ক্যাম্পাস প্রতিনিধি।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। বন্ধের সময়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সাময়িক বন্ধে শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের যে কোনো ধরনের অসুবিধার জন্য ইউআইইউ কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। পরবর্তী নির্দেশনার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং নোটিশ বোর্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই এই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত এলো। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউআইইউ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত, অতিরিক্ত ফি আদায়, মানবিক পরিস্থিতিতে অসহযোগিতা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে।
বিশেষ করে “ইউআইইউ রিফর্ম ১.০” নামে শিক্ষার্থীদের দাবির একটি সিরিজ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। জুলাই মাসের আন্দোলন, যা “জুলাই বিপ্লব” নামে পরিচিত, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা এবং অধিকার আদায়ের স্পৃহা জাগিয়ে তোলে।
শিক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছিলেন:
- নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অপসারণ ও প্রশাসনিক সংস্কার,
- পরীক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস এবং ফি সংক্রান্ত অসঙ্গতি দূর করা,
- পূর্বের প্রতিশ্রুত সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি ও আমরণ অনশনের ঘোষণার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। আন্দোলনের মুখে ইউআইইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া পদত্যাগ করেন। তার সাথে আরও পদত্যাগ করেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং ইনস্টিটিউট পরিচালকরা। তবে পদত্যাগপত্রে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আনার চেষ্টা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
অনেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো দায় স্বীকার করেনি এবং সুষ্ঠু সমাধানের পরিবর্তে সংকট এড়ানোর কৌশল নিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে যারা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শেষ সেমিস্টারে আছেন, তাদের জন্য এই বন্ধের ঘোষণা নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত কার্যক্রম চালু করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ফাঁকা। শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উদ্বেগ, হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা এখন সময়ই বলবে।
