আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পেলো নতুন উপাচার্য

আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক। তিনি ওআইসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত ছিলেন। তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফান্ডল্যান্ড থেকে এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি এবং বুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি শিক্ষা জীবনে সব বিষয়ে প্রথম বিভাগে পাস করেন। এ ছাড়া তিনি এসএসসিতে মেধায় পঞ্চম এবং এইচএসসিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

তিনি ৪১টি আন্তর্জাতিক জার্নাল পেপার এবং ৫৯টি কনফারেন্স প্রসিডিংসসহ ১০০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্সে সাংগঠনিক চেয়ার, সেশন চেয়ার, মূল বক্তা প্রভৃতি ভূমিকা পালন করেছেন।

তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে পাওয়ার কনভার্টার ও মোটর ড্রাইভে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ রয়েছে। তিনি নবায়নযোগ্য শক্তিতে পাওয়ার ইলেকট্রনিকসের প্রয়োগের গবেষণার সঙ্গে জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অনুমোদনে গত বৃহস্পতিবার তিনি উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন। সূত্রঃ বিজ্ঞপ্তি।

হাসিনার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী গ্রেপ্তার

তীব্র আন্দোলের মুখে জীবন নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গুলশান থেকে এ প্রভাবশালী উপদেষ্টাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টার থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ২৪ জন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও রয়েছেন।

তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে অবসরে যান তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে, গড়েছেন সীমাহীন সম্পদ, ভারতের হাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলি তুলে দেয়ার পেছনে তার হাত রয়েছে বলে মনে করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিস্তারিত আসছে…

গ্রেডিং সিস্টেম পরিবর্তনের দাবিতে উত্তাল ইউআইইউ

0

বর্তমান প্রচলিত গ্রেডিং সিস্টেম সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন রাজধানীর বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীরা। বিগত কয়েক দিন ধরে এই পরিবর্তন চেয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলিয়ে এই গ্রেডিং সিস্টেম চালুর দাবি জানান তারা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী জানান, সারাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনরে গ্রেডিং সিস্টেম প্রচলিত থাকলেও শুধু ছয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের মতো করে গ্রেডিং সিস্টেম চালু রেখেছে। এ ব্যাপারে ইউজিসির নীতিমালা তারা মানছে না।

আরেক শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, ৮০ শতাংশ নম্বরে যেখানে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ-৩.০০ পাচ্ছি, সেখানে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ ৪.০০ পাচ্ছেন। ৭৩ শতাংশ নম্বরে আমি ২.৩৩ পেলেও অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ ৭০ শতাংশ পেয়ে ৩.৫০ পাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর দু’জনের সিজিপিএ আকাশ পাতাল পার্থক্য হচ্ছে একই মার্ক পাওয়ার পরেও। সেজন্য চাকরির আবেদনসহ উচ্চশিক্ষায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, পরীক্ষায় মূল্যায়নে এভাবে ভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করায় বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। বিশেষ করে চাকরির বাজার কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছেন তারা। এমনকি কখনো কখনো কম সিজিপিএ এর জন্য তারা চাকুরিতে আবেদন পর্যন্ত করতে পারছে না।এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। বিষয়টি সুরাহার জন্য অনেকেই ইউজিসিতে আবেদন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নীতিমালা স্পষ্ট ভঙ্গ করার ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের আইন মেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এই বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা অবধি যোগাযোগ করেও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ফরজ নামাজের ইকামত হয়ে গেলে কোন সুন্নাত নেই!

0

ফজরের নামাযের সময় মসজিদে অনেককে দেখা যায়, আযানের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেছে অথবা জামাতে নামাজ পড়ানো হচ্ছে, আর তারা সুন্নত নামাজ পড়ছেন। অনেকের স্পর্ধা এতো বেশি যে, মসজিদে এসে দেখে ইমাম সাহেব ফরয নামাজ পড়াচ্ছেন, আর তারা জামায়াতে শরীক না হয়ে আলাদা সুন্নত পড়া শুরু করে?

নামাজ কি নিজের ইচ্ছামতো পড়লে কবুল হবে নাকি, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর তরীকা মোতাবেক পড়লে কবুল হবে?? ফরয নামাজের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে অন্য কোনো নফল বা সুন্নত নামাজ পড়া সম্পূর্ণ হারাম ও সুন্নত বিরোধী!! রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যখন ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরয ছাড়া অন্য কোন নামাজ নেই”। সহিহ মুসলিম, হাদীস নং- ১৫৩১।

এখন যদি কেউ বলে “আমি হানাফী মাযহাবের আর আমার মাযহাবে আছে ফযরের সুন্নত পড়া যাবে”।

আমি বলবো, আপনি আসল হানাফী মাযহাব অনুসরণ করছেন না, আপনি আসলে “হানাফী মাযহাব” নাম দিয়ে অন্য কারো মাযহাব অনুসরণ করছেন!! কারণ ইমাম আবু হানীফা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, “ইযা সাহহাল হাদীস, ফাহুয়া মাযহাবি” – জেনে রাখো যখন কোনো সহীহ হাদীস পাবে সেইটাই আমার মাযহাব।

এখন, সহীহ হাদীস মোতাবেক ফরয নামাযের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে আর কোনো সুন্নত নামাজ চলবেনা – সুতরাং ইমাম আবু হানীফার মাযহাবও সেটাই হবে। আর আপনি উলটা কাজ করে “হানাফী মাযহাব” হওয়ার দাবী করবেন, আপনি নিজেই বিবেচনা করুন আপনি কতটুকু সত্যিকারে হানাফী মাযহাব অনুসরণ করছেন? কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখিত। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সুন্নত জানানো।

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন নামাযের জন্য ইকামাত দেওয়া হয় তখন ফরয নামাজ ছাড়া অন্য কোন নামাজ নেই। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৫১), মুসলিম।

এ অনুচ্ছেদে ইবনু বুহাইনা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস, ইবনু আব্বাস ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান। আইউব, ওয়ারাকা ইবনু উমার, যিয়াদ ইবনু সা’দ, ইসমাঈল ইবনু মুসলিম এবং মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদা সম্মিলিতভাবে এ হাদীসটি আমর ইবনু দীনার হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু যায়িদ ও সুফিয়ান ইবনু উআইনা তাদের সনদ পরম্পরায় আমর ইবনু দীনার-এর সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেননি। তবে মারফু’ হিসাবে বর্ণিত হাদীসটিই আমাদের মতে বেশি সহীহ।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও অন্যান্যরা এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা বলেছেন, নামাযের জন্য ইকামাত দেওয়া হলে কোন ব্যক্তিই ফরয নামাজ ব্যতীত অন্য কোন নামাজ আদায় করবে না। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। আরো কয়েকটি সূত্রে আবু হুরাইরার নিকট হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ’আইয়্যাশ ইবনু আব্বাস আবু সালামা হতে তিনি আবু হুরাইরা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বিঃদ্রঃ অনেকে মনে করেন, ফযরের সুন্নত নামাজ আগে না পড়লে, ফরয বাদে আর পড়া যাবেনা। এধারণাটা ঠিক না!! যদি ফযরের ফরয নামাজের পর ওয়াক্ত থাকে তাহলে সুন্নত পড়া যাবে। আর ওয়াক্ত না থাকলে সূর্য ওঠার পর পড়া যাবে।

কায়েস বিন আ’মর (রাঃ) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) (ফযরের নামাযের জন্য) বের হয়ে আসলেন আর ইকামত দেয়া হলো। আমি তাঁর (সাঃ) সাথে ফযরের নামাজ পড়লাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নামাজ শেষ করে দেখলেন আমি নামাজ পড়ছি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, ধীরে কায়েস! দুই রাকাত এক সাথেই? আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমি ফযরের আগে দুই রাকাত পড়িনাই। তখন রাসুলুল্লাহ “না, তাহলে পরে ঠিক আছে”। আবু দাউদের বর্ণনায় আছে, “অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নীরব থাকলেন”। সুনানে আত-তিরমিযী ৪২২, আবু দাউদ ১২৬৭।

এই হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে, ফযরের নামাজের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়তে না পারলে, ফরয নামাযের পরেও পড়া যাবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) চুপ থাকা মানে তিনি নীরব থেকে কায়েস (রাঃ) কে মৌন সম্মতি দিলেন। আর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মৌন সম্মতি মানে হলো – সুন্নাহ।

মসজিদে যেকোনো নামাযের আগে লক্ষ্য করবেন কতটুকু সময় বাকি আছে, ২-১ মিনিট সময় যাতে করে অন্তত ২ রাকাত পড়া যাবেনা, তাহলে সুন্নত নামায শুরু করবেন না। সুন্নত পড়া শুরু করবেন যদি এতটুকু সময় হাতে থাকে যে ২ রাকাত শেষ করতে পারবেন। আর কখনো যদি এমন হয় সুন্নত পড়া অবস্থায় ইকামত দেওয়া শুরু করলঠা আপনি ২য় রাকাতে আছেন, একটু সময় নিলেই নামায পূর্ণ করে ফেলতে পারবেন তাহলে দ্রুত নামায পূর্ণ করে সালাম ফেরাবেন। আর যদি ১ম রাকাতে থাকেন তাহলে নামায ছেড়ে দিয়ে জামাতে শরীক হবেন।

আল্লাহ আমাদের জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ মেনে জীবন পরিচালনা করার তোওফিক দান করুন, আমীন ইয়া রাব্বুল আ’লামীন।

লেখক,

শিক্ষার্থী, কামিল (হাদিস), মোমেনশাহী দারুস সুন্নাত কামিল মাদ্রাসা ।

ক্ষমা পাওয়া ১৪ বাংলাদেশি আমিরাত থেকে দেশে ফিরছেন

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় বিভিন্ন দন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন ৫৭ বাংলাদেশি। পরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাদের ক্ষমা করেন। ক্ষমা পাওয়ার পর প্রথম ধাপে সেই ৫৭ জনের ১৪ জন আজ দেশে ফিরছেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ক্ষমা পাওয়া ১৪ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর প্রথম দলটি আজ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাত ১০টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ বাংলাদেশির সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের দন্ড মওকুপ করার জন্য আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে শেখ জাহেদ বাংলাদেশিদের সাজা মওকুফ করেন।

সম্পাদকীয়ঃ সেপ্টেম্বর ২০২৪

প্রিয় পাঠক, দীর্ঘ এক মাস পরে হাজির হলাম গুরুত্বপুর্ণ অনেকগুলি বিষয় নিয়ে। আশা করি আমাদের এ আয়োজন আপনাদের মনে কার্যকর চিন্তার খোরাক জোগাবে। ইতিহাসের প্রতিটা স্বৈরশাসকের পতন আমাদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নির্মম পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিলেও আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের গণতন্ত্রের আড়ালে স্বৈরতন্ত্রের ভয়াবহ চর্চা হয়, যা শেষ হয় অভ্যুত্থান-বিপ্লবের মাধ্যমে। 

ইতিহাসে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন নতুন কিছু নয়। ১৭৮৯’র ফরাসি বিপ্লব, ১৯১৭’র বলশেভিক বিপ্লব, কিংবা ১৯৭৯’র ইরানের ইসলামিক বিপ্লব ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সফলতম বিপ্লব। যার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরতন্ত্রের পতন হয়। এই বিপ্লবগুলো কালের সাক্ষী হয়ে স্বৈরাচারের নির্মম পতনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে আমাদের ২৪’র জুলাই বিপ্লব সম্পূর্ন ভিন্নধর্মী একতা বিপ্লব হিসেবে বিবেচিত হবে। কারন, এখানে যে বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থানগুলোর কথাগুলো বললাম, সবগুলোই ছিল কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নেতৃত্বে। আর ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিল একদল অরাজনৈতিক তরুণ শিক্ষার্থী। 

বাংলাদেশ তথা পুরো পৃথিবীর ইতিহাসে শুধু একদল শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে এত বড় বিপ্লব বিরল। এ আন্দোলনে স্থায়িত্বকাল ছিল মাত্র এক মাসের মতো, অথচ অনেক বেশি রক্তক্ষয়ী। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্পসময়ে এত ব্যাপক আর নৃশংস রক্তক্ষয়ী বিপ্লব আর দেখা যায়নি, যেখানে হাসিনার লেলিয়ে দেয়া ছাত্রলীগ- টোকাই আর উর্দিপড়া পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবি-সিক্রেট এজেন্সি নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে, এমনকি পরাজয় নিশ্চিত হবার পরেও গণহত্যা করে লাশ স্তুপিকৃত করে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে প্রমাণ লোপাট করতে। যা এ বিপ্লবকে আর সব বিপ্লব থেকে ইতিহাসে ব্যতিক্রম হিসেবে জায়গা দিয়েছে। এখানে সত্যিই অবাক করার মতো, আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি দিচ্ছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য ও অনুগত হয়ে সে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। 

শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনই নয়, এই তরুণরা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কথা বলছেন। দারুণ এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেখানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

পাঠক, মনে রাখা দরকার, এ বিপ্লবটি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এখানে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে; ধর্ম,বর্ণ, পেশা নির্বিশেষে। এই বিপ্লব ছিল হাসিনার প্রতি জনক্ষোভের এক ভয়াল বহিঃপ্রকাশ, যার জন্য ঝড়েছে হাজারো প্রাণ, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন প্রায় পনেরো হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ। 

বিপ্লবকে যেকোনো মূল্যে জারি রাখতে হবে, এই শহীদেরা যেন উজ্জ্বল আভা দিতে পারেন, যেন এই আহতদের মুখে হাসি ফোঁটে সত্যিকারের স্বাধীন বাংলা দেখে; আর কোনো স্বৈরাচার যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে; সেই দিকে সজাগ থাকুক ছাত্ররা। 

সম্পাদকীয়- সেপ্টেম্বর ২০২৩

সম্মানিত জ্ঞান পিপাসু পাঠক! বরাবরের মতো আমরা আপনাদের দিগদর্শন; চিন্তার লেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার প্রয়াস হিসেবে এ সংখ্যায় আমরা পিএইচডি জগতের দিকে চিন্তার খোরাক দিচ্ছি। পিএইচডি- এই অক্ষর তিনটি সম্মান এবং প্রশংসার নির্দেশ দেয়। উচ্চ শিক্ষার বিশাল পরিসরে peak of Mount Intellect এর স্কেল হিসাবে পিএইচডিকে ধরা হয়। এটি শুধু অক্ষরের কোনো আদিম সংমিশ্রণ নয়; এটি একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আপনার সমস্ত মত দেওয়ার জন্য মহাবিশ্ব আপনার করতলে ক্ষমতা অর্পন করে, যা বলিষ্ঠ কণ্ঠে চিৎকার করে, “I did my homework, and now I’m the authority!!”

কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে বলতে গেলে, পিএইচডি-র যাত্রা কোনো আনন্দভ্রমণ নয়। এটিকে একটি দুর্দান্ত দুঃসাহসিক অভিযান হিসাবে ভাবতে হয়, যেখানে আপনি জ্ঞানের আবিষ্কার- সন্ধানের নায়ক। এটি একটি রহস্য বা একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয় যা আপনাকে অনুপ্রাণিত বা উত্তেজিত করছে। এবং তারপরে আপনি উত্তর খুঁজে পেতে বই, পরীক্ষা এবং গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে একটি গুপ্তধনের সন্ধান কাজ চালিয়ে যাবেন। কল্পনা, প্রচেষ্টা এবং গভীর রাতের কর্মযজ্ঞ একটি বিশাল ধাঁধাকে একত্রিত করে গড়ে তুলে আপনার কল্পনার আর বাস্তবের সেতু!

প্রিয় পাঠক, যখন আপনি অবশেষে আপনার কাঙ্ক্ষিত সেই পিএইচডি-টি অর্জন করেন, তখন এটি জ্ঞান আকাশের অনন্য স্তরে অগ্রসর হওয়ার মতো। আপনি একজন ছাত্র থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ পণ্ডিত হয়ে উঠছেন। এটা শুধু একটা জানার বিষয় নয়; এটি বিশ্বের সামনে নতুন পয়েন্ট অব ভিউ আর পারস্পেক্টিভ সম্পর্কে আপনার আবিষ্কার করা সমস্ত দুর্দান্ত জিনিস গর্বিতভাবে প্রদর্শন করার সক্ষমতাকে উজ্জ্বল থেকে ক্রমশঃ প্রত্যুজ্জ্বল করে।

এখানেই আসে মুগ্ধতা; একটি পিএইচডি শুধুমাত্র কিছু একাডেমিক পয়েন্ট সংগ্রহ নয়, এটি একটি জাদুর কাঠির মতো যা ইতিহাসকে নতুন আকার দিতে পারে। পিএইচডি গবেষণার মাধ্যমে শুরু হওয়া সেই সমস্ত গতিশীল আবিষ্কার এবং পট পরিবর্তনকারী উদ্ভাবনগুলিকে আমরা ক্রেডেনশিয়াল হিসাবে গ্রহণ করি। আমরা যুগের সাথে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির কথা বলছি যা সম্পূর্ণরূপে শিল্প বিপ্লবের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং প্রত্যেকের জীবনকে আরও উন্নততর করেছে।

পাঠক! পিএইচডি কেবল গবেষক হিসেবে অর্জনের একটি চকচকে লেবেল নয়। এটি এমন একটি দুঃসাহসিক কাজ যা নব আবিষ্কার, যুগের চ্যালেঞ্জ অর্জন এবং আপনার সম্পূর্ণ মস্তিষ্কের শক্তিমত্তা প্রকাশের বিষয়ে বদ্ধপরিকর।

চিন্তাশীল বন্ধুরা, বড় স্বপ্ন দেখতে থাকুন, স্থিরতার হৃদয় ভরে যাক এবং মহাকালের অধ্যয়নগুলিকে কাজে লাগান, এবং সর্বদা মনে রাখবেন—আপনি একজন সত্যিকারের জ্ঞান যোদ্ধা হওয়ার পথে আছেন!  

সাম্যবাদের বুলি ও বাস্তবতা

কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না। সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা সাধারণত এই স্লোগান দিয়ে থাকে। উক্তিটি নিঃসন্দেহে ভালো, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদেও সমাজতন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি এটিকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। সমাজতন্ত্র, যাকে সাম্যবাদও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি দেখতে পাই? যারা এই মতাদর্শের ধারবাহক তাদের দেশে কি জনগণ এই অধিকার যথাযথ পায়? তারা কি আদৌ মানুষের মাঝে সমতা বিধান কায়েম করছে? এ মতাদর্শের গডফাদার ভলাদিমির লেনিনের দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন, সেখানে একসময় যে পরিমাণ ফল ও খাদ্যশস্য উৎপাদন হতো তা দিয়ে প্রায় পুরো এশিয়ার চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল, কিন্তু তারা এগুলো পচিয়ে নষ্ট করেছে তবুও অন্য রাষ্ট্রে সেগুলো সরবরাহ করেনি। এমনকি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষে তারা কোনো খাদ্যের সরবরাহ করেনি। এই হচ্ছে তাদের সাম্যবাদ। শুধু তাই নয়, তারা তাদের এই কথিত সাম্যবাদের নামে যুগের পর যুগ দখলে রেখেছে এশিয়ার বহু রাষ্ট্র। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের নামে তারা কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কিমিনিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান এর মতো স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ দখলে নেয়। এই মতাদর্শে ধর্মীয় স্বাধীনতার কোনো স্থান নেই। এর প্রতিষ্ঠাতা খোদ কার্ল মার্ক্স ধর্মকে আফিমের সাথে তুলনা করেছেন। তার মতে ধর্মই সমস্ত শোষণ ও অত্যাচারের হাতিয়ার। অথচ এ মতাদর্শে পরিচালিত রাষ্ট্রগুলোই যুগের পর যুগ তাদের আয়ত্তে থাকা বিভিন্ন অঞ্চল দখলে রাখার মাধ্যমে অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েই যাচ্ছে। চেচনিয়া, পূর্ব তুর্কিস্তান এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

এ আদর্শে উজ্জীবিত নেতৃবৃন্দ মুখে সাম্যের কথা বললেও তারা স্বভাবতই একনায়কতন্ত্র (Dictatorship) কায়েম করে আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশও এর ছিটেফোঁটার বাইরে নয়। সিরিয়ার ক্ষমতাসীন সরকার আসাদ পরিবার, ইরাকের বাথ পার্টি এর মধ্যে অন্যতম, যদিও তারা পুরোপুরি সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী নয়।

এ মতাদর্শের অনুসারীরা মানুষের সাম্যের কথা বলে থাকে। তাদের বিখ্যাত একটি স্লোগান হলো “দুনিয়ার মজদুর, এক হও হও”। কিন্তু তাদের এই সাম্যের পেছনে রয়েছে জুলুম-নিপীড়নের ভয়াল ধাবা, যা সোভিয়েত ইউনিয়ন ও গণচীন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই। তাদের এই মতবাদ পরিত্যাজ্য হওয়ায় তা একসময় নিজ গৃহেই আত্মহত্যা করে। যার ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে যায় ১৫ টি ভিন্ন রাষ্ট্রে। পরবর্তীতে পুঁজিবাদ নামক আরেক প্রান্তিক মতবাদ এর স্থান দখল করে যদিও এর কুফল বর্তমানে বিদ্যমান। এ যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ এর ন্যায়। সমাজতন্ত্রে যেখানে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের তেমন সুযোগ ছিল না, পুঁজিবাদে ঠিক তার উল্টো (যেখানে ব্যক্তি মালিকানাই মুখ্য, অনিয়ন্ত্রিত বাজার, নেই রাষ্ট্র কর্তৃক বাধা-ধরা সুস্পষ্ট নিয়ম)। যার ফলে সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিরাজ করা দুষ্কর। বর্তমানে কিছু দেশ কাগজে-কলমে সমাজতান্ত্রিক হলেও পুঁজিবাদের অনেক দর্শন অনুসরণ করে থাকে।

বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের চরম প্রতিদ্বন্দ্বি দুই দেশ রাশিয়া ও আমেরিকার দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ এটি। সমাজতন্ত্রকে নির্মূল করতেই মূলত সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে আমেরিকা আফগানিস্তানকে সহায়তা করে। এমনকি যেকোনো সময় এই দুই মতাদর্শের অনুসারী রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে যুদ্ধ লাগলে এক দেশ ওই আদর্শিক রাষ্ট্রকে সমর্থন করে থাকে। দু প্রান্তিক মেরুতে অবস্থিত এই সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদ মানবজাতির জন্য কখনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনতে পারেনি। তাদের এই দ্বন্দ্ব মূলত সমগ্র বিশ্বে যুদ্ধ ও অশান্তির ইতিহাস। অথচ আমরা আজ এর পিছনে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো ছুটছি। কবে হুশ ফিরবে আমাদের?আর চাপিয়ে দেওয়া বস্তপঁচা মাল কুড়াবো আমরা? এখনও কি সময় আসেনি জনতার কল্যাণের নতুন ইশতেহার গড়ার?

-লেখক
শাহরুক হোসেন তন্ময়

বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে অংশীদারিত্ব চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছে ইইউ

মিরর ডেস্ক।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে বিবেচিত ‘অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি-পিসিএ’ নিয়ে পরবর্তী আলোচনা স্থগিত করেছে ২৭ দেশের এই জোট। ইইউর একজন মুখপাত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলোচনা সেপ্টেম্বরে ঢাকায় হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

ইইউর মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান বোঝাতে গত ৩০ জুলাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ জোসেপ বোরেলের বিবৃতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উক্ত বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল ভিত্তি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এ কারণে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ ইইউ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে, ইইউ আশা প্রকাশ করেছিল যে বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণাঙ্গ শ্রদ্ধা বজায় রাখবে।

সেগুনবাগিচা ও ব্রাসেলসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

যার আওতায় প্রথম স্লটেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলাদেশের ন্যূনতম ৪৭০ মিলিয়ন ইউরো সহযোগিতা পাওয়ার  কথা ছিল। তাছাড়া এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথকে আরও প্রশস্ত করতো। অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তিটি ঢাকা ও ব্রাসেলসের মধ্যে সই হলেও জোটের সব সদস্যের জন্য এটি মেনে চলার আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গোটা ইউরোপের সমর্থন সহযোগিতা পেতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি।

সেই চুক্তির পরবর্তী আলোচনা স্থগিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেগুনবাগিচা এটা স্বীকার করেছে যে, বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে খুবই সমালোচনামুখর রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ মানবাধিকার সংবেদনশীল পশ্চিমা বিশ্ব। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজক পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে কোনো রকম বিবৃতি না দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ সরকার। আন্দোলনের শুরুর দিকে তারা এ নিয়ে কোনো বিবৃতি না দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে বেপরোয়া গুলি বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের লাশ পড়ে যাওয়ায় পর থেকে কাছের এবং দূরের প্রায় সব রাষ্ট্রেই প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো জোটবদ্ধভাবে এবং ঢাকায় থাকা দেশগুলোর প্রতিনিধিরা  পশ্চিমা অন্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলে দফায় দফায় এ নিয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করে চলেছেন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত বেআইনি হত্যা ও ঘোষিত ‘শুট অন সাইট পলিসি’ বা দেখামাত্র গুলির ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেপ বোরেল। 

জোসেপ বোরেল বাংলাদেশে বিক্ষোভ দমনে সরকারি বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুধু বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, তিনি গত ২৭ জুলাই লাওসে অনুষ্ঠিত আসিয়ানের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিশু এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিটি ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা আটকের ক্ষেত্রে ‘যথাযথ প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করতে হবে।

আলোচনা স্থগিত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে আলোচনায় থাকবে এবং তারা নিশ্চয়ই নতুন সময়সূচি দেবে। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানির ২০ শতাংশের বেশি ইউরোপীয় দেশগুলোতে পাঠানো হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ পরিস্থিতির কারণে অস্ট্রেলিয়াও ঢাকার সঙ্গে একাধিক বৈঠক স্থগিত করেছে। গত ২৪ ও ২৫ জুলাই ফরেন অফিস কনসালটেশন এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত দুটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেগুনবাগিচা।

স্টুডেন্ট লাইফে ইনকাম

“ছাত্রজীবন সুখের জীবন; যদি না থাকতো পরীক্ষা। ছাত্রজীবনে এটি একটি মুখরোচক বাক্য। পরীক্ষা শুধু লেখাপড়ায়ই নয়, আমরা সর্ব অবস্থায়ই পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছি এবং পরীক্ষা দিচ্ছি। যেই পরীক্ষা মাতৃগর্ব থেকেই শুরু হয়। কারণ কেউ দশ মাসে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে, কেউ আবার আরো কম সময়ে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। কোন বাচ্চ মেধাধী বেশি হচ্ছে, কোন বাচ্চা মেধা কম নিয়ে জন্ম লাভ করছে। কেউ ভালো ছাত্র হয়ে উঠছে, কেউ স্কুল কলেজের বারান্দায়ই যাচ্ছে না। আমরা সব সময় পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যাচ্ছি। কেউ সেখানে সফল কেউ সেখানে বিফল।

কেউ পরীক্ষা দিচ্ছে জীবন যুদ্ধে, কেউ পরীক্ষা দিচ্ছে বাতিলের বিরুদ্ধে। আপনি পরীক্ষা না দিতে চাইলেও আপনাকে অসংখ্য পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে এবং হচ্ছেনও। আপনি পরীক্ষার হলে নকল করছেন, সেটা অন্যকে স্পাই দিবেন কি না, সেটাও পরীক্ষা। ইনকাম করতে গিয়ে অসৎ পথে না সৎ পথে ইনকাম করবেন, সেটাও একটা পরীক্ষা। কেউ সুদ, ঘোষ ও দুর্ণীতিতে জড়িয়ে পড়ছে, কেউ তা এড়িয়ে চলছে, এটাও পরীক্ষা। আর সব পরীক্ষার সেরা পরীক্ষা জীবন যুদ্ধের পরীক্ষা।

আর জীবন যুদ্ধের জন্য চাই ইনকাম বা টাকা। আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনে ইনকাম না থাকলে জীবন চালানো কষ্টকরই নয়, মহা কষ্টের। কেউ ছাত্রজীবনে ইনকামের কথা চিন্তাই করতে পারে না। আবার কেউ কেউ ছাত্রজীবনেই তার ইনকামের ভিত গড়ে তলেছে। অপরদিকে অনেক ছাত্রছাত্রীরা ইনকামে জড়িয়ে পড়লে, ছাত্রজীবন নষ্ট করে ফেলছে। এটাও তার জন্য পরীক্ষা। ছাত্রজীবনে কোন কোন পন্থায় ইনকাম করা যায় দেখে নেয়া যাক:

  • টিউশনি করা।
  • অনলাইনে ব্যবসা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবসা করা।
  • কনটেন্ট তৈরী করা।
  • ফ্রিল্যান্সিং করা।
  • পার্ট টাইম জব করা।

ছাত্রজীবনে ইনকাম হতে লেখাপড়াবান্ধব। যেখানে সময় ব্যয় করলে আপনার সময়ও বিফলে যাবে না, অন্যদিকে ইনকামও আসবে। ছাত্রজীবনে ইনকামের সর্বোত্তম পথ হচ্ছে, টিউশনি। আপনি যে ক্লাসেই অধ্যয়ন করেন না কেন আপনার নিচের শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের আপনি টিউশনি করবেন। এছাড়াও কোন কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িত থাকতে পারেন। তাতে আপনি শিক্ষার পরিবেশের মধ্যেই থাকবেন। আপনি যেসকল ক্লাস শেষ করে এসেছেন, এতে যা শিখেছেন, তার চেয়ে বেশি শিখবেন ঐ ক্লাসের ছাত্রদের টিউশনি করালে। গরীব, নিম্নবিত্ত ছাত্রছাত্রীরা তো বটেই, উচ্চবিত্ত ছেলেমেয়েদেরও টিউশনি করা উচিত। তাতে সে তার ক্যারিয়ার ও শিক্ষা জীবনে উন্নতি লাভ করবে। কারণ আপনি যেটা লেখাপড়া করে শিখেছেন, সেটা যখন অন্য কাউকে শিখাবেন, তা আপনার জন্যই বেশি উপকৃত হবে। সেখান থেকে ঐ ছাত্রের চেয়ে আপনি অধিক পরিমাণে শিখবেন। কারণ ভালো ছাত্র হলেই ভালো শিক্ষক হওয়া যায় না।

টিউশনি ছাড়াও ছাত্রজীবনের সেরা ইনকামের পথ হচ্ছে, কনটেন্ট লেখা। কনটেন্ট লেখার মাধ্যমে আপনায় মেধা আরো বিকশিত হবে। অনেক ছাত্রছাত্রী আছে, যারা কিন্তু কোন লেখাপড়ায় ভালো কিছু গুছিয়ে লিখতে পারে না। অনেকে চিঠি ও দরখাস্তও গোছিয়ে লিখতে পারে না। কনটেন্ট লেখার পরে তাতে অবশ্যই উন্নতি ঘটবে। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বাস্তব জীবনের সাথে পরিচিত হবেন এবং আপনার কমিউনিকেশন স্কিল বাড়বে। কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপ করা মানে আপনার জীবনটাইকেই ডেভেলপ করা।

অনলাইন ব্যবসাও ছাত্রদের জন্য বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে। অনেক ছাত্ররাই অবসর সময়ে ভিডিও দেখা, চেটিং করা, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করে না। তাতে করে তার ছাত্রজীবনের অতি মূল্যবান সময় নষ্ট করে। এ সময় যদি সে অনলাইন ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে বিভিন্ন ধরণের পন্যের ছবি ও পন্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে অনলাইনে (বিভিন্ন প্লাটর্ফমে) পোস্ট করলে অর্ডার আসবেই। পন্যটি সুবিধামত সময়ে ডেলিভারী দিয়ে ইনকাম করতে পারে। তাতে তার অবসর সময় ও লেখাপড়ার মাঝের অবসর সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারলো, তথাপি ইনকামও হলো। সে খরচের হাত থেকেও রক্ষা পাবে, কারণ অবসর সময়ে আড্ডা দিলে সেখানে খরচ হবেই। তাতে কর্মবান্ধব সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে। কারণ যেখানে কাম আছে, সেখানে আকাম কম হয়। কথায় আছে না; অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। বসে বসে অলস সময় পাড় করলে শয়তান সেখানে নানাভাবে অসামাজিক কার্যলাপে প্রলুব্ধ করবেই।

পার্ট টাইম জব করাও ছাত্রজীবনে ইনকামের অন্যতম পথ। লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে কিছুটা সময় সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করা যায়। সরকারী কাজ যেমন ভোটার তথ্য হালনাগাদ করা, আদমশুমারীর কাজ করা, বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজের প্রাথমিক তথ্য কালেক্ট করা ইত্য্যাদি।

এছাড়াও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানেও কাজ কাজ করা যায়। দেশে অনেক দেশি-বিদেশী এনজিও প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের কাজই হচ্ছে গবেষনা ও রির্পোট প্রদান বা প্রকাশ করা। আর গবেষনা করতে গেলে অবশ্যই ডাটা কালেক্ট করতে হয়, ডাটা এন্ট্রি করতে হয়। এসমস্ত কাজ ছাত্রছাত্রী অনায়াসে করতে পারে।

অনেকেউ বলতে পারেন যে, কিভাবে শুরু করবো? তোমাকে মনে রাখতে হবে যে, তোমার পথ তোমাকেই দেখতে হবে, তোমার পথ তোমাকেই তৈরী করতে হবে, কেউ শিখিয়ে-গিলিয়ে বলে দিবে না। তোমার যে কাজ করার মন মাসিকতা আছে এবং তা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তা তোমাকে প্রকাশ করতে হবে, অন্যকে সেটা বুঝাতে হবে, এমনকি কোন বিনিময় ছাড়াও কাজ করতে ইচ্ছুক থাকতে হবে। যেখানে তুমি বিনিময় ছাড়া অবসর সময়টা কোন প্রতিষ্ঠানে দিবে, এক সময় তোমাকে বিনিময় দিয়েও রাখতে পারবে না। কারণ ততক্ষণে তোমার ডিমান্ড অনেকে বেড়েছে। এমন ক্যারিয়ার গঠন করতে হবে।

উপরোক্ত কাজগুলো ছাড়াও ট্যুরিস্ট গাইড, বিদেশী ভাষা শিখা ও শিখানো, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান (আইটি, সিভিল, আইন ইত্যাদি) এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, একুশে বই মেলায় পার্ট টাইম জব করা যেতে পারে। কর্মবান্ধব সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে সমাজ তথা দেশ উন্নত হতে বাধ্য।

লেখক,

-শাহজাহান আলী মূসা