নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর।
নকশায় ছিল সমাজের কথা, কাঠামোয় ছিল মানবিকতার ছাপ। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে জানালেন- স্থাপত্য কেবল ভবন নির্মাণ নয়, এটি মানুষের জীবন ও পরিবেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক গড়ার এক প্রয়াস।
সোমবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী সেমিনার ও আউটডোর এক্সিবিশনে প্রজেক্ট নিয়ে অংশ নেয় স্থাপত্য বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের তৈরি স্থাপত্য মডেল, স্টুডিও প্রজেক্ট ও নগর পরিকল্পনার নকশা সর্ব সাধারণের জন্য প্রদর্শিত হয়।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আব্দুল মতিন এবং প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বি. সি. বসাক। উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক সোনিয়া আফরিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, স্থাপত্যের আসল শক্তি তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। এটি শুধু নান্দনিকতা নয়; মানুষ, সমাজ ও পরিবেশের টেকসই সমাধানের মাধ্যম। প্রদর্শনীর বিশেষ আকর্ষণ ছিল স্থাপত্য ৮৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নকশা ও ভাবনায় নির্মিত তিনটি রিয়েল স্কেল সিটিং ইনস্টলেশন। এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক সানিয়া তাবাসসুম ও সহকারী অধ্যাপক মুজাইয়ানা নওমী খান। পুরো প্রদর্শনীটি তত্ত্বাবধান করেন স্থাপত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সারাহ বাশনীন, সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া শারমিন ও সহকারী অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ সহ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থপতি ইনস্টিটিউটের হান্ড্রেড হোমস প্রজেক্টের বিভিন্ন দিক বলার সময় স্থপতি মশিউর রহমান পবিত্র বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের ডিজাইন যখন করলাম, তখন একটা ইটালিয়ান কমোডের দাম ভ্যাট ট্যাক্সসহ পড়েছে ৮৬ হাজার টাকা; যেটা এক নিম্নবিত্ত পরিবারের পুরো বাড়ি তৈরির সমান খরচ। এভাবে আমরা যদি আমাদের আশপাশে তাকাই, অনেক কিছুই দেখতে পারি।” তিনি স্থপতিদের প্রতি আহ্বান জানান, সমাজের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক ও মানবিক স্থাপত্যচর্চা আরও বিস্তৃত করতে।
প্রদর্শনীতে দর্শনার্থী ও সাংবাদিকদের সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাদী মোহাম্মদ সাদ বলেন, “আজকের প্রদর্শনী থেকে আমরা অঙ্গীকার করছি যে, সমাজ, ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি কোণে আমাদের কাজের সুযোগ রয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নত করার প্রতিশ্রুতি স্থপতিরাই দিতে পারেন। তাই নীতিনির্ধারকরা যেন স্থপতিদের কাজের ক্ষেত্র সম্প্রসারণে মনোযোগ দেন।” বিভাগের শিক্ষকরা জানান, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের কাজের মধ্য দিয়ে স্থাপত্যচর্চা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করা।
একই দিনে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় “Threads of Community: Architecture, Culture, Identity” শীর্ষক সেমিনার। সহযোগী অধ্যাপক সানিয়া তাবাসসুমের কনভেনরশিপে এবং সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া শারমিনের কো-কনভেনরশিপে আয়োজিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানিয়া তাবাসসুম। তিনি স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। সেমিনারে ছয়জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাঁদের কমিউনিটি-ভিত্তিক স্থাপত্যচর্চার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক নকশার ভাবনায় আরও এগিয়ে যেতে। প্রতি বছর ৬ অক্টোবর বিশ্ব স্থাপত্য দিবসকে সামনে রেখে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগ এ ধরনের আয়োজন করে আসছে। বিভাগের শিক্ষকরা মনে করেন, এমন উদ্যোগ তরুণ স্থপতিদের সৃজনশীল চিন্তা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও টেকসই স্থাপত্যচর্চায় যুক্ত করছে নতুন দিগন্তে।
