রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা যেহেতু জনগণের ভোটাধিকার ও জনগণের মালিকানায় বিশ্বাস করি, সেহেতু নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের সংস্কার ভাবনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একাধিপত্য ও দুঃশাসন মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বা এর মাধ্যমে এক ব্যক্তি বা পরিবার বা কোনো গোষ্ঠীর কাছে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব আশঙ্কা রোধ করার জন্য নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের কথা আমরা ভাবছি। নির্বাচনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রশাসন, বিচার প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।
এসব প্রতিষ্ঠানের সংস্কার জনমালিকানা ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও অবদান রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
প্রধান উপদে্টা বলেন, এর পাশাপাশি করে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তাকে প্রতিফলিত করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি।
এসব বিষয়ে সংস্কার করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব কমিশনের কাজ পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককে এই কমিশনগুলো পরিচালিনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পর আরও বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়া আমরা অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।’
তিনি আরো জানান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন সফর রাজ হোসেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিক দায়িত্ব পালন করবেন।
ড. ইউনূস বলেন, এসব কমিশনের অন্য সদস্যদের নাম কমিশন প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কমিশনগুলোর আলোচনা ও পরামর্শসভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ছাত্র, শ্রমিক, জনতা আন্দোলনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু করতে পারবে বলে আশা করছি এবং এটি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আমরা ধারণা করছি। কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শসভার আয়োজন করবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শসভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এই রূপরেখা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তার একটি ধারণাও দেওয়া হবে। এই আয়োজন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণ তাগিদের ঐক্যবন্ধনে গোটা জাতিকে শক্তিশালী ও আশাবাদী করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
ড. ইউনূস বলেন, আমরা সংস্কার চাই। আমাদের একান্ত অনুরোধ, আমাদের ওপর যে সংস্কারের গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব দিয়ে আপনারা দর্শকের গ্যালারিতে চলে যাবেন না। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমরা একসঙ্গে সংস্কার করব। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।
তিনি সবাইকে সংস্কারকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই সংস্কারের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চাই। আমাদের এই যাত্রা আমাদের পৃথিবীর একটি সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুক এটাই আমাদের সবার কাম্য।’
প্রধান উপদেষ্টা বিগত মাসে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল, দেশের বিশিষ্ট সম্পাদকগ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক ও মত বিনিময় করার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা সংস্কারের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন এবং ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা বিপ্লবের লক্ষ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আপনার জানেন ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে এবং হাজারো মানুষের আত্মদানের বিনিময়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি অভূতপূর্ব সময় ও সুযোগ আমরা এর মধ্যে দিয়ে অর্জন করেছি। এর বাস্তবায়ন তথা বাংলাদেশে ফ্যাসিজম বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসন পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রোধ এবং জনমালিকানা ভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও জনস্বার্থে নিবেদিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে কিছু জাতীয়ভিত্তিক সংস্কার সম্পন্ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ওই সংস্কার ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।’
সামনে অনেক কাজ উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘সবাই মিলে একই লক্ষ্যে আমরা অগ্রসর হতে চাই। আমাদের মধ্যে, বিশেষ করে আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে আছে, সেটা যেন বিনা বাধায় রাষ্ট্রের ও সমাজের সহযোগিতায় প্রকাশ করতে পারি, সেই সুযোগের কাঠামো তৈরি করতে চাই। সকলে মিলে… সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এই হলো আমাদের সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
ছাত্র, শ্রমিক, জনতার এই বিপ্লবের লক্ষ্যকে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রথম মাসে আমরা যে গতিতে, যে উদ্যম নিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করেছিলাম, হয়তো সেটা করতে পারিনি বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা গেলে আশা করি আমরা আমাদের গতি অনেক বাড়াতে পারব।’ এজন্য দেশের সকল মানুষের কাছে সহযোগিতা চান তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, আমাদের কাজ বড় কঠিন, কিন্তু জাতি হিসেবে এবার ব্যর্থ হওয়ার কোনো অবকাশ আমাদের নেই। আমাদের সফল হতেই হবে। এই সাফল্য আপনাদের কারণেই আসবে। আপনার সহযোগিতার কারণে আসবে। আমাদের কাজ হবে আপনার, আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করা। ‘
তিনি বলেন, এখন আমরা দ্বিতীয় মাস শুরু করছি। আমাদের দ্বিতীয় মাসে যেন আপনাদের মনে দৃঢ় আস্থার সৃষ্টি করতে পারি সে চেষ্টা করে যাব।’ সূত্রঃ বাসস।
রাষ্ট্র সংস্কারে ৬ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত : প্রধান উপদেষ্টা
বৈষম্যহীন ও গতিশীল অর্থনীতির জন্য টাস্কফোর্স গঠন
বৈষম্যহীন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সরকার উন্নয়ন কৌশল পুনর্বিন্যাস করার লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. কে এস মুরশিদের নেতৃত্বে ‘অর্থনীতির পুনঃকৌশলীকরণ এবং ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সম্পদ সংগ্রহ’ শীর্ষক এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। গতকাল পরিকল্পনা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, বৈষম্যহীন ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
এটি একটি ন্যায্য, টেকসই ও গতিশীল অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করবে। টাস্কফোর্সে আরো নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
টাস্কফোর্সের অন্য সদস্যরা হলেন- বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আখতার মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের গবেষণা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. আবদুর রাজ্জাক, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুশফিক মোবারক, বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, এমসিসিআই’র সাবেক সভাপতি নাসিম মঞ্জুর, বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর আহমেদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বিডিজবস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ফাহিম মাশরুর এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মো. কাওসার আহমেদ। সূত্রঃ বাসস।
ড্যাপের সংশোধন কেন প্রয়োজন
বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) গেজেট হয়েছে ২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রায় এক বছর এর বয়স। এ এক বছরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র গ্রহণ কিংবা অনুমোদনের জন্য নকশা দাখিলের পরিমাণ খুব আশাব্যঞ্জক নয়। নগরবাসীর কেমন একটা দ্বিধা কাজ করছে। আমার নিজেরও এ গেজেট প্রকাশের সময় থেকেই অনেক প্রশ্ন মনে জেগেছে, কিন্তু কোথাও কোনো সদুত্তর পাচ্ছি না। সবাই কিছু একটা লুকাচ্ছে কিংবা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে।
এক. গেজেট নিয়ে প্রশ্ন
আমার অতি ক্ষুদ্র পড়াশোনা বলে, কোনো অঞ্চলের মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা আর ড্যাপ দুটো এক নয়; একেবারে ভিন্ন বিষয়। দুটি ক্ষেত্র প্রণয়নের জন্য অগ্রবর্তী হওয়ার ধারাবাহিকতা একদম ভিন্ন।
টিআই অ্যাক্টের আওতায় কোনো মহাপরিকল্পনা প্রণীত হওয়ার অনুমতি থাকলেও ড্যাপ প্রণয়ন ও গেজেটের আগে আরো কিছু কর্মসম্পাদন ও সেগুলোর অনুমোদিত গেজেট খুব প্রয়োজন। সেগুলো ব্যতিরেকে অর্থাৎ আগের ধাপ যথাযথ ভাবে অনুসরণ না করে পরের ধাপে পা দেয়া বিধিসম্মত হয়না। আমি আসলেই খুব অনিশ্চিত এ বিষয়টি ভেবে যে সরকার কর্তৃক গেজেটকৃত ড্যাপে ইংরেজিতে MASTER PLAN লিখে বাংলায় বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা”লেখাটি কি আসলে বিধিসম্মত, নাকি এখানে খানিকটা গোঁজামিল আছে? মাস্টারপ্ল্যান মানে কি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা?

দুই. প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০২০ উপেক্ষা
২০০০ সালের ৩৬ নং আইনটি পরিবেশ রক্ষার্থে একটি যথাযথ আইন ছিল। ছিল বলার কারণ আইনটি আজ পর্যন্ত বহাল থাকলেও ড্যাপ প্রণেতারা প্রণয়ন এবং গেজেট করাকালে এ আইন অমান্য করেছিলেন। যে আইনের প্রসঙ্গে বলছি সেটি হলো”মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ (২০০০ সালের ৩৬ নং আইন)।
এ আইনের অল্প কয়েকটি ধারা এখানে উল্লেখ করব। ড্যাপ প্রণয়নে এ ধারাগুলোর ব্যত্যয় দেখে সবাই অনুভবে আনতে পারবেন, ড্যাপ পরিবর্তন ও সংশোধনের জন্য এতদিন ধরে যে প্রতিবাদ সবাই (অল্প কয়েকজন বাদে প্রণেতা ও তাদের সমর্থনকারী) করে আসছিলাম তা যথার্থ ছিল।
আইনের ধারা সংজ্ঞা ২ (চ)-এ বলা হয়েছে,”প্রাকৃতিক জলাধার”অর্থ নদী, খাল, বিল, দিঘি, ঝরনা বা জলাধার হিসেবে মাস্টারপ্ল্যানে চিহ্নিত কিংবা সরকার, স্থানীয় সরকার অথবা কোনো সংস্থা কর্তৃক, গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে ঘোষিত কোনো জায়গা এবং সব পানি ও বৃষ্টির পানি ধারণ করে এমন কোনো ভূমিও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
আইনের ধারা ৫ শ্রেণী পরিবর্তনে বাধানিষেধ অংশে বলা হয়েছে,”এ আইনের বিধান অনুযায়ী খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না বা ওইরূপ জায়গা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা যাবে না কিংবা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা অথবা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাবে না!”
আইনের ধারা ৮ (১) শাস্তি, ইত্যাদি অংশে বলা হয়েছে,”কোনো ব্যক্তি এ আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে ণ্ডনীয় হবেন।
এবার আমরা গেজেটকৃত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-৩৫) বা ড্যাপের কথায় আসি। দেশের প্রচলিত জলাধার সংরক্ষণ আইন মান্য না করে প্রণেতাদের ইচ্ছানুযায়ী প্রাকৃতিক জলাধার দুই শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে—

ক. মুখ্য জলস্রোত এলাকা, খ. সাধারণ জলস্রোত এলাকা
এ ভাগের পরের প্রস্তাবে ড্যাপের বিধি অনুযায়ী সাধারণ জলস্রোত এলাকায় অনেক কিছুই নির্মাণ অনুমোদন যোগ্য! কী কী অনুমোদন সম্ভবপর তা ড্যাপে বিস্তারিত লেখা আছে। যদি মন বলে ড্যাপ খুলে দেখতে পারে এবং তাহলেই অনুভবে নিতে পারবে নদী বা নদীতীরবর্তী নীল বা সবুজ অংশটুকু বালি ভরাটে কেন দ্রুততার সঙ্গে সাদা হচ্ছে। অনুভবে এও নিতে পারবে ড্যাপ আসলে কাদের স্বার্থে প্রণয়ন হয়েছিল।
জলাধার আইন এখনো কার্যকর। এর কোনো ধারা আমার জানামতে এখনো রহিত হয়নি। সেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার তার শুদ্ধি অভিযানের সময় জলাধার আইন অনুযায়ী কোনো বন্যাপ্রবাহ এলাকা বা জলাধার সংরক্ষণের জন্য যদি চেষ্টা করে আর ড্যাপের সুবিধা ভোগকারী একজন যদি বলেন, ‘ড্যাপের আলোকে আমি নির্মাণের অনুমতি পেয়েছি’ তখন বিচারের ক্ষেত্রে কোন আইন বা বিধি বলবৎ হবে? প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন নাকি ড্যাপ?
যদি জলাধার আইন কার্যকর হয় তাহলে ড্যাপের আলোকে অনুমোদিত ও ভক্ষণকৃত বন্যাপ্রবাহ এলাকা বা জলাধার এলাকায় নির্মিত স্থাপনার ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে ও কে দেবেন? আর ড্যাপের অনুমোদন যদি সঠিক হয় তাহলে জলাধার সংরক্ষণ আইনের কোনো কার্যকরিতা থাকে না; আইন রহিত বা পরিবর্তন করতে হবে। সর্বশেষে একটি প্রশ্ন—যদি জলাধার সংরক্ষণ আইন ঠিক থাকে এবং সেটাই অনুসরণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, তাহলে এ আইন অমান্যের জন্য আইনের ধারা অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করবেন কে?
তিন. ড্যাপের নানাবিধ অসংগতি দূরীকরণ
ড্যাপের খসড়া থেকে চূড়ান্ত গেজেট লম্বা একটা সময়। এ পুরো সময়ে ড্যাপ সংশোধনীর বিষয়ে বেশ সরব থাকলেও কোনো আপত্তিতেই কেউ কখনো কর্ণপাত করেননি। বরং অসংগতিপূর্ণ খসড়াটি গেজেট করা হয়েছে। গেজেট হওয়ার পরেও এ বিষয়ে সোচ্চার থাকার পরিপ্রেক্ষিতে এবং তৎকালীন স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়কে অসংগতিগুলো ধরিয়ে দিতে পারার ফলে অথবা তিনি নিজেদের ত্রুটি অনুভব করতে পারার পরিপ্রেক্ষিতে গেজেট রিভিউ করে ড্যাপ সংশোধনের জন্য একটি কমিটি করেন! সে কমিটিকে উপেক্ষা করে ১ হাজার ৩৯ পৃষ্ঠার ড্যাপের জন্য মাত্র সাত পৃষ্ঠার একটি সংশোধনী গেজেট করা হয়। সেখানেও অসংগতিগুলো দূর করার পরিবর্তে একটি গোঁজামিল দেয়ার প্রয়াস অব্যাহত থাকে। এ অসংগতিগুলো বা ক্ষেত্রবিশেষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেশ সুযোগ করে দেয়ার বিষয়ে কিছু কথা আলোচনায় আনছি!
ড্যাপের প্রাথমিক খসড়া দেখে কেন আপত্তি, কোথায় আপত্তি তা ক্ষেত্র ধরে ধরে লিখিত দিয়েছিলাম। খসড়া চূড়ান্ত করার আগে বহুবার তৎকালীন পিডি মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা কালে উত্থাপিত আপত্তিগুলো তার পক্ষ থেকে নিষ্পত্তি করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। ড্যাপের গেজেটের আগে চূড়ান্ত খসড়াটি দেখার পরও অসংগতি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলাম। রাজউক কর্তৃক একটি হোটেলে আয়োজিত ড্যাপ নিয়ে সর্বশেষ নাগরিক মতবিনিময় সভায় বহুজনকে কথাই বলতে দেয়া হয়নি, বরং ‘ড্যাপ খুব ভালো হয়েছে’ পক্ষের বেশ কিছুজন অনেক কথা বলেছেন। কয়েকজন, যারা কোনোদিন ড্যাপের একটি পাতাও উল্টে দেখেননি তারাও দারুণ ড্যাপ হয়েছে বলেছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজন একর একর ভূমির মালিক বলেছিলেন, এটা যুগান্তকারী ড্যাপ। একজন তো বলেছিলেন, আজকেই এটার গেজেট হোক!
দেশের প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনকে মূল্য না দিয়ে, সন্মান না দেখিয়ে মূল জলস্রোতকে মুখ্য আর গৌণ করা হলো। কারণ কয়েকজন ভূমি মালিকের নদীতীরের বন্যাপ্রবাহ এলাকার ভরাট জমি গুগল ম্যাপে নীল বা সবুজ রঙ থেকে বালি ভরাটের জন্য দ্রুতগতিতে সাদা হচ্ছিল, তাদের জমির মালিকানা ও ওই ভূমি ব্যবহারের বিষয়টি দ্রুত হালাল করার প্রয়োজন ছিল!
ড্যাপের যে পাণ্ডুলিপি বিজি প্রেসে মুদ্রণের জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেখানে অনেক স্থানে কারো নির্দেশনায় এরিয়া ফার পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি অনুমোদিত খসড়া কীভাবে গোপনে পরিবর্তিত হয়ে প্রিন্ট হয়, কীভাবে এ পরিবর্তন সম্ভব?
তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে গেজেটকৃত ড্যাপের অসংগতি নিয়ে একাধিকবার কথা বলা এবং পৃষ্ঠা ধরে ধরে দেখানোর পর তিনি বিষয়টি বুঝে ড্যাপের তৎকালীন পিডি মহোদয়কে ড্যাপ রিভিউ করার কথা বলেছিলেন। ড্যাপ এ যদি অসংগতি বা ভুল না থাকত, গেজেট হওয়ার পর তা রিভিউ করার নির্দেশনা তৎকালীন মন্ত্রীর বাছ থেকে কখনো আসত না।
রিভিউ করার কমিটি হওয়ার পর সে কমিটি নিয়ে রিভিউ না করে ড্যাপের তৎকালীন পিডি মহোদয় তার একক প্রচেষ্টায় ড্যাপ রিভিউ করলেন। মূল রিভিউ করার জায়গা বাদ দিয়ে সেই বিশেষ ব্যক্তির এলাকানাধীন প্রকল্পের ওয়ার্ডভিত্তিক ক্ষুদ্র এরিয়া ফারকে উচ্চ এরিয়া ফার দেয়ার প্রস্তাব করে পুনরায় সংশোধিত গেজেট হলো।
এ সাত পৃষ্ঠার রিভিউতে যেসব এলাকার এরিয়া ফার ২-এর কম সেখানে দশমিক ৫ প্রণোদনা দেয়া হলো, যেখানে এরিয়া ফার ১ দশমিক ৫-এর কম ছিল তা ১ দশমিক ৫ এবং ক্ষেত্রবিশেষে ২ হলো। কোনো এলাকার এরিয়া ফার গেজেট হওয়ার পর একক সিদ্ধান্তে যদি এভাবে পরিবর্তন করে বাড়ানো হয়, তাহলে ওই এলাকার এরিয়া ডেনসিটি বাড়বে, যা মূল ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্রণেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে যে ডেনসিটি হিসাব করে এরিয়া ফার নির্ধারণ হয়েছিল সেখানে একটি ফাঁকি আছে। আমার মতে, এ বিষয়ে আদৌ কোনো সার্ভে বা অংক কষা হয়নি, পুরোটাই সম্ভবত কয়েক ব্যক্তির অলৌকিক চিন্তার ফসল।
ব্লক ডেভেলপমেন্টের যা মূল প্রস্তাব ছিল, প্রাথমিকভাবে যে সংশোধন করা হয়েছিল কিংবা পরবর্তী সময়ে যে সংশোধন প্রস্তাব এল, সেখানে আরো অনেক বিশ্লেষণ ও চিন্তার সংশোধন প্রয়োজন, না হলে ব্লক ডেভেলপমেন্টের মতো সুন্দর একটি উদ্যোগ কার্যকরভাবে সুফল আনতে পারবে না।
চার. সংশোধনের অনুরোধ
বহু অসংগতি ড্যাপজুড়ে ঢাকা মহানগরীর সব মানুষের কল্যাণের জন্য, নির্মাণ শিল্পে গতি আনার জন্য গেজেটকৃত ড্যাপ পরিশীলিত হওয়া খুব প্রয়োজন। পেশাজীবী, স্টেকহোল্ডার, অ্যাক্টিভিস্ট প্রতিনিধি মিলে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হোক, তারা পুরো ড্যাপ বিশ্লেষণ করে যেখানে সংশোধন প্রয়োজন তা চিহ্নিত করুক, সংশোধনী প্রস্তাবগুলো একত্র করে দ্রুততার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করুক। তারপর সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত হোক।
একটি বৈষম্যবিরোধী চিন্তা ও নতুনভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে। এ সরকারের সময়ে নির্দিষ্ট কয়েকজনের জন্য গেজেটকৃত বর্তমান ড্যাপ সংশোধন হওয়া উচিত। ঢাকা মহানগরীর সব মানুষের জন্য সময়োপযোগী ও অন্তর্ভুক্তির ড্যাপের নিমিত্ত সবার সুষ্ঠু চিন্তায় একত্রিত হওয়া অবিলম্বে একান্ত প্রয়োজন।
কাজী নাসির: প্রধান স্থপতি (অবসরপ্রাপ্ত), স্থাপত্য অধিদপ্তর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট।
আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পেলো নতুন উপাচার্য
আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক। তিনি ওআইসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত ছিলেন। তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফান্ডল্যান্ড থেকে এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি এবং বুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি শিক্ষা জীবনে সব বিষয়ে প্রথম বিভাগে পাস করেন। এ ছাড়া তিনি এসএসসিতে মেধায় পঞ্চম এবং এইচএসসিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তিনি ৪১টি আন্তর্জাতিক জার্নাল পেপার এবং ৫৯টি কনফারেন্স প্রসিডিংসসহ ১০০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্সে সাংগঠনিক চেয়ার, সেশন চেয়ার, মূল বক্তা প্রভৃতি ভূমিকা পালন করেছেন।
তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে পাওয়ার কনভার্টার ও মোটর ড্রাইভে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ রয়েছে। তিনি নবায়নযোগ্য শক্তিতে পাওয়ার ইলেকট্রনিকসের প্রয়োগের গবেষণার সঙ্গে জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অনুমোদনে গত বৃহস্পতিবার তিনি উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন। সূত্রঃ বিজ্ঞপ্তি।
হাসিনার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী গ্রেপ্তার
তীব্র আন্দোলের মুখে জীবন নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গুলশান থেকে এ প্রভাবশালী উপদেষ্টাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টার থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ২৪ জন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও রয়েছেন।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে অবসরে যান তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে, গড়েছেন সীমাহীন সম্পদ, ভারতের হাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলি তুলে দেয়ার পেছনে তার হাত রয়েছে বলে মনে করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিস্তারিত আসছে…
গ্রেডিং সিস্টেম পরিবর্তনের দাবিতে উত্তাল ইউআইইউ
বর্তমান প্রচলিত গ্রেডিং সিস্টেম সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন রাজধানীর বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীরা। বিগত কয়েক দিন ধরে এই পরিবর্তন চেয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলিয়ে এই গ্রেডিং সিস্টেম চালুর দাবি জানান তারা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী জানান, সারাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনরে গ্রেডিং সিস্টেম প্রচলিত থাকলেও শুধু ছয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের মতো করে গ্রেডিং সিস্টেম চালু রেখেছে। এ ব্যাপারে ইউজিসির নীতিমালা তারা মানছে না।
আরেক শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, ৮০ শতাংশ নম্বরে যেখানে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ-৩.০০ পাচ্ছি, সেখানে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ ৪.০০ পাচ্ছেন। ৭৩ শতাংশ নম্বরে আমি ২.৩৩ পেলেও অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ ৭০ শতাংশ পেয়ে ৩.৫০ পাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর দু’জনের সিজিপিএ আকাশ পাতাল পার্থক্য হচ্ছে একই মার্ক পাওয়ার পরেও। সেজন্য চাকরির আবেদনসহ উচ্চশিক্ষায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, পরীক্ষায় মূল্যায়নে এভাবে ভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করায় বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। বিশেষ করে চাকরির বাজার কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছেন তারা। এমনকি কখনো কখনো কম সিজিপিএ এর জন্য তারা চাকুরিতে আবেদন পর্যন্ত করতে পারছে না।এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। বিষয়টি সুরাহার জন্য অনেকেই ইউজিসিতে আবেদন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নীতিমালা স্পষ্ট ভঙ্গ করার ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের আইন মেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এই বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা অবধি যোগাযোগ করেও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ফরজ নামাজের ইকামত হয়ে গেলে কোন সুন্নাত নেই!
ফজরের নামাযের সময় মসজিদে অনেককে দেখা যায়, আযানের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেছে অথবা জামাতে নামাজ পড়ানো হচ্ছে, আর তারা সুন্নত নামাজ পড়ছেন। অনেকের স্পর্ধা এতো বেশি যে, মসজিদে এসে দেখে ইমাম সাহেব ফরয নামাজ পড়াচ্ছেন, আর তারা জামায়াতে শরীক না হয়ে আলাদা সুন্নত পড়া শুরু করে?
নামাজ কি নিজের ইচ্ছামতো পড়লে কবুল হবে নাকি, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর তরীকা মোতাবেক পড়লে কবুল হবে?? ফরয নামাজের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে অন্য কোনো নফল বা সুন্নত নামাজ পড়া সম্পূর্ণ হারাম ও সুন্নত বিরোধী!! রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যখন ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরয ছাড়া অন্য কোন নামাজ নেই”। সহিহ মুসলিম, হাদীস নং- ১৫৩১।
এখন যদি কেউ বলে “আমি হানাফী মাযহাবের আর আমার মাযহাবে আছে ফযরের সুন্নত পড়া যাবে”।
আমি বলবো, আপনি আসল হানাফী মাযহাব অনুসরণ করছেন না, আপনি আসলে “হানাফী মাযহাব” নাম দিয়ে অন্য কারো মাযহাব অনুসরণ করছেন!! কারণ ইমাম আবু হানীফা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, “ইযা সাহহাল হাদীস, ফাহুয়া মাযহাবি” – জেনে রাখো যখন কোনো সহীহ হাদীস পাবে সেইটাই আমার মাযহাব।
এখন, সহীহ হাদীস মোতাবেক ফরয নামাযের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে আর কোনো সুন্নত নামাজ চলবেনা – সুতরাং ইমাম আবু হানীফার মাযহাবও সেটাই হবে। আর আপনি উলটা কাজ করে “হানাফী মাযহাব” হওয়ার দাবী করবেন, আপনি নিজেই বিবেচনা করুন আপনি কতটুকু সত্যিকারে হানাফী মাযহাব অনুসরণ করছেন? কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখিত। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সুন্নত জানানো।
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন নামাযের জন্য ইকামাত দেওয়া হয় তখন ফরয নামাজ ছাড়া অন্য কোন নামাজ নেই। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৫১), মুসলিম।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু বুহাইনা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস, ইবনু আব্বাস ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান। আইউব, ওয়ারাকা ইবনু উমার, যিয়াদ ইবনু সা’দ, ইসমাঈল ইবনু মুসলিম এবং মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদা সম্মিলিতভাবে এ হাদীসটি আমর ইবনু দীনার হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু যায়িদ ও সুফিয়ান ইবনু উআইনা তাদের সনদ পরম্পরায় আমর ইবনু দীনার-এর সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেননি। তবে মারফু’ হিসাবে বর্ণিত হাদীসটিই আমাদের মতে বেশি সহীহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও অন্যান্যরা এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা বলেছেন, নামাযের জন্য ইকামাত দেওয়া হলে কোন ব্যক্তিই ফরয নামাজ ব্যতীত অন্য কোন নামাজ আদায় করবে না। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। আরো কয়েকটি সূত্রে আবু হুরাইরার নিকট হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ’আইয়্যাশ ইবনু আব্বাস আবু সালামা হতে তিনি আবু হুরাইরা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
বিঃদ্রঃ অনেকে মনে করেন, ফযরের সুন্নত নামাজ আগে না পড়লে, ফরয বাদে আর পড়া যাবেনা। এধারণাটা ঠিক না!! যদি ফযরের ফরয নামাজের পর ওয়াক্ত থাকে তাহলে সুন্নত পড়া যাবে। আর ওয়াক্ত না থাকলে সূর্য ওঠার পর পড়া যাবে।
কায়েস বিন আ’মর (রাঃ) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) (ফযরের নামাযের জন্য) বের হয়ে আসলেন আর ইকামত দেয়া হলো। আমি তাঁর (সাঃ) সাথে ফযরের নামাজ পড়লাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নামাজ শেষ করে দেখলেন আমি নামাজ পড়ছি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, ধীরে কায়েস! দুই রাকাত এক সাথেই? আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমি ফযরের আগে দুই রাকাত পড়িনাই। তখন রাসুলুল্লাহ “না, তাহলে পরে ঠিক আছে”। আবু দাউদের বর্ণনায় আছে, “অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নীরব থাকলেন”। সুনানে আত-তিরমিযী ৪২২, আবু দাউদ ১২৬৭।
এই হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে, ফযরের নামাজের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়তে না পারলে, ফরয নামাযের পরেও পড়া যাবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) চুপ থাকা মানে তিনি নীরব থেকে কায়েস (রাঃ) কে মৌন সম্মতি দিলেন। আর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মৌন সম্মতি মানে হলো – সুন্নাহ।
মসজিদে যেকোনো নামাযের আগে লক্ষ্য করবেন কতটুকু সময় বাকি আছে, ২-১ মিনিট সময় যাতে করে অন্তত ২ রাকাত পড়া যাবেনা, তাহলে সুন্নত নামায শুরু করবেন না। সুন্নত পড়া শুরু করবেন যদি এতটুকু সময় হাতে থাকে যে ২ রাকাত শেষ করতে পারবেন। আর কখনো যদি এমন হয় সুন্নত পড়া অবস্থায় ইকামত দেওয়া শুরু করলঠা আপনি ২য় রাকাতে আছেন, একটু সময় নিলেই নামায পূর্ণ করে ফেলতে পারবেন তাহলে দ্রুত নামায পূর্ণ করে সালাম ফেরাবেন। আর যদি ১ম রাকাতে থাকেন তাহলে নামায ছেড়ে দিয়ে জামাতে শরীক হবেন।
আল্লাহ আমাদের জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ মেনে জীবন পরিচালনা করার তোওফিক দান করুন, আমীন ইয়া রাব্বুল আ’লামীন।
লেখক,
শিক্ষার্থী, কামিল (হাদিস), মোমেনশাহী দারুস সুন্নাত কামিল মাদ্রাসা ।
ক্ষমা পাওয়া ১৪ বাংলাদেশি আমিরাত থেকে দেশে ফিরছেন
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় বিভিন্ন দন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন ৫৭ বাংলাদেশি। পরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাদের ক্ষমা করেন। ক্ষমা পাওয়ার পর প্রথম ধাপে সেই ৫৭ জনের ১৪ জন আজ দেশে ফিরছেন।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ক্ষমা পাওয়া ১৪ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর প্রথম দলটি আজ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাত ১০টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ বাংলাদেশির সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের দন্ড মওকুপ করার জন্য আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে শেখ জাহেদ বাংলাদেশিদের সাজা মওকুফ করেন।
সম্পাদকীয়ঃ সেপ্টেম্বর ২০২৪
প্রিয় পাঠক, দীর্ঘ এক মাস পরে হাজির হলাম গুরুত্বপুর্ণ অনেকগুলি বিষয় নিয়ে। আশা করি আমাদের এ আয়োজন আপনাদের মনে কার্যকর চিন্তার খোরাক জোগাবে। ইতিহাসের প্রতিটা স্বৈরশাসকের পতন আমাদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নির্মম পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিলেও আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের গণতন্ত্রের আড়ালে স্বৈরতন্ত্রের ভয়াবহ চর্চা হয়, যা শেষ হয় অভ্যুত্থান-বিপ্লবের মাধ্যমে।
ইতিহাসে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন নতুন কিছু নয়। ১৭৮৯’র ফরাসি বিপ্লব, ১৯১৭’র বলশেভিক বিপ্লব, কিংবা ১৯৭৯’র ইরানের ইসলামিক বিপ্লব ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সফলতম বিপ্লব। যার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরতন্ত্রের পতন হয়। এই বিপ্লবগুলো কালের সাক্ষী হয়ে স্বৈরাচারের নির্মম পতনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে আমাদের ২৪’র জুলাই বিপ্লব সম্পূর্ন ভিন্নধর্মী একতা বিপ্লব হিসেবে বিবেচিত হবে। কারন, এখানে যে বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থানগুলোর কথাগুলো বললাম, সবগুলোই ছিল কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নেতৃত্বে। আর ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিল একদল অরাজনৈতিক তরুণ শিক্ষার্থী।
বাংলাদেশ তথা পুরো পৃথিবীর ইতিহাসে শুধু একদল শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে এত বড় বিপ্লব বিরল। এ আন্দোলনে স্থায়িত্বকাল ছিল মাত্র এক মাসের মতো, অথচ অনেক বেশি রক্তক্ষয়ী। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্পসময়ে এত ব্যাপক আর নৃশংস রক্তক্ষয়ী বিপ্লব আর দেখা যায়নি, যেখানে হাসিনার লেলিয়ে দেয়া ছাত্রলীগ- টোকাই আর উর্দিপড়া পুলিশ-র্যাব-বিজিবি-সিক্রেট এজেন্সি নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে, এমনকি পরাজয় নিশ্চিত হবার পরেও গণহত্যা করে লাশ স্তুপিকৃত করে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে প্রমাণ লোপাট করতে। যা এ বিপ্লবকে আর সব বিপ্লব থেকে ইতিহাসে ব্যতিক্রম হিসেবে জায়গা দিয়েছে। এখানে সত্যিই অবাক করার মতো, আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি দিচ্ছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য ও অনুগত হয়ে সে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে।
শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনই নয়, এই তরুণরা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কথা বলছেন। দারুণ এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেখানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।
পাঠক, মনে রাখা দরকার, এ বিপ্লবটি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এখানে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে; ধর্ম,বর্ণ, পেশা নির্বিশেষে। এই বিপ্লব ছিল হাসিনার প্রতি জনক্ষোভের এক ভয়াল বহিঃপ্রকাশ, যার জন্য ঝড়েছে হাজারো প্রাণ, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন প্রায় পনেরো হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ।
বিপ্লবকে যেকোনো মূল্যে জারি রাখতে হবে, এই শহীদেরা যেন উজ্জ্বল আভা দিতে পারেন, যেন এই আহতদের মুখে হাসি ফোঁটে সত্যিকারের স্বাধীন বাংলা দেখে; আর কোনো স্বৈরাচার যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে; সেই দিকে সজাগ থাকুক ছাত্ররা।
সম্পাদকীয়- সেপ্টেম্বর ২০২৩
সম্মানিত জ্ঞান পিপাসু পাঠক! বরাবরের মতো আমরা আপনাদের দিগদর্শন; চিন্তার লেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার প্রয়াস হিসেবে এ সংখ্যায় আমরা পিএইচডি জগতের দিকে চিন্তার খোরাক দিচ্ছি। পিএইচডি- এই অক্ষর তিনটি সম্মান এবং প্রশংসার নির্দেশ দেয়। উচ্চ শিক্ষার বিশাল পরিসরে peak of Mount Intellect এর স্কেল হিসাবে পিএইচডিকে ধরা হয়। এটি শুধু অক্ষরের কোনো আদিম সংমিশ্রণ নয়; এটি একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আপনার সমস্ত মত দেওয়ার জন্য মহাবিশ্ব আপনার করতলে ক্ষমতা অর্পন করে, যা বলিষ্ঠ কণ্ঠে চিৎকার করে, “I did my homework, and now I’m the authority!!”
কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে বলতে গেলে, পিএইচডি-র যাত্রা কোনো আনন্দভ্রমণ নয়। এটিকে একটি দুর্দান্ত দুঃসাহসিক অভিযান হিসাবে ভাবতে হয়, যেখানে আপনি জ্ঞানের আবিষ্কার- সন্ধানের নায়ক। এটি একটি রহস্য বা একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয় যা আপনাকে অনুপ্রাণিত বা উত্তেজিত করছে। এবং তারপরে আপনি উত্তর খুঁজে পেতে বই, পরীক্ষা এবং গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে একটি গুপ্তধনের সন্ধান কাজ চালিয়ে যাবেন। কল্পনা, প্রচেষ্টা এবং গভীর রাতের কর্মযজ্ঞ একটি বিশাল ধাঁধাকে একত্রিত করে গড়ে তুলে আপনার কল্পনার আর বাস্তবের সেতু!
প্রিয় পাঠক, যখন আপনি অবশেষে আপনার কাঙ্ক্ষিত সেই পিএইচডি-টি অর্জন করেন, তখন এটি জ্ঞান আকাশের অনন্য স্তরে অগ্রসর হওয়ার মতো। আপনি একজন ছাত্র থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ পণ্ডিত হয়ে উঠছেন। এটা শুধু একটা জানার বিষয় নয়; এটি বিশ্বের সামনে নতুন পয়েন্ট অব ভিউ আর পারস্পেক্টিভ সম্পর্কে আপনার আবিষ্কার করা সমস্ত দুর্দান্ত জিনিস গর্বিতভাবে প্রদর্শন করার সক্ষমতাকে উজ্জ্বল থেকে ক্রমশঃ প্রত্যুজ্জ্বল করে।
এখানেই আসে মুগ্ধতা; একটি পিএইচডি শুধুমাত্র কিছু একাডেমিক পয়েন্ট সংগ্রহ নয়, এটি একটি জাদুর কাঠির মতো যা ইতিহাসকে নতুন আকার দিতে পারে। পিএইচডি গবেষণার মাধ্যমে শুরু হওয়া সেই সমস্ত গতিশীল আবিষ্কার এবং পট পরিবর্তনকারী উদ্ভাবনগুলিকে আমরা ক্রেডেনশিয়াল হিসাবে গ্রহণ করি। আমরা যুগের সাথে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির কথা বলছি যা সম্পূর্ণরূপে শিল্প বিপ্লবের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং প্রত্যেকের জীবনকে আরও উন্নততর করেছে।
পাঠক! পিএইচডি কেবল গবেষক হিসেবে অর্জনের একটি চকচকে লেবেল নয়। এটি এমন একটি দুঃসাহসিক কাজ যা নব আবিষ্কার, যুগের চ্যালেঞ্জ অর্জন এবং আপনার সম্পূর্ণ মস্তিষ্কের শক্তিমত্তা প্রকাশের বিষয়ে বদ্ধপরিকর।
চিন্তাশীল বন্ধুরা, বড় স্বপ্ন দেখতে থাকুন, স্থিরতার হৃদয় ভরে যাক এবং মহাকালের অধ্যয়নগুলিকে কাজে লাগান, এবং সর্বদা মনে রাখবেন—আপনি একজন সত্যিকারের জ্ঞান যোদ্ধা হওয়ার পথে আছেন!
