প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস সমূহের নিরাপত্তারক্ষীদের মাঝে কুরবানির গোশত উপহার দিয়েছে ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নর্থসাউথ, আইইউবি, আইইউবিএটি, ডিআইইউ, ব্রাক ইউনিভার্সিটি, আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বিইউএফটি, এআইইউবি, সাইউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউআইউ, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি সহ ২০টি ক্যাম্পাসে ঈদের দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের মাঝে কুরবানির গোশত উপহার দেওয়া হয়।
প্রতি বছরই এমন আয়োজন করে থাকে বলে জানিয়ে সংগঠনটি আরও জানায়, জুলাই বিপ্লবে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকায় অবস্থানরত পরিবারের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সফরা ই ঈদ কর্মসূচি সহ বিভিন্ন আয়োজন ছিল ঈদের দিন।
কর্মসূচীর অংশ হিসেবে পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার উদ্যোগে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ ইকবালের পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সংগঠনটির প্রতিনিধিদল।
সাক্ষাৎকালে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ শহীদ আসিফ ইকবালের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। এসময় তারা বলেন, দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের অবদান কখনো ভোলার নয়। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
শহীদ আসিফ ইকবালের পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মৃতি জাতির হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে থাকবে। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের খোঁজখবর নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার অংশ হিসেবেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কোরবানির ঈদের আগের দিন আজ বুধবার বিকেলে মহিষটি নিয়ে গেছে পুলিশ। বিশ্বব্যাপী আলোচিত এই মহিষকে এখন মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর একজন সহকারী প্রেস সচিব জানিয়েছেন।
মাথায় ঢেউখেলানো গোলাপি রঙের চুলের মহিষটি নিয়ে দেশীয় সংবাদমাধ্যম ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা হয়। মহিষের ভিডিও প্রচার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম।
২১ মে টেলিগ্রাফের খবরের শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশ টু স্যাক্রিফাইস ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ দ্য অ্যালবিনো বুল (বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোরবানি হতে যাচ্ছে)। চার বছর বয়সী মহিষটির ওজন ১ হাজার ৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৬৮০ কেজি)।
অ্যালবিনো জাতের এ মহিষের চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। মহিষটি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জিয়াউদ্দিন মৃধার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালন–পালন করা হচ্ছিল। জিয়া উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মহিষটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখে তাঁর ভাই এর নাম রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামানুসারে।
মে মাসজুড়ে ঢাকার কাছের মানুষ ট্রাম্পকে দেখতে দলে দলে মানুষ ছুটে যান জিয়া উদ্দিনের খামারে। মহিষটি নিয়ে প্রথম আলো ১২ মে খবর প্রকাশ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
আজ বিকেল চারটার দিকে কেরানীগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মনিরুজ্জামানের বাড়িতে উপস্থিত হন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, মহিষটি কোরবানি করা যাবে না। এটিকে আপাতত থানায় নিয়ে যেতে বলেছে।’ পরে মনিরুজ্জামান মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ থানায় পৌঁছে দেন।
এরপর মহিষকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় দেওয়ার বিষয়ে জানা যায়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব কে এম নাজমুল হক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এই মহিষটি নিয়ে মানুষের মনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। এ ছাড়া এটি একটি ‘রেয়ার ব্রিড’ হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে সংরক্ষণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নাজমুল হক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আপাতত পশুটি কিনে নিয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রাণীটির যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার বিষয়টি দেখভালের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।’
মহিষটির বিশেষ এই রঙের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় চিড়িয়াখানার চিকিৎসক আতিকুর রহমান বলেন, ইন ব্রিডিং (একই বংশের মধ্যে প্রজনন) হলে এমন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিড়িয়াখানায় চারটি বাঘের মধ্যে তিনটি বাচ্চা বাঘ এমন সাদা হয়েছে। শরীরে রঞ্জক পদার্থ ম্যালানিন কম থাকলে মহিষের ক্ষেত্রে কালো না হয়ে সাদা হবে। প্রতি ১০ হাজারের মধ্যে একটি এমন হতে পারে।
চিড়িয়াখানায় রাখার জন্য মহিষটি সরকার নিচ্ছে। বিনিময়ে তাদের কী দেওয়া হবে, এ প্রশ্নের জবাবে ক্রেতা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকার বলেছে, আমাদের যা দাম আছে, সে টাকা দিয়া দেবে, নইলে কোরবানির জন্য গরু দিয়া দেবে।’
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ২০১৩-১৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনে আহত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থীকে কোরবানির পশু হিসেবে ছাগল উপহার দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা। পাশপাশি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জুলাই বিপ্লবের শহিদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।
আয়োজকরা জানিয়েছে, এবারের ঈদুল আজহায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার পক্ষ থেকে মোট ৪টি গরু, ২টি ছাগল ও ২টি ভেড়া কুরবানির প্রস্তুতি সম্পন্ন নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অবস্থানরত শহিদ ও আহত পরিবারগুলোর দোরগোড়ায় ঈদের শুভেচ্ছা, উপহার এবং কুরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এছাড়া ২০১৩-১৪ সালের আন্দোলনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন, তাদেরকেও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে। সে সময়ের ছাত্র আন্দোলনে আহত এবং বর্তমানে শিবিরে ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহ আল ফাহাদ ও হুমায়ুন কবিরের কুরবানির উদ্দেশ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল উপহার হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের বীর শহিদদের স্মরণে গরু কুরবানি করছে সংগঠনটি। ঢাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (আইইউবি) শহিদ আসিফের পরিবার বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় তাদের কাছে এই কুরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া জামালপুর, নীলফামারী, পটুয়াখালী এবং বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জুলাই আন্দোলনের অন্যান্য শহিদ পরিবারের কাছেও এই কুরবানির মাংস সশরীরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম জুলাই বিপ্লবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, জুলাই বিপ্লব ও গণ-আন্দোলনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অগ্রণী এবং ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির এই আন্দোলনকে মনে-প্রাণে ধারণ করে রাজপথে সক্রিয় ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অংশ হিসেবে আমাদের এই বিশেষ কুরবানি আয়োজন।
কুরবানি কর্মসূচির পাশাপাশি ঈদের দিন ঢাকার উত্তরা ও বসুন্ধরায় অবস্থানরত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘সফরা-এ-ঈদ’ শিরোনামে ঈদ পুনর্মিলনী ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজের এই আয়োজনে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারবেন।
পাশাপাশি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পশ্চিম শাখার আয়োজনে থাকছে ঈদ এ জশনে উখুওয়াত। ঢাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য মিরপুর-০১ এবং আশুলিয়া অঞ্চলে এই আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়াও জুলাই বিপ্লবে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির যেসব শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছে তাদের পরিবারের জন্য খাসী উপহার পৌঁছে দিবে সংগঠনটি।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হট্টগোল ও জেলা নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার (২৭ মে) দুপুরে উপজেলার সখিপুর ফাজিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ শাখার সভাপতির দায়িত্ব স্থগিত করা এবং কয়েকজন নেতাকর্মীর সদস্যপদ নিয়ে অসন্তোষের জেরে সম্প্রতি উত্তর ও দক্ষিণ শাখার একাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার নতুন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের লক্ষ্যে সখিপুর ফাজিল মাদ্রাসায় যান জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি, অর্থ সম্পাদক ও মাদ্রাসাবিষয়ক সম্পাদক। তবে বঞ্চিত নেতাকর্মীদের সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে না পারায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কয়েক দফা হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এমাদুল হক ও স্থানীয় নেতা মাহাবুবুল আলম। তবে প্রথমদিকে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।
খবর পেয়ে দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ ও জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ জেলা নেতাদের সেখান থেকে বের করে আনা হয়।
উত্তর (দেবহাটা) শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন বলেন, তাদের শাখার ১০ জন নেতাকর্মী পদত্যাগপত্র জমা দিলে জেলা শাখা তাদের সঙ্গে কোনো আলাপ আলোচনা না করেই তা গ্রহণ করেছে। তিনি দাবি করেন, জেলা সভাপতি একক সিদ্ধান্তে সংগঠন পরিচালনা করছেন এবং তার পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
ছাত্রশিবিরের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি জোবায়ের হোসেন বলেন, দেবহাটা শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন স্বেচ্ছায় কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে আবেদন করেছিলেন এবং সেই আবেদন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্ব বণ্টনের জন্য জেলা নেতারা সেখানে গেলে তাদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, সংগঠনের বাৎসরিক দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা চলছিল। দায়িত্ব পরিবর্তনের আশঙ্কা থেকেই কিছু নেতাকর্মী উত্তেজিত হয়ে বাধা সৃষ্টি করেন। পরে আলোচনা সাপেক্ষে ঈদের পর বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বসার সিদ্ধান্ত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এমাদুল হক বলেন, জেলা ও উপজেলা শিবিরের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ঈদের পর বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান করা হবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকায় অবস্থানরত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পশ্চিম শাখা। “ঈদ-ই জশনে উখুওয়াত” শীর্ষক এ আয়োজন ঈদের দিন অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের দিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর মিরপুর-১ ও আশুলিয়া এলাকায় একযোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজ, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ মিলনমেলা।
ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং ঢাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আয়োজনে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের গুগল ফর্ম পূরণের মাধ্যমে নিবন্ধন করার অনুরোধ জানিয়েছে আয়োজকরা।গুগল ফর্ম লিংক ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পশ্চিম শাখার ফেসবুক পেজে দেওয়া আছে।
এছাড়া অফলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য একটি নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।
মোঃ রুবেল হোসেন
আজ পবিত্র আরাফার দিন। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যময় ও ফজিলতময় এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন ‘উকুফে আরাফা’ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র আরাফাতের ময়দানে, যেখানে বিশ্বের লাখো হাজি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা, রহমত ও নাজাতের আশায় অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় মগ্ন রয়েছেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।”— (সূরা আল-মায়িদাহ : ৩)
সাহাবায়েকরাম, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীদের মতে, এই আয়াতটি বিদায় হজের সময় আরাফার দিনেই নাজিল হয়েছিল। ফলে আরাফার দিন ইসলামের পূর্ণতা ও মানবমুক্তির বার্তা বহনকারী এক ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ এই আরাফার ময়দানেই প্রদান করেছিলেন। সেই ভাষণে তিনি মানবতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, ভ্রাতৃত্ব, নারীর অধিকার ও পারস্পরিক সহমর্মিতার শিক্ষা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন—“কোনো আরবের ওপর অনারবের এবং কোনো অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ায়।” হাদিসে আরাফার দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিমের শরীফের এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—“আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়।” অন্য এক হাদিসে এসেছে— “আল্লাহ তাআলা আরাফার দিনের চেয়ে বেশি মানুষকে আর কোনো দিনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না।” —(সহিহ মুসলিম)
আজকের এই পবিত্র দিনে মুসলমানরা নফল রোজা, দোয়া, জিকির, তিলাওয়াত ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করছেন। মসজিদ, মাদরাসা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশ্বাস, আরাফার দিন মানুষকে আত্মসমালোচনা, ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়।
পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বমুহূর্তে আরাফার এই মহান দিন মুসলিম উম্মাহর মাঝে আনে ঈমানি শক্তি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা।
লেখক: শিক্ষার্থী, ডুয়েট
বেঞ্চে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অভয় কুমার সিংহ নামের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
গতকাল রবিবার (২৪ মে) জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত এক কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক চন্দন দাস (ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগ), যুগ্ম-আহ্বায়ক ঝলক দাস, যুগ্ম-আহ্বায়ক রিপন চন্দ্র সরকার (মার্কেটিং বিভাগ) এবং ছাত্রদলকর্মী ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সাগর।
ভুক্তভোগী অভয় কুমার জানান, তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী (পায়ে সমস্যা)। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় হলের এক চায়ের দোকানে পা তুলে বসে থাকার কারণে অভিযুক্তদের দ্বারা সংঘবদ্ধভাবে নিজ কক্ষে মারধরের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি জানিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাবি শিক্ষার্থী সংসদ ২’-এ পোস্ট করে আজ সোমবার (২৫ মে) এ অভিযোগ তুলেছেন।
সেই ফেসবুক পোস্টে অভয় কুমার লেখেন, আমি অত্যন্ত কষ্ট, অপমান ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি নিয়ে এই পোস্টটি লিখতে বাধ্য হচ্ছি। ভার্সিটির শুরুতে যখন আমি হলে উঠি তখন সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবনে উঠি। পায়ের সমস্যা থাকার পরেও অনেক কষ্ট করে আমি সেই বিল্ডিংয়েই অবস্থান করি। আমাদের ব্যাচমেটরা মিলে আমরা অনেক ভালোই ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে রবীন্দ্র ভবন খুলে দেওয়ায় ব্যাচমেটদের ছেড়ে একটু কষ্ট লাঘব করার আশায় ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জ শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্ধকৃত রুমে উঠি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৪ মে সন্ধ্যার সময় রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদার চায়ের দোকানে পা তুলে বসে থাকার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝলক দাস(২০২১-২২), চন্দন দাস (২০২০-২১ ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ) রিপন (২০২১-২২ মার্কেটিং) ও সাগর(২০২১-২২ ম্যানেজমেন্ট) আমার রুমে এসে আমাকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেছে।
ঘটনার বর্ণনা জানিয়ে এ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী লেখেন, শুরুতে আমি যখন চায়ের দোকানে বসে ছিলাম তখন কেউ না থাকায় আমি পা তুলে বসে ছিলাম, পায়ের হাঁটুতে সমস্যা থাকার কারণে। তখন চন্দন নামের এক ছেলে আর ঝলক দোকানে ঢুকে বসে। আমি পা তুলে দেওয়ার পরেও অনেক জায়গা থাকায় তারা ঠিকভাবেই বসতে পারে। পরবর্তীতে চন্দন নামের ছেলেটা আমাকে বলে পা নিচে নামিয়ে বসতে, এটা পা উপরে তোলার জায়গা না, নিজের রুমে গিয়ে পা তুলে বস ইত্যাদি কথা বলে। আমি বলি যে, ‘দাদা এখনো তো জায়গা ফাঁকাই আছে, যখন কেউ আসবে আমি তখন আমি পা নামিয়ে নিব’।
তিনি আরও বলেন, যদিও আমি একটি পা নিচে নামিয়ে রাখি। কারণ একটু পা অনেক বেশি সমস্যা ছিল, পাশাপাশি সেখানে বসার মতো কেউ ছিল না)। এছাড়াও ঝলকের সাথে দোকানে আমার কোন কথাই হয় নি। পরবর্তীতে আমি আমার রুমে এসে বঙ্গবাজার যাই। বঙ্গবাজার থেকে আসার পর আমি রুমে ঢুকা মাত্রই চন্দন, ঝলক দাশ, রিপন, সৌরভ এই চারজন আমার রুমে এসে আমার উপর শারীরিক নির্যাতন করে, থাপ্পর মারে। এছাড়াও হুমকি দিয়েছে যাতে আমাকে আর চায়ের দোকানের দিকে দেখা না যায়, নিচে যাতে দেখা না যায়।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ও জগন্নাথ হলেরই আবাসিক শিক্ষার্থী সর্ব মিত্র চাকমা ফেসবুকে লেখেন, গতকাল রাতে জগন্নাথ হলে ২০-২১ সেশনের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে রুমে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি জগন্নাথ হলে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত রুমে থাকেন। কারণ, তার পায়ের হাঁটুতে সমস্যা থাকার কারণে হলের দোকানে পা উঠিয়ে রাখেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা (ঝলক দাস, চন্দন দাস, রিপন, সাগর) পা নামাতে বলে।
তিনি আরও লেখেন, অভিযুক্তরা ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভিক্টিমকে কল দিয়ে তার দলের নাম এ ঘটনায় না আনতে অনুরোধ জানান।
সর্ব মিত্র চাকমা আরও বলেন, কিছুদিন আগেও জগন্নাথ হলে রুমে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গেস্টরুমের অতীত ইতিহাস থাকার কারণে সে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে আগাতে পারেনি। এক হল সংসদ সদস্যও সে ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রিপনকে কল দিলে তার ফুফুর কাছে মোবাইল দেওয়া হয়। পরে তার কাছ থেকে এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।
পরে ঝলক দাসকে কল দিলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মারধর করা হয়নি। তবে দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়েছিল, পরে যখন জানতে পারি সে প্রতিবন্ধী, তখন রুমে তাকে সরি বলতে গিয়েছিলাম আমরা।
তিনি বলেন, বিষয়টাকে পলিটিক্যালি ফ্রেমিং করা হচ্ছে। আমরা মারামারি করিনি, কিন্তু বলা হচ্ছে, করেছি। আর আমরা ছাত্রদলের সঙ্গে রাজনীতি করছি, কিন্তু এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাগরকে কল দিলে তিনি ‘একটু পরে কল দেব’ বলে ফোন কেটে দেন। পরে আর কল দেননি। এর বাইরে চন্দন দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেবাশীষ পালকে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি।
ভোক্তা অধিকারভিত্তিক সংগঠন ‘কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)-এর যুব শাখা ‘কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ’ (সিওয়াইবি) এর World University of Bangladesh শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ তানবীর হায়দার রোহানকে সভাপতি এবং পবিত্র হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) সিওয়াইবি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান মাহমুদ এ কমিটির অনুমোদন দেন।
নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি অমর দাস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাব্বির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ তৌহিদুর রহমান, যোগাযোগ সম্পাদক আসরাফুল হাসান, জনসংযোগ সম্পাদক মোঃ সাকিব মির্জা, প্রকাশনা সম্পাদক নুর হামজা পিয়াস ও কোষাধ্যক্ষ সাকলাইন নুরশেদ প্রিয়।
এছাড়া গবেষণা সম্পাদক মোঃ আমানুল হক শিহাব, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক ইন্তিয়াজুল হক রাফিত, প্রশিক্ষণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল আমিন দেওয়ান, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক শৈশব কুমার দাস, ভোক্তা-অধিকার বিষয়ক সম্পাদক শাহ মোঃ সিফাতুল ইসলাম এবং সচেতনতা ও ক্যাম্পেইন সম্পাদক আফরিনা হোসেনসহ বিভিন্ন পদে আরও সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিসিএস ২০১৩ সাল থেকে দেশে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলা, ৩৫০টি থানা এবং ৭৯টি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় রড ভর্তি একটি ট্রাক উল্টে অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি সড়কের পাশে উল্টে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে জুলাই আন্দোলনের পর ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগের পরই নতুন এ নিয়োগ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়ে নিয়োগের বিষয়টি ইসলামী ব্যাংককে জানিয়েছে।
খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন। এখন খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শে অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আগের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পদত্যাগের পর গতবছরের ২৩ জুলাই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনের মুখে আজ ব্যাংকটির পূর্ব নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা হওয়ার কথা ছিল। পর্ষদ সভায় এসে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করবেন এমন আলোচনা ছিল।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে তাকে ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। আগামী ৩১ মে তার ছুটি শেষ হওয়ার কথা। আজ ওমর ফারুক প্রধান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হলেও আন্দোলনকারীরা তাকে ব্যাংকে ঢুকতে দেয়নি। যদিও একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনিও ব্যাংকের চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়ে গেছেন।