এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন।
১০ই এপ্রিল, ২০২৬ শুক্রবার
রাজধানীর সেচ ভবনে ঢাকা ফিলাটেলিক ক্লাবের ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ফিলাটেলিক মেলা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও আগত সংগ্রাহক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, ফিলাটেলি বা ডাকটিকিট সংগ্রহের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সংগ্রাহকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলার উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উদ্বোধনী পর্বে ফিলাটেলির ইতিহাস, গুরুত্ব এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর সম্ভাবনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলায় নতুন ও পুরোনো ডাকটিকিটের সমৃদ্ধ সংগ্রহ ছিল প্রধান আকর্ষণ। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের বিরল ডাকটিকিট সংগ্রাহকেরা প্রদর্শন করেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কাগুজে টাকা ও মুদ্রা, পুরোনো ও স্মারক ব্যাজ, অ্যানালগ ক্যামেরা, পদক, প্রাচীন মুদ্রা এবং ঐতিহাসিক পত্রিকার সংগ্রহ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। কিছু স্টলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ ডাকটিকিট ও স্মারক সামগ্রীর সংগ্রহও প্রদর্শিত হয়, যা দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ সৃষ্টি করে।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা এসব সংগ্রহ ঘুরে দেখার পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয়েও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই নিজের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করতে বিরল ডাকটিকিট ও পুরোনো মুদ্রা কিনতে আগ্রহ দেখান। বিক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম ও আলোচনা মেলাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

রাজধানীর বাইরে থেকেও বহু সংগ্রাহক মেলায় অংশ নেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন সংগ্রাহকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যেখানে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন সংগ্রহ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়। বিদেশি সংগ্রাহকদের উপস্থিতিও মেলায় আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে।

মেলায় অংশ নেওয়া একাধিক সংগ্রাহক জানান, ফিলাটেলি শুধু শখ নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডাকটিকিট ও মুদ্রার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়। তাই এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসচর্চায় আগ্রহী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের ফিলাটেলিক মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
মেলা শেষে অংশগ্রহণকারী সংগ্রাহক ও দর্শনার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে আয়োজনের দাবি জানান। তাঁদের আশা, এমন উদ্যোগ দেশের সংগ্রহশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
