আমার বক্তব্যের ‘অপব্যাখ্যা’ হয়েছে: বদিউল আলম মজুমদার

0

ডেস্ক রিপোর্ট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে নিজের বক্তব্যের অপব্যাখ্যা হওয়া নিয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আজ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের উদ্যোগে অংশীজনের সঙ্গে এক সফল সংলাপের পর স্থানীয় কিছু সাংবাদিক ভবিষ্যতের নির্বাচন সম্পর্কে আমার কাছে জানতে চান। আমি বলেছি যে আমাদের কমিশন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্বাচনী আইনকানুন ও বিধিবিধান সংস্কারের প্রস্তাব করবে। আমি আরও বলেছি, ভবিষ্যতে আইনকানুন মেনে প্রস্তুত হয়ে নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করতে পারবে, তাদের ব্যাপারে আমি কোনো বাধা দেখছি না। এ ছাড়া এটি নির্বাচন কমিশনের বিষয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এটি কারও অজানা নয় যে আইসিটি আইনে ইতোমধ্যেই অনেকগুলো মামলা হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ অনেক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন কার্যক্রম নি‍‍র্ভর করবে এসব মামলা সুরাহার ওপর। কিন্তু কিছু গণমাধ্যম আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে, যা অনাকঙ্ক্ষিত।’

বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও প্রাণহানির বিনিময়ে গত ৫ আগস্ট এক গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এ লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে আমি নানাভাবে ভূমিকা রেখেছি এবং এ জন্য নানাভাবে হেনস্তার স্বীকার হয়েছি। কিন্তু আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা প্রচার আমাকে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। আমি মনে করি, এ ধরনের অপপ্রচার শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মুগ্ধর রক্তকে অস্বীকার করার শামিল। 

মীর্যা গালিব ও ঢাবি প্রশাসন!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নিজ বিভাগে অনার্স-মাস্টার্সে প্রথম হওয়ার পরও মীর্যা গালিব শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাননি। সম্প্রতি একটি টকশোতে তিনি জানান, ভালো ফলাফলের কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়ার চিন্তা না করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি।

জানা গেছে, রাজনৈতিক কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার শিক্ষক হওয়ার সুযোগ দেয়নি। এর ফলে মীর্যা গালিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র চলে যান। সেখানে তিনি পিএইচডি শেষ করে শিক্ষকতায় যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। মীর্যা গালিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

টকশোতে মীর্যা গালিব বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সময় খুবই ভালো কেটেছে। আমার সামনে দুটো অপশন ছিল—একটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে বাইরে পিএইচডি করতে যাওয়া, আরেকটি ছিল একেবারে চলে যাওয়া। তবে রাজনৈতিক কারণে আমি যখন পাস করে বের হয়েছি, তখন তারা সার্কুলারই দেয়নি। আমি আবেদন করলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় তারা আমাকে নিতে আগ্রহী ছিল না, কারণ তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছিল।”মীর্যা গালিব বলেন, “যখন আমি বুঝতে পারলাম নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে, তখন আমি বাইরে পিএইচডি করার জন্য আবেদন শুরু করি। আমার বিভাগের সংস্কৃতি ছিল, যে ছাত্র অনার্স ও মাস্টার্সে ভালো ফল করবে, তাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী, আমি আবেদন করলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতাম। কিন্তু তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে নিতে আগ্রহী ছিল না। যখন আমি পিএইচডি শেষ করি, তখন দেশে গণতন্ত্র থেকে ফ্যাসিবাদে পরিবর্তন শুরু হয়েছিল, তাই আমি আর আবেদন করিনি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মীর্যা গালিব বলেন, “আমার বিদেশে স্থায়ী হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না, এবং ফিরে আসার বিষয়টি সবসময়ই ছিল। এটা সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে, তবে এখনই ফিরব বলে কিছু ভাবছি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সময় খুবই ভালো কেটেছে।”

ইজতেমায় দুইপক্ষের সংঘর্ষ: সাদপন্থি নেতা গ্রেপ্তার

0

নিজস্ব প্রতিনিধি।

১৮ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে তাবলীগ জামায়াতের মাওলানা জুবায়ের এবং মাওলানা সাদপন্থীদের মধ্যে এক তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষে চারজন নিহত ও পঞ্চাশাধিক মানুষ আহত হন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষে বিরোধের কারণে। গত কয়েক বছর ধরে তাবলীগ জামায়াতের দুই পক্ষ—জুবায়ের এবং সাদপন্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইজতেমা মাঠের দখলকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

সংঘর্ষের পর, পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ১৯ ডিসেম্বর রাতে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে সাদপন্থি নেতা মুয়াজ বিন নূরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর, টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইস্কান্দর হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, “মুয়াজ বিন নূরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তাবলীগ জামায়াতের এই সংঘর্ষের ঘটনা মূলত সংঘটিত হয়েছে দুটি পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে। তাবলীগ জামায়াতের বিশ্ব ইজতেমা, যা প্রতি বছর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একত্রিত করার এক বিশাল অনুষ্ঠান, সে কারণে মাঠের নিয়ন্ত্রণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ এবং স্থানীয় নেতারা এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

চাঁদা না দেওয়ায় শাহবাগের দোকান বন্ধের হুমকি ছাত্রদল-যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের

0

নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন শাহবাগ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা চাঁদা আদায়ের পরিবর্তে দোকান মালিককে “আওয়ামী লীগের পোস্টেড নেতা” আখ্যা দিয়ে দোকান পরিচালনা করতে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন: শাহবাগ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস, যুবদল থেকে বহিষ্কৃত নেতা শহিদুল ইসলাম খোকন, ২১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহ আলম, শাহবাগ থানা ছাত্রদলের কর্মী শিমুল, এবং স্বাধীন রেস্টুরেন্ট মালিক মো. নজরুল।জানা গেছে, গত শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে শাহবাগের আজিজ কোঅপারেটিভ মেডিসিন মার্কেটের উত্তর পাশে অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ স্টোরে’ চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। তারা দোকানের ভাড়া বাবদ মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান তুলে দেওয়ার হুমকি দেন। চাঁদা না দেওয়ায় দোকানের মালামাল ফেলে দেন অভিযুক্তরা।

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) আসরের সময় ২১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহ আলম এবং মাগরিবের আগে যুবদল থেকে বহিষ্কৃত নেতা শহিদুল ইসলাম খোকন দোকানে এসে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। দোকান মালিক মো. রিপন তাদের থেকে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য দুইদিন সময় চান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার রাতে অভিযুক্তরা দোকানের সামনে ভিড় করছেন এবং দোকানের মালামাল ফেলে দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী মো. রিপন জানান, “শনিবার রাতে আমি দোকান থেকে চলে যাওয়ার পর স্থানীয় ছাত্রদলের নেতারা ১৫-২০ জনকে নিয়ে আমার দোকানে আসে। আমার চারজন কর্মচারী তখন দোকানে ছিল। তারা মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তারা দোকানের মালপত্র নিচে ফেলে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “রবিবার আসরের সময় শাহ আলম টাকা নিতে আসেন। এরপর মাগরিবের আগে খোকন ভাই পোলাপান নিয়ে এসে চাঁদার বিষয়ে কথা বলে। আমি তাদের দুইদিন সময় চাই।”ভাড়া কার হাতে পৌঁছতে হবে জানতে চাইলে দোকান মালিক মো. রিপন বলেন, “তারা প্রতি মাসে আসবে টাকা নিয়ে যেতে। আলাদাভাবে কার হাতে টাকা দিতে হবে তা আমাকে বলা হয়নি।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহবাগ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা সেখানে গিয়েছিলাম ফুটপাথের দোকান তুলে দিতে। দোকানের মালিক সাদ্দাম যুবলীগ করে, তাই সে এখানে দোকান রাখতে পারবে না। আগে মার্কেটে ছাত্রলীগ ছিল, এখন তাদেরকে উঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখানে টাকাপয়সা নিয়ে কোনো কথা হয়নি। আমাদের সিনিয়র আছে, আপনি তাদের সাথে কথা বলেন।”

২১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহ আলম বলেন, “আমরা সেই দোকানে কোনো চাঁদা নিতে যাইনি। দোকানের মালিক আওয়ামী লীগের পোস্টেড নেতা। আন্দোলনের সময় সে অনেককে আহত ও নিহত করেছে। পরবর্তীতে দোকান কাকে দেওয়া হবে সেটা দেখার বিষয় নয়, তার দোকান সেখানে থাকবে না, তুলে দিতে হবে।” তবে তিনি দোকান মালিকের আওয়ামী লীগের পদের সংশ্লিষ্টতা এবং হামলার ডকুমেন্টস দিতে রাজি হননি।

বিজয়ের অঙ্গিকার চব্বিশের দ্রোহে।

২০২৪ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের ৫৩ বছর পূর্ণ হবে। ১৯৭১ সালের এই দিনে, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে, ১৬ই ডিসেম্বর পৃথিবীর বুকে নতুন একটি দেশ জন্ম নেয়-বাংলাদেশ। এক নতুন সূর্য উকি দেয়, নতুন স্বপ্নের আহ্বান আসে। আজ, যখন আমরা অতীতের অর্জন এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে ফিরে তাকাই, তখন আমাদের সামনে উন্মোচিত হয় অনেক প্রশ্ন। আমরা কতটা এগিয়েছি এবং কোথায় পৌঁছেছি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে, আমাদের অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে হবে। বিজয় দিবস বাঙালি জাতির শৌর্যবীর্যের এক অনন্য নিদর্শন। এটি কেবল একটি জাতির বীরত্বের ঘোষণা নয়, বরং বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের দিন।

২৪ এর জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব ইতিহাসের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে পৃথিবীর ইতিহাসে ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া বহু তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট, পরিণতি ও অর্জনের ঘটনাগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই, যেকোনো ন্যায়ভিত্তিক যৌক্তিক রাজনৈতিক আন্দোলন সাফল্য অর্জন করেছে, কখনো ব্যর্থ হয়নি। এসব আন্দোলন-সংগ্রামের প্রকৃতি ও আদর্শগত অবস্থানের মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও অবৈধ দখলদারী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এগুলো সর্বদাই বিজয়লাভ করেছে। বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাসেও স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে বারবার বিদ্রোহ ঘোষিত হয়েছে। কোথাও বিদ্রোহ সফল হয়েছে, কোথাও আবার ব্যর্থ হয়েছে। সাফল্য ও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় আমরা দেখেছি আধুনিককালে কোনো স্বৈরশাসকই গণ-অভ্যুথানের প্রবল প্রতিরোধের মুখে তার মসনদ রক্ষা করতে পারেনি।

১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা থেকে যায় শাসিত ও শোষিত। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু হয় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালির আত্মত্যাগের সেই অধ্যায় আজও বিশ্বকে মুগ্ধ করে।

এরপর আসে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের বিজয়। এই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার পর বাঙালিরা সংগঠিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়। ছাত্র-জনতা, পুলিশ, ইপিআর, আনসারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই বাহিনীতে যোগ দেয়। মুক্তিবাহিনী গেরিলা যুদ্ধের কৌশলে পাক সেনাবাহিনীকে চরম বিপর্যস্ত করে তোলে। যুদ্ধের সময় বাঙালিরা শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয়। সেখানে তারা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। দিনে দিনে মুক্তিবাহিনী শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পাক বাহিনী উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়েও বাঙালির সম্মুখযুদ্ধে টিকতে পারেনি।

অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। এটি কেবল একটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং একটি জাতির শৃঙ্খল মুক্তির জয়গান। বিজয় দিবসের তাৎপর‍্য কেবল অতীতের গৌরব নয়; এটি একটি জাতির অহংকার এবং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি খুব বেশি দীর্ঘ সময় না হলেও একটি জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য একেবারে কম নয়। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, যে লক্ষ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেই লক্ষ্য ও আদর্শ কতটা অর্জিত হয়েছে? রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল সব ধরনের অধীনতা থেকে মুক্তি এবং সমাজে গণতন্ত্র, ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা। সব নাগরিকের মৌলিক চাহিদা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বাহাত্তরের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে মৌলিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেখানে কি স্থির থাকতে পেরেছি? কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আর্থসামাজিক সূচকে আমরা অনেক এগিয়ে গেলেও রাজনৈতিক আদর্শ অর্জন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আমরা কি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি?

৫৩ বছরে আমাদের অর্থনৈতিক অর্জন বেশ মলিন। ২০১৫ সালে যখন আমরা নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি, তখনও আমাদের সবগুলো দিকের উন্নতির সূচনা ঘটে। যদিও বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১,৯০৯ ডলার, আমরা এখনো বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে কম উন্নত দেশগুলোর মধ্যে আছি। সমাজের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে এবং দেশের অধিকাংশ নাগরিক মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দুর্নীতি, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, চিকিৎসা সেবা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা-এই সমস্ত সমস্যা আমাদের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

আমদের স্বাধীনতা ও বিজয় সহজলভ্য হয়নি। আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে নানাবিধ ঘটনাপ্রবাহ ও চেতনাকে ধারণ করে। যেসব কারণে আমরা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ি এবং সে অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মুক্তিসংগ্রামে অবতীর্ণ হই-মূলত সেগুলোয় হচ্ছে স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। কিন্তু আমাদের ক্ষয়িষ্ণু ও গন্তব্যহীন রাজনীতির কারণেই এতে বিচ্যুতি ঘটেছে। এখন শ্রেণি বিশেষের স্বার্থ রক্ষার অনুষঙ্গগুলোকে স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে একাকার করে ফেলা হয়েছে। যা আমাদের মহান বিজয়ের অর্জনগুলোকে ম্লান করে দিচ্ছে।

এছাড়া, বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি অনেক কম। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, এবং অপর‍্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা অনেক সময় আমাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়। আমাদের দেশ এখনও উপযুক্ত পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে আরও অনেক দূর যেতে হবে, এবং এজন্য সমন্বিত ও সুসংহত উদ্যোগের প্রয়োজন।

যতদিন না আমরা সমাজের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারব, ততদিন আমাদের অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে চলবে না। প্রতিনিয়ত খবর আসে, কোটি কোটি টাকা পাচার হয়েছে দেশের বাইরে। দুর্নীতি সমাজের প্রতিটি স্তরে একটি স্থায়ী রূপ ধারণ করেছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটিরও বেশি, যা আমাদের অর্থনীতি এবং দেশের ভবিষ্যতকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

যদিও আমরা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, তবুও তাদের স্মৃতির সংরক্ষণে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ত্রিশ লাখ শহীদের নাম তালিকাভুক্ত করা, তাদের স্মৃতি রক্ষায় জাদুঘর তৈরি করা, এবং তাদের জন্য ভাতা চালু করার দাবি এখন একান্ত জরুরি। এই শহীদরা নিজেদের জীবন দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনেছেন-তাদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

আজ, আমরা যখন ৫৩ বছরের পথচলা মূল্যায়ন করি, তখন অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আগামীর পথচলা আরও কঠিন হবে। আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ-বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক অসাম্য, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা। তবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায় হল, আমরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করি, তবে আমাদের দেশ কখনও থেমে থাকবে না।

এখন সময় এসেছে, আমরা সবাই একযোগে কাজ করি। আমাদের সমাজে প্রতিটি নাগরিককে তাদের সম্পদে পরিণত করতে হবে। বিদেশে কর্মরত আমাদের শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাদের উন্নয়নে মনোযোগ দিলে, দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। ২০২৪ সালের জুলাই মাস এবং আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহজুড়ে ছাত্র-জন-তার অভূতপূর্ব ও অভূতশ্রুত গণ-আন্দোলন আমার পূর্বঘে-াষিত প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপদান করেছে। গণ-আন্দোলনেই যে হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের ঐতিহাসিক পতন হবে এ বিষয়ে আমি পূর্বেই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করি। একই সঙ্গে আমি এ কথাও গভীরভাবে বিশ্বাস করেছিলাম যে, উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিকশিত নবজাগরণের বা রেনেসাঁর উন্মেষ থেকেই নবপর্যায়ের একটি গণ-আন্দোলনের সূচনা হবে।

বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা সংকটে রয়েছে। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন এবং এর পরবর্তী অবস্থা আমাদের চিন্তার জন্য বড় কারণ। গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ-অংশীদারিত এবং বিরোধী দলের অংশগ্রহণ-আজ প্রায় বিলুপ্ত। আমরা একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, মানবাধিক-ার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তবে, স্বাধীনতার ৫৩ বছরে, আমরা যদি নিজেদের ভুলগু-ি লকে সংশোধন না করি, তবে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। আমাদের নিজস্ব স্রষ্টি শক্তি-জনগণ-যদি তাদের শক্তি কাজে লাগায়, তবে এই দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন একদিন আসবেই। আমাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, সুশাসন, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের সব দিগন্তে এক নতুন সূর্য উঠেছে, এসেছে এক আশ্চর্য্য নতুন প্রভাত উদ্ভাসিত এ সূর্যের প্রতিটি আলোকবিন্দুতে আমি দেখতে পাচ্ছি রেনেসাঁর দ্যুতি।

কেননা, একমাত্র রেনেসাঁ মুক্তির পথ দেখাতে পারে। সর্বকালে সব দেশে রেনেসাঁর মতো উন্মেষ নাও ঘটতে পারে। নিজের দেশের বাস্তবতায় সে দেশের জনগণ মুক্তির পথ খুঁজে নিবে। বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর্থ-সাম-াজিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক বিন্যাস ও পটভূমির আলোকেই আজ এক নতুন রেনেসাঁর জন্ম দিয়েছে। আমার বহু প্রত্যাশিত এ রেনেসাঁ ইউরোপের মতো নয়;চরিত্রগতভাবে এ রেনেসাঁ শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার ক্ষুরধার দিয়ে ইহলৌকিকতার জয়গান নয়, এ রেনেসাঁ জাতীয় মুক্তির চেতনায় আলোকিত একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রেনেসাঁ। এ নবউন্মেষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের এক সম্মিলিত অঙ্গীকার। এ নবজাগরণ একটি জাতিকে নব উদ্বোধনের চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমার বহুলালিত এ রেনেসাঁ বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতীয় চেতনা, আবেগ ও প্রত্যাশার এক উজ্জ্বল অগ্রদূত।

এ দেশের ছাত্রসমাজ এ রেনেসাঁর জন্ম দিয়েছে। তারা সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছেন রেনেসাঁর চিরাচরিত ধারণা। তারা ভাবমানসের অতীন্দ্রিয় কুহক থেকে রেনেসাঁকে সরিয়ে এনেছেন স্বৈরতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের মুক্তি। তারা মহামতি কাল মার্কসের সেই অমর বাক্যের মূর্তরূপ দিয়েছেন বাংলাদেশে। Philosophers have hitherto interpreted history, now the task is to change it. বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ মার্কসের গভীর প্রত্যাশাকে আজ পূর্ণ করেছে। তারা আবদ্ধ কক্ষের গ্রন্থঠাসা আলো-আঁধারিতে বসে বাংলাদেশকে তথ্য ও তত্ত্বের সারণী ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মস্তিষ্ক উত্তপ্ত করেননি; তারা গণমানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামে সেনানায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। মার্কস ‘পরিবর্তনের’ যে আশার কথা শুনতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ সমগ্র দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই আশা পূর্ণ করেছেন। ছাত্র-জনতা পরিণত হয়েছে সংগ্রামরত গণদার্শনিকে।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের সাথে সহযোগিতা করেছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে বিরোধও রয়েছে। ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা পানি সমস্যা, বিএসএফ-এর কর্মকাণ্ড-এই সব বিষয়গুলোতে আমাদের একে অপরের পাশে দাঁড়ানো দরকার। ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, তবে তাতে সমতা থাকতে হবে। আমাদের স্বার্থ রক্ষা করেই তাদের সহযোগিতা নিতে হবে।

আজকের এই দিন, যখন আমরা ৫৩ বছর পর নিজেদের অর্জন ও অপ্রাপ্তি মূল্যায়ন করি, তখন আমাদের সবাইকে একটি কথা মনে রাখতে হবে: একমাত্র ঐক্যবদ্ধ জাতি অর্থবহ হতে পারে। যেখানে আজকে আমাদের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের চোখরাঙানি, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের চক্রান্ত হুক্কাহুয়ায় চারিদিকে শোরগোল। সেখানে আমরা হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারিনা, আমাদেরকে কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। আমাদেরকে নিজের ঐতিহ্য, স্বাধীনতা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্থায়িত্বের জন্য একত্রে কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ, এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

-লেখক 

সহকারী সম্পাদক, দ্যা ক্যাম্পাস মিরর 

শিক্ষার্থী, স্থাপত্য বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

মাই নেম ইজ রেড

সাদী মোহাম্মদ সাদ

নোবেল বিজয়ী তুর্কি সাহিত্যিক ওরহান পামুক বিশ্ব সাহিত্যে এক অনন্য নাম। তিনি একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, চিত্রনাট্য সম্পাদক এবং শিক্ষক। ২০০৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভের পর তার খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, যদিও মূলধারার পাঠকদের কাছে তিনি তার লেখালেখির শুরু থেকেই পরিচিত। বর্তমান সময়ে অন্যতম জনপ্রিয় এই লেখকের বই প্রায় ৬০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ১ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।

ওরহান পামুকের সাহিত্য শুধু পাঠকের হৃদয় জয় করেনি, বরং দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কারও অর্জন করেছে। তুরস্কের ইতিহাসে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক পুরস্কৃত লেখকদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন।

১৯৭৪ সালে লেখালেখির পথচলা শুরু করা পামুক ছাত্রজীবনে প্রথমে ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যয়ন করলেও পরে তা ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার লেখা প্রতিটি উপন্যাসই বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে নতুন বই প্রকাশের জন্য পাঠকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, কারণ তিনি বারবার সম্পাদনায় বিশ্বাসী। প্রতিটি উপন্যাস লেখার পর পামুক সেটি বহুবার সম্পাদনা করেন, ফলে তার নতুন গ্রন্থ প্রকাশের সময় তুলনামূলক দীর্ঘ হয়।

ওরহান পামুকের উপন্যাস ‘মাই নেম ইজ রেড’ তার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে তুরস্কে এবং ২০০১ সালে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়। এটি শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক অভিজ্ঞতার বিস্তৃত চিত্র। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগে অটোম্যান সাম্রাজ্যের প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসে পামুক এমন এক পৃথিবীর কথা বলেন, যেখানে শিল্প, ধর্ম, রাজনীতি এবং ভালোবাসা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

‘মাই নেম ইজ রেড’ এর কাহিনি শুরু হয় একটি চিত্রশিল্পীর মৃত্যু দিয়ে। এই চিত্রশিল্পী একটি কুয়োর তলায় পড়ে রয়েছে, আর তার মৃত দেহ থেকেই গল্পের সূচনা। খুনী কে, সে কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটালো এবং এর সাথে সাম্রাজ্য ও চিত্রকলার ঐতিহ্য কীভাবে সম্পর্কিত, এই প্রশ্নের উত্তরই গল্পটির প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে। পুরো উপন্যাসটি বিভিন্ন চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্ণিত হয়েছে। মোট ৫৯টি অধ্যায়ে প্রত্যেক চরিত্র নিজের বয়ানে গল্পের অংশ তুলে ধরে। চিত্রশিল্পী, খুনী, সুলতান, একটি গাছ, এমনকি একটি লাল রঙও এই উপন্যাসে কথা বলে, যেমন গাছটি বলে, “আমি একে একে সবকিছু দেখেছি, কিন্তু আমার একদিনই অনুভব হয়েছে, আমি শুধু একজন শিল্পীর জন্যই জন্মেছি।”। এই স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিগুলো উপন্যাসকে অসাধারণ একটি শৈল্পিক কাঠামো দেয়।

অটোম্যান সাম্রাজ্যের সুলতান তার জীবন এবং রাজত্বকাল সম্পর্কে একটি সচিত্র পাণ্ডুলিপি তৈরি করার আদেশ দেন। এর জন্য নিযুক্ত হয় সুলতানের সেরা চিত্রশিল্পীরা। কিন্তু কাজটি সহজ ছিল না। তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকট হয়, কারণ তাদেরকে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী অনুচিত্র শিল্পের নিয়ম থেকে সরে এসে ইউরোপীয় শৈলীতে কাজ করতে হয়। এই সাংস্কৃতিক সংঘাত শিল্পীদের মধ্যে গভীর ফাটল তৈরি করে। সেই সঙ্গে চিত্রশিল্পীদের একটি অংশ উগ্রপন্থীদের দ্বারা চিত্রকলার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ফতোয়ার মুখোমুখি হয়। 

উপন্যাসে লাল রঙের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। চিত্রশিল্পীরা যখন তাদের আঁকা ছবিতে লাল রঙ ব্যবহার করে, তখন তা শুধু একটি রঙ নয়, বরং তাদের জীবনের এবং তাদের পৃথিবীর একটি গভীর প্রতীক হয়ে ওঠে। লাল রঙের মাধ্যমে শিল্পীরা তাদের নিজস্ব আবেগ, খুনের প্রতিশোধ এবং সাংস্কৃতিক সংগ্রামের কথা ব্যক্ত করেন। রঙটি কেবল একটি চিত্রের অংশ নয়, বরং পুরো উপন্যাসের কেন্দ্রীয় থিমেরও প্রতীক।

এই সংকটের মাঝেই একজন চিত্রশিল্পীর খুন হওয়া পুরো গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। খুনী কে তা জানতে হলে পাঠককে অপেক্ষা করতে হয় উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত। এর মধ্যে উঠে আসে সুলতানের দরবারের রাজনীতি, শিল্পকলার ঐতিহ্য রক্ষার সংগ্রাম, এবং মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব। এছাড়া বইয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রেম। একজন প্রাক্তন প্রেমিক, যিনি বারো বছর পর ইস্তাম্বুলে ফিরে আসেন, তার জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা, তার প্রেমিকাকে ফিরে পাওয়ার লড়াই এবং তার বাবা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা পুরো গল্পে একটি আবেগময় প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

উপন্যাসের শৈল্পিক উপস্থাপনায় শুধু রহস্য বা প্রেম নয়, বরং সম্পর্ক, ঈর্ষা, ধর্মীয় মতবাদ এবং সাংস্কৃতিক সংঘাত অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে চিত্রিত হয়েছে। প্রতিটি চরিত্র তাদের নিজস্ব চিন্তা ও আবেগের মাধ্যমে একটি বৃহৎ গল্পের অংশ হয়ে ওঠে। উপন্যাসটি কেবল পাঠকের কাছে একটি চমৎকার গল্প নয়, বরং তাদের ভাবনার গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ দেয়।

‘মাই নেম ইজ রেড’ এর শৈল্পিক বর্ণনা এবং কাহিনির জটিলতায় পাঠককে পুরোপুরি মুগ্ধ করে। উপন্যাসটি রহস্য এবং ইতিহাসের মিশেলে একটি অমর সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিশ্বজুড়ে সাহিত্যপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় পত্রিকায় এই উপন্যাস প্রশংসিত হয়েছে। সত্যিই এটি একটি কালজয়ী উপন্যাস, যা সাহিত্যের গভীরতা এবং সৌন্দর্যকে নতুনভাবে চিনিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থী,

স্থাপত্য বিভাগ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

World Renowned Architect delivers lecture at BRAC University

December 10th, 2024

Department of Architecture, School of Architecture and Design recently held an Angan 148th lecture by world-renowned architect Wong Mun Summ, co-founder of the award-winning architecture firm WOHA. Wong Mun Summ, whose firm is behind the innovative design of BRAC University’s new campus, delivered an insightful lecture to students, faculty, and architects.

The event, held on campus, drew an enthusiastic crowd that included not only BRAC University students but also participants from various universities across the country. Wong Mun Summ captivated the audience by sharing the vision and philosophy behind WOHA’s various groundbreaking designs, with a particular focus on BRAC University’s campus.

Architect Mun Summ emphasized WOHA’s commitment to sustainable architecture. He highlighted how BRAC University’s campus design integrates environmental considerations with functional and aesthetic excellence. He discussed the role of green spaces, natural ventilation, hybrid cooling system and innovative materials in creating a unique learning environment.

Students were particularly inspired by Mun Summ’s emphasis on community-focused design and his belief that architecture should contribute to a better quality of life for all. A Q&A session followed the lecture, where students and aspiring architects engaged in meaningful discussions with the esteemed architect.

আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম

ঢাকা, ২ ডিসেম্বর ২০২৪: আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (AUST)-এর স্প্রিং-২০২৪ সেমিস্টারের নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য সংবর্ধনা ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত হয়। সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এইচ. খান অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (BoT)-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা আহসানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান। তিনি বলেন, “শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের জন্য নয়; এটি চরিত্র গঠন, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং সমাজে অর্থবহ অবদান রাখার জন্য।” তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা AUST-র শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাদের প্রতিটি কাজে সর্বোচ্চ সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখবেন।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন AUST-র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শারমিন রেজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক।

অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, যা একাডেমিক উৎকর্ষতা, উদ্ভাবন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানান যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন, একাডেমিক শৃঙ্খলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। বক্তব্য রাখেন: অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুর রহমান, ডিন, প্রকৌশল অনুষদ; অধ্যাপক ড. জাসমিন আরা বেগম, ডিন, স্থাপত্য অনুষদ; অধ্যাপক ড. এস. এম. শফিউল আলম, ডিন, ব্যবসা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ; অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুর রহমান, প্রক্টর; ড. মো. জিল্লুর রহমান, গ্রন্থাগারিক; ড. মো. শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত); মো. মুনিরুজ্জামান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত)।

আর্কিটেকচার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্কুল অব বিজনেস থেকে নবাগত শিক্ষার্থীরা AUST পরিবারের সদস্য হতে পেরে তাদের আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক প্রাত্তুষা ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানটি ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান পরিচালনা করেন। প্রক্টরিয়াল এবং ছাত্র কল্যাণ টিম প্রোগ্রামটি সফল, আতিথেয়তাপূর্ণ এবং তথ্যবহুল করার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ‘পাথওয়েস টু এ সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ‘পাথওয়েস টু এ সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। 

সেমিনারে বক্তারা টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তারা শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। 

আলোচনায় অংশ নেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিএলসি)-এর চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রেজওয়ান খান, ইউএসটিসির সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নওসাদ আমিন, সিটি ইউনিভার্সিটির সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী শাহাদাত কবীর রিমন, এবং ক্লাইমেট চেঞ্জ পলিসি ম্যানেজার ও উপদেষ্টা এ এস এম মারজান নূর। 

বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌর গোবিন্দ গোস্বামী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শাকাওয়াত জামান সরকার। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্পাদকীয়, ডিসেম্বর ২০২৪

প্রিয় পাঠক, বছর ঘুরে শেষ পরিক্রমায় এলো ডিসেম্বর। আমাদের জাতীয় জীবনে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর—আমাদের বিজয়; আমাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম দিন। এই দিনে বীর বাঙালি ছিনিয়ে এনেছিল তাদের স্বাধীনতা, বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই বিজয়ের চেতনা আমাদের সামনে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা যুগিয়ে আসছে।

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, কিন্তু ২০২৪ সালে আমরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছি—‘জুলাই বিপ্লব,’ যা আমাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।

‘জুলাই বিপ্লব’ ছিল জনগণের শক্তির এক অভূতপূর্ব বহিঃপ্রকাশ। বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি, দমননীতি, এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, তা আমাদের জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার দমনমূলক সরকার পতন হয়েছে।

তবে, আমরা উদ্বেগের সাথে অবজারভ করছি হাসিনা ও তার সহযোগীরা এখনো পলাতক। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পরও একটি গণহত্যাকারী দলের খুনিদেরকে সরকার আইনের আওতায় আনতে পারছেনা, যা দেশের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন সময় এসেছে হাসিনা ও তার সরকারের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার।

প্রিয় সুধী, আমরা যাদের ত্যাগে একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই জুলাই বিপ্লবের আহত অসংখ্য মানুষ আজও ন্যূনতম চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সংগ্রাম করছে। আমরা যদি তাদের ত্যাগকে সম্মান জানাতে চাই, তবে তাদের দ্রুত চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

দায় আমাদের শহীদদেরকে সম্মানিত করা, তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা। এক্ষেত্রে সরকার এবং সাধারণ জনগণের যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য।

১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ের চেতনাকে মনে রেখে আমাদের একাত্তরের স্বাধীনতার আদর্শ এবং ২০২৪ সালের জনগণের বিজয়ের চেতনাকে একসঙ্গে ধারণ করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের জন্য এটি এক নতুন সূচনা হতে পারে।

আমরা চাই, আগামী বছরগুলোতে যেন এই দেশ শাসিত হয় জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য। বিজয়ের এই মাসে শপথ নিতে হবে যে কোনো খুনি, দুর্নীতিবাজ, এবং দেশের শত্রুদের কোনো স্থান বাংলাদেশে থাকবে না।