Sunday, June 21, 2026
হোমবাংলাদেশগাইবান্ধায় যুবদল নেতা কর্তৃক ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতিকে হত্যা

গাইবান্ধায় যুবদল নেতা কর্তৃক ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতিকে হত্যা

 

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নামে এক ছাত্রশিবির নেতাকে যুবদল নেতা কর্তৃক হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)।

রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে। তিনি রংপুরের একটি কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। রোববার বিকেলে বোনারপাড়া বাজারে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশের সঙ্গে সাইফুল্লাহ বারীর পক্ষের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন ধাওয়া দিয়ে সাইফুল্লাহ বারী ও তার বন্ধু সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় সাইফুল্লাহ বারীর গলায় ধারালো ও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই ঘটনায় আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নিহতের বন্ধু মোবাশ্বের অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে এসে সাইফুল্লাহ বারীকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এদিকে অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ সম্পর্কে জানা গেছে, তারা বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং আপন দুই ভাই।

মুকুল একসময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত