The recent clashes among students at Dhaka and City Colleges highlight a troubling trend in academic environments, where tensions can escalate into violence, disrupting the educational experience for all. This two-day class suspension serves as a stark reminder of the urgent need for effective conflict resolution strategies and a greater emphasis on fostering dialogue among students.
After a short break, clashes between students of Dhaka College and Dhaka City College began again around 2 p.m. The clashes began around 11:45 a.m. when a group of Dhaka College students attacked Dhaka City College students and vandalised their campus. Police took position at the scene to control the situation. However, students attacked the police as well. Though agitators left the spot for some time around 1:20 p.m., they again returned to the spot around 2 p.m.
Ultimately, this situation calls for a collective commitment to building a more harmonious academic community that values diversity and promotes peaceful coexistence.
রাজধানীর বনানীতে নির্মমভাবে খুন হওয়া পারভেজ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
রবিবার শিবিরের প্রতিনিধি দলটি বনানী থানায় গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর সাথে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে তারা বলেন, “পারভেজ ছিল এক সচেতন ও দায়িত্বশীল শিক্ষার্থী। তার মতো একজন তরুণের নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু তার পরিবার নয়, পুরো শিক্ষার্থী সমাজকে শোকাহত করেছে।” তারা হত্যার পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি রেজাউল করিম। তার সাথে ছিলেন শাখার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ।
পরে প্রতিনিধি দলটি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. রায়হানা বেগমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহত পারভেজের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সমবেদনা জানান। উপাচার্যকে দেওয়া শোকবার্তায় বলা হয়, “একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এভাবে হারানো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি রেজাউল করিমের নেতৃত্বে বনানী থানার ওসির সাথে সাক্ষাৎ
ছাত্রশিবির নেতারা এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের মধ্যেও উপস্থিত হন এবং তাদেরকে মনোবল ধরে রেখে শান্তিপূর্ণভাবে ন্যায়সঙ্গত দাবিতে অটল থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “এই দুঃসময়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও ঐক্য দেখিয়ে দিতে হবে যে, অন্যায়কে কখনো মেনে নেওয়া হবে না।”
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশের শিক্ষার্থী সমাজের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের আন্দোলন চালিয়ে যেতে সহায়তা প্রদান করবে।
প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী নবাব পারভেজ এর নির্মম মৃত্যু কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আমাদের শিক্ষা দেয় ভুল বোঝাবুঝি এবং অব্যবস্থাপনা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সূচনা হয় একেবারে তুচ্ছ একটি বিষয় থেকে। ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে পারভেজ হাসাহাসি করছিলেন। পাশেই বসে থাকা দুই ছাত্রী ভেবে বসেন, ওই হাসাহাসি তাদের নিয়েই। একটি কল্পিত অপমানবোধ থেকে শুরু হয় উত্তেজনা। দুই ছাত্রী বিষয়টি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর।
প্রক্টর অফিসে ডাকা হয় পারভেজকে। সেখানে সে স্পষ্ট করে জানায় তার হাসাহাসির উদ্দেশ্য কোনোভাবে ওই দুই ছাত্রীকে লক্ষ্য করে ছিল না। বরং, বন্ধুদের ব্যক্তিগত আলাপ নিয়েই মজা করছিলেন তিনি। তবুও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাকে ঐ দুই ছাত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এবং পারভেজ বিনা দ্বিধায় সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
হ্যাঁ, পারভেজ ক্ষমা চেয়েছিল।
কিন্তু ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। এরপর থেকেই তার ওপর বাড়তে থাকে চাপ, শুরু হয় হুমকি-ধামকি। শেষ পর্যন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাহাথির হাসান, বিবিএ বিভাগের মেহেরাজ ইসলাম ও এলএলবি বিভাগের আবু জোহর গিফারী পিয়াস তিনজন শিক্ষার্থী বস্তির একটি কিশোর গ্যাং ভাড়া করে আনে পারভেজের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে।
২০ এপ্রিল, বিকেল চারটায় ক্যাম্পাসের সামনে ওই গ্যাং সদস্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় পারভেজ ও তার আরও চার-পাঁচজন বন্ধুর ওপর। গুরুতর আহত অবস্থায় পারভেজকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ক্যাম্পাসে নেমে আসে শোকের ছায়া।
তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য:
সাইবার টিমের সহায়তায় জানা গেছে, হামলাকারী গ্যাংটির নাম ‘বেনসন গ্যাং’। এই গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছে ব্যানসন নাসিম ওরফে আহমেদ নাসিম। গ্যাংয়ের আরও সদস্যরা হলেন— • ব্যানসন সাকিব • ব্যানসন নাদিম • ব্যানসন নাফিজ • আহম্মেদ ইউনুস • আহম্মেদ ইউসুফ • জয়ান ব্রো (বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত)
সন্দেহভাজন ইউনুসের মোবাইল নম্বর ০১৯২৭-৮৩৪১৯৪, যা ট্র্যাক করলে গ্যাং সদস্যদের অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
এছাড়াও, এ ঘটনার নেপথ্যে সহায়তাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ফাতেমা তাহসিন ঐশী, যিনি অভিযুক্ত পিয়াসের প্রেমিকা। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ স্কলার্সের বিবিএ বিভাগের ৩য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
একটি জীবন শেষ হয়ে গেল, একটি হাসির প্রতিধ্বনি থেমে গেল শুধুমাত্র একপেশে ধ্যানধারণা, ভুল বোঝাবুঝি এবং প্রতিহিংসার বলি হয়ে।
শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। নবাব পারভেজের মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আজ শোকে মুহ্যমান। (সামগ্রিক তথ্য সহায়তায় PUSAB)
প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নবাব পারভেজকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রতিবাদে আজ রোববার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পাস চত্বরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন শুভ বলেন, “যারা পারভেজ হত্যায় জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে আমরা ঢাকা জজ কোর্ট ও হাইকোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই করবো।”
আরেক শিক্ষার্থী নাঈম আহমেদ খান বলেন, “মব করে একজন শিক্ষার্থীকে হত্যা কোনোভাবেই বৈধতা পেতে পারে না। এই হত্যাকাণ্ডের দায় সরকারকে নিতে হবে এবং সঠিক তদন্ত সুনিশ্চিত করতে হবে।”
সমাবেশ চলাকালে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
এসময় বক্তারা দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান এবং ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিক্ষোভ মিছিলবক্তব্য রাখছেন ইস্ট ওয়েস্ট এর ছাত্রনেতা সালাহউদ্দিন শুভ
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকায় কাজী পরিবহনের স্টাফ ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় IUBAT-এর অন্তত ছয়জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করে প্রশাসনকে আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সামি সওদাগর, লিটন ইসলাম, আলিশান রহমান, আহাদ, টিয়ন এবং আসাদুজ্জামান শিকদার। তারা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বাস ভাড়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কাজী পরিবহনের স্টাফরা প্রথমে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সহায়তায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চালানো হয় পরিকল্পিত হামলা।
ঘটনার পর IUBAT-এর সাধারণ শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন:
১. ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টার মধ্যে হামলায় জড়িত সকল স্টাফ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে। ২. কাজী পরিবহন এবং উত্তরা পরিবহনের মালিককে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে প্রকাশ্যে জবাবদিহি করতে হবে। ৩. আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহন করতে হবে পরিবহন কর্তৃপক্ষকে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে যদি প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামীকাল সকাল ৯:১৫ মিনিটে IUBAT-এর মূল ফটকে সমবেত হয়ে ‘বিএনএস সেন্টার অবরোধ’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
একজন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী বলেন, “এই হামলা কেবল IUBAT-এর শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, এটি পুরো দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা। রাজপথে আমাদের জীবন ঝুঁকিতে থাকবে এটা আমরা আর মেনে নেবো না।”
ঘটনার পরেও এখনো কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজধানীর রাজপথে আবারও শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরালো পরিবহন সেক্টরের বর্বরতা। শনিবার ঢাকার আব্দুল্লাপুর এলাকায় বাস ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় IUBAT-এর ১৫ জন শিক্ষার্থীর ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে কাজী পরিবহন এর বাস স্টাফরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের বরাতে জানা গেছে, বাস ভাড়ার ব্যাপারে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে কাজী পরিবহনের কর্মীরা। পরে বিষয়টির সুরাহা চেয়ে শিক্ষার্থীরা কাউন্টারে গেলে সেখানে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বাস স্টাফরা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সহায়তায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনায় IUBAT-এর অন্তত শিকদার আসাদুজ্জামান সহ ৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত আরও অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর খোঁজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজী পরিবহনের সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি, যতক্ষণ না ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাজী পরিবহনের বাস রাজপথে চলতে দেয়া হবে না।
এ বিষয়ে IUBAT-এর এক শিক্ষার্থী বলেন, “এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিনিয়ত ঢাকার রাজপথে বাস স্টাফদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা। আজ আমরা মুখ তুলে দাঁড়িয়েছি, কারণ এবার আমাদের সহপাঠীদের রক্ত ঝরেছে।”
শিক্ষার্থীরা জানান, দ্রুত বিচার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ না এলে, তাঁরা ঢাকার প্রবেশদ্বার আব্দুল্লাপুর রুট সম্পূর্ণভাবে অবরোধ করার ঘোষণাও দিতে পারেন।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীরা এখন ন্যায়বিচার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে একতাবদ্ধ।
১২ এপ্রিল ঢাকা শহর সাক্ষী হলো এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী দীর্ঘ পদযাত্রা শেষে পৌঁছেছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, ‘মার্চ ফর গাজা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে অংশ নিতে।
পদযাত্রার সূচনা হয় দুপুর ১২টায়, আফতাবনগরের গেট থেকে। ব্যানার, ফেস্টুন ও ফিলিস্তিনি ১০০ ফুট পতাকা হাতে শিক্ষার্থীরা গাজায় চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তোলেন রাজধানীর রাজপথ। পুরো রুট জুড়েই ঢাকাবাসী এই পদযাত্রাকে স্বাগত জানায় সংহতির ভাষায়।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছে সমবেত ছাত্ররা ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’ ইত্যাদি আন্তর্জাতিক স্লোগানের পাশাপাশি বাংলায় দেন হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া আহ্বান “আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”, “রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়।”
আয়োজকেরা জানান, “এটি কোনো একক সংগঠনের উদ্যোগ নয়। দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা গাজাবাসীদের পক্ষে সংহতি জানাতে একত্রিত হয়ে আজকের এই ঐতিহাসিক পদযাত্রা সফল করেছেন। যারা সামনে থেকে কিংবা পেছন থেকে সহযোগিতা করেছেন, সবাইকে জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা।”
সমাবেশে বক্তারা ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
এটাই প্রমাণ করে ,বাংলাদেশের তরুণরা শুধুই পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ নয়, তারা জেগে উঠলে ন্যায়ের জন্য রাস্তায় নামতেও জানে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্যতম প্রতীকী উপস্থাপন ‘স্বৈরাচারের প্রতিকৃতি’ আবারও নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চারুকলা প্রাঙ্গণে শনিবার (১২ এপ্রিল) রাতে প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান জানান, প্রতিকৃতি নির্মাণের দায়িত্ব শিল্পীদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা একটি জাতীয় দায়িত্ব পালন করছি। ষড়যন্ত্র আসবে—তবু মানুষের পরিশ্রম আর আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমরা এগিয়ে যাবো, শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে। এ কাজে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
চারুকলায় ইতোমধ্যে প্রতিকৃতিটি গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে গেছে। দ্রুততম সময়ে কাঙ্ক্ষিত মোটিফটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিল্পীরা দিনরাত কাজ করে চলেছেন। ককশিটসহ বিকল্প উপকরণ দিয়ে এটি নির্মাণের নানা দিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, “এক মাস ধরে যে কাজ তৈরি হচ্ছিল, তা একদিনে পুনর্নির্মাণ করা কঠিন। কিন্তু শিল্পীরা নিরন্তর পরিকল্পনা করছেন। বিষয়টি তাদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ তারাই জানেন কোন পথটি সঠিক।”
রাত সাড়ে ৯টার দিকে শোভাযাত্রার অগ্রগতি দেখতে চারুকলা প্রাঙ্গণে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, “যারা এই আয়োজনে যুক্ত, তাদের সবাইকে স্যালুট জানাই। আগুনে প্রতিকৃতি ধ্বংসের মাধ্যমে শিল্পীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা হলেও আমি এসে দেখেছি, তাদের স্পিরিট দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আশা করি, এবার দেশবাসী এক অসাধারণ শোভাযাত্রা দেখতে পাবে।”
প্রসঙ্গত, ১৪২৯ বঙ্গাব্দের নববর্ষকে সামনে রেখে তৈরি করা ‘ফ্যাসিস্টের প্রতিকৃতি’টি গত সপ্তাহে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং শোভাযাত্রার ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে চারুকলার শিল্পীরা নতুন উদ্যমে প্রতিকৃতিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
একমাত্র শিল্প আর সাংস্কৃতিক প্রতিরোধই পারে সমাজে অন্ধকারের মুখে আলো জ্বালাতে—এমন বার্তাই যেন এবার চারুকলার শোভাযাত্রা বহন করে চলেছে।
বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার্স অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ (অ্যাকব)-এর সহায়তায় ব্যাংকগুলোর প্রধান পরিপালন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি দিনব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামের হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অর্থ পাচার রোধ, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও আর্থিক খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সভাপতিত্ব করেন বিএফআইইউর প্রধান কর্মকর্তা এ জেড এম শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন এবং অ্যাকবের চেয়ারম্যান মাহাদ জিয়াউল হাসান কাওলা।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “অর্থ পাচার রোধ এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে অ্যান্টি-টাস্কফোর্স গঠন করে বিএফআইইউ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, যা অর্থ পাচারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। তবে মুদ্রানীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ে কিছু অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব।
বিএফআইইউ প্রধান শহীদুল ইসলাম ব্যাংকিং খাতের অনিয়ন্ত্রিত ঋণপ্রবাহ, খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতি এবং করপোরেট সুশাসনের অভাবকে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে ইতোমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।”
অ্যাকবের চেয়ারম্যান মাহাদ জিয়াউল হক AML/CFT (অ্যান্টি মানি লন্ডারিং/কাউন্টার টেররিজম ফাইনান্সিং) কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। সেলিম আর এফ হোসেন ঝুঁকিভিত্তিক মনিটরিং জোরদার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের ঘাটতি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।
সম্মেলনে ৬০টি তফসিলি ব্যাংকের AML/CFT দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ও উপ-প্রধান কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, মানি লন্ডারিংয়ের নতুন ধারা, এবং তা প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে পৃথক অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আবারও উঠে আসে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অংকের অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিকস-এর নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (NDB)। সাংহাইভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের জন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ তহবিল অনুমোদনের পথে রয়েছে।
সম্প্রতি নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির কাজবেকভের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই আলোচনা সম্পন্ন করেছেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস। বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে বিশেষত গ্যাস খাতের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সবুজ জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দিকগুলোতে বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এর আগে গত ২৬ মার্চ চীন সফরের সময় ড. ইউনুস মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণ প্রকল্পে চীনের কাছ থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশে ফেরেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ এমন এক সময়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার দ্বারস্থ হচ্ছে, যখন বৈদেশিক ঋণ প্রবাহ ও বৈশ্বিক মন্দার চাপ একসাথে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এই সহায়তা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।