ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি শাখার জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার উদ্যোগে ২০২৫ সালের “জুলাই বিপ্লব”-এর বর্ষপূর্তি ও ছাত্রশিবির জুলাই ৩৬-দিনব্যাপী কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত হলো “জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৫।”

১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি সেমিনার হলে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য, ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি সমন্বয়ক জুলাই যোদ্ধা নাইম আবেদীন, গোলাম রাব্বি, তালহা রাইয়ান, তাকরীম।

জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতায় NSU, IUB, EWU, AUST, UU, UIU, DIU, AIUB, BUFT, WUB, MIU, Daffodil সহ বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “জুলাইকে বাচিয়ে রাখার জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। জুলাইকে ধারণ করেই আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিথিবৃন্দ জুলাইকে সমুন্নত রাখতে ছাত্রশিবিরের আয়োজনের প্রশংসা ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথি নাইম আবেদীন বলেন, “বাংলাদেশের জন্য কোন বিভক্তিকরণ ভালো কাজ হবে না বরং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানে দল, মত নির্বিশেষে জুলাইকে ধারণ করেই সকল ছাত্র সংগঠন এগিয়ে যাবে।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি মো: জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আজকের জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা জাতির কাছে জুলাইকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে চাই।” শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত আয়োজনে সুশৃঙ্খলভাবে প্রোগ্রামের সমাপ্তি হয়।

শত্রু তাড়াও

0

মুক্তিকামী সকাল আনে
জীবন ইতি দিয়ে,
তা বেচে দেয় পিশাচ খুনি
কালো হাঁটে গিয়ে।

দেশ পুনরায় খাদে পড়ে
বিপ্লবীরা জাগে,
আলোর জন্য প্রাণ দিতে হয়
আবার মাটাদাগে!

থামছে না যে কোনোভাবে
বেচাকেনার খেলা,
সূর্য দেখেই গ্রহণ আসে
নামায় সন্ধ্যাবেলা!

এখনো দিন অটুট আছে
দেশপ্রেমী হও শক্ত-
শত্রু তাড়াও,মুক্তি রবে
ঝরবে না আর রক্ত।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে রয়েল এনফিল্ডের ফ্রী টেস্ট রাইড অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
উত্তরায় অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রী টেস্ট রাইড ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে রয়েল এনফিল্ড। রয়েল এনফিল্ডের ডিলার উত্তরায় অবস্থিত ভিনটেজ মটরস এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে।
আজ শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিন ব্যাপী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাইকার্স ক্লাবের উদ্যোগে ভিন্টেজ মটরসের সহযোগিতায় এই আয়োজনে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রী টেস্ট রাইড, রয়েল এনফিল্ডের বিভিন্ন ফিচার সম্পর্কে জানানো, বাইকিংয়ের সময় সচেতন থাকার উপর পরামর্শ দেওয়া হয়।

দেখা যায়, রয়েল এনফিল্ডের ক্লাসিক সিরিজ, বুলেট সিরিজ, হান্টার, মেটিওর বাইক গুলোতে শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফূর্তভাবে রাইড করে। এছাড়াও ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অটোমোবাইল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী লাবীব জানান, রয়েল এনফিল্ডের বাইকে রাইড করে খুবই ভালো লাগলো। সাসপেন্সন, ব্রেকিং সিস্টেম অনেক উন্নতমানের। সামনে সম্ভব হলে আমি রয়েল এনফিল্ডের বাইক ক্রয় করবো।

ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী জানান, রয়েল এনফিল্ডের বাইক রাইড করা শখের বিষয়। আমরা সচারাচর যেসব বাইক রাইড করি সেগুলোর সাথে রয়েল এনফিল্ডের বাইকের কিছু পার্থক্য আছে। যেমন, ভাঙা রাস্তার মধ্যে রাইড করলে খুব স্মুথ ভাবে চলতে পারি। কোথাও ধাক্কা খেলে বোঝা যায় না।

রয়েল এনফিল্ডের জোনাল সার্ভিস ম্যানেজার জনাব সাইফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা ক্যাম্পেইন করতে পেরে নিজেদের কাছে আনন্দ লাগছে। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাইকার্স ক্লাব আমাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে এজন্য তাদের নিকট কৃতজ্ঞ।
ডব্লিউইউবি বাইকার্স ক্লাবের ফাউন্ডার প্রীতম দেবনাথ জানান, খুবি ভালো লাগছে এমন একটি আয়োজন করতে পেরে। আমাদের পাশে থাকার জন্য রয়েল এনফিল্ড এবং ভিন্টেজ মটরস কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা বাইকারদের নিয়ে সচেতনতা মূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্যারিয়ার গাইডলাইন সেমিনার, জব হান্টিং, বাইক শো, রাইড ক্যাম্পেইন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম করে থাকি।

উক্ত প্রোগ্রামে আরও উপস্থিত ছিলেন রয়েল এনফিল্ড বাংলাদেশের এর হেড অফ সেলস এবং মাকেটিং জনাব রবিউল হক, ভিন্টেজ মটরস এর ডিলার ওনার জনাব ওয়াহিদুর রহমান, এরিয়া সেলস ম্যানেজার জনাব ইজরার আকরাম, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অটোমোবাইল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আহমেদ।

মাহিন সরকার যে কারণে সরে দাঁড়ালো, জানালেন জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
মন্ত্রীপাড়ার চাপের মুখে মাহিন সরকারকে প্যানেল থেকে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

জামালুদ্দীন বলেন, “প্যানেলে যুক্ত হওয়ার আগেই দলীয় মহল থেকে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি বহিষ্কারের হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এলাকায় গিয়ে নানাভাবে ভীতিও দেখানো হয়। এসব চাপ হয়তো মাহিন সরকার নিতে পারেনি। আমি তাকে বলেছিলাম আবারও ভেবে দেখার জন্য।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু মাহিন সরকারই নন, আমাদের প্যানেলের অনেক প্রার্থীকে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দূর থেকে এ ধরনের ষড়যন্ত্র চালানো হলেও আমরা বিচলিত নই। আমাদের মনোবল অটুট রয়েছে।”

মন্ত্রীপাড়ার চাপে মাহিন সরকারকে প্যানেল থেকে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদের।
মন্ত্রীপাড়ার চাপে মাহিন সরকারকে প্যানেল থেকে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদের।

জামালুদ্দীন মনে করেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাদের প্যানেল যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে, সেটিই ষড়যন্ত্রের মূল কারণ। তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলন থেমে নেই। মাহিন সরকারকে ঘিরে অনেকে জুলাই শক্তিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ আমাদের প্যানেলেই জুলাই অভ্যুত্থানে আহত বহু শিক্ষার্থী রয়েছে। জুলাই কোনো ব্যক্তির একক সম্পদ নয়, এটি সবার সম্মিলিত সংগ্রাম।”

প্যানেলের এজিএস প্রার্থী ফাতেহা শারমিন এ্যানি বলেন, “একজনের অনুপস্থিতিতে আমরা দমে যাব না। আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে দলীয় লেজুড়বৃত্তির, কিন্তু আমরা বরাবরই এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। মাঠের লড়াইয়ের মাধ্যমেই আমরা এ পর্যন্ত এসেছি।”

লোক প্রশাসনকে শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে, বেরোবিতে মানববন্ধন

সিদ্দিকুর রহমান, বেরোবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) শিক্ষা ক্যাডারে স্বতন্ত্র কোডে লোকপ্রশাসন বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করাসহ দুই দাবিতে মানববন্ধন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। তারা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে কলেজ পর্যায়ে ‘পৌরনীতি ও সুশাসন’ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্গত বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করার জোড় দাবি জানান।

সোমবার, ১৮ আগস্ট, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বর থেকে মিছিল বের হয়ে প্রধান ফটকে এসে মিছিলটি মানববন্ধনে মিলিত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই ধরনের পাঠ্যক্রম থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হলেও লোকপ্রশাসন বিভাগকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। তারা বলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগকে শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে কর্মসংস্থানের সুযোগই বাড়বে না, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নীতি ও প্রশাসনিক জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এসময় শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সরকার, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো বিবেচনা করে দাবি বাস্তবায়নের আহবান জানান।

মানববন্ধনে একাগ্রতা প্রকাশ করে অংশ নেন লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক নিয়াজ মাখদুম, আফজাল হোসেন শাকিল এবং বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মো: মুজাহিদুল ইসলাম।
লোক প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “লোকপ্রশাসন বিভাগকে শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন যৌক্তিক, আর তাদের এ ন্যায্য দাবি সরকারকে অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।”

বেরোবি লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষকরা মনে করেন, এই বিভাগের পাঠ্যক্রম রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মতোই শিক্ষা ক্যাডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবুও শিক্ষা ক্যাডার থেকে লোকপ্রশাসন বিভাগকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক।

তারা আরো বলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগ মূলত প্রশাসন, শাসনব্যবস্থা ও সমাজবিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চতর জ্ঞান প্রদান করে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অবদান রাখতে পারবে। শিক্ষকরা আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের এই দাবি যৌক্তিক, সময়োপযোগী এবং ন্যায্য। তাই সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগকে শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
মানববন্ধনে লোকপ্রশাসন বিভাগের দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা লোক প্রশাসন বিভাগকে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে। তারা কর্মসংস্থান ও শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকাস্থ ফেনী সদর উন্নয়ন পরিষদের প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

0

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ঢাকায় বসবাসরত ফেনী সদর ও পৌরসভার বাসিন্দাদের নিয়ে প্রীতি সমাবেশ ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো: তাহের সাবেক এমপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলার সাবেক আমীর অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূইয়া, ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি আবদুল হান্নান, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক।
সভাপতিত্ব করেন ঢাকাস্থ ফেনী সদর উন্নয়ন পরিষদের আহবায়ক কবির আহমদ। সমাবেশের সঞ্চালনা করেন ফেনী সদর উন্নয়ন পরিষদের সদস্য সচিব আতিকুর রহমান। প্রীতি সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবু ইউসুফ, ফেনী ফোরাম ঢাকা’র সাবেক সভাপতি ডা: মাহমুদুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জসীম উদ্দিন তালুকদার, জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি আনম আবদুর রহীম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নাদেরুজ্জামান, ফেনী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সামাউন হাসান, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শিহাব উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূইঁয়া বলেন- “আমাদের ফেনীর কৃতি সন্তান হিসেবে ফেনীর উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ফেনীতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং আধুনিক সেনানিবাস করার জন্য আমাদের সকলকে ভূমিকা পালন করতে হবে।”

এনটিআরসির ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি: শিক্ষক নিয়োগে গতি এলেও শূন্যপদ অর্ধেকেরও বেশি

সাদী মোহাম্মদ সাদ
ক্যাম্পাস মিরর

দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। অবশেষে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনটিআরসিএ ৪১ হাজার ৬২৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। তবে মোট শূন্যপদ ছিল এক লাখেরও বেশি। ফলে নিয়োগ-সুপারিশের পরও ৫৮ হাজারের বেশি পদ ফাঁকা রয়ে যাচ্ছে।

এই চিত্র শিক্ষাখাতের দীর্ঘদিনের আরেকটি সংকটকে সামনে আনে, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম টেকসই হচ্ছে না।

গত ১৬ জুন এনটিআরসিএ প্রকাশ করে ৬ষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। প্রায় এক লাখ আট শতাধিক শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে আবেদন জমা পড়ে ৫৭ হাজার ৮৪০টি। পরে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও মাউশি থেকে প্রেরিত আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮০টি শূন্যপদ বাতিল করা হয়। অবশিষ্ট ১ লাখ ৪২টি পদের বিপরীতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হন ৪১ হাজার ৬২৭ জন।

কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক শূন্যপদের বিপরীতে আবেদনকারীই ছিল তুলনামূলক কম। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ২৪ হাজারের কিছু বেশি, আর পুরুষ আবেদনকারী প্রায় ৩৪ হাজার। অনেকেই নিজেদের নিবন্ধন সনদ বহির্ভূত বিষয়ে আবেদন করায় ১২৫ জন বাদ পড়েছেন। শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু নিয়োগ-সুপারিশ দিয়ে শিক্ষার সংকট মিটবে না। শহরের বাইরে অনেক স্কুলে বিজ্ঞান, গণিত কিংবা ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস পাচ্ছে না, বরং পরীক্ষার সময় কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেন, “যে সংখ্যক পদ ফাঁকা থেকে যাচ্ছে, তা আসলে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। শিক্ষকবিহীন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান কীভাবে রক্ষা করা যাবে?”

এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশে শিক্ষাখাতে এক ধরনের গতি এসেছে, এ কথা সংশ্লিষ্টরাও স্বীকার করেন। কিন্তু বাস্তবতায় সমস্যা থেকে যাচ্ছে বহাল তবিয়তেই। একদিকে নিবন্ধিত প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের তুলনায় কম, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ভিত্তিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। শিক্ষানীতির বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল একটি গণবিজ্ঞপ্তি নয়, বরং ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। শূন্যপদ পূরণে নিয়মিত নিয়োগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষকতায় উৎসাহিত করা এখন জরুরি

৪১ হাজার শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষাখাতে স্বস্তির খবর বটে। তবে অর্ধেকেরও বেশি শূন্যপদ ফাঁকা থাকার বাস্তবতা উদ্বেগ বাড়ায়। শিক্ষার্থীরা কি প্রকৃত অর্থে মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে? শিক্ষক-সংকটময় এ বাস্তবতায় শিক্ষা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কী পরিকল্পনা হাতে নেবে, এখন সেটিই মূল প্রশ্ন।

নর্দান ইউনিভার্সিটির ভিসি নিয়োগে গড়িমসি, নেপথ্যে ইউজিসি সদস্য

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভিসি নিয়োগ নিয়ে সময়ক্ষেপণ ও গড়িমসির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর নেপথ্যে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন রয়েছেন বলে অভিযোগ এনইউবি সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানিয়েছে, নর্দান ইউনিভার্সিটিতে ভিসি নিয়োগের জন্য গত ১৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং একই তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের তালিকা পাঠায় প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রেক্ষিতে নর্দান ইউনিভার্সিটির চাহিদার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইউজিসির কাছে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ নিয়োগের বিষয়ে আইনগত দিক পর্যালোচনাপূর্বক মতামত/প্রতিবেদন’চেয়ে গত ১৪ জুলাই একটি চিঠি দেয়। কিন্তু ইউজিসি এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কোনো প্রতিবেদন না দিয়ে অতিউৎসাহী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘প্রশাসক’নিয়োগে মতামত দিয়েছেন। যেটিকে ইউজিসির এখতেয়ার বহির্ভূত বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউজিসি লোগো

এদিকে ইউজিসির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নর্দান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) নিয়ে মামলা চলমান থাকায় ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের অগ্রগতি হচ্ছে না। তারা জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রশাসক নিয়োগের বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।

তবে এনইউবি কর্তৃপক্ষ বলছে, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভুয়া পক্ষকে ‘বিবাদমান পক্ষ’ বানাচ্ছেন। জেলা জজ চতুর্থ আদালত (মামলা নম্বর ১৭/২০২৫) অবৈধ ও প্রতারণামূলক নিবন্ধিত সাপ্লিমেন্টারি আইবিএটি এবং এনইউবি ট্রাস্টের সকল কাজে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সর্বশেষ চিঠি অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় এনইউবিতে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের সুনির্দিষ্ট মতামত চেয়েছে। এরপর এই বিষয়ে মতামত ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে মতামত প্রদানে সংস্থাটির সুযোগ নেই। প্রচলিত আইন (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন) অনুসারে, ভাইস চ্যান্সেলর প্যানেলভুক্ত শিক্ষকগণ ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার শর্ত পূরণ করেন কি না—তার বাইরে ইউজিসির মতামত প্রদান এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

জানা গেছে, এ বিধিবহির্ভুতভাবে ইউজিসি অতি উৎসাহী হয়ে এনইউবিতে প্রশাসক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহ আল ইউসুফের নাম প্রস্তাব করে। কিন্তু শিক্ষা উপদেষ্টা প্রস্তাবটি বাতিল করে চিঠিটি নথিজাত (বাজেয়াপ্ত) করে।

নর্দান ইউনিভার্সিটি সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, ভুয়া ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশ করে ড. আনোয়ার হোসেন এনইউবিতে প্রশাসক নিয়োগের চেষ্টা করছেন। এর আগে এনইউবি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনেও তিনি ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছেন। যা প্রমাণিত হওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় কমিটি করা হয়, কিন্তু সেই কমিটিতেও ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়।

নর্দান ইউনিভার্সিটি সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, ভুয়া ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশ করে ড. আনোয়ার হোসেন এনইউবিতে প্রশাসক নিয়োগের চেষ্টা করছেন। এর আগে এনইউবি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনেও তিনি ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছেন। যা প্রমাণিত হওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় কমিটি করা হয়, কিন্তু সেই কমিটিতেও ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর নিজেদের ট্রাস্টি পরিচয় দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দখল ফিরে পেতে আবেদন করেন বোরহান উদ্দিন ও লুৎফর রহমান নামে দুই ব্যক্তি। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটিতে প্রতারণামূলক, ভুয়া বিওটি গঠনকারীদের ঘনিষ্ঠ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নোমান ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে রাখা হয়। ভুয়া বিওটিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ সাপেক্ষে দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এ দফায় গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আলতাফ হোসেনকে—যিনি ভুয়া বিওটি গঠনকারীদের এলাকার লোক। এক সময়ে নর্দান ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিতেন (খণ্ডকালীন)। এছাড়া আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব ও অগ্রণী ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুবিধাভোগী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক লিগ্যাল অ্যাডভাইজর ছিলেন। আলতাফ হোসেন কমিশনের অপর দুই সদস্যের সম্মতি ছাড়াই একটি মনগড়া প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু হাইকোর্ট সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ জানিয়ে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এনইউবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা নিয়মনীতি মেনেই ভাইস চ্যান্সেলর প্যানেল ইউজিসিতে জমা দিয়েছি। এরকম কোনো আবেদন বা চিঠি গেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ম অনুসারে ইউজিসি মতামত চায়। কিন্তু ইউজিসি অজ্ঞাত কারণে মতামত দিচ্ছে না, আটকে রেখেছেন। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, একটা গ্রুপ গত ৫ আগস্টের পর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দখলের পাঁয়তারা করছে। নানা অপচেষ্টা করেও তারা সফল হতে না পেরে তারা বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। যেগুলো তারা কোর্টেও প্রমাণ করতে পারেনি এবং কোথাও গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারা নানাভাবে ঝামেলা করতে চাচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে তারা ভিসি নিয়োগ বিলম্বিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইউজিসি ভুয়া পক্ষকে বিবদমান পক্ষ দেখাচ্ছে। অথচ আদালত সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে ওই বিওটির যেকোনো ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছে। আর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ভাইস চ্যান্সেলরের পরিবর্তে ইউজিসি প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে মাথা ঘামাতে পারেনা। এটা বিধিবহির্ভূত।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের একজন সদস্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দখলের অপচেষ্টাকারীদের দাবির মুখে পর পর গঠিত দুটি তদন্ত কমিটিতেই পক্ষপাতিত্ব করেছেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। যার প্রেক্ষিতে প্রথমটি গ্রহণযোগ্যতা হারায় এবং দ্বিতীয়টির একপেশে প্রতিবেদনও আদালতে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।

তিনি আরও বলেন, একটা ভুয়া ট্রাস্টি বানিয়ে সেখান থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। সেটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাদ দিয়ে সর্বশেষ একটা চিঠির মাধ্যমে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের ব্যাপারে ইউজিসির কাছে আইনগত মতামত চায়। এ মতামতের বাইরে তো ইউজিসি কিছু করতে পারে না। কিন্তু ইউজিসির বেসরকারি ব্যবস্থাপনা বিভাগীয় প্রধান তালবাহানা করে সেই ভুয়া ট্রাস্টির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাইস চ্যান্সেলর ইস্যুতে প্রতিবেদনের জন্য বোর্ড অব ট্রাস্টি (বিওটি) সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন। এখন আমরা যদি বিওটি ইস্যু সম্পর্কে যদি কথা বলতে চাই তাহলে আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে ভাবতে হয়। বিশেষ করে, এ সংক্রান্ত মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

বিওটি ইস্যুতে তদন্ত কমিটিতে প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউজিসিতে আমার ব্যক্তিগত কোনো এজেন্ডা নেই। কোনো বিষয়ে কোথাও আমার প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন আসেনা।

প্রশাসক নিয়োগের অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এ বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বশেষ চিঠিতে সুনির্দিষ্ট করে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ নিয়োগ নিয়ে মতামত চেয়েছিল বলে জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদপুর-বছিলা রাস্তা সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

0

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আজ ১৭ আগস্ট রবিবার সকাল ১০ঃ০০ ঘটিকায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়ীবাঁধ মোড়ে মোহাম্মদপুর-বছিলা রাস্তা সংস্কারের দাবীতে সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), আমাদের মোহাম্মদপুর, ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ সোসাইটি(মোহাম্মদপুর), সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস (এসএইচআর), ঐক্যবদ্ধ মোহাম্মদপুর ও বছিলা সোশ্যাল প্লাটফর্ম এর উদ্যোগে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত মানববন্ধনে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক সাংবাদিক ও গবেষক আ ফ ম মশিউর রহমান এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সামাজিক সংগঠন আমাদের মোহাম্মদপুর এর সভাপতি ইসমাইল পাটোয়ারী, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর মোহাম্মদপুরের উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম রুবেল, শিক্ষক নেতা এস এম শাহীন, বছিলা সেশ্যাল প্লাটফর্ম এর এম এ রশিদ, শ্রমিক নেতা অহিদুর রহমান, সাইফুল্লাহ সেলীম, লিটন ও আব্দুল হামিদ।

মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা ১৩ আসনের প্রার্থী মোবারক হোসেন, বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক কমিটির সদস্য আহমদ আলী, ডাঃ শফিউর রহমান, আপ বাংলাদেশ নেতা রাজিবুল ইসলাম, ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আলী আহমদ মজুমদারসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এর নের্তৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, লাখো মানুষের দৈনন্দিন জাতায়াতের এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত উন্নয়ন ছোঁয়ার বাহিরে। রাস্তায় খানাখন্দ, কাঁদা-পানি একাকারসহ নানা কারণে প্রতিদিন এক্সিডেন্ট, গাড়ী আটকে থাকা এবং দীর্ঘ জ্যামে মানুষের কর্মঘন্টা নষ্ট হওয়া যেনো স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

এমন রাস্তা আজকাল গ্রামেও দেখা মেলে না। পাশাপাশি ফোর লেন হবার উপযুক্ত রাস্তাটির বড় অংশজুড়ে আছে ইট-পাথর ব্যবসা, শুধু ফুটপাত দখল নয় বরং রাস্তার বড় অংশ জুড়ে ভ্রাম্যমান দোকানপাট।

বক্তারা দাবী করেন, এসকল বিষয় নজড়ে নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়, সিটি করপোরেশন এবং বিভাগগুলো যেনো অনতিবিলম্বে রাস্তা সংস্কার করে রাস্তাকে দখলমুক্ত করার কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহন করে। অন্যথায় তারা রাস্তা অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচী গ্রহনের হুমকি দেন।

রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৫ দেশের নাগরিক

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটা বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ছাড়াও অন্তত চার দেশের নাগরিকের এই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। মামলার চার্জশিট প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে, শিগগিরই আদালতে দাখিল হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগের তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মচারী ছাড়াও ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার গুরুতর গাফিলতি ছিল। এমনকি তাদের কারও কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততাও ছিল।

প্রতীকী ছবি/এআই

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, অত্যাধুনিক ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্র এ চুরির ঘটনা ঘটায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগ থেকে সচেতনভাবেই ওই ম্যালওয়্যারযুক্ত ফাইল খোলা হয়েছিল। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার অবৈধভাবে স্থানান্তরিত হয়।

তিনি আরও বলেন, চার্জশিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) বিস্তারিত প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ওই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাতে এরই মধ্যে এফবিআইকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেটি হাতে পেলেই তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) রাতে সংঘটিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি বিশ্বের অন্যতম বড় সাইবার ডাকাতির ঘটনা। সে সময় বাংলাদেশে ব্যাংক কার্যক্রম বন্ধ ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রেও সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়েছিল। সেই সুযোগে হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার স্থানান্তরের চেষ্টা করে, তবে ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার সরাতে পারে তারা।

চুরি হওয়া ওই অর্থের বড় অংশ দুর্বল নজরদারির ফাঁক গলে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো শিল্পের গোপনীয়তা আইনের অধীনে পাচার হয়ে যায়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে এবং প্রায় ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়। পরে শ্রীলঙ্কায় প্রেরিত অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হলেও ফিলিপাইন থেকে অর্থ উদ্ধার জটিল হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

এ ঘটনার তদন্তে সিআইডির পাশাপাশি এফবিআই, ফিলিপাইনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এনবিআই) এবং শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক অংশ নেয়। পরবর্তীতে জাতিসংঘকেও এ অপরাধে ব্যবহৃত কৌশল ও লেনদেনের ধারা সম্পর্কে জানানো হয়।

ঘটনার ৩৯ দিন পর ওই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব ও বাজেট বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। পরে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রায় নয় বছরের তদন্তে দেশি-বিদেশি শতাধিক সাক্ষীর জবানবন্দি, আইপি ঠিকানা, নেটওয়ার্ক লগ, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং ড্রিডেক্স ম্যালওয়্যার কোডসহ বিস্তৃত প্রযুক্তিগত প্রমাণ খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর ফলে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

সিআইডির আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এই তদন্তে আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ চক্রের কৌশল, তাদের দেশীয় সহযোগীদের ভূমিকা এবং আমাদের সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চার্জশিট এমনভাবে প্রস্তুত করতে চাই যাতে অপরাধীরা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আইনের মুখোমুখি হয়।’

চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এ সাইবার ডাকাতির রহস্য উন্মোচিত হবে এবং বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

সূত্র: ইউএনবি।