Wednesday, June 24, 2026
হোমরাজনীতিমিটফোর্ড হসপিটালে চিকিৎসকদের উপর হামলা, চিকিৎসকদের প্রতিরোধে টয়লেটে আশ্রয় নিলেন জবি ছাত্রদল...

মিটফোর্ড হসপিটালে চিকিৎসকদের উপর হামলা, চিকিৎসকদের প্রতিরোধে টয়লেটে আশ্রয় নিলেন জবি ছাত্রদল সভাপতি

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চিকিৎসকদের দাবি, ঘটনার সময় হিমেলের সঙ্গে আরও ১০-১২ জন ছিলেন। হামলার পর চিকিৎসকদের প্রতিরোধের মুখে তিনি হাসপাতালের একটি টয়লেটে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে সেখান থেকে বের করে আনে।

ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ জুন) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, ১০-১২ জন ব্যক্তি সার্জারি বিল্ডিংয়ের ৪২৯ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক হামলা চালায়। সংগঠনটি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১ মার্চ হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হলেও প্রায় চার মাস পার হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর চার দফা দাবি জানিয়েছে আইডিএ। দাবিগুলো হলো— প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

আইডিএ জানিয়েছে, দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের সব বিভাগে কর্মবিরতি চলবে।

হাসপাতালের একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থ এক রোগীকে হাসপাতালে আনার পর ভর্তি ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছু সময় লাগায় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তারা দাবি করেন।

একজন চিকিৎসক অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের পরিচয় দিয়ে চিকিৎসকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন।

তবে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেহেদী হাসান হিমেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, রাতে হাসপাতালে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত