিত্বের অভিজ্ঞতা যেহেতু ব্যক্তির সমাজ, ইতিহাস ও আত্মিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে, অতএব আমার অস্তিত্ববোধ শুধু আমার সাফল্য ব্যর্থতাকে সংজ্ঞায়িত করে না, বরং মানুষের বৃহত্তর জীবন, যাপন ও বিকাশকে প্রভাবিত করে।

Group of Human Hands Holding Together

ফলে মুসলিম বিশ্বদৃষ্টি ও আধুনিক দর্শনের বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে এমন অন্তলোজির প্রয়োজন, যেখানে প্রকৃতি হলো নৈতিকভাবে অর্থবহ এক অস্তিত্ব।

মুসলিম অন্তলজি শুধু আধুনিকতাকে প্রত্যাখ্যান করে না, বরং ঐতিহ্য ও আধুনিক জ্ঞানের মধ্যে সংলাপও গড়ে তোলে। যদিও সায়্যিদ হুসাইন নসরের ভাষা ধার করে বলতে চাই, আধুনিক বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ (scientific materialism) অস্তিত্বের প্রকৃত সারমর্ম ভুলে গেছে।

লেখক : কবি, গবেষক

Rumour Crisis: A Rising Threat 

After the July uprising, Bangladesh has been facing a major problem with the spread of rumours and misinformation. Chief Adviser Muhammad Yunus had earlier warned that rumors are now being used like weapons to destabilize the country, and recent trends prove how serious this issue has become. According to Rumor Scanner, a well-known fact-checking organization, misinformation rose by 58 percent in 2024 compared to 2023. In 2025, the situation is still alarming. In the last three months, they identified 268 false or misleading posts in February, 298 in March, and 296 in April.

Like previous months, April’s rumors mostly targeted national and political topics. Out of all detected cases, 101 were related to national matters, and 95 were political. Religious, international, and communal issues were also included. Particularly concerning were 16 communal rumors, some of which came from Indian accounts, showing that disinformation is not only coming from within Bangladesh but also from beyond the border.

Social media continues to be the biggest platform for spreading fake news. Facebook alone had 276 such cases in April, followed by YouTube 54, Instagram 48, X handle (formerly Twitter) 44, and TikTok 24. Even 15 false stories were spread by mainstream media, which is supposed to be a reliable source of information.

A major target of these campaigns has been high-level political and government figures. Chief Adviser Yunus himself was the subject of 29 false posts. Other advisers like Asif Nazrul and Syeda Rizwana Hasan were also targeted. Political parties such as BNP, Jamaat-e-Islami, and the National Citizens Party (NCP) were also affected. These attacks seem to follow what Prof. Yunus described as attempts by the “defeated side” to weaken public trust in national institutions.

Rumor Scanner also revealed that 138 cases were text-based, 105 were videos, and 53 used images. Of them, 179 were completely false, 66 were misleading, and 48 were distorted.

Rumors in Bangladesh surged 58% in 2024, with 268+ false posts monthly. Social media and politics are main targets, posing a rising threat in 2025.

With the national election coming soon, there is a real danger that the rumor problem will grow even worse. It is very important now for the government, media, and public to work together. Along with strict monitoring, we must improve digital literacy across all groups so that people can learn how to detect false information and rely only on trustworthy sources. Only then can we protect our society from this growing threat.

ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ রিয়াল মাদ্রিদের রুডিগার

কোপা ডেল রে’র উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে রেফারির সঙ্গে অশোভন আচরণের দায়ে রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার এন্টোনিও রুডিগার ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়।

সেভিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে রুডিগার ছাড়াও বিতর্কে জড়ান রিয়ালের আরও দুই খেলোয়াড়—জুড বেলিংহাম ও লুকাস ভাসকুয়েজ। শেষ বাঁশি বাজার পর রেফারির প্রতিবেদন অনুযায়ী বেলিংহামের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু প্রমাণ না থাকায় তিনি নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পান। তবে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার অপরাধে ভাসকুয়েজকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ফাইনালে বার্সেলোনা ৩-২ গোলে জয়ী হয়, আর ম্যাচ শেষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয় রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে।


রেফারির দিকে তেড়ে যাওয়া ও ‘বরফ ছুড়ে’ ৬ ম্যাচ নিষিদ্ধ রুডিগার

রেফারির দিকে তেড়ে যাওয়া ও ‘বরফ ছুড়ে’ ৬ ম্যাচ নিষিদ্ধ রুডিগার

রুডিগারের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে তার সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের কারণে। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) তার বাঁ হাঁটুতে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে, যার ফলে চলতি মৌসুমের বাকি পাঁচটি ম্যাচে তার খেলা হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার বাকি অংশ আগামী মৌসুমের শুরুতে ভোগ করতে হবে এই জার্মান ডিফেন্ডারকে।

৩২ বছর বয়সী রুডিগার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন,

‘গত রাতে আমার আচরণের কোনো অজুহাত নেই। শেষ বাঁশি বাজার আগে আমি একটি বড় ভুল করেছি। আমি রেফারিসহ সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি, যাদেরকে আমি হতাশ করেছি।’

স্প্যানিশ ফুটবলে এমন শাস্তির মাত্রা সাধারণত চার থেকে ১২ ম্যাচের মধ্যে হয়ে থাকে। সেই হিসেবে রুডিগার অপেক্ষাকৃত কম শাস্তি পেয়েছেন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই নিষেধাজ্ঞা ও ইনজুরির কারণে আগামী ১১ মে মৌসুমের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোতেও রিয়ালের ডিফেন্সে তাকে দেখা যাবে না, যা দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

BUBT-তে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘BBA Sports Carnival 2025’

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ঢাকা: বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (BUBT)-এর ব্যাবসায় প্রশাসন (BBA) বিভাগের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে এক বর্ণাঢ্য ক্রীড়া উৎসব— ‘BBA Sports Carnival 2025’। আগামী ৭ মে থেকে ১২ মে ২০২৫ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এই ছয় দিনব্যাপী ক্রীড়া আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম শুধুমাত্র BBA বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এত বড় পরিসরে একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো।

‘BBA Sports Carnival 2025’-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে চারটি জনপ্রিয় খেলায়:

১. ক্রিকেট
২. ফুটবল
৩. ক্যারাম
৪. ব্যাডমিনটন

আয়োজকরা আশা করছেন, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ ও আগ্রহ বাড়াবে, পাশাপাশি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।

আসন্ন এই ক্রীড়া কার্নিভালের বিস্তারিত সময়সূচি, অংশগ্রহণের নিয়মাবলি এবং অন্যান্য নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

BBA বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করেন, এই আয়োজন এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে এটি বিভাগের একটি নিয়মিত ও বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে পরিণত হবে।

মে দিবসঃ শ্রম কি সংস্কার হবে? 

জাহিদুল ইসলাম

নির্বাহী সম্পাদক, দ্যা ক্যাম্পাস মিরর। 

মে দিবস, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের ঐক্য, সংগ্রাম ও বিজয়ের প্রতীক। সারা বিশ্বের শ্রমিকরা যেভাবে মুনাফালোভী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অমানবিক শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে, তা ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মে দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শ্রমিকদের ঐতিহাসিক বিজয়ের কথা, যা প্রতিনিয়ত সারা বিশ্বের শ্রমজীবী জনগণকে আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করে।

বর্তমানে বাংলাদেশে শহর ও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা বিপুল। এই জনগণ ক্রমাগত শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। সমাজে ধনী-গরীবের বৈষম্য বাড়ছে, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়ে চলেছে। অথচ শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও শ্রম আইন অনেক ক্ষেত্রে কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ আইএলও সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ, বাস্তবে তা অনেক সময়ই কার্যকর করা হয় না। শোষণ, লোভ ও ক্ষমতার দাপটে সমাজে হিংসা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং শ্রমিকদের উপর চাপ ও নিপীড়নও বেড়ে যাচ্ছে।

এ বছর রানা প্লাজা ট্রাজেডির এক যুগ পূর্তি হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শ্রমিক বিপর্যয়। এই দুর্ঘটনা এক হাজার একশ ত্রিশ শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেয়, এবং প্রায় দুই হাজার শ্রমিক গুরুতর আহত হয়।

যদিও এই দুর্ঘটনার পর অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন এসেছে, তবুও এখনও শ্রমিকদের নিরাপত্তা, জীবনমান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের উপর চাপের পাশাপাশি মালিকপক্ষের উদাসীনতা, বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

মে দিবসের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো কর্মঘণ্টা কমানোর আন্দোলন, যা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই শুরু হয়েছিল। প্রথমদিকে, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও পরে এটি কর্মঘণ্টা কমানোর দিকে মোড় নেয়। ১৮০৬ সালে ফিলাডেলফিয়ায় জুতা শ্রমিকরা যখন ধর্মঘট করেন, তখন তাদের দৈনিক কাজের সময় ছিল প্রায় ২০ ঘণ্টা। ১৮২০ থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত কর্মঘণ্টা কমানোর জন্য বেশ কয়েকটি ধর্মঘট হয়। ১৮২৭ সালে ফিলাডেলফিয়ায় মেকানিকদের উদ্যোগে গঠিত হয় প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন, যেখানে দৈনিক দশ ঘণ্টা কাজের নিয়ম চালু করার দাবী উঠেছিল।

১৯৫০ সালের পর শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন ও আন্দোলনের জোয়ার বাড়তে থাকে। ১৮৬৬ সালে বাল্টিমোরে ষাটটি ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে ‘ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা সে বছরেই দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। একই প্রস্তাবটি ১ ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল এর জেনেভা কংগ্রেসেও গৃহীত হয়।

১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আট ঘণ্টা কাজের দাবীতে আন্দোলন শুরু হয়, যা মে দিবসের জন্মের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ১৮৮৬ সালে ‘আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার’ ১ মে তারিখে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের প্রস্তাবটি গ্রহণ করে এবং শ্রমিকদের মধ্যে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সেই বছর, শ্রমিকরা একযোগে ধর্মঘটের ডাক দেন এবং শিকাগো ছিল আন্দোলনের কেন্দ্র।

১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগোতে শ্রমিকদের এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। এই সমাবেশ শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে শ্রেণী সংহতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। ৩ মে, শিকাগোর ম্যাককর্মিক ফসল কাটার কারখানায় ধর্মঘটী শ্রমিকদের সমাবেশে পুলিশ আক্রমণ করলে চার শ্রমিক নিহত হন। পরদিন হে মার্কেটে সংঘটিত এক বিস্ফোরণের পর, পুলিশ বাহিনীর উপর আক্রমণের জেরে এক পুলিশ সার্জেন্ট মারা যান এবং এ ঘটনায় আরও চার শ্রমিক ও সাত পুলিশ সদস্য নিহত হন। এই ঘটনার পর শ্রমিক আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। হে মার্কেট চত্ত্বর রক্তে রঞ্জিত করে। এরপর প্রহসনের বিচারে ফাঁসির মঞ্চে নির্বিচারে প্রাণ দেন সংগ্রামী শ্রমিক নেতারা। জন্ম হয় এক মহান বিপ্লবের।

মে দিবসকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণীর সংহতি দিবস হিসেবে উন্নীত করার পেছনে ২ সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল এর রয়েছে অনন্য অবদান। ১৮৮৯ সালে সংগঠনটির প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় প্যারিসে। ঐ কংগ্রেসেই ১ মে তারিখটিকে বিশেষ দিবস হিসেবে উদ্‌যাপনের জন্য চিহ্নিত করা হয়, যা প্রতি বছরই শ্রমজীবী মানুষের একটি মহান দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে।

আমেরিকার শিকাগো শহরের শহীদ শ্রমিকদের অনুপ্রেরণায় ভারতবর্ষেও শ্রমিকদের দাবি আদায়ে ধর্মঘট আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। ১৯২০ সালের দিকে রেল, চা বাগান এবং স্টিমার শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ব্রিটিশ শাসকদের কাঁপিয়ে তোলে। পরবর্তীতে, সুতাকলসহ বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য সংগঠিত হতে থাকে। সেই সময় গড়ে ওঠা ট্রেড ইউনিয়নগুলো শ্রমিকদের অধিকারের জন্য চেষ্টা চালায়, কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকার কারণে মে দিবস গোপনে পালন করা হতো।

এ উপমহাদেশে প্রথম মে দিবসের অনুষ্ঠান ১৯২৩ সালে মাদ্রাজে পালিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়া। তৎকালীন বাংলার শিল্পকেন্দ্র কলকাতায় ১৯২৭ সালে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মহান মে দিবস পালিত হয়। একই সময়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলা অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে মে দিবস পালন শুরু হয়।

১৯৩৮ সালে নারায়ণগঞ্জে মে দিবস পালনের খবর পাওয়া যায়। সেই সময় থেকেই শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে তাদের দাবি আদায়ের জন্য মে দিবসে ধর্মঘট পালন করতে থাকে। মে দিবসে ছুটি দেওয়ার দাবি একসময় সর্বত্র উত্থাপিত হয়। পাকিস্তান আমলেও মে দিবস পালনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে এবং পৃথক পৃথকভাবে শ্রমিকরা উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে মে দিবস উদযাপন করতে থাকে। আমাদের দেশের শ্রমিকরা প্রমাণ করেছেন যে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন থেকে তারা বিছিন্ন থাকতে পারে না। আইন বা কূটকৌশলের মাধ্যমে আন্দোলন স্তব্ধ করা যায় না। ১৯৭০, ১৯৮০, ১৯৮৬, ১৯৯১ সালসহ নানা সময় উল্লেখযোগ্য আন্দোলন হয়েছে। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকার ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার হরণ করে মিটিং নিষিদ্ধ করলেও, সামরিক শাসন উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম পহাড়তলী ওয়ার্কশপে নৌবাহিনীর হামলায় কুনু মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন গড়ে ওঠে।

১৮৮৬ সালকে ভিত্তি ধরলে, ১ মে ২০২৫ ছিল আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসের ১৩৯ বছর। এ সময়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরে শ্রমিকেরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করেন, যা সহিংসতা ও পুলিশের হাতে হত্যাকাণ্ডের ফলে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে, ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১ মে দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ৮০টিরও বেশি দেশে মে দিবস জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, এবং তাদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা তৈরি হয়।

work…

বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে মে দিবস সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে, যেখানে শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকার শ্রম আইন ২০০৬, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড, এবং অন্যান্য কল্যাণ তহবিল চালু করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশনে স্বাক্ষরিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় অগ্রগতি সাধন করেছে, তবে এখনও শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য আরও প্রচেষ্টা প্রয়োজন।শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম শাখার এক স্মারকে শ্রমিককে চাকরিচ্যুতি, ছাঁটাই এবং মহান মে দিবসে কারখানা বন্ধ রাখার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘যৌক্তিক কারণ এবং শ্রম আইনের প্রতিপালন ব্যতীত শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই করা যাবে না। গত ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (আরএমজি বিষয়ক টিসিসি)-এর ২০তম সভার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশন সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৪৫০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে ২৫টি বিষয়ে সুপারিশ রয়েছে, যা দেশের শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো:

  • প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সব শ্রমিকের জন্য শ্রম আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা
  • সব শ্রমিকের জন্য একটি সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং প্রতি তিন বছর পরপর পুনর্নির্ধারণ
  • জীবনধারণযোগ্য মজুরি (Living Wage) ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ, যাতে খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সঞ্চয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে
  • মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি
  • মজুরি দেরি হলে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আপৎকালীন তহবিল গঠন (দুই মাসের মজুরি সংরক্ষিত থাকবে)
  • শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক
  • ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের শর্ত শিথিল করা এবং আউটসোর্সিং বন্ধে সুপারিশ
  • নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস
  • স্থায়ী জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কমিশন গঠন, যার অধীনে পেশাভিত্তিক উপ-কমিটি থাকবে
  • মজুরি নির্ধারণের সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের সুপারিশ

এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের সাত কোটির বেশি শ্রমিক বিশেষ করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবেন।

বাংলাদেশে মে দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং তাদের অধিকার অর্জনের প্রতীক। প্রতি বছর ১ মে শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য নানা কর্মসূচি, মিছিল, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। তবে, এদিনের প্রকৃত গুরুত্ব শুধু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত উন্নয়ন কখনোই শুধু সড়ক, ভবন বা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ হলো মানুষের জীবনমানের উন্নতি, বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের। যখন শ্রমিকদের অধিকার, সম্মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তখনই সমাজে প্রকৃত উন্নয়ন আসবে।

এদিনের প্রকৃত লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়সঙ্গত এবং সমৃদ্ধ সমাজ গঠন, যেখানে প্রতিটি শ্রমিক তার শ্রমের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সঠিক পুরস্কার পাবে। আমাদের দায়িত্ব হলো শ্রমিকদের জন্য একটি উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তাঁরা শুধু উৎপাদনশীল কাজের অংশ নয়, বরং একটি উন্নত এবং মানবিক সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃত হবে। শ্রমিকদের প্রতি সম্মান, সুরক্ষা এবং ন্যায্যতা প্রদর্শন করেই আমরা একটি আরও শক্তিশালী, টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। মে দিবসের এই মহান বার্তা আমাদের সকলকে উদ্বুদ্ধ করবে, যাতে আমরা একটি মানবিক, ন্যায়সঙ্গত এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।

কয়েকটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অধ্যয়ন কৌশল

মিরর ডেস্ক 

অনিয়মিত অধ্যয়ন পদ্ধতি এবং গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যার মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা এমন দশটি পদ্ধতি উপস্থাপন করছি, যেগুলো আন্তর্জাতিক গবেষণায় স্বীকৃত এবং দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় পরীক্ষিত। এই কৌশলগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নিয়মানুবর্তিতা প্রয়োজন, তবে ফলাফল নিশ্চিতভাবে ইতিবাচক হবে।

১.  পোমোডোরো কৌশলঃ ২৫ মিনিট নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়নের পর ৫ মিনিটের বিরতি নিন। প্রতি চারটি সেশনের পর ১৫-৩০ মিনিটের দীর্ঘ বিরতি গ্রহণ করুন। দৈনিক সম্ভাব্য সেশন সংখ্যা পূর্বাহ্নেই নির্ধারণ করুন। নিউরোসায়েন্স গবেষণায় প্রমাণিত, এই পদ্ধতি শিক্ষার গভীরতা ৪০% বৃদ্ধি করে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অধ্যয়ন কৌশল: পোমোডোরো, পুনরাবৃত্তি, কর্নেল নোট, পর্যাপ্ত ঘুম ও মস্তিষ্কবান্ধব খাদ্য।

২.  পুনরাবৃত্তি পদ্ধতিঃ পাঠ্য বিষয় পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংক্ষিপ্ত পুনরাবৃত্তি করুন। সপ্তাহান্তে সমন্বিত পুনরাবৃত্তি করুন। মাসিক ভিত্তিতে সামগ্রিক মূল্যায়ন করুন।

স্নায়ুবৈজ্ঞানিক ভিত্তি: এই পদ্ধতি স্মৃতিকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করে

৩. কর্নেল পদ্ধতিতে নোট গ্রহণঃ পৃষ্ঠাকে তিনটি কলামে বিভক্ত করুন। ডান পাশে মূল বিষয়বস্তু লিখুন।বাম পাশে সংক্ষিপ্ত সূচি লিখুন। নিচের অংশে সারসংক্ষেপ লিখুন। এই পদ্ধতিতে প্রস্তুত নোট পরীক্ষার আগে দ্রুত পুনরাবৃত্তির জন্য আদর্শ

৪.  সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম

বৈজ্ঞানিক সুপারিশ: রাত ১১টার পূর্বে শয়ন ও সকাল ৬টায় জাগরণ।দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর নিদ্রা। :ঘুমের অভাবে স্মৃতিশক্তি ৪০% পর্যন্ত হ্রাস পায়। 

৫.  মস্তিষ্কের জন্য উপযুক্ত খাদ্যঃ ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (বাদাম, সামুদ্রিক মাছ)। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল (ব্লুবেরি, ডালিম)।

বর্জনীয়: অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও প্রক্রিয়াজাত খাবার।

এই কৌশলগুলো আয়ত্ত করতে সাধারণত ২১ দিনের অনুশীলন প্রয়োজন। প্রথম সপ্তাহে কিছুটা কঠিন মনে হলেও ধারাবাহিকভাবে চর্চা করলে অধ্যয়ন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। মনে রাখবেন, সফল শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীর মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয় দৈনন্দিন অভ্যাসের মাধ্যমেই।

বাংলাদেশে লাইসেন্স পেলো স্টারলিংক

ডেস্ক রিপোর্ট 

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্বখ্যাত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। শ্রীলঙ্কার পর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে স্টারলিংক তাদের সেবা চালু করতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি এ সেবা প্রদানের লাইসেন্স অনুমোদন করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৮ এপ্রিল ড. ইউনূস স্টারলিংকের লাইসেন্স অনুমোদন করেন। এর ফলে ‘নন-জিওস্টেশনারি অরবিট (NGSO)’ ক্যাটাগরির অধীনে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংকের সেবা প্রদানের পথ উন্মুক্ত হলো।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর আগে, ২৫ মার্চ ‘Non-Geostationary Orbit Satellite Services Operator in Bangladesh’ শীর্ষক লাইসেন্সিং গাইডলাইন প্রকাশ করে। এই গাইডলাইনের আওতায় স্টারলিংক প্রয়োজনীয় ফি ও কাগজপত্রসহ বিটিআরসিতে আবেদন করে। এরপর ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ২৯৪তম কমিশন সভায় লাইসেন্স ইস্যুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি এর আগেই, ২৯ মার্চ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) থেকে বিনিয়োগ নিবন্ধন লাভ করে। স্টারলিংক-এর বাংলাদেশ শাখার প্রধান কার্যালয় ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বলে জানানো হয়েছে।

পরে ৯ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সেবা চালু করে স্টারলিংক, যা ইতোমধ্যে প্রযুক্তিপ্রেমী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বব্যাপী এলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর অধীন পরিচালিত স্টারলিংক মূলত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৫০ কিমি উচ্চতায় স্থাপিত উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ করে। এর ফলে পাহাড়, দ্বীপ, চরাঞ্চল কিংবা শহরের বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্রডব্যান্ডগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংযোগ বাংলাদেশের শিক্ষাখাত, গবেষণা, টেলিমেডিসিন এবং ডিজিটাল ইনক্লুশনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

রোহিতদের বাংলাদেশে পাঠাতে চায় না ভারত

 

কাশ্মিরের পেহেলগামে সম্প্রতি সংঘটিত বন্দুকধারীদের হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চিরচেনা উত্তেজনা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার প্রভাব ফেলছে ক্রীড়াঙ্গনেও। টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী আগস্টে সীমিত ওভারের ক্রিকেট সিরিজ খেলতে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বাংলাদেশ সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পরিকল্পনা ছিল, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত। তবে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি এই সফরের বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া দাবি করেছে, সফরটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে কাশ্মির ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি ও বাংলাদেশে এ বিষয়ে প্রকাশিত কিছু মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বাংলাদেশের একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের একটি ফেসবুক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি ব্লু টিক প্রাপ্ত নয় এবং তার ফ্রেন্ড লিস্টে সদস্য সংখ্যা মাত্র ৪২৭ জন।

কাশ্মির ইস্যুর পর ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সিরিজ অনিশ্চিত। রাজনৈতিক উত্তেজনায় রোহিত শর্মাদের বাংলাদেশ সফর স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা।
কাশ্মির ইস্যুর পর ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সিরিজ অনিশ্চিত। রাজনৈতিক উত্তেজনায় রোহিত শর্মাদের বাংলাদেশ সফর স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা।

তবে টাইমস অফ ইন্ডিয়া তর্কযোগ্যভাবে দাবি করেছে, উক্ত মেজর জেনারেল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি তার পোস্টে লেখেন, “ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করলে বাংলাদেশের উচিত হবে উত্তর পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য দখল করে নেয়া। এ ব্যাপারে চীনের সাথে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করি।”

এ ধরনের মন্তব্য অবশ্য ব্যক্তিগত পর্যায়ের মতামত হিসেবেই দেখা হচ্ছে, তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই বিশ্লেষণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মিরে ঘটে যাওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যু যেভাবে ক্রীড়াজগত এবং তৃতীয় রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে চিন্তার উদ্রেক করছে।

এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। কূটনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশ সফর থেকে ভারতের সরে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই।

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে নিরাপত্তা জোরদার ভারতের

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), সরকারি রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এবং রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) যৌথভাবে টহল কার্যক্রম শুরু করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর)-এর বিভিন্ন ডিভিশনে বিশেষ নজরদারির আওতায় এসেছে সীমান্তবর্তী রেলপথগুলো। যৌথ টহলের মাধ্যমে রেলওয়ে অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা এবং যাত্রী নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরপিএফ-এর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা রেলস্টেশন ও ট্র্যাকের নিকটবর্তী এলাকায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে। টহলের সময় অনুপ্রবেশ, অবৈধ হস্তক্ষেপ কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাজনক কোনো লক্ষণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাড়ানোর এই পদক্ষেপের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রভাব রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এনডিটিভি দাবি করেছে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। এমনকি, কিছু ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশের সময় গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবৈধ যাতায়াতের রুট হিসেবে পরিচিত। তাই সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ সীমান্ত অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন করে নজর কাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই ধরনের উদ্যোগ কৌশলগত দিক থেকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।