মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বলায় ডিসি সরওয়ারকে প্রত্যাহার: ছাত্রশিবির সভাপতি

  সাতক্ষীরা, ২২ জুন: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম দাবি করেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দেওয়ার কারণেই সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সরওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একটি সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “সিলেটের ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কী কারণে? তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, মাজারে কোনো মাদক চলবে না। সরকারের পুরো সিন্ডিকেট এই মাদকের সঙ্গে জড়িত। লাখ লাখ কোটি টাকার এই ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করে। সমাজকে তারা স্থিতিশীল থাকতে দেয় না। কারণ, মাদকসেবীরাই তাদের অনুসারীতে পরিণত হয়।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী সম্পৃক্ত রয়েছে এবং সংগঠনটির সাবেক সদস্যদের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। শিবির সমাজে আদর্শবান, সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সরকার ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও ডিলারশিপ ছাত্রশিবির ধ্বংস করে দিচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ হয়েছে, সেখানে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথা বলেছি। এরপর একটি কমিউনিটি আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এখন তারা ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা বা সেবন করতে পারে না; দূরে গিয়ে করতে হয়। এতে তাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান এবং সঞ্চালনা করেন শহর শাখার সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর চায় শিক্ষার্থীরা, ছাত্রদলের বিরোধিতা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। তবে এই দাবির বিরোধিতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য চলাকালীন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং বক্তব্য থামিয়ে সরাসরি ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আস্তে, দূর, আমি মিটিং শুরু করছি। এই ছাত্রদল, তোমরা একটু ডিসিপ্লিনটা মেইনটেন কর। ছাত্রদল, তোমরা একটু মিটিংটা ডিসিপ্লিন কর। তোমরা তো আমার ছাত্রদল, নাকি? তোমাদের গর্ব তো আমি, তো তুমি একটু ডিসিপ্লিন মেইনটেন কর। ​শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শান্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রী যখন ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুরু করেন, ঠিক তখনই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নোবিপ্রবির একাডেমিক ভবন ৩-সহ ৩৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার দাবি তোলেন। দুর্নীতিমুক্তভাবে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে প্রকল্পগুলো সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের দাবিতে তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার প্রদর্শন করেন এবং ‘এক দুই তিন চার, আর্মি হবে ঠিকাদার’ স্লোগান দিতে থাকেন।

​শিক্ষার্থীদের এই দাবির সাথে সাথেই মিলনায়তনে উপস্থিত নোবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এর তীব্র বিরোধিতা করে পাল্টা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। এসময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ‘মবের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশন’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও বাকবিতণ্ডা দ্রুতই ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতাহাতির একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীর সামনেই দাবি উত্থাপনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে অডিটোরিয়ামের ভেতর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী, যার ফলে অনুষ্ঠানস্থলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

​পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং বক্তব্য থামিয়ে সরাসরি ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আস্তে, দূর, আমি মিটিং শুরু করছি। এই ছাত্রদল, তোমরা একটু ডিসিপ্লিনটা মেইনটেন কর। ছাত্রদল, তোমরা একটু মিটিংটা ডিসিপ্লিন কর। তোমরা তো আমার ছাত্রদল, নাকি? তোমাদের গর্ব তো আমি, তো তুমি একটু ডিসিপ্লিন মেইনটেন কর। ​শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শান্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান।

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান মারামারির ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো ঝগড়া বা মারামারি ঘটনা ঘটেনি। আমাদের দাবি স্পষ্ট, আমরা তাদেরকে বলছিলাম তোমাদের যদি কোনো দাবি থাকে সেটা স্মারকলিপি আকারে দাও, একটি সরকারের মন্ত্রীকে যেভাবে দেওয়া উচিত। এরপরও তারা যেভাবে করেছে, আমরা তাদেরকে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করিনি, এটা তাদের গণতান্ত্রিক চর্চা।’

​তিনি বলেন, ‘এখানে কারও গায়ে হাত দেওয়া হয়নি। জাহিদ (দাবি উত্থাপনকারী শিক্ষার্থী) এগিয়ে গিয়ে ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করছিল, আমরা গিয়ে বুঝিয়েছিলাম যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। আমাদের বাধা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে তারা যখন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে ঢুকছিল, তখনই বাধা দিতাম।’

​বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ প্রমুখ।

গোল্ড মেডেল এওয়ার্ডের আয়োজন করেছে ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা

চব্বিশের ছাত্র জনতার বিপ্লবে শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘৩৬ জুলাই মেমোরিয়াল মেরিটোরিয়াস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব শাখা। এই আয়োজনে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাকাডেমিক সম্মাননা প্রদান করা হবে। আয়োজকদের মতে, ‘মেধার স্বীকৃতি, আগামীর নেতৃত্বের প্রস্তুতি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানটি আগামী ২৪ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেল ৪টায় বসুন্ধরা গেটে অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদনের শেষ সময় আগামী ২৬ জুন ২০২৬।

ক্যাটাগরি ও যোগ্যতা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে দুটি ক্যাটাগরিতে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এ-ক্যাটাগরি (Excellence Award) যেসব শিক্ষার্থী ন্যূনতম ৬ সেমিস্টার সম্পন্ন করেছেন এবং সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৪.০০ অর্জন করেছেন, তারা এ-ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। পুরস্কার হিসেবে থাকবে গোল্ড মেডেল ও সম্মাননা ক্রেস্ট।

-ক্যাটাগরি (Merit Recognition Award) যেসব শিক্ষার্থী ন্যূনতম ৩ সেমিস্টার সম্পন্ন করেছেন এবং সিজিপিএ ৩.৭০ বা তার বেশি অর্জন করেছেন, তারা বি-ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে পারবেন। পুরস্কার হিসেবে থাকবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার।

আবেদন শর্তাবলি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব শাখার আওতাধীন উত্তরা, খিলক্ষেত, বসুন্ধরা, বাড্ডা ও হাতিরঝিল এলাকায় অবস্থিত ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা এ সম্মাননার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, মেধার যথার্থ মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের মাঝে অধ্যবসায়, সততা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। এই আয়োজন কেবল একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নকে বড় করে দেখার সুযোগ তৈরি করবে। জুলাই আন্দোলনের বীরদের স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত আবেদনগুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মোবাইল ও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট, স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ছবি এবং ২৫০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি (বিকাশ/নগদ) পরিশোধের তথ্যসহ অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইন আবেদনের লিংক: [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdz28drOZdGYJJ6HV70apYya-HI10L4IR8tpat9rYv_ILw6qQ/viewform?usp=publish-editor]

গাইবান্ধায় যুবদল নেতা কর্তৃক ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতিকে হত্যা

  গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নামে এক ছাত্রশিবির নেতাকে যুবদল নেতা কর্তৃক হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)। রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে। তিনি রংপুরের একটি কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। রোববার বিকেলে বোনারপাড়া বাজারে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশের সঙ্গে সাইফুল্লাহ বারীর পক্ষের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন ধাওয়া দিয়ে সাইফুল্লাহ বারী ও তার বন্ধু সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় সাইফুল্লাহ বারীর গলায় ধারালো ও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই ঘটনায় আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিহতের বন্ধু মোবাশ্বের অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে এসে সাইফুল্লাহ বারীকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এদিকে অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ সম্পর্কে জানা গেছে, তারা বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং আপন দুই ভাই। মুকুল একসময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মানারাত ইউনিভার্সিটিতে জমকালো আয়োজনে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

  জমকালো আয়োজনে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন ২০২৬) আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস মিলনায়তনে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম। সাবেক সচিব ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশবিজ্ঞানী ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। জমকালো এ নবীনবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। রং-বেরঙের বেলুন-ফেস্টুনে সাজানো হয় অনুষ্ঠানস্থল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জীবনে বড় হতে চাইলে তোমাদের বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান ও শ্রদ্ধার পাশাপাশি তাদের দোয়া নিতে হবে। তিনি ছাত্রছাত্রীদের আলোকিত মানুষ হয়ে দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত ১৭ বছর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির নামে জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে দেশকে ভালো রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। গেস্ট অব অনার ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম নবাগত ছাত্রছাত্রীদের জীবনে ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্য সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভয়কে জয় করে কীভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হয়, তা জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদী। পঞ্চাশ বছর পর দেশকে কোথায় দেখতে চাই, সে জন্য আজই আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা গ্রহণের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নেওয়ারও আহ্বান জানান এ সংসদ সদস্য। সভাপতির বক্তব্যে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ সেন্টার অব একাডেমিক অ্যান্ড মোরাল এক্সিলেন্স’ স্লোগান সামনে রেখে জাতিকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা উপহার দেওয়ার যে প্রতিজ্ঞা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, তা বাস্তবায়নে চেষ্টা করে যাচ্ছে। শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন ও সিএসই বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান মো. মাহবুব আলম, স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের ডিন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান ড. আবু আইয়ুব মো. ইব্রাহিম প্রমুখ। রেজিস্ট্রার এ. এইচ. এম. আবু সাঈদের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার মো. মনিরুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের সহধর্মিণী ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের সেকেন্ড ভাইস গভর্নর সাবিনা সিদ্দিকা। এ ছাড়া নবাগত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের হাসান জিহাদী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মিফতাহুল ইসলাম সাবিত, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের আবদুল্লাহ তাহসিন, ইইই বিভাগের আবদুল্লাহ রুহান, ইংরেজি বিভাগের জান্নাতুল নাইমা মারিয়া এবং সিএই বিভাগের উম্মে হুমায়রা শাহরিন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম ও ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী নাহিয়ান ইবনাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

সেমিস্টার বিরতি কাটিয়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরছে ডুয়েট

  ডুয়েট প্রতিনিধি: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) সেমিস্টার বিরতি ও পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আগামী ২১ জুন থেকে জোড় সেমিস্টারের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ নতুন সেমিস্টারের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজোড় সেমিস্টারের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা গত ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে ১০ মে শেষ হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য সেমিস্টার বিরতি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ বাড়িতে সময় কাটান। দীর্ঘ বিরতির পর  ২১ জুন থেকে আবারও শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ফিরতে দেখা যাচ্ছে এবং নতুন সেমিস্টারের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।বিভাগগুলোও নতুন সেমিস্টারের পাঠদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সেমিস্টার বিরতি শেষে আগামী ২১ জুন থেকে জোড় সেমিস্টারের ক্লাস শুরুর মধ্য দিয়ে ডুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম আবারও পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে।

কুবিতে রোটার‍্যাক্ট ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে ‘স্পিক-আপ’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

  কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রোটার‍্যাক্ট ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে “SpeakUP: Building Voices, Inspiring Impact” শীর্ষক শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি বিষয়ক বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ( ১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ময়নুল হাসান। তিনি “জনসমক্ষে বক্তৃতা ও উপস্থাপনা দক্ষতায় পারদর্শিতা” বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি কার্যকর উপস্থাপনা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। দ্বিতীয় সেশনে কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ও ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক সোহাগ আহমেদ, “বিতর্কের মাধ্যমে ইংরেজি কথোপকথনের দক্ষতা বৃদ্ধি” বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি (BP) বিতর্কের মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা বিকাশ এবং যুক্তি উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোটার‍্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি এবং ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নে যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। রোটার‍্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি তানভীর আনজুম সাজন বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং সেই জ্ঞানকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক প্রস্তুতি এবং শ্রোতাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে উপস্থাপনা দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যৎ শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দক্ষ যোগাযোগকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনে বিতর্ক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, ‘ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলা এবং নিজের মতামত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করার জন্য নিয়মিত বিতর্ক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। তাঁর মতে, বিতর্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী শুধু ভাষাগত দক্ষতাই নয়, বরং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, যুক্তি বিশ্লেষণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে মতামত প্রকাশের সক্ষমতাও অর্জন করে। তিনি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিতর্কে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধারাবাহিক চর্চাই একজনকে দক্ষ বক্তা ও আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগকারী হিসেবে গড়ে তোলে। এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১ম ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ডিবেট কম্পিটিশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং উপস্থাপনার ক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ১ম ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উত্তরা ইউনিভার্সিটির মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ১৪টি বিভাগ থেকে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত পর্বে বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ বিশ্বাস করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা।’ বিষয়টির পক্ষে ও বিপক্ষে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তথ্যনির্ভর যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।

বাছাই ও নকআউট পর্ব শেষে ইংরেজি বিভাগ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে সিএসই বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংরেজি বিভাগ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আবিদ আজিজ। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, কন্ট্রোলার, অফিস অফ স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর ও ডিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন তাসফিয়া আফরিন ফারিয়া।

 ইউইউডিসির উপদেষ্টা মো. জাহিদুল ইসলাম (অয়ন) বলেন, ‘বিতর্ক কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক কো-কারিকুলার একটিভিটি নয়, বিতর্ক একটি সংস্কৃতি যা চর্চা করতে হয়। বিতর্ক শিক্ষার্থীদের দ্বিমত পোষণের শিষ্টাচার যেমন শেখায়, তেমনি শেখায় ভিন্ন মতামত শুনে উপযুক্ত মূল্যায়ন করার সহনশীলতা। আজকের আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতায় জয়ী-বিজিতের চেয়ে, শিক্ষার্থীদের বিতর্ক সংস্কৃতির চর্চায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়টি আমাকে অধিক অভিভূত করছে। আমি ইউইউডিসিকে সাধুবাদ জানাই সফলভাবে সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্কের প্রতি এমন আগ্রহ গড়ে তোলার জন্য।’

এই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল জনপ্রিয় ক্যাম্পাস ভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্যা ক্যাম্পাস মিরর ও ডেইলি ক্যাম্পাস।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও রানার-আপ দলের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কচর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ১৯ জুন দুপুর ২টায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল্লাহ মানসুর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত এক বছর আগে চিকুনগুনিয়া হওয়ায় তখন থেকেই তিনি একেবারে বিছানায় পড়ে যান। কবি আল মুজাহিদী এক সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

‎‎‎কবি আল মুজাহিদীর অনেকগুলো বই আছে। তার কাব্যগ্রন্থ—হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, ‎প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ‎ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, ‎পাখির পৃথিবী, ‎আলবাট্রাস, ‎ভঙুর গোলাপ, ‎কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও ‎পালকি চলে দুলকি তালে প্রভৃতি।

উপন্যাসসমূহ প্রথম প্রেম, ‎চাঁদ ও চিরকুট, ‎মিলু এট ও স্যোন্যাটা, ‎লাল বাতির হরিণ, ‎রুপোলি রোদ্দুর, ‎আলোর পাখিটা, ‎ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ। গল্পগ্রন্থ—‎প্রপঞ্চের পাখি, ‎বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ। শিশুসাহিত্য হালুম হুলুম, ‎তালপাতার সেপাই, শেকল কাটে খাঁচার পাখি, সোনার মাটি রূপোর মাটি ও ‎ইস্টিশানে হুইসেল।

প্রবন্ধগ্রন্থ সমাজ ও সমাজতত্ত্ব। ‎অনুবাদগ্রন্থ কাইফি আজমির কবিতা, ‎পৃথিবীর কবিতা, ‎আহমদ ফরাজের কবিতা, ‎ঊর্দূ কবিতা, হিন্দি কবিতা ও ‎হাইনরীশ হাইনের কবিতা। গবেষণাগ্রন্থ কালান্তরের যাত্রী।

জীবন ও কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, ‎কবি জসীম উদ্‌দীন একাডেমি পুরস্কার, ‎মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার, ‎জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার, বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক ও একুশে পদক পেয়েছেন।

বিনা বেতনে পাঠদান: গোবিপ্রবির খণ্ডকালীন শিক্ষকদের দীর্ঘ দেড় বছরের বঞ্চনা

তাছিন জায়েফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত খণ্ডকালীন শিক্ষকরা দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করলেও বেতন না পাওয়ায় মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকলেও স্থায়ী নিয়োগের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে এসব শিক্ষকের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট মোকাবেলায় খণ্ডকালীন ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন খন্ডকালীন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তারা নেওয়া ক্লাসের সংখ্যার ভিত্তিতে সম্মানী পেয়ে থাকেন। এসব শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস গ্রহণ, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, মৌখিক পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তবে ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই তাদের বেতন পরিশোধ বন্ধ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খণ্ডকালীন শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। শুরুতে নিয়মিত বেতন পেলেও ২০২৫ সালের শুরু থেকে হঠাৎ করেই বেতন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প চাকরির সন্ধান করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করেন। বেতন ছাড়া ইতোমধ্যে চারটি ঈদ পার করা এক খণ্ডকালীন শিক্ষক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে ক্লাস নিচ্ছি। কিন্তু দেড় বছর ধরে বেতন না পাওয়ায় চরম সংকটে আছি। বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাইনি। কখনো বলা হয় ইউজিসি থেকে বাজেট এলে বেতন দেওয়া হবে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।” এদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। বেতন বন্ধ থাকলে শিক্ষকরা নিরুৎসাহিত হবেন, যা শিক্ষার পরিবেশ ও মানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মোশিকুর রহমান বলেন, “ইউজিসি থেকে অর্থ বরাদ্দ এসেছে। আশা করছি আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, “এখানে অধিকাংশ খণ্ডকালীন শিক্ষক ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত ছিলেন না। এছাড়া ইউজিসি থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম অর্থ বরাদ্দ পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আশা করছি, চলতি মাসের মধ্যেই অন্তত বকেয়া অর্থের একটি বড় অংশ পরিশোধ করা যাবে।”