বিএনপির ১৭ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক


দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের ১৭ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বে দলীয় সিদ্ধান্তে যেসব নেতাকর্মীকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাদের আবেদন ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-

  • নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন

  • গাজীপুর মহানগর: গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন

  • দিনাজপুর (বিরল): সাবেক সহসভাপতি মো. সাদেক আলী ও সাবেক মহিলা সম্পাদক মোসা. ফিরোজা বেগম

  • হবিগঞ্জ জেলা: সদস্য মহিবুল ইসলাম শাহিন

  • ভোলা জেলা: তজুমদ্দিন উপজেলা ৪নং চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হাওলাদার

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সাবেক জেলা সদস্য মো. বাবর আলী বিশ্বাস

  • ভোলাহাট থানা: সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম

  • চট্টগ্রাম উত্তর: জোরারগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম

  • মিরসরাই: বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন

  • ফটিকছড়ি: উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম আজম

  • নোয়াখালী (সুবর্ণচর): উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন সুমন ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. জামাল উদ্দিন গাজী

  • কুমিল্লা দক্ষিণ (নাঙ্গলকোট): সাবেক সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাদের সবাইকে দলীয় প্রক্রিয়ায় পুনরায় প্রাথমিক সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে।

দুই নেতার পদস্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

একইসঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে স্থগিত হওয়া-

  • হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মুজিবুল হোসেন মারুফ

  • সাধারণ সম্পাদক নকিব ফজলে রাকিব মাখনের

পদের স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিএনপি জানিয়েছে, আবেদন ও নিরীক্ষার ভিত্তিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি

0
ডেস্ক রিপোর্ট

সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ জারি করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। একই দিনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এতে স্বাক্ষর করেন। এর আগে উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় আদেশটি অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।

এই আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো এখন গণভোটে যাবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর জনগণের মতামত নেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্য, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয়। এর আগে ১৭ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায় আগামী সোমবার

0
অনলাইন ডেস্ক


জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলার রায় আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণা ঘিরে ট্রাইব্যুনাল ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাসহ তিনজন আসামি

মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সঙ্গে আসামি হয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন।

এদের মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি তদন্ত ও শুনানির সময় নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আদালতের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক। দুজনই গত বছর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশ ছাড়েন বলে জানা গেছে।

কী অভিযোগ রয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নানা সহিংস ঘটনার প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এই তিন আসামির বিরুদ্ধে। প্রসিকিউশনের দায়ের করা মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্যকে প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী উসকানিমূলক হিসেবে উপস্থাপন

  • আন্দোলনকারীদের দমনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশদানের অভিযোগ

  • রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়

  • রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারী নিহতের অভিযোগ

  • আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর ঘটনা

এ অভিযোগগুলো আদালতে প্রসিকিউশনের বর্ণনা এবং সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে—এগুলো এখনও আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়নি।

মামলার অগ্রগতি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মামলাটি দায়ের হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর প্রথম শুনানির দিন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

পরে প্রসিকিউশনের আবেদনে সাবেক আইজিপি মামুন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে মামলায় যুক্ত করা হয়। তদন্ত সংস্থা কয়েক দফা সময় নিয়ে গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

গত ১ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে। এরপর চলতি বছরের ১০ জুলাই তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। মামলায় মোট ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু হয় এবং ২৩ অক্টোবর শেষ হয়। যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আসামিদের খালাস চান। রাজসাক্ষী মামুনের ক্ষেত্রেও আইনজীবী তাঁর খালাস প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল জানায়, রায় ঘোষণার দিন ১৩ নভেম্বর জানানো হবে। আজ সেই ঘোষণা অনুযায়ী আগামী সোমবার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হলো।

গণভোট আগামী নির্বাচনের দিন: জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা

0
ডেস্ক রিপোর্ট

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে; এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন,
“জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হবে না; বরং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে।”

তিনি জানান, গণভোট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন নির্ধারিত সময়ে প্রণয়ন করা হবে।

গণভোটের প্রশ্ন ও জুলাই সনদের মূল প্রস্তাব

প্রধান উপদেষ্টা জানান, জুলাই সনদের আলোকে গণভোটে একটি মাত্র প্রশ্ন ব্যালটে থাকবে, যার উত্তরে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ চিহ্ন দিয়ে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।

ব্যালটে উপস্থাপিত প্রশ্নটি হবে,

“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কে প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তসমূহে সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

তিনি ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত চারটি মূল প্রস্তাবও তুলে ধরেন,

ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ জুলাই সনদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে।

খ) আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট; দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাগবে।

গ) নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ মোট ৩০টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ) রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই সনদের অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিদেশি বিনিয়োগ ও “গ্রীন পোর্ট”-এর ঘোষণা

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, রপ্তানি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে, ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারের পথে।

তিনি জানান, ইউরোপীয় একটি কোম্পানির বড় বিনিয়োগে লালদিয়ায় নির্মিত হবে দেশের প্রথম বিশ্বমানের “গ্রীন পোর্ট”, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য ও লজিস্টিকস খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ঘোষণা

প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে।

এই পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সংস্কার সম্পন্ন হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দলগুলোর মোট প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ নিম্নকক্ষের সর্বশেষ কার্যদিবস পর্যন্ত থাকবে।

ঐক্যের আহ্বান ও গণঅভ্যুত্থনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

ভাষণের শেষে অধ্যাপক ইউনূস জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন—
“২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগই আমাদের নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের এই সিদ্ধান্তই “নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার সূচনা”।

মাইলস্টোন দুর্ঘটনা: সাড়ে তিন মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরল ২ যমজ শিশু

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত দশ বছর বয়সী যমজ শিশু সারিনাহ জাহান সায়রা ও সাইবাহ জাহান সায়মা প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরেছে। তারা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল। এ পর্যন্ত বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ ৩৩ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কার্যালয়ে দুই শিশুকে বিদায় জানান হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা।

এসময় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় আহত ৫৭ জন এই ইনস্টিটিউট থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২০ জন। একজনকে ট্রমা ম্যানেজমেন্টের জন্য মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনজন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন, তবে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।’

দুই যমজ শিশুর মধ্যে সায়রা ৩০ শতাংশ এবং সায়মা ১৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা দগ্ধ প্রত্যেক রোগীকে আন্তরিক সেবা দিয়েছেন। তাঁরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদের প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

‘আহতদের মধ্যে যারা বাড়ি ফিরেছেন, তাদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ফলোআপ চিকিৎসা দিচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

এসময় তিনি সিঙ্গাপুর, ভারত, চীন ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব বিদেশি চিকিৎসক আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।

দুই যমজ শিশুর বাবা-মা ইয়াসিন মজুমদার ও আকলিমা আক্তার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হন। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন-ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশে চালু হলো অনলাইন টিকেটিং

0
ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেনে আধুনিক অনলাইন টিকেটিং সেবা চালু করা হয়েছে। এটি উদ্যান পরিদর্শন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব করার উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। আজ বৃহস্পতিবার উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্ল্যাটফর্মটি উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এবং জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ই-টিকেটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যান ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে এবং গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।” এখন থেকে দর্শনার্থীরা myGov অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, www.nbg.portal.gov.bd বা বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সম্বলিত টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এই টিকিট স্মার্টফোনে দেখানো বা প্রিন্ট আউট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। উদ্যোগটি বন অধিদপ্তর ও এটুআই (a2i) যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে। এতে ঘরে বসেই টিকিট কেনা সম্ভব হবে, লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা দূর হবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং টিকেট বিক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার হ্রাসের মাধ্যমে এটি পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়তা করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোঃ আব্দুর রফিক, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বন) শামিমা বেগম, এবং সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বন অধিদপ্তর, এটুআই, আইসিটি বিভাগ, জাতীয় চিড়িয়াখানা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। নতুন ই-টিকেটিং সেবা কেবল দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়াবে না, এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারি সেবার একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ঢাকায় রাশিয়ান হাউস ও রুডন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন

ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউস ও রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি (RUDN University)-এর প্রতিনিধিদল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (NSU) পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এ সফরে শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের নানা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রাশিয়ান স্টাডিজ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতিতে পৌঁছান। এই কেন্দ্রটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের রাশিয়ান ভাষা, সংস্কৃতি এবং রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও, আলোচনায় RUDN বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক কর্মসূচিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করা হবে। বৈঠকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, রাশিয়ান হাউসের পক্ষ থেকে পরিচালক ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এবং RUDN বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাবিতে গাঁজা সেবনের সময় সাত শিক্ষার্থী আটক

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গাঁজা সেবনের সময় সাত শিক্ষার্থীকে আটক করেছে প্রক্টরিয়াল বডি। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ছাদ থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তামিম। তিনি সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, আটক অন্য শিক্ষার্থীরা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের নাহিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের নাঈম, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবিত, এবং ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের সাব্বির ও ইমরান।

সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি কাউছার হাবীব বলেন, “আমরা হলে নিয়মিতভাবে নজর রাখি, যাতে কেউ গাঁজা বা মাদকের মতো জঘন্য কাজে জড়াতে না পারে। গতকাল হল প্রশাসন থেকে মাদকবিরোধী বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর আমরা পরিদর্শনে যাই। সেখানে হঠাৎ কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন আমরা তাদের ধরে সহকারী প্রক্টরকে খবর দিই। পরে প্রভোস্ট স্যার ও প্রক্টরিয়াল বডি এসে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক বেলাল হোসাইন বলেন, “সোহরাওয়ার্দী হলের ভিপিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ধরা পড়ে। পরে প্রভোস্ট কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গাঁজা ও নেশাজাত দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এরপর আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের প্রক্টর অফিসে আনা হয়।”

তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা গুরুতর অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

জবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি।
 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃতদের মধ্যে তিনজন মার্কেটিং বিভাগের এবং একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে চারজন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আজকের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গত ও শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. সাদি হাসান, একই শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের আব্দুল্লাহ আল নোমান ও সামিউদ্দিন সাজিদ, এবং ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের একই বিভাগের জাহিদুর রহমান জনি।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর ড. মোহাম্মদ আলী এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নাছির আহমাদ।

কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপ;কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত গ্রুপ ও সুমন সরদার গ্রুপ এর মধ্যে তিন দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে শিক্ষকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১০ নভেম্বর) আস-সুন্নাহ পরিবহনের একটি বাসে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদীর মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন দুপুরে দ্বিতীয় গেটের সামনে এ ঘটনার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে শান্ত চত্বর ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে সমঝোতা বৈঠকের সময় আরও দুই দফায় সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনায় সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকী, ফেরদৌস হোসেন ও মাহাদী হাসান জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

সূত্রে আরও জানা যায়, আহত সামিউদ্দিন সাজিদ ও আহ্বায়ক সদস্য জাহিদুর রহমান জনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত গ্রুপের অনুসারী। অপরদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাদী, আহ্বায়ক সদস্য মাশফিক রাইন, আতাউল্লাহ আহাদ ও বাংলা বিভাগের আশরাফুল ইসলাম সুমন সরদার গ্রুপের অনুসারী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমনরুম, মসজিদ ও লাইব্রেরিতে কার্পেট দিল ডাকসু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমনরুম, মসজিদ ও লাইব্রেরিতে নতুন কার্পেট দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে এসব স্থানে কার্পেট বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, কমনরুমের নামাজঘর, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)–এর নামাজের স্থান, মসজিদ ও লাইব্রেরির প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে নতুন কার্পেট প্রদান করা হয়েছে। ডাকসুর নেতারা জানান, এসব স্থানে আগের কিছু কার্পেট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায় ও বসার ক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছিল। শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন কার্পেট দেওয়া হয়েছে।

কার্পেট বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস. এম. ফরহাদ। এছাড়া কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা, বিজ্ঞান সম্পাদক ইকবাল হায়দার ও কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাস্টারদা সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি আজিজুল হক ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইমাম।