জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রতিটি ঘরে ঘরে যেয়ে এনসিপির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে পাড়ায় পাড়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ তৈরি করুন। সরকার ব্যর্থ হলে জনতার আদালতে আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিজমের বিচার করা হবে।
শুক্রবার (২ মে) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। নাহিদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের নয় মাস পরেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে, এটা আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা বলে মনে করি। তিনি বলেন, নৌকা মার্কাকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। বিচার চলাকালীন সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে জুলাই ঘোষণাপত্র এখনো আসছে না।

এ দেশের মানুষ অধিকার আদায়ে অসংখ্যবার রাজপথে নেমেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিচার এবং সংস্কারের জন্যই মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। সাতচল্লিশের আজাদিদের স্বপ্ন লুট হয়েছিল, যার কারণেই মানুষ একাত্তর সালে অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। কিন্তু বাহাত্তর সালে মুজিবাবাদীদের হাতে সেটা বেহাত হয়েছিল। মুজিববাদী সংবিধানের নামে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। গণতন্ত্রের নামে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই সনদ তৈরি করতে হবে। তাতে সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কথা থাকতে হবে। নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে। ঢাকা একদিন এই দক্ষিণ এশিয়াকে নেতৃত্ব দেবে।
আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলুন: আখতার
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি দলটির তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের এই আহ্বান জানান। আখতার বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলুন। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ প্রশ্নের মীমাংসা করে ছাড়বে। যত দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ প্রশ্নের সমাধান না হয়, তত দিন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের সদস্যরা কাজ করবেন।
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
