Tuesday, April 14, 2026
হোমআন্তর্জাতিকমধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব: দুবাইয়ের আবাসন বাজারে ধীরগতি, দামে পতনের আভাস

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব: দুবাইয়ের আবাসন বাজারে ধীরগতি, দামে পতনের আভাস

ডেস্ক রিপোর্ট:
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। টানা তিন সপ্তাহ পেরিয়ে চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের আবাসন খাতে। বাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সম্পত্তির দামে পতনের ইঙ্গিত মিলছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি মার্চের প্রথম ১২ দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবাসন খাতে লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। একইভাবে ফেব্রুয়ারির একই সময়ের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৪৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এতদিন করমুক্ত নীতি ও স্থিতিশীল পরিবেশের কারণে ধনী বিনিয়োগকারীদের কাছে দুবাই ছিল অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু সম্পত্তি মালিক দ্রুত বিক্রির জন্য মূল্য কমাতে শুরু করেছেন। বাজার সূত্রে জানা গেছে, কোথাও কোথাও সম্পত্তির দাম ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বুর্জ খলিফার কাছাকাছি একটি সম্পত্তি আগে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে বিক্রির প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে পাম জুমেইরাহ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট প্রায় ১৫ শতাংশ কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির পর দুবাইয়ের আবাসন বাজারে সংশোধনের সম্ভাবনা আগেই তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সংঘাত সেই ঝুঁকিকে আরও তীব্র করেছে। একই সঙ্গে আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা ইমার প্রোপার্টিজের শেয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যা আবাসন চাহিদাকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করতে পারে। তাঁদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রায় ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত তা ২ থেকে আড়াই শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এর ফলে আগামী দুই বছরে গড়ে সম্পত্তির দাম প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।


তবে বাজারে সম্পূর্ণ স্থবিরতা নেমে আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রিয়েল এস্টেট খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, লেনদেন কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন এবং তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
সম্প্রতি পাম জুমেইরাহ এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে একটি বিলাসবহুল সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা উচ্চমূল্যের আবাসনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বিদ্যমান থাকার ইঙ্গিত দেয়।
সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দুবাইয়ের আবাসন বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও বাজার সম্পূর্ণ স্থবির হয়নি। বরং একদিকে ঝুঁকি বাড়লেও অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত