একটি ভোরের নাম স্বাধীনতা।

একটি ভোরের নাম স্বাধীনতা রোভার জাহিদুল হক শ্রাবণ একটি জাতির জন্মের সাক্ষী। ১৯৭১ সালের এই রাতে যখন সারা দেশ ঘুমিয়ে ছিল, তখন ইতিহাস তার সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়টি লিখতে বসেছিল। একদিকে ছিল বন্দুকের নল, অন্যদিকে ছিল একটি নিরস্ত্র জাতির বুকভরা স্বপ্ন। সেই রাতেই জন্ম নিয়েছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ধারণা, যার নাম বাংলাদেশ। এই দিনটা যতবার ফিরে আসে, ততবার মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতা কোনো উপহার নয়, এটি অর্জন করতে হয়। রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে, সবকিছু হারিয়ে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী “অপারেশন সার্চলাইট” নামের এক নৃশংস গণহত্যা শুরু করেছিল সেই রাতে। ঢাকার আকাশ ছিল আগুনে লাল। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভয়ে কাঁপছে, তবুও তাদের বুকে একটাই স্বপ্ন, একটি স্বাধীন দেশ। সেই স্বপ্নের নামই বাংলাদেশ। স্কাউট আন্দোলন একটাই কথা শেখায় সেবা, একতা আর দায়িত্ববোধ। এই তিনটি কথা শুধু স্কাউটের নীতি নয়, এটি একটি সুস্থ জাতির ভিত্তি। যে জাতি নিজের ইতিহাস মনে রাখে, নিজের শহীদদের সম্মান করে। সেই জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না। স্বাধীনতা মানে শুধু একটি পতাকা নয়। স্বাধীনতা মানে সেই মায়ের কান্না, যার ছেলে ১৯৭১-এ ঘর থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। স্বাধীনতা মানে সেই কৃষকের ঘামে ভেজা মাটি, যে মাটির জন্য ত্রিশ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিল। স্বাধীনতা মানে এই দেশের একজন সাধারণ মানুষের কলম ধরার অধিকার নিজের কথা বলার সাহস। ১৯৭১-এর সেই তরুণেরা কি জানত, তারা ইতিহাস লিখছে? হয়তো না। তারা শুধু জানত, চুপ থাকা সম্ভব না। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করা সম্ভব না। সেই রুখে দাঁড়ানোর সাহসটাই আমাদের জাতির সবচেয়ে বড় পরিচয়। ২৬শে মার্চ কোনো উৎসবের দিন নয় এটি একটি প্রতিজ্ঞার দিন। যারা এই দেশের জন্য সব দিয়ে গেছেন, তাদের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন স্কাউট হিসেবে সেই দায়িত্ব প্রতিদিন মনে রাখা দরকার। প্রতিটি কাজে, প্রতিটি আচরণে, প্রতিটি পদক্ষেপে। এই ভোর শুধু একটি দিনের শুরু নয় এই ভোরের নাম স্বাধীনতা। লেখক: অগ্নিবীণা রেলওয়ে মুক্ত স্কাউট গ্রুপ, বাংলাদেশ স্কাউটস আখাউড়া রেলওয়ে জেলা।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারণে আমরা বাঙালি বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারণে আমরা বাঙালি বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের কারণেই আজ আমি গর্বের সঙ্গে নিজেকে বাঙালি বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, তবে বিভিন্ন জ্ঞানী ও গুণী মানুষের কাছ থেকে সেই সময়ের ইতিহাস, সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার সূচনার কথা জেনেছি। তাদের বর্ণনা শুনে বুঝেছি এই স্বাধীনতা কোনো সাধারণ অর্জন নয়, এটি ত্যাগ, সাহস এবং অগণিত মানুষের আত্মবলিদানের ফল। জীবনে কয়েকটি দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে, আর সেই অভিজ্ঞতা আমাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করিয়েছে নিজের দেশের পরিচয়ের মূল্য। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছি, তখন এক গভীর গর্ব অনুভব করেছি। কারণ, একজন মানুষ যত বড় কিছুই অর্জন করুক না কেন, নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো গৌরবের অনুভূতি খুব কমই পাওয়া যায়। এই সুযোগ সবার ভাগ্যে জোটে না, কিন্তু যারা পায়, তারা এর গুরুত্ব সত্যিই উপলব্ধি করতে পারে। একবার ভেবে দেখলে প্রশ্ন জাগে, “আমাদের দেশ যদি স্বাধীন না হতো, তাহলে কি আমরা বিশ্বের মানচিত্রে বাঙালি হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারতাম? আমরা কি বিদেশে গিয়ে গর্বের সঙ্গে বলতে পারতাম আমরা বাংলাদেশি?” নিশ্চয়ই না। তখন আমাদের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় পরিচয় থাকত না, আমাদের কণ্ঠস্বরও হয়তো এত শক্তিশালী হতো না। তাই ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের জন্য অমূল্য। ১৯৭১ সালের এই স্বাধীনতা আমাদের জাতির জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। এই অধ্যায় ধারণ করা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের। আমাদের উচিত এই স্বাধীনতার চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করা। শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়, সেটিই হওয়া উচিত আমাদের অঙ্গীকার। স্বাধীনতা আমাদের শুধু একটি ভূখণ্ড দেয়নি, এটি আমাদের দিয়েছে আত্মপরিচয়, আত্মসম্মান এবং আত্মবিশ্বাস। এই স্বাধীনতার কারণেই আমরা আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে নিজের দেশের কথা বলতে পারি, দেশের সুনাম বৃদ্ধির চেষ্টা করতে পারি। আমাদের প্রতিটি সাফল্য দেশের পরিচয়কে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। “আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি” এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের গভীরতা। আমাদের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময়। পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত, লোকসংস্কৃতি এসবই আমাদের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বিশ্ব দরবারে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।

তবে দুঃখজনকভাবে দেখা যায়, বর্তমানের অনেক তরুণ নিজেদের সংস্কৃতির চর্চা না করে অন্ধভাবে পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিশ্ব সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিজের শিকড় ভুলে যাওয়া কখনোই কাম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় আমাদের স্বকীয়তা ক্ষয় হয়ে যেতে পারে।

তাই বর্তমান প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে এই দেশ আমরা পেয়েছি লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। আমাদের দায়িত্ব এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা, নিজের সংস্কৃতিকে লালন করা এবং দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা। তাহলেই সত্যিকার অর্থে আমরা বলতে পারব “আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি।” লেখক: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন সাবেক রোভার মেট আমরা স্কাউট গ্রুপ, ঢাকা

দৌলতদিয়া ফেরীঘাটে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নদীতে, বহু হ-তা-হ-তে-র আশংকা

  ডেস্ক রিপোর্ট: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে নদীতে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ৩ নং পল্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরীতে ওঠার সময় পড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটিতে ৫০ থেকে ৫৫ যাত্রী ছিলেন। নদীতে পড়ে যাওয়ার কিছু সময় পর পাঁচ থেকে সাতজন যাত্রী পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। বাসটিতে থাকা অন্য যাত্রীদের এখনো হদিস পাওয়া যায়নি। 

এদিকে, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন। উৎসুক জনতাদের জটলাও বেড়েছে।

“ঈদ বকশিশ” দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যা, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

ডেস্ক রিপোর্ট:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সোহেল রানা (২৫) নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২৫) মার্চ বিকেলে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সড়াতৈল গ্রামের সোহেল রানা হত্যায় জড়িত সন্দেহে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় এবং নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলায় আসামি করায় দলীয় সব পদ থেকে সাইফুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হলো। যা ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু অনুমোদন দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২১ মার্চ ঈদের দিন সকালে বাড়ির অদূরে একটি ধানক্ষেত থেকে নিহত সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোহেল রানা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামের আজাদ মন্ডলের ছেলে।

বহিষ্কৃত সাইফুল ইসলাম উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সড়াতৈল গ্রামের আদম ব্যাপারীর ছেলে।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, ঈদের আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈদ বকশিশ দেওয়ার কথা বলে সোহেল রানাকে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি। ঈদের দিন সকালে এলাকার একটি ধানক্ষেতে সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাকে গলা কেটে এবং মাথা ও গালসহ কয়েকটি স্থানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা রুবি আক্তার বাদী হয়ে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ ও অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

সাকিবের জন্মদিনে কেক কাটলেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর

  ক্রিড়া ডেস্ক: ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের এমপি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের জন্মদিন উদযাপন করেছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। লন্ডনে কেক কেটে সাকিবের ৩৯তম জন্মদিন উদযাপন করেন বিসিবির এই পরিচালক। বেসরকারি একটি টেলিভিশনে সাকিব আল হাসানের জন্মদিনের কেক কাটার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, কেক কেটে সাকিব আল হাসানের জন্মদিন উদযাপন করছেন আসিফ আকবর।

ছাত্র জনতার বিপ্লবের পরে সাকিবের নামে দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর সাকিব কে নবাব আখ্যা দেয়।

১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরা জেলায় জন্ম নেন সাকিব আল হাসান। তিনি দেশের হয়ে ৬৫ টেস্টে ৫ সেঞ্চুরিসহ করেছেন ৪৩৬৭ রান আর বল হাতে শিকার ২৩১ উইকেট। ওয়ানডেতে ২৩০ ম্যাচে ৯টি সেঞ্চুরিতে করেছেন ৭০৮৬ রান আর উইকেট শিকার করেছেন ৩০১টি। আর টি-টোয়েন্টিতে ১২৯ ম্যাচে করেছেন ২৫৫১ রান। শিকার করেন ১৪৯ উইকেট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে আছেন সাকিব। সরকার পরিবর্তনের পর সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে আলোচনা চলছে। গত ৪ মার্চ বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘সাকিব আল হাসানকে ঘিরে যে বিষয়টি রয়েছে, তা নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে আছে এবং তারা এ নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি বিসিবির লিগ্যাল টিমও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যাতে সাকিবের আইনগত জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান করা যায়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয় ও বিসিবি সমন্বিতভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে। আমরা খুবই আশাবাদী, অল্প সময়ের মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেখতে পাব। দেশের কোটি ভক্তের মতো আমরাও তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছি।’  

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগ কর্মীর নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকে হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট মাদারীপুর সদর উপজেলায় ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে উপজেলার তাঁতীবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত কাবির মোল্লা মাদারীপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ঝিকরহাটি গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত পলাশ খানের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে তার ওপর হামলা চালায়। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাঁতীবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে অটো থেকে নামার পরপরই এই হামলা হয় বলে অভিযোগ।

আহত কাবির মোল্লা জানান, হামলাকারীরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। মাদারীপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব অহিদ খান অভিযোগ করে বলেন, এটি পরিকল্পিত হামলা। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

হাসিনা সরকারের আমলের মামলায় জামায়াত নেতা আটক

ডেস্ক রিপোর্ট লালমনিরহাটের পাটগ্রামে হাসিনা সরকারের সময়ে দায়ের করা মামলায় হত্যা মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাটগ্রাম পৌর শাখার আমির সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার ব্র্যাক কার্যালয়ের সামন থেকে তাকে গ্রেফতার করে পাটগ্রাম থানা-পুলিশ। পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা চলাকালে পাটগ্রামে বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মসূচির সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে জামায়াত-শিবিরের দুজন, বিএনপির একজন এবং আওয়ামী লীগের একজন কর্মী নিহত হন। ​পরবর্তীতে ওই সহিংসতায় আওয়ামী লীগের দায়ের করা একটি এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মী নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরও দুটি হত্যা মামলা দায়ের করে। সোহেল রানা ওই তিন মামলারই এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। সম্প্রতি লালমনিরহাট আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে মঙ্গলবার দুপুরে পাটগ্রাম থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি ফিরোজ হায়দার লাভলু গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাজনৈতিক সহিংসতার পুরোনো মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। ৫ ই আগস্টের পর বড় বড় অনেক মামলা নিষ্পত্তি হলেও এই মামলাটি হয়রানি করার জন্য রেখে দিয়েছে। সেদিনের কর্মসূচি সময় জামায়াতের শিবিরের কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলাটি করে আমরা অতি দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি চাই আর সোহেল রানা ভাইয়ের মুক্তি চাই।’

  ​এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, তিনটি হত্যা মামলায় লালমনিরহাটের আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজই (মঙ্গলবার) যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।  

ট্রাম্পের সাথে কোন আলোচনা হয়নি: ইরান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো ধরনের সংলাপ চলছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যে আলোচনার কথা বলেছেন, তা বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। বরং তেহরানের দাবি, ওই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় নেওয়া।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ইরানের মতে, যেসব দেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের উচিত সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলা। কারণ, এই সংঘাতের সূচনাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করছে তেহরান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সেই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৈরিতা নিরসনে “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বিস্তৃত ও সার্বিক সমাধান নিয়ে কথাবার্তা এগোচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এই আলোচনা পুরো সপ্তাহজুড়ে চলবে। পাশাপাশি তিনি যুদ্ধ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, চলমান যোগাযোগের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ রাখতে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করল। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনা চলছে বলে দাবি করছে, অন্যদিকে তেহরান বলছে-এমন কোনো সংলাপ আদৌ হচ্ছে না। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা সাময়িকভাবে কিছুটা থামার ইঙ্গিত মিললেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান পরিস্থিতিকে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রেখেছে।  

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব: দুবাইয়ের আবাসন বাজারে ধীরগতি, দামে পতনের আভাস

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। টানা তিন সপ্তাহ পেরিয়ে চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের আবাসন খাতে। বাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সম্পত্তির দামে পতনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি মার্চের প্রথম ১২ দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবাসন খাতে লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। একইভাবে ফেব্রুয়ারির একই সময়ের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৪৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এতদিন করমুক্ত নীতি ও স্থিতিশীল পরিবেশের কারণে ধনী বিনিয়োগকারীদের কাছে দুবাই ছিল অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু সম্পত্তি মালিক দ্রুত বিক্রির জন্য মূল্য কমাতে শুরু করেছেন। বাজার সূত্রে জানা গেছে, কোথাও কোথাও সম্পত্তির দাম ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বুর্জ খলিফার কাছাকাছি একটি সম্পত্তি আগে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে বিক্রির প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে পাম জুমেইরাহ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট প্রায় ১৫ শতাংশ কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির পর দুবাইয়ের আবাসন বাজারে সংশোধনের সম্ভাবনা আগেই তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সংঘাত সেই ঝুঁকিকে আরও তীব্র করেছে। একই সঙ্গে আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা ইমার প্রোপার্টিজের শেয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২৬ শতাংশের বেশি কমেছে। সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যা আবাসন চাহিদাকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করতে পারে। তাঁদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রায় ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত তা ২ থেকে আড়াই শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এর ফলে আগামী দুই বছরে গড়ে সম্পত্তির দাম প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে বাজারে সম্পূর্ণ স্থবিরতা নেমে আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রিয়েল এস্টেট খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, লেনদেন কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন এবং তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সম্প্রতি পাম জুমেইরাহ এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে একটি বিলাসবহুল সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা উচ্চমূল্যের আবাসনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বিদ্যমান থাকার ইঙ্গিত দেয়। সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দুবাইয়ের আবাসন বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও বাজার সম্পূর্ণ স্থবির হয়নি। বরং একদিকে ঝুঁকি বাড়লেও অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

রোজা থাকতে হবে না;চাঁদ দেখা গেছে, নতুন চাঁদ!

  দ্যা ক্যাম্পাস মিরর কথা বলেছে দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক বিশিষ্ট নজরুল গবেষক কবি আবদুল হাই শিকদার স্যারের সাথে। তার কথায় উঠে এসেছে শৈশবের ঈদ স্মৃতি, সেসময়কার ঈদ সংস্কৃতি এবং বর্তমান সময়ের ঈদ সংস্কৃতির তফাৎ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে দ্যা ক্যাম্পাস মিররের সহকারী সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ।   মিররঃ আসালামু আলাইকুম স্যার। কেমন আছেন? আবদুল হাই শিকদারঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম।আমি আছি বাংলাদেশের মতো। মিররঃ বাংলাদেশের মতো! দেশের গতিপথ মুহূর্তে মুহূর্তে চেঞ্জ হচ্ছে। আবদুল হাই শিকদারঃ আমারও চেঞ্জ হয়। দেশ যেভাবে চলে, আমরা তো সেভাবেই চলি। মিররঃ শুরুতেই আমরা ক্যাম্পাস মিরর থেকে আপনাকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আবদুল হাই শিকদারঃআপনাদেরকেও ঈদ মোবারক। মিররঃ শৈশবের কোন বিশেষ ঈদ স্মৃতি মনে পড়ে? আবদুল হাই শিকদারঃ অনেক স্মৃতি আছে ঈদের। যেমন;আমাদের আব্বা যখন নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতেন, আমরা ওই জামা-কাপড় আর জুতা কাউকে দেখতে দিতাম না;ভাবতাম ঈদের দিন দেখাবো। কিন্তু মাঝে মাঝে জুতা-জামা পরে বিছানার ওপর হাঁটাহাঁটি করতাম। জুতা নিয়ে নিচে নামলে তো  জুতায় ময়লা লাগবে;এটা একটা খুব আনন্দের ব্যাপার ছিল। নতুন কাপড় পেয়ে আমরা খুব উদ্বেলিত হতাম, আনন্দিত হতাম। আর কাউকে না দেখিয়ে বিছানার ওপর জুতা পরে হাঁটা;এই মজাটাও ছিল। মিররঃ বিছানার উপর হাটঁলে কেউ দেখলে? আবদুল হাই শিকদারঃ  মা দেখতেন, আব্বা দেখতেন;কিছু মনে করতেন না; উৎসাহ দিতেন। নতুন জুতা তো, ময়লা লাগেনি। মিররঃ ঈদে সালামি দেওয়ার সংস্কৃতি কি আপনাদের শৈশবে ছিল কিনা? আবদুল হাই শিকদারঃ এগুলো একটু নাগরিক কালচার ছিল। গ্রামবাংলার সাথে এইভাবে সম্পর্কটা নাই। আমরা এমনিতেই সালাম দিতাম। অনেক সময় মুরুব্বিরা সালামি দিলে সেটা দিয়ে বিকালবেলা কটকটি,মজা কিনে খেতাম। মিররঃ চাঁদ রাতের উত্তেজনা তখন কেমন ছিল? আবদুল হাই শিকদারঃ ওরে বাপরে বাপ! আমরা তো গ্রামের বাইরে চলে যেতাম;মাঠের মাঝখানে, বিলের মাঝখানে। শুকনা বিল তো বেশিরভাগ সময় থাকতো। গ্রামের যত ছেলেপেলে আছে সবাই বসে বসে চাঁদ দেখতাম;চাঁদ কোথায়? এইটা চাঁদের মতো লাগতেছে না? এটা চাঁদ না, ওইটা চাঁদ;এই করে মাগরিব পর্যন্ত চলতো চাঁদ খোঁজা। তারপর বাসায় গিয়ে ইফতার করে আবার মাঠে চলে আসতাম;এখন দেখা যায় কিনা। অন্ধকার হয়ে গেলে আবার খুঁজতাম। এই চাঁদ দেখার আনন্দটা ছিল অসাধারণ;মানে আর রোজা থাকতে হবে না, চাঁদ দেখা গেছে, নতুন চাঁদ! মিররঃ  ঈদের দিনের কোনো বিশেষ খাবার ছিল কিনা আপনাদের? আবদুল হাই শিকদারঃ প্রচুর। আমাদের মা ছিলেন খুব অভিজাত পরিবারের মানুষ। মা নানান ধরনের ভ্যারাইটিজ রান্না করতেন; গুড়ের ক্ষীর, তারপর চিনি দিয়ে দুধ দিয়ে পায়েশ। আর আমাদের একটা প্রিয় খাবার ছিল গরুর ভুনা দিয়ে মুড়ি খাওয়া। মিরর: গরুর ভুনা দিয়ে মুড়ি খাওয়া? আবদুল হাই শিকদার: আমরা তো খুব শখ করে খেতাম। গরুর ভুনার মধ্যে একটু ঝোলঝোল থাকতো, ওটার মধ্যে মুড়ি মাখা;মজা করে খেতাম। তারপর গ্রামবাংলায় সকালবেলা এ বাড়ি-ও বাড়ি লেনদেন হতো;ওরা পায়েশ রান্না করে আমাদের বাড়িতে পাঠাল, আমরা আবার নিয়ে আরেক বাসায় দিয়ে আসলাম। এভাবে খুব আন্তরিক আর প্রাণবন্ত ঈদ উদযাপন করতাম। মিররঃ বর্তমান সময়ের সংস্কৃতির মধ্যে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন কিনা? আবদুল হাই শিকদারঃ লক্ষ্য তো করছি। এখন তো নানা রাজনীতিকরণ হয়েছে। যেমন গত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে বাংলাদেশ যেভাবে পর্যুদস্ত হয়েছে; রাষ্ট্র আর রাজনীতি যখন দূষিত হয়ে যায়, তখন তার ছাপ পড়ে জীবনের সর্বস্তরে, সংস্কৃতিতেও। আমরা বিজাতীয় বা অপসংস্কৃতিকে নিজের সংস্কৃতি মনে করে নিজেদের সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলাম; এরকম টানাপোড়েন চলছে। এখনো দেখবেন;এই যে মোদির জামা-কোট গায়ে দিয়ে ঘুরে বেড়ায় বাংলাদেশের ছেলেরা; দেখলে খারাপ লাগে। জানেও না যে কোটটা যেখানেই জন্ম হোক, এখন “মোদি কোট” নামে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ব্র্যান্ডেড। সবাই জেনে গেছে মোদির কোট। সেই কোট পরে আমাদের ছেলেপেলেরা ঘুরে বেড়ায়; এগুলো আগ্রাসনের এক একটা চিত্র। জীবনে আমরা ভাবতেই পারতাম না যে ডিজে পার্টি হয়, ব্যান্ড হয়, ফুর্তির জন্য। আমাদের ঈদের আনন্দ ছিল সকালবেলা দল বেঁধে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নতুন জামাকাপড়-জুতা পরে ঈদগায় যেতাম। আমার আব্বা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং এগ্রিকালচারিস্ট। অখণ্ড ভারতের ইতিহাসে আসাম থেকে যে দুই-তিনজন ছাত্র কৃষিতে গ্র্যাজুয়েশন করেছিল, তার একজন ছিলেন আমার বাবা। আব্বা হাই মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। ফারসি, আরবি, উর্দু, ইংরেজি, বাংলা;অনর্গল বলতে পারতেন। আরবি স্পিকিং জানতেন। আব্বা ঈদগায় গেলে ঈদের মূল খুতবার আগে বাংলায় ভাষণ দিতেন। এইটা শোনার জন্য গ্রামের মানুষ মুখিয়ে থাকতো। আব্বা যদি কোনো ঈদে বাড়ি আসতে না পারতেন, গ্রামজুড়ে হাহাকার পড়ে যেত;“উনি কোথায়?” এইসব বলতো। আমরা ঈদের নামাজ পড়তাম, আব্বা বক্তৃতা করতেন;আমরা খুব প্রাউড ফিল করতাম। আব্বা ফারসি-আরবি-উর্দু ও বাংলায় নানা কবিতার উদ্ধৃতি দিতেন;হাফিজের, শেখ সাদির; এগুলো দিয়ে বক্তৃতা করতেন। ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো, দৌড়াদৌড়ি, খেলা;নানান ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তাম। অনেক সময় দুপুরের খাবারের কথাও ভুলে যেতাম। মাঠে ছোটাছুটি করতাম। ঈদের সময় গ্রামগুলোতে মেলার মতো বসতো;দুই-তিন গ্রামের মাঝখানে। আমরা দল বেঁধে যেতাম। খুব ব্যস্ত সময় কাটতো। মিররঃ দুপুরে না খেয়ে বাসায় আসলে মা বকা দিত না? আবদুল হাই শিকদারঃ ঈদের দিন তো! কান ধরে টানতো;“খাওয়া বাদ দিয়ে বাইরে ঘুরছিস কেন? এত সুস্বাদু রান্না বান্না করেছি; খা!” আরেকটা জিনিস আমরা করতাম ছোটবেলায়। আমার আরেক বন্ধু ছিল;মাহমুদুল হাসান বুলবুল। আমরা দুই বন্ধুর নেতৃত্বে ভোরবেলা বেরিয়ে পড়তাম। আমাদের সাথে আরও ১০-১৫ জন ছেলে থাকতো। প্রত্যেক বাড়ি থেকে পায়েশ আর ক্ষীর জোগাড় করতাম। সবাই জানতো যে এই বাহিনী আসবে;ইয়াং বাহিনী। ক্ষীর-পায়েশ আমাদের হাঁড়ি ভরে যেত। মসজিদে রেখে আবার আরেক পাড়ায় যেতাম, সেখান থেকেও জোগাড় করে মসজিদে রাখতাম। ঈদের নামাজের পরে হুজুর সবার মধ্যে বিতরণ করে দিতেন। কলার পাতার মধ্যে বসে সবাই মজা করে খেত। এটা ছিল আমাদের তরুণদের একটা বড় কাজ;আমরা আনন্দ করে করতাম। আমার আব্বা খুব উৎসাহ দিতেন;ভালো কাজ তোমরা করতেছো। গরিব মানুষ অনেক সময় ঠিকমতো খেতে পারত না;দারিদ্র ছিল অসহনীয়। আব্বা দারুণভাবে সহযোগিতা করতেন। খাবার কম জুটলে আব্বা মাকে দিয়ে আলাদা রান্না করে মসজিদে পাঠাতেন। মিররঃ ইয়াং বাহিনীর কোনো বিশেষ নাম ছিল কিনা? আবদুল হাই শিকদারঃ আমরা কোনো নাম দিতাম না। সবাই বলতো; “বাচ্চু বাহিনী।” আমার ডাকনাম ছিল বাচ্চু;সবাই আদর করত বাচ্চু বাহিনীকে। মানুষ জানতো ছেলেগুলো ভালো;মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করে। কোরবানির সময়ও এই কাজ করতাম;বাড়ি বাড়ি থেকে মাংস কালেকশন করে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতাম। মিররঃ বর্তমানে ঈদে সাংস্কৃতিক দিকটা সরকারি মহল থেকে যেভাবে উপেক্ষিত থাকে; এ বিষয়ে মন্তব্য? আবদুল হাই শিকদারঃ ঈদ তো ঈদই। কিন্তু গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে ঈদকে করা হয়েছে রাজনীতিকরণ। ঈদের মাঠে খুতবার সময়ও দেখা যেত শেখ মুজিবের নাম চলে আসতো;ইসলাম প্রচারে শেখ মুজিবের অবদান; এমন অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা হতো। লোক দেখানো হয়ে গেছে বেশি। তারপরেও আমি মনে করি ঈদ তার সত্ত্বা হারায় নাই। কোথাও জানি আমাদের নিজস্বতা টিকে আছে। এর জন্য সাধারণ মানুষের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। মিররঃ তরুণদের জন্য সুস্থ সংস্কৃতির মাধ্যমে ঈদ উদযাপন নিয়ে কোনো বিশেষ বার্তা আছে? আবদুল হাই শিকদারঃ বিশেষ বার্তা হলো;আমি মনে করি, আমাদের প্রফেট, আমাদের রসূলের জীবনকে অনুসরণ করা;তিনি ঈদের দিন সকালবেলা কী করতেন, সারাদিন কী করতেন;সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই কাজগুলো করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ঈদ খালি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হওয়া বা ফুর্তি করা না;সোসাইটির সবাইকে নিয়ে উদযাপনের আবহ তৈরি করতে হবে। মিররঃ যেমনটি বলছিলেন;প্রতিবেশীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেন, এখন সে সংস্কৃতি অনেকটা বিলুপ্ত। সেটা আবার কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়? শহরের কালচার ভিন্ন;শহরে যারা ঈদ উদযাপন করে তারা পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে মিশে না। এটা কিভাবে ফেরানো যায়? আবদুল হাই শিকদারঃ এটা ফেরানোর প্রথম কথা হলো;আমার শৈশব কেটেছে ম্যাট্রিকুলেশন/এসএসসি পর্যন্ত পাকিস্তান আমলে। এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই যুদ্ধ লেগে গেল। তারপর আমরা আসলাম বাংলাদেশে;ডিফারেন্ট হয়ে গেল জিনিসগুলো। পাকিস্তান আমলে গ্রামবাংলায় মানুষের আন্তরিকতা ছিল অঢেল। মানুষ মানুষকে সত্যি আন্তরিকভাবে ভালোবাসতো। মুক্তিযুদ্ধের পরে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক ঝাঁজ ঢুকে গেল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ হুজুর, যারা আগে ওয়াজ করতেন, ঈদের নামাজ পড়াতেন;তাদের অনুপস্থিতি ফিল করতাম। এখন বাস্তব কারণেই মানুষ অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। আত্মকেন্দ্রিকতার প্রধান কারণ হলো রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়ায় না। রাষ্ট্র মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। আর ঈদের সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। পৃথিবীতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ;যেখানে ঈদের সময়, রোজার সময় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। এটা নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণ। পাকিস্তান আমলে আমি এটা কখনো দেখিনি। তখন জিনিসপত্রের দাম সহনীয় থাকতো। অনেক দোকানদার সেল দিত;যেমন ১০ টাকার জিনিস ৮ বা ৭ টাকায় দিত। চাল-ডাল-নুন-চিনি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে থাকতো। বাংলাদেশ হওয়ার পরে অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে যুক্ত হলো রাজনীতিবিদরা, রাজনীতিবিদদের সাথে যুক্ত হলো সামাজিক দুর্বৃত্তরা। এই অসাধু চক্র মানুষের ধর্মকে কেন্দ্র করে ধর্ম পালনের জায়গাটাকে সংকুচিত করে এবং ধর্মকে সামনে রেখে লোভের লালসায় সমাজকে দূষিত করে। এই জায়গাগুলোকে এড্রেস করতে হবে। সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক জীবন ফিরে আসলে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে, দ্রব্যমূল্য সহনীয় থাকলে;আস্তে আস্তে আমরা আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারব। মিররঃ বর্তমানে এই প্রজন্ম চাঁদ রাতে ককটেল, বাজি ইত্যাদি ফোঁটায়, আপনাদ সময় এগুলো ছিল না। এ নিয়ে ছোট্ট বার্তা? আবদুল হাই শিকদারঃ আমি ছোটখাটো বাজি ফোটানোকে অপরাধ হিসেবে দেখি না। ফেস্টিভালের একটা চেহারা দিতে হবে। এখন ধরেন বদরের যুদ্ধ হয়েছিল;সে যুদ্ধের অস্ত্র দিয়ে আজ আমেরিকার মোকাবেলা সম্ভব? না। তাহলে বদরের যুদ্ধ থেকে নিতে হবে শিক্ষা;স্পিরিট। সেই স্পিরিট নিয়ে এগোতে হবে। তারপর এটাকে মোকাবেলা করার মতো আধুনিকায়ন করা;বিজ্ঞানভিত্তিক জীবন, প্রযুক্তিকে সম্মান জানানো। তখন হয়তো আমরা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে যাব। আর বাজি ফোটানো বা আতশবাজি যদি পাবলিক নুইসেন্স ক্রিয়েট না করে, জনজীবন ব্যাহত না করে;ইয়াং ছেলেরা ফুর্তি করার জন্য করে;এটা বাধা দেওয়াটা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক মনে করি না। ইয়াংরা যদি ফুর্তি করতে না পারে, যাবে কোথায়? আমরা শবে বরাতে আগে তারাবাতি জ্বালাতাম, মজা করতাম। শিশুদের এই মজা থেকে বঞ্চিত করছে সমাজ। এক শ্রেণির কুপমণ্ডক হুজুর;সবাই না;এক শ্রেণির অন্ধ মাওলানা এগুলোর বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বলে। আগে শবে বরাতে সারারাত রান্না করে বাড়ি বাড়ি রুটি বিতরণ হতো, হালুয়া বিতরণ;এগুলো সামাজিক আনন্দের অংশ ছিল। সারারাত মসজিদে নামাজ পড়তাম। এটাকে এখন নানা অজুহাতে ব্যাহত করা হয়েছে। ভারতে যখন ইসলাম ঢুকলো, সুফি সাধকরা এসে দেখল এখানে নানা উৎসব;১২ মাসে ১৩ উৎসব। লোকদেরকে ফিরাতে হলে ফেস্টিভাল দিতে হবে, উৎসব দিতে হবে। আমাদের ছিল দুই ঈদ;তাছাড়া সারা বছরে আর কিছু নাই। তখনকার বিচক্ষণ ইসলামী দার্শনিক/ধর্ম প্রচারকরা এর সাথে যুক্ত করলেন মহররম, শবে বরাত, শবে কদর;ফেস্টিভালের চেহারা দিলেন। ধর্ম থাকলোই। কিন্তু সমাজের সবাইকে নিয়ে ইনজয় করার আবহ তৈরি হলো;বাড়ি বাড়ি রুটি বিতরণ। শবে বরাত নিয়ে নজরুলের কবিতা আছে, গোলাম মোস্তফার বিখ্যাত কবিতা আছে;এসব আমাদের পাঠ্য ছিল। এগুলো সামাজিকভাবে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত না করলে অপরাধটা কোথায়?   মিররঃ এই বয়সে এসে শহুরে ঈদ কিভাবে উদযাপন করেন? আবদুল হাই শিকদারঃ এখন তো আর সেই দিল্লিও নেই, সেই আগ্রাও নাই। এখনকার ঈদ বয়স্ক লোকদের ঈদ;সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে জামাকাপড় পরে নামাজ পড়তে যাওয়া, তারপর এসে ঘুম। আত্মীয়স্বজন এলে তাদের সাথে আড্ডা, বন্ধুবান্ধব এলে আড্ডা। আমাদের এখন আর ওই জৌলুশটা থাকে না। কিন্তু শিশুরা যখন আনন্দ করে তখন ভালো লাগে। আমি খুব আগ্রহ করে শিশুদের সালামির ব্যবস্থা করি। বিশেষ করে এক্সট্রা-অর্ডিনারি খাম রাখি;খামের মধ্যে কিছু টাকা (৫০০, ১০০০, বা ১০০/২০০);ব্যাংক থেকে চকচকা নোট এনে খামে ভরে গিফট করলে বাচ্চারা মহাখুশি হয়। একটা উদাহরণ দিই;আব্বা বলতেন, যে শিশুরা সত্য কথা বলে, সৎপথে চলে, নামাজ পড়ে, ঈদগাহে যায়, জুম্মার নামাজ পড়ে;আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন এবং তাদের জন্য উপহার পাঠান। কী উপহার? অন্য উপহার তো আছেই;পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হবে, খেলতে ভালো পারবে;সব আছে। কিন্তু আরেকটা জিনিস;মাঝে মাঝে রহমতের ফেরেশতা দিয়ে আল্লাহ লজেন্স-চকলেট এসব বাড়িতে বাড়িতে দিয়ে যায়, আর যারা ভালো ছেলে তাদের বালিশের নিচে অনেক সময় থাকে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার ছোটটা চিৎকার শুরু করল;“আব্বা আব্বা, আমাদের বাড়িতে রহমতের ফেরেশতা আসছিল!” কী হয়েছে? “আমার বালিশের নিচে অনেকগুলো চকলেট!” তখন আব্বা বললেন;“দেখছো, তুমি কালকে নিয়ত করছিলা না;আজকে জুম্মার নামাজে আমার সাথে যাবে;আল্লাহ খুশি হয়ে এটা পাঠিয়ে দিয়েছে।” মিররঃ আপনার ছোট ভাইয়ের উদাহরণ দিলেন; বাহ বাহ!। আবদুল হাই শিকদারঃ হ্যাঁ, আব্বা আমাদের ভাই-বোনদেরকে উৎসাহিত করার জন্য এই কাজ করতেন। আমরা অবাক হয়ে ভাবতাম ফেরেশতা চকলেট দিয়ে গেছে। চকলেট ভালোবাসতাম। আব্বা কিনে এনে বালিশের নিচে রেখে দিতেন;রূপকথার মতো সাজিয়ে দিতেন;আর আমরা খুশির ঠেলায় মসজিদে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যেতাম। রাতে বলতাম;“আল্লাহর কাছে আজ কী চাইবো;সকালবেলা যদি এরকম পাই কেমন হয়!” সকালে উঠে চকলেট পেতাম। মিরর: অনেক বেশি ধন্যবাদ স্যার, ক্যাম্পাস মিররকে সময় দেওয়ার জন্য। আবারও ঈদের শুভেচ্ছা। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আবদুল হাই শিকদারঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম।