মোঃ রুবেল হোসেন
আজ পবিত্র আরাফার দিন। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যময় ও ফজিলতময় এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন ‘উকুফে আরাফা’ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র আরাফাতের ময়দানে, যেখানে বিশ্বের লাখো হাজি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা, রহমত ও নাজাতের আশায় অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় মগ্ন রয়েছেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।”— (সূরা আল-মায়িদাহ : ৩)
সাহাবায়েকরাম, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীদের মতে, এই আয়াতটি বিদায় হজের সময় আরাফার দিনেই নাজিল হয়েছিল। ফলে আরাফার দিন ইসলামের পূর্ণতা ও মানবমুক্তির বার্তা বহনকারী এক ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ এই আরাফার ময়দানেই প্রদান করেছিলেন। সেই ভাষণে তিনি মানবতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, ভ্রাতৃত্ব, নারীর অধিকার ও পারস্পরিক সহমর্মিতার শিক্ষা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন—“কোনো আরবের ওপর অনারবের এবং কোনো অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ায়।” হাদিসে আরাফার দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিমের শরীফের এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—“আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়।” অন্য এক হাদিসে এসেছে— “আল্লাহ তাআলা আরাফার দিনের চেয়ে বেশি মানুষকে আর কোনো দিনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না।” —(সহিহ মুসলিম)
আজকের এই পবিত্র দিনে মুসলমানরা নফল রোজা, দোয়া, জিকির, তিলাওয়াত ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করছেন। মসজিদ, মাদরাসা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশ্বাস, আরাফার দিন মানুষকে আত্মসমালোচনা, ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়।
পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বমুহূর্তে আরাফার এই মহান দিন মুসলিম উম্মাহর মাঝে আনে ঈমানি শক্তি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা।
লেখক: শিক্ষার্থী, ডুয়েট
