বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর চায় শিক্ষার্থীরা, ছাত্রদলের বিরোধিতা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। তবে এই দাবির বিরোধিতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। ​ আজ সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য চলাকালীন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং বক্তব্য থামিয়ে সরাসরি ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আস্তে, দূর, আমি মিটিং শুরু করছি। এই ছাত্রদল, তোমরা একটু ডিসিপ্লিনটা মেইনটেন কর। ছাত্রদল, তোমরা একটু মিটিংটা ডিসিপ্লিন কর। তোমরা তো আমার ছাত্রদল, নাকি? তোমাদের গর্ব তো আমি, তো তুমি একটু ডিসিপ্লিন মেইনটেন কর। ​শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শান্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রী যখন ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুরু করেন, ঠিক তখনই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নোবিপ্রবির একাডেমিক ভবন ৩-সহ ৩৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার দাবি তোলেন। দুর্নীতিমুক্তভাবে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে প্রকল্পগুলো সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের দাবিতে তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার প্রদর্শন করেন এবং ‘এক দুই তিন চার, আর্মি হবে ঠিকাদার’ স্লোগান দিতে থাকেন।

​শিক্ষার্থীদের এই দাবির সাথে সাথেই মিলনায়তনে উপস্থিত নোবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এর তীব্র বিরোধিতা করে পাল্টা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। এসময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ‘মবের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশন’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও বাকবিতণ্ডা দ্রুতই ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতাহাতির একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীর সামনেই দাবি উত্থাপনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে অডিটোরিয়ামের ভেতর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী, যার ফলে অনুষ্ঠানস্থলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

​পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং বক্তব্য থামিয়ে সরাসরি ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আস্তে, দূর, আমি মিটিং শুরু করছি। এই ছাত্রদল, তোমরা একটু ডিসিপ্লিনটা মেইনটেন কর। ছাত্রদল, তোমরা একটু মিটিংটা ডিসিপ্লিন কর। তোমরা তো আমার ছাত্রদল, নাকি? তোমাদের গর্ব তো আমি, তো তুমি একটু ডিসিপ্লিন মেইনটেন কর। ​শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শান্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান।

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান মারামারির ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো ঝগড়া বা মারামারি ঘটনা ঘটেনি। আমাদের দাবি স্পষ্ট, আমরা তাদেরকে বলছিলাম তোমাদের যদি কোনো দাবি থাকে সেটা স্মারকলিপি আকারে দাও, একটি সরকারের মন্ত্রীকে যেভাবে দেওয়া উচিত। এরপরও তারা যেভাবে করেছে, আমরা তাদেরকে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করিনি, এটা তাদের গণতান্ত্রিক চর্চা।’

​তিনি বলেন, ‘এখানে কারও গায়ে হাত দেওয়া হয়নি। জাহিদ (দাবি উত্থাপনকারী শিক্ষার্থী) এগিয়ে গিয়ে ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করছিল, আমরা গিয়ে বুঝিয়েছিলাম যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। আমাদের বাধা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে তারা যখন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে ঢুকছিল, তখনই বাধা দিতাম।’

​বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ প্রমুখ।

গোল্ড মেডেল এওয়ার্ডের আয়োজন করেছে ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা

চব্বিশের ছাত্র জনতার বিপ্লবে শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘৩৬ জুলাই মেমোরিয়াল মেরিটোরিয়াস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব শাখা। এই আয়োজনে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাকাডেমিক সম্মাননা প্রদান করা হবে। আয়োজকদের মতে, ‘মেধার স্বীকৃতি, আগামীর নেতৃত্বের প্রস্তুতি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানটি আগামী ২৪ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেল ৪টায় বসুন্ধরা গেটে অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদনের শেষ সময় আগামী ২৬ জুন ২০২৬।

ক্যাটাগরি ও যোগ্যতা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে দুটি ক্যাটাগরিতে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এ-ক্যাটাগরি (Excellence Award) যেসব শিক্ষার্থী ন্যূনতম ৬ সেমিস্টার সম্পন্ন করেছেন এবং সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৪.০০ অর্জন করেছেন, তারা এ-ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। পুরস্কার হিসেবে থাকবে গোল্ড মেডেল ও সম্মাননা ক্রেস্ট।

-ক্যাটাগরি (Merit Recognition Award) যেসব শিক্ষার্থী ন্যূনতম ৩ সেমিস্টার সম্পন্ন করেছেন এবং সিজিপিএ ৩.৭০ বা তার বেশি অর্জন করেছেন, তারা বি-ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে পারবেন। পুরস্কার হিসেবে থাকবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার।

আবেদন শর্তাবলি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব শাখার আওতাধীন উত্তরা, খিলক্ষেত, বসুন্ধরা, বাড্ডা ও হাতিরঝিল এলাকায় অবস্থিত ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা এ সম্মাননার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, মেধার যথার্থ মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের মাঝে অধ্যবসায়, সততা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। এই আয়োজন কেবল একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নকে বড় করে দেখার সুযোগ তৈরি করবে। জুলাই আন্দোলনের বীরদের স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত আবেদনগুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মোবাইল ও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট, স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ছবি এবং ২৫০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি (বিকাশ/নগদ) পরিশোধের তথ্যসহ অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইন আবেদনের লিংক: [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdz28drOZdGYJJ6HV70apYya-HI10L4IR8tpat9rYv_ILw6qQ/viewform?usp=publish-editor]

গাইবান্ধায় যুবদল নেতা কর্তৃক ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতিকে হত্যা

  গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নামে এক ছাত্রশিবির নেতাকে যুবদল নেতা কর্তৃক হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)। রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে। তিনি রংপুরের একটি কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। রোববার বিকেলে বোনারপাড়া বাজারে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশের সঙ্গে সাইফুল্লাহ বারীর পক্ষের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন ধাওয়া দিয়ে সাইফুল্লাহ বারী ও তার বন্ধু সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় সাইফুল্লাহ বারীর গলায় ধারালো ও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই ঘটনায় আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিহতের বন্ধু মোবাশ্বের অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে এসে সাইফুল্লাহ বারীকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এদিকে অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ সম্পর্কে জানা গেছে, তারা বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং আপন দুই ভাই। মুকুল একসময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মানারাত ইউনিভার্সিটিতে জমকালো আয়োজনে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

  জমকালো আয়োজনে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন ২০২৬) আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস মিলনায়তনে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম। সাবেক সচিব ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশবিজ্ঞানী ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। জমকালো এ নবীনবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। রং-বেরঙের বেলুন-ফেস্টুনে সাজানো হয় অনুষ্ঠানস্থল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জীবনে বড় হতে চাইলে তোমাদের বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান ও শ্রদ্ধার পাশাপাশি তাদের দোয়া নিতে হবে। তিনি ছাত্রছাত্রীদের আলোকিত মানুষ হয়ে দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত ১৭ বছর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির নামে জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে দেশকে ভালো রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। গেস্ট অব অনার ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম নবাগত ছাত্রছাত্রীদের জীবনে ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্য সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভয়কে জয় করে কীভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হয়, তা জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদী। পঞ্চাশ বছর পর দেশকে কোথায় দেখতে চাই, সে জন্য আজই আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা গ্রহণের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নেওয়ারও আহ্বান জানান এ সংসদ সদস্য। সভাপতির বক্তব্যে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ সেন্টার অব একাডেমিক অ্যান্ড মোরাল এক্সিলেন্স’ স্লোগান সামনে রেখে জাতিকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা উপহার দেওয়ার যে প্রতিজ্ঞা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, তা বাস্তবায়নে চেষ্টা করে যাচ্ছে। শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন ও সিএসই বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান মো. মাহবুব আলম, স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের ডিন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান ড. আবু আইয়ুব মো. ইব্রাহিম প্রমুখ। রেজিস্ট্রার এ. এইচ. এম. আবু সাঈদের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার মো. মনিরুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের সহধর্মিণী ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের সেকেন্ড ভাইস গভর্নর সাবিনা সিদ্দিকা। এ ছাড়া নবাগত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের হাসান জিহাদী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মিফতাহুল ইসলাম সাবিত, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের আবদুল্লাহ তাহসিন, ইইই বিভাগের আবদুল্লাহ রুহান, ইংরেজি বিভাগের জান্নাতুল নাইমা মারিয়া এবং সিএই বিভাগের উম্মে হুমায়রা শাহরিন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম ও ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী নাহিয়ান ইবনাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

সেমিস্টার বিরতি কাটিয়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরছে ডুয়েট

  ডুয়েট প্রতিনিধি: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) সেমিস্টার বিরতি ও পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আগামী ২১ জুন থেকে জোড় সেমিস্টারের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ নতুন সেমিস্টারের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজোড় সেমিস্টারের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা গত ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে ১০ মে শেষ হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য সেমিস্টার বিরতি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ বাড়িতে সময় কাটান। দীর্ঘ বিরতির পর  ২১ জুন থেকে আবারও শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ফিরতে দেখা যাচ্ছে এবং নতুন সেমিস্টারের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।বিভাগগুলোও নতুন সেমিস্টারের পাঠদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সেমিস্টার বিরতি শেষে আগামী ২১ জুন থেকে জোড় সেমিস্টারের ক্লাস শুরুর মধ্য দিয়ে ডুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম আবারও পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে।

কুবিতে রোটার‍্যাক্ট ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে ‘স্পিক-আপ’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

  কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রোটার‍্যাক্ট ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে “SpeakUP: Building Voices, Inspiring Impact” শীর্ষক শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি বিষয়ক বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ( ১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ময়নুল হাসান। তিনি “জনসমক্ষে বক্তৃতা ও উপস্থাপনা দক্ষতায় পারদর্শিতা” বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি কার্যকর উপস্থাপনা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। দ্বিতীয় সেশনে কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ও ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক সোহাগ আহমেদ, “বিতর্কের মাধ্যমে ইংরেজি কথোপকথনের দক্ষতা বৃদ্ধি” বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি (BP) বিতর্কের মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা বিকাশ এবং যুক্তি উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোটার‍্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি এবং ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নে যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। রোটার‍্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি তানভীর আনজুম সাজন বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং সেই জ্ঞানকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক প্রস্তুতি এবং শ্রোতাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে উপস্থাপনা দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যৎ শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দক্ষ যোগাযোগকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনে বিতর্ক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, ‘ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলা এবং নিজের মতামত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করার জন্য নিয়মিত বিতর্ক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। তাঁর মতে, বিতর্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী শুধু ভাষাগত দক্ষতাই নয়, বরং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, যুক্তি বিশ্লেষণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে মতামত প্রকাশের সক্ষমতাও অর্জন করে। তিনি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিতর্কে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধারাবাহিক চর্চাই একজনকে দক্ষ বক্তা ও আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগকারী হিসেবে গড়ে তোলে। এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১ম ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ডিবেট কম্পিটিশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং উপস্থাপনার ক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ১ম ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উত্তরা ইউনিভার্সিটির মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ১৪টি বিভাগ থেকে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত পর্বে বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ বিশ্বাস করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা।’ বিষয়টির পক্ষে ও বিপক্ষে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তথ্যনির্ভর যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।

বাছাই ও নকআউট পর্ব শেষে ইংরেজি বিভাগ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে সিএসই বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংরেজি বিভাগ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আবিদ আজিজ। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, কন্ট্রোলার, অফিস অফ স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর ও ডিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন তাসফিয়া আফরিন ফারিয়া।

 ইউইউডিসির উপদেষ্টা মো. জাহিদুল ইসলাম (অয়ন) বলেন, ‘বিতর্ক কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক কো-কারিকুলার একটিভিটি নয়, বিতর্ক একটি সংস্কৃতি যা চর্চা করতে হয়। বিতর্ক শিক্ষার্থীদের দ্বিমত পোষণের শিষ্টাচার যেমন শেখায়, তেমনি শেখায় ভিন্ন মতামত শুনে উপযুক্ত মূল্যায়ন করার সহনশীলতা। আজকের আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতায় জয়ী-বিজিতের চেয়ে, শিক্ষার্থীদের বিতর্ক সংস্কৃতির চর্চায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়টি আমাকে অধিক অভিভূত করছে। আমি ইউইউডিসিকে সাধুবাদ জানাই সফলভাবে সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্কের প্রতি এমন আগ্রহ গড়ে তোলার জন্য।’

এই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল জনপ্রিয় ক্যাম্পাস ভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্যা ক্যাম্পাস মিরর ও ডেইলি ক্যাম্পাস।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও রানার-আপ দলের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কচর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা

Chicken Road Casino: Spielstrategien für Einsteiger

Das chicken road casino hat sich einen Namen in der Online-Gaming-Welt gemacht, indem es ein vielfältiges Spieleangebot und ansprechende Boni für Spieler bietet. Für Einsteiger kann der Einstieg in die Welt des Online-Glücksspiels herausfordernd sein. Daher ist es wichtig, einige grundlegende Spielstrategien zu kennen, um das Beste aus dem Spielerlebnis herauszuholen.

Die Grundlagen verstehen

Bevor man mit dem Spielen beginnt, sollten Einsteiger die Grundlagen der verschiedenen Spiele und deren Regeln verstehen. Ob Slots, Roulette oder Blackjack – jedes Spiel hat seine eigenen Regeln und Strategien. Ein gutes Verständnis der Spielmechanik ist entscheidend, um die Gewinnchancen zu maximieren.

Einsteiger sollten sich ermutigen, die Demoversionen der Spiele auszuprobieren. Diese sind in vielen Online-Casinos verfügbar und ermöglichen es, das Spiel kostenlos zu testen und Erfahrungen zu sammeln.

Boni und Promotions nutzen

Ein wichtiger Bestandteil des Spielens im chicken road casino sind die verschiedenen Boni und Promotions, die Spielern angeboten werden. Diese können erhebliche Vorteile bringen, wie beispielsweise Freispiele oder Einzahlungsboni. Einsteiger sollten die Bonusbedingungen sorgfältig durchlesen, um die besten Angebote zu finden und die Risiken zu minimieren.

  • Willkommensbonus: Vorteile für neue Spieler.
  • Freispiele: Eine großartige Möglichkeit, ohne Risiko zu spielen.
  • Loyalitätsprogramme: Belohnungen für wiederkehrende Spieler.

Bankroll-Management und Limits

Ein effektives Bankroll-Management ist für jeden Spieler, insbesondere für Einsteiger, von entscheidender Bedeutung. Es ist ratsam, vor dem Spielen ein festes Budget zu setzen, das man bereit ist zu verlieren. Dieses Budget sollte niemals überschritten werden. Spieler sollten auch Selbstlimits in Betracht ziehen, um eine verantwortungsvolle Spielweise zu fördern.

Strategie Beschreibung
Setzen von Limits Definieren Sie ein maximales Verlust- oder Gewinnlimit.
Kontinuierliche Anpassung Passen Sie Ihre Einsätze basierend auf dem aktuellen Kontostand an.
Regelmäßige Pausen Nehmen Sie sich Zeit, um zu spielen und Ihre Entscheidungen zu überdenken.

Die richtige Einstellung

Die Einstellung und der psychologische Aspekt des Spielens sind nicht zu unterschätzen. Spieler sollten mit einer positiven Einstellung und dem Wissen spielen, dass das Gewinnen nicht garantiert ist. Geduld und Disziplin sind wesentliche Eigenschaften, um erfolgreich zu spielen und Frustrationen zu vermeiden.

Ein guter Ansatz ist, die Spiele als unterhaltsame Form der Freizeitgestaltung zu betrachten, anstatt ausschließlich auf das Gewinnen abzuzielen.

FAQ

Ist das chicken road casino sicher für neue Spieler?
Ja, das Casino ist lizenziert und verwendet moderne Sicherheitsmaßnahmen zum Schutz der Spieler.

Wie funktionieren die Bonusangebote für Einsteiger?
Neue Spieler erhalten meist einen Willkommensbonus, der ihre erste Einzahlung erhöht oder Freispiele bietet.

Kann ich die Spiele kostenlos ausprobieren?
Ja, viele Spiele im chicken road casino bieten kostenlose Demoversionen an.

Wie wertvoll sind die Bonusaktionen im Only Spins Casino?

Das only spin casino stellt sich als ein neuer Akteur im Online-Glücksspielbereich vor und bietet Spielern eine Vielzahl von Bonusaktionen, die sowohl für Neulinge als auch für erfahrene Spieler ansprechend sind. Diese Bonusangebote spielen eine entscheidende Rolle, wenn es darum geht, das Engagement der Spieler zu erhöhen und sie dazu zu bewegen, auf der Plattform zu bleiben. In diesem Artikel wird untersucht, wie wertvoll die Bonusaktionen des Only Spins Casinos in der heutigen Glücksspiellandschaft sind.

Arten der Bonusaktionen

Das Only Spins Casino bietet mehrere Arten von Bonusaktionen, um unterschiedliche Spielerpräferenzen anzusprechen. Zu den gängigsten Arten gehören Willkommensboni, Einzahlungsboni, Freispiele und Treueprogramme. Diese Boni sind nicht nur ein Anreiz für neue Spieler, sondern auch eine Möglichkeit für bestehende Spieler, sich durch regelmäßige Aktionen und Angebote weiter zu engagieren.

  • Willkommensbonus: Neuankömmlinge erhalten oft einen Willkommensbonus, der sich aus einem Einzahlungsbonus und Freispielen zusammensetzen kann.
  • Einzahlungsbonus: Ein Einzahlungsmatch-Bonus motiviert Spieler, höhere Beträge einzuzahlen, da sie dafür zusätzliches Spielkapital erhalten.
  • Freispiele: Freispiele bieten Spielern die Möglichkeit, ohne zusätzliches Risiko zu spielen und potenzielle Gewinne zu erzielen.
  • Treueprogramme: Bestehende Spieler können durch Treueprogramme, die Punkte oder Belohnungen für regelmäßiges Spielen bieten, von weiteren Vorteilen profitieren.

Wert der Bonusaktionen

Die Wertigkeit der Bonusaktionen im Only Spins Casino hängt stark von den Bedingungen und Anforderungen ab, die mit ihnen einhergehen. Die Umsatzbedingungen sind entscheidend, da sie festlegen, wie oft Spieler ihren Bonus umsetzen müssen, bevor sie Gewinne abheben können. Ein günstiges Verhältnis zwischen Bonushöhe und Umsatzanforderung erhöht den wertvollen Charakter solcher Aktionen.

Bonusart Bonusangebot Umsatzanforderung
Willkommensbonus 100% bis zu 200 € + 50 Freispiele 30x
Einzahlungsbonus 50% bis zu 100 € 25x
Freispiele 30 Freispiele für ausgewählte Slots Keine

Fazit zu den Bonusaktionen

Zusammenfassend lässt sich feststellen, dass die Bonusaktionen im Only Spins Casino sowohl eine wertvolle Unterstützung für neue Spieler darstellen als auch einen Anreiz für Bestandskunden bieten. Spieler sollten jedoch die Bedingungen und Konditionen der Bonusangebote sorgfältig prüfen, um deren tatsächlichen Wert einschätzen zu können. In einer sich ständig weiterentwickelnden Online-Glücksspielumgebung können attraktive Boni die Differenz zwischen verschiedenen Plattformen ausmachen und einen erheblichen Einfluss auf die Spielerbindung haben.

FAQ zu den Bonusaktionen

1. Was ist ein Willkommensbonus?
Ein Willkommensbonus ist ein spezielles Angebot für neue Spieler, das häufig aus einem Einzahlungsbonus und zusätzlichen Freispielen besteht.

2. Welche Umsatzanforderungen gelten für Boni?
Umsatzanforderungen legen fest, wie oft ein Spieler den Bonusbetrag setzen muss, bevor Gewinne abgehoben werden können.

3. Sind Freispiele kostenlos?
Ja, Freispiele erlauben es Spielern, ohne den Einsatz ihres eigenen Geldes zu spielen, allerdings können auch hier Umsatzbedingungen gelten.

Erlebe einmalige Gewinnchancen bei Monster Win Casino

In der Welt der Online-Casinos sticht das monster win casino login hervor, indem es Spielern einzigartige Gewinnchancen bietet. Diese Plattform hat sich durch ein umfangreiches Spielangebot und attraktive Boni einen Namen gemacht, der sowohl Anfänger als auch erfahrene Spieler anspricht.

Vielfältiger Spielkatalog

Das Monster Win Casino bietet eine beeindruckende Auswahl an Spielen, die die Bedürfnisse aller Spieler abdeckt. Die Kategorien umfassen Spielautomaten, Tischspiele und Live-Casino-Angebote, wobei zahlreiche Softwareentwickler hochwertige Inhalte bereitstellen.

Zu den führenden Anbietern gehören bekannte Namen wie NetEnt, Microgaming und Evolution Gaming. Die Vielfalt ermöglicht es Spielern, neue Titel und beliebte Klassiker zu entdecken, sodass jeder Besuch spannend und unterhaltsam bleibt.

Attraktive Bonusangebote

Ein weiteres Highlight des Monster Win Casinos sind die zahlreichen Bonusangebote, die Spielern helfen, ihre Gewinnchancen zu maximieren. Die Willkommensboni sind besonders großzügig und bieten Anreize für neue Spieler, sich der Plattform anzuschließen.

  • Willkommensbonus: Bis zu 200% auf die erste Einzahlung.
  • Regelmäßige Promotions: Wöchentliche Reload-Boni.
  • Treueprogramm: Punkte, die für Freispiele und attraktive Preise eingelöst werden können.

Die Bedingungen für das Freispielen sind fair und transparent, was das Casino besonders attraktiv macht.

Sichere Zahlungsoptionen

Das Monster Win Casino legt großen Wert auf die Sicherheit seiner Spieler und bietet eine Vielzahl von Zahlungsmethoden an. Dazu gehören gängige Optionen wie Kreditkarten, E-Wallets und Banküberweisungen. Die Transaktionen sind schnell und sicher, was ein positives Spielerlebnis fördert.

Zahlungsmethode Verarbeitungsgeschwindigkeit Min. Einzahlung
Kreditkarte Sofort 10 €
Skrill Sofort 10 €
Banküberweisung 1-3 Werktage 20 €

FAQ – Häufig gestellte Fragen

  • Wie sicher ist das Monster Win Casino? Das Casino ist lizenziert und nutzt modernste Sicherheitsmaßnahmen, um die Spieler zu schützen.
  • Welche Spiele sind verfügbar? Die Plattform bietet eine breite Palette von Slots, Tischspielen und Live-Dealer-Spielen an.
  • Wie lange dauern Auszahlungen? Auszahlungsgeschwindigkeiten variieren je nach Zahlungsmethode, in der Regel zwischen sofort bis zu 3 Werktagen.