দেশের আরও ৯ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক


দেশের আরও ৯ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন পদায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উপসচিব ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জেলায় ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন পদায়নে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে বদলি করে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামে। বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) পরিচালক (উপসচিব) এস এম মেহেদী হাসানকে পাঠানো হয়েছে লক্ষ্মীপুরে।

পরিকল্পনা বিভাগের উপসচিব সৈয়দা নুরমহল আশরাফী হয়েছেন মুন্সীগঞ্জের ডিসি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নেত্রকোনায় এবং অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নতুন ডিসি।

এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে নওগাঁয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আনোয়ার সাদাতকে খাগড়াছড়িতে, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মু. রেজা হাসানকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে।

নতুন করে নারায়ণগঞ্জের ডিসি হয়েছেন জনবিভাগের উপসচিব মো. রায়হান কবির

এর আগে ১৪ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ

গত রবিবার (৯ নভেম্বর) আরও ১৪ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
জেলাগুলো হলো-
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, নড়াইল, জামালপুর, মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ ও চাঁদপুর।

৮ নভেম্বর আরও ১৫ জেলায় ডিসি নিয়োগ

এর আগে গত শনিবার (৮ নভেম্বর) এক রাতে ১৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়।
জেলাগুলো হলো—
নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা, গাইবান্ধা, বরগুনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মাগুরা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া ও ভোলা।

এসব নিয়োগের মধ্যে কয়েকটি ছিল উল্লেখযোগ্য বদলি-

  • বাগেরহাটের ডিসি আহমেদ কামরুল হাসান → নোয়াখালী

  • কুষ্টিয়ার ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন → হবিগঞ্জ

  • ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহান → গাজীপুর

  • বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলম → ঢাকা

  • সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম → গাইবান্ধা

  • খুলনার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমান → বগুড়া

অন্যান্য নিয়োগের মধ্যে রয়েছেন

  • সন্দ্বীপ কুমার সিংহ (সিলেট জেলা পরিষদ) → বরগুনা

  • মো. আমিনুল ইসলাম (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) → সিরাজগঞ্জ

  • মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাণিজ্য উপদেষ্টা) → মাগুরা

  • আবু সাঈদ (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) → পিরোজপুর

  • মিজ আফরোজা আখতার (ভূমি রেকর্ড ও জরিপ) → সাতক্ষীরা

  • গোলাম মো. বাতেন (স্থানীয় সরকার ফেনী) → বাগেরহাট

  • স ম জামশেদ খোন্দকার (প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়) → খুলনা

  • মো. ইকবাল হোসেন (রাজউক) → কুষ্টিয়া

  • ডা. শামীম রহমান (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ) → ভোলা

শীতকালে ত্বক শুষ্ক কেন হয়?

0
অনলাইন ডেস্ক

ফিচার | স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন

বইয়ের পাতায় কিংবা গবেষণাগারে নয়, শীতের বাতাসে চোখেই বোঝা যায় প্রকৃতির পরিবর্তন। তাপমাত্রা কমে, বাতাস শুষ্ক হয়, আর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। শীতের কড়া আবহাওয়া শুরু হলেই অনেকেই লক্ষ্য করেন ত্বক রুক্ষ হয়ে আসছে, টানটান ভাব তৈরি হচ্ছে, কখনো খোসা ওঠে বা চুলকানি পর্যন্ত দেখা দেয়। প্রশ্ন হলো, শীত পড়লেই ত্বকের এমন পরিবর্তন কেন? আর দৈনন্দিন যত্নে কোন অভ্যাসগুলো বদলালে এ সমস্যাগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়?

চলুন শীতকালের ত্বক শুষ্কতার বিজ্ঞান, প্রতিরোধক উপায় এবং বাংলাদেশি বাজারে সহজলভ্য উপযোগী পণ্যের সমন্বিত গাইড জেনে নিই।

শীতে ত্বক শুষ্ক হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

১. বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা কমে যায়

শীতকালে পরিবেশের আর্দ্রতা বা হিউমিডিটি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকে। এর ফলে ত্বকের উপরের সুরক্ষাবলয়—যাকে বলা হয় স্কিন ব্যারিয়ার—ধীরে ধীরে পানি হারাতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় Transepidermal Water Loss (TEWL); যা বাড়লে ত্বক দ্রুত শুষ্ক, নির্জীব ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

২. ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দেয়

শীতের বাতাস স্বাভাবিক ত্বক-তেল (sebum) উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই তেল ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করে। যখন সেবাম উৎপাদন কমে যায়, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে।

৩. অত্যধিক গরম পানি ব্যবহার

শীতে অনেকে গরম পানি ছাড়া গোসলই করতে চান না। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক লিপিড ভেঙে দেয়। ফলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

৪. রোদের অভাব ও ভিটামিন- ডি কমে যাওয়া

শীতকালে সূর্য ওঠে দেরিতে এবং তীব্রতাও কম থাকে। ভিটামিন–ডি ত্বকের সুরক্ষাবলয়কে শক্তিশালী করে। এর ঘাটতি ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।

৫. ঘরের মধ্যে শুষ্ক পরিবেশ

শীতে জানালা–দরজা বন্ধ থাকে এবং ফ্যান কম চলে, ফলে ঘরের বাতাসও শুষ্ক হয়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা আরও দ্রুত কমে যায়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ঢাকা মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
ডা. সেলিনা মাহমুদ
দ্য ক্যাম্পাস মিররকে বলেন:

“শীতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আর্দ্রতার ঘাটতি। যাদের ত্বক স্বাভাবিক সময়ে ভালো থাকে, তারাও শীতে হঠাৎ করে সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলে ত্বকের সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায় এবং ফাটল বা চুলকানির ঝুঁকি বেড়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন—

“সেরামাইড, স্কোয়ালেন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার শীতকালে বিশেষ উপকারী। আর খুব গরম পানি, হার্শ সাবান বা অ্যালকোহল–যুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য শীতে একেবারেই ব্যবহার করা উচিত নয়।”

শীতের শুষ্কতা প্রতিরোধে যা করতে হবে

১. ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন

শীতে লাইট লোশন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়। এমন ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন যাতে থাকে—

  • সেরামাইড

  • হায়ালুরোনিক অ্যাসিড

  • গ্লিসারিন

  • শিয়া বাটার

  • স্কোয়ালেন
    এগুলো ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

২. হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন

খুব গরম পানি ত্বকের লিপিড ভেঙে দেয়। তাই লুকো–ওয়ার্ম পানি ব্যবহারই শ্রেয়।

৩. ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন

হিউমিডিফায়ার বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করে, যা শীতে ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৪. সাবধানে সাবান ব্যবহার

শক্ত সাবান, সালফেট–যুক্ত বডিওয়াশ এবং অ্যালকোহল–যুক্ত যেকোনো cleanser এড়িয়ে চলুন।

৫. ঠোঁট ও হাতের আলাদা যত্ন

ঠোঁটে লিপ বাম এবং হাতে গ্লিসারিন–সমৃদ্ধ হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করুন।

৬. বেশি পানি পান করুন

শীতে পানি কম পান করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পানে ত্বকের অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা বজায় থাকে।

বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শীত- উপযোগী স্কিনকেয়ার পণ্যসমূহ

বাংলাদেশি ব্র্যান্ডগুলো এখন উন্নত মানের স্কিনকেয়ার তৈরি করছে, যা আমাদের আবহাওয়ার সঙ্গে বেশি মানানসই।

১. স্কিন কনসেপ্ট (Skin Concept BD)

  • হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সেরাম

  • সেরামাইড ময়েশ্চারাইজার

  • শিয়া–বাটার বডি লোশন

২. এসএনএম বিউটি (SNM Beauty BD)

  • গ্লিসারিন লোশন

  • অ্যালো–ভেরা স্কিন জেল

৩. হিমালয়া / হারবাল গার্ডেন (BD production line)

  • ময়েশ্চারাইজিং কোল্ড ক্রিম

  • অ্যালো–কুকুম্বার ফেসওয়াশ

৪. স্কিনকিউ (SkinQ Bangladesh)

  • সেরামাইড–বুস্টেড ময়েশ্চারাইজার

  • হাইড্রেশন–বুস্ট সেরাম

৫. অপরাজিতা বিউটি (Local Indie Brand)

  • কোকো–বাটার বাল্ম

  • নারকেল–তেলভিত্তিক ময়েশ্চার ক্রিম

এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম হলেও মান বেশ ভালো এবং শীতের জন্য উপযোগী। (কোনো ধরনের স্পন্সরশীপ না, আমরা পাঠকদের সুবিধার্থে তথ্য দিচ্ছি)

শীতের আবহাওয়াকে দোষারোপ করলেই হবে না, সঠিক ত্বক যত্ন শীতকালকে রূপান্তর করতে পারে স্বস্তিদায়ক মৌসুমে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, সঠিক সাবান নির্বাচন, যথেষ্ট পানি পান এবং আর্দ্র পরিবেশ বজায় রাখা; এই চারটি অভ্যাসই শীতের শুষ্কতার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

সঠিক যত্ন নিলে শীতকালের রুক্ষতা নয়, বরং মোলায়েম ও সুস্থ ত্বকই হবে আপনার সঙ্গী।

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাল জামায়াত

অনলাইন ডেস্ক
জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে ঘোষিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এই ঘোষণা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেনি এবং এর ফলে নতুন একটি সংকট তৈরি হতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে এ প্রতিক্রিয়া জানায় জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া: ‘আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণা জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেনি। আমরা মনে করি, এতে একটি নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দল দাবি করে আসছে যে গণভোটটি জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তাহলে এর আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় হবে এবং পরবর্তীকালে আদালতে এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। সেই সংকট কিন্তু এখনো রয়ে গেল।”

জামায়াতের মতে, গণভোটকে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে আয়োজন করার সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনাকাঙ্ক্ষিভাবে জটিল হতে পারে। দলটি বলে, গণভোট যেহেতু সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, তাই তা আলাদা দিনে আয়োজন করলে জনগণও বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করতে পারত।

প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা: ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন ও গণভোট

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দেন যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনোভাবেই সংস্কারের লক্ষ্য ব্যাহত হবে না। বরং নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন যথাসময়ে প্রণয়ন করা হবে।

৩০ দফা সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত

ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, গত নয় মাস ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বিষয়ে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ‘আশাব্যঞ্জক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও চূড়ান্ত করেছি।”

ব্যালটে থাকবে একটি মাত্র প্রশ্ন:

আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি দেন?

যেসব প্রস্তাবে ভোট নেওয়া হবে

গণভোটের ব্যালটে চারটি মূল প্রস্তাব থাকবে-
ক) তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদ অনুযায়ী গঠন
খ) দলগুলোর ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ
গ) নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ-সীমা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ ৩০ দফা সংস্কার
ঘ) বাকি সংস্কারসমূহ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন

প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটের দিন ভোটাররা এই চার প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে মতামত জানাবেন।

গেজেটে প্রকাশিত আদেশ

উল্লেখ্য, আজই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫’ গেজেট প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ২৮ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয়। গত ১৭ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে।

বিএনপির ১৭ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক


দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের ১৭ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বে দলীয় সিদ্ধান্তে যেসব নেতাকর্মীকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাদের আবেদন ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-

  • নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন

  • গাজীপুর মহানগর: গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন

  • দিনাজপুর (বিরল): সাবেক সহসভাপতি মো. সাদেক আলী ও সাবেক মহিলা সম্পাদক মোসা. ফিরোজা বেগম

  • হবিগঞ্জ জেলা: সদস্য মহিবুল ইসলাম শাহিন

  • ভোলা জেলা: তজুমদ্দিন উপজেলা ৪নং চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হাওলাদার

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সাবেক জেলা সদস্য মো. বাবর আলী বিশ্বাস

  • ভোলাহাট থানা: সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম

  • চট্টগ্রাম উত্তর: জোরারগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম

  • মিরসরাই: বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন

  • ফটিকছড়ি: উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম আজম

  • নোয়াখালী (সুবর্ণচর): উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন সুমন ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. জামাল উদ্দিন গাজী

  • কুমিল্লা দক্ষিণ (নাঙ্গলকোট): সাবেক সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাদের সবাইকে দলীয় প্রক্রিয়ায় পুনরায় প্রাথমিক সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে।

দুই নেতার পদস্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

একইসঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে স্থগিত হওয়া-

  • হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মুজিবুল হোসেন মারুফ

  • সাধারণ সম্পাদক নকিব ফজলে রাকিব মাখনের

পদের স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিএনপি জানিয়েছে, আবেদন ও নিরীক্ষার ভিত্তিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি

0
ডেস্ক রিপোর্ট

সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ জারি করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। একই দিনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এতে স্বাক্ষর করেন। এর আগে উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় আদেশটি অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।

এই আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো এখন গণভোটে যাবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর জনগণের মতামত নেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্য, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয়। এর আগে ১৭ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায় আগামী সোমবার

0
অনলাইন ডেস্ক


জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলার রায় আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণা ঘিরে ট্রাইব্যুনাল ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাসহ তিনজন আসামি

মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সঙ্গে আসামি হয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন।

এদের মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি তদন্ত ও শুনানির সময় নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আদালতের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক। দুজনই গত বছর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশ ছাড়েন বলে জানা গেছে।

কী অভিযোগ রয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নানা সহিংস ঘটনার প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এই তিন আসামির বিরুদ্ধে। প্রসিকিউশনের দায়ের করা মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্যকে প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী উসকানিমূলক হিসেবে উপস্থাপন

  • আন্দোলনকারীদের দমনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশদানের অভিযোগ

  • রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়

  • রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারী নিহতের অভিযোগ

  • আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর ঘটনা

এ অভিযোগগুলো আদালতে প্রসিকিউশনের বর্ণনা এবং সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে—এগুলো এখনও আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়নি।

মামলার অগ্রগতি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মামলাটি দায়ের হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর প্রথম শুনানির দিন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

পরে প্রসিকিউশনের আবেদনে সাবেক আইজিপি মামুন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে মামলায় যুক্ত করা হয়। তদন্ত সংস্থা কয়েক দফা সময় নিয়ে গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

গত ১ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে। এরপর চলতি বছরের ১০ জুলাই তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। মামলায় মোট ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু হয় এবং ২৩ অক্টোবর শেষ হয়। যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আসামিদের খালাস চান। রাজসাক্ষী মামুনের ক্ষেত্রেও আইনজীবী তাঁর খালাস প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল জানায়, রায় ঘোষণার দিন ১৩ নভেম্বর জানানো হবে। আজ সেই ঘোষণা অনুযায়ী আগামী সোমবার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হলো।

গণভোট আগামী নির্বাচনের দিন: জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা

0
ডেস্ক রিপোর্ট

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে; এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন,
“জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হবে না; বরং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে।”

তিনি জানান, গণভোট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন নির্ধারিত সময়ে প্রণয়ন করা হবে।

গণভোটের প্রশ্ন ও জুলাই সনদের মূল প্রস্তাব

প্রধান উপদেষ্টা জানান, জুলাই সনদের আলোকে গণভোটে একটি মাত্র প্রশ্ন ব্যালটে থাকবে, যার উত্তরে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ চিহ্ন দিয়ে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।

ব্যালটে উপস্থাপিত প্রশ্নটি হবে,

“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কে প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তসমূহে সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

তিনি ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত চারটি মূল প্রস্তাবও তুলে ধরেন,

ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ জুলাই সনদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে।

খ) আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট; দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাগবে।

গ) নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ মোট ৩০টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ) রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই সনদের অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিদেশি বিনিয়োগ ও “গ্রীন পোর্ট”-এর ঘোষণা

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, রপ্তানি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে, ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারের পথে।

তিনি জানান, ইউরোপীয় একটি কোম্পানির বড় বিনিয়োগে লালদিয়ায় নির্মিত হবে দেশের প্রথম বিশ্বমানের “গ্রীন পোর্ট”, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য ও লজিস্টিকস খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ঘোষণা

প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে।

এই পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সংস্কার সম্পন্ন হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দলগুলোর মোট প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ নিম্নকক্ষের সর্বশেষ কার্যদিবস পর্যন্ত থাকবে।

ঐক্যের আহ্বান ও গণঅভ্যুত্থনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

ভাষণের শেষে অধ্যাপক ইউনূস জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন—
“২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগই আমাদের নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের এই সিদ্ধান্তই “নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার সূচনা”।

মাইলস্টোন দুর্ঘটনা: সাড়ে তিন মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরল ২ যমজ শিশু

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত দশ বছর বয়সী যমজ শিশু সারিনাহ জাহান সায়রা ও সাইবাহ জাহান সায়মা প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরেছে। তারা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল। এ পর্যন্ত বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ ৩৩ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কার্যালয়ে দুই শিশুকে বিদায় জানান হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা।

এসময় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় আহত ৫৭ জন এই ইনস্টিটিউট থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২০ জন। একজনকে ট্রমা ম্যানেজমেন্টের জন্য মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনজন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন, তবে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।’

দুই যমজ শিশুর মধ্যে সায়রা ৩০ শতাংশ এবং সায়মা ১৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা দগ্ধ প্রত্যেক রোগীকে আন্তরিক সেবা দিয়েছেন। তাঁরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদের প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

‘আহতদের মধ্যে যারা বাড়ি ফিরেছেন, তাদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ফলোআপ চিকিৎসা দিচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

এসময় তিনি সিঙ্গাপুর, ভারত, চীন ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব বিদেশি চিকিৎসক আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।

দুই যমজ শিশুর বাবা-মা ইয়াসিন মজুমদার ও আকলিমা আক্তার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হন। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন-ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশে চালু হলো অনলাইন টিকেটিং

0
ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেনে আধুনিক অনলাইন টিকেটিং সেবা চালু করা হয়েছে। এটি উদ্যান পরিদর্শন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব করার উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। আজ বৃহস্পতিবার উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্ল্যাটফর্মটি উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এবং জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ই-টিকেটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যান ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে এবং গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।” এখন থেকে দর্শনার্থীরা myGov অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, www.nbg.portal.gov.bd বা বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সম্বলিত টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এই টিকিট স্মার্টফোনে দেখানো বা প্রিন্ট আউট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। উদ্যোগটি বন অধিদপ্তর ও এটুআই (a2i) যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে। এতে ঘরে বসেই টিকিট কেনা সম্ভব হবে, লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা দূর হবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং টিকেট বিক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার হ্রাসের মাধ্যমে এটি পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়তা করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোঃ আব্দুর রফিক, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বন) শামিমা বেগম, এবং সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বন অধিদপ্তর, এটুআই, আইসিটি বিভাগ, জাতীয় চিড়িয়াখানা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। নতুন ই-টিকেটিং সেবা কেবল দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়াবে না, এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারি সেবার একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ঢাকায় রাশিয়ান হাউস ও রুডন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন

ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউস ও রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি (RUDN University)-এর প্রতিনিধিদল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (NSU) পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এ সফরে শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের নানা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রাশিয়ান স্টাডিজ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতিতে পৌঁছান। এই কেন্দ্রটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের রাশিয়ান ভাষা, সংস্কৃতি এবং রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও, আলোচনায় RUDN বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক কর্মসূচিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করা হবে। বৈঠকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, রাশিয়ান হাউসের পক্ষ থেকে পরিচালক ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এবং RUDN বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।