Saturday, January 24, 2026
হোমশিক্ষাএনটিআরসির ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি: শিক্ষক নিয়োগে গতি এলেও শূন্যপদ অর্ধেকেরও বেশি

এনটিআরসির ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি: শিক্ষক নিয়োগে গতি এলেও শূন্যপদ অর্ধেকেরও বেশি

সাদী মোহাম্মদ সাদ
ক্যাম্পাস মিরর

দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। অবশেষে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনটিআরসিএ ৪১ হাজার ৬২৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। তবে মোট শূন্যপদ ছিল এক লাখেরও বেশি। ফলে নিয়োগ-সুপারিশের পরও ৫৮ হাজারের বেশি পদ ফাঁকা রয়ে যাচ্ছে।

এই চিত্র শিক্ষাখাতের দীর্ঘদিনের আরেকটি সংকটকে সামনে আনে, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম টেকসই হচ্ছে না।

গত ১৬ জুন এনটিআরসিএ প্রকাশ করে ৬ষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। প্রায় এক লাখ আট শতাধিক শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে আবেদন জমা পড়ে ৫৭ হাজার ৮৪০টি। পরে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও মাউশি থেকে প্রেরিত আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮০টি শূন্যপদ বাতিল করা হয়। অবশিষ্ট ১ লাখ ৪২টি পদের বিপরীতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হন ৪১ হাজার ৬২৭ জন।

কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক শূন্যপদের বিপরীতে আবেদনকারীই ছিল তুলনামূলক কম। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ২৪ হাজারের কিছু বেশি, আর পুরুষ আবেদনকারী প্রায় ৩৪ হাজার। অনেকেই নিজেদের নিবন্ধন সনদ বহির্ভূত বিষয়ে আবেদন করায় ১২৫ জন বাদ পড়েছেন। শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু নিয়োগ-সুপারিশ দিয়ে শিক্ষার সংকট মিটবে না। শহরের বাইরে অনেক স্কুলে বিজ্ঞান, গণিত কিংবা ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস পাচ্ছে না, বরং পরীক্ষার সময় কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেন, “যে সংখ্যক পদ ফাঁকা থেকে যাচ্ছে, তা আসলে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। শিক্ষকবিহীন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান কীভাবে রক্ষা করা যাবে?”

এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশে শিক্ষাখাতে এক ধরনের গতি এসেছে, এ কথা সংশ্লিষ্টরাও স্বীকার করেন। কিন্তু বাস্তবতায় সমস্যা থেকে যাচ্ছে বহাল তবিয়তেই। একদিকে নিবন্ধিত প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের তুলনায় কম, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ভিত্তিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। শিক্ষানীতির বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল একটি গণবিজ্ঞপ্তি নয়, বরং ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। শূন্যপদ পূরণে নিয়মিত নিয়োগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষকতায় উৎসাহিত করা এখন জরুরি

৪১ হাজার শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষাখাতে স্বস্তির খবর বটে। তবে অর্ধেকেরও বেশি শূন্যপদ ফাঁকা থাকার বাস্তবতা উদ্বেগ বাড়ায়। শিক্ষার্থীরা কি প্রকৃত অর্থে মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে? শিক্ষক-সংকটময় এ বাস্তবতায় শিক্ষা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কী পরিকল্পনা হাতে নেবে, এখন সেটিই মূল প্রশ্ন।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত