চাঁপাইনবাবগঞ্জে মির্জা ফখরুলের সমাবেশে অংশ নিবে না জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘বাঁচাও পদ্মা, বাঁচাও দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত গণসমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এ গণসমাবেশ। তবে দলের মহাসচিব উপস্থিত থাকলেও জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন না।

শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম। তাদের অভিযোগ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কর্মসূচিতে জেলা বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন নদী পদ্মার ন্যায্য হিস্যার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধারাবাহিক কর্মসূচি চলছে। গত ২ নভেম্বর স্থানীয় শহীদ সাটু হলে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এ আন্দোলন শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিটি উপজেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে বড় পরিসরে গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনের সার্বিক সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তাকে সহযোগিতা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া বলেন, “বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। দলের মহাসচিব আসছেন, অথচ জেলা বিএনপিকে কিছুই জানানো হয়নি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গণসমাবেশে যোগ না দেওয়ার। পুরো আয়োজন সম্পর্কে জেলা বিএনপির কোনো ধারণা নেই। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পদ্মা নদীর পানির দাবি নিয়ে জনগণকে ব্ল্যাকমেইল করছেন দলের মনোনীত তিন প্রার্থী। এ বিষয়ে আমরা শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করব।”

কাশ্মীরে বিস্ফোরণে নিহত ০৯

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের নওগাম পুলিশ স্টেশনে জব্দ করে রাখা বিস্ফোরকের স্তূপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে নয়জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য ও ফরেনসিক দলের কর্মকর্তা, যারা বিস্ফোরক পরীক্ষা করছিলেন। শ্রীনগর প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাও বিস্ফোরণে মারা যান। সম্প্রতি হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে আনা বিস্ফোরক পদার্থ পরিচালনা করার সময় শুক্রবার রাতে বিস্ফোরণটি ঘটে। খবর-এনডিটিভি।

বাসে আগুন দিয়ে পালানোর সময় নদীতে পড়ে দূর্বৃত্তের মৃত্যু

0
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধে সড়কের পাশে রাখা একটি বাসে আগুন দিয়ে পালানোর সময় স্থানীয়দের ধাওয়ায় তুরাগ নদে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরেকজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা বলে জানিয়েছেন শাহ আলী থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম আযম। ওসি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেড়িবাঁধের তামান্না পার্কের সামনে রাখা কিরণমালা পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আগুন দিয়ে পালানোর সময় স্থানীয়দের ধাওয়ায় তুরাগ নদে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেনি শাহ আলী থানা পুলিশ। থানার এসআই আনোয়ার বলেন, বাসে আগুন লাগিয়ে পালানোর সময় জনগণের ধাওয়ায় একজন তুরাগ নদীতে পড়ে যান। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সময় স্থানীয়দের হাতে রুদ্র মুহাম্মদ (২০) নামে আরেকজন আটক হয়। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুইজন দুর্বৃত্ত পার্কিং করা ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১২৬২ নম্বর বাসে আগুন লাগিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া দিয়ে একজনকে আটক করে এবং অপরজন পালাতে গিয়ে তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরবর্তীতে তাকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রামপুরায় দিনভর প্রাইভেট শিবিরের তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর রামপুরা, আফতাবনগর ও সংলগ্ন এলাকায় ১৩ তারিখ, বৃহস্পতিবার দিনভর সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা। সকাল থেকেই সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

শিবিরের ক্যাম্পাসভিত্তিক কয়েকজন কর্মী জানান, আমরা ভোর থেকেই এলাকায় অবস্থান নিচ্ছি। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিবির নেতা বলেন, “জঙ্গিবাদী সংগঠন লীগকে রুখে দিতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশকে স্থিতিশীল রাখতে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিবির কর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রামপুরা, আফতাবনগর ও প্রধান সড়কগুলোতে শিবিরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে কোথাও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত কোনো অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি।” রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর মাঠে সক্রিয়তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ভাল প্রভাব ফেলতে পারে।

ছাত্রশিবির,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পশ্চিমের আয়োজনে রোবটিক্স ফেস্ট অনুষ্ঠিত

0
নিজস্ব প্রতিবেদক:

‘ধ্বংস নয়, রোবটিক্স হোক সেবার হাতিয়ার’  এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি শাখা পশ্চিমের উদ্যোগে “ISMAIL AL- ZAZARI ROBOTICS FEST- 2025” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর মিরপুর-১-এর ৮নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহিদ শাকিল পারভেজের গর্বিত পিতা।

শাখাটির সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রশিবির একজন শিক্ষার্থীকে মন্বিত কর্মপরিকল্পনার আলোকে গড়ে তোলার চেষ্টা করে থাকে। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা, সহযোগিতা, রুটিন মেনে চলা ও অনুপ্রেরণার জন্য যাবতীয় আয়োজন ছাত্রশিবির করে থাকে। পাশাপাশি সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সর্বাত্ম প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাথে অপার সম্ভাবনার লুকিয়ে থাকে। যদি সে সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও সৃজনশীল চিন্তার চর্চা করে, তবে সে শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, দেশেরও ভবিষ্যৎ আলোকিত করতে পারে। রোবটিক্স ফেস্টের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ দেয়, তাদের উদ্ভাবনী শক্তি ও দলগত দক্ষতা বিকশিত করে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা কেবল বইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনে সমস্যা সমাধান, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সৃজনশীল উদ্যোগে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক।” শাখা সেক্রেটারি মো. শান্ত তালুকদারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম, কৃষিবিদ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো: আলী আফজাল, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। আওয়ামী সরকার কর্তৃক গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাসেম আরমান। উৎসবে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, মানবসম্পাদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, বিজ্ঞান সম্পাদক ডা. রিফাত আব্দুল্লাহ, এবং ডাকসু জিএস ও ঢাবি ছাত্রশিবির সভাপতি এসএম ফরহাদ। আয়োজনে Line Following Race, Mini Soccer, Robo Soccer এবং Project Showcase এই চারটি সেগমেন্টে রাজধানীর ৪০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০০টি দলের পাঁচ শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।

রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

0
ডেস্ক রিপোর্ট

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের বাসায় ঢুকে তার ছেলে তাওসিফ রহমান (সুমন) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর ডাবতলা এলাকার স্পার্ক ভিউ ভবনের পঞ্চম তলায় তাদের বাসভবনে এ হামলা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই সময় লিমন মিয়া নামের এক যুবক বিচারকের বাসায় ঢুকে হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাওসিফ রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

এদিকে আহত অবস্থায় হামলাকারী লিমন মিয়াকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু সুফিয়ান জানান, ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দল কাজ করছে। হত্যার কারণ এখনো পরিষ্কার নয়, তবে হামলাকারী তাদের পরিচিত ছিল। মাঝে মাঝে সে পরিবারের কাছে টাকা চাইত। এ বিষয়ে বিচারকের স্ত্রী লিমনের বিরুদ্ধে সিলেটের জালালাবাদ থানায় একটি জিডি করেছিলেন।

সাধারণ ডায়েরির কপি: সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, ‘হামলাকারী ও বিচারকের স্ত্রী দুজনই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাই কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।’

স্পার্ক ভিউ ভবনের তিনতলায় বসবাসকারী আব্দুল লতিফ জানান, তার বাসায় যিনি গৃহপরিচারিকার কাজে সহায়তা করেন, তিনি বিচারকের বাসাতেও কাজ করেন। হামলার পর খবর পেয়ে তিনি পাঁচতলায় গিয়ে দেখেন, লিমন ও তাওসিফ আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে এবং বিচারকের স্ত্রীও পাশে আহত অবস্থায় রয়েছেন। এরপর তারা সবাইকে হাসপাতালে পাঠান।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ও মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, নিহত তাওসিফের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত বিচারকের স্ত্রী ও হামলাকারী লিমন মিয়াকে সার্জারি ওয়ার্ড থেকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে, তবে তারা এখনও আশঙ্কামুক্ত নন।

নাজমুলের সেঞ্চুরির দিনে জয় দেখছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক


সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের বিকেলটা ছিল সম্পূর্ণ বাংলাদেশের। ড্রেসিংরুম থেকে ব্যাটসম্যানরা মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে ওঠা স্লোগান; কখনো ‘লিটন’, কখনো ‘শান্ত’ স্টেডিয়ামজুড়ে উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি করেছিল। আর ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে বল লাগার শব্দে নীরব গ্যালারি মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের সেঞ্চুরি উদ্‌যাপন
বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের সেঞ্চুরি উদ্‌যাপন। ছবি: বিসিবি

ব্যাটসম্যানদের পর দিনশেষে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশের বোলাররাও। প্রথম ইনিংসে ৫৮৭ রান তুলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৩০১ রানে যা ঘরের মাঠে তাদের সর্বোচ্চ ইনিংস সংগ্রহ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড ২৯ ওভারে ৮৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে তৃতীয় দিন শেষ করেছে।

মাইলফলকের হাতছানি হাতছাড়া হলেও বাংলাদেশের ইনিংস থামেনি

দিন শুরুতে বাংলাদেশের সামনে ছিল দুটি সম্ভাব্য সেঞ্চুরি ও একটি ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন। ওপেনার মাহমুদুল হাসান দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিলেন ১৬৯ রানে, কিন্তু আজ যোগ করতে পেরেছেন মাত্র ২ রান।
মুমিনুল হকও তাঁর ৯৮ থেকে মাত্র ২ রান যোগ করে ৮২ রানে আউট হন।

সিলেট টেস্টে জয়ের সুবাদ পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ছবি: বিসিবি

তবে ব্যাটিং থামেনি। দায়িত্ব নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৭৯ রান যোগ করেন। এরপর লিটন দাসের সঙ্গে খেলা আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে, দুজন মিলে করেন ৭৯ রান, ওভারপ্রতি সাড়ে পাঁচের বেশি গতিতে।

অধিনায়কের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

লিটন ৬০ রানে দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হলেও নাজমুল লড়াই চালিয়ে যান। চারদিক দিয়ে দারুণ শট খেলে ১১৩ বলে ১০০ রানের ইনিংস উপহার দেন।
এটি তাঁর অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি, এবং অধিনায়ক হিসেবে চতুর্থ, মুশফিকুর রহিমকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে শান্তকে।

বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটসম্যানই ফিফটি করায় দল সহজেই পৌঁছে যায় ৫৮৭/৮ ডিক্লেয়ার্ড। যা ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করা ৫৬০ রানকে ছাড়িয়ে গেছে।

আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের ধস

ইনিংস হার এড়াতে আয়ারল্যান্ডকে তোলার দরকার ছিল কমপক্ষে ৩০১ রান। কিন্তু শুরুতেই নাহিদ রানার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন কেইড কারমাইকেল।

দ্বিতীয় উইকেটে স্টার্লিং–টেক্টরের ৪৭ রানের জুটি কিছুটা আশা জাগালেও সেটি ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি।
স্টার্লিংকে শান্তর দারুণ রান আউটের পর আইরিশদের ব্যাটিং ধসে পড়ে। পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনজনই আউট হয়েছেন এক অঙ্কের ঘরে।

হাসান মুরাদ নিয়েছেন ২ উইকেট, তাইজুল ইসলাম নিয়েছেন ১ উইকেট, এবং তাঁর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হয়ে হ্যারি টেক্টর; এতে তাইজুল পেয়েছেন তাঁর ৫০০তম প্রথম শ্রেণির উইকেট

ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় আয়ারল্যান্ড। ছবি: বিসিবি

দিনশেষে আয়ারল্যান্ড ৮৬/৫, পিছিয়ে ২১৫ রানে

ম্যাচের চিত্র

আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নি আগামীকাল অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে নিয়ে ব্যাটিং শুরু করবেন। তবে ম্যাচ বাঁচানোর পথ এখন অনেক কঠিনই হয়ে গেছে সফরকারীদের জন্য। ইনিংস হার এড়ানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আয়ারল্যান্ড: ২৮৬ ও ২৯ ওভারে ৮৬/৫ (স্টার্লিং ৪৩, টেক্টর ১৮; মুরাদ ২/৮)। বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪১ ওভারে ৫৮৭/৮ ডি. (মাহমুদুল ১৭১, নাজমুল ১০০, মুমিনুল ৮২, সাদমান ৮০, লিটন ৬০; হামফ্রিস ৫/১৭০, ম্যাকার্থি ২/৭২)।

* ৩য় দিন শেষে।

দেশের আরও ৯ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক


দেশের আরও ৯ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন পদায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উপসচিব ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জেলায় ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন পদায়নে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে বদলি করে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামে। বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) পরিচালক (উপসচিব) এস এম মেহেদী হাসানকে পাঠানো হয়েছে লক্ষ্মীপুরে।

পরিকল্পনা বিভাগের উপসচিব সৈয়দা নুরমহল আশরাফী হয়েছেন মুন্সীগঞ্জের ডিসি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নেত্রকোনায় এবং অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নতুন ডিসি।

এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে নওগাঁয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আনোয়ার সাদাতকে খাগড়াছড়িতে, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মু. রেজা হাসানকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে।

নতুন করে নারায়ণগঞ্জের ডিসি হয়েছেন জনবিভাগের উপসচিব মো. রায়হান কবির

এর আগে ১৪ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ

গত রবিবার (৯ নভেম্বর) আরও ১৪ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
জেলাগুলো হলো-
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, নড়াইল, জামালপুর, মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ ও চাঁদপুর।

৮ নভেম্বর আরও ১৫ জেলায় ডিসি নিয়োগ

এর আগে গত শনিবার (৮ নভেম্বর) এক রাতে ১৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়।
জেলাগুলো হলো—
নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা, গাইবান্ধা, বরগুনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মাগুরা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া ও ভোলা।

এসব নিয়োগের মধ্যে কয়েকটি ছিল উল্লেখযোগ্য বদলি-

  • বাগেরহাটের ডিসি আহমেদ কামরুল হাসান → নোয়াখালী

  • কুষ্টিয়ার ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন → হবিগঞ্জ

  • ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহান → গাজীপুর

  • বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলম → ঢাকা

  • সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম → গাইবান্ধা

  • খুলনার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমান → বগুড়া

অন্যান্য নিয়োগের মধ্যে রয়েছেন

  • সন্দ্বীপ কুমার সিংহ (সিলেট জেলা পরিষদ) → বরগুনা

  • মো. আমিনুল ইসলাম (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) → সিরাজগঞ্জ

  • মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাণিজ্য উপদেষ্টা) → মাগুরা

  • আবু সাঈদ (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) → পিরোজপুর

  • মিজ আফরোজা আখতার (ভূমি রেকর্ড ও জরিপ) → সাতক্ষীরা

  • গোলাম মো. বাতেন (স্থানীয় সরকার ফেনী) → বাগেরহাট

  • স ম জামশেদ খোন্দকার (প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়) → খুলনা

  • মো. ইকবাল হোসেন (রাজউক) → কুষ্টিয়া

  • ডা. শামীম রহমান (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ) → ভোলা

শীতকালে ত্বক শুষ্ক কেন হয়?

0
অনলাইন ডেস্ক

ফিচার | স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন

বইয়ের পাতায় কিংবা গবেষণাগারে নয়, শীতের বাতাসে চোখেই বোঝা যায় প্রকৃতির পরিবর্তন। তাপমাত্রা কমে, বাতাস শুষ্ক হয়, আর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। শীতের কড়া আবহাওয়া শুরু হলেই অনেকেই লক্ষ্য করেন ত্বক রুক্ষ হয়ে আসছে, টানটান ভাব তৈরি হচ্ছে, কখনো খোসা ওঠে বা চুলকানি পর্যন্ত দেখা দেয়। প্রশ্ন হলো, শীত পড়লেই ত্বকের এমন পরিবর্তন কেন? আর দৈনন্দিন যত্নে কোন অভ্যাসগুলো বদলালে এ সমস্যাগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়?

চলুন শীতকালের ত্বক শুষ্কতার বিজ্ঞান, প্রতিরোধক উপায় এবং বাংলাদেশি বাজারে সহজলভ্য উপযোগী পণ্যের সমন্বিত গাইড জেনে নিই।

শীতে ত্বক শুষ্ক হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

১. বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা কমে যায়

শীতকালে পরিবেশের আর্দ্রতা বা হিউমিডিটি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকে। এর ফলে ত্বকের উপরের সুরক্ষাবলয়—যাকে বলা হয় স্কিন ব্যারিয়ার—ধীরে ধীরে পানি হারাতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় Transepidermal Water Loss (TEWL); যা বাড়লে ত্বক দ্রুত শুষ্ক, নির্জীব ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

২. ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দেয়

শীতের বাতাস স্বাভাবিক ত্বক-তেল (sebum) উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই তেল ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করে। যখন সেবাম উৎপাদন কমে যায়, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে।

৩. অত্যধিক গরম পানি ব্যবহার

শীতে অনেকে গরম পানি ছাড়া গোসলই করতে চান না। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক লিপিড ভেঙে দেয়। ফলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

৪. রোদের অভাব ও ভিটামিন- ডি কমে যাওয়া

শীতকালে সূর্য ওঠে দেরিতে এবং তীব্রতাও কম থাকে। ভিটামিন–ডি ত্বকের সুরক্ষাবলয়কে শক্তিশালী করে। এর ঘাটতি ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।

৫. ঘরের মধ্যে শুষ্ক পরিবেশ

শীতে জানালা–দরজা বন্ধ থাকে এবং ফ্যান কম চলে, ফলে ঘরের বাতাসও শুষ্ক হয়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা আরও দ্রুত কমে যায়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ঢাকা মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
ডা. সেলিনা মাহমুদ
দ্য ক্যাম্পাস মিররকে বলেন:

“শীতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আর্দ্রতার ঘাটতি। যাদের ত্বক স্বাভাবিক সময়ে ভালো থাকে, তারাও শীতে হঠাৎ করে সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলে ত্বকের সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায় এবং ফাটল বা চুলকানির ঝুঁকি বেড়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন—

“সেরামাইড, স্কোয়ালেন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার শীতকালে বিশেষ উপকারী। আর খুব গরম পানি, হার্শ সাবান বা অ্যালকোহল–যুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য শীতে একেবারেই ব্যবহার করা উচিত নয়।”

শীতের শুষ্কতা প্রতিরোধে যা করতে হবে

১. ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন

শীতে লাইট লোশন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়। এমন ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন যাতে থাকে—

  • সেরামাইড

  • হায়ালুরোনিক অ্যাসিড

  • গ্লিসারিন

  • শিয়া বাটার

  • স্কোয়ালেন
    এগুলো ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

২. হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন

খুব গরম পানি ত্বকের লিপিড ভেঙে দেয়। তাই লুকো–ওয়ার্ম পানি ব্যবহারই শ্রেয়।

৩. ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন

হিউমিডিফায়ার বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করে, যা শীতে ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৪. সাবধানে সাবান ব্যবহার

শক্ত সাবান, সালফেট–যুক্ত বডিওয়াশ এবং অ্যালকোহল–যুক্ত যেকোনো cleanser এড়িয়ে চলুন।

৫. ঠোঁট ও হাতের আলাদা যত্ন

ঠোঁটে লিপ বাম এবং হাতে গ্লিসারিন–সমৃদ্ধ হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করুন।

৬. বেশি পানি পান করুন

শীতে পানি কম পান করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পানে ত্বকের অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা বজায় থাকে।

বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শীত- উপযোগী স্কিনকেয়ার পণ্যসমূহ

বাংলাদেশি ব্র্যান্ডগুলো এখন উন্নত মানের স্কিনকেয়ার তৈরি করছে, যা আমাদের আবহাওয়ার সঙ্গে বেশি মানানসই।

১. স্কিন কনসেপ্ট (Skin Concept BD)

  • হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সেরাম

  • সেরামাইড ময়েশ্চারাইজার

  • শিয়া–বাটার বডি লোশন

২. এসএনএম বিউটি (SNM Beauty BD)

  • গ্লিসারিন লোশন

  • অ্যালো–ভেরা স্কিন জেল

৩. হিমালয়া / হারবাল গার্ডেন (BD production line)

  • ময়েশ্চারাইজিং কোল্ড ক্রিম

  • অ্যালো–কুকুম্বার ফেসওয়াশ

৪. স্কিনকিউ (SkinQ Bangladesh)

  • সেরামাইড–বুস্টেড ময়েশ্চারাইজার

  • হাইড্রেশন–বুস্ট সেরাম

৫. অপরাজিতা বিউটি (Local Indie Brand)

  • কোকো–বাটার বাল্ম

  • নারকেল–তেলভিত্তিক ময়েশ্চার ক্রিম

এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম হলেও মান বেশ ভালো এবং শীতের জন্য উপযোগী। (কোনো ধরনের স্পন্সরশীপ না, আমরা পাঠকদের সুবিধার্থে তথ্য দিচ্ছি)

শীতের আবহাওয়াকে দোষারোপ করলেই হবে না, সঠিক ত্বক যত্ন শীতকালকে রূপান্তর করতে পারে স্বস্তিদায়ক মৌসুমে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, সঠিক সাবান নির্বাচন, যথেষ্ট পানি পান এবং আর্দ্র পরিবেশ বজায় রাখা; এই চারটি অভ্যাসই শীতের শুষ্কতার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

সঠিক যত্ন নিলে শীতকালের রুক্ষতা নয়, বরং মোলায়েম ও সুস্থ ত্বকই হবে আপনার সঙ্গী।

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাল জামায়াত

অনলাইন ডেস্ক
জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে ঘোষিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এই ঘোষণা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেনি এবং এর ফলে নতুন একটি সংকট তৈরি হতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে এ প্রতিক্রিয়া জানায় জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া: ‘আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণা জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেনি। আমরা মনে করি, এতে একটি নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দল দাবি করে আসছে যে গণভোটটি জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তাহলে এর আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় হবে এবং পরবর্তীকালে আদালতে এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। সেই সংকট কিন্তু এখনো রয়ে গেল।”

জামায়াতের মতে, গণভোটকে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে আয়োজন করার সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনাকাঙ্ক্ষিভাবে জটিল হতে পারে। দলটি বলে, গণভোট যেহেতু সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, তাই তা আলাদা দিনে আয়োজন করলে জনগণও বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করতে পারত।

প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা: ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন ও গণভোট

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দেন যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনোভাবেই সংস্কারের লক্ষ্য ব্যাহত হবে না। বরং নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন যথাসময়ে প্রণয়ন করা হবে।

৩০ দফা সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত

ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, গত নয় মাস ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বিষয়ে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ‘আশাব্যঞ্জক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও চূড়ান্ত করেছি।”

ব্যালটে থাকবে একটি মাত্র প্রশ্ন:

আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি দেন?

যেসব প্রস্তাবে ভোট নেওয়া হবে

গণভোটের ব্যালটে চারটি মূল প্রস্তাব থাকবে-
ক) তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদ অনুযায়ী গঠন
খ) দলগুলোর ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ
গ) নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ-সীমা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ ৩০ দফা সংস্কার
ঘ) বাকি সংস্কারসমূহ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন

প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটের দিন ভোটাররা এই চার প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে মতামত জানাবেন।

গেজেটে প্রকাশিত আদেশ

উল্লেখ্য, আজই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫’ গেজেট প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ২৮ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয়। গত ১৭ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে।