জুলাই বিপ্লব- শহীদি ঈদ্গাহ 

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে জুলাই বিপ্লব একটি গভীর এবং রক্তক্ষয়ী বিপ্লব হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে, যা জাতির গতিপথে একটি স্পষ্ট আর গভীর পরিবর্তন চিহ্নিত করেছে। স্বৈরাচার রক্তপিপাসু শেখ হাসিনার অত্যাচারী স্টিমরোলার শাসনামলে দীর্ঘদিন ধরে দমন করা জনগণের কণ্ঠ হঠাৎ বিস্ফারিত হয়ে রাষ্ট্রকে মেরামতের জন্য একটি শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। 

দেড় দশকেরও বেশি সময়ের গুম, খুন, মিথ্যে মামলার হতাশা এবং অন্যায়ের দ্বারা উজ্জীবিত, মহাকাব্যিক অনুপাতের একটি বিদ্রোহে পরিণত হয়েছিল। এই বিপ্লব তার ভারী নজরানা দিয়েছিলো ১০০০ এরও বেশি সাহসী আত্মা, যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ গুম করে ফেলা হয়েছে, গণকবর দেয়া হয়েছে, বেওয়ারিশ হিসেবে, চূড়ান্ত নির্মমতা হিসেবে শহিদদের লাশকে একসাথে স্তূপ করে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দিয়েছে পিশাচ পুলিশ এবং আওয়ামিলীগ ছাত্রলীগের নরখাদকরা।

এই অভ্যুত্থান দেখেছে কিভাবে শিক্ষার্থী আর সাধারণ জনতা সীসাঢালা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে শহীদ হয়েছিল অকাতরে, শেষ দিকে নৃশংস খুনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে দেয়া খুনি পুলিশের ভাষ্যে ‘একজন মরলে একজনই যায়, উপস্থিতি সংখ্যা আরও বাড়ে’, যার ফলে দশ হাজারেরও বেশি গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছিল এবং প্রায় এগারো হাজার জন অন্যায়ভাবে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। ডিবির গুমের শিকার অজস্র মানুষ। তবুও, অপ্রতিরোধ্য রাষ্ট্রীয় সহিংসতা সত্ত্বেও, সাধারণ বাংলাদেশি ছাত্র জনতার সাহস শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছে, জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক বিজয় এনেছে।

এই বিজয় শুধু কর্তৃত্ববাদের পরাজয়ের চেয়ে বেশি; এটি জাতির ভবিষ্যত পুনরুদ্ধার করছে। এটি একটি নতুন যুগের সূচনাকে চিহ্নিত করে, যেখানে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং সাম্যের আদর্শগুলি আর ফাঁপা প্রতিশ্রুতি নয় বরং বাস্তব লক্ষ্যগুলি নাগালের মধ্যে রয়েছে। এই সংগ্রামের সময়ের ত্যাগ যেন বৃথা যায় না; এই ত্যাগ যেন সেই ভিত্তি তৈরি করে যার উপর বাংলাদেশের নিগূঢ় ভবিষ্যত গড়ে উঠবে—একটি ভবিষ্যত যা সকলের জন্য ন্যায়পরায়ণতা, স্বাধীনতা এবং মর্যাদার মূল্যবোধে নিহিত।

এই বিজয়ের কেন্দ্রবিন্দু হল দেশের জন্য একটি সাহসী আর নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ, বাকস্বাধীনতা, বুদ্ধির চিন্তার স্বাধীনতা, ধর্মের স্বাধীনতা যা বিপ্লবীদের দ্বারা তৈরি একটি বিশদ স্মারকলিপি। যেই স্বাধীনতায় কেউ ইসলামের বিধান পালন করলে তাকে ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করেনা। এটি একটি জাতির আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে যা অত্যাচারের কবল থেকে মুক্ত হয়ে ন্যায়সঙ্গত সমাজের দিকে অগ্রসর হতে প্রস্তুত। পাশাপাশি যেই স্বাধীনতা রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে উন্মুক্ত বাতাসে ঘুরতে দেয়, শুধুমাত্র বিরোধী দল হবার জন্য নির্বিচারে গণহত্যা চালায়না। পাশাপাশি এটি স্বৈরাচারের সেই কাঠামোগুলিকে ভেঙে ফেলার লক্ষ্য; যা দুর্নীতি, অসমতা এবং কর্তৃত্ববাদকে বিকাশ লাভ করতে দেয়।

এই সংস্কারগুলির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। বিপ্লব উদীয়মান নেতৃত্বের মধ্যে দায়িত্বের একটি নতুন বোধ জাগিয়েছে, যার দায়িত্ব ছিল অর্থবহ ও স্থায়ী পরিবর্তনের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মানিত করা। এটি কেবল পুনর্নির্মাণের সময় নয়, এই ধরনের নিপীড়নকে আর কখনও শিকড় দেওয়া থেকে রোধ করার জন্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকে মৌলিকভাবে পুনর্বিবেচনা এবং পুনর্নির্মাণ করার। বিপ্লব একটি ব্যাপক রূপান্তরের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যাতে অতীতের সংগ্রামের পুনরাবৃত্তি না হয়।

বাংলাদেশ যতই এগিয়ে যাচ্ছে, এই বিপ্লবের কষ্টার্জিত প্রজ্ঞা দিয়েই তা করছে। বিজয় শেষ নয় নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সংস্কার ও ন্যায়বিচারের উপর জোর দিয়ে, পথপ্রদর্শনকারী আলো হিসেবে এই অভ্যুত্থান কাজ করবে ততক্ষণ, যতক্ষণ জাতি একটি ভবিষ্যতের দিকে তার পথ নির্ধারণ করে চলবে। যা সমস্ত বাংলাদেশীদের জন্য আরও সুন্দর, মুক্ত এবং আরও সমৃদ্ধ। এটিই বিপ্লবের উত্তরাধিকার—একটি ভবিষ্যৎ যা আত্মত্যাগে নির্মিত জাগ্রত জনতার, মেশিনগান আর স্নাইপারের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া সাহসের দ্বারা আকৃতির, এবং শহীদদের মতো ন্যায় ও সাম্যের পথে পরিচালিত। আহাদ, রিয়া, সামির, হোসাইন, মোবারক, তাহমিদ, ইফাত ও নাঈমা নামের ফুলের মতো শিশুগুলো সবে ফুটছিল। তবে আর বিকশিত হতে পারেনি। বুলেটের আঘাতে ছোট্ট জীবনগুলো ঝরে গেছে কুঁড়িতেই। বাবার কোলের মতো নিরাপদ আশ্রয়েও তাদের আঘাত করেছে ঘাতক বুলেট। আবার কারফিউ মেনে ঘরের কোণে থেকেও কারও জীবনসৌরভ মুছে গেছে বারুদের গন্ধে। মা-বাবার মাঝ থেকেই প্রাণ কাড়ল বুলেট। চার বছরের আবদুল আহাদের মৃত্যু পাষাণকেও কাঁদাচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ১১ তলা একটি বাড়ির আট তলার ভাড়া বাসায় থাকে তার পরিবার। ১৯ জুলাই বিকেলে পরিবারের সবাই বাসায় ছিলেন। সে সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ চলছিল। কী হচ্ছে দেখতে আর সবার মতো উৎসুক হয়ে ছোট্ট আহাদও বারান্দায় গিয়েছিল। এক পাশে ছিল বাবা, অন্য পাশে মা। হঠাৎ ঘাতক বুলেট তার ডান চোখে লাগলে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে শিশুটি। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র–জনতার বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় সারা দেশে কমপক্ষে ৭০ শিশু–কিশোর নিহত হয়েছে। তাদের বেশির ভাগ, অর্থাৎ ৬০ জনের মরদেহে গুলির ক্ষতচিহ্ন ছিল। দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ কিশোরের।প্রথম আলোর হিসাব অনুযায়ী, ১৬ জুলাই থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ৬২৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত নিহত হন কমপক্ষে ৩৫৪ জন। আর ৫ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত আরও অন্তত ২৭২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সরকার শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে কাজ করছে, দীর্ঘ এক মাসেও যেটা সম্পূর্ণ হতে পারে নাই সুযোগসন্ধানী কিছু কুচক্রীদের টানা আন্দোলন আন্দোলন খেলায়। বেসরকারি মাধ্যমে উঠে আসা তালিকা থেকে কয়েকজনকে নিয়ে সাজিয়েছি আজকের এই তালিকা।

আমাদের উদ্দেশ্য শহীদদেরকে চর্চা করা, যেটা আমরা জারি রাখবো, আমাদের শহীদেরা সদা জাগ্রত, চির সবুজ, অনন্ত আলো। তারা আমাদের পথপ্রদর্শক, স্বাধীনতার কান্ডারী। যে পথে আমাদের শহীদেরা হেঁটেছেন, আমরা সেই পথেই সুদৃঢ় হয়ে মার্চ করে যাবো। তারা যেই ডাকের নকীব, আমরা সেই আজানের মুসল্লী। 

নিচে কয়েকজন বীরের আত্মত্যাগ নিয়ে আলোচনা করছি, আগেই বলে নিচ্ছি আমরা অসম্পূর্ণ তালিকা নিয়ে কাজ করছি, রাষ্ট্র এবং গণমাধ্যম এখনো সবার পূর্ণাঙ্গ ডিটেইলস একত্রিত করতে পারেনি। 

শাকিল পারভেজ

শিক্ষার্থী- মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

মৃত্যু তারিখ : ১৮ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ———-

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : গাজীপুর, ঢাকা

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

উত্তরায় বিনা উস্কানিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ। এ সময় উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ সমঝোতার জন্য পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে যায়। কাছে গেলে পুলিশ খুব কাছে থেকে শাকিলের পেটে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্যক্তিগত জীবন :

শাকিল পারভেজের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের লাকস্মিপুর উপজেলার খাপিলাটুলি গ্রামে। তিনি মো. বেলায়েত হোসাইন ও পারভীন বেগম দম্পতির ছেলে।

আব্দুল্লাহ আল তাহির

গ্রাফিক্স ডিজাইনার- সৃজন গ্রাফিক্স প্রিন্টার্স, সিরাজ মার্কেট রোড, উত্তরা, ঢাকা

মৃত্যু তারিখ : ১৮ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ২৮ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : রংপুর

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রংপুর সিটি বাজার মার্কেট সংলগ্ন রাজা রামমোহন মার্কেটের সামনে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শাহাদাত বরণ করেছেন। 

ব্যক্তিগত জীবন :

আব্দুল্লাহ আল তাহির এর ব্যক্তিগত তথ্য খোঁজার কাজ চলমান। আপনার কাছে উনার সম্পর্কে তথ্য থাকলে, আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন।

নাছিমা আক্তার

মৃত্যু তারিখ : ২০ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ২৩ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : নোয়াখালী

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

১৯ জুলাই, দুই ভাতিজাকে নিয়ে বিকালে ছাদে খেলতে গিয়ে হেলিকপ্টারের গুলিতে শহীদ হন।

ব্যক্তিগত জীবন :

নাছিমা আক্তার এর ব্যক্তিগত তথ্য খোঁজার কাজ চলমান। আপনার কাছে উনার সম্পর্কে তথ্য থাকলে, আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন।

নাইমা সুলতানা

শিক্ষার্থীমাইলস্টোন স্কুল

মৃত্যু তারিখ : ১৯ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ১৫ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : আমুয়াকান্দা, মতলব উত্তর, চাঁদপুর

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

১৯ জুলাই শুক্রবার রাজধানী ঢাকার উত্তরার ৫ নম্বর সড়কে ভাড়া বাসার চারতলার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমা। – সূত্র: প্রথম আলো

ব্যক্তিগত জীবন :

উপজেলার আমুয়াকান্দা গ্রামের হ্যোমিও চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ও গৃহবধূ আইনুন্নাহার বেগমের মেয়ে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে মেজ। তাঁর বড় বোন তাসফিয়া সুলতানা ঢাকার মাইলস্টোন কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ভাই আবদুর রহমান ঢাকার উত্তরা এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। আইনুন্নাহার বেগম তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে ঢাকার উত্তরার ৫ নম্বর সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। গোলাম মোস্তফা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে হ্যোমিও চিকিৎসা দেন।

ইফাত হাসান

শিক্ষার্থীএ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দনিয়া, ঢাকা

মৃত্যু তারিখ : ২০ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ১৬ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের মনপুরা গ্রামে

যেভাবে শহীদ হয়েছেন : গত শনিবার (২০ জুলাই) রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও গুলি ছোড়ে পুলিশ। সেখানে এক ব্যাক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকেন।

ইফাত হাসান তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিষয়টি দেখে ওই হাসপাতাল থেকে সন্ত্রাসীবাহিনী ইফাতকে টেনে বের করে নিয়ে বুকে গুলি করে। গুলি হাতের কব্জি ভেদ করে বুকের বাম পাজরে ঢুকে যায়। প্রচুর রক্তক্ষরনে সেখানেই শহীদ হন।- সূত্র: প্রথম আলো

মায়ের অভিব্যাক্তঃ

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত ইফাতের মা বলেন, ‘আমার ছেলে অনেকবার পুলিশকে বলেছে, আঙ্কেল এই এলাকায় জীবনেও আসবো না, আমাকে ছেড়ে দেন, কিন্তু পুলিশ শোনেনি। তারা আমার ছেলেকে মেরে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘুম ভাঙে ইফাতের। হাতমুখ ধুয়ে দুপুরে বাসার বাহিরে যেতে তৈরি হতে দেখে ইফাতকে বাইরে যেতে নিষেধ করি। কিন্তু একটু পরেই চলে আসবে বলে বেরিয়ে যায় ইফাত। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ইফাতের কয়েকজন বন্ধু তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, আমার ছেলের কোনো অপরাধ ছিল না। একটা অসহায় মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়াই কি তার অপরাধ? এ কারণেই আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে?

মো: সাজ্জাত হোসেন সজল

শিক্ষার্থী- সিটি ইউনিভার্সিটি

মৃত্যু তারিখ : ৬ আগস্ট, ২০২৪

বয়স : ২০ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : শ্যামপুর, শাঘাটা, গাইবান্ধা

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

সজল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে ছিলেন শুরু থেকেই এবং গত সোমবার বরাবরের মতো যোগ দিয়ে বাইপেল , সাভার থেকে তার আরো ২-৩ টা ফ্রেন্ড এর সাথে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় তার দুই বন্ধু সেখান থেকে সরে আসলেও সজল সাহসীকতার সাথে বলে উঠে কর গুলি কর ,এক পর্যায়ে সে গুলিবিদ্ধ হয় , এবং পুলিশের গাড়িতে উঠানো হয় , হটাৎ সেই গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়,বের হতে না পেরে সজল সহ বেশ কয়েকজনের শরীর এর অর্ধেক অংশ পুরে কয়লা হয়ে যায়।

ব্যক্তিগত জীবন :

সাজ্জাত হোসেন সজল, পিতা: মোঃ খলিলুর রহমান, মাতা: মোছাঃ শাহিনা বেগম, এর একমাত্র পুত্র সন্তান বিসিআই স্কুল এন্ড কলেজের সাইন্স বিভাগ থেকে ২০২২ সম্মান এর সাথে উত্তির্ণ হয়ে আশুলিয়া সিটি ইউনিভার্সিটি তে ৫৫তম টেক্সটাইল ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্র ছিলেন ।

আসিফ হাসান

শিক্ষার্থী নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

মৃত্যু তারিখ : ১৮ জুলাই, ২০২৪। বয়স : ২১ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : আস্কারপুর, দেবহাটা, সাতক্ষীরা

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিতে মারাত্মক আহত হন আসিফ হাসান। দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ব্যক্তিগত জীবন :

আসিফ -রাকিব নামে যমজ ভাই ও তিন বোনের মাঝে বেড়ে ওঠেন। যমজ ভাই রাকিবকে ফেলে চলে গেলেন আসিফ। রাকিব সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স পড়ছেন।

মো. সেলিম তালুকদার

মার্চেন্ডাইজিং অ্যাসিস্ট্যান্টমেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং মিলস লিমিটেড (প্রাক্তন বিইউএফটি শিক্ষার্থী)

মৃত্যু তারিখ : ৩১ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ৩২ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : মল্লিকপুর, নলছিটি, ঝালকাঠির

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

ঘটনার দিন তিনি বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ রওনা দিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন। এ সময়  মাথায়, বুকে ও পিঠে গুলি লাগে তার। ফুসফুসেও লাগে গুলি। চার হাসপাতাল ঘুরে শেষে  ধানমণ্ডির পপুলারে ভর্তি করা হয় সেলিমকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন :

তিন বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে সেলিম ছিলেন মেজো। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। গত বছর ৪ আগস্ট বিয়ে করেন সুমি আক্তারকে। সেলিম তালুকদারের মৃত্যুর তিনদিন পর কুলখানির আয়োজন করা হয়। সেদিনই ছিল তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী।কুলখানি অনুষ্ঠানের দিন সেলিমের স্ত্রী অসুস্থ হন। ৫ আগস্ট চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানা যায়, সুমি আক্তার চার সপ্তাহ ছয়দিনের অন্তঃসত্ত্বা।

আকরাম খান রাব্বি

শিক্ষার্থী ও পার্ট-টাইম কর্মচারী

মৃত্যু তারিখ : ১৯ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ২৯ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : মিরপুর-১৩, ঢাকা-১২১৬

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

মিরপুর-১০, শহীদ আবু তালেব উচ্চ বিদ্যালয় এর সামনে থেকে হামলার শিকার হয় পুলিশ কর্তৃক, ২ টি গুলি লাগে ( ১টি হাতের কব্জিতে এবং ১টি পেটে) যার কারনে অনেক রক্ত খরন হয় হাসপাতাল নিতে নিতে ইন্তেকাল করেন।

ব্যক্তিগত জীবন :

আকরাম খান রাব্বি এর ব্যক্তিগত তথ্য খোঁজার কাজ চলমান। আপনার কাছে উনার সম্পর্কে তথ্য থাকলে, আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন।

মোঃ আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহ

শিক্ষার্থীঃ মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

মৃত্যু তারিখ : ৫ আগস্ট, ২০২৪

বয়স : ২৯ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : বারপাখিয়া,দেলদুয়ার,টাংগাইল

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় পুলিশের নির্বিচার গণহত্যায় নিহত হন আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহ। তিনি মানারাত ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নিহত ছিলেন। সেদিন মোট ৪৬ জনকে গুলি করে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।  গুলিবিদ্ধ লাশগুলো পুলিশ সদস্য ময়লার বস্তার মতো করে ভ্যানে তোলেন। থানার পাশে পুলিশের একটি গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাদের লাশ পুড়িয়ে দিয়ে গণহত্যার নির্মম ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ব্যক্তিগত জীবন :

আহনাফ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বারপাখিয়া গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে। তিনি ছিলেন একমাত্র ছেলেসন্তান। আশরাফুল্লাহ পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের ও সংসারের খরচ চালাতেন। তিন বোনের মধ্যে দুই বোনের বিয়েও দিয়েছেন তিনি। 

মাওলানা খুবাইব বিন আব্দুর রহমান

শিক্ষকজামিয়া ইসলামিয়া ইব্রাহীমিয়া ইসহাকিয়া কাজলারপার বড় মাদ্রাসা,যাত্রাবাড়ী,ঢাকা/

মৃত্যু তারিখ : ৫ আগস্ট, ২০২৪

বয়স : ২৪ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : উজানী,কচুয়া,চাঁদপুর

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

যাত্রাবাড়ী থানার সামনে – যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসার স্পটে পুলিশ সাদা পাঞ্জাবি টুপি পরিহিত একজন হুজুরকে লাঠি’চার্জ করে, তারপর দৌড় দিতে বলে। ছেলেটা কিছুদূর দৌড়াতেই পিছন থেকে পুলিশ গু’লি করে। এবং ছেলে টি মাটিতে লু’টিয়ে পড়ে যায়। সেই ছেলেটিই খোবাইব।

ব্যক্তিগত জীবন :

মাওলানা খুবাইব বিন আব্দুর রহমান এর পিতা শহীদের গর্বিত পিতা আল্লামা আব্দুর রহমান সাহেব। 

আবদুল মোতালেব

শিক্ষার্থী- মনেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

মৃত্যু তারিখ : ৪ আগস্ট, ২০২৪

বয়স : ১৪ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : ঢাকা

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

মোতালেব ০৪ আগস্ট বিকেল বেলা বাসায় না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং জিগাতলা ছাত্রদের সাথে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেয়। এসময় দূর্বৃত্যকারীরা গোলাগুলি শুরু করলে সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে সরে আসতে পারলে ও মোতালেব সরে আসতে পারে না। দূর্বৃত্যকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে বুকের মধ্যে ৪-৫ টি গুলি করে। এরপর তাকে রাস্তার অবস্থান করা লোকেরা শিকদার মেডিকেল কলেজ এ নিয়ে যায়। শেখান থেকে অনেকক্ষণ চিকিৎসা দেয়ার পর ডাক্তার রা তাকে মৃত ঘোষণা করেন । এসময় তার পরিবার এর খোঁজ না পেয়ে যারা হাসপাতাল এ নিয়ে ছিলেন তারা তাকে শেষ চিকিৎসা দেয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিয়ে যেতে নিলেও নিয়ে যেতে পারে না । এবং তার লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এ নিয়ে যায়। শহীদ মিনার এ সন্ধ্যায় থাকা দুইটি লাশ এর মধ্যে একটি ছিল মোতালেব এর লাশ ছিল । এদিকে পরিবার এর লোকজন এর কাছে খবর আসে এবং তারা শিকদার মেডিকেল এ যেয়ে তাকে খোঁজ করলে ও তারা বলেন তাকে ঢাকা মেডিকেল এ পাঠানো হয়েছে । ঢাকা মেডিকেল এ ও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে তার পরিবার পাগল এর মতো তাকে খুজতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তার লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে পাওয়া যায় । পরবর্তীতে তার লাশ বাসায় আনা হয় এবং জানাযাহ্ অনুষ্ঠিত হয় এবং নোয়াখালী তে তাদের নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবন :

শহীদ আব্দুল মোতালেব ডাকনাম : মুন্না, পিতার নাম : আব্দুল মতিন, মাতার নাম : জাহানারা বেগম বয়স : ১৪ বছর, স্কুল: মনেশ্বর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শ্রেনী: ৮ম বর্তমান ঠিকানা : ৬৩/এ গজমহল , হাজারীবাগ , স্থায়ী ঠিকানা : বড় নেওয়াজপুর , মিরেরপাড়া , বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

ইরফান ভূঁইয়া

শিক্ষার্থীইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

মৃত্যু তারিখ : ১৯ জুলাই, ২০২৪ 

বয়স : ———-

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

১৮ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় পুলিশের এলোপাথাড়ি গুলিতে তিনি শহীদ হন।

ব্যক্তিগত জীবন :

ইরফান ভূঁইয়া এর ব্যক্তিগত তথ্য খোঁজার কাজ চলমান। আপনার কাছে উনার সম্পর্কে তথ্য থাকলে, আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন।

মোঃ জাহিদুল ইসলাম

শিক্ষার্থী-পাবনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

মৃত্যু তারিখ : ৪ আগস্ট, ২০২৪

বয়স : ১৯ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : চর বলরামপুর, দোগাছী, পাবনা

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পাবনায় গত ৪ আগস্ট গুলিতে নিহত হন দুই শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে একজন উনিশ বছরের তরুণ জাহিদুল ইসলাম।জাহিদের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন সমাবেশে গুলি বর্ষণ শুরু হয় তখন আমি জাহিদের কাছ থেকে ২-৩ মিটার দূরে ছিলাম। হুড়োহুড়িতে প্রথমে বুঝতে পারিনি। কিছু সময় পর অন্য ছাত্রদের মাধ্যমে জানতে পারি আমার ভাই জাহিদের গুলি লাগছে এবং সে হাসপাতালে মারা গেছে। পড়াশোনা শেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল জাহিদের।

ব্যক্তিগত জীবন :

পাবনা সদর উপজেলার চর বলরামপুর গ্রামের দুলাল উদ্দিন ও আফিয়া খাতুন দম্পতির সন্তান জাহিদুল ইসলাম। পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিকস বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন তিনি। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন জাহিদ। তাঁর বাবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মা গৃহিণী। 

রাসেল মাহমুদ

শিক্ষার্থী- সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা

মৃত্যু তারিখ : ৫ আগস্ট, ২০২৪

বয়স : ২১ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : চরশিবা, গলাচিপা, পটুয়াখালী

যেভাবে শহীদ হয়েছেন : শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সোমবার শনির আখড়া থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করে সাধারণ মানুষ। সেখান থেকে মিছিলটি শাহবাগের উদ্দেশে রওনা হয়। এই আনন্দ মিছিলটি যাত্রাবাড়ী অতিক্রম করা কালে হঠাৎ গুলি শুরু করে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ। এতে সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ গুলিবিদ্ধ হন। উপস্থিত জনতা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর থেকেই রাসেলের খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার ও বন্ধুরা। জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। সোমবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে তাকে খোঁজা হলেও পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে তিন সহপাঠী মঙ্গলবার সকালে তার লাশ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার ব্যাবস্থা করে। রাসেলের সহপাঠি তানজিদা খানম মিল্কি জানান, আমরা বিকেল থেকেই রাসেলের খোঁজ পাচ্ছিলাম না। তারপর রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি করি। কয়েকবার ঢাকা মেডিকেলেও গিয়ে খোঁজ পাইনি। এরপর আজ সকালে রাসেলের সন্ধান পাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে।

ব্যক্তিগত জীবন :

রাসেল মাহমুদ এর ব্যক্তিগত তথ্য খোঁজার কাজ চলমান। আপনার কাছে উনার সম্পর্কে তথ্য থাকলে, আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন।

আসিফ ইকবাল

শিক্ষার্থী-ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, ঢাকা

মৃত্যু তারিখ : ১৮ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ৩১ বছর 

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : মাগুরা, খুলনা

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

১৯ জুলাই ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নগরীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ২৯ বছর। আন্দোলনে তার সঙ্গী ছিলেন তার মামাতো ভাই মো. রাশিদুল হাসান। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাশিদুল বলেন, ১৯ জুলাই (শুক্রবার) তারা শেখপাড়া এলাকার বায়তুল দারার মসজিদে একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। তিনি আরো বলেন, মিরপুর-১০ মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। আসিফ এক পর্যায়ে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিলে আমরা একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হই। তখন আ. লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিরপুর ১০ মেট্রো স্টেশনের দিকে হটে যেতে বাধ্য হয়। এ সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন নির্বিচারে গুলি চালায়। নিরাপদ স্থানের খোঁজে ফুটপাতের একটি দোকানের পাশে লুকানোর চেষ্টা করেন আসিফ। তিনি বলেন, ‘এর পরপরই আমরা সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে দিকে গুলির শব্দ শুনতে পাই এবং আসিফকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই।’ রাশিদুল জানান, ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেটের আঘাতে হার্টের ডান পাশের প্রধান ধমনী ছিঁড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আসিফের মৃত্যু হয়। একজন গোলাবারুদ বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি দক্ষ স্নাইপারের কাজ এবং কমপক্ষে ৩০০-৪০০ মিটার দূর থেকে তাকে টার্গেট করে গুলি চালানো হয়েছিল।

ব্যক্তিগত জীবন :

আসিফ ইকবাল এর বাবার নাম এম এ রাজ্জাক, সে এক ভাই ও এক বোনের পরিবারে বেড়ে ওঠেন, এখন স্ত্রী রয়েছেন তার পরিবারের সাথে। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, চ্ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক কাজের অংশ, করতেন নিয়মিত রক্তদান। 

সাফকাত সামির

শিক্ষার্থীপঞ্চম শ্রেণি, মাদ্রাসা

মৃত্যু তারিখ : ১৯ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ১১ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : ———-

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

জানালার পাশেই সামিরের পড়ার টেবিল। পড়ার বই, প্লাস্টিকের খেলনা, ঘরের মেঝেতে এখনো ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। গত শুক্রবার জানালা দিয়ে আসা একটি বুলেট সামিরের চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার খুলি ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ১১ বছরের সাফকাত সামির। – প্রথম আলো

ব্যক্তিগত জীবন :

সাফকাত সামির এর ব্যক্তিগত তথ্য খোঁজার কাজ চলমান। আপনার কাছে উনার সম্পর্কে তথ্য থাকলে, আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন।

বিপ্লব শেখ

চাকরিজীবী- মিরপুর ১২ রূপনগর আবাসিক এর একটা ফ্যাক্টরিতে

মৃত্যু তারিখ : ১৯ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ১৯ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : গ্রামঃ বুড়িগাংনি, ডাকঘরঃ পাক গাংনি-৯৩৮৫, গাংনী, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

মিরপুর ১০ আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ এবং পুলিশের নৃশংস হত্যাযজ্ঞে এ গুলিতে শহীদ হয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন :

বিপ্লব শেখ এর ব্যক্তিগত তথ্য খোঁজার কাজ চলমান। আপনার কাছে উনার সম্পর্কে তথ্য থাকলে, আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন।

আহসান হাবিব তামিম

শিক্ষার্থী- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মৃত্যু তারিখ : ১৯ জুলাই, ২০২৪

বয়স : ২১ বছর

জন্ম তারিখ : ———-

জন্মস্থান : চাটখিল, নোয়াখালি।

যেভাবে শহীদ হয়েছেন :

মিরপুর-১০ গোলচক্করের কাছে পুলিশের গুলিতে আহত হলে, প্রথমে আল-হিলাল প্রা: হাসপাতালে নেয়া হয়।অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেয়া হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে তামিম।

ব্যক্তিগত জীবন :

বাবা আন্দুল মান্নান,মা রাজিয়া সুলতানা।পরিবারের মেঝো সন্তান তামিম। বাবা এবং বড় ভাই দুজনেই কার মেকানিকের কাজ করেন।ছোট ভাইয়ের বয়স ৫ বছর।নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে তামিম নিজ প্রচেষ্টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গনিত বিভাগে পড়ার সুযোগ পেয়ে বাবা মাকে আশার আলো দেখিয়েছিলো।তার মৃত্যুতে নিভে গেলো বাবা মায়ের সব আশার আলো।

শিক্ষার্থী,

স্থাপত্য বিভাগ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

কয়েক বছর দীর্ঘ বিরতির পর, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ ফের শুরু

সৌদি আরবের জেদ্দা টাওয়ার; অনন্য উচ্চাভিলাষী নির্মাণ, যা ১০০০ মিটার (৩,২৮০ ফুট) উচ্চতায় বিশ্বের উচ্চতম আকাশচুম্বী হতে চলেছে, প্রায় সাত বছর কাজ স্থগিত থাকার পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবার শুরু হয়েছে। এই টাওয়ার স্থাপত্য এবং প্রকৌশলের সীমাকে নেবে অনন্য স্থানে। মার্কিন স্থপতি অ্যাড্রিয়ান স্মিথের নেতৃত্বে টাওয়ারের নকশায় একটি “তিন-পাপড়ি” ফুটপ্রিন্ট এবং একটি টেপারড অ্যারোডাইনামিক ফর্ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাতে এই ধরনের চরম উচ্চতায় নির্মাণের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যায়। অ্যাড্রিয়ান স্মিথের শিকাগো-ভিত্তিক ফার্ম, অ্যাড্রিয়ান স্মিথ + গর্ডন গিল আর্কিটেকচার, এই কাঠামোটিকে “মাটি থেকে উঠে আসা পাতার বান্ডিল” হিসাবে বর্ণনা করেছে, যা সৌদি আরবে দ্রুত আধুনিকীকরণে বৃদ্ধি এবং স্থিতিস্থাপকতার রূপক।

২০১৭ সালে দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধিকরণ অভিযানের কারণে নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আগপর্যন্ত বিল্ডিংটি তার উচ্চতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছিল। জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানির (জেইসি) নেতৃত্বে এই প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় যখন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের সময় প্রাথমিক ঠিকাদার এবং উন্নয়নের সহ-অর্থায়নকারী সংস্থা উভয়ের চেয়ারম্যানসহ উদ্যোগের সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আটক করা হয়। যদিও গ্রেপ্তারের পরে কাজটি সংক্ষিপ্তভাবে চলতে থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত এটি ২০১৮সালের শুরুর দিকে বন্ধ হয়ে যায়। নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও, টাওয়ারটি কোভিড-19 মহামারী দ্বারা সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী ব্যাঘাতের কারণে আরও বিলম্বিত ছিল।

বিন লাদেন গ্রুপের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত রিস্টার্ট প্রোগ্রামে
At a ceremony held on the site Wednesday, the development consortium behind the project, Jeddah Economic Company (JEC), announced that the tower is now scheduled to finish in 2028. Kingdom Holding Company

সম্প্রতি JEC একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছে যে আইকনিক আকাশচুম্বী ভবনটি এখন ২০২৮ সালের মধ্যে সমাপ্ত হবে। প্রকল্পটির অনুষ্ঠান কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির চেয়ারম্যান সৌদি যুবরাজ আলওয়ালিদ বিন তালালের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি এই প্রকল্পের প্রাথমিক অর্থায়নকারী। আলওয়ালিদ, এর আগে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় আটক হয়েছিলেন, অজ্ঞাত পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক মাস পরে তিনি মুক্তি পান।

অনুষ্ঠানে টাওয়ারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের একটি ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, আলওয়ালিদ চূড়ান্ত নকশার একটি ডিজিটাল রেন্ডারিং সবার মাঝে প্রকাশ করেন । জেদ্দা টাওয়ারের এই নকশা কেবল একটি প্রকৌশল বিস্ময় নয় বরং আকাশচুম্বী ডিজাইনে নতুন মানদণ্ড স্থাপনের সৌদি আরবের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, যা সাহসী স্থাপত্য উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে কাটিং এজ টেকনোলজির মিশ্রণ।

টাওয়ারটি উচ্চতায় যেতে যেতে এটি পূর্ববর্তী সমস্ত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে, আকাশচুম্বী নকশায় একটি নতুন নজির স্থাপন করবে এবং জেদ্দার আকাশকে আধুনিকতা ও উদ্ভাবনের নয়া আলোকবর্তিকার সাথে পরিচিত করবে।

সৌদি আরবের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় আটককৃত আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হলেন সৌদি বিনলাদিন গ্রুপের চেয়ারম্যান, জেদ্দা টাওয়ার প্রকল্পের প্রাথমিক ঠিকাদার বকর বিন লাদেন। বকর, ওসামা বিন লাদেনের সৎ ভাই, ২০১৭ সালের শুদ্ধি অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হন এবং তিন বছর পর ২০২১ সালে মুক্তি পান। জেদ্দা টাওয়ারের একটি অংশের মালিক তার পরিবারের নির্মাণ সংস্থা, যাদেরকে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার জন্য পুনরায় নিয়োগ করা হয়েছে। সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জের একটি ঘোষণা অনুসারে, টাওয়ারের জন্য সৌদি বিনলাদিন গ্রুপের নতুন চুক্তির মূল্য ৭.২ বিলিয়ন রিয়াল ($১.৯ বিলিয়ন)। এর মধ্যে প্রায় ১.১ বিলিয়ন রিয়াল ($২৯০ মিলিয়ন) ইতিমধ্যে কাজ বন্ধের আগে সম্পন্ন করার জন্য প্রদান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত, টাওয়ারের প্ল্যান করা ১৫৭ তলার মধ্যে ৬৩টি নির্মাণ করা হয়েছে।

টাওয়ার নির্মাণ কাজ চলমান

মূলত কিংডম টাওয়ার নামে পরিচিত, আকাশচুম্বী ভবনটি ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সমাপ্তির টার্গেট নিয়ে নির্মাণ শুরু করে। একবার শেষ হলে, জেদ্দা টাওয়ারটি দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা থেকে ৫০০ ফুট বেশি উঁচু হবে, বুর্জ খলিফা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন। লোহিত সাগরের ধারে জেদ্দায় অবস্থিত টাওয়ারটিতে অফিস, খুচরা ব্যবসা এবং রেসিডেন্সিয়াল স্পেসের মিশ্রণ দেখাবে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ২০১১ সালে একটি হোটেল, একটি শপিং মল এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ ডেক অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিংডম হোল্ডিং সেসময় কিছু সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে সাড়া দেয়নি বলে টাওয়ারের নকশা এবং স্পেসিফিকেশন নির্মাণের বিরতির সময় পরিবর্তিত হয়েছে কিনা তা এখনও অস্পষ্ট।

জেদ্দা টাওয়ারের ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে চমৎকার ৫৯টি লিফট, যাকে স্থপতিরা “বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক লিফট সিস্টেমগুলির মধ্যে একটি” বলে বর্ণনা করেছেন। এই লিফটগুলি ১০০০-মিটার কাঠামো জুড়ে বাসিন্দা, শ্রমিক এবং দর্শকদের এফিশিয়েন্টলি পরিবহন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

জেদ্দা টাওয়ার একটি বৃহত্তর ৫৭-মিলিয়ন-বর্গ-ফুট ডেভেলপমেন্টের কেন্দ্রবিন্দু হতে সেট করা হয়েছে, যা জেদ্দা ইকোনমিক সিটি নামে পরিচিত, একটি $২০-বিলিয়ন ডলার প্রকল্প যা শহরের শহুরে ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তন করার লক্ষ্যে নির্মিত। এই মেগা-ডেভেলপমেন্ট বাণিজ্যিক, আবাসিক এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলিকে একত্রিত করবে, যা জেদ্দাকে একটি আধুনিক মহানগর হিসাবে চিহ্নিত করতে অবদান রাখবে।

CNN এর সাথে ২০১৮ সালের একটি সাক্ষাত্কারে, জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানির (JEC) তৎকালীন প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা হিশাম জোমাহ জোর দিয়েছিলেন যে প্রকল্পটি জেদ্দার “মানসিকতা পরিবর্তন” করছে। ঐতিহ্যগতভাবে মদিনা এবং মক্কার প্রবেশদ্বার হিসাবে শুধু পরিচিত ছিলো, জেদ্দা এখন ব্যবসা, সংস্কৃতি এবং পর্যটনের জন্য বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান করছে, জেদ্দা টাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং দৃষ্টিভঙ্গির এই পরিবর্তনের প্রতীক।

মহাকাশ: অসীম বিস্তৃতি ও মানুষের ভবিষ্যৎ

কবির এম হাসিব

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও এর অনন্ত বিস্তৃতি আল্লাহর মহৎ সৃষ্টির উদাহরণ। কুরআনে অসংখ্যবার আসমান ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা মানবজাতিকে আল্লাহর কুদরতের সামনে বিনম্র হতে উদ্বুদ্ধ করে। মহাকাশ, আকাশের তারকা, গ্রহ, সূর্য, চন্দ্র এবং মহাবিশ্বের গঠনের গভীরতা ইসলামের চিন্তাবিদদের দীর্ঘকাল ধরে মুগ্ধ করেছে।

ইসলামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেও আমরা দেখতে পাই যে, ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগে বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যেখানে মুসলিম বিজ্ঞানীরা আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে গভীর গবেষণা চালিয়েছেন। এই প্রবন্ধে ইসলামের দৃষ্টিতে মহাকাশ, তার সৃষ্টি, এবং এর সাথে সম্পর্কিত মানুষের দায়িত্বের বিস্তারিত আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছে।


ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, আল্লাহ তায়ালা সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই সব কিছুর মালিক। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে মহাবিশ্বের সৃষ্টির কাহিনী এবং এর বিস্তার সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। সুরা আল-আম্বিয়া (২১:৩০)-এর একটি বিখ্যাত আয়াতে বলা হয়েছে:

“যারা অবিশ্বাসী, তারা কি দেখে না যে, আসমান ও জমিন একসঙ্গে সংযুক্ত ছিল, পরে আমি উভয়কে পৃথক করেছি এবং প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছি? তারা কি তবুও বিশ্বাস করবে না?”

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে আসমান ও জমিন একসময় একটি সম্পূর্ণ ছিল এবং আল্লাহ তা পৃথক করে মহাবিশ্বের সৃষ্টি করেছেন। অনেক ইসলামিক চিন্তাবিদ এবং আধুনিক বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই আয়াতটি বিগ ব্যাং তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা আধুনিক মহাবিশ্বের সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে। বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছিল একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে, যা পরবর্তীতে ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।


মহাবিশ্বের বিস্তৃতি কুরআনে বহুবার উল্লেখিত হয়েছে। কুরআন মুসলমানদের বারবার আকাশের দিকে তাকাতে এবং আসমানের সৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত উপলব্ধি করতে আহ্বান জানায়। যেমন, সুরা আদ-ধারিয়াত (৫১:৪৭) এ আল্লাহ বলেন:

“আমি আসমানকে আমার শক্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছি এবং আমি তা সম্প্রসারণ করছি।”

এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে আল্লাহ আসমানের বিস্তার ঘটাচ্ছেন, যা আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত। আজকের বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে মহাবিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। কুরআনে এরকম আয়াতগুলো মুসলিম বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করেছে মহাবিশ্বের ব্যাপারে গবেষণা করতে এবং আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শন খুঁজে পেতে।


আকাশ এবং পৃথিবীর সৃষ্টির প্রকৃতি কুরআনে বহুবার আল্লাহর মহানত্বের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা আল-ইমরান (৩:১৯০-১৯১) তে বলা হয়েছে:

“নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত-দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। তারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে থেকে এবং তারা আসমান ও জমিনের সৃষ্টির কথা চিন্তা করে বলে, ‘হে আমাদের রব, তুমি এসব যথার্থভাবেই সৃষ্টি করেছো।’ “

এই আয়াতগুলো আসমান ও জমিনের সৃষ্টির উপর গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য একটি আহ্বান। ইসলামের দৃষ্টিতে আকাশ এবং পৃথিবীর সৃষ্টি শুধুমাত্র আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি ঈমানকে আরও গভীর করার একটি উপায়।


ইসলামের স্বর্ণযুগে (৮ম থেকে ১৪শ শতাব্দী), মুসলিম বিজ্ঞানীরা জ্যোতির্বিদ্যায় অসাধারণ অবদান রেখেছিলেন। সেই সময়ে, বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে মুসলিমদের অবদান গোটা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন আল-ফারগানি, ইবনে সিনা, আল-বিরুনী, এবং ইবনে আল-হাইথাম।

আল-ফারগানি ছিলেন একজন বিখ্যাত মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী যিনি নক্ষত্রের গতিবিধি এবং পৃথিবীর আকার সম্পর্কে গবেষণা করেছিলেন। ইবনে আল-হাইথাম (আল-হাজেন) ছিলেন অপটিক্স ও জ্যোতির্বিদ্যায় একজন অগ্রগণ্য বিজ্ঞানী, যিনি আলোকবিজ্ঞান এবং টেলিস্কোপের মূলনীতি তৈরি করেছিলেন। তাঁদের এসব কাজ ইসলামের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ঐতিহ্যের অংশ, যা আজকের জ্যোতির্বিদ্যা ও মহাকাশ গবেষণার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।


ব্ল্যাক হোলের ধারণা আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আলোর গতির চেয়েও শক্তিশালী অভিকর্ষ বলের কারণে আলোও এর ভেতর থেকে পালাতে পারে না। ইসলামিক চিন্তাবিদরা ব্ল্যাক হোলের ধারণাকে কিছুটা কুরআনের কয়েকটি আয়াতের সাথে সংযুক্ত করেন, যেখানে আসমান ও জমিনের রহস্যময় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সুরা আত-তাকভীর (৮১:১৫-১৬) তে বলা হয়েছে:

“আমি শপথ করছি সেই তারকার, যা লুকিয়ে যায় এবং আবার উদিত হয়।”

ব্ল্যাক হোলের মতো মহাকাশের রহস্যময় বিষয়গুলো মুসলমানদের জন্য আল্লাহর সৃষ্টির গভীরতার একটি নিদর্শন হতে পারে। যদিও কুরআনে সরাসরি ব্ল্যাক হোলের উল্লেখ নেই, তবে মহাবিশ্বের জটিলতা ও সৃষ্টির নিদর্শনগুলো ইসলামী চিন্তায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।


ইসলাম মানুষকে এই পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে বিবেচনা করে। মানুষের দায়িত্ব হলো এই পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের রহস্য উদ্ঘাটন করা, যেন তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সুরা আন-নাজম (৫৩:৩১) তে বলা হয়েছে:

“তোমার রবের সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু আছে, তা তিনি ভালো করেই জানেন। আসমান ও জমিনের সকল রহস্য আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।”

মানুষের জন্য মহাকাশ অনুসন্ধান করার চেষ্টা শুধুমাত্র বিজ্ঞান নয়, বরং এটি আল্লাহর সৃষ্টির উপর গবেষণা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায়। মহাকাশের বিশালতা ও এর গভীরতা জানার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কুদরতের প্রশংসা করতে পারে এবং এই পৃথিবীর বাইরে কী আছে তা জানার চেষ্টা করে। ইসলামে গবেষণা ও জ্ঞান অর্জনের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান এবং ধর্মের সমন্বয় করেই ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান সময়েও, মহাকাশ গবেষণার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সৃষ্টির নতুন নতুন রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে।


বর্তমান সময়ে মহাকাশ গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মঙ্গল গ্রহে অভিযান। NASA, SpaceX, এবং অন্যান্য মহাকাশ সংস্থা মঙ্গল গ্রহে মানুষের স্থায়ী বসতি স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে। কুরআনের শিক্ষার সাথে সম্পর্ক রেখে, এই ধরনের মহাকাশ অনুসন্ধান আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে নতুন জ্ঞান আহরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মহাকাশ ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহর সৃষ্টির অসীম বিস্তৃতি এবং তাঁর ক্ষমতার প্রতিফলন। কুরআনে আসমান ও জমিনের সৃষ্টির উল্লেখ আমাদেরকে মহাবিশ্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে এবং আল্লাহর কুদরতের প্রতি ঈমান আরও দৃঢ় করতে অনুপ্রাণিত করে। ইসলামের স্বর্ণযুগে মুসলিম বিজ্ঞানীরা জ্যোতির্বিদ্যা ও মহাকাশ বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, যা আজও বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

শিক্ষার্থী, পদার্থবিদ্যা, জগন্নাথ বিশ্বিদ্যালয়।

পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) জহির রায়হান নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে বহিরাগত কয়েকজন যুবক তুলে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রবিবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

ভুক্তভুগী ছাত্রলীগ নেতার বন্ধুরা অভিযোগ করে বলেন, বিকেল সাড়ে চারটায় জহির রায়হান পরীক্ষা দিয়ে মেসে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গেট থেকে অটোতে ওঠেন। অটো ক্যালিকো কটন মিল এলাকায় গেলে সেখান থেকে তাকে কয়েকজন যুবক মটরসাইকেলে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে লাঠি, হক স্টিক দিয়ে হাতে, পায়ে, পিঠে মারধর করা হয়। পরে তার বাসায় ফোন দিয়ে বিকাশে দশ হাজার টাকা এনে এবং তার স্মার্ট ফোন নিয়ে তাকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে পাবনা সদর হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
 
তারা আরও বলেন, ওকে কারা মারধর করেছে তাদেরকে ও চিনতে পারেনি। তবে মারধরের সাথে ক্যাম্পাসের কারো সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ও মনে করে। কারণ গত বুধবার ক্যাম্পাস গেটে ক্যাম্পাসেরই কয়েকজন ওকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। তারা তাকে আর ক্যাম্পাসে না আসার জন্য হুশিয়ারি দেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা জহির রায়হান বলেন, ‘বিকেলে আমার সাথে কি হয়েছে এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছিনা। এ নিয়ে আমি কিছু বললে ওরা আমার আরো বড় ক্ষতি করবে। আমার জীবন এই মুহূর্তে হুমকির মুখে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমার জীবনের নিরাপত্তা চাচ্ছি।’

এই ঘটনা ঘটার পরে পাবনা সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা জহির রায়হানকে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আরিফ ওবায়দুল্লাহ।

সেখানে প্রক্টর ড. কামরুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেই ঘটনা ঘটেছে সেটা মোটেও কাম্য নয়। তবে এই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে সে আমাদের বলতে পারেনি। আমরা তাকে আগামীকাল লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি। লিখিত দিলে আমরা তদন্ত কমিটি করে দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো। আর তার নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

ইউআইইউ ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ফোরাম আয়োজিত ‘প্রেজেন্টেশন চ্যাম্পস -সিজন ১’ এর গ্রান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ইউআইইউ ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ফোরাম আয়োজিত অন্ত: বিশ্ববিদ্যালয়  প্রতিযোগিতা ‘ প্রেজেন্টেশন চ্যাম্পস -সিজন ১’ এর গ্রান্ড ফাইনাল রাউন্ড।

 প্রথম পর্বের মোট ৬০ টি দল থেকে  সেকেন্ড রাউন্ডে উন্নীত হয় ১৬ টি দল।এরপরে ফাইনাল রাউন্ডে অংশ নেয় বাছাইকৃত সেরা ৮ টি দল। এ রাউন্ডে প্রতিটি দল Pecakucha পদ্ধতিতে তাদের প্রেজেন্টেশন এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে   বিশটি স্লাইডে ২০ সেকেন্ড করে  মোট  ছয় মিনিট চল্লিশ  সেকেন্ড বলার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল কাশেম মিয়া।এছাড়া চূড়ান্ত পর্বের বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  স্কুল অব বিজনেস এর প্রফেসর ড. ফরিদ আহমেদ সোবহানী, মোঃমুরাদ হোসেন, ড. মোহাম্মদ রকিবুল কবির  এবং  মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন  প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডের বিচারকমন্ডলী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত  এই প্রতিযোগিতায় দর্শক হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্ট্মেন্টের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রতিটি দলের উপস্থাপনা এবং কথা বলা ও তথ্য প্রদর্শনের দক্ষতাকে যাচাই করা হয়। বিচারকদের বিশ্লেষণ এবং প্রদত্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে টিম Caffeine Crew কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফার্স্ট রানার আপ এর আসন দখল করে টিম Speechify এবং ক্রমানুসারে সেকেন্ড রানার আপ হয় টিম Stat Valiant।

বিজয়ী দলকে ১৫০০০ টাকার চেক ও ট্রফি পুরষ্কার হিসেবে তুলে দেন সম্মানিত প্রধান  অতিথি ভিসি মহোদয় ও বিচারকেরা। একইভাবে, ফার্স্ট রানার আপ এবং সেকেন্ড আপ কে ১০০০০ এবং ৫০০০ টাকার চেক ও ট্রফি পুরষ্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।।

Malaysian Prime Minister Anwar Ibrahim to visit Dhaka following his trip to Pakistan.

Saady Mohammad Saad, Dhaka.

Malaysian Prime Minister Anwar Ibrahim is scheduled to visit Dhaka on October 4, following his official trip to Pakistan. This visit, extended at the invitation of Chief Advisor Muhammad Yunus, holds considerable importance in the evolving relationship between Bangladesh and Malaysia. Prof. Yunus’ appointment as Chief Advisor of Bangladesh’s caretaker administration, Anwar Ibrahim personally congratulated him during a phone call on August 13. During this exchange, Prof. Yunus extended a formal invitation, which was later confirmed through diplomatic channels, setting the stage for this historic visit.

During a press briefing on Tuesday, September 1, Foreign Advisor Touhid Hossain highlighted the strong personal and professional rapport between the two leaders, referring to Anwar Ibrahim as a ‘close associate’ of Prof. Yunus. “Anwar Ibrahim’s distinguished political career and his close relationship with Prof. Yunus are well known,” Touhid remarked, noting that this will be the first official visit by a Malaysian prime minister to Bangladesh in nearly ten years.

Advisor Touhid underscored the significance of the visit for bilateral relations, describing it as the first visit by a head of government during the current administration. This milestone reflects renewed cooperation and is expected further to enhance the strong ties between the two nations.

The Malaysian Prime Minister will be accompanied by a 58-member delegation, including the Malaysian foreign minister and other senior officials, underscoring the importance of this diplomatic engagement. Upon arrival at Shahjalal International Airport, Anwar will be welcomed with full honors, signifying the significance of his visit.

During his stay, Anwar Ibrahim will engage in a series of high-level meetings, including bilateral talks with President Mohammed Shahabuddin and Chief Advisor Muhammad Yunus. A private meeting between Anwar and Yunus is also planned, emphasizing their longstanding relationship.

Foreign Advisor Touhid outlined the key areas of discussion, which will include economic collaboration, trade, investment, education, technology, and human resource development. Additionally, the export of manpower and defense cooperation will be key areas of focus, highlighting the depth and diversity of the partnership between Bangladesh and Malaysia.

The agenda will also address regional issues, particularly the Rohingya crisis. As Malaysia is set to assume the chairmanship of the Association of Southeast Asian Nations (ASEAN) in 2025, discussions will explore Malaysia’s role in the repatriation of Rohingya refugees. Bangladesh’s aspiration to become a’sectoral dialogue partner’ within ASEAN will also be raised.

This visit, the first in nearly a decade, serves as a testament to the enduring friendship and growing cooperation between Bangladesh and Malaysia. Advisor Touhid expressed optimism that the visit would open new avenues for collaboration, fostering deeper ties across various sectors. As both countries navigate a rapidly changing global landscape, Anwar Ibrahim’s visit to Dhaka marks a significant moment in the history of Bangladesh-Malaysia relations, with mutual benefits in areas of shared strategic interest.

ইসরায়েলে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান

ইরান মঙ্গলবার ইসরায়েলের দিকে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, এবং এর যা বলেছে যে এটি হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং অন্যদের হত্যার প্রতিক্রিয়া ছিল – সম্ভাব্যভাবে এই অঞ্চলটিকে একটি বিস্তৃত সংঘাতের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে যে তারা অনুমান করেছে যে ইরান দেশটিতে ২০০টি “ক্ষেপণাস্ত্র” নিক্ষেপ করেছে।

আইডিএফ বলেছে যে তারা অনেকগুলি ক্ষেপণাস্ত্রকে ইন্টারসেপ্ট করেছে, যদিও দুই শতাধিক ইসরায়েলের মাটিতে আঘাত হেনেছে, প্রাথমিকভাবে তেমন ধরনের কোনও আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন মঙ্গলবার বলেছেন যে ইরানের আক্রমণ “কার্যকরভাবে ঠেকানো হয়েছে।”

৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে নির্বিচারে আক্রমণ করে যাচ্ছে, ফলে গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, অবরুদ্ধ গাজার বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে যদিও ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ গত বছর ধরে আন্তঃসীমান্ত গুলি বিনিময় করছে, ইরান মঙ্গলবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালু করেছে, ইসরায়েল প্রকাশ করার পরপরই এটি লেবাননে একটি “সীমিত এবং স্থানীয়” স্থল অভিযান শুরু করেছে। যদিও আক্রমণটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত শেষ হয়েছিল, এটি স্পষ্ট যে এটি ইতিমধ্যে একটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তকে আরও বাড়তে দিয়েছে। বিশ্ব নেতারা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে, গাজায় ইসরায়েল ও ইরানের প্রক্সি হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে বিরোধ একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। ইসরায়েল কী জবাব দেয় সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি এই আর্টিলারি হামলাকে একটি “গুরুতর হামলা” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন এরজন্য “ভয়াবহ পরিণতি হবে।”

‘আছি তো কুমিল্লা। নতুন বাসা গোছাচ্ছি, তোমাদের যেন লুট, চুরি আর আগুন দিতে সুবিধা হয়।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না কুমিল্লার সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাকে। বলা হচ্ছে তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার চরানল সীমান্ত দিয়ে গত ২৯ আগস্ট রাতে ভারতে চলে যান।পালানোর পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুঁসে উঠেছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যেখানে অনেক অশ্লীল ভাষায়ও কমেন্টের রিপ্লাই দিতে দেখা গেছে তাকে। (২৬ সেপ্টেম্বর) ডাকাতের আক্রমণে নিহত সেনা সদস্য তানজিম সারোয়ারকে নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন সূচনা। এরপর সেই পোস্টে সূচনাকে উদ্দেশ করে অনেকে বিভিন্ন রকম নেগেটিভ কমেন্ট করেন। সাবেক এই মেয়র প্রতিটি কমেন্টের তীক্ষ্ণ জবাবও দেন।

পলক ও নাহিদকে নিয়ে পোস্টে সূচনা ক্যাপশন দিয়েছেন, যুগে যুগে পলকেরা নাহিদ হয়ে ফিরে আসে। সেই ক্যাপশনকে উদ্দেশ্য করে এক নেটিজেন লেখেন, পলক জানি কার নেতা আছিলো আপু? সেই কমেন্টের জবাবে সূচনা লেখেন, অন্তত আমার না। গুজব চলাকালীন সময়ও আমি সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে উনার পেইজে সরাসরি কমেন্ট করেছি। অতি মেধার যারা এখন ৬০০ টাকার ইলিশ খায়, তারাই তখনো আমাকে বুঝে না বুঝে অ্যাটাক করেছিল।

আরেকজন কমেন্ট করেন, ‘কুমিল্লায় আসেন আপা।’ উত্তরে সূচনা লেখেন, ‘আসতাছি আরো বেশি বেশি শাড়ি, জামা, জুতা, মাছ, গাছ, সবজি, যাকাতের শাড়ি, জায়নামায, কোরআন নিয়ে, দ্বিতীয় লুটের প্রস্তুতি নাও।’

UIU ইন্ট্রা-ইউনিভার্সিটি প্রেজেন্টেশন চ্যাম্প – সিজন 1 প্রথম রাউন্ড শুরু

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪  ইং তারিখে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল  ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় “Presentation Champ- season 1” এর প্রথম রাউন্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ফোরাম এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।

এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট থেকে সর্বমোট  ৬০ টি দল অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদের জন্য ইতোমধ্যে ট্রেনিং সেশনের আয়োজন করা হয়। প্রথম রাউন্ড থেকে বাছাইকৃত ১৬ টি   ও ৮টি  টিম নিয়ে যথাক্রমে অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল। এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন  দল পাবে পনেরো হাজার টাকা,    ফার্স্ট রানারআপ দল পাবে দশ হাজার টাকা এবং সেকেন্ড রানারআপ দল পাবে পাঁচ হাজার টাকা।প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবরের ৫ তারিখ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপস হলে।

সোর্স-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

যে পোস্ট দিয়ে প্রকাশ্যে এলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি

ছাত্রশিবিরের সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে কার্যক্রম ছিল ২০০৮ সালে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও প্রকাশ্যে এলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

আমরা আমাদের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরলাম তার ভাইরাল পোস্টটি।

ফেসবুকে সাদিক কায়েম লেখেন, ‘ফ্যাসিস্ট শোষণ শুধু ছাত্ররাজনীতি নয়, রাজনীতির সংজ্ঞাই পালটে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদে কোন রাজনীতি থাকে না। বিরাজনীতি ফ্যাসিবাদের ভাষা। ফ্যাসিবাদ ছাড়া সকল বাদ, ইজম ও রাজনীতি ফ্যাসিবাদে অনুপস্থিত থাকে। ফ্যাসিবাদে কোন রাজনীতি নাই, শুধু ফ্যাসিবাদই আছে। টেন্ডারবাজি, গুম, খুন, ক্রসফায়ার, ফাঁসি, ধর্ষণ, রাহাজানি, দুর্নীতি এসব রাজনীতি না। এগুলি ফ্যাসিবাদ।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের গত ষোল বছরের ভয়ংকর দিনগুলো কিংবা তারও পূর্বের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো রাজনীতির প্রতি তীব্র ঘৃণা সৃষ্টি করেছিলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সমস্ত ভুল ভেঙে দিয়েছে। রাজনীতি সম্পর্কে তৈরি হয়েছে নতুন সচেতনতা। দেয়ালে দেয়ালে লেখা হচ্ছে, ‘’এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরী’’।

আমরা জানি এই স্বাধীনতার জন্য শহীদ হয়েছে রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট এবং দলের আওতামুক্ত রাজনীতি সচেতন ছাত্র-জনতা। ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানোর চেয়ে বড় রাজনীতি আর কোন রাজনীতিই না। আমরা চাই সেই রাজনীতির আদর্শে ছাত্ররাজনীতির ব্যাপক ইতিবাচক সংস্কার হবে। ভবিষ্যতের ছাত্ররাজনীতিতে মত-দ্বিমত হবে, যুক্তির পাথরে সবাই বিক্ষিপ্ত হবে, কিন্তু কোন হকিস্টিক কিংবা স্ট্যাম্প থাকবে না। কোনো গেস্টরুম, গণরুম থাকবে না। চব্বিশের আকাঙ্ক্ষাকে বুকে নিয়ে এগিয়ে যাবে এই ছাত্ররাজনীতি। মধুতে ভিন্নমতের কেউ চা খেলে অপর পক্ষের কেউ তেড়ে আসবে না। একাডেমিক পরিবেশে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে ছাত্রসংসদ ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি।

গণতান্ত্রিক দেশে ভিন্নমতের প্রতি থাকবে সম্মান কিন্তু কেউ যেন স্বৈরাচারী না হয়ে উঠতে পারে সে ব্যাপারে রাখতে হবে সজাগ ও পূর্ণ দৃষ্টি। এই রাজনৈতিক সংস্কারে অবশ্যই চব্বিশের শহীদদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে, তা না হলে ভেস্তে যাবে আমাদের এই স্বাধীনতা। আমরা চাই ছাত্ররাজনীতির সংস্কার গবেষণা, পলিসি ডায়ালগের মধ্য দিয়ে তা বাস্তবায়িত হোক। এ লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

সাদিক কায়েম

সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।