ডেস্ক রিপোর্ট: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে গকসু নির্বাচন। যা দেশের একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ। এবারের নির্বাচনে ০১টি ভোট পাওয়া প্রার্থী নিয়ে চলছে আলোচনা। আলোচিত সেই প্রার্থীর নাম মোঃ নির্জন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ৯ জন ভিপি প্রার্থীর মধ্যে তিনিই মাত্র একটি ভোট পেয়েছেন। জানা যায়, নির্জন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। এছাড়া তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি। গত ১১ জুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম. রাজিবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ সদস্যকে নিয়ে ছাত্রদলের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয় যেভাবে সভাপতি হন নির্জন। তবে নির্বাচনের আগের দিন বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি গকসু নির্বাচন থেকে স্বেচ্ছায় প্রার্থীতা থেকে অব্যহতি ও প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদনও করেন।
তবে, তার দাবি নির্বাচন কমিশনার ভুলবশত ব্যালট পেপারে তার ব্যালট নাম্বার ছাপিয়েছে। তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের এ বিষয়ে অবগত করার জন্য তিনি এ ফেসবুক পোস্ট করেন।
এবারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়ী হয়েছেন মো. রায়হান খান। এ ছাড়া এজিএস পদে জয়ী হয়েছেন সামিউল হাসান শোভন।
উল্লেখ্য, দেশের একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) চালু রয়েছে ছাত্র সংসদ। ২০১৩ সালে প্রথমবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল গকসু কার্যনির্বাহী সংসদ
আজ চারিদিকে ভূরি ভূরি উদাহরণ যেখানে রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকা নিয়েছে। যেখানে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণী থেকে মধ্য, নিম্ন শ্রেণীর মানুষ রাষ্ট্রব্যবস্থা দ্বারা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে। আজ বিনা কারণে আপনার রাজনৈতিক চিন্তাধারার মতাদর্শের পার্থক্যের জন্য অথবা শুধু মাত্র ব্যক্তির স্বার্থ হাসিলের জন্য একজন অরাজনৈতিক সাধারণ নাগরিক আপনি যখন তখন বিনা কারণে পুলিশি হেনস্থার শিকার হতে পারেন। তাই আজ আপনাকে জানতে হবে বিনা কারণে পুলিশি হেনস্থা বা সোজা কথায় পুলিস গ্রেফতার করলে আপনার কী কী করণীয়। আপনার অধিকার জানলে আপনি অনেক বেশি সচেতন হবেন। আর নিজে জানলে অপরকে জানতেও সচেষ্ট হবেন।
আমরা সাধারণ মানুষেরা সাধারণত আইনের নানা মারপ্যাচ বুঝি না বা বুঝতে চেষ্টা করি না। আমরা সাধারণত আইন বিরুদ্ধ কাজ করি না। কিন্তু তবুও নানান চক্রান্তে আপনি যদি পুলিশি হেনস্থার শিকার হয়ে যান তাহলে যা যা আপনার করণীয়। অর্থাৎ এই সম্বন্ধে আমাদের আইন কী কী অধিকার আপনার জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন তা জেনে নিন।
জোর বা বলপূর্বক গ্রেফতারের প্রতিরোধ করবেন কি?
না। কারণ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬(২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বলপূর্বক তাকে গ্রেফতারের চেষ্টায় বাধা দেয় অথবা গ্রেফতার এড়াতে চেষ্টা করেন, তা হলে পুলিশ অফিসার অথবা অন্য ব্যক্তির গ্রেফতার কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পন্থা অবলম্বন করতে পারবেন।
মহিলাদের গ্রেফতার বা দেহ তল্লাশির পদ্ধতি কি?
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় মহিলাদের তল্লাশির পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশি করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে তা অন্য একজন স্ত্রীলোক দিয়ে করাতে হবে।
🔳 গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অধিকারসমূহঃ
➡ বাংলাদেশের সংবিধনের ৩৩(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের স্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এর অতিরিক্ত সময় আটক রাখা যাবে না।
➡ সংবিধানের ৩৩(১)অনুচ্ছেদে : গ্রেফতারের কারণ জানানো, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের সুযোগ দান ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
➡ সংবিধানের ৩৩(৪) অনুচ্ছেদে : কোনো অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না।
বাংলাদেশে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অধিকার, পুলিশি হেনস্থার প্রতিকার ও আইনগত করণীয় জানুন—সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।
➡ অভিযোগ সংক্রান্ত সকল কাগজের নকল পাওয়া।
➡ পুলিশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়গণকে গ্রেফতারের কারণ ও স্থান জানাবেন।
❇ পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে কাওকে গ্রেফতার করতে পারে?
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী পুলিশ বিনা পরোয়ানায় কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে পারে। তবে তা অবশ্যই আমলযোগ্য অপরাধ হতে হবে।
🔳 আমলযোগ্য অপরাধ কী? ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪(চ) অনুযায়ী এটি সেই সমস্ত অপরাধ যার জন্য পুলিশ বিনা পরোয়ানায় কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে পারে। যেমন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি, অপহরণ ইত্যাদি।
যে সকল কারণে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারেঃ
➡ কোনো আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি অথবা অপরাধের সাথে জড়িত বলে যুক্তিসঙ্গত বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আছে। ➡ আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত তার কাছে ঘর ভাঙ্গার কোনো সরঞ্জাম রয়েছে। ➡ সরকারের আদেশ দ্বারা যাকে অপরাধী ঘোষণা করা হয়েছে। ➡ চোরাইকৃত কোনো মালামাল বহন বা তার এ সম্পর্কে কোনো অপরাধ রয়েছে বলে যুক্তি সন্দেহ কারন রয়েছে। ➡ কোনো পুলিশের কাজে বাধা দানকারী বা আইনসঙ্গত হেফাজত থেকে পলায়ন বা পালানোর চেষ্টা। ➡ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে পলায়নকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ➡ বাংলাদেশের বাইরে কোনো অপরাধ করেছেন, যা বাংলাদেশের আইনেও অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। ➡ যাকে গ্রেফতারের জন্য অন্য কোনো পুলিশের কাছ থেকে অনুরোধ পাওয়া গেছে। ➡ নাম ও বাসস্থান জানাতে অস্বীকৃতি জানালে। ➡ কোনো ভবঘুরে ব্যক্তি বা অভ্যাসগত চোর বা ডাকাত হলে।
পুলিশ গ্রেফতার করলে করণীয়:
➡ পুলিশের নিকট নাম, ঠিকানা ও পেশাসহ পরিচয় তুলে ধরতে হবে। ➡ পেশজীবি বা ছাত্র হলে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। একারণে সবসময় পরিচয়পত্র সাথে রাখা উচিত। ➡ এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচিত আইনজীবির ফোন নম্বর সাথে রাখা যেতে পারে এবং গ্রেফতারের পর দ্রুত আইনজীবিকে বিষটি জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা উচিত। অন্তত আত্নীয় বা বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। ➡ ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে নেয়া হয়, আর যে কোন থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে সংশ্লিষ্ট থানায় নেয়া হয়। ➡ গ্রেফতারের পর কাউকে লকআপে রাখার আগে তার বিভিন্ন জিনিসপত্র যেমন, কাগজ, মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি থাকলে তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার সেগুলোর একটি তালিকা তৈরী করে আটককৃত ব্যক্তির সাক্ষর নেয়। এই সাক্ষর দেবার সময় তালিকাটি পড়ে নেয়া উচিত। ➡ পুলিশ অফিসারের নিকট কোন বিবৃতি দিলে তা পাঠ করে বা বিবৃতির ভাষ্য অবগত হয়ে তাতে স্বাক্ষর করা উচিত। ➡ গ্রেফতারের পর আইনজীবী বা পরিবারের কাউকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানাতে না পারলে আদালতে হাজির করার পর ম্যাজিস্ট্রেটকে সরাসরি বিষয়টি জানানো উচিত। এতে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ➡ গ্রেফতারের পর কোন পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হলে বা অসুস্থ হলে আদালতের মাধ্যমে বা নিজ উদ্যোগে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে নিতে নেয়া যায়। চেকআপ করালে এ রিপোর্টটি সংগ্রহে রাখা উচিত। চেকআপকারী ডাক্তারের পরিচয় জেনে রাখা উচিত কারণ তা পরবর্তীতে প্রয়োজন হতে পারে। ➡ পুরনো কোন মামলায় গ্রেফতার হলে দ্রুত ঐ মামলার নম্বরসহ কাগজপত্র নিয়ে আদালতে গিয়ে জামিন শুনানীর চেষ্টা করা যেতে পারে। ➡ নতুন কোন মামলায় বা কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হলে একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জামিন শুনানীর চেষ্টা করা যেতে পারে। ➡ সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পুলিশের প্রশ্নে আপনার উত্তর কী হবে? ➡ পুলিশের মৌখিক প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে আপনাকে সাবধান হতে হবে। আপনাকে প্রশ্ন করা হবে স্বাভাবিক এবং বন্ধুত্বসুলভ, তবে উত্তর দিতে আপনার থেকে সচেতনভাবে। প্রশ্ন হতে পারে আজকের আবাহাওয়া বা আপনার পরিবার সম্পর্কে। কিন্তু উত্তরগুলি দেওয়ার আগে আপনি অবশ্যই চিন্তা করবেন যেন এই উত্তরগুলিকে আদালাতে আপনার বিপক্ষে উত্থাপন করা না হয়। মনে রাখবেন, পুলিশের উদ্দেশ্য আপনাকে চালান দেওয়ার জন্য কারন খুঁজে বের করা।
ফৌজদারি বিধি ৩৩ (১) ধারা মতে আপনি আলোচনা বা পরামর্শের জন্য আপনার সুবিধামত যেকোন আইনজীবীর সাথে কথা বলতে পারেন।
গ্রেফতার হওয়ার পর প্রশ্নের উত্তর যেভাবে দিবেনঃ
যদি কোন পুলিশ আপনার কোনো বর্ণনা জানতে চায়, তবে আপনি শুধু আপনার পরিচয় নাম ঠিকানা ইত্যাদি দিবেন এবং উক্ত পুলিশ অফিসারের নাম যেনে নিন। অন্য যেকোন প্রশ্নের উত্তর আপনি আপনার আইনজীবীসহ কোর্টে ছাড়া দিবেন না, এটা আপনার অধিকার। ফৌজদারি বিধি ৩৩(১) ধারা মতে আপনি আলোচনা বা পরামর্শের জন্য আপনার সুবিধামত যেকোন আইনজীবীর সাথে কথা বলতে পারেন। আপনি পুলিশের সাথে নিকট যা-ই বলুন না কেন, তা আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। অন্য যে কোন প্রশ্নের উত্তর নিবোক্তভাবে দিতে পারেন।
প্রশ্নঃ আপনার নাম?
উত্তরঃ আল মামুন রাসেল
প্রশ্নঃ আপনার পিতার নাম?
উত্তরঃ আবুল হাশেম
প্রশ্নঃ আপনাকে তো খিলগাঁও থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বিকেলে খিলগাঁও কোথায় ছিলেন?
উত্তরঃ আমি শুধু কোর্টেই এই প্রশ্নের উত্তর দেব।
প্রশ্নঃ আপনি বিকেলে কীভাবে খিলগাঁও গিয়েছিলেন?
উত্তরঃ- আমি শুধু কোর্টেই এই প্রশ্নের উত্তর দেব।
আপনি বাসা থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন?
উত্তরঃ- আমি শুধু কোর্টেই এই প্রশ্নের উত্তর দেব।
সর্বশেষ একটা পরামর্শ – কোনমতেই ১৬৪ তথা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া ঠিক হবে না। যতই লোভ লালসা, ভয়ভীতি দেয়া হওক। আর কখনো কোন সাদাকাগজে সাইন দেয়া যাবে না। আল্লাহ আনাদেআমাদের সকলকে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে রক্ষা করুক।
আপনি যে দেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবছেন, সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কোনগুলো র্যাংকিং-এ এগিয়ে আছে, তা যাচাই করে নিন। ইন্টারনেটে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং দেখার জন্য বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট আছে। (যেমন চীনের সাংহাই জিয়াওটং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত একাডেমিক র্যাঙ্কিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিস, যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান টাইমস হায়ার এডুকেশন বা টিএইচইর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং এবং কিউ-এস নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের র্যাংকিং । এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন উপস্থিতি বা ওয়েবসাইট কতটা ভালো, তার ওপর নির্ভর করে করা হয় ওয়েবোমেট্রিক্স র্যাংকিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র্যাঙ্কিংও আছে।) শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাসহ বিভিন্ন মানের ওপর নির্ভর করে র্যাঙ্কিং করা হয়। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের জন্য যেতে চান, তার র্যাঙ্কিংয়ের দিকে খেয়াল রাখুন। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং হয়তো সামনের দিকে থাকে, কিন্তু আপনি যে বিষয়ে পড়বেন, তার অবস্থান পেছনে থাকতে পারে।
আবেদনেরযোগ্যতাওপ্রক্রিয়াওগুরুত্বপূর্ণঃ
সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে এখন আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে মোটিভেশন লেটার, রেকমেন্ডেশন লেটারসহ (সুপারিশপত্র) ভাষা দক্ষতার সনদ জমা দিতে হয়। দ্রুত ও সহজেই আবেদন করা যায়, ভর্তিপ্রক্রিয়ায় সময় কম লাগে, এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে রাখতে পারেন।
বৃত্তিরযতসুযোগঃ
বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি সাধারণত একটু বেশি হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পছন্দসই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমন বৃত্তির সুযোগ আছে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মেধাভিত্তিক বৃত্তির পাশাপাশি অন্যসব বৃত্তির খোঁজ নিন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট ও ভর্তি কার্যালয়ে ই–মেইল বা চিঠি লেখার মাধ্যমে বৃত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
কেমনক্যাম্পাসঃ
আমেরিকা, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরবর্তী ক্যাম্পাস থাকে। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়টি কোন শহরে অবস্থিত, তার দূরবর্তী ক্যাম্পাস কোথায়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনার আবাসন কত দূরে, এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাথায় রাখা জরুরি। শহরকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে ব্যস্ততা যেমন বেশি থাকে, তেমনি কাজের চাপও অনেক। আবার এসব ক্যাম্পাসে পড়ার মাধ্যমে সেই দেশ ও শহরের সংস্কৃতিকে ভালো করে জানার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে জীবনযাপনের খরচের দিকে খেয়াল রেখে বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করতে হবে।
অন্যান্যতহবিলবাআয়েরসুযোগঃ
আপনি বৃত্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও খেয়াল রাখুন, অন্য কোনো উপায়ে তহবিল লাভের সুযোগ আছে কি না। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিযোগিতা, সম্মেলন কিংবা এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মাধ্যমেও তহবিল প্রাপ্তির সুযোগ থাকতে পারে। গবেষণার পাশাপাশি ক্যাম্পাসভিত্তিক কাজের কেমন সুযোগ আছে, সেদিকেও খেয়াল রাখুন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ থাকে। শিক্ষকের সহকারী বা গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করেও আয় করা যায়, যা আপনার জীবনযাত্রাকে সহজ করবে।
আবহাওয়ারদিকেখেয়ালরাখুনঃ
যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করবেন, সেটি কোন এলাকাতে অবস্থিত? সেখানকার আবহাওয়া কেমন? বাংলাদেশ থেকে গিয়ে আপনি সেখানে মানিয়ে নিতে পারবেন তো? অতিরিক্ত শীত বা অতিরিক্ত গরমে আপনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে কি না, তা আগেই বিবেচনা করুন।
পাঠ্যক্রমেরভাষাকীঃ
কোন ভাষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম পরিচালিত হয়, সে ভাষায় আপনার ভালো দখল আছে কি না, তা আগেই খেয়াল করুন। ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানা থাকলে আপনি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন। আবার ভাষা না জানা থাকলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
কীভাবেজানবঃ
সব তথ্যই পাবেন ইন্টারনেটে। ইন্টারনেট ঘেঁটে আপনি প্রয়োজনীয় তথ্যটা বের করতে জানেন কি না, সেটাও কিন্তু একটা যোগ্যতা বা দক্ষতা। সেই দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে এখনই। এ ছাড়া আপনার কোনো শিক্ষক, কিংবা ভিনদেশে পড়ছেন, এমন পরিচিত কারও পরামর্শ নিতে পারেন। ঢাকার আমেরিকান সেন্টার, ব্রিটিশ কাউন্সিল, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, গ্যেটে ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ পেতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিংরূপকথা
লেখক : ওয়ালিদ
ছাত্র , IUBAT
ঘরে বসে লক্ষ টাকা আয় করুন | বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সুবাদে এইরকম কথার সাথে আমরা সকলেই কম বেশি পরিচিত | কিন্তু সত্যিই কি ঘরে বসে লাখ টাকা আয় করা যায়? আর যদি যায় তাহলে সেটা কিভাবে করতে হয়? এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেকের মাঝে অনেক ধরনের কনফিউশন থাকে | ইনশাআল্লাহ আজকে আমি আপনাদের সকল ধরনের কনফিউশন দূর করার চেষ্টা করবো | তার আগে আমি আমার স্পিসিফিক একটি পরিচয় দিতে চাই। কারণ ফ্রিল্যান্সিং কথাটার সাথে অনেক বড় স্ক্যাম জড়িত | আমার নাম ওয়ালিদ , আমি গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফাইবার মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছি | বর্তমানে আমি ফাইবার মার্কেটপ্লেস এ লেভেল টু সেলার |
প্রথমেই বলে রাখি যে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় | অনেকেই এই দুটো জিনিস কে একই ভেবে গুলিয়ে ফেলে | খুবই সহজ ভাষায় বলতে গেলে যারা সার্ভিস দেয় তারা ফ্রিল্যান্সার , আর যারা সার্ভিস ক্রয় করে তারা আউটসোর্সার | ধরুন আপনি খুবই ভালো ওয়েবসাইট বানাতে পারেন | আমি আপনার কাছে গিয়ে বললাম ভাই আমার একটি ওয়েবসাইট লাগবে আমাকে একটি সাইট তৈরী করে দিন |আপনি আমাকে সুন্দর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দিলেন এবং তার বিনিময় আমার কাছ থেকে টাকা নিলেন | এখানে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করলেন এবং আমি আউটসোর্সিং করলাম |
এবার চলুন একটু টাকা-পয়সা নিয়ে কথা বলি | ফ্রিল্যান্সিং করে অবশ্যই লক্ষ টাকা আয় করা যায় তবে এই কথাটা আংশিক সত্য | কারণ এক লক্ষ টাকার কথা বলে আপনাকে লোভ দেখানো হচ্ছে কিন্তু এক লক্ষ টাকা আয় করতে গেলে কি পরিমাণ পরিশ্রম আপনাকে করতে হবে সেই বিষয়ে ক্লিয়ার করে বলা হচ্ছে না | আমার ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভাই আমাকে একবার বলেছিল , ” পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো অন্যের পকেট থেকে টাকা বের করা ” | আর ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আপনাকে অনেক স্মার্ট ভাবে এই কাজটি করতে হবে |
যেহেতু বর্তমান সময়ে অনেক কম্পিটিশন তাই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আসার আগে আপনাকে প্রচুর দক্ষতা অর্জন করতে হবে | তা না হলে হাজারো কম্পিটিশনের মাঝে আপনি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবেন এবং তখন আপনার মনে হবে আসলেই এই কথাগুলো মনে হয় মিথ্যা কথা যে “ফ্রিল্যান্সিং করে লক্ষ টাকা আয় করা যায়”
আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয় সবচেয়ে তিনটি ক্যাটাগরি হলো :
1.Web Development
2.Digital Marketing
3.Graphic Design
এছাড়া আরো অনেক ক্যাটাগরি আছে যেখানে আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারবেন | ফ্রিল্যান্সিং মূলত একটি মুক্ত পেশা এখানে আপনি আপনার দক্ষতা বিক্রি করতে এসেছেন |
তাই ,এখানে আপনি চাইলে আপনার যেকোন দক্ষতাকে মার্কেট উপযোগী করে বিক্রি করতে পারবেন |
আর হ্যাঁ অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে লক্ষ টাকা আয় করা যায় কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন প্রকারের ডেডিকেশন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা |
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার উদ্যোগে ২০২৫ সালের “জুলাই বিপ্লব”-এর বর্ষপূর্তি ও ছাত্রশিবির জুলাই ৩৬-দিনব্যাপী কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত হলো “জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৫।”
১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি সেমিনার হলে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য, ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি সমন্বয়ক জুলাই যোদ্ধা নাইম আবেদীন, গোলাম রাব্বি, তালহা রাইয়ান, তাকরীম।
জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতায় NSU, IUB, EWU, AUST, UU, UIU, DIU, AIUB, BUFT, WUB, MIU, Daffodil সহ বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “জুলাইকে বাচিয়ে রাখার জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। জুলাইকে ধারণ করেই আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিথিবৃন্দ জুলাইকে সমুন্নত রাখতে ছাত্রশিবিরের আয়োজনের প্রশংসা ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথি নাইম আবেদীন বলেন, “বাংলাদেশের জন্য কোন বিভক্তিকরণ ভালো কাজ হবে না বরং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানে দল, মত নির্বিশেষে জুলাইকে ধারণ করেই সকল ছাত্র সংগঠন এগিয়ে যাবে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি মো: জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আজকের জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা জাতির কাছে জুলাইকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে চাই।” শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত আয়োজনে সুশৃঙ্খলভাবে প্রোগ্রামের সমাপ্তি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: উত্তরায় অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রী টেস্ট রাইড ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে রয়েল এনফিল্ড। রয়েল এনফিল্ডের ডিলার উত্তরায় অবস্থিত ভিনটেজ মটরস এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে। আজ শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিন ব্যাপী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাইকার্স ক্লাবের উদ্যোগে ভিন্টেজ মটরসের সহযোগিতায় এই আয়োজনে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রী টেস্ট রাইড, রয়েল এনফিল্ডের বিভিন্ন ফিচার সম্পর্কে জানানো, বাইকিংয়ের সময় সচেতন থাকার উপর পরামর্শ দেওয়া হয়।
দেখা যায়, রয়েল এনফিল্ডের ক্লাসিক সিরিজ, বুলেট সিরিজ, হান্টার, মেটিওর বাইক গুলোতে শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফূর্তভাবে রাইড করে। এছাড়াও ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়।
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অটোমোবাইল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী লাবীব জানান, রয়েল এনফিল্ডের বাইকে রাইড করে খুবই ভালো লাগলো। সাসপেন্সন, ব্রেকিং সিস্টেম অনেক উন্নতমানের। সামনে সম্ভব হলে আমি রয়েল এনফিল্ডের বাইক ক্রয় করবো।
ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী জানান, রয়েল এনফিল্ডের বাইক রাইড করা শখের বিষয়। আমরা সচারাচর যেসব বাইক রাইড করি সেগুলোর সাথে রয়েল এনফিল্ডের বাইকের কিছু পার্থক্য আছে। যেমন, ভাঙা রাস্তার মধ্যে রাইড করলে খুব স্মুথ ভাবে চলতে পারি। কোথাও ধাক্কা খেলে বোঝা যায় না।
রয়েল এনফিল্ডের জোনাল সার্ভিস ম্যানেজার জনাব সাইফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা ক্যাম্পেইন করতে পেরে নিজেদের কাছে আনন্দ লাগছে। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাইকার্স ক্লাব আমাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে এজন্য তাদের নিকট কৃতজ্ঞ। ডব্লিউইউবি বাইকার্স ক্লাবের ফাউন্ডার প্রীতম দেবনাথ জানান, খুবি ভালো লাগছে এমন একটি আয়োজন করতে পেরে। আমাদের পাশে থাকার জন্য রয়েল এনফিল্ড এবং ভিন্টেজ মটরস কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা বাইকারদের নিয়ে সচেতনতা মূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্যারিয়ার গাইডলাইন সেমিনার, জব হান্টিং, বাইক শো, রাইড ক্যাম্পেইন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম করে থাকি।
উক্ত প্রোগ্রামে আরও উপস্থিত ছিলেন রয়েল এনফিল্ড বাংলাদেশের এর হেড অফ সেলস এবং মাকেটিং জনাব রবিউল হক, ভিন্টেজ মটরস এর ডিলার ওনার জনাব ওয়াহিদুর রহমান, এরিয়া সেলস ম্যানেজার জনাব ইজরার আকরাম, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অটোমোবাইল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আহমেদ।
নিজস্ব প্রতিনিধি: মন্ত্রীপাড়ার চাপের মুখে মাহিন সরকারকে প্যানেল থেকে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
জামালুদ্দীন বলেন, “প্যানেলে যুক্ত হওয়ার আগেই দলীয় মহল থেকে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি বহিষ্কারের হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এলাকায় গিয়ে নানাভাবে ভীতিও দেখানো হয়। এসব চাপ হয়তো মাহিন সরকার নিতে পারেনি। আমি তাকে বলেছিলাম আবারও ভেবে দেখার জন্য।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু মাহিন সরকারই নন, আমাদের প্যানেলের অনেক প্রার্থীকে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দূর থেকে এ ধরনের ষড়যন্ত্র চালানো হলেও আমরা বিচলিত নই। আমাদের মনোবল অটুট রয়েছে।”
মন্ত্রীপাড়ার চাপে মাহিন সরকারকে প্যানেল থেকে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদের।
জামালুদ্দীন মনে করেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাদের প্যানেল যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে, সেটিই ষড়যন্ত্রের মূল কারণ। তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলন থেমে নেই। মাহিন সরকারকে ঘিরে অনেকে জুলাই শক্তিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ আমাদের প্যানেলেই জুলাই অভ্যুত্থানে আহত বহু শিক্ষার্থী রয়েছে। জুলাই কোনো ব্যক্তির একক সম্পদ নয়, এটি সবার সম্মিলিত সংগ্রাম।”
প্যানেলের এজিএস প্রার্থী ফাতেহা শারমিন এ্যানি বলেন, “একজনের অনুপস্থিতিতে আমরা দমে যাব না। আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে দলীয় লেজুড়বৃত্তির, কিন্তু আমরা বরাবরই এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। মাঠের লড়াইয়ের মাধ্যমেই আমরা এ পর্যন্ত এসেছি।”
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) শিক্ষা ক্যাডারে স্বতন্ত্র কোডে লোকপ্রশাসন বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করাসহ দুই দাবিতে মানববন্ধন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। তারা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে কলেজ পর্যায়ে ‘পৌরনীতি ও সুশাসন’ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্গত বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করার জোড় দাবি জানান।
সোমবার, ১৮ আগস্ট, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বর থেকে মিছিল বের হয়ে প্রধান ফটকে এসে মিছিলটি মানববন্ধনে মিলিত হন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই ধরনের পাঠ্যক্রম থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হলেও লোকপ্রশাসন বিভাগকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। তারা বলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগকে শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে কর্মসংস্থানের সুযোগই বাড়বে না, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নীতি ও প্রশাসনিক জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এসময় শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সরকার, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো বিবেচনা করে দাবি বাস্তবায়নের আহবান জানান।
মানববন্ধনে একাগ্রতা প্রকাশ করে অংশ নেন লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক নিয়াজ মাখদুম, আফজাল হোসেন শাকিল এবং বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মো: মুজাহিদুল ইসলাম। লোক প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “লোকপ্রশাসন বিভাগকে শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন যৌক্তিক, আর তাদের এ ন্যায্য দাবি সরকারকে অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।”
বেরোবি লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষকরা মনে করেন, এই বিভাগের পাঠ্যক্রম রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মতোই শিক্ষা ক্যাডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবুও শিক্ষা ক্যাডার থেকে লোকপ্রশাসন বিভাগকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক।
তারা আরো বলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগ মূলত প্রশাসন, শাসনব্যবস্থা ও সমাজবিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চতর জ্ঞান প্রদান করে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অবদান রাখতে পারবে। শিক্ষকরা আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের এই দাবি যৌক্তিক, সময়োপযোগী এবং ন্যায্য। তাই সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগকে শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। মানববন্ধনে লোকপ্রশাসন বিভাগের দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ঢাকায় বসবাসরত ফেনী সদর ও পৌরসভার বাসিন্দাদের নিয়ে প্রীতি সমাবেশ ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো: তাহের সাবেক এমপি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলার সাবেক আমীর অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূইয়া, ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি আবদুল হান্নান, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক। সভাপতিত্ব করেন ঢাকাস্থ ফেনী সদর উন্নয়ন পরিষদের আহবায়ক কবির আহমদ। সমাবেশের সঞ্চালনা করেন ফেনী সদর উন্নয়ন পরিষদের সদস্য সচিব আতিকুর রহমান। প্রীতি সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবু ইউসুফ, ফেনী ফোরাম ঢাকা’র সাবেক সভাপতি ডা: মাহমুদুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জসীম উদ্দিন তালুকদার, জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি আনম আবদুর রহীম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নাদেরুজ্জামান, ফেনী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সামাউন হাসান, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শিহাব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূইঁয়া বলেন- “আমাদের ফেনীর কৃতি সন্তান হিসেবে ফেনীর উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ফেনীতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং আধুনিক সেনানিবাস করার জন্য আমাদের সকলকে ভূমিকা পালন করতে হবে।”
দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। অবশেষে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনটিআরসিএ ৪১ হাজার ৬২৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। তবে মোট শূন্যপদ ছিল এক লাখেরও বেশি। ফলে নিয়োগ-সুপারিশের পরও ৫৮ হাজারের বেশি পদ ফাঁকা রয়ে যাচ্ছে।
এই চিত্র শিক্ষাখাতের দীর্ঘদিনের আরেকটি সংকটকে সামনে আনে, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম টেকসই হচ্ছে না।
গত ১৬ জুন এনটিআরসিএ প্রকাশ করে ৬ষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। প্রায় এক লাখ আট শতাধিক শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে আবেদন জমা পড়ে ৫৭ হাজার ৮৪০টি। পরে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও মাউশি থেকে প্রেরিত আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮০টি শূন্যপদ বাতিল করা হয়। অবশিষ্ট ১ লাখ ৪২টি পদের বিপরীতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হন ৪১ হাজার ৬২৭ জন।
কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক শূন্যপদের বিপরীতে আবেদনকারীই ছিল তুলনামূলক কম। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ২৪ হাজারের কিছু বেশি, আর পুরুষ আবেদনকারী প্রায় ৩৪ হাজার। অনেকেই নিজেদের নিবন্ধন সনদ বহির্ভূত বিষয়ে আবেদন করায় ১২৫ জন বাদ পড়েছেন। শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু নিয়োগ-সুপারিশ দিয়ে শিক্ষার সংকট মিটবে না। শহরের বাইরে অনেক স্কুলে বিজ্ঞান, গণিত কিংবা ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস পাচ্ছে না, বরং পরীক্ষার সময় কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেন, “যে সংখ্যক পদ ফাঁকা থেকে যাচ্ছে, তা আসলে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। শিক্ষকবিহীন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান কীভাবে রক্ষা করা যাবে?”
এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশে শিক্ষাখাতে এক ধরনের গতি এসেছে, এ কথা সংশ্লিষ্টরাও স্বীকার করেন। কিন্তু বাস্তবতায় সমস্যা থেকে যাচ্ছে বহাল তবিয়তেই। একদিকে নিবন্ধিত প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের তুলনায় কম, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ভিত্তিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। শিক্ষানীতির বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল একটি গণবিজ্ঞপ্তি নয়, বরং ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। শূন্যপদ পূরণে নিয়মিত নিয়োগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষকতায় উৎসাহিত করা এখন জরুরি
৪১ হাজার শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষাখাতে স্বস্তির খবর বটে। তবে অর্ধেকেরও বেশি শূন্যপদ ফাঁকা থাকার বাস্তবতা উদ্বেগ বাড়ায়। শিক্ষার্থীরা কি প্রকৃত অর্থে মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে? শিক্ষক-সংকটময় এ বাস্তবতায় শিক্ষা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কী পরিকল্পনা হাতে নেবে, এখন সেটিই মূল প্রশ্ন।