সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে কুরআন বিতরণ কর্মসূচিতে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা
ধ্রুপদী ঔপন্যাসিক ফয়েজ তৌহিদুল ইসলামের সাম্প্রতিক সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা
সেচ ভবনে ফিলাটেলিক মেলা অনুষ্ঠিত!
রাজধানীর বাইরে থেকেও বহু সংগ্রাহক মেলায় অংশ নেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন সংগ্রাহকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যেখানে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন সংগ্রহ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়। বিদেশি সংগ্রাহকদের উপস্থিতিও মেলায় আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে।
মেলায় অংশ নেওয়া একাধিক সংগ্রাহক জানান, ফিলাটেলি শুধু শখ নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডাকটিকিট ও মুদ্রার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়। তাই এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসচর্চায় আগ্রহী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের ফিলাটেলিক মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
মেলা শেষে অংশগ্রহণকারী সংগ্রাহক ও দর্শনার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে আয়োজনের দাবি জানান। তাঁদের আশা, এমন উদ্যোগ দেশের সংগ্রহশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
৮ এপ্রিল: বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস “নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার”
বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস ২০২৬: নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়াও
বিবি সাওদা আটক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়
ভোলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব এ নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে ভোলা পৌরসভার জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি আবু সাদিক সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গ্রেপ্তার “ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি”। তিনি অভিযোগ করেন, তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের মাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নেওয়া অমানবিক এবং ভিন্নমত দমনের ইঙ্গিত বহন করে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির মন্তব্য করেন, একটি লেখার কারণেই ক্ষমতাসীনদের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের শাসনের পথ অনুসরণ করছে কি না, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। তিনি গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দেশের যেকোনো নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং এ ধরনের গ্রেপ্তার সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করে। তিনি বিবি সাওদার মুক্তি দাবি করেন এবং গ্রেপ্তারের পেছনের নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার-ও তার পোস্টে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
পুলিশের বক্তব্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার উপপরিদর্শক জুয়েল হোসেন খানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডি থেকে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে এবং কারিগরি সমস্যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বিশ্লেষণ সম্ভব হয়নি। তাকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া ঘটনার পর দলটির পক্ষ থেকে নিন্দা ও উদ্বেগ জানানো হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এক বিবৃতিতে বলেন, রাতের বেলা বাসা থেকে একজন নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করা অগ্রহণযোগ্য। তিনি অবিলম্বে বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
কবির পাশে সমাহিত কবিতা
আমি চির-বিদ্রোহী-বীর- আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এই কালজয়ী পঙক্তিগুলো যখন আমরা পড়ি, তখন আমাদের চোখের সামনে এক অদম্য তেজস্বী তরুণের অবয়ব ফুটে ওঠে। শত বছর আগে নজরুল যে ‘উন্নত শির’-এর কথা বলে গেছেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে সেই শির বা মস্তকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ছিলেন শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই আমাদের সামনে হাজির হননি বরং তিনি হাজির ছিলেন যুগের এক প্রতিনিধি, এক দ্রোহের নাম হিসেবে। নজরুল জীবদ্দশায় কলম ধরেছিলেন ব্রিটিশ শৃঙ্খলে পরাধীন এক জাতির মুক্তির জন্য, কবির সেই লাইনগুলোকে ধারণ করে ওসমান হাদি দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং কালচারাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে।
“আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির” এই পঙক্তির জীবন্তরূপ ওসমান হাদি দেখিয়ে গিয়েছেন।
জুলাই বিপ্লবের পর যখন সুবিধাবাদীরা ক্ষমতার রস আস্বাদন করতে করতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছিল তখন সেই সুবিধাবাদীদের ভিড়ের বাহিরে তিনি একাই দাঁড়িয়ে বেছে নিয়েছিলেন বিপদের রাস্তা। যেখানে আপস ছিল সহজ, সেখানে তিনি প্রতিবাদকে বেছে নিয়েছিলেন। ওসমান হাদি প্রতিকূলে দাড়িয়েই উচ্চারণ করেন-
“জান দিব, কিন্তু জুলাই দেব না”।
নজরুল ব্রিটিশ উপনিবেশের পরাধীন মুসলিমজাতির শৃঙ্খল ভাঙতে কলম ধরেছিলেন, আর ওসমান হাদি স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর ফ্যাসিবাদকে উপড়ে ফেলতে রাজপথ বেছে নিয়েছিলেন। যেন নজরুলেরই এক জীবন্তরূপ। হাদির রাজনীতিতে ছিল তাত্ত্বিক প্রজ্ঞা আর মাঠের লড়াইয়ের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। জীবনের অর্জিত জ্ঞানকে তিনি ড্রয়িংরুমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মাঝে। ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মাধ্যমে তিনি যে জাগরণ তৈরি করেছিলেন, তা ছিল মূলত নজরুলের সেই ‘চির-বিদ্রোহী’ সত্তার আমাদের সময়ের সংস্করণ।
ওসমান হাদির রাজনৈতিক দর্শনের মূলে ছিল ইনসাফ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব। তিনি কেবল রাজপথের কর্মী ছিলেন না, বরং তাত্ত্বিকভাবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রখর। তিনি তার এই প্রজ্ঞার প্রখরতা ও দূরদর্শী দৃষ্টি থেকে বুঝতে পেরেছিলেন ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতা বা তাৎক্ষণিক আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পরাজিত করা যাবে না বরং এর জন্য লাগবে আদর্শিক ও কালচারাল বিজয়। এই ভাবনা থেকেই গড়ে তুলেছিলেন “ইনক্বিলাব কালচারাল সেন্টার”। যার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিরোধের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের জন্য শাহবাগের কালচারাল ফ্যাসিজম এর বিরুদ্ধে একটি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্রন্ট তৈরি করা,যা দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক হেজিমনি বা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করবে। এছাড়াও সমাজের বৃহৎ সামাজিক মনস্তত্ত্বে ভারতীয় আধিপত্যের যে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে আছে সেটাকে দূর করবে। ওসমান হাদি বিশ্বাস করতেন, “জুলাই বিপ্লব” আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ আমানত। এই বিপ্লব যদি ব্যার্থ হয় তাহলে বাংলাদেশের ভাগ্য দীর্ঘমেয়াদী অন্ধকারের কবলে পড়বে। তাঁর একাধিক বক্তব্যেও তিনি এই কথা বারবার উচ্চারণ করতেন এবং সত্যিই এই আমানত রক্ষার জন্য ওসমান জীবনকে বিলিয়ে দিতে পিছপা হননি। আমাদের দেশে রাজনীতিকদের কথার খই ফোটাতে কার্পণ্য করেন না কোনদিনও, কিন্তু যখন আদর্শের জন্য নিজের জীবন বাজী রাখার কথা আসে তখন হ্যারিকেন দিয়েও তাদের খুজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ওসমান হাদি তো ছিল সত্যিকারের বীর। ওসমান হাদি সেই বিরল মানুষদের একজন যে নিজের আদর্শ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের লড়াই এর জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে যখন গুলিবিদ্ধ হলেন, তখন ওসমান হাদী কেবল একজন এমপি প্রার্থী হিসেবে ভোট চাইছিলেন না; তিনি চাইছিলেন বিপ্লবের ঝাণ্ডাকে সমুন্নত রাখতে। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার নিথর দেহ যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল, তখন বুঝা গেলো—ওসমান হাদি যা মুখে বলতেন, তা লালন করতেন হৃদয়ে। তিনি জান দিয়েছেন, কিন্তু জুলাইকে আপসের টেবিলে বিকিয়ে দেননি। দ্রোহের কবি কাজী নজরুলকে ধারণ করা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি তার কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে নজরুলের সেই দ্রোহের চেতনাকে নিজের অস্তিত্বে মিশিয়ে নিয়েছিলেন। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জীবন্ত রূপ হিসেবে তিনি আজ শায়িত আছেন তারই আদর্শের রাহবার জাতির দ্রোহের প্রতীক কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি ঠিক পার্শ্বেই। আমাদের শহীদ ওসমানকে স্মরণ করতে তাই আমরা বলতে পারি, কবির পাশে সমাহিত কবির “শ্রেষ্ঠ কবিতা”
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ।
