Wednesday, May 27, 2026
হোমজাতীয়আলোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষের স্থান চিড়িয়াখানা

আলোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষের স্থান চিড়িয়াখানা

 

আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কোরবানির ঈদের আগের দিন আজ বুধবার বিকেলে মহিষটি নিয়ে গেছে পুলিশ। বিশ্বব্যাপী আলোচিত এই মহিষকে এখন মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর একজন সহকারী প্রেস সচিব জানিয়েছেন।

মাথায় ঢেউখেলানো গোলাপি রঙের চুলের মহিষটি নিয়ে দেশীয় সংবাদমাধ্যম ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা হয়। মহিষের ভিডিও প্রচার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম।

২১ মে টেলিগ্রাফের খবরের শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশ টু স্যাক্রিফাইস ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ দ্য অ্যালবিনো বুল (বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোরবানি হতে যাচ্ছে)। চার বছর বয়সী মহিষটির ওজন ১ হাজার ৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৬৮০ কেজি)।

অ্যালবিনো জাতের এ মহিষের চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। মহিষটি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জিয়াউদ্দিন মৃধার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালন–পালন করা হচ্ছিল। জিয়া উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মহিষটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখে তাঁর ভাই এর নাম রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামানুসারে।

মে মাসজুড়ে ঢাকার কাছের মানুষ ট্রাম্পকে দেখতে দলে দলে মানুষ ছুটে যান জিয়া উদ্দিনের খামারে। মহিষটি নিয়ে প্রথম আলো ১২ মে খবর প্রকাশ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

আজ বিকেল চারটার দিকে কেরানীগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মনিরুজ্জামানের বাড়িতে উপস্থিত হন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, মহিষটি কোরবানি করা যাবে না। এটিকে আপাতত থানায় নিয়ে যেতে বলেছে।’ পরে মনিরুজ্জামান মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ থানায় পৌঁছে দেন।

এরপর মহিষকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় দেওয়ার বিষয়ে জানা যায়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব কে এম নাজমুল হক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এই মহিষটি নিয়ে মানুষের মনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। এ ছাড়া এটি একটি ‘রেয়ার ব্রিড’ হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে সংরক্ষণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাজমুল হক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আপাতত পশুটি কিনে নিয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রাণীটির যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার বিষয়টি দেখভালের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।’

মহিষটির বিশেষ এই রঙের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় চিড়িয়াখানার চিকিৎসক আতিকুর রহমান বলেন, ইন ব্রিডিং (একই বংশের মধ্যে প্রজনন) হলে এমন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিড়িয়াখানায় চারটি বাঘের মধ্যে তিনটি বাচ্চা বাঘ এমন সাদা হয়েছে। শরীরে রঞ্জক পদার্থ ম্যালানিন কম থাকলে মহিষের ক্ষেত্রে কালো না হয়ে সাদা হবে। প্রতি ১০ হাজারের মধ্যে একটি এমন হতে পারে।

চিড়িয়াখানায় রাখার জন্য মহিষটি সরকার নিচ্ছে। বিনিময়ে তাদের কী দেওয়া হবে, এ প্রশ্নের জবাবে ক্রেতা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকার বলেছে, আমাদের যা দাম আছে, সে টাকা দিয়া দেবে, নইলে কোরবানির জন্য গরু দিয়া দেবে।’

 

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত