প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীর প্রেমিকের বউয়ের সাথে বিয়ে
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন ডাক্তারদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ
৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে বিগত তিন মাসে
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড
ডুয়েটের আশেপাশের এলাকা ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য, প্রসাশনের নিরব ভূমিকা
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের তার চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির পর সচিবালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ায় প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টেলিফোন লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, গত ১ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় কার্যালয় পরিদর্শনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেখতে পান রেড টেলিফোনে কোনো সংযোগ নেই। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কাজ শুরু করে। প্রায় সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর বিকেল ৩টার দিকে সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে এমন একটি সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলে মনে করছেন তারা।
বিটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং সরকারের একাধিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।
এদিকে বিটিসিএল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ কপার ক্যাবলের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও তার কাটা ছিল, আবার কিছু স্থানে তার অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোন নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।
চিঠিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত, বিভিন্ন সময় আন্দোলনকারীদের সহজে প্রবেশ এবং নিরাপত্তা বলয়ের দুর্বলতা প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
গণমাধ্যমকে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত কার্যালয় হিসেবে সচিবালয় ব্যবহৃত হচ্ছে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় অনেক ব্যবস্থা এখনও গ্রহণ করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারাও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া গভীর তদন্তের দাবি রাখে। এ কারণে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুরক্ষা আরও জোরদার করা জরুরি।
