শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি

সাদী মোহাম্মদ সাদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টনের প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বিএনপি। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দলটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে শরিক দলের কয়েকজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলীয় সূত্র বলছে, বাকি আসনগুলোর বিষয়েও খুব শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ছবি: প্রথম আলো

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আসন সমঝোতার বিষয়টি ধাপে ধাপে সামনে আনা হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেলের পেজ থেকে

এই সমঝোতার আওতায় প্রথম দফায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না বলে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। এমনকি দলীয় কেউ এসব আসনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মির্জা ফখরুল।

ঘোষিত চার আসনে জমিয়তের প্রার্থীরা হলেন— সিলেট–৫ আসনে দলটির সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী–১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। তাঁরা সবাই খেজুরগাছ প্রতীকে ভোটের মাঠে নামবেন।

সংবাদ সম্মেলনের আগে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়েই তারা এই সমঝোতায় এসেছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, জোটগত নির্বাচনে নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতার কারণে শরিকদের জন্য আসন ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপিকে হিসেবি হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির ভেতরেও মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা এবার তুলনামূলক বেশি।

২০১৪ ও ২০২৪ সালে নির্বাচন বর্জন এবং ২০১৮ সালে সীমিত অংশগ্রহণের কারণে দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এবার প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রবল। পাশাপাশি গত দেড় দশকে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার অনেক নেতাও নির্বাচনে আসতে চাইছেন। এই বাস্তবতায় শরিকদের জন্য আসন ছাড় দিতে গিয়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, যেসব আসনে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হবে, সেখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না এবং শরিক দলগুলোও নির্ধারিত আসনের বাইরে প্রার্থী দেবে না—এই শর্তেই বোঝাপড়া হচ্ছে। তবে শরিক দলের নেতাদের বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করাকে দলটি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই কৌশলের অংশ হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শাদাহাৎ হোসেন সেলিম নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁকে লক্ষ্মীপুর–১ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও দলটি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

এ পর্যন্ত বিএনপি দুই দফায় ২৭২টি আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। অবশিষ্ট ২৮টি আসন শরিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। দলীয় সূত্র বলছে, এর মধ্যে আরও প্রায় ১০টি আসনে সমঝোতা অনেকটাই এগিয়েছে।

নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও জাসদের জন্য একটি করে আসনের বিষয়েও আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এবং এনপিপির নেতাদের ক্ষেত্রেও আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা–১৭ আসনে আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ঢাকা–১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের ভূমিকা নিয়েও বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছে।

লিবিয়ার সেনাপ্রধান তুরস্কের রাজধানীর কাছে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত

আল–জাজিরা

লিবিয়ার সেনাপ্রধান মুহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আরও চারজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এবং তিনজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার (গতকাল) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা এক বিবৃতিতে সেনাপ্রধানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দুর্ঘটনাটিকে ‘বিপর্যয়কর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আঙ্কারায় একটি সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার পথে তাদের বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

বিবৃতিতে দবেইবা বলেন,
“এই মহাবিপর্যয় দেশ, সেনাবাহিনী ও জনগণের জন্য এক বিশাল ক্ষতি। আমরা এমন সব মানুষকে হারিয়েছি, যাঁরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন এবং দায়িত্ববোধ ও জাতীয় অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।”

নিহত অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন— স্থলবাহিনীর প্রধান আল-ফিতুরি ঘারিবিল, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাওয়ি, সেনাপ্রধানের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাওই দিয়াব এবং সামরিক চিত্রগ্রাহক মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।

প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে দুর্ঘটনার ইঙ্গিত

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান জানান, দুর্ঘটনার আগে বিমানটি বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া জানান, ফ্যালকন ৫০ মডেলের প্রাইভেট জেটটি আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে ত্রিপোলির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে আঙ্কারা থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দূরে হায়মানা জেলার কেসিককাভাক গ্রামের দক্ষিণে এর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনাস্থলে পাহারায় তুরস্কের দুই সেনা
দুর্ঘটনাস্থলে পাহারায় তুরস্কের দুই সেনাছবি: এএফপি

এ ঘটনায় আঙ্কারার প্রধান প্রসিকিউটর অফিস তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের আইনমন্ত্রী ইলমাজ তুনচ।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন এর একদিন আগে তুরস্কের পার্লামেন্ট লিবিয়ায় অবস্থানরত তুর্কি সেনাদের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদ দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ার সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং পশ্চিম লিবিয়ায় তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০১৪ সাল থেকে লিবিয়ায় সমান্তরাল দুটি সরকার কার্যকর রয়েছে। ত্রিপোলিভিত্তিক দবেইবা সরকারকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এ সরকারের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সাল থেকে তুরস্ক লিবিয়ায় প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সফরে আল-হাদ্দাদের সঙ্গে আঙ্কারায় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রদল প্যানেলকে ভোট দিলে পরীক্ষায় ১০ নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার কথা বললেন শিক্ষক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলকে ভোট দিলে পরীক্ষায় অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার সময় পরীক্ষাকক্ষেই তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার হলে শিক্ষক ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের পক্ষে ভোট চান এবং ভোট দিলে পরীক্ষার খাতায় ১০ নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস মিররকে জানান, “পরীক্ষা চলাকালীন স্যার আমাদের বলেন, ছাত্রদলের প্যানেলে ভোট দিলে নাম্বার বাড়িয়ে দেবেন। এটি প্রথম ঘটনা নয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জন্য ভোট চেয়েছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক ক্যাম্পাস মিররকে বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ধরনের কাজ করার প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে জাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা হাসান বলেন, “যদি কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকে, তাহলে তা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানারাত ইউনিভার্সিটিতে ‘অ্যালায়েন্স অব ইউনিভার্সিটিজ ইন আশুলিয়া’-এর উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি   আশুলিয়া অঞ্চলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যালায়েন্স অব ইউনিভার্সিটিজ ইন আশুলিয়া’–এর উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) আশুলিয়ায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য এমেরিটাস প্রফেসর ড. শাহজাহান খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. আর. কবির, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় ইতোপূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)–এর সিদ্ধান্তসমূহের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আশুলিয়া অঞ্চলের সামগ্রিক শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তসমূহ হলো— ১. বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে অভিন্ন কর্মকৌশল নির্ধারণ। ২. বিরুলিয়া থেকে চারাবাগ পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ। ৩. আকরাইন মোড়ের যানজট নিরসনে সড়ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়। ৪. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গবেষণামূলক কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা বিনিময়। ৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ। ৬. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা। ৭. আশুলিয়াকে ‘হায়ার এডুকেশন জোন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা। ৮. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি। ৯. পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ প্রক্টোরিয়াল টিম গঠন। প্রসঙ্গত, আশুলিয়া অঞ্চলকে একটি হায়ার এডুকেশন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে এ অঞ্চলে অবস্থিত পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার আলোকে ‘অ্যালায়েন্স অব ইউনিভার্সিটিজ ইন আশুলিয়া’ গঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি।

নিবন্ধন পেয়েছে অনশনে বসা তারেকের আমজনতার দল

0

অনলাইন প্রতিবেদক: তফসিল ঘোষণার দশদিন পরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে নিবন্ধন পেয়েছে নিবন্ধনের দাবিতে অনশনে বসা মোঃ তারেক  রহমানের আমজনতার দল। দলীয় প্রতীক হিসেবে প্রজাপতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিবন্ধন সংক্রান্ত দাবি আপত্তি নিষ্পত্তি করার পর আমজনতার দলকে চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে বলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক সোমবার জানান।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নিবন্ধন সনদ রোববার আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানকে হস্তান্তর করে ইসি।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন না পেয়ে গত ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ফটকের সামনে অনশনে বসেছিলেন তারেক।

প্রায় ১৩৪ ঘণ্টা অনশনের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের অনুরোধে ৯ নভেম্বর অনশনের ইতি টানেন তিনি।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিলের দশ দিন পর আমজনতার দলকে নিবন্ধন দেওয়া হল।

নির্বাচন সামনে রেখে এবার চারটি দলকে নিবন্ধন দিল এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে ‘শাপলা কলি’, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলকে (মার্কসবাদী) ‘কাঁচি’, আমজনতার দলকে ‘প্রজাপতি’ এবং জনতার দলকে ‘কলম’ প্রতীকে নিবন্ধন দেওয়া হল।

এ নিয়ে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৭টিতে। এছাড়া আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।

২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬১টি নিবন্ধন পেয়েছে। পরে বিভিন্ন সময়ে ফ্রিডম পার্টি, ঐকবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন ও পিডিপির নিবন্ধন বাতিল হয়।

শিক্ষা ক্যাডারে গণবদলি: নীতিমালা উপেক্ষা, সিন্ডিকেট অভিযোগ ও নির্বাচনকালীন প্রশ্ন

0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ৫০০ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বড় গণবদলি হিসেবে দেখা হচ্ছে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা, প্রশাসনিক মহল ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ, প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ মাত্র চার থেকে নয় মাস আগে বর্তমান কর্মস্থলে যোগ দিয়েছিলেন। অথচ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বদলি নীতিমালার ৪.৩ (খ) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—
“একই কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে অন্যত্র বদলির জন্য আবেদন করা যাবে না।”
তবে সেই নীতিমালাকে উপেক্ষা করেই নির্বাচনকালীন সময়ের শুরুতে এই গণবদলি কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচনকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, তফসিল ঘোষণার পরপরই এ ধরনের বড় পরিসরের বদলি নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক থেকে দুই মাস আগেই নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দপ্তর থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের উপযোগী কর্মকর্তাদের তালিকা সংগ্রহ করেছে এবং অনেক শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তফসিল ঘোষণার পর এমন বদলি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডারের বদলির ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে সেগুলোতে সময়মতো স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার রাতে জমা থাকা ফাইলগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (কলেজ–১) খোদেজা খাতুন ক্যাম্পাস মিররকে বলেন,
“শিক্ষা ক্যাডারদের বদলির ফাইলে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন আমাদের সচিব মহোদয়। সিন্ডিকেট বা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই। আমি এই ধরনের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই।”TDC 825x465 (3)

বদলি সিন্ডিকেটের অভিযোগ

তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একটি প্রভাবশালী বদলি সিন্ডিকেটের অভিযোগ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ডিআইএ–এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে—এমন আলোচনা রয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, গণবদলির পর অনেক কর্মকর্তা এই সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করে তাদের বদলি আদেশ সংশোধন করিয়েছেন। এর প্রমাণ হিসেবে বদলি আদেশ জারির ১০ দিনের মাথায় পাঁচটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে সংশোধনী আনার বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশোধনীতে ঢাকার বাইরে বদলি হওয়া একাধিক কর্মকর্তাকে আবার ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা ক্যাম্পাস মিররকে বলেন,
“শিক্ষা উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার সুপারিশ ছাড়া ভালো পদায়ন হয় না। এই সিন্ডিকেটের কারণে অনেক কর্মকর্তা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিয়ম সবাই জানে, কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নেয় না।”

বারবার বদলিতে চরম ভোগান্তি

এই গণবদলির ফলে অনেক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। কেউ নতুন বাসা ভাড়া নিয়েছেন, কেউ সন্তানদের নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন—এর মধ্যেই আবার নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ পেয়েছেন তারা।

একজন কর্মকর্তা বলেন,
“চার মাস আগে ঢাকায় বদলি হয়ে এসেছি। সংসার গুছিয়ে ওঠার আগেই আবার বদলি। পরিবার নিয়ে কীভাবে নতুন করে শুরু করব বুঝতে পারছি না।”

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অস্থির বদলি শুধু কর্মকর্তাদের জীবনেই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একজন কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব বুঝে ওঠার আগেই বদলি হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে।

প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, অনিশ্চিত জবাব

নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কথা থাকলেও শিক্ষা ক্যাডারে এই গণবদলি পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারের কৌশলও হতে পারে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আববার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রাণ দিতে হয়েছে হাদিকে : প্রফেসর ড. আবদুর রব

শহিদ শরীফ ওসমান হাদি বাংলাদেশকে এমন একটি আত্মমর্যাদাশীল, শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন—যেখানে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি আগ্রাসনের সাহস পাবে না। এই চেতনা জাগ্রত করায় তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। রোববার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, জুলাই বিপ্লবের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, কেবল পড়াশোনা, ভালো রেজাল্ট ও চাকরিই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো এই ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশটিকে একটি আত্মমর্যাদাশীল, শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা—যেখানে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি আগ্রাসনের সাহস পাবে না। এই চেতনা জাগ্রত করার পথেই শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন হাদি চলে গেলেও তার আদর্শ বহুগুণ হাদির জন্ম দেবে। দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার মো. মনিরুল ইসলাম, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনোমিকসের ডিন মো. মাহবুব আলম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ.এইচ.এম. আবু সাঈদ, আইন বিভাগের প্রফেসর ড. এবিএম মাহবুবুল ইসলাম, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যাকে প্রভাবিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরে চীন, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর—এই ভূ-কৌশলগত, ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ব শক্তিগুলোর দৃষ্টির কেন্দ্রে। এই আধিপত্য বিস্তারের প্রয়াসে তাবেদার শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর ষড়যন্ত্র চলে আসছে। শহীদ হাদির মতো তরুণরা যখন জনগণকে এই বাস্তবতা বোঝাতে এগিয়ে আসে, তখনই ষড়যন্ত্র তীব্র হয়। তিনি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যে ছাড়পত্র কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “চলে যাব—তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণপ্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব” এই অঙ্গীকারে স্বাধীনতার চিন্তা ও জাতিকে জাগানোর যে দীপশিখা শহিদ হাদি তরুণদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের এক অনন্য আইকন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শহীদ হাদির বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ভারতীয় আগ্রাসী শক্তির দেশীয় দোসরদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। এ কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। তবে হাদি মরে যাননি; তিনি লক্ষ লক্ষ তরুণের মাঝে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পর্বতসম প্রতিবন্ধক হয়ে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন। তিনি শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে সন্তানতুল্য উল্লেখ করে বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ভূ-রাজনীতি নিয়ে তার সঙ্গে একাধিক সভা-সমাবেশে আলোচনার সুযোগ হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত অমায়িক, নম্র ও ভদ্র হলেও অল্প বয়সেই ভূ-রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল, যা আজকের তরুণ সমাজে বিরল। মাত্র এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটিয়ে গেছেন উল্লেখ করে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখে দিতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিচর্চা জাগ্রত করতে তিনি কালচারাল সেন্টার গড়ে তুলেছিলেন। এই কার্যক্রমে তরুণদের ব্যাপক সম্পৃক্ততায় ভীত হয়েই কালচারাল ফ্যাসিস্টদের রোষানলে পড়তে হয়েছে তাকে। ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা থেকেই শহীদ হাদি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভ্যানে ও পায়ে হেঁটে নিরলস প্রচার-প্রচারণা চালানোর মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিচ্ছিলেন। তার এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাও প্রতিপক্ষের জন্য চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিল—যোগ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর। শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে একজন অসাধারণ বিতার্কিক হিসেবে উল্লেখ করে প্রফেসর ড. আবদুর রব বলেন, তার উপস্থিত বুদ্ধি ও শাণিত যুক্তির কাছে বহু টকশো ব্যক্তিত্বকে অসহায় হতে দেখা গেছে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের গুম, খুন, দুর্নীতি, লুটপাট ও নিপীড়নের চিত্র তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরায় দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্যবাদী শক্তি ও তাদের দেশীয় দোসররা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। শহীদ হওয়ার আগেও তিনি একাধিকবার হত্যার হুমকির আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি শহীদ হাদিকে সম্মুখসারির একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধারা বিভাজনের জন্য নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই হাদি নিজের জীবন উৎসর্গ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তার সেই অসমাপ্ত কাজ তরুণ সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। শেষে তিনি বলেন, শহীদ হাদি এ দেশকে ভালোবাসতেন, এ দেশের মানুষের সংস্কৃতি ও প্রকৃত স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারই হোক আজকের এই দোয়া মাহফিলের প্রতিজ্ঞা। তিনি শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শহিদি মৃত্যু কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং তার জন্য চিরশান্তি ও চিরমুক্তি কামনা করেন। ভাইস-চ্যান্সেলরের বক্তব্য শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান খিজরী।

সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত শাহাদাত বরণকারী সেনা সদস্যদের মৃতদেহ দেশে পৌঁছালো।

0
  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সংঘটিত বর্বরোচিত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলার ঘটনায় শাহাদাত বরণকারী ৬ জন শান্তিরক্ষীর মৃতদেহ আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশে প্রত্যাবর্তন করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, বিপি, এসবিপি, ওএসপি, বিএএম, এনডিসি, পিএসসি বিমানবন্দরে শান্তিরক্ষীদের মৃতদেহ গ্রহণ করেন। এছাড়াও মৃতদেহ গ্রহণকালে চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ; বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি; আবেইতে মোতায়েনরত জাতিসংঘ মিশন ইউনিসফা এর ফোর্স কমান্ডার এর প্রতিনিধি, চিফ কমিউনিটি লিয়াজো অফিসার; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (ইউএন); পরিচালক, ওভারসিজ অপারেশন পরিদপ্তর, সেনা সদর; ঊর্ধ্বতন সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মৃতদেহ গ্রহণকালে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং সকল সামরিক ব্যক্তিবর্গ শাহাদাতবরণকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্যালুট প্রদান করেন।
  1. আগামীকাল ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা সেনানিবাসস্থ কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠান শেষে তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় হেলিকপ্টার যোগে প্রেরণ পূর্বক যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। উল্লেখ্য, উক্ত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় ৬ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হওয়ার পাশাপাশি ৯ জন শান্তিরক্ষী আহত হন, যাদের মধ্যে ৮ জন কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল (লেভেল–৩ হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে সকলেই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে শহীদ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত

0

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

উত্তরা ইউনিভার্সিটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদীকে স্মরণ করে মিছিল ও গায়েবানা জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন কুদরতি শাহ মসজিদের সম্মানিত খতিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রক্টর ড. এ এস এম শাহাবুদ্দিন, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ডিন ও চেয়ারম্যান,সহ সম্মানিত ফ্যাকাল্টি সদস্যবৃন্দ। শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন জুলাই আহত যোদ্ধা মোঃ গোলাম রাব্বি, মোঃ নাইমুল ইসলাম খান অনিক এবং ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বৃহত্তর উত্তরা জোন’ ফেসবুক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও পুসাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ শাহরিয়ার হোসেন সাগর সহ সকল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কুদরতি শাহ মসজিদের সম্মানিত খতিব তার বক্তব্যে বলেন, “শহীদ শরীফ ওসমান হাদী এমন একজন মানুষ, যিনি দুনিয়া ও আখিরাত, উভয় জগতেই সফল। তার নামের মতোই তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামের পথ দেখিয়ে গেছেন। তার ইহজাগতিক মৃত্যু হলেও তিনি কিয়ামত পর্যন্ত কোটি বাঙালি মুসলিমের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।” মোঃ শাহরিয়ার হোসেন সাগর বলেন, “নিশ্চয়ই প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু যদি সেই মৃত্যু গৌরবময় হয়, ইতিহাসকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পুরো একটি প্রজন্মকে শহীদি তামান্নায় আকৃষ্ট করে, তাহলে সেই মৃত্যু কি কষ্টের? ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য, বাঙালি মুসলমানের জন্য জীবন উৎসর্গ করা কি শহীদি মৃত্যু নয়?”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস বখতিয়ার থেকে তিতুমীর, নোয়াখালী থেকে বাবরি পর্যন্ত বিস্তৃত। আমাদের ত্যাগের ইতিহাস আবরার, ফাহাদ থেকে হাদী পর্যন্ত গড়িয়ে এসেছে। এই সংগ্রামই আমাদের পরিচয় ও গৌরবের প্রতীক।”
জুলাই আহত যোদ্ধা মোঃ নাইমুল ইসলাম খান অনিক বলেন, “হাদী নাম উচ্চারণের আগে ‘শহীদ’ না বললে আমি আমার বিপ্লবী গ্রামার অনুযায়ী অপরাধবোধ করবো। আমরা বারবার ঘুমিয়ে পড়ি, আর শহীদ আবরার, ফাহাদ, হাদীরাই এসে আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে বলে, এই ভূখণ্ড আমাদের, এখানে সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না।” তিনি বলেন, “১৯৪৭ সালের দেশপ্রাপ্তি ছিল অসম্পূর্ণ। ১৯৭১ সালে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করি, কিন্তু সেই স্বাধীনতাও ফ্যাসিবাদী অপশক্তি দ্বারা নিপীড়িত ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব আমাদের সেই অরক্ষিত স্বাধীনতার পুনরুত্থান ঘটিয়েছে।”
অপর জুলাই যোদ্ধা মোঃ গোলাম রাব্বি বলেন, “আজ আমাদের মাঝে ওসমান হাদী নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া চিন্তা ও বাংলাদেশী সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী ভাইয়েরা রয়েছেন, যারা এই ৫৬ হাজার বর্গমাইল মন ও মননে ধারণ করে। তারা কোনো দাসত্ব মানে না, যেমন মানেননি হাজী শরীয়তুল্লাহ, তিতুমীর।।
তিনি আরও বলেন, “এই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে আর কোনো কলোনিয়াল চিন্তা বা শাহবাগী এক্টিভিজম চলবে না। আমরা উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে হাদীর রেখে যাওয়া কালচারাল যুদ্ধ অব্যাহত রাখবো। সে লক্ষ্যে ইনকিলাব মঞ্চ চালুর ঘোষণা দিচ্ছি। আমরা তাত্ত্বিক সংগ্রামের পাশাপাশি রাজপথের লড়াইও চালিয়ে যাবো।” শোকসভা শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

ওসমান হাদিকে সোমবার দুপুরে সিঙ্গাপুরে নেয়া হবে

0
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে আগামী সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত হয়। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর এবং ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে জরুরি ফোন কনফারেন্সে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।   গত দুই দিনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করে। আজ এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শ ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধান উপদেষ্টাকে বিষয়টি জানানো হয়।   প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও অপরিবর্তিত রয়েছে।   আগামীকাল দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হবে। ইতোমধ্যেই মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল ও ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি বিভাগে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   তার চিকিৎসার সব ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া, তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।