সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বলেন, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মনে করেন না।
এরই প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ ড. কামরুল হাসান মামুনের কথার স্বপক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছেন, আবার কেউ করছেন প্রতিবাদ।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম নিজের ফেসবুক আইডিতে নর্থসাউথ এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির গবেষণা খাতে অবদানের কথা উল্লেখ করে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেন।
পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
ড. কামরুল হাসান মামুনের বিভাজনমূলক বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান: প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অবদানকে খাটো করার প্রতিবাদ
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মনে না করার বিষয়ে একটি বক্তব্য প্রদান করেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়। তার এ ধরনের মন্তব্যের প্রতি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ ধরনের মন্তব্য দেশের লাখো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদানকে খাটো করে এবং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা কেবল তার মালিকানা কাঠামোর ভিত্তিতে নয়; বরং শিক্ষা, গবেষণা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমাজে ইতিবাচক অবদানের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
বাস্তবতা হলো দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খাত দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই নিজস্ব সীমাবদ্ধতার মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ অবস্থার মধ্যেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র প্রকাশ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং বহুমাত্রিক শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এছাড়া, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েবমেট্রিক্সের ২০২৬ সালের র্যাঙ্কিংয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অবস্থান ১৬৩৫তম (দেশে তৃতীয়) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান ১৭২৭তম (দেশে চতুর্থ), যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৯৯৫ এবং দেশে অষ্টম।
সুতরাং উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবিলম্বে ড. কামরুল হাসান মামুনকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে বিভাজনমূলক মন্তব্য পরিহারের আহ্বান জানাচ্ছি এবং শিক্ষা -সংশ্লিষ্ট সকলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক বক্তব্য প্রত্যাশা করছি।
প্রসঙ্গত, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ‘ঢাবি কোচিং সেন্টার’ শীর্ষক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এমন কথা বলেছেন ড. কামরুল হাসান মামুন।
