ইরানে পশ্চিমা আগ্রাসন- খোমেনির নির্মম বিদায়ে স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব
উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, ইরানের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোকে যুদ্ধে টানার অভিযোগ, মিনাবে স্কুলে হত্যাযজ্ঞ এবং খামেনির মৃত্যুর পর নতুন শক্তিসংকটে মধ্যপ্রাচ্য।
সাদী মোহাম্মদ সাদ
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি; আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাকে ছাড়া এ অঞ্চলের গত চার দশকের কোনো সমীকরণ মেলানোই অসম্ভব। মাশহাদের এক অতি সাধারণ ধার্মিক পরিবার থেকে উঠে আসা এই নিভৃতচারী ছাত্রটি কেবল ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ নন, বরং ইসলামী বিশ্বের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক। তার জীবন ছিল বিপ্লব, কারাবরণ, রক্তাক্ত হামলা, যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব, কঠোর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক প্রতিরোধ রাজনীতির দীর্ঘ এক ইতিহাস।ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা। একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ ৪৮ জন সামরিক ও বেসামরিক নেতা নিহত হয়েছেন। সেই মানুষটির মৃত্যুকে ঘিরে এখন নতুন অগ্নিগর্ভ বাস্তবতার মুখোমুখি মধ্যপ্রাচ্য। ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮১ জন ১০ বছর বয়সী শিশু।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় শামখানি ও পাকপুরের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া বিপ্লবী গার্ডের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সৈয়দ মজিদ মুসাভি এবং গোয়েন্দা উপমন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা ওই যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন।
দেশটির বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে তার মেয়ে, জামাতা, নাতি এবং এক পুত্রবধূ রয়েছেন। পরে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরান এ ঘটনায় ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হামলার আদেশদাতারা শিগগিরই তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা করবে।
ইরানের নিহতদের অফিসারদের মধ্যে 
মেজর জেনারেল আবদোলরাহিম মুসাভি: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ।
মোহাম্মদ পাকপুর: ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) এর গ্রাউন্ড ফোর্সের কমান্ডার।
আলি শামখানি: ইরানের ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
আজিজ নাসিরজাদেহ: ইরানের বর্তমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ।
সালাহ আসাদি: সামরিক জরুরি কমান্ডের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান [০.৪.৯]।
মোহাম্মদ শিরাজী: সর্বোচ্চ নেতার সামরিক কার্যালয়ের প্রধান [০.৪.৯]।
সর্বমোট নিহতের সংখ্যা: সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে সব মিলিয়ে ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি বড় অংশ বেসামরিক নাগরিক
মাশহাদ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রবিন্দু
আলী খামেনির জীবন শুরু হয়েছিল ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে, ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার পিতা আয়াতুল্লাহ সায়েদ জাওয়াদ খামেনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ, মিতব্যয়ী আলেম। দারিদ্র্য, কৃচ্ছ্রসাধন ও ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে কাটানো শৈশবই খামেনির রাজনৈতিক ও নৈতিক চেতনার ভিত গড়ে দেয়।
মাশহাদে প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা শেষ করে ১৯৫৮ সালে তিনি কৌমে যান। সেখানেই আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সান্নিধ্যে এসে তিনি ইসলামী রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন। ইসলামকে কেবল আধ্যাত্মিক অনুশাসন নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ধারণা তাকে দ্রুতই এক বিপ্লবী আলেমে পরিণত করে।
বিপ্লব, কারাবরণ ও বেঁচে ফেরার ইতিহাস
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে শাহবিরোধী আন্দোলনে খামেনি ছিলেন সামনের সারির সংগঠক ও বক্তা। মাশহাদ ও তেহরানের মসজিদে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে তিনি যুবসমাজকে সংগঠিত করেন। ইমাম খোমেনির ‘উইলায়াত-ই ফকিহ’ তত্ত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি শাহের পশ্চিমাঘেঁষা নীতি, দুর্নীতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন।
এই সক্রিয়তার কারণে ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে তাকে ছয়বার গ্রেপ্তার করা হয়। সাভাকের নির্যাতন, নির্জন কারাবাস এবং নির্বাসন;সবকিছু তাকে আরও কঠোর করে তোলে। ১৯৭৭ সালে ইরানশহরে নির্বাসিত হয়েও তিনি জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের নেতৃত্বগুণের পরিচয় দেন। ১৯৭৮ সালের শেষভাগে মুক্তি পেয়ে তিনি সরাসরি খোমেনির বিপ্লবী কাউন্সিলে যোগ দেন।
১৯৮১ সালের ২৭ জুন বোমা হামলায় তিনি প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। এ হামলায় তার ডান হাত স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনা তাকে সমর্থকদের চোখে এক ‘জীবন্ত শহীদ’-এর মর্যাদা দেয়।
১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সবচেয়ে সংকটময় সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার অভিজ্ঞতা তাকে এক কঠোর বাস্তববাদী নেতা হিসেবে গড়ে তোলে।
১৯৮৯ সালে ইমাম খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। প্রথমদিকে অনেকেই ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো দীর্ঘদিন টিকবেন না। কিন্তু গত ৩৬ বছরে তিনি গার্ডিয়ান কাউন্সিল, আইআরজিসি, বিচার বিভাগ, গোয়েন্দা কাঠামো এবং রাষ্ট্রের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর এমন দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাকে আধুনিক ইরানের দীর্ঘতম মেয়াদের শাসকে পরিণত করে।
খামেনির পররাষ্ট্রনীতি: প্রতিরোধ, স্বনির্ভরতা, আঞ্চলিক প্রভাব
খামেনির পররাষ্ট্রনীতির মূলভিত্তি ছিল ‘প্রতিরোধ’। তার কাছে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ইরানের প্রধান প্রতিপক্ষ, আর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ছিল আত্মসমর্পণ নয়, বরং স্বনির্ভরতার দিকে ঠেলে দেওয়া এক বাস্তবতা। ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’র ধারণা, পরমাণু কর্মসূচিতে অটল থাকা, এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী করা ছিল তার কৌশলের স্তম্ভ।
লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ার আসাদ সরকার, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে ইরানের প্রভাব বলয় বিস্তারের পেছনে খামেনির বড় ভূমিকা ছিল। ইসরায়েলের প্রতি তার অবস্থান ছিল প্রকাশ্য, কঠোর ও আপসহীন। ফিলিস্তিনি প্রশ্নে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের প্রতি সমর্থন দিয়ে তিনি নিজেকে মুসলিম বিশ্বের ফিলিস্তিনপন্থী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
সংঘাতের বিস্তার: উপসাগরীয় স্থাপনায় হামলা ঘিরে নতুন অভিযোগ
খামেনির মৃত্যুর পরপরই সংঘাত ভয়াবহভাবে বিস্তৃত হয়। আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরান অভিযোগ তোলে, এসব হামলার পেছনে ইসরায়েল রয়েছে। তেহরানের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ;যার উদ্দেশ্য আঞ্চলিক ক্ষোভ উসকে দেওয়া এবং আরব দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামানো।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আই–কে বলেন, সৌদি আরবে সংঘটিত বেশ কিছু ড্রোন হামলার পেছনে ইসরায়েল ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ওমানেও অন্তত একটি হামলার জন্য ইসরায়েল দায়ী। তার ভাষায়, “আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারি, বেশ কিছু হামলা আমাদের (ইরান) পক্ষ থেকে চালানো হয়নি।”
ইরানের দাবি: বেসামরিক স্থাপনায় সব হামলা তাদের নয়
গত শনিবার থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোকে নিশানা বানানো শুরু করে। তেহরানের ভাষ্য, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের প্রতিশোধ। তবে ইরান বলছে, উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনা বা কিছু বেসামরিক অবকাঠামোয় যেসব হামলা হয়েছে, তার সবগুলোর দায় তাদের নয়।
পাঁচ দিনের এই সংঘাতেই সৌদি আরব ও কাতারের তেল-গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদেশিদের কাছে দুবাইয়ের ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তিও বড় ধাক্কা খেয়েছে।
ইরানি মাটিতে মোসাদের তৎপরতা
ইরানের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কিছু ড্রোন হামলা সরাসরি মোসাদ পরিচালনা করেছে। তারা বলছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র নিজেদের ভূখণ্ডেই মোসাদের সক্রিয়তার আলামত শনাক্ত করেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ড্রোন মজুতের জন্য ব্যবহৃত গুদামগুলো খুঁজে বের করে ধ্বংস করার অভিযান চলছে।
একটি সূত্রের ভাষ্য, শুধু ইরানেই নয়, অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও মোসাদের গুদাম বা অপারেশনাল রুম থাকতে পারে, যেখান থেকে উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দায় ইরানের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। এ বক্তব্যে পুরনো ঘটনাও টানা হয়েছে;যেমন ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীকে দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রে হত্যা, পারমাণবিক কর্মসূচিতে ম্যালওয়্যার হামলা এবং নথি চুরি।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা: ইসরায়েলের স্বার্থে সরাসরি সংঘাত
তেহরান পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ ইমামিয়ান মনে করেন, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘ কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ভেঙে দেওয়ার জন্যই এ ধরনের হামলার পেছনে ইসরায়েলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তার মতে, ইরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা বলেছে, কিন্তু বেসামরিক ও অ-মার্কিন স্থাপনায় হামলার পেছনে হয় ইসরায়েলি ভূমিকা আছে, নয়তো বিরল ক্ষেত্রে কারিগরি ত্রুটি।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের সিনা তুসির মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে সরাসরি ইরানের বিপক্ষে যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারলে তা ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করবে। কারণ এতে সংঘাত আঞ্চলিক রূপ নেবে এবং তেহরান আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
মিনাবের স্কুলে ভয়াবহ হামলা
সংঘাতের সবচেয়ে শোকাবহ অধ্যায়গুলোর একটি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের মেয়েদের একটি প্রাইমারি স্কুলে হামলা। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এ হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হতে পারে;যদিও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এ বিষয়ে মন্তব্য থেকে বিরত থেকেছেন। হোয়াইট হাউস সরাসরি দায় অস্বীকার করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনি জানান, ওই হামলায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। যদিও এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুল, হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং যৌথ সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানে হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভৌগোলিক এলাকা ও লক্ষ্যবস্তুর ধরন অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে। পশ্চিম ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, আর দক্ষিণাঞ্চলে একই ধরনের লক্ষ্যবস্তু ও নৌবাহিনীর স্থাপনাগুলোতে হামলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
রিয়াদ, কুয়েত ও সমুদ্রপথে উত্তেজনা
শুক্রবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী রিয়াদের আকাশে বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই দিনে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি জাহাজেও আক্রমণ হয়েছে, যা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
“আমাদের প্রতিরোধক অস্ত্র থাকতেই হবে, যদি কোনো দেশের কাছে তা না থাকে, তাহলে তারা তার শত্রুদের পায়ের তলায় মিশে যেতে বাধ্য হয়।”
; আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, মৃত্যুর ১১ দিন আগে শেষ জনসভায়
“আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারি, বেশ কিছু হামলা আমাদের (ইরান) পক্ষ থেকে চালানো হয়নি।”
; ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা
“জায়নবাদী সত্তা এসব দেশকে যুদ্ধে টেনে এনে ধ্বংসযজ্ঞ বাড়াতে চায়।”
; আবদুল আজিজ আলতুওয়াইজিরি
খামেনির মৃত্যু, ইরানের পাল্টা প্রতিশোধ, উপসাগরীয় স্থাপনায় হামলা, মোসাদের তৎপরতার অভিযোগ, মিনাবে স্কুলে হত্যাযজ্ঞ এবং জিসিসির সম্ভাব্য অবস্থান;সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অভূতপূর্ব মোড়ে। প্রশ্ন একটাই: এই সংঘাত কি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সীমার মধ্যে থাকবে, নাকি তা ছড়িয়ে পড়বে পুরো আরব উপসাগর, জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো জুড়ে?
