নিসচার উদ্যোগে পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে শীতের উপহার প্রদান
আইপিএলের সংবাদ প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে THE CAMPUS MIRROR
বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পেস বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে THE CAMPUS MIRROR এ সিদ্ধান্ত নেয়।কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এই নির্দেশের পরই কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর THE CAMPUS MIRROR আইপিএলের সমস্ত সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।বিসিসিআইয়ের অনুরোধেই মোস্তাফিজকে আইপিএলে খেলার ছাড়পত্র দিয়েছিল বিসিবি।নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য আট দিন বাদে আইপিএলে বাকি সময়ের জন্য মোস্তাফিজকে খেলার ছাড়পত্র দিয়েছিল বিসিবি। সেটি জেনেই গত মাসে অনুষ্ঠিত নিলামে মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের শুরুতেই এই ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মোস্তাফিজের। কিন্তু হুট করেই এল এমন খবর। তবে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বলার সিদ্ধান্তের কথা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবিকে জানায়নি বিসিসিআই। আইপিএলে মোস্তাফিজের খেলার ছাড়পত্র (এনওসি) দিতে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকেই অনুরোধ এসেছিল জানিয়ে বিসিবির একজন কর্মকর্তা মিডিয়াকে বলেছেন, ‘খবরটা দেখেছি। কিন্তু এখনো তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। জানানোর পর আমরা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারব।’ বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, বিসিসিআই আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবিকে জানালেও খুব বেশি কিছু করার থাকবে না। বিসিবি বড়জোর অনুরোধ করতে পারে বিসিসিআইয়ের কাছে। কিন্তু আইপিএলে কে খেলবে, তা ঠিক করবে বিসিসিআই ও ভারত সরকারই। কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে মোস্তাফিজের চুক্তি নিয়ে দেশটির ধর্মীয় আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর এর আগে এএনআইকে বলেছেন, ‘কেকেআরের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের ওই ক্রিকেটারকে (মোস্তাফিজুর রহমান) দল থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত।’ মোস্তাফিজকে কেনায় কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক এবং বলিউড কিংবদন্তি শাহরুখ খানকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সঙ্গীত সোম। এসবের প্রতিক্রিয়াতেই এ সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই। গত মাসে অনুষ্ঠিত আইপিএলের নিলামে মোট সাতজন ক্রিকেটার নাম দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একমাত্র মোস্তাফিজই দল পান। ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ার রেকর্ডটি এবারই গড়েছিলেন মোস্তাফিজ।
শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি
সাদী মোহাম্মদ সাদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টনের প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বিএনপি। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দলটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে শরিক দলের কয়েকজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলীয় সূত্র বলছে, বাকি আসনগুলোর বিষয়েও খুব শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আসন সমঝোতার বিষয়টি ধাপে ধাপে সামনে আনা হবে।

এই সমঝোতার আওতায় প্রথম দফায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না বলে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। এমনকি দলীয় কেউ এসব আসনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মির্জা ফখরুল।
ঘোষিত চার আসনে জমিয়তের প্রার্থীরা হলেন— সিলেট–৫ আসনে দলটির সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী–১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। তাঁরা সবাই খেজুরগাছ প্রতীকে ভোটের মাঠে নামবেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়েই তারা এই সমঝোতায় এসেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, জোটগত নির্বাচনে নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতার কারণে শরিকদের জন্য আসন ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপিকে হিসেবি হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির ভেতরেও মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা এবার তুলনামূলক বেশি।
২০১৪ ও ২০২৪ সালে নির্বাচন বর্জন এবং ২০১৮ সালে সীমিত অংশগ্রহণের কারণে দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এবার প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রবল। পাশাপাশি গত দেড় দশকে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার অনেক নেতাও নির্বাচনে আসতে চাইছেন। এই বাস্তবতায় শরিকদের জন্য আসন ছাড় দিতে গিয়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, যেসব আসনে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হবে, সেখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না এবং শরিক দলগুলোও নির্ধারিত আসনের বাইরে প্রার্থী দেবে না—এই শর্তেই বোঝাপড়া হচ্ছে। তবে শরিক দলের নেতাদের বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করাকে দলটি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শাদাহাৎ হোসেন সেলিম নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁকে লক্ষ্মীপুর–১ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও দলটি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
এ পর্যন্ত বিএনপি দুই দফায় ২৭২টি আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। অবশিষ্ট ২৮টি আসন শরিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। দলীয় সূত্র বলছে, এর মধ্যে আরও প্রায় ১০টি আসনে সমঝোতা অনেকটাই এগিয়েছে।
নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও জাসদের জন্য একটি করে আসনের বিষয়েও আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এবং এনপিপির নেতাদের ক্ষেত্রেও আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা–১৭ আসনে আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ঢাকা–১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের ভূমিকা নিয়েও বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছে।
লিবিয়ার সেনাপ্রধান তুরস্কের রাজধানীর কাছে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত
লিবিয়ার সেনাপ্রধান মুহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আরও চারজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এবং তিনজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার (গতকাল) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা এক বিবৃতিতে সেনাপ্রধানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দুর্ঘটনাটিকে ‘বিপর্যয়কর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আঙ্কারায় একটি সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার পথে তাদের বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিবৃতিতে দবেইবা বলেন,
“এই মহাবিপর্যয় দেশ, সেনাবাহিনী ও জনগণের জন্য এক বিশাল ক্ষতি। আমরা এমন সব মানুষকে হারিয়েছি, যাঁরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন এবং দায়িত্ববোধ ও জাতীয় অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।”
নিহত অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন— স্থলবাহিনীর প্রধান আল-ফিতুরি ঘারিবিল, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাওয়ি, সেনাপ্রধানের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাওই দিয়াব এবং সামরিক চিত্রগ্রাহক মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।
প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে দুর্ঘটনার ইঙ্গিত
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান জানান, দুর্ঘটনার আগে বিমানটি বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া জানান, ফ্যালকন ৫০ মডেলের প্রাইভেট জেটটি আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে ত্রিপোলির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে আঙ্কারা থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দূরে হায়মানা জেলার কেসিককাভাক গ্রামের দক্ষিণে এর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
তুরস্কের এক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আঙ্কারার প্রধান প্রসিকিউটর অফিস তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের আইনমন্ত্রী ইলমাজ তুনচ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন এর একদিন আগে তুরস্কের পার্লামেন্ট লিবিয়ায় অবস্থানরত তুর্কি সেনাদের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদ দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ার সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং পশ্চিম লিবিয়ায় তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০১৪ সাল থেকে লিবিয়ায় সমান্তরাল দুটি সরকার কার্যকর রয়েছে। ত্রিপোলিভিত্তিক দবেইবা সরকারকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এ সরকারের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সাল থেকে তুরস্ক লিবিয়ায় প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সফরে আল-হাদ্দাদের সঙ্গে আঙ্কারায় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ছাত্রদল প্যানেলকে ভোট দিলে পরীক্ষায় ১০ নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার কথা বললেন শিক্ষক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলকে ভোট দিলে পরীক্ষায় অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার সময় পরীক্ষাকক্ষেই তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার হলে শিক্ষক ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের পক্ষে ভোট চান এবং ভোট দিলে পরীক্ষার খাতায় ১০ নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস মিররকে জানান, “পরীক্ষা চলাকালীন স্যার আমাদের বলেন, ছাত্রদলের প্যানেলে ভোট দিলে নাম্বার বাড়িয়ে দেবেন। এটি প্রথম ঘটনা নয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জন্য ভোট চেয়েছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক ক্যাম্পাস মিররকে বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ধরনের কাজ করার প্রশ্নই আসে না।”
এ বিষয়ে জাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা হাসান বলেন, “যদি কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকে, তাহলে তা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানারাত ইউনিভার্সিটিতে ‘অ্যালায়েন্স অব ইউনিভার্সিটিজ ইন আশুলিয়া’-এর উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত
নিবন্ধন পেয়েছে অনশনে বসা তারেকের আমজনতার দল
অনলাইন প্রতিবেদক: তফসিল ঘোষণার দশদিন পরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে নিবন্ধন পেয়েছে নিবন্ধনের দাবিতে অনশনে বসা মোঃ তারেক রহমানের আমজনতার দল। দলীয় প্রতীক হিসেবে প্রজাপতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিবন্ধন সংক্রান্ত দাবি আপত্তি নিষ্পত্তি করার পর আমজনতার দলকে চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে বলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক সোমবার জানান।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নিবন্ধন সনদ রোববার আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানকে হস্তান্তর করে ইসি।
রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন না পেয়ে গত ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ফটকের সামনে অনশনে বসেছিলেন তারেক।
প্রায় ১৩৪ ঘণ্টা অনশনের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের অনুরোধে ৯ নভেম্বর অনশনের ইতি টানেন তিনি।
১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিলের দশ দিন পর আমজনতার দলকে নিবন্ধন দেওয়া হল।
নির্বাচন সামনে রেখে এবার চারটি দলকে নিবন্ধন দিল এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে ‘শাপলা কলি’, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলকে (মার্কসবাদী) ‘কাঁচি’, আমজনতার দলকে ‘প্রজাপতি’ এবং জনতার দলকে ‘কলম’ প্রতীকে নিবন্ধন দেওয়া হল।
এ নিয়ে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৭টিতে। এছাড়া আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।
২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬১টি নিবন্ধন পেয়েছে। পরে বিভিন্ন সময়ে ফ্রিডম পার্টি, ঐকবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন ও পিডিপির নিবন্ধন বাতিল হয়।

শিক্ষা ক্যাডারে গণবদলি: নীতিমালা উপেক্ষা, সিন্ডিকেট অভিযোগ ও নির্বাচনকালীন প্রশ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ৫০০ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বড় গণবদলি হিসেবে দেখা হচ্ছে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা, প্রশাসনিক মহল ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ, প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ মাত্র চার থেকে নয় মাস আগে বর্তমান কর্মস্থলে যোগ দিয়েছিলেন। অথচ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বদলি নীতিমালার ৪.৩ (খ) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—
“একই কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে অন্যত্র বদলির জন্য আবেদন করা যাবে না।”
তবে সেই নীতিমালাকে উপেক্ষা করেই নির্বাচনকালীন সময়ের শুরুতে এই গণবদলি কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নির্বাচনকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, তফসিল ঘোষণার পরপরই এ ধরনের বড় পরিসরের বদলি নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক থেকে দুই মাস আগেই নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দপ্তর থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের উপযোগী কর্মকর্তাদের তালিকা সংগ্রহ করেছে এবং অনেক শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তফসিল ঘোষণার পর এমন বদলি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডারের বদলির ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে সেগুলোতে সময়মতো স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার রাতে জমা থাকা ফাইলগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (কলেজ–১) খোদেজা খাতুন ক্যাম্পাস মিররকে বলেন,
“শিক্ষা ক্যাডারদের বদলির ফাইলে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন আমাদের সচিব মহোদয়। সিন্ডিকেট বা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই। আমি এই ধরনের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই।”.jpg)
বদলি সিন্ডিকেটের অভিযোগ
তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একটি প্রভাবশালী বদলি সিন্ডিকেটের অভিযোগ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ডিআইএ–এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে—এমন আলোচনা রয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, গণবদলির পর অনেক কর্মকর্তা এই সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করে তাদের বদলি আদেশ সংশোধন করিয়েছেন। এর প্রমাণ হিসেবে বদলি আদেশ জারির ১০ দিনের মাথায় পাঁচটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে সংশোধনী আনার বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশোধনীতে ঢাকার বাইরে বদলি হওয়া একাধিক কর্মকর্তাকে আবার ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা ক্যাম্পাস মিররকে বলেন,
“শিক্ষা উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার সুপারিশ ছাড়া ভালো পদায়ন হয় না। এই সিন্ডিকেটের কারণে অনেক কর্মকর্তা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিয়ম সবাই জানে, কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নেয় না।”
বারবার বদলিতে চরম ভোগান্তি
এই গণবদলির ফলে অনেক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। কেউ নতুন বাসা ভাড়া নিয়েছেন, কেউ সন্তানদের নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন—এর মধ্যেই আবার নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ পেয়েছেন তারা।
একজন কর্মকর্তা বলেন,
“চার মাস আগে ঢাকায় বদলি হয়ে এসেছি। সংসার গুছিয়ে ওঠার আগেই আবার বদলি। পরিবার নিয়ে কীভাবে নতুন করে শুরু করব বুঝতে পারছি না।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অস্থির বদলি শুধু কর্মকর্তাদের জীবনেই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একজন কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব বুঝে ওঠার আগেই বদলি হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে।
প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, অনিশ্চিত জবাব
নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কথা থাকলেও শিক্ষা ক্যাডারে এই গণবদলি পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারের কৌশলও হতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আববার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রাণ দিতে হয়েছে হাদিকে : প্রফেসর ড. আবদুর রব
সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত শাহাদাত বরণকারী সেনা সদস্যদের মৃতদেহ দেশে পৌঁছালো।
- আগামীকাল ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা সেনানিবাসস্থ কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠান শেষে তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় হেলিকপ্টার যোগে প্রেরণ পূর্বক যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। উল্লেখ্য, উক্ত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় ৬ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হওয়ার পাশাপাশি ৯ জন শান্তিরক্ষী আহত হন, যাদের মধ্যে ৮ জন কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল (লেভেল–৩ হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে সকলেই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
