Wednesday, April 15, 2026
হোমপ্রবন্ধ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারণে আমরা বাঙালি বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারণে আমরা বাঙালি বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারণে আমরা বাঙালি বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের কারণেই আজ আমি গর্বের সঙ্গে নিজেকে বাঙালি বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, তবে বিভিন্ন জ্ঞানী ও গুণী মানুষের কাছ থেকে সেই সময়ের ইতিহাস, সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার সূচনার কথা জেনেছি। তাদের বর্ণনা শুনে বুঝেছি এই স্বাধীনতা কোনো সাধারণ অর্জন নয়, এটি ত্যাগ, সাহস এবং অগণিত মানুষের আত্মবলিদানের ফল।

জীবনে কয়েকটি দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে, আর সেই অভিজ্ঞতা আমাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করিয়েছে নিজের দেশের পরিচয়ের মূল্য। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছি, তখন এক গভীর গর্ব অনুভব করেছি। কারণ, একজন মানুষ যত বড় কিছুই অর্জন করুক না কেন, নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো গৌরবের অনুভূতি খুব কমই পাওয়া যায়। এই সুযোগ সবার ভাগ্যে জোটে না, কিন্তু যারা পায়, তারা এর গুরুত্ব সত্যিই উপলব্ধি করতে পারে।

একবার ভেবে দেখলে প্রশ্ন জাগে, “আমাদের দেশ যদি স্বাধীন না হতো, তাহলে কি আমরা বিশ্বের মানচিত্রে বাঙালি হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারতাম? আমরা কি বিদেশে গিয়ে গর্বের সঙ্গে বলতে পারতাম আমরা বাংলাদেশি?” নিশ্চয়ই না। তখন আমাদের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় পরিচয় থাকত না, আমাদের কণ্ঠস্বরও হয়তো এত শক্তিশালী হতো না। তাই ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের জন্য অমূল্য।

১৯৭১ সালের এই স্বাধীনতা আমাদের জাতির জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। এই অধ্যায় ধারণ করা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের। আমাদের উচিত এই স্বাধীনতার চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করা। শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়, সেটিই হওয়া উচিত আমাদের অঙ্গীকার।

স্বাধীনতা আমাদের শুধু একটি ভূখণ্ড দেয়নি, এটি আমাদের দিয়েছে আত্মপরিচয়, আত্মসম্মান এবং আত্মবিশ্বাস। এই স্বাধীনতার কারণেই আমরা আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে নিজের দেশের কথা বলতে পারি, দেশের সুনাম বৃদ্ধির চেষ্টা করতে পারি। আমাদের প্রতিটি সাফল্য দেশের পরিচয়কে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

“আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি” এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের গভীরতা। আমাদের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময়। পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত, লোকসংস্কৃতি এসবই আমাদের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বিশ্ব দরবারে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।

তবে দুঃখজনকভাবে দেখা যায়, বর্তমানের অনেক তরুণ নিজেদের সংস্কৃতির চর্চা না করে অন্ধভাবে পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিশ্ব সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিজের শিকড় ভুলে যাওয়া কখনোই কাম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় আমাদের স্বকীয়তা ক্ষয় হয়ে যেতে পারে।

তাই বর্তমান প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে এই দেশ আমরা পেয়েছি লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। আমাদের দায়িত্ব এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা, নিজের সংস্কৃতিকে লালন করা এবং দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা। তাহলেই সত্যিকার অর্থে আমরা বলতে পারব “আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি।”

লেখক:
এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন
সাবেক রোভার মেট
আমরা স্কাউট গ্রুপ, ঢাকা

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত