চাঁদা না দেওয়ায় শাহবাগের দোকান বন্ধের হুমকি ছাত্রদল-যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের

0

নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন শাহবাগ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা চাঁদা আদায়ের পরিবর্তে দোকান মালিককে “আওয়ামী লীগের পোস্টেড নেতা” আখ্যা দিয়ে দোকান পরিচালনা করতে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন: শাহবাগ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস, যুবদল থেকে বহিষ্কৃত নেতা শহিদুল ইসলাম খোকন, ২১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহ আলম, শাহবাগ থানা ছাত্রদলের কর্মী শিমুল, এবং স্বাধীন রেস্টুরেন্ট মালিক মো. নজরুল।জানা গেছে, গত শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে শাহবাগের আজিজ কোঅপারেটিভ মেডিসিন মার্কেটের উত্তর পাশে অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ স্টোরে’ চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। তারা দোকানের ভাড়া বাবদ মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান তুলে দেওয়ার হুমকি দেন। চাঁদা না দেওয়ায় দোকানের মালামাল ফেলে দেন অভিযুক্তরা।

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) আসরের সময় ২১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহ আলম এবং মাগরিবের আগে যুবদল থেকে বহিষ্কৃত নেতা শহিদুল ইসলাম খোকন দোকানে এসে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। দোকান মালিক মো. রিপন তাদের থেকে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য দুইদিন সময় চান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার রাতে অভিযুক্তরা দোকানের সামনে ভিড় করছেন এবং দোকানের মালামাল ফেলে দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী মো. রিপন জানান, “শনিবার রাতে আমি দোকান থেকে চলে যাওয়ার পর স্থানীয় ছাত্রদলের নেতারা ১৫-২০ জনকে নিয়ে আমার দোকানে আসে। আমার চারজন কর্মচারী তখন দোকানে ছিল। তারা মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তারা দোকানের মালপত্র নিচে ফেলে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “রবিবার আসরের সময় শাহ আলম টাকা নিতে আসেন। এরপর মাগরিবের আগে খোকন ভাই পোলাপান নিয়ে এসে চাঁদার বিষয়ে কথা বলে। আমি তাদের দুইদিন সময় চাই।”ভাড়া কার হাতে পৌঁছতে হবে জানতে চাইলে দোকান মালিক মো. রিপন বলেন, “তারা প্রতি মাসে আসবে টাকা নিয়ে যেতে। আলাদাভাবে কার হাতে টাকা দিতে হবে তা আমাকে বলা হয়নি।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহবাগ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা সেখানে গিয়েছিলাম ফুটপাথের দোকান তুলে দিতে। দোকানের মালিক সাদ্দাম যুবলীগ করে, তাই সে এখানে দোকান রাখতে পারবে না। আগে মার্কেটে ছাত্রলীগ ছিল, এখন তাদেরকে উঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখানে টাকাপয়সা নিয়ে কোনো কথা হয়নি। আমাদের সিনিয়র আছে, আপনি তাদের সাথে কথা বলেন।”

২১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহ আলম বলেন, “আমরা সেই দোকানে কোনো চাঁদা নিতে যাইনি। দোকানের মালিক আওয়ামী লীগের পোস্টেড নেতা। আন্দোলনের সময় সে অনেককে আহত ও নিহত করেছে। পরবর্তীতে দোকান কাকে দেওয়া হবে সেটা দেখার বিষয় নয়, তার দোকান সেখানে থাকবে না, তুলে দিতে হবে।” তবে তিনি দোকান মালিকের আওয়ামী লীগের পদের সংশ্লিষ্টতা এবং হামলার ডকুমেন্টস দিতে রাজি হননি।

বিজয়ের অঙ্গিকার চব্বিশের দ্রোহে।

২০২৪ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের ৫৩ বছর পূর্ণ হবে। ১৯৭১ সালের এই দিনে, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে, ১৬ই ডিসেম্বর পৃথিবীর বুকে নতুন একটি দেশ জন্ম নেয়-বাংলাদেশ। এক নতুন সূর্য উকি দেয়, নতুন স্বপ্নের আহ্বান আসে। আজ, যখন আমরা অতীতের অর্জন এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে ফিরে তাকাই, তখন আমাদের সামনে উন্মোচিত হয় অনেক প্রশ্ন। আমরা কতটা এগিয়েছি এবং কোথায় পৌঁছেছি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে, আমাদের অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে হবে। বিজয় দিবস বাঙালি জাতির শৌর্যবীর্যের এক অনন্য নিদর্শন। এটি কেবল একটি জাতির বীরত্বের ঘোষণা নয়, বরং বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের দিন।

২৪ এর জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব ইতিহাসের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে পৃথিবীর ইতিহাসে ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া বহু তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট, পরিণতি ও অর্জনের ঘটনাগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই, যেকোনো ন্যায়ভিত্তিক যৌক্তিক রাজনৈতিক আন্দোলন সাফল্য অর্জন করেছে, কখনো ব্যর্থ হয়নি। এসব আন্দোলন-সংগ্রামের প্রকৃতি ও আদর্শগত অবস্থানের মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও অবৈধ দখলদারী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এগুলো সর্বদাই বিজয়লাভ করেছে। বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাসেও স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে বারবার বিদ্রোহ ঘোষিত হয়েছে। কোথাও বিদ্রোহ সফল হয়েছে, কোথাও আবার ব্যর্থ হয়েছে। সাফল্য ও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় আমরা দেখেছি আধুনিককালে কোনো স্বৈরশাসকই গণ-অভ্যুথানের প্রবল প্রতিরোধের মুখে তার মসনদ রক্ষা করতে পারেনি।

১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা থেকে যায় শাসিত ও শোষিত। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু হয় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালির আত্মত্যাগের সেই অধ্যায় আজও বিশ্বকে মুগ্ধ করে।

এরপর আসে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের বিজয়। এই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার পর বাঙালিরা সংগঠিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়। ছাত্র-জনতা, পুলিশ, ইপিআর, আনসারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই বাহিনীতে যোগ দেয়। মুক্তিবাহিনী গেরিলা যুদ্ধের কৌশলে পাক সেনাবাহিনীকে চরম বিপর্যস্ত করে তোলে। যুদ্ধের সময় বাঙালিরা শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয়। সেখানে তারা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। দিনে দিনে মুক্তিবাহিনী শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পাক বাহিনী উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়েও বাঙালির সম্মুখযুদ্ধে টিকতে পারেনি।

অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। এটি কেবল একটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং একটি জাতির শৃঙ্খল মুক্তির জয়গান। বিজয় দিবসের তাৎপর‍্য কেবল অতীতের গৌরব নয়; এটি একটি জাতির অহংকার এবং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি খুব বেশি দীর্ঘ সময় না হলেও একটি জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য একেবারে কম নয়। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, যে লক্ষ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেই লক্ষ্য ও আদর্শ কতটা অর্জিত হয়েছে? রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল সব ধরনের অধীনতা থেকে মুক্তি এবং সমাজে গণতন্ত্র, ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা। সব নাগরিকের মৌলিক চাহিদা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বাহাত্তরের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে মৌলিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেখানে কি স্থির থাকতে পেরেছি? কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আর্থসামাজিক সূচকে আমরা অনেক এগিয়ে গেলেও রাজনৈতিক আদর্শ অর্জন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আমরা কি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি?

৫৩ বছরে আমাদের অর্থনৈতিক অর্জন বেশ মলিন। ২০১৫ সালে যখন আমরা নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি, তখনও আমাদের সবগুলো দিকের উন্নতির সূচনা ঘটে। যদিও বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১,৯০৯ ডলার, আমরা এখনো বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে কম উন্নত দেশগুলোর মধ্যে আছি। সমাজের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে এবং দেশের অধিকাংশ নাগরিক মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দুর্নীতি, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, চিকিৎসা সেবা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা-এই সমস্ত সমস্যা আমাদের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

আমদের স্বাধীনতা ও বিজয় সহজলভ্য হয়নি। আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে নানাবিধ ঘটনাপ্রবাহ ও চেতনাকে ধারণ করে। যেসব কারণে আমরা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ি এবং সে অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মুক্তিসংগ্রামে অবতীর্ণ হই-মূলত সেগুলোয় হচ্ছে স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। কিন্তু আমাদের ক্ষয়িষ্ণু ও গন্তব্যহীন রাজনীতির কারণেই এতে বিচ্যুতি ঘটেছে। এখন শ্রেণি বিশেষের স্বার্থ রক্ষার অনুষঙ্গগুলোকে স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে একাকার করে ফেলা হয়েছে। যা আমাদের মহান বিজয়ের অর্জনগুলোকে ম্লান করে দিচ্ছে।

এছাড়া, বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি অনেক কম। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, এবং অপর‍্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা অনেক সময় আমাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়। আমাদের দেশ এখনও উপযুক্ত পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে আরও অনেক দূর যেতে হবে, এবং এজন্য সমন্বিত ও সুসংহত উদ্যোগের প্রয়োজন।

যতদিন না আমরা সমাজের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারব, ততদিন আমাদের অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে চলবে না। প্রতিনিয়ত খবর আসে, কোটি কোটি টাকা পাচার হয়েছে দেশের বাইরে। দুর্নীতি সমাজের প্রতিটি স্তরে একটি স্থায়ী রূপ ধারণ করেছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটিরও বেশি, যা আমাদের অর্থনীতি এবং দেশের ভবিষ্যতকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

যদিও আমরা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, তবুও তাদের স্মৃতির সংরক্ষণে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ত্রিশ লাখ শহীদের নাম তালিকাভুক্ত করা, তাদের স্মৃতি রক্ষায় জাদুঘর তৈরি করা, এবং তাদের জন্য ভাতা চালু করার দাবি এখন একান্ত জরুরি। এই শহীদরা নিজেদের জীবন দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনেছেন-তাদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

আজ, আমরা যখন ৫৩ বছরের পথচলা মূল্যায়ন করি, তখন অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আগামীর পথচলা আরও কঠিন হবে। আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ-বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক অসাম্য, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা। তবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায় হল, আমরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করি, তবে আমাদের দেশ কখনও থেমে থাকবে না।

এখন সময় এসেছে, আমরা সবাই একযোগে কাজ করি। আমাদের সমাজে প্রতিটি নাগরিককে তাদের সম্পদে পরিণত করতে হবে। বিদেশে কর্মরত আমাদের শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাদের উন্নয়নে মনোযোগ দিলে, দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। ২০২৪ সালের জুলাই মাস এবং আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহজুড়ে ছাত্র-জন-তার অভূতপূর্ব ও অভূতশ্রুত গণ-আন্দোলন আমার পূর্বঘে-াষিত প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপদান করেছে। গণ-আন্দোলনেই যে হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের ঐতিহাসিক পতন হবে এ বিষয়ে আমি পূর্বেই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করি। একই সঙ্গে আমি এ কথাও গভীরভাবে বিশ্বাস করেছিলাম যে, উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিকশিত নবজাগরণের বা রেনেসাঁর উন্মেষ থেকেই নবপর্যায়ের একটি গণ-আন্দোলনের সূচনা হবে।

বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা সংকটে রয়েছে। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন এবং এর পরবর্তী অবস্থা আমাদের চিন্তার জন্য বড় কারণ। গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ-অংশীদারিত এবং বিরোধী দলের অংশগ্রহণ-আজ প্রায় বিলুপ্ত। আমরা একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, মানবাধিক-ার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তবে, স্বাধীনতার ৫৩ বছরে, আমরা যদি নিজেদের ভুলগু-ি লকে সংশোধন না করি, তবে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। আমাদের নিজস্ব স্রষ্টি শক্তি-জনগণ-যদি তাদের শক্তি কাজে লাগায়, তবে এই দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন একদিন আসবেই। আমাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, সুশাসন, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের সব দিগন্তে এক নতুন সূর্য উঠেছে, এসেছে এক আশ্চর্য্য নতুন প্রভাত উদ্ভাসিত এ সূর্যের প্রতিটি আলোকবিন্দুতে আমি দেখতে পাচ্ছি রেনেসাঁর দ্যুতি।

কেননা, একমাত্র রেনেসাঁ মুক্তির পথ দেখাতে পারে। সর্বকালে সব দেশে রেনেসাঁর মতো উন্মেষ নাও ঘটতে পারে। নিজের দেশের বাস্তবতায় সে দেশের জনগণ মুক্তির পথ খুঁজে নিবে। বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর্থ-সাম-াজিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক বিন্যাস ও পটভূমির আলোকেই আজ এক নতুন রেনেসাঁর জন্ম দিয়েছে। আমার বহু প্রত্যাশিত এ রেনেসাঁ ইউরোপের মতো নয়;চরিত্রগতভাবে এ রেনেসাঁ শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার ক্ষুরধার দিয়ে ইহলৌকিকতার জয়গান নয়, এ রেনেসাঁ জাতীয় মুক্তির চেতনায় আলোকিত একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রেনেসাঁ। এ নবউন্মেষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের এক সম্মিলিত অঙ্গীকার। এ নবজাগরণ একটি জাতিকে নব উদ্বোধনের চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমার বহুলালিত এ রেনেসাঁ বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতীয় চেতনা, আবেগ ও প্রত্যাশার এক উজ্জ্বল অগ্রদূত।

এ দেশের ছাত্রসমাজ এ রেনেসাঁর জন্ম দিয়েছে। তারা সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছেন রেনেসাঁর চিরাচরিত ধারণা। তারা ভাবমানসের অতীন্দ্রিয় কুহক থেকে রেনেসাঁকে সরিয়ে এনেছেন স্বৈরতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের মুক্তি। তারা মহামতি কাল মার্কসের সেই অমর বাক্যের মূর্তরূপ দিয়েছেন বাংলাদেশে। Philosophers have hitherto interpreted history, now the task is to change it. বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ মার্কসের গভীর প্রত্যাশাকে আজ পূর্ণ করেছে। তারা আবদ্ধ কক্ষের গ্রন্থঠাসা আলো-আঁধারিতে বসে বাংলাদেশকে তথ্য ও তত্ত্বের সারণী ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মস্তিষ্ক উত্তপ্ত করেননি; তারা গণমানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামে সেনানায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। মার্কস ‘পরিবর্তনের’ যে আশার কথা শুনতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ সমগ্র দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই আশা পূর্ণ করেছেন। ছাত্র-জনতা পরিণত হয়েছে সংগ্রামরত গণদার্শনিকে।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের সাথে সহযোগিতা করেছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে বিরোধও রয়েছে। ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা পানি সমস্যা, বিএসএফ-এর কর্মকাণ্ড-এই সব বিষয়গুলোতে আমাদের একে অপরের পাশে দাঁড়ানো দরকার। ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, তবে তাতে সমতা থাকতে হবে। আমাদের স্বার্থ রক্ষা করেই তাদের সহযোগিতা নিতে হবে।

আজকের এই দিন, যখন আমরা ৫৩ বছর পর নিজেদের অর্জন ও অপ্রাপ্তি মূল্যায়ন করি, তখন আমাদের সবাইকে একটি কথা মনে রাখতে হবে: একমাত্র ঐক্যবদ্ধ জাতি অর্থবহ হতে পারে। যেখানে আজকে আমাদের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের চোখরাঙানি, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের চক্রান্ত হুক্কাহুয়ায় চারিদিকে শোরগোল। সেখানে আমরা হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারিনা, আমাদেরকে কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। আমাদেরকে নিজের ঐতিহ্য, স্বাধীনতা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্থায়িত্বের জন্য একত্রে কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ, এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

-লেখক 

সহকারী সম্পাদক, দ্যা ক্যাম্পাস মিরর 

শিক্ষার্থী, স্থাপত্য বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

মাই নেম ইজ রেড

সাদী মোহাম্মদ সাদ

নোবেল বিজয়ী তুর্কি সাহিত্যিক ওরহান পামুক বিশ্ব সাহিত্যে এক অনন্য নাম। তিনি একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, চিত্রনাট্য সম্পাদক এবং শিক্ষক। ২০০৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভের পর তার খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, যদিও মূলধারার পাঠকদের কাছে তিনি তার লেখালেখির শুরু থেকেই পরিচিত। বর্তমান সময়ে অন্যতম জনপ্রিয় এই লেখকের বই প্রায় ৬০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ১ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।

ওরহান পামুকের সাহিত্য শুধু পাঠকের হৃদয় জয় করেনি, বরং দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কারও অর্জন করেছে। তুরস্কের ইতিহাসে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক পুরস্কৃত লেখকদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন।

১৯৭৪ সালে লেখালেখির পথচলা শুরু করা পামুক ছাত্রজীবনে প্রথমে ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যয়ন করলেও পরে তা ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার লেখা প্রতিটি উপন্যাসই বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে নতুন বই প্রকাশের জন্য পাঠকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, কারণ তিনি বারবার সম্পাদনায় বিশ্বাসী। প্রতিটি উপন্যাস লেখার পর পামুক সেটি বহুবার সম্পাদনা করেন, ফলে তার নতুন গ্রন্থ প্রকাশের সময় তুলনামূলক দীর্ঘ হয়।

ওরহান পামুকের উপন্যাস ‘মাই নেম ইজ রেড’ তার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে তুরস্কে এবং ২০০১ সালে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়। এটি শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক অভিজ্ঞতার বিস্তৃত চিত্র। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগে অটোম্যান সাম্রাজ্যের প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসে পামুক এমন এক পৃথিবীর কথা বলেন, যেখানে শিল্প, ধর্ম, রাজনীতি এবং ভালোবাসা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

‘মাই নেম ইজ রেড’ এর কাহিনি শুরু হয় একটি চিত্রশিল্পীর মৃত্যু দিয়ে। এই চিত্রশিল্পী একটি কুয়োর তলায় পড়ে রয়েছে, আর তার মৃত দেহ থেকেই গল্পের সূচনা। খুনী কে, সে কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটালো এবং এর সাথে সাম্রাজ্য ও চিত্রকলার ঐতিহ্য কীভাবে সম্পর্কিত, এই প্রশ্নের উত্তরই গল্পটির প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে। পুরো উপন্যাসটি বিভিন্ন চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্ণিত হয়েছে। মোট ৫৯টি অধ্যায়ে প্রত্যেক চরিত্র নিজের বয়ানে গল্পের অংশ তুলে ধরে। চিত্রশিল্পী, খুনী, সুলতান, একটি গাছ, এমনকি একটি লাল রঙও এই উপন্যাসে কথা বলে, যেমন গাছটি বলে, “আমি একে একে সবকিছু দেখেছি, কিন্তু আমার একদিনই অনুভব হয়েছে, আমি শুধু একজন শিল্পীর জন্যই জন্মেছি।”। এই স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিগুলো উপন্যাসকে অসাধারণ একটি শৈল্পিক কাঠামো দেয়।

অটোম্যান সাম্রাজ্যের সুলতান তার জীবন এবং রাজত্বকাল সম্পর্কে একটি সচিত্র পাণ্ডুলিপি তৈরি করার আদেশ দেন। এর জন্য নিযুক্ত হয় সুলতানের সেরা চিত্রশিল্পীরা। কিন্তু কাজটি সহজ ছিল না। তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকট হয়, কারণ তাদেরকে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী অনুচিত্র শিল্পের নিয়ম থেকে সরে এসে ইউরোপীয় শৈলীতে কাজ করতে হয়। এই সাংস্কৃতিক সংঘাত শিল্পীদের মধ্যে গভীর ফাটল তৈরি করে। সেই সঙ্গে চিত্রশিল্পীদের একটি অংশ উগ্রপন্থীদের দ্বারা চিত্রকলার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ফতোয়ার মুখোমুখি হয়। 

উপন্যাসে লাল রঙের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। চিত্রশিল্পীরা যখন তাদের আঁকা ছবিতে লাল রঙ ব্যবহার করে, তখন তা শুধু একটি রঙ নয়, বরং তাদের জীবনের এবং তাদের পৃথিবীর একটি গভীর প্রতীক হয়ে ওঠে। লাল রঙের মাধ্যমে শিল্পীরা তাদের নিজস্ব আবেগ, খুনের প্রতিশোধ এবং সাংস্কৃতিক সংগ্রামের কথা ব্যক্ত করেন। রঙটি কেবল একটি চিত্রের অংশ নয়, বরং পুরো উপন্যাসের কেন্দ্রীয় থিমেরও প্রতীক।

এই সংকটের মাঝেই একজন চিত্রশিল্পীর খুন হওয়া পুরো গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। খুনী কে তা জানতে হলে পাঠককে অপেক্ষা করতে হয় উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত। এর মধ্যে উঠে আসে সুলতানের দরবারের রাজনীতি, শিল্পকলার ঐতিহ্য রক্ষার সংগ্রাম, এবং মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব। এছাড়া বইয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রেম। একজন প্রাক্তন প্রেমিক, যিনি বারো বছর পর ইস্তাম্বুলে ফিরে আসেন, তার জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা, তার প্রেমিকাকে ফিরে পাওয়ার লড়াই এবং তার বাবা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা পুরো গল্পে একটি আবেগময় প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

উপন্যাসের শৈল্পিক উপস্থাপনায় শুধু রহস্য বা প্রেম নয়, বরং সম্পর্ক, ঈর্ষা, ধর্মীয় মতবাদ এবং সাংস্কৃতিক সংঘাত অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে চিত্রিত হয়েছে। প্রতিটি চরিত্র তাদের নিজস্ব চিন্তা ও আবেগের মাধ্যমে একটি বৃহৎ গল্পের অংশ হয়ে ওঠে। উপন্যাসটি কেবল পাঠকের কাছে একটি চমৎকার গল্প নয়, বরং তাদের ভাবনার গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ দেয়।

‘মাই নেম ইজ রেড’ এর শৈল্পিক বর্ণনা এবং কাহিনির জটিলতায় পাঠককে পুরোপুরি মুগ্ধ করে। উপন্যাসটি রহস্য এবং ইতিহাসের মিশেলে একটি অমর সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিশ্বজুড়ে সাহিত্যপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় পত্রিকায় এই উপন্যাস প্রশংসিত হয়েছে। সত্যিই এটি একটি কালজয়ী উপন্যাস, যা সাহিত্যের গভীরতা এবং সৌন্দর্যকে নতুনভাবে চিনিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থী,

স্থাপত্য বিভাগ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

World Renowned Architect delivers lecture at BRAC University

December 10th, 2024

Department of Architecture, School of Architecture and Design recently held an Angan 148th lecture by world-renowned architect Wong Mun Summ, co-founder of the award-winning architecture firm WOHA. Wong Mun Summ, whose firm is behind the innovative design of BRAC University’s new campus, delivered an insightful lecture to students, faculty, and architects.

The event, held on campus, drew an enthusiastic crowd that included not only BRAC University students but also participants from various universities across the country. Wong Mun Summ captivated the audience by sharing the vision and philosophy behind WOHA’s various groundbreaking designs, with a particular focus on BRAC University’s campus.

Architect Mun Summ emphasized WOHA’s commitment to sustainable architecture. He highlighted how BRAC University’s campus design integrates environmental considerations with functional and aesthetic excellence. He discussed the role of green spaces, natural ventilation, hybrid cooling system and innovative materials in creating a unique learning environment.

Students were particularly inspired by Mun Summ’s emphasis on community-focused design and his belief that architecture should contribute to a better quality of life for all. A Q&A session followed the lecture, where students and aspiring architects engaged in meaningful discussions with the esteemed architect.

আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম

ঢাকা, ২ ডিসেম্বর ২০২৪: আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (AUST)-এর স্প্রিং-২০২৪ সেমিস্টারের নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য সংবর্ধনা ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত হয়। সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এইচ. খান অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (BoT)-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা আহসানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান। তিনি বলেন, “শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের জন্য নয়; এটি চরিত্র গঠন, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং সমাজে অর্থবহ অবদান রাখার জন্য।” তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা AUST-র শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাদের প্রতিটি কাজে সর্বোচ্চ সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখবেন।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন AUST-র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শারমিন রেজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক।

অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, যা একাডেমিক উৎকর্ষতা, উদ্ভাবন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানান যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন, একাডেমিক শৃঙ্খলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। বক্তব্য রাখেন: অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুর রহমান, ডিন, প্রকৌশল অনুষদ; অধ্যাপক ড. জাসমিন আরা বেগম, ডিন, স্থাপত্য অনুষদ; অধ্যাপক ড. এস. এম. শফিউল আলম, ডিন, ব্যবসা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ; অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুর রহমান, প্রক্টর; ড. মো. জিল্লুর রহমান, গ্রন্থাগারিক; ড. মো. শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত); মো. মুনিরুজ্জামান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত)।

আর্কিটেকচার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্কুল অব বিজনেস থেকে নবাগত শিক্ষার্থীরা AUST পরিবারের সদস্য হতে পেরে তাদের আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক প্রাত্তুষা ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানটি ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান পরিচালনা করেন। প্রক্টরিয়াল এবং ছাত্র কল্যাণ টিম প্রোগ্রামটি সফল, আতিথেয়তাপূর্ণ এবং তথ্যবহুল করার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ‘পাথওয়েস টু এ সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ‘পাথওয়েস টু এ সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। 

সেমিনারে বক্তারা টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তারা শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। 

আলোচনায় অংশ নেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিএলসি)-এর চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রেজওয়ান খান, ইউএসটিসির সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নওসাদ আমিন, সিটি ইউনিভার্সিটির সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী শাহাদাত কবীর রিমন, এবং ক্লাইমেট চেঞ্জ পলিসি ম্যানেজার ও উপদেষ্টা এ এস এম মারজান নূর। 

বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌর গোবিন্দ গোস্বামী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শাকাওয়াত জামান সরকার। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্পাদকীয়, ডিসেম্বর ২০২৪

প্রিয় পাঠক, বছর ঘুরে শেষ পরিক্রমায় এলো ডিসেম্বর। আমাদের জাতীয় জীবনে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর—আমাদের বিজয়; আমাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম দিন। এই দিনে বীর বাঙালি ছিনিয়ে এনেছিল তাদের স্বাধীনতা, বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই বিজয়ের চেতনা আমাদের সামনে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা যুগিয়ে আসছে।

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, কিন্তু ২০২৪ সালে আমরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছি—‘জুলাই বিপ্লব,’ যা আমাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।

‘জুলাই বিপ্লব’ ছিল জনগণের শক্তির এক অভূতপূর্ব বহিঃপ্রকাশ। বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি, দমননীতি, এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, তা আমাদের জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার দমনমূলক সরকার পতন হয়েছে।

তবে, আমরা উদ্বেগের সাথে অবজারভ করছি হাসিনা ও তার সহযোগীরা এখনো পলাতক। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পরও একটি গণহত্যাকারী দলের খুনিদেরকে সরকার আইনের আওতায় আনতে পারছেনা, যা দেশের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন সময় এসেছে হাসিনা ও তার সরকারের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার।

প্রিয় সুধী, আমরা যাদের ত্যাগে একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই জুলাই বিপ্লবের আহত অসংখ্য মানুষ আজও ন্যূনতম চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সংগ্রাম করছে। আমরা যদি তাদের ত্যাগকে সম্মান জানাতে চাই, তবে তাদের দ্রুত চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

দায় আমাদের শহীদদেরকে সম্মানিত করা, তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা। এক্ষেত্রে সরকার এবং সাধারণ জনগণের যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য।

১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ের চেতনাকে মনে রেখে আমাদের একাত্তরের স্বাধীনতার আদর্শ এবং ২০২৪ সালের জনগণের বিজয়ের চেতনাকে একসঙ্গে ধারণ করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের জন্য এটি এক নতুন সূচনা হতে পারে।

আমরা চাই, আগামী বছরগুলোতে যেন এই দেশ শাসিত হয় জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য। বিজয়ের এই মাসে শপথ নিতে হবে যে কোনো খুনি, দুর্নীতিবাজ, এবং দেশের শত্রুদের কোনো স্থান বাংলাদেশে থাকবে না।

পর্যটনের সম্ভাবনাময়ী স্পট ফাতরার বন

0

আব্দুল্লাহ আল মারুফ


সাগরকন্যা কুয়াকাটা থেকে অল্প একটু দূরেই ফাতরার বনের অবস্থান। পর্যটকদের জন্য ক্রমশ আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হচ্ছে ফাতরার বন, যা স্থানীয় ভাষায় ফাতরার চর নামে পরিচিত। বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেষে বেড়ে ওঠা এই বনকে অনেকে দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ম্যানগ্রোভ বনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ফাতরার বনে উপস্থিত। যান্ত্রিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে ফাতরার বনের নীরবতা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আমরা সাগরকন্যা কুয়াকাটা যাওয়ার পরে ফাতরার বনের নাম শোনা। মূলত সুন্দরবনেরই একটি অংশ পটুয়াখালীর এই অংশে এসে নাম নিয়েছে ফাতরার চর। সফরসঙ্গী এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে শুনে বিকেলে কুয়াকাটা সী-বিচ থেকে অটোরিকশায় ফাতরার বনের উদ্দেশ্যে রওনা হই। জোয়ার থাকায় বনের গভীরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। চরেই অবস্থান করি। লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে যাই। সাথে সমুদ্রের কলকল ধ্বনি প্রশান্তির ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে।


কুয়াকাটা সী-বিচ থেকে ট্রলার যোগে বনের গহীনে যাওয়া যায়। বনের গভীরে গেলে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সুন্দরী, কেওড়া, বাইন, গোলপাতাসহ আরো বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের দেখা মেলে। নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির শব্দে বিমোহিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সরীসৃপের দেখা মেলে। দিনে দু’বার এটি জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়। চরের পূর্ব অংশে রয়েছে একটি ছোট সমুদ্র সৈকত। এখানে যেতে হলে সবুজ অরণ্য আর কয়েকটি ছোট খালের ওপরে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে যেতে হবে। তবে দৃষ্টিনন্দন এই চরটিতে এখনো পর্যটকদের জন্য থাকার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তবে বন বিভাগের কোনো কর্তাব্যক্তির অনুমতি সাপেক্ষে থাকা যাবে ওই রেস্টহাউজে। কেবল নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায় ফাতরার চরে।


ফাতরার চরে আমরা যখন অবস্থান করি তখন প্রায় বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা গড়াচ্ছে। আকাশের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। বৃষ্টি আসার আশংকা ছিল। ছোট্ট সী-বিচে ঘোড়সওয়ার কয়েকজন ঘোড়া নিয়ে ছোটাছুটি করছে রোজগারের আশায়। কয়েকজন ছোট ছেলেমেয়ের দেখা মেলে। গল্প করে জানতে পারি তারা স্থানীয় জেলে পাড়ার বাসিন্দা। লাল কাঁকড়া ধরে পর্যটকদের নিকট বিক্রি করে বা টাকার বিনিময়ে ছবি তুলতে দেয়। এর জন্য নির্দিষ্ট কোন টাকা নেই, যার খুশিমতো যা দেয়।


সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন ফাতরার চর থেকে। সাধারণত শীতের মৌসুমে ফাতরার বনে পর্যটকদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা যায়। সড়কপথে যাতায়াতের মাধ্যম আরও সহজতর হলে পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
পটুয়াখালী জেলার সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে,আন্ধারমানিক নদীর মোহনার পশ্চিম দিকে রয়েছে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, নাম তার ফাতরার বন যা বইয়ের ভাষায় টেংরাগিরি বনাঞ্চল নামেও পরিচিত। ভৌগোলিকভাবে বরগুনা জেলায় বাগানটির অবস্থান থাকলেও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা বিনোদনের জন্য সেখানে ট্রলার যোগে যাতায়াত করেন। তবে সুন্দরবনের অংশ হলেও এ বনে নেই তেমন কোন হিংস্র প্রাণী। ৯,৯৭,৫০৭ একর জুড়ে এই বনের পরিধি। সাধারণত বনরক্ষী ছাড়া এখানে স্থায়ী বাসিন্দা নেই।

যেভাবে যাবেন ফাতরার বন:

ফাতরার চর দেখতে হলে প্রথমে কুয়াকাটা আসতে হবে। কুয়াকাটা থেকে প্রতিদিন বেশকিছু ট্রলার জনপ্রতি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা ভাড়ায় (ভাড়া সিজনের উপর নির্ভর করে) ফাতরার চরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। অথবা ট্রলার রিজার্ভ নিয়েও ২ ঘন্টায় ফাতরার বনে পৌঁছাতে পারবেন। নদী ও সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। লঞ্চে ঢাকা সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী বা বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। আর বাসে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। তবে সবচেয়ে সহজ ও আরামের কথা বিবেচনা করলে কুয়াকাটা যেতে নদী পথই উত্তম। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চে করে পটুয়াখালীতে গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। অথবা লঞ্চে সদরঘাট থেকে বরিশাল গিয়ে সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।
সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় পটুয়াখালি যাবার লঞ্চ ছেড়ে যায় এবং সকাল ৭টার দিকে পটুয়াখালি পৌছায়। লঞ্চ ভাড়া ডেক ৪০০-৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১৩০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২৪০০ টাকা, ভি আই পি কেবিন ভাড়া ৭০০০ টাকা। পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাট থেকে অটোতে বাস স্ট্যান্ড গিয়ে লোকাল বাসে যেতে হবে কুয়াকাটা। যেতে সময় লাগবে ২ঘন্টার মত, আর বাস ভাড়া ১৫০-১৬০ টাকা। এছাড়া সদরঘাট থেকে সন্ধ্যার পর বরিশালের উদ্দেশ্যে একাধিক লঞ্চ ছেড়ে ভোরে বরিশাল পৌঁছায়। বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলি বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে কুয়াকাটা যাবার বাস পাওয়া যায়। বাসে যেতে সময় লাগবে ৩ ঘন্টার মত, বাস ভাড়া ১৮০-২৫০ টাকা।

থাকবেন কোথায় :

ফাতরার বন বা চর কেন্দ্রিক এখনো হোটেল মোটেল বা রিসোর্ট তৈরি হয়নি। এক্ষেত্রে আপনাকে থাকতে হবে কুয়াকাটায়। মানের উপর ভিত্তি করে হোটেলের রুম বুকিং করতে হবে। দামাদামি করে নিলে ভালো হয়। সচরাচর পর্যটন মৌসুমে রুম খালি থাকে না। এছাড়া প্রায় রিসোর্ট গুলোর রুম খালি পাবেন।

খাবার-দাবার:
খাবারের কথা বললে সেই আবাসনের বিষয়টা উঠে আসে। ফাতরার চরে এখনো সেভাবে গড়ে উঠেনি খাবার হোটেল। এক্ষেত্রে আপনি বা আপনাদেরকে খাবার নিয়ে যেতে হবে। চাইলে চরে গিয়ে পিকনিক করতে পারেন।

সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যথাযথ দেখভাল হলেই ফাতরার বন কেন্দ্রিক একটি সুন্দর পর্যটন শিল্প গড়ে উঠবে। এতে সরকার রাজস্ব পাবে। সাথে অনেক মানুষের জীবিকার খাত তৈরি হবে। এবিষয়ে সরকারের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্রতারণা এড়াতে করণীয় ও বিশেষ সতর্কতা

0

জাপানি সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি, বিশেষ করে টয়োটা, হোন্ডা, নিসান, এবং সুজুকির মতো ব্র্যান্ডগুলি বাংলাদেশের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই গাড়িগুলি প্রায়ই তাদের উন্নত গুণগত মান, মাইলেজে দক্ষতা, এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য পরিচিত। বর্তমানে, বিশ্বব্যাপী সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির বাজারের বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশেও বাজারেও লক্ষ্যণীয়। গাড়ির দাম বৃদ্ধি, নতুন গাড়ির উপর অতিরিক্ত খরচ এড়াতে, এবং পরিবেশগত কারণে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে, এই বাজারে প্রতারণার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার সময় প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় ক্রেতারা গাড়ির ইতিহাস, কাগজপত্র, এবং শারীরিক অবস্থার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে ব্যর্থ হন। এ কারণে, ক্রেতারা গাড়ির মেরামতের ইতিহাস, দুর্ঘটনার তথ্য এবং পূর্বের মালিকের সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানার কারণে প্রতারণার শিকার হতে পারেন। এটি কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অতএব, ক্রেতাদের জন্য সচেতনতা ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গাড়ি কেনার সময় সতর্কতা

গাড়ির ইতিহাস যাচাই

গাড়ির ইতিহাস যাচাই করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভিআইএন (VIN) নম্বর ব্যবহার করে গাড়ির ইতিহাস রিপোর্ট পাওয়া যায়। গাড়ির পূর্ব মালিকানা, দুর্ঘটনা, এবং মেরামতের তথ্য সংগ্রহ করতে এই নম্বর ব্যবহৃত হয়। সাধারণত, গাড়ির ইতিহাস রিপোর্ট পাওয়ার জন্য CarModsBD এর auction sheet verification এর মতো অনলাইন সেবা ব্যবহার করা হয়। এই রিপোর্টে গাড়ির মাইলেজ, দুর্ঘটনার ইতিহাস, এবং মেরামতের তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে, যা ক্রেতাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

ডিলারের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই

ডিলারের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স যাচাই করা এবং গ্রাহক রিভিউ পড়া উচিত। একজন ভালো ডিলার সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করে এবং গ্রাহকদের সঠিক তথ্য প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও সুনাম যাচাই করা প্রয়োজন যাতে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনি একটি নিরাপদ এবং সঠিক ডিল করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছে এমন ডিলারদের কাছে গাড়ি কেনা সাধারণত বেশি নিরাপদ।

গাড়ির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা

গাড়ির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাইরের দিক, রঙের অমিল, দাগ, স্ক্র্যাচ ইত্যাদি পরীক্ষা করা উচিত। ইঞ্জিনের শব্দ, তেল লিকেজ, ব্রেক পরীক্ষা এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশের কার্যকারিতা যাচাই করা অপরিহার্য। এছাড়াও, মাইলেজ ও রেজিস্ট্রেশন কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। ওডোমিটার পড়া এবং কাগজপত্রে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত, কারণ অনেক সময় প্রতারণা করতে কিছু বিক্রেতা ওডোমিটার পরিবর্তন করে।

গাড়ি কেনার সময় সাধারণ প্রতারণার চিহ্ন

অস্বাভাবিক দামের প্রস্তাব

গাড়ি কেনার সময় যদি দাম বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম হয়, তাহলে এটি সন্দেহজনক হতে পারে। গাড়ির কার্যকারিতা, পারফরম্যান্স এবং ট্রামস এন্ড কন্ডিশন যাচাই করা উচিত। অনেক সময় ডিলারগণ গাড়ির মূল্য কমিয়ে দেয় কেবলমাত্র দ্রুত বিক্রি করার জন্য, যা পরবর্তীতে ক্রেতাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই, সঠিকভাবে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত মেরামতের দাবি

গাড়ি কেনার সময় অতিরিক্ত মেরামতের দাবি করা হলে তা যাচাই করা প্রয়োজন। পূর্বের মালিকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং মেরামত কাজের সত্যতা যাচাই করা উচিত। যদি বিক্রেতা অতিরিক্ত মেরামত করার কথা বলে, তাহলে যাচাই করুন যে মেরামতগুলি সত্যিই প্রয়োজন ছিলো কিনা, এবং গাড়ির ইতিহাস রিপোর্টে এসব তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কিনা।

কাগজপত্রের অসঙ্গতি

গাড়ির কাগজপত্রের মধ্যে যদি কোনো অসঙ্গতি দেখা দেয়, তবে তা একটি বড় প্রতারণা চিহ্ন হতে পারে। মডেল, বর্ষ, মালিকানা ইত্যাদির মধ্যে অমিল থাকলে দ্রুত সতর্ক হওয়া উচিত। কাগজপত্রের তথ্য যাচাই করা এবং অনলাইন ডেটাবেস ব্যবহার করে সত্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় রেজিস্ট্রেশন অফিসের মাধ্যমে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব।

গাড়ি কেনার পরের পদক্ষেপ

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

গাড়ি কেনার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। স্থানীয় আরটিও অফিসে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সাধারণত, এই কাগজপত্রের মধ্যে আগে থেকে নিবন্ধিত মালিকের তথ্য, নতুন মালিকের পরিচয়পত্র, এবং গাড়ির পূর্বের রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্টস অন্তর্ভুক্ত থাকে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে, আপনি একটি নতুন রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট পাবেন, যা গাড়ির বৈধতা নিশ্চিত করে।

বীমা সংক্রান্ত নির্দেশনা

গাড়ি কেনার পরে বীমা করানো অপরিহার্য। স্থানীয় বীমা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে সঠিক বীমা পরিকল্পনা নির্বাচন করা উচিত। বিভিন্ন কোম্পানির বীমার শর্তাবলী, প্রিমিয়াম এবং কভারেজের তুলনা করুন। মনে রাখবেন, সঠিক বীমা আপনার আর্থিক সুরক্ষা বৃদ্ধি করে এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। সাধারণত, তৃতীয় পক্ষের বীমা এবং কম্প্রিহেনসিভ বীমার মধ্যে নির্বাচন করা যায়।

রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবা

নিয়মিত সেবা এবং মেরামতের জন্য স্থানীয় গ্যারেজের সন্ধান করা প্রয়োজন। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ সঠিকভাবে না করা হলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয় মেকানিক বা গ্যারেজের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের সেবার মান যাচাই করা উচিত। নিয়মিত চেকআপ, তেল পরিবর্তন, এবং অন্যান্য সেবা সময়মতো করানো গাড়ির কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

প্রতারণা এড়াতে বিশেষ সতর্কতা

নকল কাগজপত্র চিহ্নিত করা

গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করার সময় মূল কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। সরকারী কাগজপত্রের বৈশিষ্ট্য যাচাই করা এবং গাড়ির কাগজপত্রের সঠিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নকল কাগজপত্র চিহ্নিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও, গাড়ির পূর্বের মালিকের তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষামূলক ড্রাইভ

গাড়ি কেনার আগে পরীক্ষামূলক ড্রাইভ নেওয়া অপরিহার্য। গাড়ির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা উচিত, যেন ড্রাইভিং অবস্থার বিভিন্ন দিক যাচাই করা যায়। গাড়ির ব্রেক, স্টিয়ারিং, সাসপেনশন, এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশের কার্যকারিতা দেখা। পরীক্ষামূলক ড্রাইভের সময় গাড়ির আওয়াজ, শকের অবস্থা এবং অন্যান্য দিক লক্ষ্য করুন।

পেশাদার পরামর্শ গ্রহণ

গাড়ি কেনার আগে পেশাদার মেকানিক বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত। পেশাদার মেকানিকের মাধ্যমে গাড়ির মেকানিক্যাল চেকআপ করানো উচিত, কারণ তারা কোনো লুকানো সমস্যা চিহ্নিত করতে সক্ষম। মেকানিকের সাহায্যে আপনি গাড়ির শারীরিক অবস্থা, ইঞ্জিনের কার্যকারিতা, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই করতে পারবেন।

সফলভাবে একটি গাড়ি কেনার জন্য সচেতনতা এবং পূর্ব প্রস্তুতির গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক তথ্য, গবেষণা এবং যাচাইয়ের মাধ্যমে আপনি প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারেন। প্রতারণা সনাক্তকরণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা গাড়ি কেনার প্রক্রিয়াকে নিরাপদ এবং সাফল্যমন্ডিত করে। সর্বদা মনে রাখুন, সঠিক গাড়ি নির্বাচন আপনার সময়, অর্থ, এবং মানসিক সন্তুষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Media Contact:

Shahriar Hosen

+8801627342851

hello@shahriarseo.com

https://shahriarseo.com

https://www.linkedin.com/in/shahriar-hosen

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ‘পাথওয়েস টু এ সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ‘পাথওয়েস টু এ সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।  

সেমিনারে বক্তারা টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তারা শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।  

আলোচনায় অংশ নেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিএলসি)-এর চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রেজওয়ান খান, ইউএসটিসির সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নওসাদ আমিন, সিটি ইউনিভার্সিটির সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী শাহাদাত কবীর রিমন, এবং ক্লাইমেট চেঞ্জ পলিসি ম্যানেজার ও উপদেষ্টা এ এস এম মারজান নূর।  

বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌর গোবিন্দ গোস্বামী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শাকাওয়াত জামান সরকার।  

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।