স্ট্যামফোর্ডে স্থাপত্য ভাবনা: তরুণদের হাতে টেকসই নকশার স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, ২৭ অক্টোবর।  

নকশায় ছিল সমাজের কথা, কাঠামোয় ছিল মানবিকতার ছাপ। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে জানালেন- স্থাপত্য কেবল ভবন নির্মাণ নয়, এটি মানুষের জীবন ও পরিবেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক গড়ার এক প্রয়াস।

সোমবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী সেমিনার ও আউটডোর এক্সিবিশনে প্রজেক্ট নিয়ে অংশ নেয় স্থাপত্য বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের তৈরি স্থাপত্য মডেল, স্টুডিও প্রজেক্ট ও নগর পরিকল্পনার নকশা সর্ব সাধারণের জন্য প্রদর্শিত হয়।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আব্দুল মতিন এবং প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বি. সি. বসাক। উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক সোনিয়া আফরিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, স্থাপত্যের আসল শক্তি তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। এটি শুধু নান্দনিকতা নয়; মানুষ, সমাজ ও পরিবেশের টেকসই সমাধানের মাধ্যম। প্রদর্শনীর বিশেষ আকর্ষণ ছিল স্থাপত্য ৮৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নকশা ও ভাবনায় নির্মিত তিনটি রিয়েল স্কেল সিটিং ইনস্টলেশন। এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক সানিয়া তাবাসসুম ও সহকারী অধ্যাপক মুজাইয়ানা নওমী খান। পুরো প্রদর্শনীটি তত্ত্বাবধান করেন স্থাপত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সারাহ বাশনীন, সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া শারমিন ও সহকারী অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ সহ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
স্থপতি মশিউর রহমান পবিত্র
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থপতি ইনস্টিটিউটের হান্ড্রেড হোমস প্রজেক্টের বিভিন্ন দিক বলার সময় স্থপতি মশিউর রহমান পবিত্র বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের ডিজাইন যখন করলাম, তখন একটা ইটালিয়ান কমোডের দাম ভ্যাট ট্যাক্সসহ পড়েছে ৮৬ হাজার টাকা; যেটা এক নিম্নবিত্ত পরিবারের পুরো বাড়ি তৈরির সমান খরচ। এভাবে আমরা যদি আমাদের আশপাশে তাকাই, অনেক কিছুই দেখতে পারি।” তিনি স্থপতিদের প্রতি আহ্বান জানান, সমাজের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক ও মানবিক স্থাপত্যচর্চা আরও বিস্তৃত করতে। প্রদর্শনীতে দর্শনার্থী ও সাংবাদিকদের সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাদী মোহাম্মদ সাদ বলেন, “আজকের প্রদর্শনী থেকে আমরা অঙ্গীকার করছি যে, সমাজ, ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি কোণে আমাদের কাজের সুযোগ রয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নত করার প্রতিশ্রুতি স্থপতিরাই দিতে পারেন। তাই নীতিনির্ধারকরা যেন স্থপতিদের কাজের ক্ষেত্র সম্প্রসারণে মনোযোগ দেন।” বিভাগের শিক্ষকরা জানান, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের কাজের মধ্য দিয়ে স্থাপত্যচর্চা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করা। একই দিনে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় “Threads of Community: Architecture, Culture, Identity” শীর্ষক সেমিনার। সহযোগী অধ্যাপক সানিয়া তাবাসসুমের কনভেনরশিপে এবং সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া শারমিনের কো-কনভেনরশিপে আয়োজিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানিয়া তাবাসসুম। তিনি স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। সেমিনারে ছয়জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাঁদের কমিউনিটি-ভিত্তিক স্থাপত্যচর্চার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক নকশার ভাবনায় আরও এগিয়ে যেতে। প্রতি বছর ৬ অক্টোবর বিশ্ব স্থাপত্য দিবসকে সামনে রেখে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগ এ ধরনের আয়োজন করে আসছে। বিভাগের শিক্ষকরা মনে করেন, এমন উদ্যোগ তরুণ স্থপতিদের সৃজনশীল চিন্তা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও টেকসই স্থাপত্যচর্চায় যুক্ত করছে নতুন দিগন্তে।

মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাঁসি হবেই: আমান উল্লাহ

বিএনপি নেতা ও সাবেক ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে এবং হবে। সেনাবাহিনী, ছাত্রজনতা ও নিরীহ মানুষ হত্যার দায়ে তার ফাঁসি হবেই ইনশাআল্লাহ।’

বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার গোয়ালখালী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমান উল্লাহ বলেন, দেশে আওয়ামী লীগের আর রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নাই। তাদের নির্বাচনী মার্কাও এখন ব্যালটপেপারে নেই। দুঃশাসন, অন্যায়-অত্যাচারের জন্য দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সভায় বিশেষ অতিথি ঢাকা ২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের রাস্তাঘাট সংস্কার করতে পারেনি, গ্যাসের সংযোগ দেয়নি। আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের একটি রাস্তাও ভাঙা থাকবে না। কেরানীগঞ্জকে আধুনিক মডার্ন সিটি হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।’

অনুষ্ঠানে বাস্তা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল, ঢাকা জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়ালিউল্লাহ সেলিম, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন, যুবদল নেতা মো. সেলিম, রকি খানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনেরনেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শাপলার প্রশ্নে আমরা আপসহীন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি, এনসিপি শাপলা চায়। এনসিপি শাপলা নিয়ে নির্বাচন করবে। শাপলার প্রশ্নে আমরা আপসহীন। শাপলা নিয়ে আমরা একবিন্দু ছাড় দিতে চাই না।’

‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচন কোন পথে’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করে দলের যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি।

উল্লেখ্য, আজ নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শাপলা কলিসহ বেশ কিছু প্রতীক সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে। অথচ এনসিপি দীর্ঘদিন ধরে শাপলাকে দলীয় প্রতীক হিসেবে দাবি জানিয়ে আসছে।

এনসিপিকে প্রতীক হিসেবে শাপলা বরাদ্দ দিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনারা তালিকায় শাপলাকে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করে এনসিপির যে অধিকার, তা বুঝিয়ে দিন।…ইতিমধ্যে আপনারা আমাদের অনেক দেরি করিয়েছেন, বিএনপি ও জামায়াতকে সুবিধা দেওয়ার জন্য, জনগণের শক্তিকে চাপা দেওয়ার জন্য, যাতে আওয়ামী লীগকে নিয়ে আসতে পারেন।’

ইসির উদ্দেশে করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা আপনাদের বলব, এই সব খেলা বন্ধ করেন। যদি এসব খেলা বন্ধ না করতে পারেন, তাহলে হয়তো বা আমরা ইলেকশন কমিশনে গিয়ে, ইলেকশন কমিশনের সামনে গিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাদের প্রটেস্টের (আন্দোলন) মাধ্যমে আপনাদের পদত্যাগ করাতে বাধ্য হব।’

‘এনসিপি দলের মার্কা শাপলা করতে চেয়েছিল’ উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, কিন্তু গেজেটভুক্ত হয়েছে ‘শাপলা কলি’। এটি করে ইসি এনসিপির ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে চাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। সামান্তা বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের কারণ, আইনি ব্যাখ্যা, কোনো সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ছাড়া এটি করেছে। এই নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

কবে এবং কখন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভর্তি পরীক্ষা জেনে নিন?

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর উচ্চশিক্ষা নিতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা, নেমেছে ভর্তিযুদ্ধে। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি প্রকাশ করেছে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ প্রকাশ করেনি। এজনজরে জেনে নেয়া যাক কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে এবং কখন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া গতকাল বুধবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১২টায় শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হবে। অনলাইনে আবেদন ও নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে পারবেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। ৫টি ইউনিটে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’ ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং আইবিএ ইউনিট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধীনে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা ২৮ নভেম্বর (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে।

কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৩ ডিসেম্বর। বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২০ ডিসেম্বর।ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৬ ডিসেম্বর। চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২৯ নভেম্বর। আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৮ নভেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। সকল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৬ ডিসেম্বর তারিখ পর্যন্ত চলবে। আগামী ১৬ জানুয়ারি ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের, ১৭ জানুয়ারি ‘এ’ (মানবিক) ইউনিটের ও ২৪ জানুয়ারি ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দুই শিফটে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ও বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভর্তি কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘এ’ ইউনিটের ২ জানুয়ারি, ‘বি’ ইউনিটের ৩ জানুয়ারি, ‘সি’ ইউনিটের ৯ জানুয়ারি, ‘ডি’ ইউনিটের ১০ জানুয়ারি, ‘বি১’ উপ-ইউনিটের ৫ জানুয়ারি, ‘বি২’ উপ-ইউনিটের ৬ জানুয়ারি ও ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বৃদ্ধি ও ইউনিট ভিত্তিক পরীক্ষার ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে কি না-এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে ১৬ নভেম্বর (রবিবার) সকাল ১০টা থেকে এবং শেষ হবে ২ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টায়। মোবাইল বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আবেদন ফি প্রদান করা যাবে ৪ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এ ছাড়া E, T, S ও R চিহ্নিত আবেদনপত্রগুলো ১৮ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেজিস্ট্রার অফিসে সরাসরি বা কুরিয়ারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। আগামী ১০ জানুয়ারি-২০২৬ এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ লেভেল-১ স্নাতক কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ

দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি আবেদনগ্রহণ শুরু হবে আগামী নভেম্বর মাসে। তবে আবেদন শুরুর তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা তারিখ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ৭৫তম (জরুরি) সভায় ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ই-ইউনিট (চারুকলা অনুষদ): ১৩ ডিসেম্বর; এ-ইউনিট (বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ) ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার); সি-ইউনিট (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) ২৭ ডিসেম্বর (শনিবার); ডি-ইউনিট (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) এবং বি-ইউনিট (কলা ও আইন অনুষদ) ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার)।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আসন সংখ্যাও আগের বছরের মতোই থাকবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৭ মার্চ, ৩ এপ্রিল ও ১০ এপ্রিল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ মার্চ ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৩ এপ্রিল ‘বি’ ইউনিট এবং ১০ এপ্রিল ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেবে ভর্তি কমিটি। তবে আবেদন শুরুর তারিখ নির্ধারণ হবে পরবর্তী সভায়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক/স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হবে ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে অংশ নেবে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিসিপ্লিনগুলো এবং ‘বি’ ইউনিটে থাকবে জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিসিপ্লিনসমূহ।

পরদিন ১৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। ‘সি’ ইউনিটে থাকবে কলা ও মানবিক স্কুল, সামাজিক বিজ্ঞান স্কুল, আইন স্কুল, শিক্ষা স্কুল এবং চারুকলা স্কুলের ডিসিপ্লিনসমূহ। অন্যদিকে ‘ডি’ ইউনিটে অনুষ্ঠিত হবে ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে একান্ত আলাপে এ তথ্য জানান তিনি।

গত বছরের মত এবারও অধিভুক্ত সব কলেজের স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তিতে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এবারের ভর্তি পরীক্ষা। আগামী ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি

দেশের একমাত্র সরকারি মেরিটাইম বিষয়ক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি। এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় সেকেন্ড টাইম সুযোগ ও নেগেটিভ মার্কিং বজায় রাখা হয়েছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধু নৈর্ব্যত্তিক পদ্ধতিতে। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে ক্লাস শুরুর সম্ভব্য তারিখ ২০২৬ সালের মে মাসে।

অ্যাভিয়েশন এন্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

অ্যাভিয়েশন এন্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা-২০২৫ আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিস্তারিত পরবর্তীতে ওয়েবসাইটে হালনাগাত করা হবে বলে এতে বলা হয়েছে।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (লেভেল-১, সেমিস্টার-১) ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৬ জানুয়ারি শুরু হবে।চলবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

নির্ধারণ হয়নি কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ

কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনও নির্ধারণ হয়নি। তবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এবারও থাকছে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আওতায়। গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বের হওয়ার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেও বাকৃবি গুচ্ছের মাধ্যমেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। অর্থাৎ আগের বছরের মতোই কৃষি গুচ্ছের আওতায় বাকৃবির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

কৃষি গুচ্ছের আওতাধীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

রাসূল সাঃ কে নিয়ে কটূক্তি: ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী স্থায়ী বহিষ্কার

রাসূল সাঃ কে নিয়ে কটূক্তি: ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী স্থায়ী বহিষ্কার

ইউআইইউ প্রতিনিধি:

ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)- কে কটূক্তির দায়ে এবার বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. মোনসের আলী।

বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউআইউ শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মোনসের আলীকে (শিক্ষার্থী আইডি নম্বর: ০১১২২৩০৮৫৬) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৫ উদযাপন

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (WUB)-এর ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ গত শনিবার আয়োজন করে একাধিক কর্মসূচি, বিশ্বব্যাপী পালিত বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৫ উপলক্ষে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল: “পর্যটন ও টেকসই উন্নয়ন।”

দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে উত্তরা দিয়াবাড়ি লেক-এ গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালির পর শিক্ষার্থীরা লেক-সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে, যা পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল পর্যটন চর্চার এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. নুরুল ইসলাম। বক্তব্যে তিনি পর্যটনের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন:
“পর্যটন কেবলমাত্র বিনোদনের উৎস নয়; এটি সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশগত উন্নয়নের সাথে জড়িত। টেকসই পর্যটনের চর্চা বর্তমান প্রজন্মের ওপর ন্যস্ত একটি গুরুদায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর জাকি ইমাম, কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশনস প্রফেসর এম. মকবুল হোসেন, এবং প্রফেসর মুহাম্মদ নাসিমুল আজিম, চেয়ারম্যান ও পরিচালক, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। বক্তব্যে প্রফেসর আজিম বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের একাডেমিক ও উন্নয়নমূলক তাৎপর্যের ওপর আলোকপাত করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ইসা আহাম্মদ (বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ), যৌথ কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশনস মোহাম্মদ সাইফুল হান্নান, ডেপুটি কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশনস মোহাম্মদ আবির হোসেন, এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

মো. আব্দুল লতিফ মাহমুদ, সহকারী অধ্যাপক, সমন্বয়ক এবং WUB ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের মডারেটর, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন:
“এই আয়োজন কেবল একটি বিশেষ দিন উদযাপন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির এক বাস্তব অনুশীলন। আমি সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে প্রফেসর মুহাম্মদ নাসিমুল আজিম-এর প্রদত্ত ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং কেক কাটা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দের উৎসাহী অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই পর্যটন উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

রায়পুরে স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বহিষ্কার

রায়পুর, লক্ষীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চতুর্থ শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় বেগম রোকেয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমকে সাময়িক বহিষ্কার করেছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি।

জানা যায় দেবীপুর চালতাতলি বাজার বেগম রোকেয়া স্কুলের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেল ৪.টার নাগাদ অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে গেলে বাড়িতে কেউ না থাকায় ছাত্রীর ভাইকে চিপস আনতে পাঠিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে এবং শরীরের স্পর্শ কাতর স্হানে হাত দিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করে, ছাত্রীর চিৎকারে তার ভাই ছুটে আসলে লম্পট শিক্ষক তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে তার মাকে সব ঘটনা খুলে ব’লে। পরে এ ঘটনায় রাতেই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

শিক্ষা কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম বলেন এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবারের ঘটনায় যথেষ্ট প্রমাণ এবং ভিকটিমের বক্তব্য শুনে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এলাকায় সূত্রে জানা যায় শুধু ছাত্রী নয় ছাত্রীদের অল্প বয়সী মায়েদের ও টার্গেট করতেন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম এছাড়া তিনি অনুমতি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের বাসায় চলে যেতেন। এর আগেও ঐ শিক্ষকের নামে যৌন নিপীড়নের অনেক অভিযোগ রয়েছে কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ সোহেল আলম বলেন প্রতিষ্ঠানে তার অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এবারের ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত (২৪ সেপ্টেম্বর) ২০২৫ মামলা দায়ের করায় আমরা ম্যানেজিং কমিটির সকলের মতামতের ভিত্তিতে (২৭ সেপ্টেম্বর) ২০২৫ বহিষ্কার করি।

গকসু নির্বাচনে এক ভোট পেলেন গবি ছাত্রদল সভাপতি

ডেস্ক রিপোর্ট:
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে গকসু নির্বাচন। যা দেশের একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ। এবারের নির্বাচনে ০১টি ভোট পাওয়া প্রার্থী নিয়ে চলছে আলোচনা। আলোচিত সেই প্রার্থীর নাম মোঃ নির্জন।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ৯ জন ভিপি প্রার্থীর মধ্যে তিনিই মাত্র একটি ভোট পেয়েছেন।
জানা যায়, নির্জন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। এছাড়া তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি। গত ১১ জুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম. রাজিবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ সদস্যকে নিয়ে ছাত্রদলের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয় যেভাবে সভাপতি হন নির্জন।
তবে নির্বাচনের আগের দিন বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি গকসু নির্বাচন থেকে স্বেচ্ছায় প্রার্থীতা থেকে অব্যহতি ও প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদনও করেন।

তবে, তার দাবি নির্বাচন কমিশনার ভুলবশত ব্যালট পেপারে তার ব্যালট নাম্বার ছাপিয়েছে। তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের এ বিষয়ে অবগত করার জন্য তিনি এ ফেসবুক পোস্ট করেন।

এবারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়ী হয়েছেন মো. রায়হান খান। এ ছাড়া এজিএস পদে জয়ী হয়েছেন সামিউল হাসান শোভন।

উল্লেখ্য, দেশের একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) চালু রয়েছে ছাত্র সংসদ। ২০১৩ সালে প্রথমবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল গকসু কার্যনির্বাহী সংসদ

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অধিকার ও করণীয়

0

আজ চারিদিকে ভূরি ভূরি উদাহরণ যেখানে রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকা নিয়েছে। যেখানে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণী থেকে মধ্য, নিম্ন শ্রেণীর মানুষ রাষ্ট্রব্যবস্থা দ্বারা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে। আজ বিনা কারণে আপনার রাজনৈতিক চিন্তাধারার মতাদর্শের পার্থক্যের জন্য অথবা শুধু মাত্র ব্যক্তির স্বার্থ হাসিলের জন্য একজন অরাজনৈতিক সাধারণ নাগরিক আপনি যখন তখন বিনা কারণে পুলিশি হেনস্থার শিকার হতে পারেন। তাই আজ আপনাকে জানতে হবে বিনা কারণে পুলিশি হেনস্থা বা সোজা কথায় পুলিস গ্রেফতার করলে আপনার কী কী করণীয়। আপনার অধিকার জানলে আপনি অনেক বেশি সচেতন হবেন। আর নিজে জানলে অপরকে জানতেও সচেষ্ট হবেন।

আমরা সাধারণ মানুষেরা সাধারণত আইনের নানা মারপ্যাচ বুঝি না বা বুঝতে চেষ্টা করি না। আমরা সাধারণত আইন বিরুদ্ধ কাজ করি না। কিন্তু তবুও নানান চক্রান্তে আপনি যদি পুলিশি হেনস্থার শিকার হয়ে যান তাহলে যা যা আপনার করণীয়। অর্থাৎ এই সম্বন্ধে আমাদের আইন কী কী অধিকার আপনার জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন তা জেনে নিন।

বাংলাদেশে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অধিকার, পুলিশি হেনস্থার প্রতিকার ও আইনগত করণীয় জানুন, সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

জোর বা বলপূর্বক গ্রেফতারের প্রতিরোধ করবেন কি?

না। কারণ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬(২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বলপূর্বক তাকে গ্রেফতারের চেষ্টায় বাধা দেয় অথবা গ্রেফতার এড়াতে চেষ্টা করেন, তা হলে পুলিশ অফিসার অথবা অন্য ব্যক্তির গ্রেফতার কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পন্থা অবলম্বন করতে পারবেন।

মহিলাদের গ্রেফতার বা দেহ তল্লাশির পদ্ধতি কি?

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় মহিলাদের তল্লাশির পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশি করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে তা অন্য একজন স্ত্রীলোক দিয়ে করাতে হবে।

🔳 গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অধিকারসমূহঃ

➡ বাংলাদেশের সংবিধনের ৩৩(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের স্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এর অতিরিক্ত সময় আটক রাখা যাবে না।

➡ সংবিধানের ৩৩(১)অনুচ্ছেদে : গ্রেফতারের কারণ জানানো, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের সুযোগ দান ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
➡ সংবিধানের ৩৩(৪) অনুচ্ছেদে : কোনো অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না।
বাংলাদেশে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অধিকার, পুলিশি হেনস্থার প্রতিকার ও আইনগত করণীয় জানুন—সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।
➡ অভিযোগ সংক্রান্ত সকল কাগজের নকল পাওয়া।
➡ পুলিশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়গণকে গ্রেফতারের কারণ ও স্থান জানাবেন।
 ❇ পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে কাওকে গ্রেফতার করতে পারে? 

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী পুলিশ বিনা পরোয়ানায় কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে পারে। তবে তা অবশ্যই আমলযোগ্য অপরাধ হতে হবে।

🔳 আমলযোগ্য অপরাধ কী? ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪(চ) অনুযায়ী এটি সেই সমস্ত অপরাধ যার জন্য পুলিশ বিনা পরোয়ানায় কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে পারে। যেমন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি, অপহরণ ইত্যাদি।

যে সকল কারণে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারেঃ

➡ কোনো আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি অথবা অপরাধের সাথে জড়িত বলে যুক্তিসঙ্গত বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আছে।
➡ আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত তার কাছে ঘর ভাঙ্গার কোনো সরঞ্জাম রয়েছে।
➡ সরকারের আদেশ দ্বারা যাকে অপরাধী ঘোষণা করা হয়েছে।
➡ চোরাইকৃত কোনো মালামাল বহন বা তার এ সম্পর্কে কোনো অপরাধ রয়েছে বলে যুক্তি সন্দেহ কারন রয়েছে।
➡ কোনো পুলিশের কাজে বাধা দানকারী বা আইনসঙ্গত হেফাজত থেকে পলায়ন বা পালানোর চেষ্টা।
➡ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে পলায়নকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
➡ বাংলাদেশের বাইরে কোনো অপরাধ করেছেন, যা বাংলাদেশের আইনেও অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত।
➡ যাকে গ্রেফতারের জন্য অন্য কোনো পুলিশের কাছ থেকে অনুরোধ পাওয়া গেছে।
➡ নাম ও বাসস্থান জানাতে অস্বীকৃতি জানালে।
➡ কোনো ভবঘুরে ব্যক্তি বা অভ্যাসগত চোর বা ডাকাত হলে।

পুলিশ গ্রেফতার করলে করণীয়:

➡ পুলিশের নিকট নাম, ঠিকানা ও পেশাসহ পরিচয় তুলে ধরতে হবে।
➡ পেশজীবি বা ছাত্র হলে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। একারণে সবসময় পরিচয়পত্র সাথে রাখা উচিত।
➡ এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচিত আইনজীবির ফোন নম্বর সাথে রাখা যেতে পারে এবং গ্রেফতারের পর দ্রুত আইনজীবিকে বিষটি জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা উচিত। অন্তত আত্নীয় বা বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
➡ ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে নেয়া হয়, আর যে কোন থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে সংশ্লিষ্ট থানায় নেয়া হয়।
➡ গ্রেফতারের পর কাউকে লকআপে রাখার আগে তার বিভিন্ন জিনিসপত্র যেমন, কাগজ, মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি থাকলে তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার সেগুলোর একটি তালিকা তৈরী করে আটককৃত ব্যক্তির সাক্ষর নেয়। এই সাক্ষর দেবার সময় তালিকাটি পড়ে নেয়া উচিত।
➡ পুলিশ অফিসারের নিকট কোন বিবৃতি দিলে তা পাঠ করে বা বিবৃতির ভাষ্য অবগত হয়ে তাতে স্বাক্ষর করা উচিত।
➡ গ্রেফতারের পর আইনজীবী বা পরিবারের কাউকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানাতে না পারলে আদালতে হাজির করার পর ম্যাজিস্ট্রেটকে সরাসরি বিষয়টি জানানো উচিত। এতে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
➡ গ্রেফতারের পর কোন পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হলে বা  অসুস্থ হলে  আদালতের মাধ্যমে বা নিজ উদ্যোগে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে নিতে নেয়া যায়। চেকআপ করালে এ রিপোর্টটি সংগ্রহে রাখা উচিত। চেকআপকারী ডাক্তারের পরিচয় জেনে রাখা উচিত কারণ তা পরবর্তীতে প্রয়োজন হতে পারে।
➡ পুরনো কোন মামলায় গ্রেফতার হলে দ্রুত ঐ মামলার নম্বরসহ কাগজপত্র নিয়ে আদালতে গিয়ে জামিন শুনানীর চেষ্টা করা যেতে পারে।
➡ নতুন কোন মামলায় বা কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হলে একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জামিন শুনানীর চেষ্টা করা যেতে পারে।
➡ সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পুলিশের প্রশ্নে আপনার উত্তর কী হবে?
➡ পুলিশের মৌখিক প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে আপনাকে সাবধান হতে হবে। আপনাকে প্রশ্ন করা হবে স্বাভাবিক এবং বন্ধুত্বসুলভ, তবে উত্তর দিতে আপনার থেকে সচেতনভাবে। প্রশ্ন হতে পারে আজকের আবাহাওয়া বা আপনার পরিবার সম্পর্কে। কিন্তু উত্তরগুলি দেওয়ার আগে আপনি অবশ্যই চিন্তা করবেন যেন এই উত্তরগুলিকে আদালাতে আপনার বিপক্ষে উত্থাপন করা না হয়। মনে রাখবেন, পুলিশের উদ্দেশ্য আপনাকে চালান দেওয়ার জন্য কারন খুঁজে বের করা।

 ফৌজদারি বিধি ৩৩ (১) ধারা মতে আপনি আলোচনা বা পরামর্শের জন্য আপনার সুবিধামত যেকোন আইনজীবীর সাথে কথা বলতে পারেন।

   গ্রেফতার হওয়ার পর প্রশ্নের উত্তর যেভাবে দিবেনঃ

যদি কোন পুলিশ আপনার কোনো বর্ণনা জানতে চায়, তবে আপনি শুধু আপনার পরিচয় নাম ঠিকানা ইত্যাদি দিবেন এবং উক্ত পুলিশ অফিসারের নাম যেনে নিন। অন্য যেকোন প্রশ্নের উত্তর আপনি আপনার আইনজীবীসহ কোর্টে ছাড়া দিবেন না, এটা আপনার অধিকার। ফৌজদারি বিধি ৩৩(১) ধারা মতে আপনি আলোচনা বা পরামর্শের জন্য আপনার সুবিধামত যেকোন আইনজীবীর সাথে কথা বলতে পারেন। আপনি পুলিশের সাথে নিকট যা-ই বলুন না কেন, তা আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। অন্য যে কোন প্রশ্নের উত্তর নিবোক্তভাবে দিতে পারেন।

প্রশ্নঃ আপনার নাম?

উত্তরঃ আল মামুন রাসেল

প্রশ্নঃ আপনার পিতার নাম?

উত্তরঃ আবুল হাশেম

প্রশ্নঃ আপনাকে তো খিলগাঁও  থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বিকেলে খিলগাঁও  কোথায় ছিলেন?

উত্তরঃ আমি শুধু কোর্টেই এই প্রশ্নের উত্তর দেব।

প্রশ্নঃ আপনি বিকেলে কীভাবে খিলগাঁও গিয়েছিলেন?

উত্তরঃ- আমি শুধু কোর্টেই এই প্রশ্নের উত্তর দেব।

আপনি বাসা থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন?

উত্তরঃ- আমি শুধু কোর্টেই এই প্রশ্নের উত্তর দেব।

সর্বশেষ একটা পরামর্শ – কোনমতেই ১৬৪ তথা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া ঠিক হবে না। যতই লোভ লালসা, ভয়ভীতি দেয়া হওক। আর কখনো কোন সাদাকাগজে সাইন দেয়া যাবে না। আল্লাহ আনাদেআমাদের সকলকে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে রক্ষা করুক।

লেখক, অ্যাডভোকেট।

প্রধান পরিচালক, এল এস সি ল’ স্কুল

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: কীভাবে বেছে নেবেন বিশ্ববিদ্যালয়!

0

আপনি যে দেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবছেন, সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কোনগুলো র‍্যাংকিং-এ এগিয়ে আছে, তা যাচাই করে নিন। ইন্টারনেটে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং দেখার জন্য বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট আছে। (যেমন চীনের সাংহাই জিয়াওটং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত একাডেমিক র‍্যাঙ্কিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিস, যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান টাইমস হায়ার এডুকেশন বা টিএইচইর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং এবং কিউ-এস নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের র‍্যাংকিং । এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন উপস্থিতি বা ওয়েবসাইট কতটা ভালো, তার ওপর নির্ভর করে করা হয় ওয়েবোমেট্রিক্স র‍্যাংকিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র‍্যাঙ্কিংও আছে।) শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাসহ বিভিন্ন মানের ওপর নির্ভর করে র‍্যাঙ্কিং করা হয়। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের জন্য যেতে চান, তার র‍্যাঙ্কিংয়ের দিকে খেয়াল রাখুন। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং হয়তো সামনের দিকে থাকে, কিন্তু আপনি যে বিষয়ে পড়বেন, তার অবস্থান পেছনে থাকতে পারে।

আবেদনের যোগ্যতা প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণঃ

সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে এখন আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে মোটিভেশন লেটার, রেকমেন্ডেশন লেটারসহ (সুপারিশপত্র) ভাষা দক্ষতার সনদ জমা দিতে হয়। দ্রুত ও সহজেই আবেদন করা যায়, ভর্তিপ্রক্রিয়ায় সময় কম লাগে, এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে রাখতে পারেন।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, র‍্যাংকিং, বৃত্তি, আবহাওয়া, ভাষা ও ক্যাম্পাসসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ।

বৃত্তির যত সুযোগঃ

বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি সাধারণত একটু বেশি হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পছন্দসই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমন বৃত্তির সুযোগ আছে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মেধাভিত্তিক বৃত্তির পাশাপাশি অন্যসব বৃত্তির খোঁজ নিন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট ও ভর্তি কার্যালয়ে ই–মেইল বা চিঠি লেখার মাধ্যমে বৃত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।

কেমন ক্যাম্পাসঃ

আমেরিকা, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরবর্তী ক্যাম্পাস থাকে। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়টি কোন শহরে অবস্থিত, তার দূরবর্তী ক্যাম্পাস কোথায়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনার আবাসন কত দূরে, এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাথায় রাখা জরুরি। শহরকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে ব্যস্ততা যেমন বেশি থাকে, তেমনি কাজের চাপও অনেক। আবার এসব ক্যাম্পাসে পড়ার মাধ্যমে সেই দেশ ও শহরের সংস্কৃতিকে ভালো করে জানার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে জীবনযাপনের খরচের দিকে খেয়াল রেখে বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যান্য তহবিল বা আয়ের সুযোগঃ

আপনি বৃত্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও খেয়াল রাখুন, অন্য কোনো উপায়ে তহবিল লাভের সুযোগ আছে কি না। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিযোগিতা, সম্মেলন কিংবা এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মাধ্যমেও তহবিল প্রাপ্তির সুযোগ থাকতে পারে। গবেষণার পাশাপাশি ক্যাম্পাসভিত্তিক কাজের কেমন সুযোগ আছে, সেদিকেও খেয়াল রাখুন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ থাকে। শিক্ষকের সহকারী বা গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করেও আয় করা যায়, যা আপনার জীবনযাত্রাকে সহজ করবে।

আবহাওয়ার দিকে খেয়াল রাখুনঃ

যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করবেন, সেটি কোন এলাকাতে অবস্থিত? সেখানকার আবহাওয়া কেমন? বাংলাদেশ থেকে গিয়ে আপনি সেখানে মানিয়ে নিতে পারবেন তো? অতিরিক্ত শীত বা অতিরিক্ত গরমে আপনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে কি না, তা আগেই বিবেচনা করুন।

পাঠ্যক্রমের ভাষা কীঃ

কোন ভাষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম পরিচালিত হয়, সে ভাষায় আপনার ভালো দখল আছে কি না, তা আগেই খেয়াল করুন। ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানা থাকলে আপনি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন। আবার ভাষা না জানা থাকলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

কীভাবে জানবঃ

সব তথ্যই পাবেন ইন্টারনেটে। ইন্টারনেট ঘেঁটে আপনি প্রয়োজনীয় তথ্যটা বের করতে জানেন কি না, সেটাও কিন্তু একটা যোগ্যতা বা দক্ষতা। সেই দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে এখনই। এ ছাড়া আপনার কোনো শিক্ষক, কিংবা ভিনদেশে পড়ছেন, এমন পরিচিত কারও পরামর্শ নিতে পারেন। ঢাকার আমেরিকান সেন্টার, ব্রিটিশ কাউন্সিল, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, গ্যেটে ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ পেতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং রূপকথা

লেখক : ওয়ালিদ

ছাত্র , IUBAT

ঘরে বসে লক্ষ টাকা আয় করুন | বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সুবাদে এইরকম কথার সাথে আমরা সকলেই কম বেশি পরিচিত | কিন্তু সত্যিই কি ঘরে বসে লাখ টাকা আয় করা যায়? আর যদি যায় তাহলে সেটা কিভাবে করতে হয়? এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেকের মাঝে অনেক ধরনের কনফিউশন থাকে | ইনশাআল্লাহ আজকে আমি আপনাদের সকল ধরনের কনফিউশন দূর করার চেষ্টা করবো | তার আগে আমি আমার স্পিসিফিক একটি পরিচয় দিতে চাই। কারণ ফ্রিল্যান্সিং কথাটার সাথে অনেক বড় স্ক্যাম জড়িত | আমার নাম ওয়ালিদ , আমি গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফাইবার মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছি | বর্তমানে আমি ফাইবার মার্কেটপ্লেস এ লেভেল টু সেলার |

প্রথমেই বলে রাখি যে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় | অনেকেই এই দুটো জিনিস কে একই ভেবে গুলিয়ে ফেলে | খুবই সহজ ভাষায় বলতে গেলে যারা সার্ভিস দেয় তারা ফ্রিল্যান্সার , আর যারা সার্ভিস ক্রয় করে তারা আউটসোর্সার | ধরুন আপনি খুবই ভালো ওয়েবসাইট বানাতে পারেন | আমি আপনার কাছে গিয়ে বললাম ভাই আমার একটি ওয়েবসাইট লাগবে আমাকে একটি সাইট তৈরী করে দিন |আপনি আমাকে সুন্দর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দিলেন এবং তার বিনিময় আমার কাছ থেকে  টাকা নিলেন | এখানে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করলেন এবং আমি আউটসোর্সিং করলাম |

এবার চলুন একটু টাকা-পয়সা নিয়ে কথা বলি | ফ্রিল্যান্সিং করে অবশ্যই লক্ষ টাকা আয় করা যায় তবে এই কথাটা আংশিক সত্য | কারণ এক লক্ষ টাকার কথা বলে আপনাকে লোভ দেখানো হচ্ছে কিন্তু এক লক্ষ টাকা আয় করতে গেলে কি পরিমাণ পরিশ্রম আপনাকে করতে হবে সেই বিষয়ে ক্লিয়ার করে বলা হচ্ছে না | আমার ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভাই আমাকে একবার বলেছিল , ” পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো অন্যের পকেট থেকে টাকা বের করা ” |  আর ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আপনাকে অনেক স্মার্ট ভাবে  এই কাজটি করতে হবে | 

যেহেতু বর্তমান সময়ে অনেক কম্পিটিশন তাই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আসার আগে আপনাকে প্রচুর দক্ষতা অর্জন করতে হবে | তা না হলে হাজারো কম্পিটিশনের মাঝে আপনি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবেন এবং তখন আপনার মনে হবে আসলেই এই কথাগুলো মনে হয় মিথ্যা কথা যে “ফ্রিল্যান্সিং করে লক্ষ টাকা আয় করা যায়”

আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয় সবচেয়ে তিনটি ক্যাটাগরি হলো :

1.Web Development 

2.Digital Marketing

3.Graphic Design

এছাড়া আরো অনেক ক্যাটাগরি আছে যেখানে আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারবেন | ফ্রিল্যান্সিং মূলত একটি মুক্ত পেশা এখানে আপনি আপনার দক্ষতা বিক্রি করতে এসেছেন |

তাই ,এখানে আপনি চাইলে আপনার যেকোন দক্ষতাকে মার্কেট উপযোগী করে  বিক্রি করতে পারবেন | 

আর হ্যাঁ অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে লক্ষ টাকা আয় করা যায় কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন প্রকারের ডেডিকেশন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা |

আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর,

এডুকেশন ইউএসএ, মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা।