দেশের ২৫ জেলায় নতুন ডিসি

দেশের ২৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপসচিব হোসনা আফরোজা স্বাক্ষরিত আজ এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানভীর আহমেদকে ঢাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংযুক্ত উপসচিব মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যাকে ফরিদপুর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পিকেএম এনামুল করিমকে সিলেট, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. ফরিদুর রহমানকে হবিগঞ্জ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব মুফিদুল আলমকে ময়মনসিংহ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব তরফদার মাহমুদুর রহমানকে শেরপুর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারহানা ইসলামকে কুষ্টিয়া, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালকে ঝিনাইদহ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব মো. অহিদুল ইসলামকে মাগুরার ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালকে রংপুর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সংযুক্ত উপসচিব চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদকে গাইবান্ধা, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালকে নওগাঁ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকারকে নাটোর, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামকে পাবনা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হোসনা আফরোজাকে বগুড়া, বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. সাইদুজ্জামানকে জয়পুরহাটের ডিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে কক্সবাজার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত উপসচিব ফরিদা খানমকে চট্টগ্রাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সংযুক্ত উপসচিব ইসতিয়াক আহমেদকে নোয়াখালী, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনকে চাঁদপুর, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাফিসা আরেফীনকে গাজীপুর, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আমিরুল কায়সারকে কুমিল্লায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেনকে মৌলভীবাজার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে খুলনা এবং ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক মুহম্মদ কামরুজ্জামানকে গোপালগঞ্জের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এফবিসিসিআইর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন মো. হাফিজুর রহমান

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান।বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে এফবিসিসিআইর প্রশাসক হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় এফবিসিসিআইর সাধারণ পরিষদের সদস্য এবং এফবিসিসিআই সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ট্রেড অর্গানাইজেশন অ্যাক্ট, ২০২২ এর ধারা ১৭ এর অধীনে মো. হাফিজুর রহমান এফবিসিসিআইর প্রশাসক নিযুক্ত হন। এর আগে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি পদ থকে মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। মঙ্গলবার ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠনের ডিটিও বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান।

জানা গেছে, মাহবুবুল আলম সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ

প্রিয় দেশবাসী, দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, বয়স্ক, বৃদ্ধ, পুরুষ, মহিলা সবাইকে আমার সালাম জানাচ্ছি।

আসসালামু আলাইকুম 

বক্তব্যের শুরুতে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের প্রতি। আমি আরো স্মরণ করছি তাদের যারা ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রাণঘাতী অস্ত্রের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে, আহত হয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, হারিয়েছে তাদের চোখের দৃষ্টি। সেইসব বীরদের স্মরণ করছি যারা মিথ্যাচার, লুটপাট, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক দফা দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি আপনাদের ভাইবোনদের, আপনাদের সন্তানদের যারা এই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছে। 

প্রিয় দেশবাসী, 

আমি আগেও জানিয়েছি, আবারো জানাচ্ছি, গণ-অভ্যুত্থানে সকল শহীদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। সকল আহত শিক্ষার্থী শ্রমিক জনতার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে। আহতদের দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন নতুন তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতে এই তালিকা হাল নাগাদ করা হতে থাকবে। 

এই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকার তার যাত্রা লগ্নে ‘জুলাই গণহত্যা স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। এখন সে ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছে। সকল শহীদ পরিবার এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসহ তাদের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এই ফাউন্ডেশন গ্রহণ করছে। এই ফাউন্ডেশনে দান করার জন্য দেশের সকল মানুষ এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। 

গত মাসে কুমিল্লা-নোয়াখালী সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এসব এলাকার মানুষকে হতভম্ব করে দিয়েছে। এখানে বেশির ভাগ এলাকায় কোনো দিন বন্যা হয়নি। তারা বন্যা মোকাবেলা করায় অভ্যস্ত নন। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে বন্যা আক্রান্ত সবাইকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে। সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে একযোগে কাজে নেমে পড়ার ফলে মানুষের দুর্ভোগ কম হয়েছে। এর পরপরই এনজিও এবং সাধারণ মানুষ দেশের সকল অঞ্চল থেকে দলে দলে এগিয়ে এসেছে। আমি বিশেষ করে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দেশের সকল দুর্যোগকালে তারা সবসময় আন্তরিকভাবে এগিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বন্যা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে তাদের সৈনিক এবং অফিসাররা দিনের পরদিন যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছে তার কোনো তুলনা হয় না। জনজীবনে স্বস্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁদের ভূমিকা অনন্য। 

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে আমি ধন্যবাদ জানাই তাদের সততা, ত্যাগ ও অসীম দেশপ্রেমের জন্য। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বন্যা, খরা, ঝড়, বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়সহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগে আপনারা সকলের শেষ ভরসার স্থান। দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে আপনারা দেশের মানুষের পাশে থেকেছেন। দেশের স্বাধীনতার পক্ষে, সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দেশ গঠনেও আপনারা সবার আগে এগিয়ে এসেছেন। বিগত জুলাই হতে শুরু হওয়া গণ-অভ্যুত্থান, বন্যা, নিরাপত্তা প্রদান, অস্ত্র উদ্ধারসহ সকল কার্যক্রমে আপনারা সফলভাবে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। 

বন্যা আমাদের জনজীবনে আরেকটি দিক উন্মোচন করল। দেশের সকল জায়গায় মানুষের সক্রিয় সহানুভূতির জোয়ার উঠেছিল অবিশ্বাস্য মাত্রায়। ব্যবসায়ী, অর্থবান ব্যক্তিরা যেমন তাদের অর্থ নিয়ে স্বঃতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছিল, তেমনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা জোয়ারের ঢলের মতো যার যার সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে। অনেকেই ছুটে গেছে বন্যার্তদের সহযোগিতা করার জন্য। এনজিওরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে গেছে তাদের সহায়তা নিয়ে। তাদের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি এনজিও নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি কীভাবে সরকার তাদের কাজের সঙ্গে সরকারের উদ্যোগকে সমন্বিত করতে পারে সেটার কাঠামো তৈরি করে দেয়ার জন্য। বন্যা এখন চলে গেছে। কিন্তু পুনর্বাসনের কঠিন কাজ আমাদের সামনে রয়ে গেছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা পুনর্বাসনের কাজটি সফলভাবে সমাধান করতে চাই। 

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। যেসমস্ত ভাই-বোনেরা তাদের গত ১৬ বছরের বেদনা জানিয়ে তার প্রতিকার পাওয়ার জন্য আমার অফিস এবং সচিবালয়ের অফিসসমূহের সামনে প্রতিদিন ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে আমাদের কাজকর্ম ব্যাহত করছিলেন তারা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি থেকে বিরত হয়েছেন বটে তবে অন্যত্র আবার তারা তাদের কর্মসূচি দিয়ে যাতায়াতে ব্যাঘাতও সৃষ্টি করেছেন। আমি কথা দিচ্ছি আপনাদের ন্যায্য আবেদনের কথা ভুলে যাব না। আমরা সকল অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা আমাদের দায়িত্বকালে যথাসম্ভব সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। আমি আবারো অনুরোধ করছি আপনারা যাতায়াতে ব্যাঘাত সৃষ্টি থেকে বিরত থাকুন। জাতি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। 

তৈরি পোশাক, ওষুধ শিল্প এসব এলাকায় শ্রমিক ভাইবোনেরা তাদের অভিযোগ জানানোর জন্য ক্রমাগতভাবে এই শিল্পের কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ রাখতে বাধ্য করছেন। এটা আমাদের অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে সেটা মোটেই কাম্য নয়। এমনিতেই ছাত্র-শ্রমিক-জনতার বিপ্লবের পর যে অর্থনীতি আমরা পেয়েছি সেটা নিয়মনীতিবিহীন দ্রুত ক্ষীয়মাণ একটা অর্থনীতি। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আমরা এই অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা করছি। আমাদের উদ্যোগে সাড়াও পাচ্ছি। ঠিক এই সময়ে আমাদের শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে, অকার্যকর হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট আঘাত পড়বে। সেটা কিছুতেই কারো কাম্য হতে পারে না।

শ্রমিক ভাইবোনদের অনেক দুঃখ আছে। কিন্তু সেই দুঃখ প্রকাশ করতে গিয়ে আপনাদের মূল জীবিকাই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে সেটা ঠিক হবে না। দেশের অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে সেটা ঠিক হবে না। মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে এসব সমস্যার সমাধান আমরা অবশ্যই বের করব। আপনারা কারখানা খোলা রাখুন। অর্থনীতির চাকা সচল রাখুন। দেশের অর্থনীতিকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দিন। আমরা আপনাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করব। মালিক পক্ষের কাছে আমাদের আবেদন, আপনারা শ্রমিকদের সঙ্গে বোঝাপড়া করুন। কারখানা সচল রাখুন। অর্থনীতির দুর্বল স্বাস্থ্যকে সবল করে তুলুন। 

ওষুধ শিল্প এবং তৈরি পোশাক শিল্প দেশের গৗরব। এর মাধ্যমে আমাদের শ্রমিক ভাইবোনেরা ও তাদের কর্মকুশলতা বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। এর সাফল্য এখন থমকে আছে। আমরা এই দুই শিল্পকে তাদের সম্ভাব্য শীর্ষে নিয়ে যেতে চাই। দুর্বল করার তো প্রশ্ন ওঠেই না। এই দুই শিল্পের কোথায় কোথায় বাধা আছে, সমস্যা আছে সেগুলো চিহ্নিত করে তাকে বাধা মুক্ত করতে চাই। আমরা বিদেশী ক্রেতাদের একত্রিত করে তাদের সহযোগিতা চাইব যেন বাংলাদেশের এই শিল্প দুটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের চাইতে বেশি আস্থাযোগ্য হয়ে গড়ে উঠতে পারে। সব কিছুই সম্ভব যদি আমরা শ্রমিক-মালিক সম্পর্কটা একটা নির্ভরযোগ্য, আনন্দদায়ক করে গড়ে তুলতে পারি। আমাদের সরকারের প্রথম মাস কাটল। দ্বিতীয় মাস থেকে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হিসেবে নতুন শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের সূচনা করতে চাই। এটা দেশের সবার কাম্য। দেশের নতুন প্রজন্ম নির্ভয়ে যেন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

আমাদের দায়িত্ব অনেক। ন্যায়ভিত্তিক একটি সমাজ গড়ে তোলার জন্য একসাথে অনেকগুলো কাজে আমাদের হাত দিতে হবে। পহেলা জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনকে দমন করতে যেসব ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, এর মধ্যে হত্যা মামলা ছাড়া বাকি প্রায় সকল মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতারকৃত সকলে মুক্তি পেয়েছেন। 

দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচার বিভাগের বড় সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে। যোগ্যতম ব্যক্তিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়াতে মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ, অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগসহ অনেকগুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ এবং অন্যান্য নিয়োগ সবকটাই সম্পন্ন হয়েছে।

সন্ত্রাস দমন আইন ও ডিজিটাল/সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বাংলাদেশে বিদ্যমান সকল কালো আইনের তালিকা করা হয়েছে। অতিসত্বর এ সকল কালো আইন বাতিল ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধন করা হবে। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডসহ বহুল আলোচিত পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির জন্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

সম্প্রতি আমরা বলপূর্বক গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন সনদে স্বাক্ষর করেছি। ফলে স্বৈরাচার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত “গুম সংস্কৃতির সমাপ্তি ঘটানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলাম। এছাড়া আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৫ বছরে গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করার জন্য পৃথক একটি কমিশন গঠন করছি। যেসব পরিবার তাদের নিখোঁজ পিতা, স্বামী, পুত্র এবং ভাইদের পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে যন্ত্রণার সাথে অপেক্ষা করছেন, আমরা আপনাদের বেদনায় সমব্যথী। আয়নাঘরগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং সেই সাথে বের হয়ে আসছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের গুমের শিকার ভাইবোনদের কষ্ট ও যন্ত্রণা গাথা। আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতে যেন উজ্জ্বল হয় সেটা নিশ্চিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে আমাদের পূর্ণ নজর রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বর্তমানের ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে। বই সংশোধন এবং পরিমার্জনের কাজ শেষ পর্যায়ে আছে। এ সংস্কারের কাজ অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উচ্চ প্রশাসনিক পদগুলো পূরণ করে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা বোর্ডে দখলদারিত্বের রাজনীতি বন্ধ করার ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন আমাদের প্রথম মাসে দেশের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্য মহোদয়গণ পদত্যাগ করেছেন। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এটা বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। প্রথম মাসে আমরা ক্রমাগতভাবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার কাজ শুরু করেছি। এর ফলে সকল সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা সবাইকে বলে দিয়েছি, আপনারা মন খুলে আমাদের সমালোচনা করেন। আমরা সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মিডিয়া যাতে কোনো রকম বাধা-বিপত্তি ছাড়া নির্বিঘ্নে তাদের কাজ করতে পারে সেজন্য একটি মিডিয়া কমিশন গঠন করা সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন। আরো যেসব কমিশন সরকারসহ অন্য সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারে, আমরা তাদের পুনর্গঠন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি যাতে তারা আরো শক্তিশালী হয়, জনকল্যাণে কাজ করে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান টেলিফোনে এবং শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়ে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনারবৃন্দ আমার সাথে সাক্ষাৎ করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছেন। আমার অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৭ জন বাংলাদেশী যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন সে দেশের সরকার। ইতোমধ্যে তাদের কয়েকজন দেশে ফিরে এসেছেন। এই ক্ষমা প্রদর্শন ছিল অতি বিরল একটি ঘটনা। এজন্য আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি আপনাদের সবার পক্ষ থেকে। 

যেসমস্ত সরকারপ্রধানের সঙ্গে আমার টেলিফোনে যোগাযোগ হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আমরা ভারত এবং অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে ন্যায্যতা এবং সমতার ভিত্তিতে। ভারতের সাথে আমরা ইতিমধ্যে বন্যা মোকাবেলায় উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আলোচনা শুরু করেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমি সার্ক রাষ্ট্র গোষ্ঠী পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। 

আমরা চাই আমাদের দেশ যেন একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে সম্মানের সাথে পরিচিত হয়। দেশের পরিকল্পনা যেন দেশের মানুষকেন্দ্রিক হয়, কোনো নেতা বা দলকেন্দ্রিক নয়। আমরা স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের অহেতুক কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে দেখেছি যেগুলো কখনই দেশের মানুষের জন্য ছিল না, বরং এর সাথে জড়িত ছিল কুৎসিত আমিত্ব এবং বিশাল আকারের চুরি। চলমান এবং প্রস্তাবিত সকল উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর যাচাই-বাছাই করার কাজ ইতিমধ্যে আমরা শুরু করেছি। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায় বিবেচনা করে বাকি কাজে ব্যয়ের সাশ্রয় এমনকি প্রয়োজন বোধে তা বাতিল করার কথা বিবেচনা করা হবে। দেশের মানুষকে আর ফাঁকি দেয়া চলবে না। কর্মসংস্থান তৈরি করবে এমন প্রকল্পগুলোকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। 

লুটপাট ও পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটা ব্যাংকিং কমিশনও গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে এই এক মাসে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। আপনারা নিশ্চয় সেটা লক্ষ করেছেন। আমরা এই খাতে নিয়ম নীতি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আরো অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে। প্রথম মাসের কাজ হিসেবে শুধু প্রধান কাজগুলো করেছি। তার সঙ্গে রয়েছে আরো অনেক পরবর্তী কাজ। 

ফ্যাসিবাদী সরকার লুটপাট করার জন্য নতুন করে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতির শিকার হয়েছে দেশের মানুষ। এই অতুলনীয় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পলিসি সুদের হার বৃদ্ধি করে ৯ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ সুলভ মূল্যে প্রান্তিক মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ চলমান রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় চলতি অর্থবছরে চাল ও গম আমদানির জন্য ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের জন্য ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা এবং খাদ্য ভর্তুকির তিনটি প্রোগ্রামের জন্য ৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে সভা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে করণীয়সমূহ চিহ্নিত করা হচ্ছে।

পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় যৌক্তিক পরিমাণে হ্রাস করার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য সার আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রকৃত চাষীগণ যাতে কৃষি ঋণ পেয়ে থাকেন তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি কৃষি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার অনৈতিক অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সাপোর্ট চাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বিশ্বব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাইকা থেকে অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রিমের অর্থ পরিশোধ এবং বকেয়া পাওনা নিয়ে রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলোচনা চলছে।

পাইপলাইনে থাকা ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট বন্ধের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়া এবং চীন থেকে প্রাপ্ত ঋণের সুদের হার কমানো এবং ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সকল উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে সম্পর্ক আরো নিবিড় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সকল অর্থনৈতিক সূচক এবং পরিসংখ্যানের প্রকৃত মান বা সংখ্যা প্রকাশের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জিডিপি, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদির সঠিক উপাত্ত সংগ্রহ, প্রাক্কলন এবং প্রকাশের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অর্থ বিভাগের রাজস্ব আয় সম্পর্কিত উপাত্তের মধ্যে পার্থক্য নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকৃত রফতানি আয় নিরূপণ এবং প্রকাশের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অটোমাইজেশনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুঁজি বাজারকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার নিমিত্ত ব্যবসায়ী, শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সভা করা হয়েছে এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিদ্যমান মজুদ ও ঘাটতি মূল্যায়ন করে ও ভবিষ্যৎ চাহিদা পর্যালোচনা করে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে বিভিন্ন জটিলতা দূরীকরণ, বন্দর ও বড় মোকামসহ পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, দপ্তর, বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এজন্য তেল, চিনি, ডিম ও মাংস উৎপাদনকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সভা ও মতবিনিময় করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্যাদি, যেমন পেঁয়াজ, আলু এসবের দাম আরো কমানোর জন্য বিদ্যমান শুল্কহার হ্রাসের বিষয়ে এনবিআরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এনবিআর পেঁয়াজ, আলু ও কতিপয় কীটনাশকের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক হ্রাস ও ক্ষেত্রবিশেষে রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করে এসআরও জারি করেছে। নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারকে টিসিবির মাধ্যমে হ্রাসকৃত মূল্যে কিছু পণ্য, যেমন পরিবারপ্রতি চাল মাসে ৫ কেজি, সয়াবিন তেল মাসে ২ কেজি ও মসুর ডাল মাসে ২ কেজি দেয়া হচ্ছে। এটি সামনের দিনগুলোতে অব্যাহত রাখা হবে। 

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় হতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইনের অধীন চলমান সকল প্রকার নেগোসিয়েশন, প্রকল্প বাছাই এবং ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। গত দেড় দশকে এই আইন ব্যবহার করে লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কোম্পানিসমূহে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার লক্ষ্যে কোম্পানিসমূহের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রকৌশল, ভূতত্ত্ব ও খনিজ এবং হিসাব বিষয়ে অধ্যয়ন করেছে এমন ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ খাতে অধিকতর সক্ষমতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞগণের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্য জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সহনশীল রাখতে অকটেন ও পেট্রলের দাম ৬ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১.২৫ টাকা কমানো হয়েছে। ৩৭ দিন বন্ধ থাকার পর গত ২৫ আগস্ট হতে মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন ছাড়া বাকি সব স্টেশনে মেট্রোরেল পুনরায় চালু করা হয়েছে।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের বয়স সাড়ে বারো বছরের কম ছিল, তাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হতে বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিলের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন বেদখলকৃত স্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়া তৈরির কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ও ঢাকার আশপাশে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের রোডম্যাপ চূড়ান্তকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিধিবহির্ভূত প্রদত্ত প্লট ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী, 

আপনাদের আমাদের সন্তানদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপরেখা তৈরি করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আর যেন আমাদের কোনো স্বৈরাচারের হাতে পড়তে না হয়, আমরা যাতে বলতে পারি আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করি, আমরা যাতে সকলেই দাবি করতে পারি যে এই দেশটি আমাদের—আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কেউ সমাজে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করলে আমরা তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসব। আমরা একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এমন কোনো কাজ কেউ কোনোভাবেই করবেন না। 

অতীতে শুধুমাত্র আওয়ামী মতাদর্শী না হওয়ার কারণে ২৮তম থেকে ৪২তম বিসিএস পর্যন্ত বিপিএসসি কর্তৃক সুপারিশকৃত অনেক প্রার্থী নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন। ৮ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এর মধ্যে ২৫৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলকভাবে গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এটা প্রতি বছর তাদের করতে হবে। 

ধ্বংস হয়ে পড়া একটা জনপ্রশাসনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। মন্ত্রণালয়গুলোর উচ্চতম পদে যারা নিয়োজিত ছিলেন তারা অনেকে দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেছেন কিংবা পদে থাকলেও সহকর্মীদের চাপের মুখে কাজ করতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেছেন। আর যারা ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের আমলে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন কিংবা দায়িত্ববিহীন অবস্থায় একই পদে থেকে যেতে বাধ্য হয়েছেন তাদের সবার কথা বিবেচনায় নিয়ে জনপ্রশাসনকে নতুন করে দাঁড় করানোই ছিল আমাদের কঠিনতম সময়। আবার সকল সমস্যা সমাধান করে একটি নতুন জনপ্রশাসন কাঠামো দাঁড় করাতে পেরেছি এটাই আমাদের প্রথম মাসের সবচাইতে বড় অর্জন। আমার বিশ্বাস এই জনপ্রশাসন জনগণের ইচ্ছা পূরণে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারবে। 

অতি স্বল্প জনবল নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করা হলেও প্রথম দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে পাঠানো বিবিধ প্রস্তাব বিষয়ে দ্রুত গতিতে এবং আইনগত সমস্ত বাধ্যবাধকতা মেনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত এক মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৯৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জন প্রশাসনের ১৩৫ জন অতিরিক্ত সচিব, ২২৭ জন যুগ্ম সচিব ও ১২০ জন উপসচিবকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। ৫৯টি জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং নতুন ৫৯ জন জেলা প্রশাসককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৬৭ জন কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ১০ জন যুগ্ম সচিব, ৮ জন অতিরিক্ত সচিব ও ৬ জন সচিবকে ওএসডি করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের ৮০ জন ডিআইজি, ৩০ জন পুলিশ সুপারসহ ১১০ জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। ১ জন ডিআইজি, ১ অ্যাডিশনাল ডিআইজি এবং ৪ জন পুলিশ সুপারকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে। আইজিপিসহ ১০ জন অতিরিক্ত আইজি, ৮৮ জন ডিআইজি, ২১ জন অ্যাডিশনাল ডিআইজি এবং ১৭৭ জন পুলিশ সুপারসহ মোট ২৯৭ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

ছাত্র, শ্রমিক, জনতার বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল গণভবন। এটা ছিল স্বৈরাচারের কেন্দ্রবিন্দু। এই সরকার বিপ্লবের প্রতি সম্মান দেখিয়ে গণভবনকে বিপ্লবের জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ছাত্র-জনতার ক্ষোভকে স্থায়ীভাবে তুলে ধরার জন্য গণভবনের আর কোনো সংস্কার করা হবে না। ছাত্র-জনতার ক্ষোভের মুখে তা যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল সে অবস্থায় তাকে রাখা হবে। যেসব মূল্যবান সামগ্রী জনতা নিয়ে গিয়েছিল সেগুলো অনেকে ফেরত দিয়ে গেছে। যারা নিয়ে গিয়েছিল তারা নিজেরাই ফেরত দিয়ে গেছে। তাদের আমরা দেশবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আরো কিছু জিনিস পাওয়া যায়নি। যারা নিয়ে গিয়েছেন তাদের কাছে অনুরোধ করব তারা যেন এসব সামগ্রী ফেরত দিয়ে যান। আমরা উল্লেখ করব যে এসব বিক্ষুব্ধ জনতা নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বিজয়ের পর তারা আবার জাদুঘরের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এগুলো ফেরত দিয়ে গিয়েছে। 

আমরা নতুন বাংলাদেশকে একটি পরিবেশবান্ধব এবং জীব বৈচিত্র্যময় দেশ হিসাবে গড়ে তলার উদ্যোগ নিয়েছি। এটি তরুণদের আকাঙ্ক্ষা। আমাদের সবারই আকাঙ্ক্ষা। সেই লক্ষ্যে আমি প্রথমেই একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ নিয়েছি। আমার বাসভবন ও সমগ্র সচিবালয়ে প্লাস্টিকের পানির বোতল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি। ইতোমধ্যে সুপার শপগুলোতে পলিথিনের শপিং ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত কয়েক দশকে যে পরিমাণ নদী দূষণ হয়েছে, আমরা তা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছি।

আমরা সংস্কার চাই। আমাদের একান্ত অনুরোধ, আমাদের ওপর যে সংস্কারের গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব দিয়ে আপনারা দর্শকের গ্যালারিতে চলে যাবেন না। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমরা একসঙ্গে সংস্কার করব। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব। আপনারা নিজ নিজ জগতে সংস্কার আনুন। একটা জাতির সংস্কার শুধুমাত্র সরকারের সংস্কার হলে হয় না। আপনি ব্যবসায়ী হলে আপনার ব্যবসায় সংস্কার আনুন। ব্যবসায়ী গোষ্ঠীরা তাদের নিজ নিজ সমিতির মাধ্যমে সংস্কার আনুন। সমিতিতে সংস্কার আনুন। নতুন করে সমিতির গঠনতন্ত্র সংশোধন করুন। আপনি শ্রমিক হলে আপনার ক্ষেত্রে আপনি সংস্কার করুন। আপনি রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হলে আপনার ক্ষেত্রে সংস্কার করুন। আপনি প্রতিষ্ঠানপ্রধান হলে আপনার প্রতিষ্ঠানে সংস্কার আনুন। আমি এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি। এই সংস্কারের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চাই। আমাদের এই যাত্রা আমাদের পৃথিবীর একটি সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুক এটাই আমাদের সবার কাম্য।

বিগত মাসে আমি বেশকিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বসেছি। তাঁদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করেছি। তারা আমাদের উৎসাহিত করেছেন। ছাত্র, শ্রমিক-জনতার বিপ্লবের লক্ষ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সংস্কারের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমি দেশের বিশিষ্ট সম্পাদকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। তারাও সংস্কারের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন। সবার পরামর্শ নিয়ে এখন আমাদের অগ্রসর হওয়ার পালা। আমি বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের কাছে আমাদের সরকারের লক্ষ্যগুলো ব্যাখ্যা করেছি। তারাও আমাদের লক্ষের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন। 

আপনার জানেন ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে এবং হাজারো মানুষের আত্মদানের বিনিময়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এই গণ-অভ্যুত্থানের বার্তা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি অভূতপূর্ব সময় ও সুযোগ আমরা এর মধ্যে দিয়ে অর্জন করেছি। এর বাস্তবায়ন তথা বাংলাদেশে ফ্যাসিজম বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসন পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রোধ এবং জনমালিকানাভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও জনস্বার্থে নিবেদিত একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে কিছু জাতীয়ভিত্তিক সংস্কার সম্পন্ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। উক্ত সংস্কার ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। 

আমরা যেহেতু জনগণের ভোটাধিকার ও জনগণের মালিকানায় বিশ্বাস করি, সেহেতু নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের সংস্কার ভাবনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একাধিপত্য ও দুঃশাসন মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া বা এর মাধ্যমে এক ব্যক্তি বা পরিবার বা কোনো গোষ্ঠীর কাছে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব আশঙ্কা রোধ করার জন্য নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের কথা আমরা ভাবছি। নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রশাসন, বিচার প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। এসব প্রতিষ্ঠানের সংস্কার জনমালিকানাভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এর পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বার্তাকে প্রতিফলিত করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি। 

এসব বিষয়ে সংস্কার করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে আমরা প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব কমিশনের কাজ পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককে এই কমিশনগুলি পরিচালনা করার দায়িত্ব দিয়েছি। এরপর আরো বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়া আমরা অব্যাহত রাখব।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন জনাব সরফরাজ চৌধুরী, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে জনাব আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিক দায়িত্ব পালন করবেন। এসব কমিশনের অন্য সদস্যদের নাম কমিশনপ্রধানদের সাথে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কমিশনগুলোর আলোচনা ও পরামর্শসভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ছাত্র, শ্রমিক, জনতা আন্দোলনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। 

পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু করতে পারবে বলে আশা করছি এবং এটি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আমরা ধারণা করছি। কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শসভার আয়োজন করবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শসভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এই রূপরেখা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তার একটি ধারণাও দেয়া হবে। এই আয়োজন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বার্তা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণ তাগিদের ঐক্যবন্ধনে গোটা জাতিকে শক্তিশালী ও আশাবাদী করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস। 

প্রিয় দেশবাসী, 

আমাদের সামনে অনেক কাজ। সবাই মিলে একই লক্ষ্যে আমরা অগ্রসর হতে চাই। আমাদের মধ্যে, বিশেষ করে আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে আছে সেটা যেন বিনা বাধায়, রাষ্ট্রের এবং সমাজের সহযোগিতায় প্রকাশ করতে পারি সেই সুযোগের কাঠামো তৈরি করতে চাই। সকলে মিলে আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে, সে ঝাড়ুদার হোক, ছাত্র হোক , শিক্ষক হোক, যেকোনো ধর্মের হোক, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এই হলো আমাদের সংস্কারের মূল লক্ষ্য। আসুন ছাত্র, শ্রমিক, জনতার এই বিপ্লবের লক্ষ্যকে আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন করি। আমাদের প্রথম মাসে আমরা যে গতিতে, যে উদ্যম নিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করেছিলাম হয়তো সেটা করতে পারিনি বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা গেলে আশা করি আমরা আমাদের গতি অনেক বাড়াতে পারব। এজন্য দেশের সকল মানুষের কাছে—শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবী, বড় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর, গৃহিণী সকলের সহযোগিতা চাইছি। আমাদের কাজ বড় কঠিন, কিন্তু জাতি হিসেবে এবার ব্যর্থ হওয়ার কোনো অবকাশ আমাদের নেই। আমাদের সফল হতেই হবে। এই সাফল্য আপনাদের কারণেই আসবে। আপনার সহযোগিতার কারণে আসবে। আমাদের কাজ হবে আপনার, আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করা। এখন আমরা দ্বিতীয় মাস শুরু করছি। আমাদের দ্বিতীয় মাসে যেন আপনাদের মনে দৃঢ় আস্থা সৃষ্টি করতে পারি সে চেষ্টা করে যাব। ধৈর্য ধরুন এই কথাটি আমি মোটেই আপনাদের বলব না। আমরা সবাই অধৈর্য হয়ে পড়েছি এতসব কাজ কখন যে শেষ হবে এটা চিন্তা করে। আমরা অধৈর্য হব। কেন হব না। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ করব। কাজে কোন অধৈর্যের চিহ্ন রাখব না। 

প্রিয় দেশবাসী, দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী বয়স্ক, বৃদ্ধ, পুরুষ, মহিলা সবাইকে আবারো আমার সালাম জানাচ্ছি। 

আসসালামু আলাইকুম। 

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭.৩০টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে।

রাষ্ট্র সংস্কারে ৬ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত : প্রধান উপদেষ্টা

0

রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা যেহেতু জনগণের ভোটাধিকার ও জনগণের মালিকানায় বিশ্বাস করি, সেহেতু নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের সংস্কার ভাবনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একাধিপত্য ও দুঃশাসন মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বা এর মাধ্যমে এক ব্যক্তি বা পরিবার বা কোনো গোষ্ঠীর কাছে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব আশঙ্কা রোধ করার জন্য নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের কথা আমরা ভাবছি। নির্বাচনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রশাসন, বিচার প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এই চারটি প্রতিষ্ঠানের  সংস্কার করা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।
এসব প্রতিষ্ঠানের সংস্কার জনমালিকানা ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও অবদান রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
প্রধান উপদে্টা বলেন, এর পাশাপাশি করে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তাকে প্রতিফলিত করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি।
এসব বিষয়ে সংস্কার করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব কমিশনের কাজ পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককে এই কমিশনগুলো পরিচালিনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পর আরও বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়া আমরা অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।’
তিনি আরো জানান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন সফর রাজ হোসেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিক দায়িত্ব পালন করবেন।
ড. ইউনূস বলেন, এসব কমিশনের অন্য সদস্যদের নাম কমিশন প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কমিশনগুলোর আলোচনা ও পরামর্শসভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ছাত্র, শ্রমিক, জনতা আন্দোলনের প্রতিনিধি,  নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু করতে পারবে বলে আশা করছি এবং এটি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আমরা ধারণা করছি। কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শসভার আয়োজন করবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শসভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এই রূপরেখা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তার একটি ধারণাও দেওয়া হবে। এই আয়োজন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণ তাগিদের ঐক্যবন্ধনে গোটা জাতিকে শক্তিশালী ও আশাবাদী করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
ড. ইউনূস বলেন, আমরা সংস্কার চাই। আমাদের একান্ত অনুরোধ, আমাদের ওপর যে সংস্কারের গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব দিয়ে আপনারা দর্শকের গ্যালারিতে চলে যাবেন না। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমরা একসঙ্গে সংস্কার করব। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।
তিনি সবাইকে সংস্কারকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই সংস্কারের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চাই। আমাদের এই যাত্রা আমাদের পৃথিবীর একটি সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুক এটাই আমাদের সবার কাম্য।’
প্রধান উপদেষ্টা বিগত মাসে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল, দেশের বিশিষ্ট সম্পাদকগ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক ও মত বিনিময় করার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা সংস্কারের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন এবং ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা বিপ্লবের লক্ষ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আপনার জানেন ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে এবং হাজারো মানুষের আত্মদানের বিনিময়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি অভূতপূর্ব সময় ও সুযোগ আমরা এর মধ্যে দিয়ে অর্জন করেছি। এর বাস্তবায়ন তথা বাংলাদেশে ফ্যাসিজম বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসন পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রোধ এবং জনমালিকানা ভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও জনস্বার্থে নিবেদিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে কিছু জাতীয়ভিত্তিক সংস্কার সম্পন্ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ওই সংস্কার ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।’
সামনে অনেক কাজ উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘সবাই মিলে একই লক্ষ্যে আমরা অগ্রসর হতে চাই। আমাদের মধ্যে, বিশেষ করে আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে আছে, সেটা যেন বিনা বাধায় রাষ্ট্রের ও সমাজের সহযোগিতায় প্রকাশ করতে পারি, সেই সুযোগের কাঠামো তৈরি করতে চাই। সকলে মিলে… সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এই হলো আমাদের সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
ছাত্র, শ্রমিক, জনতার এই বিপ্লবের লক্ষ্যকে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রথম মাসে আমরা যে গতিতে, যে উদ্যম নিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করেছিলাম, হয়তো সেটা করতে পারিনি বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা গেলে আশা করি আমরা আমাদের গতি অনেক বাড়াতে পারব।’ এজন্য দেশের সকল মানুষের কাছে সহযোগিতা চান তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, আমাদের কাজ বড় কঠিন, কিন্তু জাতি হিসেবে এবার ব্যর্থ হওয়ার কোনো অবকাশ আমাদের নেই। আমাদের সফল হতেই হবে। এই সাফল্য আপনাদের কারণেই আসবে। আপনার সহযোগিতার কারণে আসবে। আমাদের কাজ হবে আপনার, আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করা। ‘
তিনি বলেন, এখন আমরা দ্বিতীয় মাস শুরু করছি। আমাদের দ্বিতীয় মাসে যেন আপনাদের মনে দৃঢ় আস্থার সৃষ্টি করতে পারি সে চেষ্টা করে যাব।’ সূত্রঃ বাসস। 

বৈষম্যহীন ও গতিশীল অর্থনীতির জন্য টাস্কফোর্স গঠন

বৈষম্যহীন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সরকার উন্নয়ন কৌশল পুনর্বিন্যাস করার লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. কে এস মুরশিদের নেতৃত্বে ‘অর্থনীতির পুনঃকৌশলীকরণ এবং ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সম্পদ সংগ্রহ’ শীর্ষক এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। গতকাল পরিকল্পনা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়,  বৈষম্যহীন ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

এটি একটি ন্যায্য, টেকসই ও গতিশীল অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করবে। টাস্কফোর্সে আরো নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

টাস্কফোর্সের অন্য সদস্যরা হলেন- বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আখতার মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের গবেষণা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. আবদুর রাজ্জাক, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুশফিক মোবারক, বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, এমসিসিআই’র সাবেক সভাপতি নাসিম মঞ্জুর, বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর আহমেদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বিডিজবস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ফাহিম মাশরুর এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মো. কাওসার আহমেদ। সূত্রঃ বাসস। 

ড্যাপের সংশোধন কেন প্রয়োজন

বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) গেজেট হয়েছে ২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রায় এক বছর এর বয়স। এ এক বছরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র গ্রহণ কিংবা অনুমোদনের জন্য নকশা দাখিলের পরিমাণ খুব আশাব্যঞ্জক নয়। নগরবাসীর কেমন একটা দ্বিধা কাজ করছে। আমার নিজেরও এ গেজেট প্রকাশের সময় থেকেই অনেক প্রশ্ন মনে জেগেছে, কিন্তু কোথাও কোনো সদুত্তর পাচ্ছি না। সবাই কিছু একটা লুকাচ্ছে কিংবা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে।

এক. গেজেট নিয়ে প্রশ্ন 

আমার অতি ক্ষুদ্র পড়াশোনা বলে, কোনো অঞ্চলের মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা আর ড্যাপ দুটো এক নয়; একেবারে ভিন্ন বিষয়। দুটি ক্ষেত্র প্রণয়নের জন্য অগ্রবর্তী হওয়ার ধারাবাহিকতা একদম ভিন্ন।

টিআই অ্যাক্টের আওতায় কোনো মহাপরিকল্পনা প্রণীত হওয়ার অনুমতি থাকলেও ড্যাপ প্রণয়ন ও গেজেটের আগে আরো কিছু কর্মসম্পাদন ও সেগুলোর অনুমোদিত গেজেট খুব প্রয়োজন। সেগুলো ব্যতিরেকে অর্থাৎ আগের ধাপ যথাযথ ভাবে অনুসরণ না করে পরের ধাপে পা দেয়া বিধিসম্মত হয়না। আমি আসলেই খুব অনিশ্চিত এ বিষয়টি ভেবে যে সরকার কর্তৃক গেজেটকৃত ড্যাপে ইংরেজিতে MASTER PLAN লিখে বাংলায় বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা”লেখাটি কি আসলে বিধিসম্মত, নাকি এখানে খানিকটা গোঁজামিল আছে? মাস্টারপ্ল্যান মানে কি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা? 

ঢাকা মহানগরীর ড্যাপ ২০২৩ গেজেট: প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা, অসংগতি ও নকশা অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশ্লেষণ
ঢাকা মহানগরীর ড্যাপ ২০২৩ গেজেট: প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা, অসংগতি ও নকশা অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশ্লেষণ

দুই. প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০২০ উপেক্ষা 

২০০০ সালের ৩৬ নং আইনটি পরিবেশ রক্ষার্থে একটি যথাযথ আইন ছিল। ছিল বলার কারণ আইনটি আজ পর্যন্ত বহাল থাকলেও ড্যাপ প্রণেতারা প্রণয়ন এবং গেজেট করাকালে এ আইন অমান্য করেছিলেন। যে আইনের প্রসঙ্গে বলছি সেটি হলো”মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ (২০০০ সালের ৩৬ নং আইন)।

এ আইনের অল্প কয়েকটি ধারা এখানে উল্লেখ করব। ড্যাপ প্রণয়নে এ ধারাগুলোর ব্যত্যয় দেখে সবাই অনুভবে আনতে পারবেন, ড্যাপ পরিবর্তন ও সংশোধনের জন্য এতদিন ধরে যে প্রতিবাদ সবাই (অল্প কয়েকজন বাদে প্রণেতা ও তাদের সমর্থনকারী) করে আসছিলাম তা যথার্থ ছিল।

আইনের ধারা সংজ্ঞা ২ (চ)-এ বলা হয়েছে,”প্রাকৃতিক জলাধার”অর্থ নদী, খাল, বিল, দিঘি, ঝরনা বা জলাধার হিসেবে মাস্টারপ্ল্যানে চিহ্নিত কিংবা সরকার, স্থানীয় সরকার অথবা কোনো সংস্থা কর্তৃক, গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে ঘোষিত কোনো জায়গা এবং সব পানি ও বৃষ্টির পানি ধারণ করে এমন কোনো ভূমিও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

আইনের ধারা ৫ শ্রেণী পরিবর্তনে বাধানিষেধ অংশে বলা হয়েছে,”এ আইনের বিধান অনুযায়ী খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না বা ওইরূপ জায়গা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা যাবে না কিংবা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা অথবা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাবে না!”

আইনের ধারা ৮ (১) শাস্তি, ইত্যাদি অংশে বলা হয়েছে,”কোনো ব্যক্তি এ আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে ণ্ডনীয় হবেন।

এবার আমরা গেজেটকৃত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-৩৫) বা ড্যাপের কথায় আসি। দেশের প্রচলিত জলাধার সংরক্ষণ আইন মান্য না করে প্রণেতাদের ইচ্ছানুযায়ী প্রাকৃতিক জলাধার দুই শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে— 

ক. মুখ্য জলস্রোত এলাকা, খ. সাধারণ জলস্রোত এলাকা 

এ ভাগের পরের প্রস্তাবে ড্যাপের বিধি অনুযায়ী সাধারণ জলস্রোত এলাকায় অনেক কিছুই নির্মাণ অনুমোদন যোগ্য! কী কী অনুমোদন সম্ভবপর তা ড্যাপে বিস্তারিত লেখা আছে। যদি মন বলে ড্যাপ খুলে দেখতে পারে এবং তাহলেই অনুভবে নিতে পারবে নদী বা নদীতীরবর্তী নীল বা সবুজ অংশটুকু বালি ভরাটে কেন দ্রুততার সঙ্গে সাদা হচ্ছে। অনুভবে এও নিতে পারবে ড্যাপ আসলে কাদের স্বার্থে প্রণয়ন হয়েছিল।

জলাধার আইন এখনো কার্যকর। এর কোনো ধারা আমার জানামতে এখনো রহিত হয়নি। সেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার তার শুদ্ধি অভিযানের সময় জলাধার আইন অনুযায়ী কোনো বন্যাপ্রবাহ এলাকা বা জলাধার সংরক্ষণের জন্য যদি চেষ্টা করে আর ড্যাপের সুবিধা ভোগকারী একজন যদি বলেন, ‘ড্যাপের আলোকে আমি নির্মাণের অনুমতি পেয়েছি’ তখন বিচারের ক্ষেত্রে কোন আইন বা বিধি বলবৎ হবে? প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন নাকি ড্যাপ?

যদি জলাধার আইন কার্যকর হয় তাহলে ড্যাপের আলোকে অনুমোদিত ও ভক্ষণকৃত বন্যাপ্রবাহ এলাকা বা জলাধার এলাকায় নির্মিত স্থাপনার ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে ও কে দেবেন? আর ড্যাপের অনুমোদন যদি সঠিক হয় তাহলে জলাধার সংরক্ষণ আইনের কোনো কার্যকরিতা থাকে না; আইন রহিত বা পরিবর্তন করতে হবে। সর্বশেষে একটি প্রশ্ন—যদি জলাধার সংরক্ষণ আইন ঠিক থাকে এবং সেটাই অনুসরণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, তাহলে এ আইন অমান্যের জন্য আইনের ধারা অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করবেন কে? 

তিন.  ড্যাপের নানাবিধ অসংগতি দূরীকরণ 

ড্যাপের খসড়া থেকে চূড়ান্ত গেজেট লম্বা একটা সময়। এ পুরো সময়ে ড্যাপ সংশোধনীর বিষয়ে বেশ সরব থাকলেও কোনো আপত্তিতেই কেউ কখনো কর্ণপাত করেননি। বরং অসংগতিপূর্ণ খসড়াটি গেজেট করা হয়েছে। গেজেট হওয়ার পরেও এ বিষয়ে সোচ্চার থাকার পরিপ্রেক্ষিতে এবং তৎকালীন স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়কে অসংগতিগুলো ধরিয়ে দিতে পারার ফলে অথবা তিনি নিজেদের ত্রুটি অনুভব করতে পারার পরিপ্রেক্ষিতে গেজেট রিভিউ করে ড্যাপ সংশোধনের জন্য একটি কমিটি করেন! সে কমিটিকে উপেক্ষা করে ১ হাজার ৩৯ পৃষ্ঠার ড্যাপের জন্য মাত্র সাত পৃষ্ঠার একটি সংশোধনী গেজেট করা হয়। সেখানেও অসংগতিগুলো দূর করার পরিবর্তে একটি গোঁজামিল দেয়ার প্রয়াস অব্যাহত থাকে। এ অসংগতিগুলো বা ক্ষেত্রবিশেষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেশ সুযোগ করে দেয়ার বিষয়ে কিছু কথা আলোচনায় আনছি! 

ড্যাপের প্রাথমিক খসড়া দেখে কেন আপত্তি, কোথায় আপত্তি তা ক্ষেত্র ধরে ধরে লিখিত দিয়েছিলাম। খসড়া চূড়ান্ত করার আগে বহুবার তৎকালীন পিডি মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা কালে উত্থাপিত আপত্তিগুলো তার পক্ষ থেকে নিষ্পত্তি করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। ড্যাপের গেজেটের আগে চূড়ান্ত খসড়াটি দেখার পরও অসংগতি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলাম। রাজউক কর্তৃক একটি হোটেলে আয়োজিত ড্যাপ নিয়ে সর্বশেষ নাগরিক মতবিনিময় সভায় বহুজনকে কথাই বলতে দেয়া হয়নি, বরং ‘ড্যাপ খুব ভালো হয়েছে’ পক্ষের বেশ কিছুজন অনেক কথা বলেছেন। কয়েকজন, যারা কোনোদিন ড্যাপের একটি পাতাও উল্টে দেখেননি তারাও দারুণ ড্যাপ হয়েছে বলেছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজন একর একর ভূমির মালিক বলেছিলেন, এটা যুগান্তকারী ড্যাপ। একজন তো বলেছিলেন, আজকেই এটার গেজেট হোক! 

দেশের প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনকে মূল্য না দিয়ে, সন্মান না দেখিয়ে মূল জলস্রোতকে মুখ্য আর গৌণ করা হলো। কারণ কয়েকজন ভূমি মালিকের নদীতীরের বন্যাপ্রবাহ এলাকার ভরাট জমি গুগল ম্যাপে নীল বা সবুজ রঙ থেকে বালি ভরাটের জন্য দ্রুতগতিতে সাদা হচ্ছিল, তাদের জমির মালিকানা ও ওই ভূমি ব্যবহারের বিষয়টি দ্রুত হালাল করার প্রয়োজন ছিল! 

ড্যাপের যে পাণ্ডুলিপি বিজি প্রেসে মুদ্রণের জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেখানে অনেক স্থানে কারো নির্দেশনায় এরিয়া ফার পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি অনুমোদিত খসড়া কীভাবে গোপনে পরিবর্তিত হয়ে প্রিন্ট হয়, কীভাবে এ পরিবর্তন সম্ভব? 

তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে গেজেটকৃত ড্যাপের অসংগতি নিয়ে একাধিকবার কথা বলা এবং পৃষ্ঠা ধরে ধরে দেখানোর পর তিনি বিষয়টি বুঝে ড্যাপের তৎকালীন পিডি মহোদয়কে ড্যাপ রিভিউ করার কথা বলেছিলেন। ড্যাপ এ যদি অসংগতি বা ভুল না থাকত, গেজেট হওয়ার পর তা রিভিউ করার নির্দেশনা তৎকালীন মন্ত্রীর বাছ থেকে কখনো আসত না। 

রিভিউ করার কমিটি হওয়ার পর সে কমিটি নিয়ে রিভিউ না করে ড্যাপের তৎকালীন পিডি মহোদয় তার একক প্রচেষ্টায় ড্যাপ রিভিউ করলেন। মূল রিভিউ করার জায়গা বাদ দিয়ে সেই বিশেষ ব্যক্তির এলাকানাধীন প্রকল্পের ওয়ার্ডভিত্তিক ক্ষুদ্র এরিয়া ফারকে উচ্চ এরিয়া ফার দেয়ার প্রস্তাব করে পুনরায় সংশোধিত গেজেট হলো। 

এ সাত পৃষ্ঠার রিভিউতে যেসব এলাকার এরিয়া ফার ২-এর কম সেখানে দশমিক ৫ প্রণোদনা দেয়া হলো, যেখানে এরিয়া ফার ১ দশমিক ৫-এর কম ছিল তা ১ দশমিক ৫ এবং ক্ষেত্রবিশেষে ২ হলো। কোনো এলাকার এরিয়া ফার গেজেট হওয়ার পর একক সিদ্ধান্তে যদি এভাবে পরিবর্তন করে বাড়ানো হয়, তাহলে ওই এলাকার এরিয়া ডেনসিটি বাড়বে, যা মূল ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত।

প্রণেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে যে ডেনসিটি হিসাব করে এরিয়া ফার নির্ধারণ হয়েছিল সেখানে একটি ফাঁকি আছে। আমার মতে, এ বিষয়ে আদৌ কোনো সার্ভে বা অংক কষা হয়নি, পুরোটাই সম্ভবত কয়েক ব্যক্তির অলৌকিক চিন্তার ফসল। 

ব্লক ডেভেলপমেন্টের যা মূল প্রস্তাব ছিল, প্রাথমিকভাবে যে সংশোধন করা হয়েছিল কিংবা পরবর্তী সময়ে যে সংশোধন প্রস্তাব এল, সেখানে আরো অনেক বিশ্লেষণ ও চিন্তার সংশোধন প্রয়োজন, না হলে ব্লক ডেভেলপমেন্টের মতো সুন্দর একটি উদ্যোগ কার্যকরভাবে সুফল আনতে পারবে না।

চার. সংশোধনের অনুরোধ

বহু অসংগতি ড্যাপজুড়ে ঢাকা মহানগরীর সব মানুষের কল্যাণের জন্য, নির্মাণ শিল্পে গতি আনার জন্য গেজেটকৃত ড্যাপ পরিশীলিত হওয়া খুব প্রয়োজন। পেশাজীবী, স্টেকহোল্ডার, অ্যাক্টিভিস্ট প্রতিনিধি মিলে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হোক, তারা পুরো ড্যাপ বিশ্লেষণ করে যেখানে সংশোধন প্রয়োজন তা চিহ্নিত করুক, সংশোধনী প্রস্তাবগুলো একত্র করে দ্রুততার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করুক। তারপর সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত হোক। 

একটি বৈষম্যবিরোধী চিন্তা ও নতুনভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে। এ সরকারের সময়ে নির্দিষ্ট কয়েকজনের জন্য গেজেটকৃত বর্তমান ড্যাপ সংশোধন হওয়া উচিত। ঢাকা মহানগরীর সব মানুষের জন্য সময়োপযোগী ও অন্তর্ভুক্তির ড্যাপের নিমিত্ত সবার সুষ্ঠু চিন্তায় একত্রিত হওয়া অবিলম্বে একান্ত প্রয়োজন।

কাজী নাসির: প্রধান স্থপতি (অবসরপ্রাপ্ত), স্থাপত্য অধিদপ্তর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট। 

আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পেলো নতুন উপাচার্য

আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক। তিনি ওআইসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত ছিলেন। তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফান্ডল্যান্ড থেকে এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি এবং বুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি শিক্ষা জীবনে সব বিষয়ে প্রথম বিভাগে পাস করেন। এ ছাড়া তিনি এসএসসিতে মেধায় পঞ্চম এবং এইচএসসিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

তিনি ৪১টি আন্তর্জাতিক জার্নাল পেপার এবং ৫৯টি কনফারেন্স প্রসিডিংসসহ ১০০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্সে সাংগঠনিক চেয়ার, সেশন চেয়ার, মূল বক্তা প্রভৃতি ভূমিকা পালন করেছেন।

তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে পাওয়ার কনভার্টার ও মোটর ড্রাইভে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ রয়েছে। তিনি নবায়নযোগ্য শক্তিতে পাওয়ার ইলেকট্রনিকসের প্রয়োগের গবেষণার সঙ্গে জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অনুমোদনে গত বৃহস্পতিবার তিনি উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন। সূত্রঃ বিজ্ঞপ্তি।

হাসিনার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী গ্রেপ্তার

তীব্র আন্দোলের মুখে জীবন নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গুলশান থেকে এ প্রভাবশালী উপদেষ্টাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টার থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ২৪ জন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও রয়েছেন।

তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে অবসরে যান তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে, গড়েছেন সীমাহীন সম্পদ, ভারতের হাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলি তুলে দেয়ার পেছনে তার হাত রয়েছে বলে মনে করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিস্তারিত আসছে…

গ্রেডিং সিস্টেম পরিবর্তনের দাবিতে উত্তাল ইউআইইউ

0

বর্তমান প্রচলিত গ্রেডিং সিস্টেম সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন রাজধানীর বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীরা। বিগত কয়েক দিন ধরে এই পরিবর্তন চেয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলিয়ে এই গ্রেডিং সিস্টেম চালুর দাবি জানান তারা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী জানান, সারাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনরে গ্রেডিং সিস্টেম প্রচলিত থাকলেও শুধু ছয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের মতো করে গ্রেডিং সিস্টেম চালু রেখেছে। এ ব্যাপারে ইউজিসির নীতিমালা তারা মানছে না।

আরেক শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, ৮০ শতাংশ নম্বরে যেখানে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ-৩.০০ পাচ্ছি, সেখানে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ ৪.০০ পাচ্ছেন। ৭৩ শতাংশ নম্বরে আমি ২.৩৩ পেলেও অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ ৭০ শতাংশ পেয়ে ৩.৫০ পাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর দু’জনের সিজিপিএ আকাশ পাতাল পার্থক্য হচ্ছে একই মার্ক পাওয়ার পরেও। সেজন্য চাকরির আবেদনসহ উচ্চশিক্ষায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, পরীক্ষায় মূল্যায়নে এভাবে ভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করায় বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। বিশেষ করে চাকরির বাজার কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছেন তারা। এমনকি কখনো কখনো কম সিজিপিএ এর জন্য তারা চাকুরিতে আবেদন পর্যন্ত করতে পারছে না।এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। বিষয়টি সুরাহার জন্য অনেকেই ইউজিসিতে আবেদন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নীতিমালা স্পষ্ট ভঙ্গ করার ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের আইন মেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এই বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা অবধি যোগাযোগ করেও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ফরজ নামাজের ইকামত হয়ে গেলে কোন সুন্নাত নেই!

0

ফজরের নামাযের সময় মসজিদে অনেককে দেখা যায়, আযানের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেছে অথবা জামাতে নামাজ পড়ানো হচ্ছে, আর তারা সুন্নত নামাজ পড়ছেন। অনেকের স্পর্ধা এতো বেশি যে, মসজিদে এসে দেখে ইমাম সাহেব ফরয নামাজ পড়াচ্ছেন, আর তারা জামায়াতে শরীক না হয়ে আলাদা সুন্নত পড়া শুরু করে?

নামাজ কি নিজের ইচ্ছামতো পড়লে কবুল হবে নাকি, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর তরীকা মোতাবেক পড়লে কবুল হবে?? ফরয নামাজের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে অন্য কোনো নফল বা সুন্নত নামাজ পড়া সম্পূর্ণ হারাম ও সুন্নত বিরোধী!! রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যখন ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরয ছাড়া অন্য কোন নামাজ নেই”। সহিহ মুসলিম, হাদীস নং- ১৫৩১।

এখন যদি কেউ বলে “আমি হানাফী মাযহাবের আর আমার মাযহাবে আছে ফযরের সুন্নত পড়া যাবে”।

আমি বলবো, আপনি আসল হানাফী মাযহাব অনুসরণ করছেন না, আপনি আসলে “হানাফী মাযহাব” নাম দিয়ে অন্য কারো মাযহাব অনুসরণ করছেন!! কারণ ইমাম আবু হানীফা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, “ইযা সাহহাল হাদীস, ফাহুয়া মাযহাবি” – জেনে রাখো যখন কোনো সহীহ হাদীস পাবে সেইটাই আমার মাযহাব।

এখন, সহীহ হাদীস মোতাবেক ফরয নামাযের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে আর কোনো সুন্নত নামাজ চলবেনা – সুতরাং ইমাম আবু হানীফার মাযহাবও সেটাই হবে। আর আপনি উলটা কাজ করে “হানাফী মাযহাব” হওয়ার দাবী করবেন, আপনি নিজেই বিবেচনা করুন আপনি কতটুকু সত্যিকারে হানাফী মাযহাব অনুসরণ করছেন? কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখিত। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সুন্নত জানানো।

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন নামাযের জন্য ইকামাত দেওয়া হয় তখন ফরয নামাজ ছাড়া অন্য কোন নামাজ নেই। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৫১), মুসলিম।

এ অনুচ্ছেদে ইবনু বুহাইনা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস, ইবনু আব্বাস ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান। আইউব, ওয়ারাকা ইবনু উমার, যিয়াদ ইবনু সা’দ, ইসমাঈল ইবনু মুসলিম এবং মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদা সম্মিলিতভাবে এ হাদীসটি আমর ইবনু দীনার হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু যায়িদ ও সুফিয়ান ইবনু উআইনা তাদের সনদ পরম্পরায় আমর ইবনু দীনার-এর সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেননি। তবে মারফু’ হিসাবে বর্ণিত হাদীসটিই আমাদের মতে বেশি সহীহ।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও অন্যান্যরা এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা বলেছেন, নামাযের জন্য ইকামাত দেওয়া হলে কোন ব্যক্তিই ফরয নামাজ ব্যতীত অন্য কোন নামাজ আদায় করবে না। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। আরো কয়েকটি সূত্রে আবু হুরাইরার নিকট হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ’আইয়্যাশ ইবনু আব্বাস আবু সালামা হতে তিনি আবু হুরাইরা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বিঃদ্রঃ অনেকে মনে করেন, ফযরের সুন্নত নামাজ আগে না পড়লে, ফরয বাদে আর পড়া যাবেনা। এধারণাটা ঠিক না!! যদি ফযরের ফরয নামাজের পর ওয়াক্ত থাকে তাহলে সুন্নত পড়া যাবে। আর ওয়াক্ত না থাকলে সূর্য ওঠার পর পড়া যাবে।

কায়েস বিন আ’মর (রাঃ) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) (ফযরের নামাযের জন্য) বের হয়ে আসলেন আর ইকামত দেয়া হলো। আমি তাঁর (সাঃ) সাথে ফযরের নামাজ পড়লাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নামাজ শেষ করে দেখলেন আমি নামাজ পড়ছি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, ধীরে কায়েস! দুই রাকাত এক সাথেই? আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমি ফযরের আগে দুই রাকাত পড়িনাই। তখন রাসুলুল্লাহ “না, তাহলে পরে ঠিক আছে”। আবু দাউদের বর্ণনায় আছে, “অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নীরব থাকলেন”। সুনানে আত-তিরমিযী ৪২২, আবু দাউদ ১২৬৭।

এই হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে, ফযরের নামাজের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়তে না পারলে, ফরয নামাযের পরেও পড়া যাবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) চুপ থাকা মানে তিনি নীরব থেকে কায়েস (রাঃ) কে মৌন সম্মতি দিলেন। আর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মৌন সম্মতি মানে হলো – সুন্নাহ।

মসজিদে যেকোনো নামাযের আগে লক্ষ্য করবেন কতটুকু সময় বাকি আছে, ২-১ মিনিট সময় যাতে করে অন্তত ২ রাকাত পড়া যাবেনা, তাহলে সুন্নত নামায শুরু করবেন না। সুন্নত পড়া শুরু করবেন যদি এতটুকু সময় হাতে থাকে যে ২ রাকাত শেষ করতে পারবেন। আর কখনো যদি এমন হয় সুন্নত পড়া অবস্থায় ইকামত দেওয়া শুরু করলঠা আপনি ২য় রাকাতে আছেন, একটু সময় নিলেই নামায পূর্ণ করে ফেলতে পারবেন তাহলে দ্রুত নামায পূর্ণ করে সালাম ফেরাবেন। আর যদি ১ম রাকাতে থাকেন তাহলে নামায ছেড়ে দিয়ে জামাতে শরীক হবেন।

আল্লাহ আমাদের জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ মেনে জীবন পরিচালনা করার তোওফিক দান করুন, আমীন ইয়া রাব্বুল আ’লামীন।

লেখক,

শিক্ষার্থী, কামিল (হাদিস), মোমেনশাহী দারুস সুন্নাত কামিল মাদ্রাসা ।