কালকের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে এগারো দলীয় জোট

কালকের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে এগারো দলীয় জোট

ডেস্ক রিপোর্ট: আজ শনিবার ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ হুঁশিয়ারি দেন। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে আযাদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়েও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে জনগণের সমর্থন রয়েছে। সে অনুযায়ী সরকারের দায়িত্ব দ্রুত পরিষদের কার্যক্রম শুরু করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অধিবেশন না ডাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আযাদ আরও বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট উদ্যোগ না নিলে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও প্রত্যাশা রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি রয়েছে।

বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের বিকল্প হিসেবে প্রশাসনিক নিয়োগ দীর্ঘায়িত হলে তা নতুন করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মন্ত্রী বা অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের রোদে বা সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা যাবে না।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানোর দৃশ্য দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাকে একজন সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করতে হবে। আমার জন্য কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। কোনো শিক্ষক কখনো আমার জন্য শিক্ষার্থীদের দাঁড় করাবেন না।

আমি যেখানে যাব, সেখানে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের কষ্ট দিয়ে কোনো ধরনের সংবর্ধনা বা শুভেচ্ছা আয়োজন করার প্রয়োজন নেই।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের দ্রুত ছুটি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা আর কখনো রোদের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়াবে না। তোমাদের রাস্তায় এসে শুভেচ্ছা জানানোর দরকার নেই। আমি নিজেই স্কুলে-স্কুলে গিয়ে তোমাদের সঙ্গে দেখা করবো।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদিন স্বপন, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পায়ুপথে স্বর্ণ চালানের চেষ্টা;আটক ০১ 

  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) থেকে পায়ুপথে লুকিয়ে আনা ২৩১.৮১ গ্রাম স্বর্ণসহ এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) সদস্যরা নিয়মিত তল্লাশিকালে তাকে আটক করেন। আটক ব্যক্তি মো. সানি মাই (২৭)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার বড় বড়াই কাউরাইদ গ্রামের বাসিন্দা ও মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার পাসপোর্ট নম্বর A12776759।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আইসিপিতে স্থাপিত আর্চওয়ে মেটাল ডিটেকটরে তল্লাশির সময় তার শরীরে ধাতব বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে তাকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে তার পায়ুপথে লুকানো দুটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
স্বর্ণ বহনের এক্সরে রিপোর্ট
চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্বর্ণ জুয়েলারি সমিতি পরীক্ষা করে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। স্বর্ণের মোট ওজন ২৩১.৮১ গ্রাম, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাকে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিতে চোরাকারবারীরা নানা কৌশল অবলম্বন করলেও বিজিবি চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বদা তৎপর রয়েছে।

বিসিবির নির্বাচক প্যানেলে আসছে পরিবর্তন, এগিয়ে হাবিবুল বাশার

মেয়াদ শেষে আর দায়িত্বে থাকবেন না—এ ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। অন্যদিকে বিসিবির পরিচালক হওয়ায় নির্বাচকের দায়িত্ব ছেড়েছেন সাবেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। ফলে জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে দুটি পদ শূন্য হয়।

এই দুই পদের জন্য আবেদন করেছিলেন ১৬ জন সাবেক ক্রিকেটার। আজ তাদের মধ্যে ১৫ জন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার শেষে কয়েকজনকে শর্টলিস্ট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কারা সেই তালিকায় রয়েছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকার নেন বোর্ডের সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, খালেদ মাসুদ পাইলট ও নাজমুল আবেদিন ফাহিম। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

সাক্ষাৎকার শেষে প্রধান নির্বাচকের পদে এগিয়ে আছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। এর আগে তিনি নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিজ্ঞতার কারণে তাকেই প্রধান নির্বাচক করার বিষয়ে বিসিবির আগ্রহ বেশি বলে জানা গেছে।

তবে বাশারের সঙ্গে নতুন করে আর কে দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি নির্ধারণ করবেন। এরপর বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।

বর্তমানে নির্বাচক প্যানেলে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক ক্রিকেটার হাসিবুল হোসেন শান্ত।

মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এমপিকে দেখতে গেলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

হাসপাতালে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে কথা বলে জামায়াত আমির তাঁর চলমান চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তিনি মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানার সভাপতি ডা. এস এম খালিদুজ্জামানসহ দলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

মির্জা আব্বাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি অতীতে ঢাকার সাবেক মেয়র এবং মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ববি হাজ্জাজের আসন সহ পাঁচ আসনের ব্যালট হেফাজতের নির্দেশ

  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হেফাজতে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ওই আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের নোটিশ জারি করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। অন্য আসনগুলো হলো:গাইবান্ধা-৫, ঢাকা-৫, পাবনা-৩ এবং কুষ্টিয়া-৪। এর আগে ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন জামায়াত জোটের প্রার্থী মামুনুল হক। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছিলেন। এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে এরই মধ্যে ২৫টির বেশি আসনের প্রার্থীরা হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। এসব আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সামগ্রী সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি অনিয়ম সংক্রান্ত আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের শুনানি করছেন।

দূর্নীতির মামলায় জামিন পেলেন আনিস আলমগীর

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ইতোপূর্বে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা থেকে জামিন লাভ করেন। তাই তার মুক্তিতে বাঁধা নেই বলে জানিয়েছে আদালত।
আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি নিয়ে আনিস আলমগীরের জামিন মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে আনিস আলমগীর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলাতেই জামিন পেলেন। সে ক্ষেত্রে আনিস আলমগীরের কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী তাসলিমা জাহান। গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করে। মামলায় আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২৫ জানুয়ারি এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে দুদক। তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। আজ তিনি এই মামলায় জামিন পেলেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি জিম সেন্টার থেকে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) নেওয়া হয়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৫ মার্চ আনিস আলমগীরকে জামিন দেন উচ্চ আদালত।  

দাম বেড়েছে স্বর্ণের

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার টাকার বেশি বাড়িয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার দাম বাড়ানোর সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।  

আজ ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় দিবস

0

পবিত্র মাহে রমজানের ২০তম দিন আজ। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এদিন সংঘটিত হয়েছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়।

হিজরতের অষ্টম বছরে প্রায় ১০ হাজার মুসলিমের একটি বাহিনী নিয়ে মহানবী (সা.) মক্কা নগরীতে প্রবেশ করেন। দীর্ঘদিনের নির্যাতন, বিরোধিতা ও নানা সংঘাতের পর সংঘটিত এই বিজয় ছিল প্রায় রক্তপাতহীন।

নবুওয়াত লাভের পর থেকেই মক্কার কুরাইশরা ইসলামের বিরোধিতা শুরু করে এবং মুসলমানদের ওপর নানা নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীরা মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হন। মদিনা থেকেই ইসলামের বিস্তার দ্রুত ঘটতে থাকে এবং মুসলমানরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় দিবস। ©সংগৃহীত

মক্কা বিজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গের ঘটনা। কুরাইশরা চুক্তি লঙ্ঘন করলে মহানবী (সা.) অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। অষ্টম হিজরির রমজান মাসে পরিচালিত সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ২০ রমজান মক্কা বিজয় সম্পন্ন হয়।

মক্কায় প্রবেশের পর মহানবী (সা.) সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন, যা মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেয়। তিনি কাবা শরিফে স্থাপিত ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেন এবং সেখানে একত্ববাদের বার্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

ইসলামের ইতিহাসে মক্কা বিজয় শুধু সামরিক সাফল্য নয়, বরং শান্তি, ক্ষমা ও ন্যায়বিচারের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে আছে।

বদর: ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

0
    আজ ১৭ রমজান, ঐতিহাসিক বদর দিবস। দ্বিতীয় হিজরির এই দিনে ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের মদিনা মুনাওয়ারা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণে বদর নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ‘বদর’। ইসলামের ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এ যুদ্ধ। মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে মক্কার মুশরিকদের প্রথম বড় যুদ্ধ এটি। ‘বদর যুদ্ধ’ ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ যুদ্ধের বিজয়ই মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়। আল্লাহ সুবহানহু ওয়া তাআলার বিশেষ সাহায্যে দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান মদিনা থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকারী এ যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। আর তাতে ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় অর্জিত হয়। এটি ইসলামের ইতিহাসে বদরযুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। এ যুদ্ধে মানুষের সব ধারণা নাকচ করে দিয়ে প্রায় উপকরণহীন মুষ্টিমেয় দলটিকে জয়ী করেন মহান রাব্বুল আলামিন। সত্য-মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্বের ইতিহাসে সংযোজিত হয় নতুন অধ্যায়। তাই শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এ দিনটি অনন্য অবস্থান দখল করে রেখেছে। ইসলামের ইতিহাসে বদর যুদ্ধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সীমাহীন। ১৭ রমজানের এ প্রেক্ষাপট ইসলামে বিশেষভাবে সংরক্ষিত। এ দিন ৩১৩ জন সাহাবিকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে তৎকালীন সময়ের আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত মক্কার কাফের-মুশরিকদের সঙ্গে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল রক্তক্ষয়ী বদর যুদ্ধ। মুসলমানদের মহান আল্লাহ সুবহানহু ওয়া তাআলার এ যুদ্ধে ফেরেশতাদের মাধ্যমে বিশেষভাবে সাহায্য করে ঐতিহাসিক বিজয় দান করেছিলেন। তাওহিদ তথা একত্ববাদের বার্তাবাহক মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইসলাম এবং মুসলমানদের জন্য এটি ছিল প্রথম বড় সামরিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের আগে মুসলমান ও মুশরিকদে মধ্যে বেশ কয়েকটি খণ্ডযুদ্ধ হলেও বদরের যুদ্ধ ছিল দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম বড় যুদ্ধ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করে। ফলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও মদিনা রাষ্ট্রে ভিত্তি তৈরিতে এ যুদ্ধে বিজয় বিশেষ ভূমিকা রাখে। মুসলিম বাহিনী প্রতিকূল পরিস্থিতি ও অবস্থানে থেকে  বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বদর যুদ্ধের সময় মুসলিম বাহিনী যে প্রান্তরের অবস্থান নিয়েছিলেন, সে স্থানটিতে সূর্যের তেজ সরাসারি তাদের মুখের ওপর পড়ে। আর কাফেরদের মুখে দিনের বেলায় সূর্যের আলো পড়ে না। আবার মুসলমানরা যেখানে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করে, সেখানে বালুময় মাটি, যা যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। অপরদিকে কাফেররা যেখানে অবস্থান নিয়েছিল, সেখানে মাটি শক্ত এবং যুদ্ধের জন্য স্থানটি উপযুক্ত। এত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মহান আল্লাহ মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন। এটি ইসলামের অনেক বড় বিজয়েরই নামান্তর। ইসলামের বিরুদ্ধে বিশাল সৈন্য বাহিনীর মোকাবিলায় ঈমানদারদের ছোট একটি দলের সম্মুখ সংগ্রাম ছিল এটি। ঐতিহাসিক এ যুদ্ধে অবিশ্বাসীদের নেতা আবু জেহেলের নেতৃত্বে ছিল এক হাজার প্রশিক্ষিত সৈন্যের সুসজ্জিত বাহিনী। এ যুদ্ধে মানুষের ধারণাপ্রসূত সব রকমের চিন্তা ও উপলব্ধির বাইরে গিয়ে আল্লাহ তাআলা অস্ত্রহীন ঈমানদারদের অতিক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন। সেদিন ইসলামে দীক্ষিত নব মুসলিমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছিল, জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। আবার সম্মান অপমানও আল্লাহর হাতে। সেদিন বদরের প্রান্তরে ঈমান ও কুফর, ন্যায় ও অন্যায়ের এক অন্যরকম ইতিহাস রচিত হয়েছিল। যা যুগ যুগ পর্যন্ত এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বদর প্রান্তরে এক আল্লাহর প্রতি একান্ত আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই মুসলিম বাহিনী যুদ্ধ করেছিলেন। শান্তি ও নিরাপত্তা বীজ বপন করেছিলেন। সংখ্যা, সরঞ্জাম ও সম্পদ কম থাকার পরও মহান আল্লাহ দান করেছিলেন এক সুস্পষ্ট বিজয়। ঐতিহাসিক তথ্য মতে, ১৬ রমজান মাগরিবের পর তারিখ পরিবর্তন হয়ে ১৭ রমজান শুরু হলো। সেই রাতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবিরা বদর প্রান্তের তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। অপরদিকে কাফেররাও তাদের ক্যাম্পে অবস্থান করছিল। ১৭ রমজানের বিশেষ এই রাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ দোয়া করেছিলেন। ইসলামের বিজয়ে জন্য কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করেছিলেন এভাবে- ‘হে আল্লাহ! আগামীকালের (সত্য-মিথ্যার) নীতিনির্ধারণী যুদ্ধে তোমার সাহায্য আমাদের অতি প্রয়োজন। এ যুদ্ধে আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া বিজয় লাভ করতে পারব না। আর আমরা যদি পরাজিত হই তাহলে তোমাকে সেজদা করার কিংবা তোমার নাম ধরে ডাকার লোক এ পৃথিবীতে আর নাও থাকতে পারে। অতপর তুমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর, তুমি কী করবে। কারণ, তুমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মালিক। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে প্রাণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। আমরা আমাদের জীবন তোমার পথে উৎসর্গ করলাম। বিনিময়ে তোমার দ্বীনকে আমরা তোমার জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তুমি আমাদেরকে বিজয় দান করো। আমরা তোমার কাছে সাহায্য চাই।’ (যুরকানি, সিরাতে ইবনে হিশাম) আল্লাহ তাআলা নব মুসলিম ও নতুন রাষ্ট্রে দান করলেন বিজয়। নিরস্ত্র মুসলিমরা অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীকে পরাজিত করলেন। এ যুদ্ধে কাফেরদের পক্ষে নিহত হলো ৭০ জন। বন্দি হয় আরও ৭০ জন। আর মুসলমানদের মধ্যে চৌদ্দজন সাহাবি শহীদ হন।
ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে মুসলিমদের জন্য ছিল অভাবনীয় বিজয়। মহান আল্লাহর একান্ত কুদরতের প্রমাণ। তিনি অল্প সংখ্যক লোক দিয়েও বিজয় দান করেন। তাতে সূচনা হয়েছিল ইসলাম বিজয়। তাই প্রতি বছর ১৭ রমজান বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ঐতিহাসিক ‘বদর দিবস’।
বদর দিবসে মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে দান করুন মুসলমানদের বিজয়। সব নিয়ামত, মাগফেরাত ও নাজাতে ভরে ওঠুক রোজাদারের আমল ও মন। বদর যুদ্ধের বিজয় হয়ে থাকুক সব বিপদে মুমিন মুসলমানের অনুপ্রেরণা। আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সাহাবাদের দান করুন জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা, সম্মান ও শান্তি। আমিন।