Saturday, January 24, 2026
হোমজাতীয়নাগালবিহীন সবজির দাম, বিপাকে রাজধানীর ক্রেতারা

নাগালবিহীন সবজির দাম, বিপাকে রাজধানীর ক্রেতারা

রাজধানীর বাজারে সবজির দাম বেড়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই বললেই চলে। সরেজমিনে উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই পরিমাণ কমিয়ে সবজি কিনছেন।

ফাইল ছবি: বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে দোকান সাজিয়েছেন এক বিক্রেতা/সংগৃহীত

সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গোল বেগুন—কেজিপ্রতি ২২০-২৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় দ্বিগুণ। লম্বা জাতের বেগুন ১৬০-১৮০ টাকা, সাদা জাতের বেগুন ১২০-১৪০ টাকা কেজি। ঝিঙা, ধুন্দল, শসা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে; ঢেঁড়স, পটল, কাকরোল ৮০ টাকা। একমাত্র পেঁপেই বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজিতে।

জালি কুমড়া প্রতি পিস ১০০-১২০ টাকা, লাউ ১০০-১৫০ টাকা। বরবটি ৮০-১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুমুখী ৭০-৮০ টাকা। কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে—কেজিপ্রতি ২২০-২৪০ টাকা, পাইকারি বাজারে ৫ কেজির পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়।

উত্তর বাড্ডা বাজারে স্কুলশিক্ষিকা ইয়াসমিন আরা বলেন, “বেগুনের দাম শুনে রীতিমতো আকাশ থেকে পড়লাম। এক সপ্তাহে ১০০ টাকা বাড়ে কী করে!” তিনি বেগুন না কিনে পেঁপে কিনে বাসায় ফিরেছেন। আরেক ক্রেতা বলেন, “আজ তিন রকমের সবজি আধা কেজি করে কিনে নিয়ে যাচ্ছি। গত এক বছরে এমন দাম দেখিনি।”

বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা কম পরিমাণে কিনছেন, কেউ কেউ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। এতে বিক্রেতাদের মুনাফাও কমছে।

কাওরান বাজারে শুক্রবার ভোরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সবজির দাম ছিল বাড়তি। মৌসুমে ফলন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। আড়তদার রহিম মিয়া বলেন, “পাল্লাপ্রতি সবজির দাম ১০০-২০০ টাকা বেড়েছে।” ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, “মার্চ থেকে মাঠে সবজির পরিমাণ কমে, কিন্তু চাহিদা থাকে। এছাড়া পরিবহন খরচও বেড়েছে।”

সবজির পাশাপাশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৭৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৮৫-৯০ টাকা কেজি, পাইকারি বাজারে পাল্লাপ্রতি ৪০০-৪৩০ টাকা।

ফাইল ছবি: বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে দোকান সাজিয়েছেন বিক্রেতারা/সংগৃহীত

মাছের বাজারেও একই চিত্র। কেজিতে ৫০-২০০ টাকা বেড়েছে। কাঁচকি মাছ ৬০০ টাকা, চাপিলা ৪৫০-৫০০ টাকা, পোয়া ৫৫০-৭০০ টাকা, শিং-মাগুর ৫০০-৬০০ টাকা। বড় মাছের মধ্যে রুই ৩৮০-৪২০ টাকা, কাতল ৪০০-৪৮০ টাকা, কালিবাউশ ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৮০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২৫০ টাকা, নদীর পাঙাশ ৮০০-১,০০০ টাকা, বোয়াল ৮০০-১,২০০ টাকা, আঁড় মাছ ১,০০০ টাকা।

ইলিশের দামও বেড়েছে। এক কেজির নিচে মাঝারি ইলিশ ১,৮০০ টাকা, ছোট ইলিশ ১,২০০-১,৬০০ টাকা, এক কেজির ওপরে ইলিশ ২,০০০-২,৫০০ টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবজি ও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে অন্যান্য পণ্যের ওপরও। তারা সিন্ডিকেটের কারসাজি, চাঁদাবাজি এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত