জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের পাঁচ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কক্সবাজারে ভ্রমণের ঘটনায় দেওয়া শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করেছে। দলীয় শৃঙ্খলার ব্যত্যয় না ঘটায় এবং নেতাদের জবাব সন্তোষজনক হওয়ায় বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করেছেন দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
শনিবার (১৬ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৬ আগস্ট এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহর প্রতি পৃথকভাবে পাঁচটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উল্লিখিত নেতারা দপ্তর মারফত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর যথাসময়ে কারণ দর্শানোর জবাব প্রদান করেন। তাদের জবাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দলীয় শৃঙ্খলার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ফলে শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে কক্সবাজারে ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরদিন, ৬ আগস্ট, দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। নেতারা নির্ধারিত সময়েই জবাব দেন।

এর আগে, ৫ আগস্ট রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জুলাই ঘোষণার দিনে দুপুরে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, উল্লিখিত নেতারা কক্সবাজারের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকে বসেছেন। যদিও পরে বিষয়টি গুজব প্রমাণিত হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এখন নিরসন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এনসিপি নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
